শাপলায় মোড়া সাতলা গ্রাম: বরিশালের রঙিন স্বর্গ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রাম এখন বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত ‘শাপলার রাজ্য’ নামে। প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই গ্রাম, যেখানে বর্ষা ও শরতের ভোরবেলায় চোখ জুড়ানো শাপলার সমারোহ যেন স্বর্গীয় এক সৌন্দর্যের দ্যোতনা ছড়িয়ে দেয়।

প্রায় ১০ হাজার একর বিস্তৃত জলাভূমিতে ফুটে থাকা লাল, সাদা ও বেগুনি রঙের হাজার হাজার শাপলা ফুল প্রতি বছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে এক অপূর্ব রূপ ধারণ করে। সূর্য ওঠার আগে বিলজুড়ে শাপলার লাল রঙ যেন একটি বিশাল লাল গালিচার মতো বিস্তৃত হয়। এ দৃশ্য প্রতিটি ভ্রমণপিপাসুকে মুগ্ধ করে, মোহিত করে হৃদয়।

স্থানীয়রা একে ‘শাপলার বিল’ নামে ডাকলেও এটি শুধু একটি বিল নয়—এটি একটি জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে প্রকৃতি প্রতিদিন সকালে নতুন রঙে আঁকে সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি।

শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আগস্ট-অক্টোবর মাসের ভোরবেলা সময়টি সবচেয়ে উপযুক্ত। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলগুলো বুজে যায় কিংবা স্থানীয়রা তা তুলে নেন বিক্রির জন্য।

ঢাকা থেকে বরিশালে বাসে (শাকুরা, হানিফ, ঈগল) বা সদরঘাট থেকে লঞ্চে যাওয়া যায়। লঞ্চ ভাড়া ২০০ থেকে ৮০০০ টাকার মধ্যে।

বরিশাল শহর থেকে সাতলা যেতে হলে বাসে শিকারপুর বা নুতনহাট পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে অটো বা মহেন্দ্রতে সাতলা পৌঁছাতে হয়।

সাতলাতে বড় কোনো হোটেল না থাকলেও স্থানীয়দের বাড়িতে, স্কুলে বা গৃহায়ণ ব্যবস্থায় রাত্রিযাপন করা যায়। বরিশালে চাইলে গ্র্যান্ড পার্ক বা হোটেল এথেনাসহ অনেক উন্নত মানের হোটেল রয়েছে।

শুধু শাপলার সৌন্দর্যই নয়, এখানে উৎপন্ন শাপলা ফুল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ হয়। প্রকৃতিপ্রেমী এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য গন্তব্য। অতিথিপরায়ণ সাতলার মানুষ, অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য আর সহজ যাতায়াত—সব মিলিয়ে সাতলা হয়ে উঠেছে বরিশালের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আমতলীতে বাস খাদে পড়ে আহত ১৫, তিনজন বরিশালে রেফার

বরগুনার আমতলীতে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বাস খাদে পড়ে অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ছয়জনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শরীফবাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা পটুয়াখালীগামী জেএইচ ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাস শরীফবাড়ি স্ট্যান্ডে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়।

আহত যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন অপরাজিতা (খুলনা), সুলতানা পারভীন (কুমিল্লা), নাহিদা সুলতানা (জয়পুরহাট), নুসরাত জাহান (খুলনা), রনজিৎ ও দুলাল চন্দ্র। স্থানীয় লোকজন আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে গুরুতর আহত অপরাজিতা, রনজিৎ ও সুলতানা পারভীনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে রেফার করা হয়।

আহত সুলতানা পারভীন বলেন, ‘কুয়াকাটা ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ করে বাসটি খাদে পড়ে গেলে আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। অনেকে আহত হন।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, ‘প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বেশ কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনজনকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।’

আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) আমির হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন, ‘বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। আহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 কনস্টেবলের স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব, বরখাস্ত এএসপি আফজাল

বরিশাল রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে (আরআরএফ) কর্মরত এক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আফজাল হোসেন কনস্টেবলের স্ত্রীর প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব এবং অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

বুধবার (৩০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এক কনস্টেবলের স্ত্রী মৌখিক অভিযোগ জানাতে গেলে বরিশাল আরআরএফ কমান্ড্যান্টের দপ্তরে তার সঙ্গে দেখা হয় এএসপি আফজালের। এরপর থেকে তিনি ওই নারীকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত বিরক্ত করতে থাকেন এবং অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

এএসপি আফজাল শুধু অনৈতিক প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি ওই কনস্টেবলের সংসার ভাঙার পেছনেও ভূমিকা রাখেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এমনকি তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে ব্যবহার করে ভুয়া অভিযোগ দাখিল এবং মামলার কুপরামর্শও দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন অপেশাদার ও নৈতিকতা বিবর্জিত আচরণ প্রত্যাশিত নয়। এতে বাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধের শামিল।

এএসপি আফজাল হোসেনকে ২১ জুলাই থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন এবং খোরপোষ ভাতা পাবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ঢাকায় মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন চুক্তির তথ্য প্রকাশের দাবি হেফাজতের

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চুক্তির সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন : করণীয় নির্ধারণ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব শায়েখ সাজেদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

বৈঠকে গৃহীত যৌথ প্রস্তাবনায় বলা হয়, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন সংক্রান্ত চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে খোলামেলা আলোচনার আয়োজন করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে বলেন, “জাতীয় স্বার্থ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। এ ধরনের কার্যালয় স্থাপন নিয়ে আমাদের আরও গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক সীমারেখা মাথায় রেখেই জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। না হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।”

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, “মানবাধিকার নিশ্চিতে জাতিসংঘের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা উচিত নয়।”

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মীর ইদরিস নদভী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার ও মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী।

বক্তারা জাতিসংঘের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিদেশি প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে সরকারের সুস্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।




আসিয়ান সদস্য হতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে আসিয়ান (ASEAN) সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার (২৭ জুলাই ২০২৫) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মালয়েশিয়ার পিপলস জাস্টিস পার্টির (পিকেআর) সহ-সভাপতি ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কন্যা নুরুল ইজ্জাহ আনোয়ার সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ অনুরোধ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আসিয়ানের অংশ হতে চাই এবং এ লক্ষ্যে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের সদস্যপদ নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ২০২০ সালেই আসিয়ান খাতভিত্তিক সংলাপ অংশীদার হওয়ার জন্য আবেদন করে। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়ার সমর্থন অত্যন্ত জরুরি।

সাক্ষাৎকালে নুরুল ইজ্জাহ ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলে সম্প্রতি প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, আমরা অনেক মূল্যবান জীবন হারিয়েছি।”

প্রধান উপদেষ্টা তাকে রাজনৈতিক দলের সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং বলেন, “আপনাকে অভিনন্দন জানাই, আপনার রাজনৈতিক অবস্থান নারী নেতৃত্বের জন্য অনুপ্রেরণা।”

এ সময় অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা এখন একটি রূপান্তরের মধ্যে রয়েছি। তরুণদের নেতৃত্বে একটি গণআন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছে এবং জনগণের অংশগ্রহণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিদ্রোহের চেতনায় উজ্জীবিত ছাত্রসমাজ দেশের দেয়াল ও পথঘাট রাঙিয়ে দিয়েছে। এই চেতনা গণজাগরণে রূপ নিয়েছে।”

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এশিয়ার অনেক দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও, বাংলাদেশ এখনো তরুণ জনগোষ্ঠীতে পরিপূর্ণ। আমাদের অর্ধেক মানুষই ২৭ বছরের নিচে। আপনারা বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন করুন, এখান থেকে পণ্য রপ্তানি করুন— এতে উভয় দেশেরই লাভ হবে।”

সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সংঘর্ষে উত্তপ্ত বরিশালের গৌরনদী: বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে আহত ৫

বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। উপজেলা বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ জুলাই ২০২৫) দুপুর একটার দিকে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সূত্রপাত হয় আগামী ৫ আগস্টের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় একজন সিনিয়র নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানোর জেরে।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু জানান, তাঁকে দাওয়াত না দিয়েও যখন তিনি সভায় উপস্থিত হন, তখন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান ও তার আত্মীয় জসিম শরীফ কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। প্রতিবাদ জানানোয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে সভাস্থলে সংঘর্ষ বাধে।

মিন্টুর দাবি, ওই ঘটনার জের ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রদল নেতা মো. রমজানকে একা পেয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান জানান, সভা চলাকালীন তার দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ছাত্রদল নেতা জসিম শরীফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম জানান, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সম্ভাব্য নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এই বিভক্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্রুপিং ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বই এমন সহিংস ঘটনার মূলে রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সময়ের দাবি: মির্জা ফখরুল

দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (২৭ জুলাই ২০২৫) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত “পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয়তা” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “জনগণের চাহিদা, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সংযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা এবং রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও যোগাযোগে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফা প্রস্তাব বাস্তবধর্মী রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বর্তমানে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশন সময় পার করছি। জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে এবং সঠিক নেতৃত্ব ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই ঐক্যকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বহু আগেই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। কারণ দক্ষিণাঞ্চলের বহু এলাকা এখন বাস চলাচলের জন্য উপযোগিতা হারিয়েছে, যা নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।

শেষে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। একাত্তরের মতো ২০২৪ সালেও সেই ঐক্যের ফলেই বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




চরমোনাই পীরের হুঁশিয়ারি: এই সুযোগ কাজে না লাগাতে পারলে স্বৈরাচার আবারো ফিরে আসবে

৫ আগস্টের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলেও সেটিকে যথাযথভাবে কাজে না লাগালে পুরনো অবস্থা ফিরে আসবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চরমোনাই পীর বলেন, “৫ আগস্ট খুনি-ফ্যাসিস্ট হাসিনা বুঝতেও পারেনি দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। এখন দেশ গঠনের একটি সুযোগ এসেছে। এই সুযোগকে কাজে না লাগাতে পারলে আবারও ‘যেই লাউ সেই কদু’ হবে। যারা দেশপ্রেমিক, ইসলামপ্রেমিক ও ন্যায়ের পক্ষে—তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলার জমিনকে চাঁদাবাজ ও খুনিমুক্ত ঘোষণা করতে হবে এবং বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আয়নাঘরের মতো নির্যাতন কেন্দ্রের ভয়ংকর ইতিহাস আমরা চাই না আর ফিরে আসুক। দেশের মানুষের কান্না আর শোনা যায় না, আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক, তা আমরা চাই না।”

সরকারি দুর্নীতির উদাহরণ টেনে চরমোনাই পীর বলেন, “সাবেক এক ভূমিমন্ত্রীর নামে বিদেশে ৬২০টি বাড়ি ও প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এটা কি তার বাপের টাকা? এটা জনগণের ঘামে রোজগার করা অর্থ।”

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পরের ৫৩ বছরে বারবার একই প্রতারণা হয়েছে। ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার’—এই তিনটি নীতির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বাংলাদেশ বারবার চোরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে।”

ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মাঠ ফাঁকা থাকলে আগাছা জন্মায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে খুনি-চাঁদাবাজদের আর কোনো জায়গা না থাকে।”

তিনি আরও দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত একটি এমপি-ও সংসদে যায়নি। কারণ, দলটি কখনো খুনি বা দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল
  • জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
  • ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ
  • খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ (সভাপতি)
  • নগর সহ-সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন (সঞ্চালক)
  • জেলা সেক্রেটারি হাফেজ আসাদুল্লাহ আল গালিব
  • মহানগর সেক্রেটারি মুফতি ইমরান হোসাইন



আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা: মোস্তফা জামাল হায়দার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ জানতে অপেক্ষার প্রহর আর বেশি নয়। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ১৪টি রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আমাদের জানিয়েছেন, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। এটা দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে আনন্দের খবর।”

মোস্তফা জামাল হায়দার আরও বলেন, নৈরাজ্যের অবসান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই এখন একমাত্র পথ। নির্বাচন হলে মানুষ স্বস্তি পাবে এবং দেশের সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

এর আগে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজকের বৈঠকে আরও ১৪টি দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিভিন্ন দল নির্বাচনমুখী মনোভাব দেখানোয় রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিলেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিহত সামিউলের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাল বিমান বাহিনী

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের কিশোর সামিউল করিমের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের দেশখাগকাটা গ্রামে সামিউলের পারিবারিক কবরস্থানে বিমান বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল এ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেয়। স্থানীয় মসজিদের খতিব মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নিহত সামিউলের মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মীর্জা নাজমুল কবীর।

তিনি বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনায় একটি অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নিহত সামিউলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে। এই দূরগ্রাম এলাকায় এসেছি শুধু শিশুটির কবর জিয়ারত নয়, তার পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়েই।’

সামিউল করিম সামি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার খারকি এলাকার বাসিন্দা এবং রেজাউল করিমের ছোট ছেলে। বড় বোন স্নেহা এবার মাইলস্টোন স্কুল থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। দুর্ঘটনার পর সামিউলের মরদেহ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জানাজা শেষে তাকে নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

একের পর এক স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় বাবা রেজাউল করিমকে। ঘটনার দিনও তিনি নিজেই সামিউলকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে গেটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ছেলেটি যখন দোতলায় উঠছিল, তখনও তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আবার দুপুরে ছুটি হলে গেটে দাঁড়িয়ে ছেলেকে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সামিউল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাবার দিকে এগিয়ে আসছিল, তখনই আকস্মিকভাবে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একটি জ্বলন্ত অংশ সামিউলের শরীরে আঘাত করে। সামিউলের শরীরের পেছনের অংশ পুড়ে যায়। রেজাউল করিম ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন আমার ছেলেকে বাঁচান, হেল্প… হেল্প । একজন সেনা সদস্য নিজের গায়ের পোশাক খুলে দিয়ে সহায়তা করেন। পরে সামিউলকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক জানান, তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবো। কিন্তু আমার চোখের সামনেই সব শেষ হয়ে গেল। আমার ছেলেটা জ্বলছিল, আমি কিছুই করতে পারিনি। এখন আর ঘুম আসে না। কীভাবে ওকে ছাড়া বাঁচব জানি না।’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫