ড্রেন নির্মাণকাজে দেয়াল ধস, বরিশালে নির্মাণশ্রমিক নিহত

বরিশাল সংবাদদাতা : বরিশাল নগরীতে ড্রেন নির্মাণকাজ চলাকালে দেয়াল ধসে জোবায়ের ইসলাম (৩০) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নগরীর পুলিশ লাইনস এলাকার ওয়াইডব্লিউসি গলিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জোবায়ের ইসলাম ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় কয়েকজন শ্রমিক ড্রেন নির্মাণের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ পাশের একটি পুরোনো দেয়াল ভেঙে পড়তে শুরু করলে তিনজন শ্রমিকের মধ্যে দুজন দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন। তবে জোবায়ের ইসলাম ভারসাম্য হারিয়ে ড্রেনের ভেতরে পড়ে যান। এ সময় ধসে পড়া দেয়ালের একটি বড় অংশ তার শরীরের ওপর এসে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ড্রেন নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল। কাজ শুরুর আগে দেয়ালের স্থায়িত্ব ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হলে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. অভি বলেন, “প্রায় সাড়ে তিন ফুট গভীর করে ড্রেন খনন করা হয়েছিল। দেয়ালটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়নি। কী কারণে হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়ল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন।




শিশু মৃত্যুর পর সিদ্ধান্ত, মাজারের কুমির যাচ্ছে সুন্দরবনে

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ সৃষ্টি হলে দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক জানান, মাজার এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ আসেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে আপাতত সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যদের বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কুমিরটিকে নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। বুধবার খুলনা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। তারা কুমিরটি ধরার পদ্ধতি, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নির্ধারণ করবেন।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সোমবার রাতের দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পানিতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিরটি শিশুটিকে আক্রমণ করে এবং পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পরদিন মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন মহিলা ঘাট এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী এবং ভক্তদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। অনেকে দীঘিতে থাকা কুমিরটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

জেলা প্রশাসনের মতে, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই স্থানে মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কুমির স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বগা সেতু ঘিরে উত্তেজনা, সভাস্থলে না গিয়েই ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী

পটুয়াখালীর বাউফলে প্রস্তাবিত বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নির্ধারিত সভাস্থলে না গিয়েই তিনি ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে তিনি বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছান। লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই উপলক্ষে নদীর পূর্বপাড়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মন্ত্রীর আগমনের আগেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। সভাস্থলের ব্যানার ও ফেস্টুনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িবহর ফেরি পার হয়ে সভাস্থলের দিকে এগোলে একদল বিএনপি সমর্থক বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালেও প্রায় ৪৫ মিনিট এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় সেতুমন্ত্রী নির্ধারিত সভাস্থলে না গিয়ে ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন এবং পশ্চিমপাড়ের দুমকি উপজেলার চরগরবদী এলাকায় ফিরে যান।

পরে তিনি দুমকি উপজেলার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সমাবেশে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাউফলের এক শিক্ষার্থীর লেখা চিঠি ও ভিডিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর বগা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের দাবি, বগা ফেরিঘাট এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারে ঝুঁকি ও যানজট বেড়ে যায়। তাই দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী বগা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

উল্লেখ্য, লোহালিয়া নদীর ওপর ‘বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা আগের সরকারের সময় নেওয়া হলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে। নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে।

**এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




স্থানীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনীতি শেষ—এটা ভাবার সুযোগ নেই”

নৌ পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেছেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে—এমন ভাবার কোনো সুযোগ নেই। দল যাকে সমর্থন দেবে, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করতে হবে।”

মঙ্গলবার (১৯ মে) হিজলা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সততা ও যোগ্যতা নিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একটি “অদৃশ্য শক্তি” কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের সেই শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে কোনো লাভ নেই। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণের জন্য কাজ করতে হবে এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যাতে মানুষের ক্ষতি হয়।”

সভায় হিজলা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী সেসব বিষয়ে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে তিনি হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় যোগ দেন। সভায় এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনগণের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল, মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. মনির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




যুবদল নেতা হানিফ খান’কে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী

বিশেষ প্রতিবেদক:: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র দুঃসময়ের কান্ডারী, ত্যাগী, আপোষহীন, বারবার কারানির্যাতিত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ‘বরিশালের কৃতিসন্তান’ নিবেদিত প্রাণ ও বরিশাল মহানগরীর ২৫নং ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব “হানিফ খানকে” কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী।

তরুণদের মাঝে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি মুরুব্বিদের কাছেও গ্রহণযোগ্য অনন্য নাম “হানিফ খান”।

স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন “হানিফ খান”। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি ইতোমধ্যে জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাকে কাউন্সিলর হিসেবে পেতে চান এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, হানিফ খান সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন।

হানিফ খানের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন সময় তিনি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে তরুণদের কাছে একজন আদর্শ নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

হানিফ খান কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নাগরিক সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং এলাকার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে হানিফ খান বলেন, “আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসী যদি আমাকে যোগ্য মনে করে এবং তাদের সেবা করার সুযোগ দেয়, তাহলে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো”।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা হানিফ খানকে সম্ভাবনাময় কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।




ববিতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কর্মকর্তা বরখাস্ত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদেশে বলা হয়, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দলের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে দলটি নির্ধারিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এতে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জানান, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ায় দলটি সমস্যার মুখে পড়ে। এছাড়া দলীয় সমন্বয় ও প্রশাসনিক সহায়তার অভাব নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন খেলোয়াড়রা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও সুশাসনের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অপসারণ হচ্ছে বিতর্কিত সেই পার্ক

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সিঅ্যান্ডবি সড়কে নির্মিত বিতর্কিত শিশুপার্ক অপসারণের কাজ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের অংশ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে পার্ক নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। বিশেষ করে ঢাকা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের অংশ হওয়ায় এলাকায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। স্থানীয়দের মতে, শুরু থেকেই প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও স্থান নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা গুরুত্ব পায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার মায়ের নামে পার্কটির নামকরণ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পার্ক নির্মাণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং সড়কের অংশসহ আশপাশের কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, পার্ক নির্মাণের সময় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া সড়কের বাইলেন সংকুচিত হওয়ায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় দুই পাশ থেকে আসা যানবাহনের চাপ সামলাতে গিয়ে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকরা আদালতের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে নগরবাসীর একাংশ পার্ক অপসারণের দাবি জানাতে থাকেন। গত বছরের বিভিন্ন ঘটনার পর পার্কটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে পুরো স্থাপনা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পার্কের অবশিষ্ট অংশ অপসারণ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়কের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে।

সিটি করপোরেশন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নগর উন্নয়নের নামে যেন কোনো অপরিকল্পিত বা বিতর্কিত স্থাপনা গড়ে না ওঠে, সে বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নগর উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিকল্পনা, পরিবেশ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেব মন্ডলকে ঘিরে বরিশালের ফুটবল স্বপ্ন

বরিশালের ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনার নাম এখন দেব মন্ডল। সীমিত সুযোগ-সুবিধা আর অভাবের মধ্যেও নিজের প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে কিশোর ফুটবলে দারুণ সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছেন উজিরপুরের এই তরুণ ফুটবলার। চলমান ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ইতোমধ্যে বরিশালের ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছেন তিনি।

উজিরপুরের সরকারি বারো বাইকা মডেল ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেব মন্ডল ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর আগ্রহ নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো নামী একাডেমি কিংবা পেশাদার প্রশিক্ষকের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ না পেলেও স্থানীয় মাঠেই নিজের দক্ষতা গড়ে তুলেছেন তিনি।

টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ে উজিরপুরের হয়ে মাঠে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন দেব। একাধিক গোল করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জায়গা করে নেন বরিশাল জেলা কিশোর দলে। এরপর জেলা দলের জার্সিতেও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাতে সময় নেননি এই তরুণ স্ট্রাইকার।

আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী ম্যাচে পিরোজপুর জেলা দলের বিপক্ষে একাই তিন গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেব মন্ডল। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে বরিশাল জেলা দল ৩-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। পুরো ম্যাচজুড়ে তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগে দক্ষতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

পরবর্তীতে সেমিফাইনালে পটুয়াখালী জেলা দলের বিপক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে বরিশাল জেলা দল ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

দেব মন্ডলের পরিবার জানায়, ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন করে নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছেন তিনি। জাতীয় দলের ফুটবলারদের খেলা দেখে অনুপ্রাণিত হন এই কিশোর ফুটবলার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রিয় খেলোয়াড় আর্জেন্টাইন তারকা Lionel Messi।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে দেব মন্ডল ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তার পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।

এখন সবার দৃষ্টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে। ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, দেব মন্ডলের পা থেকেই আবারও আসবে জয়ের গল্প।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নগরীর খালগুলো হারাচ্ছে প্রাণ

বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী খালগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এসব খাল বর্তমানে দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে বরিশাল নগরীতে ২৪টি খালের অস্তিত্ব থাকলেও বর্তমানে মাত্র কয়েকটি খাল কোনোরকম টিকে আছে। অধিকাংশ খালই ভরাট, দখল ও ময়লা-আবর্জনায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা বেড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালগুলো কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন বর্জ্যে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জোয়ারের পানিও অনেক খালে প্রবেশ করতে পারছে না।

নগরীর উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার খালটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভরাট হয়ে পড়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। এই খাল দিয়ে আমানতগঞ্জ, ভাটিখানা ও আশপাশের এলাকার পানি কীর্তনখোলা নদীতে গিয়ে পড়ার কথা থাকলেও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে পানির স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

একই চিত্র দেখা গেছে জেল খালেও। কিছুদিন আগে পুনঃখনন করা হলেও বর্তমানে খালটি আবারও বর্জ্যে ভরে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, খননের পর নিয়মিত তদারকি না থাকায় আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে খালগুলো।

পোর্ট রোড খাল বরিশালের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানেও নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খালের পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় ভাটার সময় পণ্যবাহী নৌযান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খালেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। অধিকাংশ খালের পানিপ্রবাহ কমে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, খালগুলোর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন করে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে খাল পুনঃখনন, তীর সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিবেশবিদদের মতে, নগরীর পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলোকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে বরিশাল নগরী আরও বড় পরিবেশগত সংকটের মুখে পড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বয়সে বৃদ্ধাশ্রমেই আশ্রয় চার সন্তানের মায়ের

জীবনের পুরোটা সময় সন্তানদের মানুষ করতে সংগ্রাম করেছেন ঊষা রাণী। অথচ বয়সের শেষ প্রান্তে এসে সেই চার সন্তানের জননীকেই আশ্রয় নিতে হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানের সুখের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেওয়া এই মায়ের গল্প এখন অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।

বরিশালের বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যাণ সংস্থা পরিচালিত একটি বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে দিন কাটছে তার। জানা গেছে, দীর্ঘ জীবনে মানুষের বাসায় কাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন তিনি। কিন্তু বয়সের ভারে অসহায় হয়ে পড়ার পর কোনো সন্তানের ঘরেই স্থায়ী আশ্রয় মেলেনি তার।

ঊষা রাণী জানান, নদীভাঙনে তাদের বসতভিটা বিলীন হয়ে যাওয়ার পর তিনি সন্তানদের কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন। বড় ছেলের কাছে অনুরোধ করেও জায়গা পাননি। ছোট ছেলের সংসারেও টিকতে পারেননি। একমাত্র মেয়ের বাসায়ও শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হয়নি তার। পরে এক আত্মীয়ের সহায়তায় বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেন তিনি।

তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি তার কোনো রাগ বা অভিমান নেই। বরং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সন্তানদের সুখ ও সুস্থতার জন্যই প্রার্থনা করে যেতে চান।

একই আশ্রমে থাকা আরেক বৃদ্ধা শেফালী বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর দিনমজুরি করে একমাত্র সন্তানকে মানুষ করেছেন। কিন্তু শেষ বয়সে ছেলের কাছ থেকে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।

বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণ নারীরা জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পরিবারে মা-বাবা অবহেলার শিকার হন। অথচ সন্তানের প্রতি তাদের ভালোবাসা কখনো কমে না।

এ বিষয়ে বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩০ শয্যার ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে অর্থ সংকটের কারণে ভাড়া বাসায় ৬০ শয্যার আশ্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে এখন ৬০ জন বৃদ্ধা মা আশ্রয়ে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সমাজের সহযোগিতা কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও অসহায় মায়েদের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সমাজ সচেতন মহলের মতে, মা দিবস বা বিশেষ দিনে নয়, প্রতিদিনই বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত। কারণ জীবনের কঠিন সময়েও সন্তানের মঙ্গল কামনাই করে যান মা-বাবারা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”