ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পিরোজপুরের সিয়াম

সিয়াম ফেরদৌস ইমন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম ফেরদৌস ইমন আসন্ন ডাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপলক্ষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

সিয়াম বর্তমানে জেনেটিক্স অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে মাস্টার্স করছেন এবং Yeast Genetics Research Group-এ ক্যান্সার বায়োলজি ও মলিকুলার এইজিং বিষয়ক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনার্সে অসাধারণ ফলাফলের জন্য তিনি ৩.৯৩ সিজিপিএ অর্জন করেন এবং ২০২২ সালে জীববিজ্ঞান অনুষদ ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও বোর্ড স্কলারশিপ লাভ করেন। এছাড়া ২০২৩ সালে অনার্সে অধ্যয়নকালেই তার একটি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয় এবং আরও তিনটি কনফারেন্স পেপার উপস্থাপিত হয়।

গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বর্তমানে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে ভূষিত হয়েছেন। পাশাপাশি লেখক ও সম্পাদক হিসেবে সিয়াম ইতোমধ্যে এইচএসসি ও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য চারটি বই প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে HSC Booster Series ও Admission Biology।

শুধু গবেষণা নয়, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি। গত দুই বছরে সিয়াম অনলাইন ও অফলাইনে ১০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য গবেষণা টুলস বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Animal Genetics and Molecular Biology Club-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধান অঙ্গীকার

ইশতেহারে সিয়াম গবেষণা বাজেট বাড়ানোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন,

“বর্তমানে মাত্র ২ শতাংশ গবেষণা বাজেট রয়েছে। নির্বাচিত হলে এটিকে ২০ শতাংশ বা তার বেশি পর্যায়ে উন্নীত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। এক বছরে তা সম্ভব না হলেও কমপক্ষে দ্বিগুণ বা তিনগুণ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

এর পাশাপাশি তিনি যে অঙ্গীকারগুলো করেছেন তার মধ্যে রয়েছে—

একাডেমিক রাইটিং ও গবেষণা সফটওয়্যার (R, SPSS, Python, Excel, GIS, MS Word) বিষয়ক কর্মশালা আয়োজন।

বিভাগভিত্তিক গবেষণা তহবিল ও আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ সহায়তার জন্য “রিসার্চ হেল্পডেস্ক” প্রতিষ্ঠা।

শিক্ষার্থীদের জন্য ইনস্টিটিউশনাল মেইল আইডির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিশ্বমানের জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ।

ডাকসুর নিজস্ব স্টুডেন্ট জার্নাল প্রকাশ।

প্রতিটি থিসিস ও গবেষণার জন্য ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা।

গবেষণাভিত্তিক স্টুডেন্ট কনফারেন্স, ইয়ুথ কনফারেন্স ও সেমিনার আয়োজন।

স্কলারশিপের সার্টিফিকেট উত্তোলন ও ভেরিফিকেশনের অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে আনা।

ঐচ্ছিক কোর্স হিসেবে গবেষণা স্কিল ও প্রকাশনা টুলস প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা।

সিয়াম বিশ্বাস করেন, তার এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণামুখী পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।




ডাকসুতে প্রথম ইশতেহার প্রকাশ, ভোটারদের সামনে ১০ প্রতিশ্রুতি ছাত্রদলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান লিখিত আকারে ১০ দফা ইশতেহার প্রকাশ করেন।

ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও গবেষণামুখী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ শিক্ষার পরিবেশ এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কারিকুলাম আধুনিকায়ন, পরীক্ষার মানোন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা সহজীকরণ, শাটল সার্ভিস চালু, হয়রানিমুক্ত প্রশাসনিক সেবা এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ছাত্রদল।

ডিজিটাল সুবিধা বৃদ্ধি, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ, পরিবেশবান্ধব সবুজ ক্যাম্পাস এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা বাড়ানোও ইশতেহারের অন্যতম দিক।

আবিদুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা এমন একটি ডাকসু গঠন করতে চাই, যা শুধু শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক পর্যায়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করবে।”




রাতে জরুরি বৈঠক, তিন দিন এগিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর ভোটের দিন ঘোষণা কমিশনের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের তারিখ আবারও পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নতুন তফসিলে ভোটগ্রহণের তারিখ ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর। তবে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও আপত্তির মুখে তা তিন দিন এগিয়ে এনে ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম।

এর আগে দুপুরে ঘোষিত তফসিলে মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ দিন ৩১ আগস্ট, দাখিল ১ থেকে ৪ ও ৭ সেপ্টেম্বর, বাছাই ৮ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ ১১ সেপ্টেম্বর, আপত্তি গ্রহণ ১৪ সেপ্টেম্বর, মনোনয়ন প্রত্যাহার ১৫ সেপ্টেম্বর, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কিন্তু ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ঘন ঘন তারিখ পরিবর্তনের ফলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাতে জরুরি বৈঠকে বসে কমিশন। বৈঠক শেষে ভোটের দিন এগিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত করা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ নজরুল ইসলাম বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই ভোটের দিন তিন দিন এগিয়ে আনা হয়েছে। কিছু তারিখ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যা পরে জানানো হবে।”




শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ অগ্রহণযোগ্য: শিক্ষার্থীদের পাশে বুয়েট ভিসি

আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান। তিনি ঘটনাটিকে সভ্য সমাজে কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে লাঠিচার্জ চালায়। এতে সাংবাদিকসহ বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ভিসি বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেকে আহত হয়েছেন। বুয়েটের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে তিনি ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর শিক্ষা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর ভিত্তিতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন— “কমিটি মানি না, ভুয়া ভুয়া।” তারা দাবি করেন, গঠিত কমিটিকে সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বলতে আসতে হবে।

অন্যদিকে বিকেলে শিক্ষার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা থেকে সরে এসে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।




প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুঃখপ্রকাশ ডিএমপি কমিশনারের

তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থিত হয়ে তিনি এ দুঃখপ্রকাশ করেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমি ঢামপির কমিশনার হিসেবে অত্যন্ত দুঃখিত। আমি দুঃখপ্রকাশ করছি। এ ঘটনার তদন্তে আগামীকাল একটি কমিটি গঠন করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “তোমাদের সবাইকে অনেক স্নেহ-ভালোবাসা। তোমরা ভালো থাকো—এই কামনাই করি।”

এ সময় তিনি রংপুরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানেও মামলা হয়েছে এবং দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার করা হবে বলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার তাকে আশ্বস্ত করেছেন।




ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের

তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’-এর সভাপতি মো. ওয়ালীউল্লাহ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ওয়ালীউল্লাহ বলেন, “বৃহস্পতিবার থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করা হবে। আমাদের দাবি মানা না হলে বিকেল ৫টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কাউন্সিল হলে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যমুনা অভিমুখে যাত্রার সময় পুলিশের ন্যাক্কারজনক হামলায় আমাদের ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগে ঘোষিত তিন দফা দাবি এখনো পূরণ হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও হামলাকারীদের শাস্তি না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ‘নিরীক্ষা কমিটি’ প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি—যেকোনো কমিটিতে অবশ্যই তাদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি জুবায়ের আহমেদ এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তে গঠিত কমিটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের বলেন, “আমাদের দাবি মানা ছাড়া এই আন্দোলন থামবে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে ক্ষমা চাইতে হবে এবং হামলার ঘটনায় জবাবদিহি করতে হবে।”

এ সময় তিনি পাঁচ দফা নতুন দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
১. শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে নতুন কমিটি গঠন।
২. পূর্বে ঘোষিত তিন দফা দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়ন।
৩. উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান ও সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নিশ্চয়তা প্রদান।
৪. পুলিশের হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকারকে বহন করা।
৫. ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও চাকরিচ্যুত করা।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, এই আন্দোলন কোনোভাবেই দমন করা যাবে না। পুলিশি হামলার ঘটনা প্রমাণ করে সরকার সঠিক পথে নেই। তাই তাদের দাবি দ্রুত পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর হবে।




টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীদের মিছিল

তিন দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হতে গেলে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে এ সংঘর্ষ ঘটে। পরে শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করেন।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগ অবরোধ করেন বুয়েট ও বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তাদের স্লোগানে শাহবাগ এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। স্লোগানে শিক্ষার্থীরা ‘আপস না সংগ্রাম’, ‘কোটা না মেধায়’, ‘অবৈধ ডিপ্লোমা কোটা অবসান চাই’সহ নানা দাবি তুলে ধরেন।

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো—
১. ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ শব্দ ব্যবহার বন্ধ করা,
২. ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কাউকে পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা,
৩. দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কেবল স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দেওয়া।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও পুলিশের এই সংঘর্ষে শাহবাগ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যান চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করে।




ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে উত্তেজনা, শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি

রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটা দিকে শিক্ষার্থীরা ইন্টারকন্টিনেন্টালের আউট গেটে অবস্থান নেন। অন্যদিকে মোড়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এলাকায় যান চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত হয়।

এর আগে পূর্বঘোষিত ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টা থেকে শাহবাগ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তা ছত্রভঙ্গ করে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ উপাধি ব্যবহার বন্ধ করা,
২. ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা এবং
৩. দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশে শুধু স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ নিশ্চিত করা।

এ ঘটনার পর শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত ও উদ্বেগজনক বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।




প্রচারণার প্রথম দিনেই ব্যানার ভাঙচুর-ছবি বিকৃতি, দোষীদের শাস্তি দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই শিবির সমর্থিত এক প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন ভাঙচুর ও ছবি বিকৃতির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রার্থীর মুখাবয়ব বিকৃত করে হিংসাত্মক রূপ দেওয়া হয়, যা পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, “আমরা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা মেনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছি। কিন্তু একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যানার ভাঙচুর ও ছবি বিকৃতির মতো ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে।”

জোট দাবি করে, ছবিগুলো বিকৃত করে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করা হয়েছে এবং হিজাব ফোবিয়াকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতীতে চারুকলা অনুষদে শেখ হাসিনার ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্য পুড়িয়ে ফেলার সঙ্গেও একই গোষ্ঠী জড়িত ছিল। এবারও তারা ক্যাম্পাসে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।

জোট অভিযোগ করেছে, কিছু চিহ্নিত গণমাধ্যম দুষ্কৃতিকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে এবং দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপাতে চাইছে। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করেছে তারা।

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে জোট বলেছে, “কোনও কুচক্রী মহল আমাদের ঐক্য ভাঙতে পারবে না।”