ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা উমামা ফাতেমার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী উমামা ফাতেমা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “বয়কট! বয়কট! ডাকসু বর্জন করলাম। সম্পূর্ণ নির্লজ্জ কারচুপির নির্বাচন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “৫ আগস্টের পরে জাতিকে লজ্জা উপহার দিলো ঢাবি প্রশাসন। এটি শিবির পালিত প্রশাসন।”

এর আগে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানও পরিকল্পিত কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হয় ‘মিনি পার্লামেন্ট’ খ্যাত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী।

 

আল-আমিন

 




পরিকল্পিত কারচুপির অভিযোগে ডাকসুর ফল প্রত্যাখ্যান আবিদুল ইসলাম খানের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পরিকল্পিত কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে ফলাফল ঘোষণার সময় তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “পরিকল্পিত কারচুপির এই ফলাফল দুপুরের পরপরই অনুমান করেছি। নিজেদের মতো করে সংখ্যা বসিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই এই পরিকল্পিত প্রহসন আমি প্রত্যাখ্যান করছি।”

এদিকে ভোটগ্রহণ চলাকালে থেকেই ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

উল্লেখ্য, ডাকসুর শতবর্ষ পূর্তির এ বছরেই অনুষ্ঠিত হলো ৩৮তম নির্বাচন। এবার প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন এবং ক্যাম্পাসের ৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

 

আল-আমিন

 




ডাকসুর ৯ হলের ফল: ভিপি পদে এগিয়ে সাদিক, পিছিয়ে আবিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের নয়টি হলের ফলাফলে বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, তিনি সর্বমোট ৯,৭৫৭ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪,০৬৪ ভোট।

ফলাফল ঘোষণা করা হলগুলো হলো— রোকেয়া হল, এস এম হল, জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, শহীদুল্লাহ হল, কার্জন হল, ফজলুল হক মুসলিম হল, অমর একুশে হল এবং সুফিয়া কামাল হল। প্রতিটি হলে ভোট গণনার পর পৃথকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

দীর্ঘ ছয় বছর পর মিনি পার্লামেন্ট খ্যাত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে ৮১০ বুথে নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ডাকসুর ২৮টি পদে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ৬২ জন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রার্থী। নারী প্রার্থীদের মধ্যে ভিপি পদে ৫ জন, জিএস পদে ১ জন এবং এজিএস পদে ৪ জন প্রার্থী ছিলেন।

নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২০ হাজার ৮৭৩ জন ছাত্র এবং ১৮ হাজার ৯০২ জন ছাত্রী। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ভোট গণনা অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডাকসুর ছয় হলে ভিপি পদে বিপুল ভোটে এগিয়ে সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ঘোষিত ছয়টি হলের ফলাফলে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী তিনি মোট ৫ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়েছেন।

অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান চার হল মিলে পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫৯ ভোট। সে হিসেবে সাদিক কায়েম ৪ হাজার ১১৭ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।

কোন হলে কত ভোট পেলেন:

  • অমর একুশে হল: সাদিক কায়েম ৬৪৪ ভোট, আবিদুল ইসলাম খান ১৪১ ভোট।
  • কবি সুফিয়া কামাল হল: সাদিক কায়েম ১,২৭০ ভোট, আবিদুল ইসলাম খান ৪২৩ ভোট (এ হলে আবিদুল চতুর্থ অবস্থানে)।
  • ফজলুল হক মুসলিম হল: সাদিক কায়েম ৮৪১ ভোট, আবিদুল ইসলাম খান ১৮১ ভোট।
  • ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল: সাদিক কায়েম ৯৬৬ ভোট, আবিদুল ইসলাম খান ১৯৯ ভোট।
  • শামসুন নাহার হল: সাদিক কায়েম ১,১১৪ ভোট, আবিদুল ইসলাম খান ৪৩৪ ভোট।
  • মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল: সাদিক কায়েম ৮৪১ ভোট, আবিদুল ইসলাম খান ১৮১ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পর ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলের আগে প্রার্থীদের সমর্থকরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত সব হলে ভোট গণনা অব্যাহত থাকবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডাকসু নির্বাচনে অনাস্থা জানিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ ছাত্রদল এজেন্টদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনাস্থা জানিয়ে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের এজেন্টরা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্রে অবস্থানরত এজেন্টরা অনাস্থা প্রকাশ করে একযোগে বের হয়ে যান।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান দাবি করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ভোট পরিচালনা করেছে এবং শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন।

অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, “ডাকসু নির্বাচন ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ ভোট পুরোপুরি কারচুপির মাধ্যমে প্রহসনে রূপ নিয়েছে।”

ফলাফল ঘোষণার আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যে ঢাবির বিভিন্ন প্রবেশমুখে ভিড় জমে গেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) উপস্থিত সবাইকে ভিড় না করার অনুরোধ জানায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীরাও ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষায় ক্যাম্পাসজুড়ে অবস্থান করছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘ডাকসু নির্বাচন হাসিনার নির্বাচনকেও ছাড়িয়েছে’ — ছাত্রদল প্রার্থীর অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কারচুপির অভিযোগে বিতর্কিত বলে দাবি করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, “এই নির্বাচন হাসিনা সরকারের নির্বাচনের চেয়েও বেশি প্রহসনে পরিণত হয়েছে।”

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এ অভিযোগ করেন। টিএসসি থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

আবিদুল ইসলাম বলেন, “এটি আর স্বাভাবিক নির্বাচন নয়, বরং পুরোপুরি কারচুপির মাধ্যমে প্রহসনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”

মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন— “কারচুপির নির্বাচন মানি না মানব না”, “নির্বাচন না প্রহসন, প্রহসন-প্রহসন।”

প্রসঙ্গত, ডাকসুর শতবর্ষ পূর্তির বছরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩৮তম নির্বাচন। দীর্ঘ ছয় বছর পর আয়োজিত এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো আবাসিক হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোট গ্রহণ করা হয়। ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘ভোট চোর’ স্লোগানে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল টিএসসি ঘুরে ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান

এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন— “জামায়াত-শিবির ভোট চোর”। মিছিল শুরুর আগে মধুর ক্যান্টিনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা।

আবিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রোকেয়া হলে আগে থেকেই কিছু ব্যালটে ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম এবং জিএস প্রার্থী ফরহাদের নামের পাশে ক্রস দেওয়া ছিল। একজন ছাত্রী তাকে অভিযোগ করেছেন, “ভাই, যে ব্যালটপত্র আমাকে দেওয়া হয়েছে, তাতে আগে থেকেই ক্রস চিহ্ন দেওয়া।”

তিনি আরও দাবি করেন, একই ধরনের ঘটনা অমর একুশে হলেও ঘটেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারাও কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

আবিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা যেহেতু দুটি ঘটনার প্রমাণ পেয়েছি, তাই ধরে নিচ্ছি আরও অনেক ব্যালটে এমন কারচুপি হয়েছে।”

এর আগে নির্বাচনকালীন আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সাইবার হামলার অভিযোগও তুলেছিলেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের নেতারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ডাকসু নির্বাচনের পর ঢাবি ক্যাম্পাসে টান টান উত্তেজনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে দেখা দিয়েছে টান টান উত্তেজনা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ক্যাম্পাসের পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে।

সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সামনে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ফলাফলের অপেক্ষায় তারা অবস্থান করলেও, প্রার্থীদের অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ ঘিরে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট, শাহবাগ মোড় এবং নীলক্ষেত এলাকায় বাড়ানো হয় পুলিশি তৎপরতা। সন্দেহভাজন যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনোভাবেই যেন ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক।”

এদিকে ভোট গ্রহণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার দাবি, নির্বাচনের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি প্রার্থী হিসেবেও তাকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাদেক কায়েম সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যাকেই ম্যান্ডেট দেবে, তা মেনে নিতে হবে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে অযথা সংঘাত সৃষ্টি করলে তার ফল নেতিবাচক হবে।” তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফলাফল মেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ডাকসুর শতবর্ষ পূর্তির এই নির্বাচনে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত এ ভোট ঘিরে শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং পুরো ক্যাম্পাসে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলেও ফলাফল ঘোষণার আগে থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাতের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ করবে: আবিদুল ইসলাম খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচন আশানুরূপ হয়নি। তিনি সতর্ক করে জানান, যদি ভোট গণনায় কোনো কারচুপি করা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা প্রতিরোধ করবে।

মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আবিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই মাসে ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যে গণ-অভুত্থানের আশা করেছিলেন তা পূরণ হয়নি। এরপরও শিক্ষার্থীরা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

ভিপি প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, সোমবার সাইবার হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে এবং আজ সকাল থেকেই নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রে প্রার্থীদের ঢোকার অনুমতি থাকা সত্ত্বেও রিটার্নিং অফিসাররাও অপপ্রচারে জড়িত ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীরা আগে থেকে পূরণ করা ব্যালট থাকার অভিযোগ তুলেছেন। দুটি কেন্দ্রে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা অন্য কেন্দ্রেও থাকতে পারে। এছাড়া, বহিরাগত জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরির অভিযোগও করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ১২টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ৮ কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রয়োগ করেছেন। কোনো সহিংসতা ঘটেনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, উৎসবমুখর ক্যাম্পাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে চলছে ভোটগ্রহণ।

সকালে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ভোট শুরুর আগেই শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। অনেকেই ভিড় এড়াতে ও দ্রুত ভোট দেওয়ার জন্য সকাল সকাল কেন্দ্রে আসেন। সকাল ৭টার দিকে প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স পৌঁছে দেওয়া হয় এবং সাংবাদিক ও পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে তা উন্মুক্ত করা হয়।

ভোটকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রধান প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, টিএসসি এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিজিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) ছিল প্রার্থীদের প্রচারণার শেষ দিন। দিনভর টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন, অনুষদ ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচার-প্রচারণায় লিফলেট বিতরণ ও কর্মীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২৫ জন প্রার্থী। নারী প্রার্থীদের মধ্যে ভিপি পদে রয়েছেন ৫ জন, জিএস পদে একজন ও এজিএস পদে ৪ জন।

মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭৩ জন এবং ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন। বিকেল ৪টার মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী লাইনে দাঁড়াবেন, তারাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম