রাত পোহালেই জাকসু নির্বাচন, শীর্ষ পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে উত্তেজনা, উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। শিক্ষার্থীরা আগামীর নেতৃত্ব বেছে নিতে প্রস্তুত।

এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, ছাত্র ইউনিয়ন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রতিটি পদেই একাধিক প্রার্থী থাকায় বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ভিপি পদ

ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী। শিক্ষার্থীদের মতে আলোচনায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্যানেলের আব্দুর রশিদ জিতু, বাগছাস সমর্থিত আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল এবং ছাত্রশিবির সমর্থিত আরিফুল্লাহ আবিদ। তবে শেষ মুহূর্তে ভোটারদের রায় কোন দিকে যাবে, সেটিই নির্ধারণ করবে ভাগ্য।

জিএস পদ

জিএস পদে লড়ছেন ৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে শিবির সমর্থিত মাজহারুল ইসলাম, বাগছাস মনোনীত তৌহিদ মো. সিয়াম, স্বতন্ত্র শাকিল আলী এবং ছাত্রদল সমর্থিত তানজিলা হোসাইন বৈশাখী এগিয়ে রয়েছেন আলোচনায়। ভোটারদের ধারণা, এ পদে মাজহারুল ইসলাম ও তৌহিদ মো. সিয়ামের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

এজিএস (পুরুষ) পদ

পুরুষ এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। ভোটারদের মতে শিবির মনোনীত ফেরদৌস আল হাসান, ছাত্রদলের সাজ্জাদুল ইসলাম এবং বাগছাসের জিয়া উদ্দিন আয়ান ভোটযুদ্ধে শীর্ষে থাকতে পারেন। একাধিক প্রার্থীর শক্ত অবস্থান থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, ফলে ফলাফল অনিশ্চিত।

এজিএস (নারী) পদ

নারী এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। এ পদে আলোচনায় রয়েছেন বাগছাস সমর্থিত মালিহা নামলাহ এবং শিবির মনোনীত আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা। নারী অধিকার, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগের প্রতিশ্রুতি দুই প্রার্থীর জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদকসহ অন্যান্য পদেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব বেছে নিতে পারবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম চার বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত ১৩ মে তাকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন ভিসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী তাকে চার বছরের জন্য পূর্ণাঙ্গ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। এই সময়ে তিনি মূল পদমর্যাদার সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

ড. তৌফিক আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তবে শিক্ষার্থীদের টানা ২৯ দিনের আন্দোলনের কারণে চলতি বছরের মে মাসে তিনি পদচ্যুত হন। একই সঙ্গে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদকেও অপসারণ করা হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান এবং মানবিক আচরণের কারণে প্রশংসিত হয়েছেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশনের মঞ্চে রাত যাপন করে তিনি ব্যাপক সাড়া পান।

পূর্ণাঙ্গ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমা চাইলেন তানভীর বারী হামীম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে হেরে যাওয়ার পর ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামীম ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান ও শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হামীম লিখেছেন, “আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। হাসি-খুশি হলেও সংগ্রামী। জনাব তারেক রহমান ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ আমাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জিএস প্রার্থী করে সম্মানিত করেছেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাকে যে আস্থা দিয়েছেন, তা ফলাফলে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “ব্যক্তিগত জীবনে অনেক হারেছি, রাজনৈতিক জীবনে এটি আমার প্রথম পরাজয়। যদিও এটি ভাগ্য, পরিবেশ ও সময়ের কারণে হয়েছে, দেশের মানুষের দোয়া অবশ্যই ব্যর্থ হবে না।”

হামীম পোস্টে বলেন, “আল্লাহ জানেন আমার চিন্তা-ভাবনার সঠিকতা সত্ত্বেও কেন এই পরাজয় হয়েছে। আমি চিরকৃতজ্ঞ দলের সকল নেতাকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শিক অগ্রজ এবং বিশেষ করে জনাব তারেক রহমানের প্রতি, যারা আমাকে সমর্থন করেছেন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঢাবি ভিসিকে সারজিস আলমের শুভেচ্ছা ও অনুরোধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভিসিকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “আপনাকে অভিনন্দন। মেরুদণ্ড সোজা রেখে সব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে আপনি যে একটি স্বচ্ছ ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছেন, তার জন্য দেশ কৃতজ্ঞ থাকবে। অনুগ্রহ করে গুটিকয়েক বিকৃত মস্তিষ্কের ব্যবহারে কষ্ট নেবেন না।”

তিনি আরও লিখেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে ভিসি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা প্রশংসনীয়। এ সময় তিনি ঢাবি উপাচার্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ডাকসুতে শিবিরের জয়ে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী’র শুভেচ্ছা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের বিজয়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী। বুধবার দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়।

পোস্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির পূর্ণ প্যানেলে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, নির্বাচনে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলগুলো ভারতপন্থি বিভিন্ন শক্তির সমর্থন পেলেও শেষ পর্যন্ত বিজয় গেছে শিবিরের পক্ষেই।

পোস্টে আরও বলা হয়েছে, এই সাফল্য শুধু ছাত্র-তরুণদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণকে ভারতীয় ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি দেওয়ার পথও সুগম করবে। পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষার জন্যও প্রশংসা জানিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ডাকসু নির্বাচনে শিবির প্যানেলের বাইরে জয়ী ৫ প্রার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে মোট ২৮টি পদে ২৩টিতে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা। তবে ছাত্রশিবির প্যানেলের বাইরে পাঁচটি পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

স্বতন্ত্র জয়ীরা হলেন—

  • সমাজসেবা সম্পাদক: যুবাইর বিন নেছারী
  • সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ
  • গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক: সানজিদা আহমেদ তন্বি
  • সদস্য পদে: হেমা চাকমা ও উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া

ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহম্মদ জসীম উদ্দিন বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার পর সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ভিপি পদে ছাত্রশিবির প্যানেলের মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) ১৪,০৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫,৭০৮ ভোট।

জিএস পদে এস এম ফরহাদ ১০,৭৯৪ ভোটে বিজয়ী হন। এজিএস পদেও জয়ী হন মুহা. মহিউদ্দীন খান, ১১,৭৭২ ভোট পেয়ে। অন্যান্য পদেও ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, যেমন—

  • মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক: ফাতেমা তাসনিম জুমা (১০,৬৩১ ভোট)
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক: ইকবাল হায়দার (৭,৮৩৩ ভোট)
  • আন্তর্জাতিক সম্পাদক: খান জসিম (৯,৭০৬ ভোট)
  • মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক: সাখাওয়াত জাকারিয়া (১১,৭৪৭ ভোট)
  • ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক: মাজহারুল ইসলাম (৯,৩৪৪ ভোট)

এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৯,৮৭৪ জন। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ডাকসুতে জয়ী ফাতিমা জুমা: “এ বিজয় হিজাবিরও, নন-হিজাবিরও”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন ফাতিমা তাসনিম জুমা। শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৬৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আরিফুল ইসলাম পান মাত্র ২ হাজার ৪৭০ ভোট।

ফলাফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জুমা লিখেছেন—
“এই বিজয় মুসলিমের, এই বিজয় অমুসলিমের। এই বিজয় হিজাবির, এই বিজয় নন-হিজাবির। এই বিজয় নারীদের, এই বিজয় ঢাবির, এই বিজয় আমাদের সবার।”

তার সঙ্গে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, সিনেট ভবনের সামনে কয়েকজন হিজাবি শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের সঙ্গে তিনি বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।

তবে এই নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে সাইবার বুলিংয়ের মুখে পড়তে হয় জুমাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত কিছু নাচের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়, এমনকি ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমে বলেন—
“আমার কাছে ৬০০টিরও বেশি স্ক্রিনশট রয়েছে, যেখানে আমাকে হত্যার ও গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি অশ্লীল ভিডিওও বানানো হয়েছে। একজন নারী প্রার্থীকে এভাবে হুমকির মুখে ফেলাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তার এই জয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় বইছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, এই ফলাফল শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং নারী নেতৃত্বের জন্যও একটি বড় অর্জন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের তিন ত্রয়ীর চমক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে চমক দেখালেন শিবিরের তিন ত্রয়ী—সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খান। ডাকসুর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে তারা তিনজনই বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন মহিউদ্দিন খান।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন থেকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। এর আগে সকাল ৬টার দিকে ১৮টি হলের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়—

  • সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে: সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১৪,০৪২ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল প্যানেলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫,৬৫৮ ভোট।
  • সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে: এস এম ফরহাদ পেয়েছেন ১০,৭৯৪ ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল প্যানেলের শেখ তানভীর বারী হালিম পেয়েছেন ৫,২৮৩ ভোট।
  • সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে: মহিউদ্দিন খান পেয়েছেন ৯,৫০১ ভোট, আর প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত তানভীর আল হাদি মায়েদ পেয়েছেন ৮,২৫৪ ভোট।

প্রসঙ্গত, এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৪৭১ জন। এছাড়া ১৮টি হল সংসদের ২৩৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী। মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন।

আল-আমিন

 




ভোটারদের রায়কে সম্মান করা আমাদের দায়িত্ব : হাসনাত আব্দুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ..ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন-

” সকলের উচিত ভোটারদের রায়কে সম্মান করা।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, আজ ডাকসুতে যারা জিতবে, তারা কীভাবে দায়িত্ব নেবে এবং যারা হারবে, তারা কীভাবে পরাজয় গ্রহণ করবে এই দুইটি প্রশ্নের উত্তর বলে দেবে আমাদের জাতীয় রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে।

তিনি আরও লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পেশিশক্তি, জনশক্তি ও সংগঠিত উপস্থিতির মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ছাত্র রাজনীতির নিজস্ব চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ডাকসু এখন শুধু ছাত্রদের ম্যান্ডেট বহন করছে না, বরং জাতীয় রাজনৈতিক দলের এক্সটেনশন গেমে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

ছাত্র রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে নিয়মিত নতুন নেতৃত্বের উত্থান এবং পরাজয়কে পরবর্তী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ডাকসু নির্বাচন সেই সংস্কৃতি তৈরির সূচনা হতে পারত, তবে ফলাফল গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।

সব রাজনৈতিক দলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সকলের উচিত ভোটারদের রায়কে সম্মান করা। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি সহিষ্ণুতা। যাকে আমি পছন্দ করি না, তাকেও যদি জনগণ বেছে নেয়, সেটিকে সম্মান করাই গণতন্ত্র।

তিনি সতর্ক করে তিনি আরও লেখেন, গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বল্পমেয়াদি স্বার্থে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফল ভুগছে দেশ। এবার সময় এসেছে পরাজয়কে সম্মানিত করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার। অন্যথায় আগামী দিনের রাজনীতি থেকে যাবে কেবল জয়ীদের উল্লাস আর পরাজিতদের ক্ষোভে বন্দী, আর গণতন্ত্র কোনদিন পূর্ণতা পাবে না।

 




ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা উমামা ফাতেমার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী উমামা ফাতেমা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “বয়কট! বয়কট! ডাকসু বর্জন করলাম। সম্পূর্ণ নির্লজ্জ কারচুপির নির্বাচন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “৫ আগস্টের পরে জাতিকে লজ্জা উপহার দিলো ঢাবি প্রশাসন। এটি শিবির পালিত প্রশাসন।”

এর আগে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানও পরিকল্পিত কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হয় ‘মিনি পার্লামেন্ট’ খ্যাত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ৪৭১ জন প্রার্থী।

 

আল-আমিন