চিকিৎসক ও জনবল সংকটে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর মানুষের উন্নত চিকিৎসার একমাত্র প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটি আগের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল দিয়েই চলছে চিকিৎসা সোবার কার্যক্রম। অথচ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কর্মকর্তা – কর্মচারীদের যে মঞ্জুরকৃত পদ রয়েছে, তার অধিকাংশ পদই খালি। আর এর মধ্যে সব থেকে বেশি খালি রয়েছে চিকিৎসকদের পদ।

এ ছাড়া তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেনীর পদে জনবল সংকট চরমে। মামলা জটিলতার কারনে মাষ্টাররোলেও জনবল নিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। ফলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আশা রোগীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসকদের ৫৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন চিকিৎসক, বাকি ৩৫ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন যাবত খালি।
একই অবস্থা অন্যান্য পদগুলোতেও। হাসপাতালে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে সর্বমোট  ৩৩০টি পদ থাকলেও এর মধ্যে ১০৩টি পদ দীর্ঘদিন যাবত খালি রয়েছে ।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের যে সব পদ খালি রয়েছে তার মধ্যে আছে সহকারী পরিচালক, সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), সিনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেশিয়া), সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক),জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি ও ইমেজিং), জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), আবাসিক ফিজিসিয়ান, আবাসিক সার্জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, অ্যানেস্থেটিস্ট (৩ জন), প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রার (৭টি), ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার (৪টি) ও ডেন্টাল সার্জন (১টি)।

এ ছাড়া সেবা তও্বাবধায়কের ১টি, উপ-সেবা তও্বাবধায়করে ১টি, পরিসংখ্যান কর্মকর্তার ১টি, নার্সিং সুপারভাইজারের ২টি, সিনিয়র স্টাফ নার্স/ স্টাফ নার্স ৪টি, সহকারী নার্স ৩টি, সহকারী হিসাব রক্ষক ১টি, অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট(ফার্মা) ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিওথেরাপি), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (বায়োকেমিস্ট), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইসিজি) ৩টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) ৩টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডায়ালাইসিস) তিনটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (বায়োমেডিকেল) তিনটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইকো) তিনটি এবং কার্ডিওগ্রাফারের ২টি পদ খালি রয়েছে।

এছাড়া কম্পিউটার অপারেটর, স্টুয়ার্ড, ওয়ার্ড মাস্টার, রেকর্ড কিপার, লিলেনকিপার, টিকিটক্লার্ক, ড্রাইভার, স্টেরিলাইজার কাম মেকানিক, জুনিয়র মেকানিক কাম পাম্প অপারেটর, ক্যাশ সরকার, অফিস সহায়ক ১৩ জন, ডোম, বাবুর্চি ১ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১০ জন ও ইলেকট্রিসিয়ান ১ জন, ওয়ার্ড বয় ২ জন, আয়া ৭ জন, দারেয়ান ৯ জন, মালি ১ জন ও সুইপার ৪ জনের পদ খালি রয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগসহ হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বর্তমানে কর্মরতরা।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হসপিটালের সুপার ডাঃ দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী ভর্তি থাকার পাশপাশি জরুরি বিভাগ থেকে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশো থেকে তিনশো এবং বহিঃবিভাগে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রতিদিন হাজারের অধিক রোগী চিকিৎসা নেয় এখানে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হলেও ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল দিয়েই কাজ চালাতে। যে কারনে হাসপাতালে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, পয়ঃনিস্কাসনের চিত্র অত্যান্ত ভঙ্গুর। সমস্ত বাথরুম গুলি ব্যবহারের অযোগ্য। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা হুমকিতে ফেলেছে স্বাস্থ্য সেবা। অসাস্থ্যকর পরিবেশ ভুক্তভোগী রোগীরা আরো অসুস্থ হচ্ছে।
এরপরও ২৫০ শয্যা হাসপাতালের যে জনবল বরাদ্দ আছে তারও অধিকাংশ পদ খালি। প্রতি মাসে আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করে চিঠি লিখছি। ২৫০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসকদের যে পদগুলো আছে সব পদে চিকিৎসক থাকলে কিছুটা হলেও কাঙ্খিত সেবা দেওয়া সম্ভব হতো। এছাড়া হাসপাতালের ক্লিনার, সুইপারের যেসব পদ রয়েছে সেসব পদেও কর্মচারী না থাকায় হাসপাতালকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, এমনিতে বিপুল সংখ্যক রোগী, এরসঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রোগীর আত্মীয়-স্বজন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের সমাগাম হচ্ছে। ফলে এত মানুষের সৃষ্ট ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাও এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




‘ভাইরাল ম্যানিয়া’ ৫ লাখ টাকার বাইকে আগুন, আয় মাত্র ২০০ ডলার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: রাজধানীর বাড্ডায় আফতাব নগর হাউজিং এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ভাবে মামলা দিয়েছে’ অভিযোগ তুলে নিজের ৫ লাখ টাকার বাইক আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন রাসেল ওরফে জুনিয়র টাইগার শ্রফ নামে এক তরুণ। এ ঘটনা ভিডিও ধারণ করে তিনি সামাজিকমাধ্যমে পোস্টও দেন।

সেখান থেকে আয় করেন মাত্র ২০০ ডলার।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, ফেসবুকসহ সামাজিকমাধ্যমে ‘ভাইরাল হিরো’ হতে রাসেল এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ডিবি দাবি করেছে, রাসেলের বিরুদ্ধে মামলা করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং তার এক বন্ধু ট্রাফিক আইন ভাঙায় তাকে মামলা করা হয়। রাসেল সেই মামলার স্লিপ দেখিয়ে নিজের পাঁচ লাখ টাকা দামের বাইকে আগুন দেন। সেটি ভিডিও করে সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করে আয় করেন মাত্র ২০০ ডলার।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিন্টু রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বাইকারের ভিডিও দেখতে পাই। তাদের মধ্যে ছেলে-মেয়ে উভয়ই মূলত ইউটিউবার। তারা একটা গ্রুপ নিয়ে নিয়মিত দ্রুত গতিতে বাইক চালায়। এমনই একজন রাসেল নিজেকে জুনিয়র টাইগার পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি রাসেল তার পাঁচ লাখ টাকা দামের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেন।

পরবর্তীতে আমরা তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তিনি ভিডিওতে যে মামলার তথ্য দিয়েছে আসলে এমন কোনো ঘটনা তার সঙ্গে ঘটেনি। ফুয়াদ নামে তার এক বন্ধুর মামলার কপি দেখান তিনি। বিপদজনকভাবে মোটরসাইকেল চালানো, সিগন্যাল অমান্য করা এবং অবৈধ উচ্চ শব্দের যন্ত্র সংযোজনের দায়ে ফুয়াদকে মামলা দেওয়া হয়েছিল।

প্রধান বলেন, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর এলাকার প্রবাসী বাবা-মায়ের সন্তান রাসেল মিয়া। যিনি নিজেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাসেল ওরফে জুনিয়র টাইগার শ্রফ পরিচয় দিত। এই নামে তিনি ফেসবুক ও ইউটিউবে অন্যের বানানো নানা ধরনের কনটেন্ট পোস্ট করত যার অধিকাংশই অর্থহীন, অশালীন ও দেশের আইন বিরোধী।

রাসেলকে ‘বখে যাওয়া তরুণ’ মন্তব্য করে হারুন আরও বলেন, তিনি ২০২০ সালে এইচএসসি পাশ করার পরে আর পড়াশোনা করেনি। মাঝে কিছু সময় ইন্ডিয়ায় মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে জুনিয়র টাইগার শ্রফ পরিচয় দিত। সে মোটরসাইকেল স্পিডিং স্টান্ডিংসহ বিভিন্ন ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে ছাড়ত। এতে তার সামান্য আয় হতো। আয় বাড়াতে বাইকে আগুন দেওয়ার কাজটি করে রাসেল।

রাসেলকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায় তারা বাবা-মা বিদেশে থাকে। রাসেল প্রতিদিন রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট রোড, মাওয়া আফতাব নগর এলাকায় বিকট শব্দের বাইক রেইস, হাই স্পিডিং, বাইক স্ট্যান্ট চালিয়ে আসছিল। তার আর কিছু ভিডিও মিলিয়ন ভিউ হলে সে জুয়ার সাইট প্রমোট করতে পারত। যদিও ইতোমধ্যে নিয়মিত জুয়ার সাইট প্রমোট করত রাসেল।




পটুয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীতে মনোয়ারা সুফি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

গত রবিবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে মনোয়ারা সুফি ফাউন্ডেশনের পক্ষে শামীমা নাসরিন শিল্পী স্ব-শরীরে প্রতেকটি স্কুলে গিয়ে গিয়ে নিজ হাতে কোমলমতি শিশুদের হাতে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মনোয়ারা সুফি ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মর্তুজা রেজা হায়দার, নির্বাহী সদস্য মোঃ ইশরাত হোসেন লিটন , গ্রীণ টিভি’র জেলা প্রতিনিধি সুমন মাহমুদ এবং হাসান কম্পিউটারস্ এর স্বাধিকারী হাসান কায়েস প্রমুখ।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাউন উচ্চ বিদ্যালয়, ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডোনাবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জৈনকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রীণগার্টেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাতৃকল্যান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেহাকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ দুমকী উপজেলার আরো ০৫ (পাঁচ টি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে ৬ টি কলম, ২ টি পেন্সিল, ৬ টি খাতা, ২ টি রাবার, ১টি পানির পট ও ১ টি স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, এ ফাউন্ডেশন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১ম ধাপে ২০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল এবং ২য় ধাপে কচিকাঁচা শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।




গলাচিপায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বশির হাওলাদারকে (৪৫) মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

সোমবার রাত ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) গলাচিপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।

অভিযুক্ত বশির একই এলাকার মৃত ফজলুল হাওলাদারের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন ফার্নিচারের দোকানের মালামাল পরিবর্তন করছিল। এ সময় আসামি বশির হাওলাদার দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ভিকটিমকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে বশির হাওলাদারকে উত্তেজিত স্বজনরা ধরে মারধর করে পুলিশে দেন।

গলাচিপা থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




বইয়ের ভেতরে মিলল ২ কেজি গাঁজা, ডিবির জালে আটক ৩

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর জেলা সদরে বইয়ের মধ্য থেকে ২ কেজি গাঁজাসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের জালে আটক হয়েছে ৩ বৃদ্ধ মাদক কারবারি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এসআই সঞ্জীব কুমার সরকার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ জেলা সদরের টাউন কালিকাপুরের কলাতলা রাস্তার মাথা থেকে তাদেরকে আটক করেন।

আটককৃতরা হলেন- জেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর এলাকার মৃত. আজিজ তালুকদারের ছেলে মোঃ জালাল তালুকদার (৫৫), বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের মৃত. আসমত আলী ফরাজীর ছেলে মোঃ আলম ফরাজী (৫২) এবং চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার জট পুকুরিয়া এলাকার কাঞ্চনা গ্রামের মৃত. হরে কৃষ্ণ পালের ছেলে শ্রী ধ্রুব পাল (৫৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তায় বিভিন্ন প্রকারের বইয়ের মধ্যে কসটেপ দ্বারা পেচানো নীল রংয়ের পলিথিনের মধ্য থেকে এ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা বলেন, আটককৃতদের নামে সদর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদক নিমূর্লে আমরা বদ্ধপরিকর। আমাদের এ অভিযান চলমান থাকবে।




জয়পুরহাটে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় ২১ বছর পর ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: জয়পুরহাটে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র মোয়াজ্জেম হত্যা মামলায় ১১ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দীন এ রায় দেন। এ বিষয় নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জয়পুরহাট শহরের দেওয়ানপাড়া মহল্লার মৃত ইউনুস আলী দেওয়ানের ছেলে বেদারুল ইসলাম বেদিন, একই মহল্লার মোহাম্মদ আলী মোখলেসারের ছেলে মনোয়ার হোসেন মনছুর, ওয়ারেছ আলীর ছেলে টুটুল মিয়া, আজিজ মাস্টারের ছেলে রানা, শান্তিনগর মহল্লার শাহজাহান মৃধার ছেলে সরোয়ার রওশন সুমন, আরাফাত নগর মহল্লার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মশিউর রহমান এরশাদ, সদর উপজেলার তেঘর বিশার গ্রামের কাবেজ উদ্দীন মণ্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম, দেবীপুর কাজী পাড়ার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে শাহী মিয়া, একই মহল্লার রফিক উদ্দিনের ছেলে সুজন মিয়া, নুর হোসেন নুমুর ছেলে রহিম মিয়া, পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার ধুরইল গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ডাবলু।

এদের মধ্যে বেদিন, নজরুল ইসলাম, টুটুল, সুজন, রহিম ও ডাবলু পলাতক।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২৮ জুন বিকেলে জয়পুরহাট শহরের প্রামাণিকপাড়ার ফজলুর রহমানের ছেলে স্কুলছাত্র মোয়াজ্জেম হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সেদিন আসামিরা মোয়াজ্জেমকে শহরের চিত্রা সিনেমা হল এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর শহরের ভিটি এলাকায় একটি কবরস্থানের পাশে মোয়াজ্জেমকে আসামিরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে জামালগঞ্জ রোডের একটি আম গাছের নিচে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যান আসামিরা। এরপর ঘটনার দিন রাতে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মোয়াজ্জেমকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে পরের দিন ২৯ জুন সকালে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম ২০০৩ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আজ এ রায় দেন।




পটুয়াখালীতে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে হচ্ছে শহীদ মিনার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী পৌরসভায় ভাষা শহীদদের স্মরণে ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নির্মিত হচ্ছে শহীদ মিনার। ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৭ টাকা ব্যয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নির্মিত এটি।

জানা যায়, পটুয়াখালী পৌরসভার মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্তকরণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শেখ রাসেল শিশু পার্কের পশ্চিম পাশে এটি নির্মিত হচ্ছে। পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ মিনারটি নির্মিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ।

আসছে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মুক্ত মঞ্চ ও উদ্যানসহ শহীদ মিনার উন্মুক্ত করা হবে জানিয়ে মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, প্রায় ১০ একর জমি জুড়ে জেলা উদ্যানলী, মুক্ত মঞ্চ এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নকশা প্রণয়নে কাজের ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু জানান, সরকারের উল্লেখিত অর্থায়নে পটুয়াখালী পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন শহীদ মিনারটি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে করা হলেও এটি হবে আরো উন্নত ও দৃষ্টিনন্দন। এটি হবে দেশের অদ্বিতীয় শহীদ মিনার। এটি দেখতে দেশ-বিদেশের লোকজন আসবে বলে বিশ্বাস করেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন আরজু।




শৈত্যপ্রবাহে কুড়িগ্রামের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনার আলোকে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণার জানায়, আজ ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা উপস্থিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত জানতে পেরে তারা বাড়ি ফিরে যান।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, সকালে তারা যথারীতি স্কুলে আসেন, অ্যাসেম্বলি করার পর মেইলে স্কুল বন্ধের নির্দশনা আসে। সে অনুযায়ী স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বায়েজীদ বোস্তামী জানান, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে স্কুলে আসতে অনেক কষ্ট হতো।

অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ত। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা খুশি।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম জানান, সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নবেশ উদ্দিন সরকার জানান, পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রার উন্নতি হলে স্কুল খুলে দেওয়া হবে।




পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ১০ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপিত

বরিশাল অফিস :: নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ১০ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপিত হয়েছে।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গনে পতাকা উত্তোলন ও কেক কাটা দিনটির শুভ সূচনা করা হয়। পরে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে  বর্নাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালীটি একই স্থানে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাক্তার মনিরুজ্জামান শাহীন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক  দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা,বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন  (বিএমএ) পটুয়াখালী জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র ডাঃ শফিকুল ইসলাম, ডাক্তার ওয়াহিদুজ্জামান শামীমসহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন।




দশমিনায় দুই শিক্ষার্থীকে ব্যাট দিয়ে পেটাল কিশোর গ্যাং

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার দশমিনায় সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালে বিদ্যালয়ে ঢুকে দুই শিক্ষার্থীকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে বেদম পিটিয়েছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় নেতৃত্ব দেন উপজেলার আলোচিত কিশোর গ্যাং লিডার দুই সহোদর ইয়াসিন ও আরাফাত। ওই সহোদর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুল মুন্সির ছেলে।

হামলার শিকার দুজন হলেন- উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছাণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শাহিন (১৭) ও মো. মিহাদুল ইসলাম। তারা দুজনই দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি।

আহত দুই শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চলছিল। ওই দিন বিদ্যালয়ের মাঠে বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের বিদ্যালয়ের ভলিবল প্রতিযোগিতা থাকায় তারা দুজন অংশ নিতে সেখানে যান। পরে সেখানে গেলে কিশোর গ্যাং লিডার ইয়াসিন – আরাফাতের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাদের দুজনকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে প্রকাশ্যে বেদম মারধর করেন।

আহত দুজনের মধ্যে মো. মিহাদুল ইসলাম দাবি করেন, ৩ মাস আগে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হামিদুলের সঙ্গে তার সিনিয়র – জুনিয়র নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়। ওই তর্কবিতর্কে জের ধরে তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে ইয়াসিন-আরাফাতের ফের এমন কাণ্ডে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয় দশমিনা থানার ওসি নূরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।