১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আজ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন ১৮ লাখ ৬৫ হাজার প্রার্থী।

দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই পরীক্ষার কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্কুল-২ ও স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার সময় ও নম্বর

মোট ১০০টি প্রশ্নের বিপরীতে ১০০ নম্বরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর যুক্ত হবে এবং ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে শূণ্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে।

গত বছর ৯ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে অংশগ্রহণের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের প্রিলিমিনারির পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।




রাঙ্গাবালী ও সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ও রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা কমিটি।

মঙ্গলবার পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হাসান আরিফের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জেলা শাখার জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাঙ্গাবালী উপজেলা ও রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

তবে ওই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্ত করার কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার কারণ না জানিয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হাসান আরিফ বলেন, ‘এটা সংগঠনের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা করেছি।’ নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যা অবশ্যই।’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ এক বছরের জন্য আরিফ হোসেনকে সভাপতি এবং রিয়াদ মৃধাকে সাধারণ সম্পাদক করে রাঙ্গাবালী উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেছিল এই জেলা কমিটি। একইদিন পৃথক চিঠিতে সাকিবুল হাসান সৌরভকে সভাপতি এবং ইরফান রাজ জিদানকে সাধারণ সম্পাদক করে রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটির মেয়াদ ১২ দিন থাকতেই দুইটি শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

 




রোজায় স্কুল বন্ধ রাখার আদেশ বহাল, আপিল শুনানি মঙ্গলবার

চন্দ্রদীপ নিউজ: রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ আপাতত বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে এ বিষয়ে আপিল শুনানির জন্য আগামীকাল (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার (১১ মার্চ) বিকেলে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ।

শুনানিতে এ কে এম ফয়েজ বলেন, রমজান মাস পবিত্র মাস। করোনার সময় দুই বছর সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। রমজানে ১০-১৫ দিন স্কুল বন্ধ রাখলে পড়ালেখার কোনো ক্ষতি হবে না। বরং খোলা রাখলে যানজটের সৃষ্টি হবে। অভিভাবকরা সমস্যায় পড়বেন। এ ছাড়া স্কুল বন্ধ রাখতে অভিভাবকরা বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন করে যাচ্ছেন।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, স্কুল খোলা রাখা সরকারের পলিসিগত বিষয়। এক্ষেত্রে হাইকোর্ট এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

এর আগে সকালে রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

তার আগে রোববার (১০ মার্চ) রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মাহমুদা খানম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. সাইফুজ্জামান।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি আংশিক সংশোধন করে রমজানে ১৫ দিন মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালায়ও জানায়, রমজানে ১০ দিন ক্লাস চলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

তাদের এমন সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১২ বা ১৩ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে।




মুরাদিয়ায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :‘স্বাস্থ্য সচেনতাই, সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত’ এই স্লোগান সামনে রেখে মুরাদিয়ায় স্থানীয় জনগণের কল্যাণে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে ৮ ও ৯ মার্চ মুরাদিয়া স্বপ্নসিড়ি সোসাইটির উদ্যোগে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

মুরাদিয়ার আজিজ আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজ আয়োজিত এই মেডিকেল ক্যাম্পে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পে দুই দিনে প্রায় ১৯০০ দরিদ্র রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা পরামর্শ ও ফ্রি প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।

মেডিকেল ক্যাম্পে ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের সহকারি অধ্যাপক সুদিপ কুমার নাথ সমন্বয়ে ও ডা. শুভংকর বাড়ৈর নেতৃতে ২৫ জনের মেডিকেল টিম ও চক্ষু, মেডিসিন, প্রসুতি ও নারী স্বাস্থ্য, দন্ত, নাক-কান গলা, শিশু ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সমন্বয়ে এই সেবা প্রদান করা হয়।

মুরাদিয়া স্বপ্নসিঁড়ি সোসাইটির ১০০ সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমে রোগীদের রেজিস্ট্রেশন আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে এই মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।

ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা প্রযুক্তিবিদ কামরুল হাসান সাগর (সিআইপি) বলেন, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাদের উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যতে আরও এই রকমের ক্যাম্প আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে।

স্বপ্নসিঁড়ি সোসাইটি মানুষের সেবা দানের উদ্দেশ্যে শিক্ষা চিকিৎসা কৃষি এবং খেলাধুলা নিয়ে কাজ করে মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে এবং নেতৃত্ব তৈরি করতে স্বপ্নসিড়ি সোসাইটি কাজ করে।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি সংগঠনটি এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে। তখন ৯০০ দরিদ্র রোগীকে চিকিৎসা পরামর্শ ও বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।




পবিপ্রবিতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে কর্মসূচি পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদ্যাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে ৭ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত। এ ছাড়াও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

পরে একই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ. দা.) প্রফেসর ড. সন্তোষ কুমার বসু’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের বৈশ্বিক তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বলেন, এটি একটি কালোত্তীর্ণ ভাষণ। এই ভাষণ শুধু ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতিকেই অনুপ্রাণিত করেছিল তা নয়, বরং এটি যুগে যুগে বিশ্বের সকল বঞ্চিত, অবহেলিত ও স্বাধীনতাকামী জাতিগুলোকে অনুপ্রেরণা জোগাতে থাকবে। এ ভাষণ সব দেশ, জাতি ও সম্প্রদায়ের জন্য প্রাসঙ্গিক। এ কারণেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালে ইউনেস্কোর “মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড” রেজিস্টারে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আঠারো মিনিটের বক্তব্যে তিনি বাঙ্গালীর স্বাধীনতার সারমর্ম বলেছিলেন যা তার পূর্ব নির্ধারিত বা লিখিত ভাষণ ছিল না। এ ভাষণের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এ ভাষণ আজ বিশ্ব স্বীকৃত। এই ভাষণের তাৎপর্য অনুধাবন করে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ধারণ, লালন ও বিকাশ ঘটানোর জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 




ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ: “দাবায়ে রাখতে পারবা না” ‘আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। ৫৩ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জাদুকরি ভাষণে বাঙালি জাতিকে মুক্তির স্বপ্নে বিভোর করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারপর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, ৯ মাসের লড়াই এবং স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম পাকিস্তানিদের সঙ্গে আর থাকা যাবে না—এ ধারণা বাঙালির মনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৭ই মার্চের আগে। ফলে স্বাধীনতাতেই সমাধান দেখছিল আপামর জনতা। প্রশ্ন ছিল, কীভাবে সেই স্বাধীনতা অর্জিত হবে? ৭ই মার্চ বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু প্রথম বারের স্বাধীনতা-সংগ্রামের রূপরেখা দেন। এ ভাষণে জাতিকে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বানের পাশাপাশি ছিল দিকনির্দেশনাও। সেদিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু বজ্রকন্ঠে ঘোষণা দেন, ‘সাত কোটি মানুষকে আর দাবায়ে রাখতে পারবা না। বাঙ্গালী মরতে শিখেছে, তাদের কেউ দাবাতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

বঙ্গবন্ধুর এই তেজদৃপ্ত ঘোষণাই ছিল প্রকৃতপক্ষে আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। বিশ্বে সর্বাধিক বার প্রচারিত ও শ্রবণকৃত ভাষণ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা অবিস্মরণীয় গৌরবের এক অনন্য দিন আজ। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ বাঙালি জাতির কাছে সব সময়ই বিশেষ কিছু। ২০১৭ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো বিশ্ব ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করে ভাষণটিকে। সংস্থাটি বিশ্বের ৭৮টি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথি ও বক্তৃতার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণও অন্তর্ভুক্ত করে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

 




ক্লাশে ঢুকে মেডিকেল ছাত্রকে গুলি করা সেই শিক্ষক আটক

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে আরাফাত আমিন তমাল নামের এক শিক্ষার্থীকে গুলি করার ঘটনায় শিক্ষক ডা. রায়হান শরীফকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় তাকে কলেজ থেকে সদর থানায় নেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ডা. রায়হান শরীফকে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দিলেই সেটা এজাহার হিসেবে নিয়ে মামলা দায়ের করা হবে। মামলা হলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আমিরুল হোসেন বলেন, আহত শিক্ষার্থীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। সে এখন শঙ্কামুক্ত। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৪ মার্চ) বিকেল ৩টায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোলস্থ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন আইটেম ক্লাশ চলাকালিন সময়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ডা.রায়হান শরিফ বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসতো। এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এমনিক ডা. রায়হান শরিফ কমিউনিটি মেডিসিনের শিক্ষক হওয়ার স্বত্তেও তার নিজস্ব ক্ষমতা দেখিয়ে ফরেনসিক বিভাগে তিনি ক্লাস নিয়ে থাকেন। ক্লাস চলাকালীন সময় ছাড়াও প্রায় সময়ই তিনি পিস্তল নিয়ে চলাফেরা করতেন। আজ বিকেলে ভাইভা চলাকালীন ৪৫ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে দেশীয় পিস্তল নিয়ে হঠাৎ করে ক্লাসে প্রবেশ করে শিক্ষক রায়হান শরীফ ৩য় বর্ষের ছাত্র আরাফাত আমিন তমালকে গুলি করে। তার চিৎকারের সবাই এগিয়ে এসে ডা. রায়হান শরিফকে তালাবদ্ধ করে রাখেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তমালকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ওই শিক্ষকের বিচার চেয়ে আন্দোলন শুরু করে মেডিকেলের ছাত্র-ছাত্রীরা। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক লাঞ্ছনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি  :

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল হককে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকেরা ১৫ দিন পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে আজ সোমবার সকাল থেকে ক্লাস ও পরীক্ষার কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আমরা আন্দোলন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি এবং আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একাডেমি কার্যক্রমে যথারীতি অংশ নিয়েছেন।’

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনাটি তদন্তে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষকের সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অসদাচরণের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিল।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক জেহাদ পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত জরুরি নোটিশে সব প্রতিনিধিকে ডিন ও কোর্স টিচারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্লাস পরীক্ষা শুরু করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সামসুল হক শিক্ষক কর্মকর্তাদের কৃষি কুঞ্জের ডাইনিং কক্ষে পোস্ট-হারভেস্ট টেকনোলজি অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছনা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা। বিচার চেয়ে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে লাগাতার ক্লাস বর্জনসহ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সামসুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করল।




দেশে শিক্ষিত বেকার ২৩ লাখ ৫০ হাজার: বিবিএস

চন্দ্রদীপ নিউজ: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৩০ দিন ধরে কাজপ্রত্যাশী একজন মানুষ যদি শেষের সাত দিনে এক ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ না পান, তাহলে তাঁকে বেকার হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোও (বিবিএস) এই সংজ্ঞা ব্যবহার করে।

বিবিএসের তথ্য মতে, দেশে মোট বেকারের ১২ শতাংশই এমন উচ্চশিক্ষিত। অথচ যাঁদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তাঁদের বেকারত্বের হার মাত্র ১.০৭ শতাংশ। অর্থাৎ মানসম্মত শিক্ষার অভাবে দেশে বেকারত্বের হার বাড়ছে, বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অধিক হারে বাড়ছে।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা বেকারের হার ৮.৭৮ শতাংশ। মাধ্যমিক শেষ করা বেকার ২.৪২ শতাংশ। প্রাথমিক শেষ করা বেকারের হার ১.৬৯ শতাংশ। অন্য কোনো মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করা ব্যক্তিদের বেকারত্বের হার ৪.৮৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা ৬৬ শতাংশই বেকার থাকছেন। ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি পান। ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো অন্য কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা কারিগরি শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ৩ শতাংশ নিজ উদ্যোগে কিছু করছেন।

লন্ডনের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) তথ্য মতে, বাংলাদেশে ১০০ জন স্নাতকধারীর ৪৭ জনই বেকার। আইএলওর ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা তিন কোটি। তখন সংস্থাটি আভাস দেয়, কয়েক বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে ছয় কোটিতে দাঁড়াবে, যা মোট জনসংখ্যার ৩৯.৪০ শতাংশ হবে।

বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২-এর হিসাব বলছে, দেশে শ্রমশক্তির মোট পরিমাণ সাত কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে কাজ করছেন সাত কোটি চার লাখ ৭০ হাজার জন। অর্থাৎ দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখ ৮০ হাজার। আর ২০২৩-এর চতুর্থ কোয়ার্টারের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে বেকার ২৩ লাখ ৫০ হাজার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বেকারত্বের হিসাবের এই পদ্ধতিতে গলদ আছে। এই সংজ্ঞা বাংলাদেশে বেকারত্বের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য আংশিক কর্মসংস্থান সম্পর্কিত ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এই সংজ্ঞা দেশের মোট উৎপাদনের অন্যান্য উপাদানের মধ্যকার মৌলিক ভারসাম্যহীনতাকেই প্রতিফলিত করে।

উচ্চশিক্ষিত বেকারদের জন্য সরকার কী উদ্যোগ নিচ্ছে বা নেওয়া উচিত, জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সচিব মামুন-আল-রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার তাঁদের সর্বোচ্চ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দিয়েছে, আর কী দিতে পারে। সরকার কম শিক্ষিতদের জন্য বিভিন্ন কারিগরি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে, প্রকল্প নিচ্ছে। বেকার বেড়ে যাওয়ায় চীন যেমন উচ্চশিক্ষা বন্ধ করে কারিগরি শিক্ষা চালু করেছিল, সরকারেরও এখন সেটা করা উচিত। যদিও সেটা করা সরকারের জন্য কঠিন। তবে আমাদের যেসব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়, তার পরিবর্তে কর্মমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত। এখানে কিছু বিষয়ে যে শিক্ষা দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী বাজারে কর্ম নেই।’




ভিকারুননিসার ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তি বাতিল

চন্দ্রদীপ নিউজ : ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের নীতিমালা না মানায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাউশি। এসব শিক্ষার্থীদের সবাই ২০২৪ সালে ভর্তি হয়েছিল।

মাউশির সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে বিধিবহির্ভূতভাবে ১ জানুয়ারি ২০১৭ সালের আগে জন্ম গ্রহণকারী ১৬৯ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়।