পবিপ্রবিতে উৎসবমুখর আন্তঃসৃজনী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য আন্তঃসৃজনী বিজ্ঞান মেলা। সোমবার সকাল থেকে সৃজনীবিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণজুড়ে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়— ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একটি গ্রুপে, আর নবম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অন্য গ্রুপে। মেলা ঘুরে দেখা যায়, ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা বিকল্প উপায়ে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, আগ্নেয়গিরির প্রকৃতি, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ ১২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করেছে।

দর্শনার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকরাও মেলা পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন। এ সময় শিশুদের চোখে-মুখে ছিল ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার স্বপ্ন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সৃজনীবিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন। তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রতি আরও আগ্রহী হতে হবে। উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যাবে। শিক্ষকদেরও ব্যবহারিক বিজ্ঞানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক পারভীন নাহার, সৃজনী সংসদের উপদেষ্টা শফিউল রাজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল হুদা রিফাত এবং সদস্য রাজিবুল ইসলাম রন্টি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সুজন মরগান

মেলার শেষে শ্রেষ্ঠ প্রকল্প উপস্থাপকদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা। দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী দক্ষতা, কৌতূহল ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পবিপ্রবিতে একতরফা ‘মতবিনিময় সভা’ ঘিরে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজের সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ‘মতবিনিময় সভা’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—সভায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকলেও কাউকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। বিকেল ৩টায় সভা শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় এক ঘণ্টা দেরিতে, বিকেল ৪টায়। সভার শুরুতে শিক্ষার্থীদের মতামত শোনার কথা থাকলেও তা বাস্তবে ঘটেনি। বক্তব্য দেন কেবল ইউজিসি চেয়ারম্যান ও উপাচার্য।

অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শিবলী আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে মতবিনিময়ের নামে একতরফা অনুষ্ঠান করা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু কথা বলার সুযোগই দেওয়া হয়নি। এর নাম হওয়া উচিত ছিল ‘একতরফা আলোচনা সভা’।’’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে—এই আশঙ্কায় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের নীরব রাখা হয়। তারা বলেন, সভা চলাকালীন কিছু শিক্ষার্থী কথা বলতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান আগ্রহ দেখালেও প্রশাসন সময় স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করে দেন এবং চেয়ারম্যানকে নিয়ে মিলনায়তন ত্যাগ করেন।

অন্যদিকে, সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদকর্মীরা ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে উপাচার্য নানা অজুহাতে সাংবাদিকদের বাধা দেন। ফলে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর নিয়েই তাদের হল ত্যাগ করতে হয়।

এর আগে দুপুর আড়াইটায় পবিপ্রবিতে পৌঁছান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও নবনির্মিত জিমনেশিয়াম পরিদর্শন করেন, শিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপরই অনুষ্ঠিত হয় বহুল আলোচিত ‘মতবিনিময় সভা’, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে এক ‘একতরফা আলোচনা সভা’-তে পরিণত হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভূমিধস জয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

ভিপি পদে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন (আবীর) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট।

জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাউদ্দিন আম্মার জয়ী হয়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের এস এম সালমান সাব্বির বিজয়ী হয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের জাহিন বিশ্বাস এষা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫১ ভোট।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনজুড়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এবারের নির্বাচনে ২৩টি পদে ২৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাশাপাশি ১৭টি হলে হল সংসদের ১৫ পদে মোট ৫৯৭ প্রার্থী এবং সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫ পদে ৫৮ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্র ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নারী হলগুলোতে ভোট পড়ার হার ছিল ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাকসু কার্যক্রম নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চাকসু নির্বাচনে বিজয়ের পর শিবির সভাপতির প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে শিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট’ এর বিজয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এক দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই বিজয় জুলাই যোদ্ধাদের, জুলাই শহীদদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। আমরা সবাই জিতেছি— শিক্ষার্থীরাও জিতেছেন। শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থার প্রতিদান না দেওয়া পর্যন্ত আমরা থামছি না।”

তিনি আরও বলেন, “যারা নির্বাচনে আমাদের বিরোধিতা করেছেন, বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটিয়েছেন বা বিভেদ সৃষ্টি করেছেন, তাদের সব ভুলে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। কারো প্রতি কোনো অনুযোগ নেই, বরং সবাইকে নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”

সংগঠনের সভাপতি আরও যোগ করেন, “আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসর্গিত। যেদিন আমরা তাদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারব, সেদিনই এই বিজয় সত্যিকারের পূর্ণতা পাবে।”

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যান্য নেতারা। ফজরের নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত দোয়ায় জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা: ভোট কারচুপির অভিযোগে উপ-উপাচার্য অবরুদ্ধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হল সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) গভীর রাতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনকে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা।

রাত প্রায় আড়াইটার দিকে পুলিশ প্রকৌশল অনুষদ ভবনে গিয়ে উপ-উপাচার্যকে বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু ভবনের ফটকে পৌঁছানোর পর ছাত্রদলের কর্মীরা পুনরায় অবরোধ সৃষ্টি করে অবস্থান নেন। রাত তিনটা পর্যন্ত অধ্যাপক কামাল উদ্দিন অবরুদ্ধ ছিলেন বলে জানা গেছে।

ছাত্রদলের অভিযোগ, ভিপি পদে কারচুপি করে তাদের প্রার্থী জমাদিউল আওয়াল সুজাতকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, সুজাত পেয়েছেন ১,২০৩ ভোট, অন্যদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী নেয়ামত উল্লাহ পেয়েছেন ১,২০৬ ভোট।

এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের পুনর্গণনার দাবি জানায়।
স্পোর্টস সায়েন্সেস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোছাদ্দিকুজ্জামান আল মামুন বলেন, “আমি নিজে সুজাত ভাইকে ভোট দিয়েছি। ভোট কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে অবশ্যই পুনর্গণনা করতে হবে।”

অন্যদিকে উপ–উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন জানান, “ফলাফল ঘোষণার পর বের হওয়ার সময় একদল শিক্ষার্থী আমাকে আটকে রাখে। আমি তাদের বলেছি, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কিন্তু তারা কথা না শুনে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।”

রাত গভীর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অবস্থান নেন। তবে এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানা গেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩৫ বছর পর চবি ক্যাম্পাসে ভোটের আমেজ, প্রস্তুত চাকসু নির্বাচন

৩৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আজ (বুধবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। বহু বছর পর ছাত্র-ছাত্রীদের সরব উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

চাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, নজরদারি এবং পরিবহন সুবিধা।

ভোট অনুষ্ঠিত হবে সমাজ বিজ্ঞান, কলা ও মানববিদ্যা, ব্যবসায় প্রশাসন, আইটি ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের ১৫টি কেন্দ্রে। প্রতিটি কক্ষে থাকবে পাঁচটি ব্যালট বাক্স, যেখানে চারটি চাকসুর জন্য ও একটি হল সংসদের জন্য নির্ধারিত। প্রতিটি কক্ষে ভোট দেবেন ৫০০ জন শিক্ষার্থী, একজন ভোটার চাকসু ও হল মিলে মোট ৪০টি ভোট দিতে পারবেন।

চাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী ৯০৮ জন। এর মধ্যে চাকসুর ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন প্রার্থী। শুধু ভিপি পদেই লড়ছেন ২৩ জন, জিএস পদে ২২ জন এবং এজিএস পদে ২১ জন প্রার্থী। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন নির্বাহী সদস্য পদে, সংখ্যা ৮৫ জন।

ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৫২১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৬ হাজার ৮৪ জন এবং ছাত্রী ১১ হাজার ৩২৯ জন। মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশই অনাবাসিক, যারা শহরে অবস্থান করছেন। তাদের যাতায়াত সহজ করতে অতিরিক্ত শাটল ট্রেন ও ১৫টি বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ ভোটকেন্দ্র। তাদের ভোট প্রদানে সহায়তার জন্য থাকবেন দুইজন নির্বাচন কমিশনার।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ হাজার ২০০ সদস্যের পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রক্টরিয়াল বডির ১২০ সদস্য ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি অনুষদ ভবনে থাকবেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পাশাপাশি চারটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘ ৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে।”

ভোট গণনা হবে আধুনিক ওএমআর পদ্ধতিতে, যা দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে। কমিশন জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

এদিকে ক্যাম্পাসের ৭০ শতাংশ ভোটার শহরে অবস্থান করায় তাদের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। তবে কমিশন আশাবাদী—চাকসু নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক।

চাকসুর ইতিহাসে এটি সপ্তম নির্বাচন। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে, আর সর্বশেষটি ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতার পর এবার নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন গণতান্ত্রিক চর্চার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে এখন শুধু একটাই স্লোগান—
“গণতন্ত্রের সূর্যোদয়, চবিতে আবার ভোটের হাওয়া বইছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পবিপ্রবিতে পর্দানশীল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘পর্দা কর্নার’ উদ্বোধন

ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক শালীনতা ও নারীর মর্যাদা রক্ষার এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় উদ্বোধন করা হয়েছে ‘পর্দা কর্নার’। পর্দানশীল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ এই অংশটি তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পর্দা কর্নার’-এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, লাইব্রেরিয়ান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. জামাল হোসেন, পরিচালক (শরীরচর্চা) ড. মো. আমিনুল ইসলাম টিটো, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুবকর সিদ্দিক, সহকারী প্রক্টর ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি জানান, নারী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী আফিয়া আক্তার বলেন,

“আগে ছেলেদের ভিড়ে ক্যাফেটেরিয়ায় ঢোকা বা খাওয়া অস্বস্তিকর ছিল। এখন আমরা নির্বিঘ্নে, আরামদায়কভাবে বসে খাবার গ্রহণ করতে পারব, একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধও রক্ষা হবে।”

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন,

“শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এই উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেবে।”

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন,

“আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় তখনই উন্নত হয়, যখন সেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান থাকে। এই ‘পর্দা কর্নার’ তারই প্রতীক।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন,

“পবিপ্রবি কেবল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, এটি নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের এক আলোকিত অঙ্গন। ইসলামে নারীর মর্যাদা সর্বোচ্চ। আজকের এই ‘পর্দা কর্নার’ সেই মর্যাদার প্রতিফলন। পর্দানশীল নারী শিক্ষার্থীরা এখন নিশ্চিন্তে, আরামদায়কভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। আমি এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর এমন মানবিক উদ্যোগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশংসার জোয়ার বইছে।
অনেকের মতে—এটি শুধু একটি ‘কর্নার’ নয়, বরং নৈতিকতা, শালীনতা ও বিশ্বাসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক নতুন সামাজিক সংস্কৃতির সূচনা।
সবাই আশা করছেন, ইসলামী শালীনতা, নারীর মর্যাদা ও আধুনিক শিক্ষার সেতুবন্ধন তৈরি করা এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে উঠবে।


আল-আমিন

 




পবিপ্রবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আবারও আত্মসাতের অভিযোগ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. ইউনুছ শরীফের বিরুদ্ধে আবারও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সামনে রাখা লক্ষাধিক টাকার টাইলস গোপনে সরিয়ে নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটির সময়ে ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা থাকায় দুপুর আড়াইটার দিকে ইউনুছ শরীফ টাইলসগুলো সরিয়ে নেন। এ ঘটনায় কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে তিনি অবহিত করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাই ধরা পড়ে। প্রতিবেদকের হাতে এর ছবি ও ভিডিও ফুটেজও এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের জন্য রাখা বিভিন্ন স্যাম্পলের ৫২০টি টাইলস তিনি দপ্তরের আরেক কর্মকর্তার সহায়তায় সরিয়ে নেন। এসব টাইলসের বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, এর আগে ইউনুছ শরীফের বিরুদ্ধে এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে নয়টি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন,
“উপাচার্যের নির্দেশে টাইলস উদ্ধারের চেষ্টা করেছি। তবে সংখ্যার হিসাব ও গন্তব্য নিয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যে গরমিল পাওয়া গেছে। এখনো টাইলস ফেরত বা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।”

চলমান ৪৫১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. ওবায়দুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,
“অফিস থেকে খবর পাই তিনি গোপনে টাইলস সরিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি জানতে ফোন করলে উল্টো আমাকে গালাগাল করেন। এর আগে তিনি আমাকে পদ ছাড়তে একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগও করেছি।”

এ বিষয়ে জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইউনুছ শরীফকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় ছাত্রদলের ডাস্টবিন স্থাপন উদ্যোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস (এমবি) কলেজ ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে ছাত্রদল। মঙ্গলবার কলেজ প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন করে সংগঠনটি।

ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব মনোভাব সৃষ্টি করা। তারা বিশ্বাস করেন, নিয়মিত ডাস্টবিন ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসকে আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে ভূমিকা রাখবেন।

উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার। তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেল্লাল। নেতারা বলেন, “ছাত্রদল কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।”

কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের এই সামাজিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশংসা করেন। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম তরুণদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করবে এবং ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হবেন।

কলাপাড়ার সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী চলাফেরা করেন, ফলে পরিবেশ নোংরা হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে এখন থেকে ডাস্টবিন ব্যবহারের সুযোগ থাকায় আবর্জনা ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।

ছাত্রদলের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাবিতে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হল নির্মাণ শুরু এ বছর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের মধ্যেই চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হল নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় চীনা দূতাবাস প্রাঙ্গণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় ডাকসুর সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ, সহসাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দীন খানসহ অন্যান্য সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত কোষাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশারফ হোসেনও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হলে প্রায় ১৫০০ ছাত্রী আবাসনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ডাকসুর নেতারা আরও দুটি বৃহৎ আবাসিক হল নির্মাণের প্রস্তাব রাখেন, যেখানে প্রায় ৫০০০ শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে জানান, দ্বিতীয় ধাপে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে।

সভায় উভয় পক্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, গবেষণা, ক্রীড়া, শিক্ষা বিনিময়, সংস্কৃতি চর্চা ও স্কলারশিপের মতো নানা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সভাশেষে ডাকসুর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রদূতকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন এবং রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও তাদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম