বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের ববি শাখা।

কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। উপাচার্য আশ্বাস দেন, তিনি শিক্ষার্থীদের বাজেট সম্প্রসারণ সংক্রান্ত দাবিনামাটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর কাছে তুলে ধরবেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে টেকসই, গবেষণানির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হলে সুপরিকল্পিত ও বিস্তৃত বাজেট কাঠামো প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বরাদ্দকৃত বাজেট অত্যন্ত অপ্রতুল, বিশেষ করে গবেষণা, মেডিকেল ভর্তুকি এবং আবাসন সুবিধাগুলোতে সংকট প্রকট।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের ববি শাখার নেতৃবৃন্দ—ভূমিকা সরকার, আবদুর রহমান, শওকত ওসমান স্বাক্ষর, এডিসন, রিদওয়ানুল ইসলাম জারিফ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠক মৃত্যুঞ্জয় রায়।

শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, “সৃষ্টিশীলতার বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট বরাদ্দ আশানুরূপ নয়। এভাবে চললে গুণগত শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।”

আরেক শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বলেন, “নিম্ন বাজেটের ফলে ডাইনিংয়ে, মেডিকেলে কোনো ভর্তুকি নেই। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানামুখী ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা এই বাজেট বাতিল করে নতুন বাজেট দেওয়ার দাবি জানাই।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন ইউজিসি থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী অত্যন্ত অপ্রতুল বলে তারা মনে করছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো মৌসুমী ফল উৎসব

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দেশীয় মৌসুমী ফল উৎসব। বুধবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম ফল উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে আমাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। আমাদের দেশে প্রচুর দেশীয় ফল হয়, কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম অনেক ফলের সাথেই অপরিচিত। এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা সেসবের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”

উৎসবে আম, কাঁঠাল, আনারস, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, কলা, ড্রাগন, লটকন, করমচা, সফেদা, কামরাঙা, কাউফল, ডেউয়া সহ নানা রকমের দেশীয় ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়।

উপাচার্য আরও বলেন, “বাংলাদেশ প্রকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ দেশের মাটি ও জলবায়ু ফল ও সবজি চাষের জন্য উপযোগী। এসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং নানা অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।”

তিনি দেশীয় ফলের চাষ ও ভোক্তাপ্রয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আকতার হোসেন এবং পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম রেজাউল ইসলাম শামীম। তারা এ ধরনের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

সকলের অংশগ্রহণে উৎসবস্থল এক প্রাণবন্ত পরিবেশে রূপ নেয়। উপস্থিত অতিথিরা দেশীয় ফলের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও অবগত হন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে অনীহা, চলবে অবস্থান ও কর্মসূচি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) বন্ধের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে চলমান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এক ঘোষণায় শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে হল ছাড়ার নির্দেশ অযৌক্তিক এবং অনৈতিক বলে দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থী তৌহিদুল আবেদীন তানভীর বলেন, “পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমাদের রাখা হয়েছে। এসব ভবনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই এখন আমাদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করব এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

এর আগে, শনিবার সকাল থেকে পাঁচ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিল করেন ঢামেক শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মুখে বিকেলে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দেওয়া হয়, একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং আগামীকাল ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “কলেজের চলমান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। সব শিক্ষার্থীকে ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।” তবে পেশাগত পরীক্ষার্থীদের ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের এই বন্ধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, হঠাৎ করে হল ত্যাগের নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন দূরের শিক্ষার্থীরা। ঈদের ছুটি শেষে appena ক্যাম্পাসে ফিরে আসা অনেক শিক্ষার্থীর এখন নতুন করে বাসস্থানের চিন্তায় উদ্বেগ বেড়েছে।

এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “বিকল্প ব্যবস্থা না করে হলে তালা দেওয়ার নির্দেশ মানে আমাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবন দুটোই হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া। আমরা আন্দোলনে আছি এবং থাকব।”

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি
১. দ্রুত নতুন ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের জন্য বাজেট অনুমোদন।
২. নতুন ভবন চালু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা।
৩. নতুন একাডেমিক ভবনের বাজেট অনুমোদন।
৪. পৃথক বাজেট ও তার দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
৫. সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

শিক্ষার্থীরা জানান, শুধু আবাসন নয়, নিরাপদ ও টেকসই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে না। এজন্য আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




অরাজনৈতিকীকরণের পথে শিক্ষা ব্যবস্থা: অন্তর্বর্তী সরকারের নজরকাড়া সিদ্ধান্ত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ১০ মাসে দেশের মোট ২২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারের আমলে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বদলের ঘটনা ঘটল। এসব পরিবর্তনে বাদ পড়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, তাঁদের পরিবার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের নাম।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ৪ জুন ২৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

নামকরণে পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে এখন থেকে ব্যক্তিনির্ভরতার পরিবর্তে স্থানীয়তা ও গণগ্রাহ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক বা পারিবারিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছিল, সেগুলোর নাম সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা বা এলাকা অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নাম পরিবর্তনের কিছু উদাহরণ

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ’ এবং ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’।

২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদল করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন নাম সংশ্লিষ্ট জেলার নামে নির্ধারিত হয়। যেমন, নেত্রকোনার ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং কিশোরগঞ্জের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন পরিচিত ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে।

১৫ এপ্রিল অধ্যাদেশ জারি করে আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’। খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় ‘খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’।

২৯ মে প্রকাশিত আরেক প্রজ্ঞাপনে ৩৭ জেলার ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, ওই কলেজের নাম পরিবর্তন করা হবে না।

কারিগরি ও প্রাথমিক শিক্ষাতেও পরিবর্তন

১৩ এপ্রিল কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এদিন ১৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল আরও ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়, যার মধ্যে ছিল ১৬টি স্কুল, ৩টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ২টি কলেজ।

প্রাথমিক স্তরেও ব্যাপক নাম পরিবর্তন হয়েছে। গত ১০ মাসে পাঁচ দফায় মোট ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম বদলানো হয়েছে। সর্বশেষ ১৮ মে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরকারের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষকদের মত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “জাতীয় প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নামে হওয়া উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে। আমরা সেই নীতিতেই কাজ করছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি একটি ‘অরাজনৈতিকীকরণ প্রক্রিয়া’, যার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের নিরপেক্ষতা এবং অরাজনৈতিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার তুলে ধরতে চাইছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনামলে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রতীক ব্যবহার করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, রাস্তাঘাট, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, এমনকি প্রকল্প ও ভবনের নামকরণ করা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ধারা থেকে সরে এসে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।




ডাকসু রোডম্যাপসহ ৭ দফা দাবি উপস্থাপন ছাত্রশিবিরের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ ঘোষণাসহ সাত দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা সভাপতি এসএম ফরহাদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সাতটি দাবি তুলে ধরেন। তিনটি প্রধান দাবি হলো:

  1. অবিলম্বে ডাকসুর রোডম্যাপ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিত করা,
  2. ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ,
  3. পূর্বের ন্যায় যান চলাচল ও বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা।

অন্য চারটি দাবি হলো:

  • ক্যাম্পাস এলাকা থেকে ভবঘুরে ও অপ্রকৃতস্থদের উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা,
  • পুরো ক্যাম্পাস ও প্রবেশপথগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন,
  • পাঁচটি প্রবেশপথে থাকা নিরাপত্তা বক্সগুলো দ্রুত সংস্কার ও প্রহরীর নিয়োগ,
  • প্রয়োজন অনুযায়ী প্রক্টরিয়াল মোবাইল টিমের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আশিক, দাওয়াহ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল হোসেন মারুফ।

সভাপতি এসএম ফরহাদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে। অথচ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এ দাবি বাস্তবায়নে হতাশাজনকভাবে ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেছিলেন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন মে মাসের শেষ পর্যায়ে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”




পবিপ্রবিতে হঠাৎ আগমনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ছায়াঘেরা ক্যাম্পাসে বুধবার (২১ মে) বিকেলে সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের আকস্মিক আগমন যেন এনে দেয় অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত।

বেলা ২টা ১৫ মিনিটের দিকে জানা যায়, তিনি কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দর পরিদর্শন শেষে লেবুখালী হয়ে বরিশালে যাচ্ছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পবিপ্রবির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয় আন্তরিক আমন্ত্রণ। সম্মানিত উপদেষ্টা সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে উপস্থিত হন দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র এই শিক্ষাঙ্গনে।

উপাচার্য কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন একাডেমিক ভবন, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, নির্মাণাধীন ছাত্র-ছাত্রীনিবাস, ‘লাল কমল’ ও ‘নীল কমল’ লেকসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে ড. মাহমুদ বলেন, “এই অঞ্চল শিক্ষার বিস্তারে এক অপার সম্ভাবনার ভাণ্ডার। প্রশাসনিক সুশৃঙ্খলতা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ।”

বিশেষ আলোচনায় উঠে আসে আসন্ন ‘মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওসানোগ্রাফি’ বিভাগের উদ্বোধনের প্রসঙ্গ, যা দক্ষিণাঞ্চলের জন্য সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে তিনি প্রশংসা করেন।

উপাচার্য ক্যাম্পাসের লেক রক্ষা ও গাইড ওয়াল নির্মাণে জরুরি বরাদ্দের বিষয়েও তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন। উত্তরে উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আন্তরিক সমর্থনের আশ্বাস দেন।

এই সফরে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এসএম হেমায়েত জাহান, রেজিস্ট্রার ও আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মাঝে এ সফর ছিল এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা। শিক্ষার্থী আফিয়া তাহমিন জাহিন বলেন, “জাতীয় পর্যায়ের একজন চিন্তাবিদের আমাদের ক্যাম্পাসে আগমন আমাদের জন্য গর্বের। তিনি যেভাবে সময় দিলেন, তাতে বোঝা যায়—আমরাও গুরুত্ব পাচ্ছি।”

পরিকল্পনা উপদেষ্টার সফর শেষে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। রেখে যান অনুপ্রেরণা, সম্ভাবনার দিশা ও উন্নয়ন ভাবনার এক উজ্জ্বল আলোকরেখা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পবিপ্রবিতে প্রথমবারের মতো ‘গবেষণা উৎসব

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘গবেষণা উৎসব ২০২৫’। ১৮ মে, রবিবার দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে উপকূলীয় সংকট, সম্ভাবনা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে গবেষণামূলক ভাবনা সামনে আসে। পবিপ্রবি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের উদ্যোগে এই আয়োজন হয়, যেখানে অংশগ্রহণ করে দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীরা।

উৎসবের উদ্বোধন করেন মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, যিনি ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বলেন—“বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। শিক্ষক ও গবেষকদের উচিত নিয়মিত গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এবং তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।”
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন পবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন—“শিক্ষকেরা কেবল পাঠদানে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত গবেষণার মধ্য দিয়ে জাতির অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবেন। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের শিক্ষকরা প্রশংসনীয় গবেষণা করে চলেছেন।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মাসুমা হাবিব, যিনি বলেন—“দক্ষিণাঞ্চলের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। এখানকার গবেষণার মান সন্তোষজনক। পবিপ্রবি শিগগিরই ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আমার বিশ্বাস।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান, যিনি বলেন—“গবেষণার গুণগত মান ও সমাজে প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

আয়োজক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. মামুন-উর-রশিদ বলেন—“এই গবেষণা উৎসব কেবল আয়োজন নয়, বরং এটি উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট-সম্ভাবনার আলোকে নতুন প্রজন্ম গঠনের একটি ভিত্তি।”
উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও আইকিউএসি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষকমণ্ডলী ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।

‘Research for Coastal Resilience’ এই প্রতিপাদ্যে উৎসবে ইউজিসির ২০২২–২৩ অর্থবছরের অনুদানে পাঁচটি অনুষদের দশটি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের দুটি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পও প্রদর্শিত হয়।
উপকূলীয় জীবনের বাস্তবতা, সমস্যা ও সম্ভাবনা ঘিরে এগুলো ছিল সম্পূর্ণ ক্ষেত্রভিত্তিক ও ব্যবহারিক গবেষণা। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণার আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া মেলে।

উৎসব শেষে নির্বাচিত গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ ও একটি সংগঠনিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখায় গবেষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

গবেষণা উৎসব ২০২৫ পবিপ্রবির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই গবেষণা ও উপকূলীয় উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ন্যাশনাল পাথওয়ে ডকুমেন্ট বাস্তবায়নে সাব-ন্যাশনাল ডায়লগ অনুষ্ঠিত

খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রণীত ন্যাশনাল পাথওয়ে ডকুমেন্টের আওতাধীন কর্মপরিকল্পনা (Plan of Action) প্রণয়ন করতে বরিশালের খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ সাব-ন্যাশনাল ডায়লগ। বৃহস্পতিবার (৮ মে) আয়োজিত এই ডায়লগে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাসুদুল হাসান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান।

এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবির অধ্যাপক বদিউজ্জামান, ড. মুহাম্মদ আসাদুল হক, ড. শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়াম, পবিপ্রবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার হাচিব মোহাম্মদ তুষার এবং বিভিন্ন কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে খাদ্য নিরাপত্তার বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি পবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা কেবল উৎপাদন নয়, বরং প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন প্রতিটি ধাপে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রযুক্তির ব্যবহার আবশ্যক।” তিনি গবেষণার মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক সমাধান তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ডায়লগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডের ৫৫তম সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) রিজেন্ট বোর্ডের ৫৫তম সভা বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও রিজেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. কাজী রফিকুল ইসলাম।

সভাটি সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার ও রিজেন্ট বোর্ড সচিব প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন। এতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার প্রফেসর মো. আব্দুল লতিফ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুন আক্তার, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাকিলা বেগম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের (অব.) প্রফেসর ড. মো. জহির উদ্দীন, কীটতত্ত্ব বিভাগের (অব.) প্রফেসর ড. খন্দকার শরিফুল ইসলামসহ অনেকে অংশ নেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফিজিওলজি বিভাগের প্রফেসর ড. নাজিম আহমাদ, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুচ আলী সিদ্দিকী, পবিপ্রবির এন্টোমলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন, ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. জিল্লুর রহমান, ইনোভা আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরফুদ্দিন, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মতিউর রহমান এবং বরগুনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মতিউর রহমান।

 

মো: আল- আমিন




ছয় দফা দাবিতে পটুয়াখালী পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন

ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইনস্টিটিউটের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে তারা আন্দোলন শুরু করেন। ফলে পুরো প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।

গেট বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং শিক্ষক-কর্মচারীরাও প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য ছয় দফা দাবি উপেক্ষিত হয়ে আসছে। দাবি আদায়ে কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তারা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন।

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটের সুযোগ বৃদ্ধি, সেশনজট নিরসন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবি মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের এমন কর্মসূচিতে ইনস্টিটিউটজুড়ে একধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সকলকে সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম