ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাশলেস বাংলাদেশের বার্তা

নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর ব্যবস্থাপনায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক (পিএসডি-১) আ.ন.ম. মঈনুল কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-১) আমজাদ হোসেন খাঁন, একই কার্যালয়ের পরিচালক রথীন কুমার পাল এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ অপারেটিং অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আয়োজনের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগ’-এর লক্ষ্য, বাস্তবায়ন কৌশল এবং দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। সেখানে বাংলা কিউআর, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ আধুনিক লেনদেন পদ্ধতির ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ডিজিটাল লেনদেন সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্যাশলেস বাংলাদেশ বাস্তবায়ন আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে আ.ন.ম. মঈনুল কবীর বলেন, নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা দেশের আর্থিক খাতে গতি আনবে এবং নিরাপত্তা জোরদার করবে। বাংলা কিউআরসহ আধুনিক পেমেন্ট সিস্টেম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিশেষ অতিথিরা বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তার গ্রাম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেও মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করবে। এর মাধ্যমে একটি স্মার্ট, স্বচ্ছ ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ইউসিবির ডিএমডি ও সিওও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ, দ্রুত ও সহজ ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে ইউসিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্যাশলেস লেনদেন বাড়লে দুর্নীতি হ্রাস, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির গতি বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনার শেষে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকের স্থাপিত বুথে অংশগ্রহণকারীদের বাংলা কিউআর কোডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতির ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও ধারণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অন্যান্য অংশীজনদের মধ্যে নগদবিহীন লেনদেন সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা আরও বেড়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে নার্সিং শিক্ষার্থীদের নতুন যাত্রা শুরু

পটুয়াখালীর বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবীনবরণ অনুষ্ঠান। এদিন নতুন করে ভর্তি হওয়া ৩৯ জন শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু করেন।

শনিবার দুপুর ১২টায় বাউফল উপজেলা নার্সিং ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই দিনটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। নার্সিং পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানবসেবার একটি মহান ব্রত। শপথের প্রতিটি বাক্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার পাশাপাশি নিজেদের আচরণ ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুর রউফ। তিনি বলেন, দক্ষ ও মানবিক গুণসম্পন্ন নার্স গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক আবদুল বারী সরকার, অহিদুজ্জামান সুপন, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, অতিথি ও শতাধিক নার্সিং শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নবীন শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করান বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং ইনচার্জ মিনারা বেগম। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা মানবসেবার আদর্শে নিজেদের উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেন।

পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও নতুন স্বপ্নের উচ্ছ্বাস। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন আরও জোরদার করা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পবিপ্রবিতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বিশেষ শোকসভা

পটুয়াখালীর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শোকসভা পবিপ্রবি ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ, ছাত্রদল এবং জাতীয়তাবাদী কর্মচারীবৃন্দের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অমর প্রতীক। স্বৈরশাসন ও দমন-পীড়নের মুখেও তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় নিরলস সংগ্রাম চালিয়েছেন। তার প্রজ্ঞা, সাহসিকতা ও ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় থাকবে।” প্রধান অতিথি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম স্মরণ করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

শোকসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. জামাল হোসেন, পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক হাসিব মো. তুসার। বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পবিপ্রবি ইউট্যাবের সভাপতি মামুন অর রশিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম। আলোচনা শেষে পবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর আবুল বাশার খান, সিএসই অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. খোকন হোসেন, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল হক, প্রফেসর মো. জহুরুল হক, সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান সবুজ, পরিচালক (শরীরচর্চা) ড. মো. আমিনুল ইসলাম টিটো, মো. রিয়াজ কাঞ্চন শহীদসহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটের উৎসবে মুখর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে একযোগে ৩৯টি ভোটকেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ ভোটগ্রহণ চলবে।

ভোর থেকেই ক্যাম্পাসে ভোটের আমেজ দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই শিক্ষার্থীরা দলে দলে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন। সাড়ে ৮টার দিকে ভোটাররা লাইনে দাঁড়ান। ৯টার আগেই প্রায় সব কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কোথাও বিশৃঙ্খলা বা উত্তেজনার চিত্র দেখা যায়নি। বরং ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ চোখে পড়ে।

অনেক শিক্ষার্থী একে অপরের সঙ্গে দেখা করে আনন্দ প্রকাশ করেন, কেউ কেউ স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখতে দলবদ্ধভাবে ছবি তোলেন। মেয়েদের একটি অংশ শাড়ি পরে ভোট দিতে আসায় ক্যাম্পাসে বাড়তি রঙ যোগ হয়। দীর্ঘদিন পর ভোটের সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস ছিল স্পষ্ট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। হল সংসদের ১৩টি পদের জন্য লড়ছেন ৩৩ জন। সব মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১৮৭ জন।

এ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে চারটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এগুলো হলো শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’। হল সংসদে লড়ছে তিনটি প্যানেল—‘অদম্য জবিয়ান’, ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ ও ‘রোকেয়া পর্ষদ’।

নির্বাচন কমিশন জানায়, কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ জন ভোটারের জন্য একটি করে বুথ রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতিও রয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভোটার, শিক্ষক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। সবাইকে পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটার শিক্ষার্থীরা ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে ভোট শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হচ্ছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে ২ নম্বর গেট।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি বলেন, আজকের মধ্যেই ভোটগ্রহণ ও ফল প্রকাশ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আজই নির্ধারিত হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসুর নেতৃত্ব।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট শুরুর আগমুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরের পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। দুই দফা পেছানোর পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত জকসু নির্বাচন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




উৎসবমুখর আয়োজনে পবিপ্রবিতে ইপিএল-২৬ অকশন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ইএসডিম প্রিমিয়ার লীগ (ইপিএল-২৬) খেলোয়াড় নিলাম। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ও দেশবন্ধু গ্রুপের স্পন্সরশিপে অনুষ্ঠিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেয় পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। নিলাম আয়োজনে সার্বিক দায়িত্ব পালন করে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ২০২১–২২ সেশনের শিক্ষার্থীরা (নির্বিশঙ্ক-১৩)।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কনফারেন্স রুমে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় নিলাম কার্যক্রম। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে নিলামকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, দলীয় প্রতিনিধি ও আয়োজকদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মহসীন হোসেন খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মো. ফয়সাল, জিও ইনফরমেশন সাইন্স অ্যান্ড আর্থ অবজারভেশন বিভাগের চেয়ারম্যান মাওয়া সিদ্দিকা, ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রমন কুমার বিশ্বাস, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তরিকুল ইসলাম, ডিজাস্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তরিকুল ইসলাম সজিব এবং ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাশেদুজ্জামান। তাদের উপস্থিতিতে নিলাম আরও গতিশীল ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

প্রধান অতিথির উদ্বোধনী ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নিলাম পর্ব। পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল নিজেদের দলে সেরা খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করে। প্রতিটি বিডে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় পুরো নিলাম প্রক্রিয়া শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আকর্ষণীয়ভাবে সম্পন্ন হয়। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া মূল টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এখন থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

নিলাম শেষে বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মহসীন হোসেন খান বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, দলগত সহযোগিতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য শারীরিক সক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দলগত সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি—যা খেলাধুলার মাধ্যমে তৈরি হয়।

তিনি আয়োজক কমিটি ‘নির্বিশঙ্ক-১৩’-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রম ছাড়া এমন বড় আয়োজন সম্ভব নয়। তিনি ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের এ ধরনের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইউজিসির আপত্তি উপেক্ষা করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদোন্নতি বোর্ড চালু

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ২৪টি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গুরুতর আপত্তি জানিয়েছে। সম্প্রতি ইউজিসির বাজেট অডিট টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি বিষয়ে ত্রুটি ও অনিয়ম চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত ৬টি এবং রেজিস্ট্রার সংক্রান্ত ৪টি বিষয় উল্লেখযোগ্য।

যদিও ইউজিসির এই আপত্তি রয়েছে, তবু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের নির্দেশে পদোন্নতি বোর্ড কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। ১৯ অক্টোবর থেকে বোর্ড কার্যক্রম শুরু হয়ে ইতোমধ্যে অধিকাংশ বিভাগের বোর্ড সম্পন্ন হয়েছে। উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের বোর্ড ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।

ইউজিসির তত্ত্বাবধানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা ইউজিসির অডিট আপত্তির কারণে আটকে রাখা হয়েছে। সংশোধিত বাজেট বর্তমানে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। আটকে রাখা বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে: অনুমতিহীন দৈনিক মজুরি কর্মচারী, বিআরটিসি বাস ভাড়া, পরিবহন ব্যয়, আনসার নিয়োগ, আবাসিক ভবন ভাড়া, আউটসোর্সিং ও শ্রমিক মজুরি এবং বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রম।

পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রধান আপত্তি হলো ২৪টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে ইউজিসির অনুমোদিত মাত্র ২টি শূন্যপদ। ৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৭টি ব্লক করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ। অবশিষ্ট ২টি শূন্যপদেও নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া চলতি বছরের ৭ জুলাই প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১০ জন প্রভাষক নিয়োগে ৬টি পদের ইউজিসির অনুমোদন ছিল না। বাকি ৪টি পদেও সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে।

রেজিস্ট্রার সংক্রান্ত আপত্তির মধ্যে রয়েছে, তিনি অধ্যাপক হলেও কেন সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কমিটির সদস্য, কেন ক্যাম্পাসে বসবাস করেন না এবং কেন গাড়ি ব্যবহার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ববি অর্থ দফতরের উপপরিচালক আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ইউজিসির অডিট রিপোর্ট পাওয়া গেছে, তবে সকল বিষয়ে উচ্চতর কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত দেবেন। ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানান, ইউজিসির লিখিত আপত্তি পেলে তা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এক শিক্ষার্থী এক কুরআন প্রকল্প’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আগামী ৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘এক শিক্ষার্থী এক কুরআন প্রকল্প–২০২৫’। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে এই আয়োজনে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাদিক কায়েম, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ভিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের জন্য থাকবে বিশেষ সুযোগ। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা আকর্ষণীয় গিফট প্যাকেজ গ্রহণ করতে পারবেন।

এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় প্রকল্পের তিন দিনব্যাপী ফ্রি কুরআন বিতরণ রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রকল্প ববি ক্যাম্পাসে ইসলামী চেতনা ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 


 




পবিপ্রবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী বহিষ্কার

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে শৃঙ্খলা বোর্ডের ৪১তম সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান ইসরাক খান সুপ্ত (দুই সেমিস্টার), মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাফিউল আলম নাহিদ (এক সেমিস্টার) এবং কৃষি অনুষদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ফারিয়া আক্তার নাতাশা (এক সেমিস্টার)।

বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ইকতিয়ার উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসে র‍্যাগিংয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নবীন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।

আল-আমিন



পবিপ্রবিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি অনিয়মে দুদকের অভিযান

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার দপ্তর ও প্রশাসনিক অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদকের পটুয়াখালী জেলা সমন্বিত দপ্তরের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস নেতৃত্বে দলের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নথি, পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করেন। অভিযানের মূল অভিযোগের বিষয় ছিল প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ এবং মো. কবির শিকদার-এর নিয়োগ ও পদোন্নতিতে নিয়মবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা।

দুদক কর্মকর্তা তাপস বিশ্বাস জানান, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী কিছু কর্মকর্তা পদোন্নতি গ্রহণের সময় নিয়মবিধি মেনে চলেননি এবং কিছু সনদ যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদের একাংশ দুদকের এই পদক্ষেপকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পবিপ্রবির নতুন বাস-শেডে উদ্বোধনের আগেই ফাটল

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) বরিশাল ক্যাম্পাসে সদ্য নির্মিত টিনের ছাউনিযুক্ত বাস-শেড উদ্বোধনের আগেই একটি অংশে ফাটল ও মেঝের স্ল্যাব ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নির্মাণের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বাস-শেড নির্মাণের জন্য প্রায় ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে উদ্বোধনের আগেই স্ল্যাব ভেঙে পড়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে থাকা দুর্বল কংক্রিট, খোয়া ও মরিচা ধরা রডের টুকরো নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন স্থাপনার এমন পরিণতি চরম উদ্বেগজনক। এটি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নির্মাণ প্রকল্পের মান নিয়েও সন্দেহ সৃষ্টি করছে।

ফাটল ও ভাঙচুরের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্ল্যাব পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। ঠিকাদার আব্দুল হালিম জানান, “সাধারণত নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২৭ দিন পর্যন্ত ব্যবহার না করার নির্দেশনা থাকে। কিন্তু ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে স্ল্যাবের এক পাশে ক্ষতি হয়েছে।”

নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “শুরুর দিকে কিছু পুরোনো ইট ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর তা বন্ধ করা হয়েছে।”

মনিটরিং কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. আহসানুর রেজা বলেন, “নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। কাজ বন্ধ করা হয়েছে। স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি দ্রুত ঠিক করার ব্যবস্থা করা হবে।”

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের নির্মাণ ত্রুটি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম