ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা, উজিরপুরে দুই দায়িত্বশীল বরখাস্ত

বরিশাল অফিস : বরিশালের উজিরপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সচিবসহ দুইজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানান, হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব মো. ফারুক হোসেন ও সহকারী শিক্ষক খগেন মন্ডলকে এসএসসি পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা ও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসন জানায়, বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার পরই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, একই উপজেলার শহীদ স্মরণিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর প্রেক্ষিতে ওই কেন্দ্রের সচিব ও প্রধান শিক্ষক সুশেন মন্ডলকে পরীক্ষার প্রথম দিন (২১ এপ্রিল) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে।




উজিরপুরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অগ্নিকাণ্ড, প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি

 

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা বাজারে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে “জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পথচারীরা সেন্টারের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে সেন্টারের মালিকসহ স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে উজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

জানা গেছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি মোঃ বজলুর রহমান, মোঃ হোসেন ও জাকির হোসেনের যৌথ মালিকানাধীন। আগুনে ভেতরে থাকা বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পর উজিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।




ঢাকা–বরিশাল রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের ক্ষোভ

 

বরিশাল অফিস :: সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে বাসভাড়া ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে জনপ্রতি ৫০ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বরিশালের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত ৫৫০ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একাধিক পরিবহনের কাউন্টারে একই চিত্র দেখা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহন এবং সাকুরা পরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহন সংস্থা কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

যাত্রীরা জানান, হঠাৎ করেই এ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান খোকন বলেন, “সব সময় ৫৫০ টাকায় ঢাকা যাই। কিন্তু এখন ৬০০ টাকা নিচ্ছে। প্রতিটি যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা এক ধরনের হয়রানি।”

একই অভিযোগ করেন নারী যাত্রী খাইরুন্নাহার আসমা। তিনি বলেন, “কাউন্টারে বলা হচ্ছে তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সরকার তো এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি।”

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, “আগে ৫৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো। এখন কেন ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি পরিবহন মালিকরাই ভালো বলতে পারবেন।”

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনোভাবেই বাসভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না। সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম এক বিবৃতিতে বলেন, “বর্তমান নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।”

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রকাশ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নজরদারির ঘাটতি থাকায় এমন অনিয়ম বাড়ছে।

যাত্রীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ করে নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

**এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫**

 




জ্বালানি সংকটে বন্ধরে পথে ভোলা-বরশিাল স্পডিবোট চলাচল

ভোলার সঙ্গে বরশিালরে দ্রুত যোগাযোগরে মাধ্যম স্পডিবোট। পট্রেোল সংকটে এই নৌযানরে যাতায়াত এখন বন্ধরে পথ।ে র্অধকেরেও বশেি স্পডিবোট জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয় পড়ে আছ।ে ফলে ঘাটে গয়িে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপক্ষোর করতে হচ্ছে যাত্রীদরে। মানবতের

এদকিে স্পডিবোটরে মালকি ও শ্রমকিরা জানান, পট্রেোল সংকটরে কারণে বন্ধ হয়ে গছেে অনকেরে আয়-রোজগার। এতে র্কমহীন হয়ে পড়ছেনে তারা। পরবিার-পরজিন নয়িে দুশ্চন্তিায় দনি কাটছে তাদরে।

জানা যায়, ভোলা-বরশিাল রুটে লঞ্চরে প্রায় আড়াই ঘণ্টার নৌপথে ২০০৪ সালে ভোলার ভদেুরয়িা লঞ্চঘাট এলাকা থকেে ভোলা-বরশিাল স্পডিবোট র্সাভসি চালু হয়। এতে সময় লাগে মাত্র ৪০ মনিটি। ভোলা-বরশিাল রুটে প্রতদিনি প্রায় শতাধকি স্পডিবোট যাতায়াত কর।ে সময় কম লাগায় ভোলার রোগী ও সাধারণ যাত্রীদরে কাছে বশে জনপ্রয়ি হয়ে উঠছেে স্পডিবোট র্সাভসিট।ি ভোলার ভদেুরয়িা ঘাটে ১০৫টি স্পডিবোট থাকলওে পট্রেোল সংকটরে কারণে বন্ধ হয়ে গছেে র্অধকেরেও বশেি বোট। তাই র্বতমানে আগরে মতো সহজে যাতায়াত করতে পারছনে না যাত্রীরা। সবচয়েে বশেি র্দুভোগে পড়ছেনে রোগী ও তাদরে স্বজনরা।

রোগীর স্বজন মো. সরিাজুল ইসলাম ও মো. ইব্রাহীম জানান, ভোলা ২৫০ শয্যা জনোরলে হাসপাতাল থকেে রোগীকে বরশিাল শরেে বাংলা মডেকিলে কলজে হাসপাতালে রফোর করছে।ে তাই রোগী নয়িে বরশিালে উদ্দশ্যেে ভদেুরয়িা ঘাটে এসছে।ি লঞ্চে করে গছেে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাগব।ে জরুরি ভত্তিতিে বরশিাল নতিে হবে এজন্য স্পডিবোটরে অপক্ষো করছি রোগী নয়ি।ে কন্তিু বোট পাওয়া যাচ্ছে না।

তনিি আরও বলনে, বোট মালকি ও চালকরা বলছনে পট্রেোল সংকটরে কারণে অনকে বোট বন্ধ হয়ে যাওয়ার বোটরে সংকট রয়ছে।ে ভদেুরয়িা ঘাটে এসে ৩০ মনিটি পর অবশষেে বোট পয়েছে।ি এখন রোগী নয়িে বরশিাল যাচ্ছ,ি কী হবে জানি না।

যাত্রী মো. শহীদুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসনে জানান, তারা চাকরজিীবী। ভোলায় চাকরি করনে একটি কোম্পানতি।ে সকাল ৯টার দকিে বরশিালে জরুরি মটিংিয়ে অংশ নতিে হব,ে তাই সকালে রওয়ানা হয়ছেনে। ভদেুরয়িা ঘাটে লঞ্চ থাকলওে স্পডিবোট নইে। এতে ঘাটে এসে চরমভাবে ভোগান্ততিে পড়ছেনে। লঞ্চে গলেে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগব,ে এতে মটিংিয়ে অংশ নওেয়া হবে না।

জ্বালানি সংকটে বন্ধরে পথে ভোলা-বরশিাল স্পডিবোট চলাচল

তারা আরও জানান, আমরা সব সময়ই স্পডিবোটে করে বরশিাল যাই, কন্তিু পট্রেোল সংকটরে কারণে ভোগান্ততিে পড়ছে।ি প্রায় ৪৫ মনিটি অপক্ষো করওে এখনও বোট মলেনে।ি সবাই বলে তলে পলেে যাব।ে

ফরিোজ হাওলাদার ও নূরউদ্দনি ময়িা নামে দুই যাত্রী জানান, ভদেুরয়িা ঘাটে আগে ৫ থকেে ১০ মনিটি পর পর স্পডিবোট বরশিাল ও লাহারহাট ঘাটে যতে। কন্তিু এখন ৩০ মনিটি থকেে ১ ঘণ্টা পরপর যায়। এতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে কষ্ট হচ্ছ।ে দ্রুত পট্রেোল সংকটরে সমাধান দাবি করনে তারা।

স্পডিবোট চালক মো. মোকতার হোসনে জানান, তনিি এক মালকিরে স্পডিবোট চালয়িে দনৈকি ৫০০-৬০০ টাকা বতেন পতেনে। কন্তিু র্বতমানে পট্রেোল সংকটরে কারণে ওই মালকিরে বোট বন্ধ হয়ে গছে।ে তাই ৪-৫ দনি ধরে আয় রোজগার নইে। সংসার চালাতওে পারছনে না। প্রতদিনি বোট ঘাটে এসে অপক্ষো করছনে, তলে পলেে আবারও বোট নয়িে বরে হতে পারবনে।

স্পডিবোট মালকি মো. সাইফুল ইসলাম বলনে, ভদেুরয়িা ঘাটে আমার বোট চলে প্রায় ২০ বছর ধর।ে এমন তলে সংকটে কখনও পড়নি।ি পট্রেোল সংকটরে কারণে আমার বোট প্রায় সাতদনি ধরে ঘাটে বঁেধে রখেছে।ি কোনো আয়-রোজগার নইে। এনজওি থকেে ঋণ নয়িে বোটরে কাজ কর।ি এখন কস্তিি কীভাবে চালাবো জানি না।

ভদেুরয়িা ঘাটরে স্পডিবোট মালকি সমতিরি সভাপতি মো. শখে ফরদি জানান, প্রায় ২০-২৫ দনি ধরে পট্রেোল সংকটরে পড়ছেে স্পডিবোট। গত সাতদনি সংকট আরও বশেি সৃষ্টি হয়ছে। ভদেুরয়িা ঘাট থকেে প্রতদিনি শতাধকি বোট যাতায়াত করলওে র্বতমানে তা করতে পারছে না। পট্রেোল না পয়েে আমাদরে ঘাটরে প্রায় র্অধকেরে মতো বোট বন্ধ হয়ে গছে।ে অনকে মালকি ও শ্রমকি আয় বন্ধ হয়ে মানবতের জীবনযাপন করছনে। আমরা সরকারি প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছ,ি দ্রুত পট্রেোল সংকট দূর করার জন্য।

তনিি আরও জানান, ভোলা-বরশিাল রুটে ভোলার ভদেুরয়িা ঘাট থকেে বরশিালরে লাহার হাট ঘাট ও বরশিাল ঘাট এই দুই রুটে প্রতদিনি রোগী, রোগীর স্বজনসহ প্রায় এক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। দ্রুত সমস্যা

এ বষিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে জলো প্রশাসক শামীম রহমান গণমাধ্যমর্কমীদরে সঙ্গে কথা বলতে রাজি হনন। তার দাব,ি এ বষিয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নইে ও স্পডিবোটরে পক্ষে পট্রেোল সংকটরে বষিয়ে কউে জলো প্রশাসকরে কাছে আবদেন করনে।ি




বদরপুর দরবারে লাখো মানুষের ঢল, শেষ হলো ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল

পটুয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী দাওয়াতুল ইসলাম বদরপুর দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হলো ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই বিশাল ধর্মীয় আয়োজন ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। তিন দিনব্যাপী এ মাহফিলে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য ভক্ত, জাকের ও আশেক অংশ নেন। পুরো দরবার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আধ্যাত্মিক আবহে ভরা এক মিলনমেলায়।

শনিবার বাদ ফজর মরহুম পীর সাহেব কেবলাদ্বয়ের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জিয়ারতের পর তা’লিমী জলসা, হালকায়ে জিকির, পবিত্র কোরআন খতম, খতমে তাহলিল, খতমে খাজেগান, খতমে আম্বিয়া, খতমে গাউসিয়া শরীফ, মিলাদ, সালাতু সালাম, দুরুদ ও ক্বেয়াম অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী বয়ান প্রদান করেন বর্তমান পীর সাহেব কেবলা আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ মুতাসিম বিল্লাহ রব্বানী বদরপুরী।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উডসাইড আহলুল বাইত মিশন জামে মসজিদ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতী ড. সাইয়্যেদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রব্বানী। উপস্থিত ছিলেন আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আরিফ বিল্লাহ রব্বানী ও আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ নাসির বিল্লাহ রব্বানী। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী সাইয়্যেদ নাজমুস সায়াদাত আখন্দ। এছাড়া দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান পীর, ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামী বক্তারা বিভিন্ন পর্বে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন।

১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি সারা রাতব্যাপী তা’লিমী জলসা ও ওয়াজ মাহফিল চলে। শেষ দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতে লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে বদরপুর দরবার শরীফ দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারক। দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবে বাঙ্গাল শাহসূফী হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ উসমান গনী বদরপুরী (রহঃ) এ অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও ইসলামের দাওয়াত প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার পূর্বপুরুষদের শিকড় ভারতের বিহার শরীফে প্রোথিত ছিল। প্রায় আড়াইশ বছর আগে তার বংশধররা এ অঞ্চলে এসে ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের কাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আব্দুর রব চিশতী বদরপুরী (রহঃ) বরিশাল অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তিনি বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঢাকার ঐতিহাসিক পাটুয়াটুলি জামে মসজিদে দীর্ঘ ৩২ বছর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে তার ইন্তেকালের পর তার চার সাহেবজাদা খেলাফতপ্রাপ্ত হয়ে দরবার শরীফের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

আয়োজকরা জানান, শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে দরবার শরীফ সমাজ সংস্কার, শিক্ষা বিস্তার ও আধ্যাত্মিক চর্চায় যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে জামায়াত আমিরের জনসভা, প্রস্তুতিতে চরম ব্যস্ততা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঝালকাঠি সফরে আসছেন। তার এই আগমনকে ঘিরে জামায়াতসহ জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের উদ্যোগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় এই নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি জোটভুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

জামায়াত আমিরের ঝালকাঠি সফরকে সামনে রেখে সোমবার জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করীমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

সমাবেশকে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করতে মঞ্চ নির্মাণ, প্রচারণা, জনসংযোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চলছে ব্যস্ত প্রস্তুতি।

জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে ঝালকাঠিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এই জনসভা ঝালকাঠির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কয়েক লাখ নেতাকর্মী ছাড়াও জোটের শরীক দলের নেতা-কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এই সমাবেশে অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই জনসভায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, বিতর্কিত তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি জামায়াত প্রার্থীর

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ভুল তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বললেন, যারা এই কাজে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা এবং শাস্তি দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক, এটি আমরা সকলেই বিশ্বাস করি। কেউ এ সত্য বিকৃত করতে পারবে না।”

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ সাঈদী এ বিষয়ে আরও বক্তব্য রাখেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর শহরের হোটেল নায়োরীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। তিনি জানান, শুক্রবারের সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করবেন এবং এটি জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইভেন্ট হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা আক্তার মিতুসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এছাড়াও পিরোজপুর-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী ড. শামীম হামিদী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক, পৌর আমির ইসহাক আলী খান এবং খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন ওসমানী উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে গুপ্তদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

গুপ্ত শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যারা জালেমি করে ক্ষমতায় যেতে চায় তারা কখনো সৎ শাসন দিতে পারে না। ভোটের আগেই ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে দেয়, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং তারা কেমন শাসন কায়েম করতে চায়।

বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের বান্দ রোড এলাকার বেলস পার্কে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোটের আগেই যারা ব্যালট পেপার নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছে, তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিতে চায় না। এ ধরনের অপকর্মের মাধ্যমেই তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চায়।

সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, গুপ্তদের একজন নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, আর নির্বাচনের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। এমন বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় তারা জনগণকে কতটা অবজ্ঞা করে এবং তাদের মানসিকতা কতটা ভয়ংকর। যারা মানুষকে তুচ্ছ করে কথা বলে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের জীবন কতটা দুর্বিষহ হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে সম্মান না করা, ভোটের পর জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর মানসিকতা পোষণকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। ইতিহাসের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ৭১ কিংবা ৮৬ সালে যারা সংকটের সময় পালিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে এই গুপ্তদের চরিত্রের মিল রয়েছে। এমন লোকদের কাছ থেকে দেশের জন্য ভালো কিছু আশা করা যায় না।

তারেক রহমান অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুপ্তদের নেতারা প্রকাশ্যে নারীদের উদ্দেশে অশালীন ও কলঙ্কিত ভাষা ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা মা-বোনদের সম্মান করতে জানে না, তাদের কাছে দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা ও সম্মান রক্ষার আশা করা যায় না। মানুষের মর্যাদা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। আগামী ১২ তারিখ জনগণই নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, অতীতের স্বৈরাচারী ভাষা ও আচরণ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নতুন পরিচয়ে একটি গুপ্ত দল আবারও সেই জালেমি মানসিকতা নিয়ে সামনে এসেছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে ছোট করে দেখার এই রাজনীতি আর চলতে দেওয়া যাবে না। জনগণই শেষ কথা বলবে, আর ভোটের মাধ্যমেই গুপ্তদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। গণতন্ত্র, সম্মান ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপা–দশমিনায় বিএনপির রাজনীতিতে বড় রদবদল

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির আসন সমঝোতার প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং বিএনপির বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরেই এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত ১৮ দিনের ব্যবধানে একের পর এক কমিটি বিলুপ্ত, দলীয় নেতাদের বহিষ্কার এবং নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দশমিনা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান এবং গলাচিপা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম ও সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গলাচিপা উপজেলা ও পৌর যুবদল এবং দশমিনা উপজেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক জোট প্রার্থী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষ থেকে নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেননি বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা, তারা প্রকাশ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। গত সোমবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৭ জানুয়ারি গলাচিপা–দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। নতুন কমিটিতে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের একটি অংশ জেলা যুবদলের সাবেক নেতা মো. শিপলু খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শিপলু খান শুরু থেকেই নুরুল হক নুরের পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নবগঠিত কমিটির আওতায় গলাচিপা উপজেলা বিএনপির ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোলাম মোস্তফাকে। দশমিনা উপজেলা বিএনপির ১৬ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন সিদ্দিক আহমেদ মোল্লা। একই সঙ্গে গলাচিপা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাকিবুল ইসলাম খান। এসব কমিটির নেতাকর্মীরা বর্তমানে নুরুল হক নুরের ‘ট্রাক’ প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এই রদবদলের পেছনে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঘিরে বিভক্ত অবস্থানই মূল কারণ। গত ১৫ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে হাসান মামুনের পক্ষে শপথ নেন। পরে ১৭ জানুয়ারি কমিটি বিলুপ্ত হলে তিনি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ২৫ জানুয়ারি দশমিনার আলিপুরা বাজারে নুরুল হক নুরের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তার প্রতি সমর্থন জানান। সবশেষ ২ ফেব্রুয়ারি নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে শাহ আলমকে সদস্যসচিব করা হয়।

এদিকে ছাত্রদলেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাসান মামুনের পক্ষে প্রচারণার অভিযোগে দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজির আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২৯ জানুয়ারি আবুল বশারকে নতুন আহ্বায়ক করা হয়। বর্তমানে তিনিও নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নুরুল হকের সমর্থক জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খান দাবি করেন, বিলুপ্ত কমিটির অন্তত অর্ধেক নেতাকর্মী এখন নুরুল হক নুরের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে এবং কেউ কেউ নীরবে সমর্থন দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেন, আগের বেশিরভাগ কমিটিই হাসান মামুনকেন্দ্রিক ছিল। সে কারণে তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে এখন অনেক নেতাকর্মী তাদের ভুল বুঝতে পেরে তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার দাবি, বর্তমানে বিএনপির অন্তত ৫০ শতাংশ নেতাকর্মী তাকে সমর্থন করছেন এবং ভোটের আগে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

অন্যদিকে হাসান মামুনের মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে গলাচিপা–দশমিনায় বিএনপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে তার দাবি, অনেকেই কেবল বহিষ্কার এড়ানোর জন্য নুরুল হক নুরের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির বড় অংশ এখনো হাসান মামুনের সঙ্গেই রয়েছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে বিএনপি পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জন্য ছেড়ে দেয়। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন একই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগের দিন, ২৮ ডিসেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিকে আবার ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ গড়ার অঙ্গীকার : নেয়ামুল করিম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনে ১১ দলীয় জোট তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এস. এম. নেয়ামুল করিম ঝালকাঠির হারিয়ে যাওয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এক সময়ের ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ খ্যাত ঝালকাঠিকে আবার অর্থনৈতিকভাবে প্রাণবন্ত করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এস. এম. নেয়ামুল করিম জানান, ঝালকাঠিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া লবণ মিলগুলো পুনরায় চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রায় বিলুপ্তপ্রায় কাসা ও পিতল শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রাজনীতির শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখার অভিজ্ঞতা তাকে মানুষের জন্য কাজ করতে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। নির্বাচিত হলে ঝালকাঠির ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, ঝালকাঠিতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য শিক্ষার্থী ও রোগীদের অন্য জেলায় ছুটে যেতে না হয়। পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দরের সঙ্গে ঝালকাঠির যোগাযোগ সহজ করতে আধুনিক ও টেকসই সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পেয়ারা শিল্পের সম্প্রসারণে আধুনিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

নলছিটি পৌরসভা দেশের প্রাচীন পৌরসভাগুলোর একটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নলছিটিকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সড়ক, ড্রেনেজ, পানি ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা মেনে চলতে দলীয় নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি সহনশীল থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজারো মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা জানাতে গিয়ে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। কালো টাকার প্রভাব ও সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৬৫ হাজার ৩৯৬ জন, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাড়তি ভোটারের বড় অংশই তরুণ, যারা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ফলে তরুণ ভোটাররাই এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর এস. এম. নেয়ামুল করিম ছাড়াও বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনপিপি, জেএসডি, গণঅধিকার পরিষদ ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই জমে উঠছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম