কাফনের কাপড় নিয়ে পার্কে বিষপান, পাঁচদিনের লড়াই শেষে ঝরে গেল তরুণীর প্রাণ

বরিশালে কাফনের কাপড় সঙ্গে নিয়ে পার্কে প্রকাশ্যে বিষপান করা জান্নাত আক্তার (২২) আর বাঁচলেন না। পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় নগরজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত জান্নাত আক্তার বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতাল ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, একই উপজেলার সাহেবের হাট এলাকার প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান সাগরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে হয় জান্নাতের। তবে বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে।

এই বিচ্ছেদের মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে গত ১২ জানুয়ারি বরিশাল নগরীর একটি পার্কে কাফনের কাপড় সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্যে আগাছানাশক প্যারাকোয়াট বিষপান করেন তিনি। বিষপানের পর পার্কের একটি গাছের নিচে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন জান্নাত। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

চিকিৎসকরা জানান, প্যারাকোয়াট অত্যন্ত মারাত্মক ধরনের বিষ। এ ধরনের বিষপানে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীরই বাঁচার সম্ভাবনা থাকে না। সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও জান্নাতকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, প্রেম করে বিয়ের পর স্বামীর তালাক দেওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে জান্নাত। সেই কষ্ট থেকেই তিনি প্রকাশ্যে বিষপান করেন। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—মানসিক বিপর্যয় ও সম্পর্কের ভাঙনে তরুণ-তরুণীদের জীবন কেন এমন করুণ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে? সচেতন মহলের মতে, সম্পর্কের সংকটে মানসিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অবৈধ ইটভাটার আগ্রাসনে ঝালকাঠিতে ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি, বিপন্ন পরিবেশ

ঝালকাঠি জুড়ে অবাধে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার ছোবলে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে খাল ভরাট, রাস্তা ভাঙন, জমির উর্বরতা হ্রাস এবং কালো ধোঁয়ায় ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো গুরুতর সংকটে পড়েছে জনপদ। নীতিমালা থাকলেও কার্যকর তদারকি না থাকায় থামছে না এই ক্ষতি।

নীতিমালা অনুযায়ী, লোকালয়ের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও বসতবাড়ির আশপাশে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। বাস্তবে ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় এসব নিয়ম উপেক্ষা করেই বেনামি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ফলে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ফসলি জমির ওপর পড়ে ধানসহ নানা ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে, বাতাস ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ফসলি জমির গভীর থেকে মাটি কাটায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। আবার ভাঙা ইট খালে ফেলে অনেক জায়গায় খাল দখল করা হচ্ছে, এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং খালপাড়ের সড়কে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুতালড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক রনি বলেন, পাশের উপজেলায় অবস্থিত একটি ইটভাটা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ইট খালে ফেলা হচ্ছে। এতে খাল ভরাট হয়ে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এখন সড়কের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।

সদর উপজেলার বিকনা এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, ফসলি জমির মাঝেই এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন করেছেন। প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায় না। ভাটার ধোঁয়া ও ধুলো ধানের ক্ষেতে কুয়াশার মতো জমে যাচ্ছে, ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। নারকেল ও সুপারির ফলনও কমছে।

পরিবেশকর্মী মাহাবুব সৈকত বলেন, ইটভাটার মাটির জোগান আসে ফসলি জমি ও নদীর চর থেকে। প্রতিবছর টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় ধান উৎপাদন কমছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমির ওপর দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

এদিকে পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ঝালকাঠি পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, গত বছর ২৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং চলতি বছরও একাধিক অভিযান হয়েছে। অভিযোগ পেলেই ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ করা হবে।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৯টি বৈধ। বাকি ২২টি কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে—যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বেতাগীর সৈয়দা জুয়েলী

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বরগুনার বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার মনিকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তিনি ঢাকার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে (টিটিসি) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। সেখানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের সেরা শ্রেণি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।

সৈয়দা জুয়েলী আকতার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে তিনি বরগুনার বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষাদানে নিয়োজিত রয়েছেন।

গত বুধবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশাল বিভাগের সব জেলার বিজয়ী শ্রেণি শিক্ষকেরা অংশ নেন।

প্রতিযোগিতায় বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, শিক্ষাগত ও একাডেমিক অর্জন, প্রাতিষ্ঠানিক মনোভাব, পাঠদান কৌশল, মূল্যায়নে পারদর্শিতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ দক্ষতাসহ মোট ১২টি গুণাবলি বিবেচনায় নিয়ে সৈয়দা জুয়েলী আকতারকে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

তার এই অর্জনে সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দা জুয়েলী আকতার বলেন, “একজন শিক্ষকের সাফল্যের স্বীকৃতি তার কাজের প্রতি আরও দায়বদ্ধ করে তোলে। এর সুফল শুধু প্রতিষ্ঠানে নয়, দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের মতো উদ্যোগ শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে শতবর্ষী দীঘি ভরাট, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

বরিশাল নগরীতে একটি শতবর্ষী দীঘি অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার সড়কের ভেতরে ড্রেজারের পাইপ ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী দীঘিটি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, দীঘিটি প্রায় একশ বছরের পুরোনো। অতীতেও এটি ভরাটের চেষ্টা হয়েছিল, তবে তখন এলাকাবাসীর বাধায় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আবারও নতুন করে দীঘিটি ভরাটের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

দীঘিটির পাশের এক দোকানি জানান, ভরাটকৃত জমির মালিক বাবুগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও, জমিতে টানানো একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে—ক্রয় সূত্রে জমিটির মালিক শহিদুল ইসলাম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করছেন মো. কোটন নামের এক ব্যক্তি, যিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। এর আগেও একই এলাকার বেঙ্গল বিস্কুট কারখানা সংলগ্ন একটি পুকুর ভরাটের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছিল।

এ বিষয়ে বালু সরবরাহকারী মো. কোটনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সালিশে আছেন বলে জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ রাখেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকা। এখানে জলাশয় ভরাট হলে ভয়াবহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। দীঘিটি ভরাট হলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং জলাশয় সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী কোনো প্রকার জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সচেতন নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে দীঘি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে নগরীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালী–৩ আসনে আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারস্থ প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও প্রকাশ্য স্থানে নির্বাচনের ফলাফল আগেভাগেই ঘোষণা করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি প্রকাশ্যে কে প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অবস্থানে থাকবেন তা উল্লেখ করে বক্তব্য দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ধরনের বক্তব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি ২০০৮-এর শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী বক্তব্য সংক্রান্ত বিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধের শামিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হাসান মামুনের সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের ধর্মগ্রন্থকে সাক্ষী রেখে শপথ গ্রহণে বাধ্য করছেন। ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। এতে ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। এসব কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী অসদাচরণ ও অবৈধ প্রভাব বিস্তারের আওতায় পড়ে।

পটুয়াখালী–৩ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক কৌশল। বিএনপির সমর্থন নিয়ে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমকেও প্রার্থী করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মো. হাসান মামুন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ সিদ্ধান্তের পর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অভিযোগকারী কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ও তার অনুসারীরা ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। এতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ধর্মীয় শপথ ও উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং পটুয়াখালী–৩ আসনে বিশেষ নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে সংকট, সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের ফ্লাইটে যাত্রীদের ভোগান্তি

যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-বরিশাল রুটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিয়মিত যাত্রীরা। একসময় যেখানে প্রতিদিন অন্তত আটটি ফ্লাইট চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন শুক্রবার ও রোববার—দুটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্বল্প সময়ে রাজধানীতে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে অনেককেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সড়কপথ বেছে নিতে হচ্ছে।

বর্তমানে এই রুটে বেসরকারি বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট চালু রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রী চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে বৃহস্পতিবার একটি অতিরিক্ত ফ্লাইট থাকলেও উড়োজাহাজ সংকটের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। তারা দ্রুত এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু চালুর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন চারটি, বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ার দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। পরবর্তীতে নানা অজুহাতে প্রথমে নভোএয়ার ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ইউএস-বাংলা ধাপে ধাপে ফ্লাইট কমিয়ে একপর্যায়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ বিমানও একসময় যাত্রী সংকটের কথা বলে সপ্তাহে সীমিত দিনে ফ্লাইট চালু রাখে।

গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে এই রুটে ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশালসহ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ৮ আগস্ট থেকে সপ্তাহে দুই দিন ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ উড়োজাহাজ দিয়ে আবার ফ্লাইট চালু করা হয়।

নিয়মিত যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, “চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ফ্লাইট না থাকায় আমাদের সড়কপথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, কর্মঘণ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা-বরিশাল রুটে অল্প সময়ে যাতায়াত সম্ভব হলেও লোকসানের অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা বোধগম্য নয়। দ্রুত প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করা জরুরি।”

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমলেও অনেক সময় ফ্লাইট পুরোপুরি ভর্তি থাকে। ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

বরিশাল বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রান্ত খান বলেন, “বর্তমানে প্রতিটি ফ্লাইট ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রী ধীরে ধীরে বাড়ছে। আরও একটি ফ্লাইট যোগ হলে যাত্রীরা উপকৃত হবেন।”

নিরাপত্তা সহকারী মনমত সরকার বলেন, “ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ালে যাত্রীও বাড়বে। আগে নিয়মিত ফ্লাইট ছিল এবং যাত্রীও ছিল। সুবিধাজনক সিডিউল হলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।”

এদিকে বরিশালের ট্রাভেলস এজেন্সিগুলো মনে করছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে ফ্লাইট নির্ধারণ করা হলে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষই নেবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২০ বছর পর বরিশালে তারেক রহমান, জনসভায় ভাঙবে সব রেকর্ড

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বরিশালে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৬ জানুয়ারি দুপুরে নগরীর বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। তার এই আগমনকে ঘিরে বরিশালজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

তারেক রহমানের সফরের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ইউনিটগুলো মাঠে নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট, ব্যানার ও প্রচারণা শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, এই জনসভা বরিশালের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর বরিশাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—এই জনসভায় অতীতের সব জনসমাবেশের রেকর্ড ভেঙে যাবে। সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মী ও সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা অংশ নেন। শুরুতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-১ আসনের জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী আবুল হোসেন খান, ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা।

সভায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। দেশের মানুষের মধ্যে তার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি। ২৬ জানুয়ারি বেলস পার্ক মাঠে এমন জনসমাগম হবে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “গত বহু বছর দেশে প্রকৃত ভোটাধিকার ছিল না। এখন আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই জনসভা সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিন। সঞ্চালনা করেন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহাবুবুল হক নান্নু। নেতারা সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সফল করার আহ্বান জানান।

নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের সরাসরি বক্তব্য শোনার জন্য শুধু বরিশাল নয়, আশপাশের জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ আসবেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিবহন, স্বেচ্ছাসেবক দল, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। বেলস পার্ক মাঠকে জনসভা উপযোগী করতে চলছে সার্বিক প্রস্তুতি।

সব মিলিয়ে, ২৬ জানুয়ারির বরিশাল জনসভা বিএনপির জন্য শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়—এটি হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রাজনীতির কঠিন সময়ে মানবিক বার্তা দিলেন ড. মাসুদ

দলীয় সিদ্ধান্তে অব্যাহতি পাওয়ার ঘটনায় যখন বাউফলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা, তখন মানবিকতা ও সৌহার্দ্যের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত সামনে আনলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নেতা ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের এমপি প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগপূর্ণ বার্তায় তিনি বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল জব্বার মৃধার প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থনের কথা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক ভিন্নতার ঊর্ধ্বে উঠে তার এই অবস্থান ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বার্তায় ড. মাসুদ বলেন, মহান আল্লাহ যেন আবদুল জব্বার মৃধাকে মানসিক প্রশান্তি দান করেন এবং তাঁর দয়া ও নিরাপত্তায় তাকে ও তার পরিবারকে আগলে রাখেন। তিনি দোয়া ও ভালোবাসার ভাষায় নেতার পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বক্তব্যে আবদুল জব্বার মৃধার সততা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জব্বার মৃধা দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও সম্মান তিনি পাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবদুল জব্বার মৃধার সততা ও নিষ্ঠা দেশ, জাতি ও ইসলামের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার এই মূল্যবোধ অটুট থাকবে বলেই তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক বিভক্তির এই সময়ে ড. মাসুদের এমন মানবিক বার্তাকে অনেকেই ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে রাজনীতি করলে তা শুধু দলীয় সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকে না, বরং মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

উল্লেখ্য, শনিবার পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল জব্বার মৃধাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম