ভোটে অংশগ্রহণ বাড়াতে পটুয়াখালীতে ইমাম সম্মেলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রথম পটুয়াখালীতে জেলা পর্যায়ের ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালী ডিসি স্কয়ার মাঠে আয়োজিত এ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে ধর্মীয় নেতৃত্বের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরা। আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় নেতারা সমাজে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
পটুয়াখালী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আসমা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। ধর্মীয় নেতারা যদি মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন, তাহলে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা শান্তি, সহনশীলতা ও আইন মেনে চলার বার্তা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেন।
এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী পৌরসভার স্থানীয় সরকার ও প্রশাসক (উপসচিব) জুয়েল রানা। তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজব রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ যদি সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে ভোটকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
সম্মেলনে বক্তারা একযোগে বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ন্যায়, সত্য ও শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা সাধারণ মানুষকে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা পরিহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, এই ইমাম সম্মেলনের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলায় নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বাড়বে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








