ধৈর্যের বার্তা নুরের, সহিংসতার রাজনীতি চান না

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি দলীয় জোট সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না এবং সহিংসতার পথেও হাঁটতে চান না।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, চাইলে তিনি শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতেন, তবে সচেতনভাবে ধৈর্য ও সংযমের পথ বেছে নিয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি কোনো সংঘাত বা প্রতিশোধের রাজনীতি চান না।

জনসভায় নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, আগের দিন গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ট্রাক প্রতীকের একটি মিছিল চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকেরা বাধা সৃষ্টি করে। এ সময় তার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। নুরের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে।

নির্বাচনী বাস্তবতা ও সমীকরণ তুলে ধরে নুর বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির কোনো আলাদা প্রার্থী নেই। বিএনপি দলীয়ভাবে তাকে সমর্থন দিয়েছে এবং তিনি বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের যৌথ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি দাবি করেন, এই আসনে জোটের প্রার্থীর বিজয়ই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না এলে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে ইঙ্গিত করে নুরুল হক নুর বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে কে এমপি হবেন। হুমকি, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে ভোট আদায় সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

জনসভায় নুরুল হক নুর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হলে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে বাহিনী–প্রশাসনের সমন্বয়ের তাগিদ সেনাপ্রধানের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পটুয়াখালী সফর করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বরিশাল এরিয়ার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই সমন্বয়ের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্ব পালনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মতবিনিময়কালে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ধৈর্যশীল ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, সামান্য অসতর্কতাও নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন এমন অনেক ভোটার রয়েছেন। এই বাস্তবতায় ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি বড় দায়িত্ব, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

এই সফরে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার বরিশাল এরিয়া, সেনাসদর ও বরিশাল এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধানের এই পরিদর্শন মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও সমন্বয়কে আরও কার্যকর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজাকার মন্তব্য ও এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি, বাউফলে বক্তব্য ঘিরে তীব্র আলোচনা

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। এই উত্তাপের মধ্যেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার এক নির্বাচনী সভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হলে কিছু ব্যক্তিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠক ও একটি নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শহিদুল আলম তালুকদার। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামনে তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক হিসেবে তুলে ধরেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করে ভোটারদের প্রতি আবেগী আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজাকাররা সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং দেশের মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। তার দাবি, যাদের অতীত বা অবস্থান নিয়ে এমন প্রশ্ন রয়েছে, তাদের ভোট দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ সময় সভায় উপস্থিত সমর্থকরা তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ভোট প্রার্থনার অংশ হিসেবে শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, তার রাজনীতি ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কিছু মানুষকে বাউফল ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং নির্বাচনের পরদিনই এলাকায় তাদের আর দেখা যাবে না। নিজের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন প্রবীণ মানুষ হিসেবে তাকে এখন একজন ‘নব্য রাজাকারের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবনের অতীত টেনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগকে তিনি ব্যক্তিগত শত্রু মনে করেন না। যারা ভালো কাজ করবে, দল-মত নির্বিশেষে তারা তার কাছে গ্রহণযোগ্য। আর যারা দেশের ক্ষতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই আসনে শহিদুল আলম তালুকদারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বর্তমানে কার্যকর নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ১৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকেরা ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য, মানহানিকর মন্তব্য কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না—এমন নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে আলোচিত এই বক্তব্য আচরণবিধির আলোকে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পায়রার গ্রাসে দুমকি, ভিটেমাটি হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদী তীরবর্তী শতাধিক পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুমকির আঙ্গারিয়া, বাহেরচর ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রাম এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবুখালী থেকে আলগী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে শতাধিক ঘরবাড়ি একের পর এক নদীতে চলে গেছে। অনেক পরিবার ঘর হারিয়ে বাধ্য হয়ে সরকারি সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙনের শঙ্কায় তারা রাত কাটাচ্ছেন। আলগী গ্রামের ইউপি সদস্য সরোয়ার শিকদার বলেন, এখন মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নিরাপদ নেই। ভাঙনের কারণে শুধু বসতবাড়ি নয়, জীবন-জীবিকা সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে নদী ভাঙনে গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও বাগান নদীগর্ভে চলে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বা পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়ছে না। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব জানান, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পায়রা নদীর ভাঙন আরও বিস্তৃত হবে। এতে শুধু কয়েকটি গ্রাম নয়, পুরো এলাকার মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইনি লড়াইয়ে জয়, ট্রাক প্রতীকে পিরোজপুর-২ তে ফিরলেন মুন্না

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. আনিছুর রহমান মুন্না তার মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পিরোজপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তাকে দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে মাত্র দুই মিনিট দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু সাঈদ তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রার্থী ও তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, সময়ের সামান্য ব্যবধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মো. আনিছুর রহমান মুন্না আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন এবং পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আনিছুর রহমান মুন্না বলেন, ন্যায়ের পথে থেকে আইনি লড়াই করেছি এবং শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন তিনি জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারবেন। পিরোজপুর-২ আসনের মানুষের অধিকার রক্ষা, উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান।

প্রতীক বরাদ্দের খবরে কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ এলাকায় তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তারা এটিকে ন্যায়ের বিজয় হিসেবে দেখছেন এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমানের জনসভায় ঝালকাঠি থেকে ২৫ হাজার নেতাকর্মীর ঢল

বরিশালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন জনসভাকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই জনসভায় অংশ নিতে ঝালকাঠি জেলা থেকে প্রায় ২৫ হাজার নেতাকর্মী যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি বিএনপির জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় নেতারা বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশালে জনসভায় অংশ নিতে যাচ্ছেন, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠিসহ আশপাশের জেলাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ হোসেন। সভা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন। বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এস এম এজাজ হাসান, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী, নলছিটি পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান, ঝালকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান তাপুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, আগামী ২৬ জানুয়ারি বরিশালে তারেক রহমানের জনসভা হবে বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক। এই সমাবেশ সফল করতে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা থেকে নদীপথে লঞ্চ এবং সড়কপথে শতাধিক বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে নেতাকর্মীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বরিশালে পৌঁছাতে পারেন।

তারা আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বরিশালের জনসভা সেই আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

সভা শেষে নেতাকর্মীরা জনসভা সফল করতে মাঠপর্যায়ে কাজ জোরদারের অঙ্গীকার করেন এবং ঝালকাঠি থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গৌরনদীতে প্রচারণায় উত্তেজনা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে গৌরনদীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার শরিকল বাজার ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শাহ আলম ফকির, আনিস ফকির ও কামাল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শরিকল বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ চলাকালে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তার কর্মীদের কাছ থেকে লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে আনা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একটি খবর তারা পেয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা ও নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে সচেতন মহল প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কারাগার থেকেও ভোট, পটুয়াখালীতে ১৭ বন্দির নিবন্ধন সম্পন্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন পটুয়াখালী জেলা কারাগারের বিভিন্ন মামলায় আটক ১৭ জন বন্দি। ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) পদ্ধতির আওতায় তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করবেন। ইতোমধ্যে এসব বন্দির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পটুয়াখালী জেলা কারাগার সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জেলা কারাগারের জেলার মো. আব্দুর রব মিয়া জানান, নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করা বন্দিদের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধন সম্পন্ন করা ১৭ জনই পুরুষ বন্দি। এ তালিকায় কোনো নারী বন্দি নেই। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা কারাগারে মোট বন্দির সংখ্যা ছিল ৬৫০ জন। এর মধ্যে সীমিতসংখ্যক বন্দি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার আগ্রহ দেখান।

সূত্র জানায়, কারাবন্দিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। কোনো বন্দি আবেদন করার পর যদি ভোট গ্রহণের আগেই জামিনে মুক্তি পান, তাহলে তিনি আর বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। এই শর্তের কারণেই অনেক বন্দি আবেদন করতে আগ্রহী হননি বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

জেলা কারাগারের জেলার মো. আব্দুর রব মিয়া বলেন, যারা ভোট দিতে চেয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গ্রহণের সময় কারাগারের ভেতরে পূর্ণ নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হবে। বন্দিরা নিজেরাই ব্যালটে ভোট দেবেন এবং গোপনীয়তা বজায় রেখে নিজের হাতে ব্যালট প্যাকেট করবেন। কেউ জানতে পারবে না তারা কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ভোট প্রদান শেষে ব্যালট প্যাকেটগুলো ডাক বিভাগের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।

পোস্টাল ভোটিং এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে ভোটার সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না হয়েও ডাকযোগে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কারাবন্দিরাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন, যা নির্বাচন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুদক অভিযানের পর গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোররুমে রহস্যজনক আগুন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানের মাত্র ২৪ দিনের মাথায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত স্টোররুমে আগুন লাগে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও স্টোররুমে সংরক্ষিত বেডশিট, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সহায়তায় যোগ দেয়। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে স্টোররুমে সরাসরি প্রবেশ সম্ভব না হওয়ায় জানালার কাচ ভেঙে পানি ছিটিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুরোপুরি আগুন নির্বাপণে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা।

অগ্নিকাণ্ডের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত পানির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে পানি জমে যায়। ফলে সকাল থেকে আউটডোর সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়, যা দুপুরের দিকে স্বাভাবিক হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরিয়ে নিতে গলাচিপা পৌরসভার পক্ষ থেকে সহায়তা করতে দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ভোরেই হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন। তিনি জানান, স্টোররুমে সংরক্ষিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কাগজপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ও দুটি পাম্প নিয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুনের উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আলাদা তদন্ত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত স্টোররুম ও হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, লিনেন সামগ্রীর একটি কক্ষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় একটি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২৯ ডিসেম্বর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযানে হাসপাতালের স্টোর রেজিস্ট্রারে ওষুধ মজুদের তথ্য ও বাস্তব সরবরাহের মধ্যে গরমিল পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ মজুদ থাকলেও রোগীদের দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠে। পাশাপাশি খাবারের মান, কর্মচারীদের হাজিরা এবং সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থায় অনিয়মের নানা প্রমাণ পায় দুদক।

পটুয়াখালী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল লতিফ হাওলাদারের নেতৃত্বে ওই অভিযানে উপসহকারী পরিচালক খালিদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। তখন দুদক জানায়, হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

দুদকের সেই অভিযানের মাত্র ২৪ দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটে অংশগ্রহণ বাড়াতে পটুয়াখালীতে ইমাম সম্মেলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রথম পটুয়াখালীতে জেলা পর্যায়ের ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালী ডিসি স্কয়ার মাঠে আয়োজিত এ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে ধর্মীয় নেতৃত্বের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরা। আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় নেতারা সমাজে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

পটুয়াখালী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আসমা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। ধর্মীয় নেতারা যদি মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন, তাহলে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা শান্তি, সহনশীলতা ও আইন মেনে চলার বার্তা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেন।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী পৌরসভার স্থানীয় সরকার ও প্রশাসক (উপসচিব) জুয়েল রানা। তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজব রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ যদি সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে ভোটকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

সম্মেলনে বক্তারা একযোগে বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ন্যায়, সত্য ও শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা সাধারণ মানুষকে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা পরিহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকদের মতে, এই ইমাম সম্মেলনের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলায় নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বাড়বে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম