বরগুনায় ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে মহাবিপন্ন বাঘা আইর মাছ বিক্রি

বরগুনায় ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মহাবিপন্ন ও বিরল প্রজাতির বাঘা আইর মাছ কেটে রান্না করে বিক্রি করা হয়েছে। মাছটির ওজন ছিল ৭০ কেজি।

শনিবার দুপুরে বরগুনা পৌরশহরের জেলা বিএনপির অফিস সংলগ্ন মজিবর হোটেলে মাছটি রান্না করে বিক্রি করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় হোটেলের সামনে মাছটি প্রদর্শন করা হয় এবং স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচারণাও চালানো হয়।

হোটেল মালিক মজিবর জানান, মাছটি ঢাকার তেজগাঁও বাজার থেকে ৮২ হাজার টাকায় বরগুনার স্থানীয় আড়তদার মোস্তফার মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শখের বশে আমি এই মাছ এনেছি। এর আগে হোটেলে বড় বড় মাছ বিক্রি করেছি, তবে বাঘা আইর এবারই প্রথম।”

পরিবেশকর্মী ও পরিবেশ প্রেমী আরিফ রহমান অভিযোগ করেছেন, “বাঘা আইর মাছ শিকার ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এটি মহাবিপন্ন একটি জলজ প্রাণি। হোটেলে রান্না বা বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তবে প্রশাসন ও বন বিভাগ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি।”

বরগুনা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। বরগুনা সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, “ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি, সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ১০২ কেজি হরিণের মাংসসহ শিকারি আটক

বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে ১০২ কেজি হরিণের মাংসসহ এক শিকারিকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত ব্যক্তি মোঃ লিটন (৪৯), মোঃ রুস্তম আলীর পুত্র এবং পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী এলাকার বাসিন্দা। রবিবার ভোর রাত ৩টার দিকে পাথরঘাটার ০৭ নং কাঠালতলী ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডের কাঠালতলী গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিজি স্টেশন পাথরঘাটা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১০২ কেজি অবৈধভাবে শিকারকৃত হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য এক লক্ষ দুই হাজার টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ লিটন অবৈধ হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে এবং উদ্ধারকৃত মাংস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উপকূলীয় ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ শিকার ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনার বেতাগী-বামনা রুহিতা চরের সীমানা নিয়ে ভূমিহীনদের অবস্থান কর্মসূচি

বরগুনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বেতাগী উপজেলার পাঁচশতাধিক ভূমিহীন কৃষক। বিষ খালি নদীর মধ্যে গড়ে ওঠা রুহিতা চরের মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বামনা ও বেতাগী দুই উপজেলার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল।

বেতাগীর তিনটি ইউনিয়নের নারী ও পুরুষেরা জানান, তাদের রেকর্ডকৃত সম্পত্তি নদী ভাঙনে বিষ খালির প্রবাহে চলে যায়। পরবর্তীতে নদীর মাঝে গড়ে ওঠা রুহিতা চর দীর্ঘদিন ধরে তারা চাষাবাদ করে আসলেও ২০২৪ সালে বামনা উপজেলার চর সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাধা দেয়। চলতি বছরের মার্চে প্রশাসনের মাধ্যমে দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এরপর চাষাবাদ করলে তাদের ধান কেটে নেওয়া ও একাধিক মামলার অভিযোগ আসে।

সীমানা নির্ধারণ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ বেলা ১১টায় বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বেতাগী উপজেলার তিন ইউনিয়নের ভূমিহীনরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া পাঁচজনকে পরে জেলা প্রশাসকের কক্ষে ডেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি শেষে শেষ হয়।

তবে বেতাগীর ভূমিহীনরা অভিযোগ করেছেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থানকালে বামনা উপজেলার একটি গোষ্ঠী রুহিতার চরে থাকা তিনটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নদীঘেরা চরে তরমুজের সবুজ স্বপ্ন, বদলাচ্ছে চরফ্যাশনের কৃষিজীবন

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই নদীঘেরা চরজুড়ে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটানা পরিশ্রমে ব্যস্ত থাকেন শত শত কৃষক ও শ্রমিক। কেউ পাওয়ার টিলারে জমি চাষ করছেন, কেউ তরমুজ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কেউ শ্রমিকদের খাবারের আয়োজন করছেন। এমন দৃশ্য এখন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর মুজিবনগরে নিত্যদিনের বাস্তবতা।

তেঁতুলিয়া নদী বেষ্টিত প্রায় ৬ হাজার ৪৩৭ একর আয়তনের এই চরের এক-চতুর্থাংশ জমি আবাদযোগ্য। নৌপথই এখানকার একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। সরেজমিনে দেখা গেছে, তরমুজ চাষকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন প্রায় হাজারখানেক অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করছেন এই চরে।

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই চার মাসই তরমুজ চাষের মৌসুম। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকরা এসে কাজ করেন। ফসল তোলার পর তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান। ক্ষেতের পাশেই ছনের দোচালা ঘরে অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলেছেন শ্রমিকরা। এমন শতাধিক অস্থায়ী ঘর দেখা গেছে, সঙ্গে রয়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী শৌচাগারও।

শ্রমিক মো. হোসেন জানান, টানা তিন বছর ভালো ফলন হওয়ায় তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘মাসিক চুক্তিতে কাজ করি। তিন মাসের জন্য প্রতি মাসে ২২ হাজার টাকা পাই। থাকা-খাওয়া চাষির। দিনে কাজ, রাতে ক্ষেতের পাশের টং ঘরে ঘুমাই।’

মুজিবনগর ইউনিয়নের কৃষক মো. ইসমাইল ১৩ একর জমিতে থাই সুপার, থাই কিং ও আরলি ওয়ান জাতের তরমুজের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর ১৫ গণ্ডা জমির তরমুজ ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এ বছর আগাম চাষ করেছি। আশা করছি ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা বিক্রি হবে। খরচ পড়বে প্রায় ২০ লাখ টাকা।’ তার জমিতে তরমুজের গড় ওজন ৬ থেকে ১০ কেজি।

একই এলাকার কৃষক রাকিব হোসেন ৩ কানি (৪৮০ শতাংশ) জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তার ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা। সম্ভাব্য বিক্রি ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা। পাশের জমিতে কৃষক আবুল হাসেম ৬ কানি জমিতে তরমুজ চাষে ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

চরের জমির মালিকরা জানান, এবার প্রতি কানি জমিতে বিনিয়োগ করতে হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা, যা গত বছর ছিল ২২ থেকে ২৬ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে চরফ্যাশনে ১০ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘চরফ্যাশনের চরাঞ্চল তরমুজ চাষের অন্যতম আতুড়ঘর। এখানকার মাটি উর্বর এবং তেঁতুলিয়া নদীর মিঠা পানির প্রভাবে ফলন ভালো হয়। উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার তরমুজ চাষি রয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এই উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।’

নদীঘেরা এই চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ এখন শুধু ফসল উৎপাদন নয়, কৃষকের জীবনে স্বপ্ন ও স্বচ্ছলতার নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মান্তা শিশুদের শিক্ষায় পাশে দাঁড়াল বসুন্ধরা শুভসংঘ (ববি)

শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ভাসমান মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের ভবিষ্যৎ আলোকিত করতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার কারণে যেসব শিশু নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে, তাদের শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতেই এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খয়রাবাদ নদীর তীরে বসবাসরত মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের মাঝে এসব শিক্ষা ও সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে বই, খাতা, কলম, পেন্সিল, কাটার, রাবারসহ বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রীর পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক ইনডোর খেলনা ও খাবার দেওয়া হয়।

বসুন্ধরা শুভসংঘ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় ‘বাতিঘর’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ মান্তা শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেই বাতিঘরে নিয়মিত পড়তে আসা শিশুদের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘ এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তানজিদ শাহ জালাল ইমন, সাধারণ সম্পাদক মেহরাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হোসেন, অর্থ সম্পাদক আবু উবাইদা, দফতর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাতিঘরের সভাপতি আশা মনি, সাধারণ সম্পাদক হিসরাত নেহা, সহ-সভাপতি ফাত্তাহুর রাফি ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থেকে উদ্যোগটির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উপহার পেয়ে মান্তা শিশুরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা জানায়, নতুন বই ও খেলনা পেয়ে তারা খুব খুশি হয়েছে। অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে শিশুদের শিক্ষায় বড় সহায়তা হিসেবে দেখছেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহরাব হোসেন বলেন, ‘শুভ কাজে সবার আগে—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। সমাজের কোনো শিশু যেন শিক্ষায় পিছিয়ে না পড়ে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। সামর্থ্যের মধ্যে থেকে আগামীতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বাবুগঞ্জে ১৭ দিনেও খোঁজ নেই অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সামিয়ার

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান সামিয়ার (১৪)। কিশোরীটির কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মজিবুর হাওলাদারের মেয়ে নুসরাত জাহান সামিয়া গত ২৬ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে বাবুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সামিয়া বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সময় পার হলেও মেয়ের কোনো হদিস না পাওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা উপায়ে খোঁজ চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল হক জানান, নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে কিশোরীটির সন্ধানে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নিখোঁজ সামিয়ার পরিবার তার সন্ধান পেলে বা তথ্য দিতে পারলে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কোনো তথ্য জানা থাকলে ০১৮৩৭৭-৭১০৭৪ অথবা ০১৭১৬৭৯০৩৬২ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




নতুন নতুন মাফিয়ার গন্ধ পাচ্ছি : নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন খাতে জড়িত অনেক মাফিয়াকে সরানো হলেও নতুন করে আবারও মাফিয়া চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নৌ উপদেষ্টা বলেন, তিনি যে মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব নিয়েছেন, সেখানেই দুর্নীতির ব্যাপক চিত্র দেখতে পেয়েছেন। এসব অনিয়ম রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক মাফিয়াকে তাড়ানো গেলেও এখন নতুন করে আবার তাদের তৎপরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া শতাধিক প্রস্তাবের একটিও এখন পর্যন্ত সরকার বাস্তবায়ন করেনি। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে তিনি জানান, কমিশন আইনটির একটি খসড়া প্রস্তুত করে দিলেও কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সেটি বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া তিনি বলেন, স্থায়ী ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি। এর পরিবর্তে সরকারনির্ভর ও কার্যকারিতা হারানো প্রেস কাউন্সিল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সহায়ক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিডিয়া সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কার্যকর ও আন্তরিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে বক্তারা অনুষ্ঠানে মত প্রকাশ করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মাহফিলে রহমাতুল্লাহ: আলেম-ওলামা ও ইসলামের পক্ষে ছিলেন খালেদা জিয়া

বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী মাহমুদিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে হাজার হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সবসময় আলেম-ওলামা, ইসলাম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।

মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের মসজিদ-মাদ্রাসা, আলেম সমাজ ও ইসলামী আদর্শের ওপর যখনই আঘাত এসেছে, তখনই বেগম খালেদা জিয়া তার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেম-ওলামাদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড এবং মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পর ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধেও তিনি প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

রহমাতুল্লাহ আরও বলেন, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিএনপির নেতাকর্মীদের তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া কখনোই ইসলামবিদ্বেষী শক্তির সঙ্গে আপোষ করেননি। তার রাজনৈতিক বক্তব্যে ইসলামের প্রতি সম্মান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং তিনি সবসময় মুসলমানদের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় তিনি উপস্থিত আলেম-ওলামা ও মুসল্লিদের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানান, যাতে তিনি সুস্থ হয়ে আবার দেশ, জাতি ও ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।

মাহফিলে বক্তারা আগামী দিনে যেন কোনো ইসলামবিদ্বেষী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে, সে জন্য আলেম-ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, ঢালকানগরের পীর সাহেব হযরত মাওলানা শাহ আলম মতিন বিন হোসাইন, ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরি জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা হাসান জামিল, ঢাকার জামিয়া তালীমিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকসহ অন্যান্য আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে বরিশালে বিএনপির দুই পক্ষের উত্তেজনা ও সংঘর্ষ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে বরিশালে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ফুলের চাক ভাঙচুর ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিপরীতে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের বেদিতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার মহানগর বিএনপির ব্যানারে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস আক্তার জাহান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা স্থান ত্যাগ করছিলেন।

ঠিক একই সময়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে একই ব্যানারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও উত্তেজনায় রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আফরোজা খানম নাসরিনকে লক্ষ্য করে প্রতিপক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী চড়াও হন। তাঁকে হেনস্তা করা হয় এবং সঙ্গে আনা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা ফুলের চাক ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পরে ভাঙা ফুলের চাক দিয়েই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, একই সময়ে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে দলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটবেন।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) বিলকিস আক্তার জাহান মুঠোফোনে বলেন, কর্মীদের মধ্যে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দল গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাউফলে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের সম্মান রক্ষায় ওই নারী পুকুরে ঝাঁপ দিলেও শেষ পর্যন্ত হামলার হাত থেকে রক্ষা পাননি।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার জানায়, অভিযুক্ত মো. শুভর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে বিরোধপূর্ণ জমির পাশে থাকা পুকুরে ঘাটলা নির্মাণ করতে গেলে গৃহবধূ বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে জোরপূর্বক হাত দেওয়ার চেষ্টা করে।

পরিবারের অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্মান রক্ষার জন্য গৃহবধূ পুকুরে ঝাঁপ দিলে অভিযুক্ত মো. শুভ সেখানেও নেমে একই ধরনের নির্যাতন চালান। এ সময় তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং একপর্যায়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় আরও কয়েকজন জামায়াত কর্মী ঘটনাস্থলে পাহারা দিচ্ছিলেন।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী মো. আক্কাস মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, নাজিরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. শুভ ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করেছে। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নুরজাহান বেগম জানান, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার মা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ছিলেন। গৃহবধূর শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শুভ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রমাণ সাপেক্ষে আইন যা শাস্তি দেবে তিনি তা মেনে নেবেন। তবে জামায়াতের কোনো দায়িত্বশীল পদে তিনি আছেন কি না—এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন পদে আছেন তা তার জানা নেই এবং ঘটনাটি সম্পর্কেও তিনি অবগত নন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম