বিজয় দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদামাটা আয়োজন, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অত্যন্ত সাদামাটা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আয়োজনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় একটি সংক্ষিপ্ত বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কমিটির আয়োজনে মুক্তমঞ্চে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অনুষ্ঠানস্থলে ছিল না উল্লেখযোগ্য কোনো সাজসজ্জা বা উৎসবের আমেজ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় দিবসের এমন নীরব ও অনাড়ম্বর আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা কিংবা দৃশ্যমান আনুষ্ঠানিকতার চিহ্ন দেখা যায়নি। প্রশাসনের এমন উদাসীনতা গভীর উদ্বেগজনক। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস বা শিথিলতার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করা হতো। এবার তা দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়ে পরে আলোকসজ্জা দেওয়া হচ্ছে।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় দিবসের এমন সাদামাটা আয়োজন কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি হতাশাজনক। অনেক কলেজেও এর চেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন দেখা যায়।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “বিজয় দিবসের আয়োজন কিভাবে করা হবে, সে বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জার আয়োজন করার কথা ছিল।”




বরিশালের ছয় আসন: চারটিতে কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি

 দীর্ঘ ১৭ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ না থাকায় বরিশালের ছয়টি আসনেই জয় নিয়ে আশাবাদী বিএনপি। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, সহজ পথ পাচ্ছে না দলটি। মাঠে আগে থেকেই সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে অন্তত চারটি আসনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বিএনপি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের সমীকরণে এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত ভোটব্যাংক, সংখ্যালঘু ভোট এবং জোট রাজনীতি।


বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া): জটিল সমীকরণ

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের রাসেল সরদার (মেহেদী) এবং জামায়াতে ইসলামীর কামরুল ইসলাম খান মাঠে রয়েছেন। তবে আসনের সমীকরণ জটিল করে তুলেছেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান।

মনোনয়ন না পেলেও মাঠে সক্রিয় থাকা সোবাহানকে ঘিরে গুঞ্জন চলছে, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। সংখ্যালঘু ভোট এবং আওয়ামী লীগপন্থি ভোটারদের সমর্থন এখানে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট যেদিকে যাবে, জয়ও সেদিকেই ঝুঁকবে।


বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া): অভির প্রত্যাবর্তন ফ্যাক্টর

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম সরফুদ্দিন সান্টু। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল মান্নান এবং ইসলামী আন্দোলনের নেছার উদ্দিন।

তবে সব হিসাব পাল্টে যেতে পারে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি দেশে ফিরতে পারলে। তাঁর ফেরাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনা চলছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী): বহু প্রার্থীর লড়াই

এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতের জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ইসলামী আন্দোলনের সিরাজুল ইসলাম এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

এ ছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। ফলে এই আসনে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন স্থানীয়রা।


বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ): বিএনপির ভেতরে ক্ষোভ

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসান। তবে মনোনয়ন ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের অনুসারীদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যে পক্ষ দখল করতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।


বরিশাল-৫ (নগর ও সদর): সরোয়ারের দুর্গে হানা

বরিশাল-৫ আসনটি বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাঁচবারের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও প্রার্থী। তবে তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং জামায়াতের মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

চরমোনাই পীরের বাড়ি হওয়ায় হাতপাখার ভোটব্যাংক এখানে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জোট সমঝোতা হলে এই আসনে ভোটের চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে।


বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): সমঝোতার অপেক্ষা

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর বিপরীতে জামায়াতের মাওলানা মাহামুদুন নবী তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সমঝোতা হলে ফলাফলের ওপর তার বড় প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বরিশালের ছয়টি আসনে বিএনপি আশাবাদী হলেও বাস্তবে চারটি আসনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারে দলটি। জোট রাজনীতি, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত ভোটব্যাংক—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করে দেবে বরিশালের নির্বাচনী ভাগ্য।




পটুয়াখালীর ৪৪ জলমহাল ইজারা নয়

পটুয়াখালী জেলার ৪৪টি জলমহাল জনস্বার্থে ইজারা অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেছেন, গ্রামীণ অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে জলমহাল বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সুপারিশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভূমি উপদেষ্টা বলেন, নদী, হাওর, বাঁওড়, বিল ও খাল—এই জলমহালগুলো শুধু মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; বরং কৃষিকাজ, খাদ্য নিরাপত্তা, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এসব জলাভূমি সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক মানুষের জীবিকা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৮৮তম সভা’য় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ।

উপদেষ্টা আরও বলেন, পটুয়াখালীর যেসব জলমহালকে ইজারা অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো পানি প্রবাহমান জলাভূমি। অনেক জায়গায় স্লুইজ গেট ও বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনা যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে দায়িত্ব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব জলমহাল থেকে যে কেউ মাছ ধরতে পারবেন এবং কৃষিকাজের জন্য পানি নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, জলমহাল কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ। জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দরিদ্র মানুষের জীবনমান রক্ষার স্বার্থে জলমহাল ইজারা ব্যবস্থা থেকে সরে এসে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে রাষ্ট্রকে এগোতে হবে। আগামী তিন বছর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও এর প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। উদ্দেশ্য ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, পটুয়াখালী জেলায় মোট ১৪৮টি জলমহাল রয়েছে। এর মধ্যে জনস্বার্থে ৪৪টি জলমহাল ইজারা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া ৯৪টি জলমহালের ইজারা প্রক্রিয়া চলমান এবং বর্তমানে ৯টি জলমহালের ইজারা কার্যকর রয়েছে।

সভায় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. রায়হান কাওছার, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা অনলাইনে সভায় যুক্ত ছিলেন।

পরবর্তীতে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন’ বিষয়ে পৃথক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ট্রাক নিয়ে এসে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : রোববার (১৫ ডিসেম্বর)দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দোকান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রৌপ্য লুট করা হয়।

পরে দিন  সোমবার সকালে ডাকাতির বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত চক্র‍ রাত আড়াইটার দিকে একটি ট্রাক নিয়ে এসে আগৈলঝাড়ার বাশাইল বাজারের ‘বিশ্বজিৎজুয়েলার্সের’ তালা ভেঙে দোকানে প্রবেশ করে। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণ ও রৌপ্য লুটে নেয়। পরে সোমবার সকালে দোকান মালিক বিল্পব মল্লিক দোকান খুলে জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান জানান, সিসি টিভি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে চোরচক্রের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।




বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে স্মৃতিবেদিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হাতাহাতির ঘটনায় বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্রে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম জানান, মহানগর বিএনপির একজন নেত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অভিযোগকারী আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেওয়ার সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী

তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আইনগত প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি, বাবুগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে শোকের মাতম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুবেদার সুলতান আহমেদের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরিফ ওসমান হাদি ২০২০ সালে সুলতান আহমেদের কন্যা রাবেয়া শম্পাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। হঠাৎ এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

ওসমান হাদির শ্বশুর সুলতান আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার জামাই ছিলেন সৎ ও প্রতিবাদী মানুষ। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করতেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবেই সন্ত্রাসীরা তার জামাইয়ের ওপর গুলি চালিয়েছে। তার দাবি, ওসমান হাদি যদি ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতেন, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওসমান হাদির শাশুড়ি শাহানাজ বেগম ও শালা কাইয়ুম হোসেন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এদিকে প্রতিবেশী ও স্বজনরা শ্বশুরবাড়িতে ছুটে এসে পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন।

সুলতান আহমেদ দেশবাসীর কাছে তার জামাইয়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি বর্তমানে ঢাকার রামপুরা এলাকায় বসবাস করেন। তার বৃদ্ধ মা সেখানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল অর্ধশতাধিকের

বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ সময়ের মধ্যে বরিশাল বিভাগের দুইটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোট ২১ হাজার ৫৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে ২১ হাজার ৩১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে অল্পসংখ্যক রোগী এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মৃতদের মধ্যে সর্বাধিক ৩২ জন মারা গেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া বরগুনার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন, পটুয়াখালীতে ৩ জন এবং ভোলায় ১ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, বরগুনা জেলা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এ বছর ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোতেই বরগুনা জেলায় ৯ হাজার ৫৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কারণ হিসেবে জানানো হয়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ধর্ষণ মামলার বাদীকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ, হয়রানির বিচার চেয়ে আসামির সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল  অফিস ::  বরিশালের বানারীপাড়ায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলার বাদীকে গত এক মাসের অধিক সময় ধরে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। এতে মামলার তদন্ত কার্যক্রমেও অগ্রগতি আসেনি। ফলে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষই যথাযথ আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে- হয়রানি করতেই একজন ইউপি সদস্য ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলায় অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। এমনকি সত্য সামনে আসার ভয়ে বাদীকেও পুলিশের সামনে আসতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তার।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মামলায় অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বচুয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব ফরাজির ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত নালিশি অভিযোগটি গ্রহণ করে তা এফআইআর করতে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা নালিশি দরখাস্তে ওই নারী উল্লেখ করেন, তিনি একজন অসহায়। পিতার মৃত্যুর পর মা অন্যত্র বিবাহ করায় চার বোন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকার তাগিদে তিনি বরিশাল শহরে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

নালিশে বলা হয়, ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি দাদা বাড়ি বানারীপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে বরিশাল শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে জোরপূর্বক নিকটস্থ একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে। কিন্তু ভয়ে তিনি চিৎকার করতে পারেননি। একপর্যায়ে দু’জন পথচারীর কণ্ঠস্বর শুনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ওই দুই পথচারীর সহায়তায় অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে তিনি বরিশালে এসে বোন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় মামলা করতে গেলে নানা ব্যস্ততার কথা বলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে ধর্ষণের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সবুর খান ওরফে সবুর মেম্বার ও তার সহযোগিরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে মামুন ফরাজির বাবা মাহাবুব ফরাজি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সবুর খানের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, ২০০ বছরের পুরোনো হিন্দু বাড়ি দখল, সরকারি ৯ একর জমির গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ, খেয়াঘাট দখল, ট্রলার লুট, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, থানায় পুলিশের সামনে ছাত্রপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা, গরিবদের সরকারি সহায়তা আত্মসাৎ, স্কুল কমিটি দখল, প্রবাসীদের অর্থ আত্মসাৎ ও অটোরিকশা দিয়ে চাঁদা উত্তোলনসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সবুর মেম্বারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ভুক্তভোগী মাহাবুব ফরাজির কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তার মালিকানাধীন দুটি ট্রলার ছিনতাইয়ের পর বিক্রি করে দেয়া হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে মামুন ফরাজি বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সবুর মেম্বার ডিগ্রি পাসের ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ দখল করেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ভুয়া সনদের সত্যতা পায় এবং তাকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সবুর মেম্বার ও তার সহযোগীরা গত ২৭ অক্টোবর একজন নারীকে ব্যবহার করে মামুন ফরাজির বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করায়। আদালতের নির্দেশে ১ নভেম্বর মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগী মাহাবুব ও মামুন ফরাজি।

ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন বলেন, “মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাদীর দেয়া মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং যে ঠিকানা দেয়া হয়েছে, সেখানে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাদীকে পাওয়া গেলে তদন্ত এগিয়ে নেয়া সহজ হবে।”

এদিকে অভিযুক্ত মামুনের বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা সবুর খানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সবুর খান ভুয়া সনদ দিয়ে একটি বিদ্যালয়ের সভাপতির পদে ছিলেন। এ বিষয়ে আমার ছেলে শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ করলে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপরই পরিকল্পিতভাবে এই ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন বাদীকে পাওয়া না যাওয়ায় আমরাও সঠিক আইনি সহায়তা পাচ্ছি না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বানারীপাড়ার দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মরণ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী বানারীপাড়ার দুই সন্তান—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমদ্দার—আজও এলাকার মানুষের মনে অমর। তারা দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরত্বপূর্ণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং বুদ্ধিজীবী সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার পরিবার ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর রাতে স্বাভাবিকভাবে দিনের কাজ শেষ করে ঘরে ছিলেন। হঠাৎ রাস্তায় জনতার ভিড় ও লাইট বোমার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পাক সেনারা তাদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ড. গুহঠাকুরতাকে হত্যা করে। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হয়নি এবং ৩০ মার্চ ১৯৭১ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ড. গুহঠাকুরতার জন্ম ময়মনসিংহে হলেও পৈত্রিক নিবাস বরিশালের বানারীপাড়ায়। শিক্ষাজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহের জিলা স্কুল থেকে, এরপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও আনন্দমোহন কলেজে পড়াশোনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি শিক্ষকতা, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। বানারীপাড়া পৌর শহরে তার নামানুসারে স্কুল প্রতিষ্ঠা ও রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সুখরঞ্জন সমদ্দার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে পরিচিত ছিলেন। ১৪ এপ্রিল ১৯৭১ পাক সেনারা তাকে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং বিনোদপুরে হত্যা করে ফেলে। তার পরিবার তখন ভারতেই ছিলেন। স্বাধীনতার পর দেহাবশেষ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে পুনঃসমাহিত করা হয়।

সুখরঞ্জন সমদ্দারের জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে বানারীপাড়ার ইলুহার গ্রামে। তিনি বরিশালের স্থানীয় স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন, পরে কলকাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করেন।

বানারীপাড়ার মানুষরা দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মৃতি রক্ষার্থে তাদের ভাস্কর্য নির্মাণসহ প্রজন্মকে জানাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5




আগৈলঝাড়ায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতির রজতজয়ন্তী উদযাপন

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি পরিচালিত পাঁচটি প্রোডাকশন ইউনিট — বিবর্তন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট, কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফটস, তরুলতা ক্রাফটস, জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ এবং বাগধা এন্টারপ্রাইজ — এর রজতজয়ন্তী ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৩ ডিসেম্বর, শনিবার, গৈলা ইউনিয়নের কালুরপাড় এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রজতজয়ন্তীর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস

সভায় স্বপন কুমার দাস বলেন, “লতাপাতা দিয়ে আমরা বিশ্বজয় করেছি। বাড়ির চারপাশে লতাপাতা ও জলাশয়ের কচুরিপানা ব্যবহার করে হাতে বানানো তৈজসপত্র এখন বিশ্বের ৪২টি দেশে পৌঁছেছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ৬ হাজার নারী। বিদেশীরা আমাদের নারীদের হাতে তৈরি নিখুঁত জিনিস দেখে বিস্মিত হয়। তারা প্রশ্ন করেন, এগুলো কি মেশিনে তৈরি করা হয়। আমি জানাই, এটা সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। আমাদের দেশের নারীরা এই সব পণ্য তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “২০০১ সালে প্রকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) কর্তৃক শুরু করা আটটি কর্মসংস্থান প্রকল্পের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করি। প্রাথমিক সময়ে এমসিসি’র পরিচালকরা শাসন ব্যবস্থা, আর্থিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক ন্যায্য বানিজ্যের মানদণ্ড স্থাপন করতে আমাদের সহায়তা করেন। আমরা হস্তনির্মিত কাগজ, পাট, সিল্ক ও প্রাকৃতিক তন্তু উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করি এবং নারী করিগরদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করি। ধীরে ধীরে প্রকৃতি একটি স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠিত হয়।”

প্রকৃতির বোর্ড অব ডিরেক্টর সুфিয়া আক্তার রহমান, আবজালুল নেছা চৌধুরী, হাসিনা আক্তার বলেন, “আমরা ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করি, নিজস্ব পরিচিতি ও প্যাকেজিং তৈরি করি এবং ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তুলি। রিসাইকেল করা শাড়ি, বর্জ, পাট ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্য আমাদের স্বাক্ষর হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি একটি অলঙ্কারের জন্য আমরা গর্বের সঙ্গে (ডব্লিউএফটিও) মোহাম্মদ ইসলাম ডিজাইন পুরস্কার অর্জন করি। রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, কারিগরদের আয় বাড়ে এবং পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সক্ষম হয়। ব্লক প্রিন্টিং, বাঁশের কারুশিল্প ও ক্রোশে খেলনা তৈরির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাদের পণ্যে বৈচিত্র্য আনে। আমরা টেরাকোটা, ফ্যাশন ডিজাইন ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব কারুশিল্পেও নতুনত্ব এনেছি। ভবিষ্যতে প্রকৃতি আরও গভীর ক্ষমতায়ন, নবপ্রবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগোবে। আমরা চাই নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠুক।”

তারা আরও বলেন, “২০৫০ সালের মধ্যে হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি ন্যায্য বানিজ্যের আলোকবর্তিকা হিসেবে বিশ্বকে দেখাবে যে নৈতিক ব্যবসা সফল হতে পারে এবং গ্রামীণ বাংলাদেশে জীবন পরিবর্তন করতে পারে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: ‘প্রকৃতি ২০৫০, নারী ক্ষমতায়ন, পৃথিবীর টেকসই উন্নয়ন।’”

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বণিক বলেন, “প্রকৃতি আমাদের জেলার গর্ব। রজতজয়ন্তীতে মঞ্চের নির্মাণ ও পরিবেশের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। লতাপাতা, বন, তালপাতা, কচুরিপানা ও ফুলের সংমিশ্রণে তৈরি মঞ্চ আমি আগে কোথাও দেখিনি। আমি এর ছবি তুলে রাখেছি, যেখানে কাজ করব সেখানে দেখাবো।”

রজতজয়ন্তীতে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তপন বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ দৌলাতুন নেছা নাজমা, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান, পল্লীবিদ্যুৎ বরিশাল-২ সমিতির জিএম বিপুল কৃষ্ণ, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ডা. মো. মাহাবুবুল ইসলাম, সাংবাদিক এসএম ওমর আলী সানি, প্রকৃতি ডেপুটি ডিরেক্টর সজল কৃষ্ণ দত্ত, মো. সাজ্জাদ হোসেন, ম্যানেজার জগন্নাথ দত্ত, কালিপদ অধিকারী, অঞ্জন কুমার, মিজানুর রহমান, এমসিসি ফেরদৌসি হাওলাদার। সভা পরিচালনা করেন ম্যানেজার পাপড়ি মন্ডল