মহিপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলা, উত্তেজনা এলাকায়

পটুয়াখালীর মহিপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাবলাতলা বাজারে বুধবার দুপুরে সংঘটিত এই হামলায় গুরুতর আহত হন ধুলাসার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের ১নং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল খলিফা। ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, যেখানে তার উন্নত চিকিৎসা চলছে।

আহত সাইফুল খলিফা দাবি করেন—ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদশা মিয়ার সঙ্গে পূর্ব থেকে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। তিনি জানান, টাকা ফেরত চাইতে গেলে বাদশা মিয়া আরও কয়েকজনকে সঙ্গে এনে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তার গলা, চোখের নিচে ও পায়ে অতিরিক্ত আঘাত করে, যার ফলে তাকে একাধিক সেলাই নিতে হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হুমায়ূন কবির। তার দাবি, বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির ফল। তিনি বলেন, বাদশার সঙ্গে টাকা লেনদেন নিয়ে অভিযোগ শোনার সময় কথা কাটাকাটি তৈরি হয় এবং স্থানীয়দের সঙ্গে হাতাহাতির এক পর্যায়ে সাইফুল পড়ে গিয়ে আঘাত পান। তিনি দাবি করেন—কারও পক্ষ থেকেই ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি এবং এটি হামলা নয় বরং একটি অপ্রীতিকর ঘটনা।

এদিকে স্থানীয়দের মাঝে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটনার নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা চলছে। এলাকাবাসী বলেন, বাজার এলাকায় দিনের বেলায় এমন ঘটনা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহব্বত খান বলেন—ঘটনার প্রাথমিক তথ্য আমরা জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত শুরু হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এবং বাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে গণতান্ত্রিক উত্তরণে গোলটেবিল বৈঠক

টুয়াখালীতে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তিশালী উত্তরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরের ওই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় শহরের মল্লিকা রেস্তোরাঁ ও পার্টি সেন্টারে, যেখানে রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। ‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’—এই মূল প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আলোচনার পুরো সময়জুড়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার নানামুখী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত। বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষ্ঠু নির্বাচন আজকের সময়ের সবচেয়ে জরুরি চাহিদা। মানুষের অংশগ্রহণমূলক ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজন সক্রিয় ও সচেতন নাগরিক সমাজ। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন—গণতান্ত্রিক চর্চা কেবল ক্ষমতার বদল নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনমতের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।

গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভোটের পরিবেশ ও সাংবিধানিক দায়িত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গগুলো উঠে আসে। বক্তারা মনে করেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ক্ষমতার মালিকানা পুনরুদ্ধার করে। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে জনগণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

এসময় আলোচনা হয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, নাগরিক নেতৃত্ব বিকাশ, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা নিয়ে। পটুয়াখালীর শিক্ষাবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংবাদকর্মীরা বলেন—গণতন্ত্রকে টেকসই রাখতে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, নাগরিক সমাজকেও সামনে আসতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করাই আজকের বড় চ্যালেঞ্জ।

অংশগ্রহণকারীরা আরও জানান, গণতান্ত্রিক উত্তরণ শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে নয়—বরং সুশাসন, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই অর্জিত হতে পারে। তারা বলেন, জনগণের সার্বিক অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যতে সম্মিলিত উদ্যোগে ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন, নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি সক্রিয় সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন তারা।

বৈঠক শেষে আয়োজকরা বলেন—এই আলোচনা নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে। অংশগ্রহণকারীরা প্রতিশ্রুতি দেন যে তারা ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং গণতান্ত্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে কাজ করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ইউরোলজি বিভাগের দুরবস্থা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছু বিভাগের চিকিৎসা উন্নতি পেলেও ইউরোলজি বিভাগে রোগীদের সেবা এখনও বেহাল। রোগীরা তিন থেকে চার মাসেও চিকিৎসা সম্পন্ন করতে না পারায় সুস্থ হওয়ার বদলে অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ধীরগতিতে সেবা প্রদানের ফলে রোগীরা বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকের দিকে ঝুঁকছেন।

দক্ষিনাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের একমাত্র চিকিৎসা ভরসা এই হাসপাতাল। পটুয়াখালী, বরগুনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের মতো জেলার অনেক রোগী দীর্ঘদিন চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। অনেকেই অপারেশন শিডিউল পান না, কারণ অপারেশন শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার সকালে এবং মাসে মাত্র ২–৩টি করা হয়। অথচ সার্জারী বিভাগের চারটি ইউনিটে সহস্রাধিক রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

ধীরগতির চিকিৎসা সেবার কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক রোগী দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে আসার পরও পূর্ণ সুস্থ না হয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।

হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে অপারেশন সপ্তাহে একদিন করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিউরোলজি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন রোগী ভর্তি থাকায় তাদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে আমন ধানের রেকর্ড ফলন, কিন্তু দরপতনে হতাশ কৃষক

বরিশালের মাঠে শেষ অগ্রহায়ণ থেকে শুরু হয়ে এখনো আমন ধান কাটার ধুম লেগে আছে। সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এবার বরিশালে সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টন আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্য অর্জন হতে চলেছে। তবে উচ্চ উৎপাদনের আনন্দ overshadow করছে ধানের কম দাম, যা কৃষকদের হতাশ করছে।

বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এখনো প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। শীতের সকালে সোনালী সূর্যের আলোয় কৃষকরা মাঠে নামেন ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য।

তবে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ধানের বাজারমূল্য কৃষকদের সন্তুষ্ট করছে না। কৃষকরা জানান, হাজার টাকারও বেশি খরচে উৎপাদিত ধান বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকা প্রতি মান, যেখানে সার, কীটনাশক ও শ্রম খরচ বেড়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বরিশাল অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এই আবাদ থেকে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ২৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। কাটা ধানের গড় ফলন ৩.০৫ টন প্রতি হেক্টর, যা উৎপাদনে লক্ষ্য অতিক্রমের আশ্বাস দিচ্ছে।

তবে উচ্চ ফলনশীল ও উফশী জাতের ধানের আবাদ এখনও ৬৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্থানীয় সনাতন জাতের ধানের আবাদ ৩৫ শতাংশ, হাইব্রিড ধানের আবাদ ১ শতাংশেরও কম। সনাতন ধানের গড় ফলন ১.৬৮ টন/হেক্টর, উফশী ২.৮৯ টন, হাইব্রিড ৩.৯০ টন প্রতি হেক্টর।

কৃষকরা অভিযোগ করছেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজ এবং উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। কৃষিবিদরা মনে করছেন, যদি আবাদে উফশী ও হাইব্রিডের অনুপাত বৃদ্ধি করা যায়, তবে বরিশালের আমনের উৎপাদন ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব, আর খাদ্য উদ্বৃত্তও বর্তমান ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

বরিশাল অঞ্চলের প্রধান কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার জানান, দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, আসন্ন রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলের ৩.৮৩ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে, ধানের আশাতীত সাফল্যের মধ্যেও দরপতনে কৃষকের মুখে হাসি নেই। তবুও মাঠের দৃশ্যকলা ও কৃষকদের পরিশ্রম তাদের উৎসাহ বজায় রাখছে। তারা মনে করেন, “যারা যোগায় ক্ষুধার অন্ন, আমরা আছি তাদের জন্য।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর অতিক্রম হলেও আমরা আজও সেই কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার আয়োজনে শহরের সিও অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ক্লাবে বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জাল হোসাইন ফরিদ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

মাসুদ সাঈদী সমাবেশে বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি মর্যাদাশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ। শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে আমাদের বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দুঃখজনকভাবে যারা শুধু মুখে স্বাধীনতার চেতনাকে বলেছে, তারা তা অন্তরে ধারণ করেনি। অনেকেই দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু জামায়াত ইসলামী স্বাধীনতার চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, তবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”

মাসুদ সাঈদী বলেন, “হাদীর ওপর হামলা কোনো ব্যক্তির নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। আমাদের সবার দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। প্রকৃত দেশপ্রেম মানে সততা, ন্যায় ও জবাবদিহিতা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির মামলা নেই, যা প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনার প্রমাণ।”

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পৌর আমীর মো: ইসাহাক আলী খান, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি মো: ইমরান খান ও অন্যান্য পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে বরগুনার খাকদোন নদ

এক সময়ের খরস্রোতা বরগুনা জেলা শহরের খাকদোন নদ এখন নাব্য সংকট, দখলদারত্ব ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের চাপে অস্তিত্ব হারানোর পথে। পশ্চিমে বিষখালী নদী ও পূর্বে পায়রা নদীকে সংযুক্ত করা প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদটির অন্তত আট কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। নদের দুই পাড় দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, নির্বিচারে বর্জ্য ফেলা এবং একের পর এক নিচু সেতু নির্মাণে নদটি ক্রমেই মরা খালে পরিণত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খাকদোন নদে নির্মিত ২১টি নিচু সেতুর কারণে জোয়ারের সময়ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এসব সেতুর নিচ দিয়ে বড় নৌকা, ট্রলার কিংবা ইঞ্জিনচালিত লঞ্চ চলাচল করতে পারছে না। ফলে নদীপথে যোগাযোগ কার্যত বন্ধের পথে। পাশাপাশি নদীর তীরজুড়ে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল এবং শহরের আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে একাধিকবার ড্রেজিং করা হলেও উত্তোলিত বালু যথাযথভাবে অপসারণ করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সেই বালুই আবার নদীতে ফিরে এসে নাব্য সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাদের ভাষ্য, ‘ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও নদীর প্রকৃত কোনো উন্নয়ন হয়নি।’

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, খাকদোন নদের প্রাণ ফেরাতে হলে বিষখালী থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত পুরোনো নকশা অনুযায়ী পুনঃখনন জরুরি। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিচু সেতুগুলোর পরিবর্তে পরিকল্পিত উচ্চ সেতু নির্মাণ করতে হবে।

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, খাকদোন নদ দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পের কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো কাজ দৃশ্যমান হয়নি। নদীর নাব্য ফেরাতে এখনো দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খাকদোন নদের নাব্য পুনরুদ্ধারে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, কেওড়াবুনিয়া থেকে পায়রা নদীর সংযোগস্থল হয়ে পশ্চিমে বিষখালী নদী পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার নদীপথ আগের নকশা অনুযায়ী প্রশস্ত করে পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বরগুনা জেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় অর্ধশতাধিক খাল খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি কচুরিপানা অপসারণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নদী ও খাল দখলমুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া বলেও জানান তিনি। খাকদোন নদের দখলদারদের উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে। খাকদোন নদ বাঁচানো এখন বরগুনাবাসীর জন্য সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নানা সংকটে বরগুনার শুঁটকিশিল্প, হুমকিতে উপকূলের ঐতিহ্য

প্রায় আট মাসের নীরবতা কাটিয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে। তালতলী উপজেলার আশারচর, নিদ্রারচর, সোনাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লী। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পুরোদমে কাজে নেমেছেন জেলেরা। রোদে মাছ শুকাতে ব্যস্ত নারী-পুরুষ ও শিশু শ্রমিকরা। তবে প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালেই জমে উঠেছে নানা সংকট, যা ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ফেলছে এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক ও বিষমুক্ত উপায়ে উৎপাদিত বরগুনার শুঁটকির চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ পেলে এ শিল্প আরও বিকশিত হতে পারত। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোর অভাব, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংকটসহ একাধিক সমস্যায় ঐতিহ্যবাহী শুঁটকিশিল্প আজ ধুঁকছে।

প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে শুঁটকির মূল মৌসুম। তবে প্রস্তুতি শুরু হয় অক্টোবর থেকেই। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলে ও শ্রমিকরা তালতলীর আশারচর, নিদ্রারচরসহ উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে এসে কাজ শুরু করেন। পুরো মৌসুমজুড়ে দিন-রাত শুঁটকি উৎপাদনেই কাটে তাদের সময়।

এ বছর রাসায়নিক ও অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি উৎপাদনের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে শুঁটকির মান ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা। মিঠা পানির দেশি মাছের শুঁটকির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত আশারচর ও নিদ্রারচর। এ মৌসুমে এসব পল্লীতে সহস্রাধিক জেলে ও শ্রমিক কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আশারচর ও নিদ্রারচর থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১০০ মণ শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা, জামালপুর, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন বাজারে এসব শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। কিছু শুঁটকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে সরকারিভাবে রপ্তানির সুযোগ পেলে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুঁটকিপল্লীতে প্রায় ৫০টির মতো অস্থায়ী ঘরে জেলে ও শ্রমিকরা বসবাস করছেন। কেউ মাছ পরিষ্কার করছেন, কেউ মাচায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকনো মাছ সংগ্রহ করে গুদামজাত করছেন। নদী থেকে আনা মাছ নারী ও শিশু শ্রমিকরা পরিষ্কার করে ধুয়ে রোদে শুকান। তিন থেকে চার দিনের রোদে মাছ শক্ত হয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়।

এখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির সামুদ্রিক ও মিঠা পানির মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। এর মধ্যে রূপচাঁদা, ছুরি, লইট্টা, তপসে, কোরাল, চিংড়ি, ভোল, মেদসহ নানা জাতের মাছ রয়েছে। বর্তমানে ছুরি মাছের শুঁটকি কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, রূপচাঁদা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা এবং লইট্টা ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে লাভের আশার মধ্যেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রধান সড়ক থেকে শুঁটকিপল্লী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। ট্রাক ঢুকতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লাভ কমে যাচ্ছে।

শুঁটকিপল্লীতে দীর্ঘদিন কাজ করা নারী শ্রমিক কুলসুম বেগম বলেন, “আমরা নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে কাজ করি, কিন্তু এখানে নারীদের জন্য কোনো টয়লেট ব্যবস্থা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থায়ী টয়লেট ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হলে অনেক উপকার হতো।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শুঁটকিশিল্পের সংকটের কথা তুলে ধরছেন। সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাজি মো. ইউনুছ বলেন, এক সময় এখানকার শুঁটকিশিল্পের সঙ্গে প্রায় তিন থেকে চার লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংকটের কারণে শিল্পটি পিছিয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপরিশোধিত বর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে, এতে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে—যা শুঁটকিশিল্পের জন্য বড় হুমকি।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, শুঁটকিশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। এখানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে তালতলীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেবক মণ্ডল জানান, শুঁটকিশিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লী এখন সম্ভাবনা ও সংকট—দুটোরই মুখোমুখি। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৫

ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নে বিজয় দিবসের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে ভোলা সদরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জামায়াত নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে শোভাযাত্রাটি ভেলুমিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে জামায়াত কর্মী আবুল বাশারকে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি কর্মী রিয়াজ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে রিয়াজ চোখে আঘাত পান এবং উত্তেজনার মধ্যে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আবুল বাশারকে মারধর করেন। পরে আহত দুজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এশার নামাজের আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেলুমিয়া বাজারে বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি চরন্দ্রপ্রসাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল হান্নানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের কেউ স্থানীয়ভাবে, কেউ ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সংঘর্ষের সময় বাজারের পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির কামাল হোসেন দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দুই দফা হামলা চালিয়ে জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজয় দিবসে জামায়াতের মিছিল মেনে নিতে না পেরে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের ঘটনাটি নিয়ে রাতে আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে বিএনপির বিজয় মিছিল চলাকালে কিছু জামায়াত-শিবির কর্মী উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তার দাবি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে বিএনপিরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াত সংঘাতমুখী অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন বানচাল করতেই তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা অদম্য’ প্রদর্শন

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশালে সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা অদম্য’ প্রদর্শন করা হয়েছে। এ প্রদর্শনী ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যুদ্ধজাহাজটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ চার ঘণ্টা ধরে জাহাজে প্রবেশ করে পরিদর্শনের সুযোগ পান।

দুপুরের পর থেকেই যুদ্ধজাহাজটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই জাহাজ পরিদর্শনে আসেন। কাছ থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা বিধান মণ্ডল বলেন, “যুদ্ধজাহাজ সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না। বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আয়োজন আমাদের জন্য গর্বের।”

রূপাতলী এলাকার এক অভিভাবক বলেন, “শিশুদের নৌবাহিনী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছি। জাহাজটি ঘুরে দেখতে পেরে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।”

যুদ্ধজাহাজটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, “বানৌজা অদম্য সমুদ্রে আন্তঃ ও বহিঃশত্রু মোকাবিলায় সক্ষম একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সাধারণ জনগণকে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই বিজয় দিবসে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

প্রদর্শনী চলাকালে জাহাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌসদস্যরা দর্শনার্থীদের জাহাজের বিভিন্ন অংশ, সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের একদিন, মুক্তিযুদ্ধের বহুদিন

মঙ্গলবারের সকালটা শুরু হয়েছিল নীরব শ্রদ্ধা আর গভীর আবেগে। ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল ৯টা পেরিয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা। লাল-সবুজের আবরণে মাথা নত করে তাঁরা যেন ফিরে তাকাচ্ছিলেন ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত অথচ গৌরবময় দিনগুলোর দিকে।

এরপর ইতিহাসের পথে হাঁটা শুরু হয় নতুনভাবে। সদর রোডে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির নিজস্ব কার্যালয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের তথ্য, চিত্র ও দলিলপত্রের ২১তম প্রদর্শনী। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী এ আয়োজন যেন পরিণত হয় একটি জীবন্ত আর্কাইভে—যেখানে অতীত কথা বলে, স্মৃতি জেগে ওঠে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এ দেশের মানুষের স্মৃতিতে, চেতনায় তা বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাসের কাছে পৌঁছে দিতেই এমন আয়োজন জরুরি।”

প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারি সারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ—তিন শতাধিক বই আর তিন শতাধিক দুর্লভ আলোকচিত্র। কোথাও যুদ্ধের অভিযানের দৃশ্য, কোথাও প্রশিক্ষণের মুহূর্ত, কোথাও শহীদদের মুখ। ইতিহাসের নীরব ভাষা যেন ছবিতে ছবিতে কথা বলে।

এক কোণে রাখা গানবোটের কামানের গোলা আর শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসে ব্যবহৃত মাইনের খণ্ডাংশ দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা থমকে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে—এগুলো কি সত্যিই যুদ্ধে ব্যবহার হয়েছিল? উত্তরে ভেসে আসে ইতিহাসের নিরব সাক্ষ্য।

সম্মেলন কক্ষের পথে এগোলে দেখা মেলে রেডিও, সাইক্লোস্টাইল মেশিন, বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে স্থাপিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সচিবালয়ের মুক্তিযুদ্ধকালীন নথিপত্র। আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ে হাতে লেখা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান—কালির রেখায় রেখায় স্বাধীনতার শপথ।

প্রদর্শনীতে আরও রয়েছে চারটি বন্দুক, নৌ-কমান্ডোদের ব্যবহৃত পোশাক, মুক্তিযুদ্ধের পর বরিশালে নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য ‘বিজয় বিহঙ্গ’-এর নকশা। পাশাপাশি রাখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন বরিশাল থেকে প্রকাশিত পত্রিকা বিপ্লবী বাংলাদেশ এবং শান্তি কমিটির একটি চিঠি—ইতিহাসের দুই বিপরীত মুখ যেন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্রের সামনে ভিড় করে দাঁড়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। কেউ মোবাইলে ছবি তোলে, কেউ নীরবে দেখে, কেউ প্রশ্ন করে শেখে। ইতিহাস যেন পাঠ্যবইয়ের পাতা ছেড়ে নেমে আসে চোখের সামনে।

এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিচুর রহমান খান স্বপন, সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, বিজয় দিবস উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক সুশান্ত ঘোষ, সদস্যসচিব রবিউল ইসলামসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

দিন শেষে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এটি শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, এটি প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সেতুবন্ধন। বরিশালের এই একদিনে মুক্তিযুদ্ধ যেন আবার হেঁটে গেছে সদর রোডের বুক চিরে, ইতিহাস হয়ে উঠেছে জীবন্ত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫