পিরোজপুরে শুঁটকির রাজ্যে ব্যস্ততা, বছরে উৎপাদন ১০০ টনের বেশি

পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলীয়া গ্রামে শীতকাল শুরু হলেই জীবন্ত হয়ে ওঠে শুঁটকি পল্লী। নদী ও বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা এই পল্লী কচা নদীর বাঁশের মাচায় শুঁটকি শুকানোর দৃশ্য, শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা এবং বাতাসে ভেসে থাকা শুঁটকির গন্ধে মুখর থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের পাশে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে চিথলীয়া শুঁটকি পল্লী। এখান থেকে সংগ্রহ করা সামুদ্রিক মাছ দিয়ে তৈরি হয় নানা জাতের শুঁটকি। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন—প্রায় চার মাস শুঁটকি উৎপাদনের ভরা মৌসুম।
বর্তমানে পাঁচটি বাসা থেকে শুঁটকি উৎপাদন হয়। প্রতিটি বাসায় মৌসুমভেদে ১৫০–২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তারা মাছ পরিষ্কার, কেটে প্রস্তুত, লবণ পানিতে ধুয়ে বাঁশের মাচায় শুকানোর কাজ করে থাকেন। উৎপাদিত শুঁটকি বস্তাবন্দি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
শুঁটকির মধ্যে রয়েছে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, মধু ফ্যাপসা, চাপিলাসহ ৩০–৩৫ প্রজাতির মাছ। শীতকালে শুঁটকির মান ভালো থাকে এবং প্রতি কেজি দাম ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ী খালেক ব্যাপারি জানান, “আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে শুঁটকি তৈরি করি, কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করি না। এর ফলে চাহিদা সব সময় বেশি থাকে।”
পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, “শীতের শুরু থেকে প্রায় চার মাস শুঁটকি উৎপাদন চলে। উৎপাদন স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। মৎস্য অধিদফতর সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে। শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তদারকি ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়বে।”
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম









