বিষখালীর ভাঙনে হুমকিতে খাদ্যগুদাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

বামনা উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙনে ঝুঁকির মুখে পড়েছে সরকারি খাদ্যগুদাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসন প্রকল্প ও হাজারো মানুষের বসতভিটা। বিষখালী নদী-এর অব্যাহত ভাঙনে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপকূলীয় জেলা বরগুনা দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকলেও চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একমাত্র সরকারি খাদ্যগুদামটি বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত। সেখানে নিয়মিত দুই থেকে তিন হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ থাকে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে গুদামটি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায়ও সংকট তৈরি করতে পারে।

খাদ্যগুদামের পাশেই সরকারের নির্মিত আবাসন প্রকল্পে শতাধিক ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। নদীভাঙনের কারণে এসব পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই নিজেদের ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া চেঁচান ও কলাগাছিয়া সংলগ্ন পূর্ব সফিপুর এলাকায় প্রায় সাত হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এসব এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে জীবনযাপন করছেন।

ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, বামনা সদর আর রশিদ ফাযিল মাদরাসা এবং ১২ নম্বর বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে, রামনা ইউনিয়ন-এর বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গেছে। বহু পরিবার জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২টি পোল্ডারে মোট ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। বিশেষ করে বামনা লঞ্চঘাট, কলাগাছিয়া খাদ্যগুদাম এলাকা এবং দক্ষিণ রামনার কিছু অংশ সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনে মানুষ জমি ও ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা টেকসই হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য রুহুল আমিন শরিফ বলেন, নদীভাঙন এখন উপকূলীয় মানুষের নিত্যদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধানে এখনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকাত আরা জানান, ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে মো: আবদুল হান্নান প্রধান, বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, জানান যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে এবং নতুন প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় এই অঞ্চলকে রক্ষা করতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ছড়ালো সামাজিক মাধ্যমে

বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রির সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অফিসের এক কর্মচারীর নগদ টাকা নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়ার পরও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ‘অফিস খরচ’সহ বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধনের কাজ বিলম্বিত করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে ফেরদৌসী বেগম নামের এক মোহরারকে সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহণ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে দলিল সংক্রান্ত কাজের সময় সরাসরি অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যায়। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী দলিল নিবন্ধনের ফি ব্যাংক চালান বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌসী বেগম দাবি করেন, তিনি ফি বাবদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে কোন খাতে সেই অর্থ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

ঘটনার পর অফিসের কয়েকজন কর্মচারী ও দলিল লেখক সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকলনবিশ জানান, প্রতিটি দলিলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম চলে আসছে।

এ বিষয়ে মো. যুবায়ের, বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার, বলেন যে বিষয়টি তার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে পরে প্রয়োজনীয় মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে তন্ময় হালদার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বলেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হয়। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশালের সাংবাদিক অঙ্গনের নক্ষত্র মন্টু আর নেই

মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু, বরিশালের প্রবীণ সাংবাদিক, বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, আর নেই। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বরিশালের সাংবাদিক সমাজ, আইন অঙ্গন ও সামাজিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু। সম্প্রতি তার একটি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হলেও পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শনিবার এশার নামাজের পর আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতাল মাঠ-এ তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে তাকে নগরীর মুসলিম গোরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুতে বরিশাল প্রেসক্লাব তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় প্রেসক্লাবে কালো পতাকা উত্তোলন এবং সদস্যদের কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস-ও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা ও আইনপেশায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু। তিনি বরিশাল প্রেসক্লাব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ইংরেজি দৈনিক The Daily Observer-এর বরিশাল প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বরিশাল দেওয়ানি আদালতে সরকারের পক্ষে প্রধান আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, সামাজিক বাস্তবতা ও নানা সমস্যা-সম্ভাবনা তার লেখনীতে উঠে এসেছে। সাংবাদিকতা ও আইনপেশায় তার অবদান বরিশালের মানুষের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সহকর্মীরা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 বরিশালের আকাশে রহস্যময় আলো, জনমনে কৌতূহল

বরিশাল-এর আকাশে হঠাৎ দেখা মিলেছে রহস্যময় আলোর ঝলক, যা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা। শুক্রবার সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর দক্ষিণ আকাশে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল আলোর একটি রেখা দেখতে পান নগরবাসী। মুহূর্তেই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর বেলস পার্ক এলাকায় সন্ধ্যায় অনেক মানুষ অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই সময় আকাশে হঠাৎ উজ্জ্বল আলোর বিচ্ছুরণ দেখা যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিষয়টি সবার নজরে আসে এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোটি দেখতে অনেকটা দ্রুতগামী কোনো বস্তুর মতো ছিল। কয়েকজনের দাবি, এটি প্রায় এক মিনিটের মতো আকাশে দৃশ্যমান ছিল এবং পরে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।

ভিডিও ধারণকারী সুমন নামের এক যুবক বলেন, গোধূলির সময় হঠাৎ আকাশে তীব্র আলোর ঝলক দেখা যায়। এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি বলে জানান তিনি। অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ভিডিও ধারণ করেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম জানান, আলোর আকৃতি অনেকটা ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেটের গতিপথের মতো মনে হয়েছে। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেক ব্যবহারকারী ধারণা করছেন, বঙ্গোপসাগর এলাকায় কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা মহাকাশযান সংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রতিফলন হতে পারে এটি। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে রহস্যময় আলোর উৎস নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কখনও কখনও মহাকাশযান উৎক্ষেপণ, স্যাটেলাইটের গতিপথ, রকেট পরীক্ষার ধোঁয়া কিংবা বায়ুমণ্ডলের বিশেষ আলোক প্রতিফলনের কারণেও এমন দৃশ্য দেখা যেতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

ঘটনাটি নিয়ে বরিশালসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশালে বাড়ছে হাম আতঙ্ক, আরও দুই শিশুর মৃত্যু

বরিশাল বিভাগে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় বিভাগজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। এর মধ্যে শুধু শেবাচিম হাসপাতালেই প্রাণ হারিয়েছে ১৮ শিশু।

শনিবার সকালে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মৃত শিশুদের মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালী সদরের বাদরা এলাকার আব্বাসের ১০ মাস বয়সী ছেলে মোহাম্মদউল্লাহ এবং পাগলা এলাকার ইলিয়াসের সাত মাস বয়সী কন্যা আয়শা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ১১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১৭০ জন রোগী।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত এই হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে মোট এক হাজার ৭৬৯ জন রোগী। অন্যদিকে বিভাগজুড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৩৬৩ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বেড সংকট। শিশু ওয়ার্ডের কয়েকটি কক্ষে গাদাগাদি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে ডা. মো. লোকমান হাকিম, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, জানান যে সাম্প্রতিক সময়ে হাম সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

তিনি বলেন, শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে অনীহা ও সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক এলাকায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




৯ দিন পর ঢাকায় মিলল নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর খোঁজ

বরিশাল নগরী থেকে নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পর অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে ঢাকায়। পরিবারের দাবি, অভিমান করে বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিল সে। বর্তমানে মেয়েটি তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছে।

নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর নাম মুনিয়া আক্তার। সে বরিশাল নগরীর সাগরদী ধান গবেষণা সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় এ আর এস খান স্কুল-এর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই মুনিয়ার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।

শনিবার সকালে মুনিয়ার মামা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, মেয়েটি বর্তমানে ঢাকায় তাদের বাসায় রয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন যে সে নিরাপদে আছে।

মুনিয়ার বাবা মনির হাওলাদার জানান, মেয়েটি মায়ের কাছে স্বীকার করেছে যে অভিমান থেকেই সে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ থাকার সময় কয়েকদিন বরিশালেই এক বান্ধবীর বাসায় অবস্থান করেছিল সে। পরে শনিবার সকালে ঢাকায় তার মামার বাসায় যায়।

মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মা সুফিয়া খাতুন বলেন, পরিবারের সবাই তাকে অনেক স্নেহ করেন। পড়াশোনার বিষয়ে মাঝে মধ্যে বাবা শাসন করতেন, আর সেই অভিমান থেকেই হয়তো সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানান, মেয়েটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সে ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মেয়েটিকে ঢাকায় থেকে বরিশালে আনা হবে। পাশাপাশি সে কোথায় ছিল, কার সঙ্গে অবস্থান করেছে এবং কী কারণে বাসা ছেড়ে গিয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্যরা মেয়েটির নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




ইশতেহার বাস্তবায়নে নতুন লড়াই শুরু: তারেক রহমান

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী লড়াই শেষ হলেও এখন শুরু হয়েছে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।

শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় দলের নেতাকর্মীরা কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে কাজ করেছেন এবং জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতি আস্থা রেখে সমর্থন দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দলীয় ইশতেহার এখন দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার অর্থ হচ্ছে মানুষের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। সেই দায়িত্ব পালনে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে সুশাসন, নিরাপদ সমাজ ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ শুরু করেছে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে এবং শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পাবে।

রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এসময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকার সফল করতে সকলের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি ছিল মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম বড় মতবিনিময় সভা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশালে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ৯৮ সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত

বরিশাল বিভাগে হাম (Measles) রোগের সংক্রমণ আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৯৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ৮০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুধবার (৭ মে) বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ২৯ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত শিশুটির নাম আহাদ (৮ মাস)। তার পিতার নাম ইউসুফ। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকার বাসিন্দা। গত ৫ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৬ মে সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি হাম, নিউমোনিয়া, কনজাংটিভাইটিস এবং সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত ছিল।

বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে ১৫৮ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯৩ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলাতেও হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল সদর হাসপাতালে ১৩ জন, পটুয়াখালীতে ২৯ জন, বরগুনায় ৯ জন, ঝালকাঠিতে ৪ জন, পিরোজপুরে ৮ জন এবং ভোলায় ১ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ মে পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট ৪ হাজার ২৪৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ২৫ জন সন্দেহজনক এবং ৩ জন নিশ্চিত রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৮৫২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩ হাজার ৩৭৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভাগজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝুঁকিতে বরিশাল নগর ভবন, আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পুরোনো নগর ভবন এখন যেন নিজেই বড় ধরনের ঝুঁকির প্রতীক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় ১৯৮০-এর দশকে নির্মাণ শুরু হওয়া এ ভবনটি ১৯৯০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। পরে ২০০২ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে এখান থেকেই নগরবাসীর প্রশাসনিক সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন তলায় ভয়াবহ জরাজীর্ণ অবস্থা দৃশ্যমান। মেঝেতে কংক্রিটের বড় বড় অংশ খসে পড়েছে, ভেঙে গেছে দরজার গ্লাস, দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। বিশেষ করে বিম ও কলামগুলোতেও দুর্বলতার চিহ্ন দেখা যাওয়ায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে অফিস করতে হয়। হঠাৎ করেই ছাদ থেকে পলেস্তারা পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও নগরবাসীর সেবা কার্যক্রম বন্ধ না রেখে ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বিভিন্ন সেবার জন্য এই নগর ভবনে আসেন। ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, সাধারণ সেবাগ্রহীতারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, বর্তমান ভবনের অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন স্থানে কার্যালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি জানান, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত নিরাপদ স্থানে অফিস স্থানান্তর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। নতুন নগর ভবনের পরিকল্পনা ও নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।

জানা গেছে, নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় নতুন নগর ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নকশা অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় আট লাখ মানুষের নাগরিক সেবা প্রদান করছে সিটি করপোরেশন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ স্থানে কার্যক্রম স্থানান্তর না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নগরবাসীও।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাদির হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল ববি ক্যাম্পাস

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

কর্মসূচির শুরুতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পুরো কর্মসূচিতে বিচার দাবির বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

মানববন্ধন পরিচালনা করেন মো. ফরহাদ হোসাইন। এতে বক্তব্য দেন নিহত হাদির বোন মাসুমা হাদি, মো. বেলাল, আল ইমরান এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেন। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম বলেন, প্রকাশ্যে গুলি করে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এত সময় পার হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ঝুলে থাকায় জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এসময় নিহতের বোন মাসুমা হাদি আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমরা কান্না করতে আসিনি, আমরা বিচার চাইতে এসেছি। প্রকাশ্যে হত্যার পরও খুনিরা কীভাবে পালিয়ে গেল, তার জবাব রাষ্ট্রকে দিতে হবে।”

তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিচার প্রক্রিয়ায় গতি এনে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫