তারেক রহমানের বরিশাল সফর ৪ ফেব্রুয়ারি

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশালে নির্বাচনী সফরের নতুন তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশাল সফরে আসবেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওইদিন বেলা ১২টায় বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।

শিরিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক সফরের শিডিউল সমন্বয়কারী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন তারিখ নিশ্চিত করেছেন। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির তারিখই চূড়ান্ত। ওইদিন তারেক রহমান যশোর থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। আকাশপথে তাঁর যাতায়াতের সম্ভাবনা থাকলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

তিনি আরও জানান, তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিভাগীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দসহ সাংগঠনিক আট জেলার নেতাদের বিষয়টি অবহিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর গত ২৬ জানুয়ারি তারেক রহমানের বরিশাল সফরের কথা থাকলেও তা একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে তারিখ পিছিয়ে ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও পরে সেটিও স্থগিত করা হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা করে বিএনপি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সর্বশেষ বরিশাল সফর করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার তিন আসনে এগিয়ে বিএনপি জোট, জমজমাট নির্বাচনী লড়াই

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলার চারটি আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মিছিল, গণসংযোগ ও প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের অলিগলি। চায়ের দোকান, বাজার ও জনসমাগমস্থলে ভোটই এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। কে জিতবে, কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি এবং কে সংসদে গেলে ভোলাবাসীর সমস্যা-দুর্দশার কথা বলবে—এসব নিয়েই চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। স্থানীয় জনমত বিশ্লেষণে ভোলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

ভোলা-১ (সদর উপজেলা):
এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওবায়দুর রহমান, এনপিপির মো. মিজানুর রহমান এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান।
দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর জোটের সব নেতাকর্মী এখন গরুর গাড়ি প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আন্দালিব রহমান পার্থই এগিয়ে থাকতে পারেন। ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।

ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন):
এই আসনে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রভাবশালী। এবারের নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমকে স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ এগিয়ে রাখছেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও এলাকায় সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম সাংগঠনিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নারী ভোটার ও নির্দিষ্ট ভোটব্যাংককে টার্গেট করে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। অতীতে একাধিকবার এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। স্থানীয় ভোটারদের মতে, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটার সমর্থনের বিচারে ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনই এগিয়ে রয়েছেন। জামায়াত সমর্থিত বিডিপির প্রার্থী মো. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি প্রতীক) তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপিই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোলা-৪ (চরফ্যাসন-মনপুরা):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এখানে লড়াই তুলনামূলকভাবে জমলেও বিএনপি প্রার্থী সামান্য এগিয়ে থাকতে পারেন।

সামগ্রিকভাবে স্থানীয় ভোটারদের মতামত ও মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে ভোলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি জোটকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তের ভোটের হিসাব-নিকাশই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পোস্টারবিহীন নির্বাচন, বিপাকে বরিশালের ছাপাখানা ব্যবসায়ীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার দেশে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ভরা মৌসুমেও বরিশালের ছাপাখানাগুলোতে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। ফলে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ছাপাখানার মালিক ও শ্রমিকরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর ফকির বাড়ি রোড এলাকার বিভিন্ন ছাপাখানা ঘুরে দেখা যায়, যেখানে একসময় নির্বাচন মৌসুমে দিনরাত ব্যস্ততা থাকত, সেখানে এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। অনেক ছাপাখানায় শ্রমিকসংখ্যা থাকলেও কাজ নেই বললেই চলে।

ছাপাখানা মালিক ও শ্রমিকরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই বিপুল পরিমাণ কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণ কিনে মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ পোস্টার ছাপার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০টি ছাপাখানা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন এলেই এসব ছাপাখানায় ২৪ ঘণ্টা কাজ চলত। কিন্তু এবার পোস্টার ছাপার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ ছাপাখানা কার্যত বন্ধের পথে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউ আর্ট প্রেসের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, পোস্টারবিহীন নির্বাচনের কারণে তিনি বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে অন্যান্য বই-খাতা ছাপার কাজও কমে গেছে। ফলে শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে ছাপাখানা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সাধারণত লাখ লাখ পোস্টারের অর্ডার পাওয়া যেত। এখন কেবল ভিজিটিং কার্ড ও রসিদের মতো ছোটখাটো কাজ হচ্ছে, যা দিয়ে একটি ছাপাখানা চালানো সম্ভব নয়। পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

শ্রমিকদের অবস্থাও একই রকম হতাশাজনক। নিউ আর্ট প্রেসের শ্রমিক শাহিন বলেন, আগে নির্বাচন এলেই দিনরাত কাজ করে বাড়তি আয় হতো। এখন কাজ না থাকায় অনেকেই বিকল্প পেশায় যাওয়ার কথা ভাবছেন।

মানহা অফসেট প্রেসের শ্রমিক ছাব্বির বলেন, আগে নির্বাচন মৌসুমে বিশ্রামের সময়ই পাওয়া যেত না। এখন উল্টো কাজ না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে—মালিক কতদিন বেতন দিতে পারবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।

বরিশাল ছাপাখানা মালিক সমিতির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, ছাপাখানার ব্যবসা মূলত পোস্টারকেন্দ্রিক। নির্বাচন মৌসুমে পোস্টার ছাপিয়ে যে আয় হতো, তা দিয়েই বছরের অনেক খরচ মেটানো যেত। এখন লাভ তো দূরের কথা, ব্যাংক ঋণ নিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ভ্যাট, ট্যাক্স, দোকান ও গোডাউন ভাড়া, শ্রমিকদের বেতন—সব মিলিয়ে ছাপাখানা মালিকরা চরম চাপে আছেন। ডিজিটাল প্রচারণার প্রভাবের পাশাপাশি পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এই খাতকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাইবার মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা কারাগারে

সাইবার আইনে দায়ের করা মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে আসামিকে জেল হাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্ল্যাকমেইল, সাইবার মাধ্যমে হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক এক সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাকে অফিস কক্ষে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগও মামলার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ওঠায় জামিনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করে জামিন নামঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে: মেজর হাফিজ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ভোলার লালমোহন উপজেলার ৬ নম্বর ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের পেশকারহাট বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর হাফিজ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনের নামে প্রহসন করে ক্ষমতায় থেকে একটি গোষ্ঠী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দেশের উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার আমলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাংলাদেশ অন্তত দেড় দশক পিছিয়ে পড়েছে। বিদেশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজর হাফিজ উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বলেন, ধর্মের নামে যেন কেউ প্রতারণার শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে লালমোহন ও তজুমদ্দিন এলাকায় কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাশত করা হবে না। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করলে জনগণ তাঁর কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করতে পারবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পুলিশ ফাঁড়িতে তালাবদ্ধ হয়ে থাকছে সদস্যরা: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নারী কর্মী ও সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রহমতপুর বাজার এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তিনি এমন সব এলাকায় গণসংযোগ করছেন, যেখানে আগে কোনো প্রার্থী পৌঁছাননি। ভোটারদের কাছ থেকেই তিনি শুনেছেন—তাদের এলাকায় এই প্রথম কোনো প্রার্থী সরাসরি এসেছেন। এভাবেই তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা নিয়ে। তারা জানতে চাইছে—ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে কি না এবং ভোট দেওয়ার পর এলাকায় নিরাপদে থাকতে পারবে কি না। এই অনিশ্চয়তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের অভিযোগ, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এলাকায় সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তারা মূলধারার রাজনৈতিক কর্মী নয়; বরং হাইব্রিড অপরাধী ও গ্যাংস্টার। এরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করছে এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে বিপদের হুমকি দিচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, মুলাদীর একাধিক এলাকায় তাঁর জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নারী ভোটার ও নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, এলাকা ছাড়া করা ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকেও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোটারদের ভয় দেখানো চক্রের সদস্যদের নাম ও ছবি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বেআইনি তৎপরতা দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুলাদীর বাটামারা ও ছবিপুর এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে দরজা-জানালা বন্ধ করে ফাঁড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর মতে, যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ছাড়া এসব এলাকায় নির্ভয়ে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এই আসনের অনেক ভোটকেন্দ্রই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত ব্যবহারের এখতিয়ার সরকারের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: ফয়জুল করীম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল সদর উপজেলায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভয়ভীতি, হয়রানি ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ চলমান থাকলে জনগণের প্রত্যাশিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে গ্রেপ্তারসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্বাভাবিক করে তুলছে।

ফয়জুল করীম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে সরকার ও প্রশাসনকে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছাড়া কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠে সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার পরও যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাররা দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়—এই বাস্তবতা প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলুম, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও গুন্ডামিমুক্ত রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন এই দলের প্রতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেরপুরে প্রাণহানির ঘটনা, ভোলায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং বরিশালে ভয়ভীতির পরিবেশকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা কামনা করেন।

নারী ভোটারদের বিষয়ে ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামে নারীদের মর্যাদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণেই নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ হাতপাখা প্রতীকের প্রতি আস্থাশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে নারী ভোটারদের এই সমর্থন আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি মনে করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ না থাকায় মাঠে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তবে শান্তি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে হাতপাখা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দুমকিতে যুবদলের নির্বাচনী কর্মশালা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-১ (মির্জাগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালী সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরই ধারাবাহিকতায় দুমকি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কর্মশালা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে দুমকি উপজেলা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী প্রচার টিমের সমন্বয়ক সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান রুমী।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচনী প্রচার টিমের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট এবিএম মহসিন বিশ্বাস, খন্দকার মো. রিয়াজ, অ্যাডভোকেট এম. এ. মজিদ (মানিক) এবং সাইফ খান মিজান। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় যুবদল, বিএনপি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী টিমের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মশালায় অংশ নেন।

আলোচনায় বক্তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, কেন্দ্রভিত্তিক শক্তিশালী টিম গঠন, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে প্রচারণা পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীলভাবে মাঠে কাজ করাই যুবদলের প্রধান দায়িত্ব।

কর্মশালায় আরও বলা হয়, পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের পক্ষে জনমত ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন সংগঠিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমে সেই জনসমর্থনকে ভোটে রূপান্তর করা। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ড ও কেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

শেষে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সঠিক কৌশল, দলীয় ঐক্য এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের একটি এলাকায় ওই নারী নিজ বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে সংঘবদ্ধভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরিবার জানায়, ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ঘটনার সময় নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।

ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর স্বামী বুধবার বিকেলে রাজাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সন্দেহভাজন চার যুবককে চিহ্নিত করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মঠবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল সিকদার (২৩), মো. রাহাত হোসেন খান (১৯), মো. জহির রায়হান ব্যাপারী (২০) এবং মো. সাগর হোসেন হাওলাদার (২০)। বুধবার রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। তিনি বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট ও তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত সত্যতা আরও স্পষ্ট হবে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চার যুবককে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একজন অন্তঃসত্ত্বা ও প্রতিবন্ধী নারীর ওপর এমন নৃশংসতা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠি জামায়াতের কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আব্দুল করিম শিকদারের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজাপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

বিকেলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি রাজাপুর বাইপাস সড়কসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা বন্ধ, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কবির হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় একজন কর্মীর ওপর হামলা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করার শামিল। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বানী পত্রিকার প্রকাশক অ্যাডভোকেট শাহ আলম, এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক শাকিল আহমেদ, মুখ্য সমন্বয়ক তানিম আহমেদ, এনসিপির যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক বদিউন নবি পলাশ এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি এনামূল ইসলাম। বক্তারা বলেন, হামলার ঘটনার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এখনো গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত বিএনপির যুবদল নেতা ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বাচ্চু হাওলাদারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হামলার ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমাবেশে নেতারা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সহিংসতা ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হলে সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের সময় এ ধরনের হামলা রাজাপুরসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম