বেহাল বেতাগী–মির্জাগঞ্জ সড়ক: দুর্ঘটনা ঠেকাতে মাঝরাস্তায় কলাগাছ

বেতাগী–মির্জাগঞ্জ সড়কের ভয়াবহ বেহাল অবস্থায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে সড়কের মাঝখানেই কলাগাছ রোপণ করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ২৫ নম্বর বাসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের মাঝখানে একটি কলাগাছ দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার ওই অংশে বড় ধরনের দেবে যাওয়া ও খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় যানবাহনগুলো দুই পাশ ঘেঁষে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে সড়কের এই অংশটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তার মাঝখান দেবে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এতে অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। রাতের বেলায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, বেতাগী–মির্জাগঞ্জ সড়কটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সড়ক। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এমন নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অটোরিকশাচালক অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী গাছ ব্যবসায়ী মোতালেব প্যাদা ও শিবু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর অবৈধভাবে ভারী ট্রাকে গাছ লোড ও আনলোড করছেন। ভারী ট্রাকের লাগাতার ওঠানামার কারণেই রাস্তার মাঝখান ও দুই পাশ ভেঙে পড়ে বর্তমান ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে সড়কের মাঝখানে কলাগাছ রোপণ করে চালকদের সতর্ক করছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও অবৈধভাবে ভারী যান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শহীদ ওসমান হাদির বোন

ঝালকাঠিতে শহীদ শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি-এর রাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তার বোন মাছুমা বিন হাদি ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নলছিটি পৌর শহরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান বিন হাদি ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তার আকস্মিক প্রয়াণের পর এই আদর্শকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পরিবারের কাউকে নিতে হবে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, মাছুমা বিন হাদির মাধ্যমে শহীদ হাদির অসমাপ্ত রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ইনসাফের রাজনীতি চালু রাখা সম্ভব হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. নাজমুল হাসান টিটু, সাথী আক্তার, এম এন মামুন, আসিফ জিয়া, আব্দুর রাজ্জাক, মো. সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ মিরাজ, মো. আহাদ, ওমর ফারুক এবং আবু হানিফসহ অন্যান্যরা। তারা বলেন, মাছুমা বিন হাদি প্রার্থী হলে তিনি ইনসাফের পক্ষে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে শহীদ হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবেন।

এ বিষয়ে মাছুমা বিন হাদি সাংবাদিকদের বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি সব সময় ইনসাফের কথা বলতেন। তার আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছেন। সেই পথ এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।”

শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন দেশের রাজনীতিতে ইনসাফ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নির্ভীক কণ্ঠ, যিনি অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার সেই আদর্শকে সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক রূপ দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে ডেভিল হান্ট অভিযানে রাজনৈতিক সাংবাদিক গ্রেপ্তার

বরিশালে ডেভিল হান্ট অভিযান চলাকালীন স্থানীয় এক সাংবাদিক ও উপজেলা রাজনৈতিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম হাওলাদার, যিনি উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার উজিরপুর প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্থানীয় সূত্র এবং উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে নুরুল ইসলাম হাওলাদারকে অভিযানকালে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারির বিষয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, নুরুল ইসলাম হাওলাদার উজিরপুরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। এই গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সিলেটে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে প্রয়াত ঢাকা কোচ মাহবুব আলী জাকি

সিলেটে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলাকালীন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন।

ঘটনাটি ঘটে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা অনুশীলনে ব্যস্ত থাকাকালীন তিনি আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিতরা সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর দিয়ে চেষ্টা করেন, এরপর দ্রুত তাকে সিলেটের আল হারামাইন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাহবুব আলী জাকি দেশের ক্রিকেটে বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়রা সহকারী কোচের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিপিএলের মাঠে খেলোয়াড়রা খেলতে থাকলেও দলের সব সদস্যের মনে শূন্যতা ও বেদনা বিরাজ করছে।

মাহবুব আলী জাকির মৃত্যু সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটাঙ্গনে ঘটে যাওয়া অন্য মর্মান্তিক ঘটনার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। এর আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগ চলাকালীন বরিশাল বিভাগের ফিজিও হাসান আহমেদ মাঠে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।

ঢাকার প্রথম ম্যাচের আগেই অভিজ্ঞ কোচের আকস্মিক প্রয়াণ পুরো ক্রিকেট পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রয়াণ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক শূন্যস্থান হিসেবে মনে রাখা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনায় আলু চাষে ভাটা, বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

বরগুনা জেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সার, কীটনাশক ও বীজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংরক্ষণের সমস্যা—জেলায় আলুর জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় উৎপাদনের পর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের মধ্যে আলু উৎপাদনে বরগুনার অবস্থান তৃতীয়। গত বছর যেখানে জেলায় ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, এ বছর তা কমিয়ে ৯৪৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বরগুনা সদর উপজেলায় ১২০ হেক্টর, পাথরঘাটায় ৫৬২, বামনায় ৪২, বেতাগীতে ১৩২, আমতলীতে ১৯ এবং তালতলীতে ৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৬২৫ টন।

এদিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৫৭০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে পাথরঘাটায় সবচেয়ে বেশি ৩৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ বাকি রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ না পাওয়া এবং সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় চাষ সম্প্রসারণে আগ্রহ কমছে।

সরেজমিনে পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, নারী-পুরুষ মিলিয়ে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। পুরুষরা জমি প্রস্তুতের কাজ করছেন, আর নারীরা বীজ বপনে যুক্ত রয়েছেন। তবে অনেকেই জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি।

কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষক সুলতান ফকির জানান, প্রতি বছর ধানের পাশাপাশি আলু চাষ করলেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। স্থানীয় বাজার থেকে বেশি দামে সার ও ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

একই এলাকার নারী কৃষক হেনারা বেগম বলেন, সার সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে সার না পাওয়ায় জমির সব অংশে আলুর গাছ সমানভাবে ওঠেনি। গত বছর এক একর জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার ভালো দামের আশায় আবার চাষ করেছেন, তবে দাম না পেলে এবারও লোকসানের শঙ্কা রয়েছে।

আরেক কৃষক মো. মুসা অভিযোগ করেন, প্রতি বছরই সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহে সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ না পাওয়ায় অনেক সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কথায় চাষাবাদ করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক মো. রাহাত বলেন, উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে একসময় কৃষকরা বাধ্য হয়ে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

কৃষকদের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে তারা আশাবাদী। আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কোনো বেসরকারি উদ্যোক্তা এগিয়ে এলে প্রশাসনিকভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত দামের বেশি দামে সার বা কীটনাশক বিক্রির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাথরঘাটা এলাকায় বেশি আলু চাষ হওয়ায় সেখানে সার বরাদ্দও তুলনামূলক বেশি দেওয়া হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিভে গেল চার প্রাণ, ভোলায় শোকের ছায়া

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় নেমে এসেছে গভীর শোক। নিহতদের সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য এবং অধিকাংশই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামগুলোর আকাশ-বাতাস।

নিহতরা হলেন—লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের কাজীরাবাদ গ্রামের সেরাজুল হকের ছেলে আব্দুল গনি (৩৫), একই উপজেলার কালু খাঁনের ছেলে মো. সাজু (৪৭), গজারিয়া ইউনিয়নের কচুয়াখালী গ্রামের মো. মিলনের স্ত্রী রিনা আক্তার (৩৫) এবং চরফ্যাশন উপজেলার আহম্মেদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামের মো. হানিফ (৬০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে চরফ্যাশনের ঘোষেরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি। পথে বোরহানউদ্দিনের দেউলা ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে রাতের বেলা চাঁদপুরের হরিণা এলাকায় পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে লঞ্চটি। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির বরিশাল-ঝালকাঠিগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি সজোরে ধাক্কা দেয়।

সংঘর্ষে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটির এক পাশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ডেকে ঘুমিয়ে থাকা চার যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও কয়েকজন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত রাজমিস্ত্রি আব্দুল গনি ছিলেন তিন সন্তানের জনক। ঋণের বোঝা সামাল দিতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তিনি। তার বৃদ্ধ মা শাহানুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেটা ছাড়া সংসার চলবে কেমনে? এখন আমার নাতি-নাতনিদের কে দেখবে?’

গনির স্ত্রী বলেন, ঋণ করে টিনের ঘর তুলেছিলেন। সেই ঋণ শোধ করতেই স্বামী ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একইভাবে মো. সাজুর বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। কৃষিকাজ ও দিনমজুরির মাধ্যমে সংসার চালানো সাজু ছোট মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ করতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন বলে জানান তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘স্বামীকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

নিহতদের স্বজনরা এ দুর্ঘটনাকে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ফল বলে দাবি করে দোষীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মরদেহ শনিবার ভোরে নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




শুঁটকির স্বর্ণখনি চিথলিয়া, বছরে উৎপাদন শতাধিক টন

পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে শুঁটকি উৎপাদনের এক ব্যস্ত কর্মভূমি। কচা নদীর তীর ঘেঁষে বাঁশের মাচায় সারি সারি শুকানো মাছ, বাতাসে শুঁটকির পরিচিত গন্ধ আর শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণায় শীত মৌসুম এলেই প্রাণ ফিরে পায় এই শুঁটকি পল্লী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী ও বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় সদর উপজেলার পাড়েরহাট এলাকায় গড়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর। সেই বন্দরের আশপাশেই চিথলিয়া গ্রামে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এই শুঁটকি পল্লী। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে শুঁটকি উৎপাদন ও বাণিজ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের দক্ষিণ পাশে কচা নদীর তীরে পাঁচটি বাসাকে কেন্দ্র করে এই পল্লী গড়ে উঠেছে। এখানে ৫ থেকে ৭ জন শুঁটকি ব্যবসায়ী এবং ১৫০ থেকে ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন। কেউ মাছ সংগ্রহ ও পরিষ্কার করছেন, কেউ বড় মাছ কাটছেন, আবার কেউ লবণ পানিতে ভিজিয়ে বাঁশের মাচায় মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুকানো শুঁটকি বস্তাবন্দি করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানোর জন্য।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে একটি বাসা থেকে এই শুঁটকি কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে তা বিস্তৃত হলেও বর্তমানে স্থায়ীভাবে পাঁচটি বাসায় শুঁটকি উৎপাদন হচ্ছে। এখানে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, চাপিলা, মধু ফ্যাপসাসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির মাছ শুঁটকি করা হয়। শীতকালে এসব মাছ সাগরে বেশি ধরা পড়ে এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুঁটকির মানও ভালো থাকে।

শুঁটকির মানভেদে প্রতি কেজি শুঁটকি ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোনো ধরনের রাসায়নিক বা কীটনাশক ব্যবহার না করায় এখানকার শুঁটকি নিরাপদ খাদ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শুঁটকি তৈরি করা হয়। ভালো মানের কারণে মোকামে আমাদের শুঁটকির চাহিদা বেশি।

অপর ব্যবসায়ী আলী সরদার জানান, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে জেলেরা সরাসরি মাছ নিয়ে আসেন। সেখান থেকেই শুঁটকির জন্য মাছ সংগ্রহ করা হয়। নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় এখানকার শুঁটকি ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।

চার বছর ধরে এখানে কাজ করা শ্রমিক মো. ইব্রাহিম মুন্সি বলেন, রোদে শুকিয়ে পরিষ্কারভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয় বলেই এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী শাজাহান হাওলাদার বলেন, মৌলিক কিছু অবকাঠামো সুবিধা যেমন—টিউবওয়েল, ছোট সেতু ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলে এই শিল্প আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এই শুঁটকি পল্লী থেকে প্রতিবছর ১০০ টনেরও বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই খাতের উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত জানান, শীত মৌসুমে প্রায় চার মাস শুঁটকি কার্যক্রম চলে। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনাও রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তদারকি বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এখানকার শুঁটকি দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাম্পার ফলনেও লোকসানে বরিশালের সবজি চাষিরা

বরিশাল জেলায় চলতি শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকেরা। মাঠ পর্যায়ে উৎপাদিত সবজি অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হলেও শহরের বাজারে সেই সবজিই বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দামে।

জেলার বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, আগৈলঝাড়া ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাইকারদের কাছে ফুলকপি বিক্রি করছেন মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা, বাঁধাকপি ৬ থেকে ৮ টাকা এবং শিম ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। এত কম দামে বিক্রি করে অনেক কৃষকই উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না।

বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল খালেক জানান, চলতি মৌসুমে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী সবজির দাম না বাড়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেকেই ঋণের টাকা শোধ করতে পারবে কিনা, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন।

অন্যদিকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ পর্যায়ে কম দামে কেনা সেই সবজিই খুচরা বাজারে দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝেও ক্ষোভ বাড়ছে।

একজন ক্রেতা বলেন, কৃষকেরা যদি এত কম দামে সবজি বিক্রি করেন, তাহলে আমাদের কেন বেশি দামে কিনতে হবে—এটা বোঝা যাচ্ছে না। মাঝখানে কারা লাভ করছে, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য, পরিবহন সংকট এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবের কারণেই কৃষক ও ভোক্তার দামের মধ্যে এত বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মামুনুর রহমান বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষক বাজার চালু, পাইকারি বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি এবং কৃষক সমবায় গড়ে তোলা গেলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাম্পার ফলনের প্রকৃত সুফল যদি কৃষকের ঘরে না পৌঁছায়, তাহলে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে ১টি আসনও ছাড়বেন না ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বরিশালের ছয়টি আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা ও প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। সমমনা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আট-দলীয় জোট গঠনের আলোচনা থাকলেও বরিশালের সব আসন নিজেদের পক্ষে রাখতে অঙ্গীকার করেছে ইসলামী আন্দোলন।

বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর ও বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জানান, “বরিশাল আমাদের জন্মভূমি এবং ইসলামী আন্দোলনের ঘাঁটি। দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ভালো। আমরা এখানে কোনো আসন ছাড়তে চাই না। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দুটি আসনে নির্বাচন করব। তবে জোট হলে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতার সম্ভাবনা আছে। যেখানে জামায়াত বা অন্য দল শক্তিশালী, সেখানে আমরা ছাড় দিতে পারি।”

সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ আসনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৃতীয় হন এবং প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ২৭ হাজারের বেশি ভোট পান। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট পান।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসেন হেলাল জানিয়েছেন, আট-দলীয় ইসলামী জোটে এখনও আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলে পরবর্তী নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের ছয়টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের ভোটভিত্তি জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি। ২০০১ সালে বরিশালে ইসলামী আন্দোলন ১১.৩০ শতাংশ ভোট পায়। ২০০৮ সালে ১১.৬০ শতাংশ ভোট পান। ২০১৮ সালে বরিশাল সদর আসনে ২৭ হাজার ৬২ ভোট প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে প্রার্থীর ভোটভিত্তি প্রায় ৯.২০ শতাংশ। মোটমাটিভাবে বরিশাল বিভাগে ইসলামী আন্দোলনের গড় ভোটের হার ৮–১২ শতাংশের মধ্যে, যা জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরগুনায় নদীভাঙন: সরকারি আবাসন ও খাদ্যগুদাম ঝুঁকিতে

 

বরগুনার বামনা উপজেলায় পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর ভাঙনে সরকারি আবাসন প্রকল্প ও উপজেলার একমাত্র খাদ্যগুদাম বিলীন হওয়ার পথে। নদী ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে ফসলি জমি, বসতঘর এবং ভিটেমাটি হারিয়েছে শত শত পরিবার। নদীর দুই তীরের হাজারো মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে দিনযাপন করছেন।

জেলার বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া ও দক্ষিণ রামনা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এছাড়া বরগুনা জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর ভাঙনের কারণে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে অস্থায়ী রিং বাঁধ নির্মাণ করেছেন। তবে এটি স্থায়ী নয়। স্থানীয়রা দাবি করছেন, জিও বালুর বস্তা ফেলে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা হোক।

বরগুনা পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২টি পোল্ডারে ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে দুই কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত। ইতোমধ্যেই ৪৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ নির্মাণকাজ আরএডিপি প্রকল্পের অর্থায়নে সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়া ১৪ দশমিক ১৬০ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান। আগামী দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বরগুনা জেলা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, ঝড় বা জোয়ারে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। তাই বাঁধ মেরামতের পাশাপাশি উচ্চতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান জানান, ভাঙনকবলিত স্থানে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। অর্থ বরাদ্দ পেলে নতুন স্থানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫