১৮ বছর ধরে হাজারো শালিকের নির্ভরতার নাম পাথরঘাটার আব্দুল হক

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তালতলা চত্বরে প্রতিদিন ভোর হলেই চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রমী মানবিক দৃশ্য। সকাল ছয়টা বাজতেই আব্দুল হকের ছোট দোকানের সামনে জড়ো হয় ৮ থেকে ১০ হাজার শালিক পাখি। আশপাশের গাছের ডাল ও বিদ্যুতের খুঁটিতে বসে কিচিরমিচির শব্দে যেন তারা অপেক্ষা করে প্রিয় মানুষটির জন্য।

২০০৭ সাল থেকে টানা ১৮ বছর ধরে নিজের উপার্জনের অর্থ থেকেই এসব শালিক পাখির খাবারের ব্যবস্থা করে আসছেন আব্দুল হক। কখনো গম, কখনো চাল, আবার কখনো ডালভাত কিংবা রুটি—যা থাকে, তাই ভাগ করে নেন পাখিদের সঙ্গে। অনেক সময় কয়েক কেজি আটা দিয়ে আলাদা করে রুটি বানিয়ে কুচিয়ে দেন শুধু শালিকদের জন্য। এই কাজে তার কোনো আর্থিক লাভ নেই, আছে কেবল ভালোবাসা ও মানসিক প্রশান্তি।

স্থানীয়রা জানান, কোনো কারণে একদিন খাবার দিতে দেরি হলে বা না দিতে পারলে পাখিরা দোকানের সামনে এসে কিচিরমিচির করে তাকে খুঁজতে থাকে। এলাকাবাসীর মতে, পাখিরাও মানুষকে চিনতে পারে—আর আব্দুল হকের মতো মানবিক মানুষ বর্তমান সময়ে খুবই বিরল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শালিক পাখির সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষজন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শালিক পাখি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তারা ফসলের ক্ষেতে পোকামাকড় খেয়ে কৃষকদের কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সহায়তা করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এলাকার বাসিন্দা আব্বাস বলেন, “একসময় আব্দুল হক দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকায় পাখিদের অস্থির আচরণ দেখেই বোঝা গিয়েছিল তিনি অনুপস্থিত। যেন তার অনুপস্থিতিতেই পাখিদের সঙ্গে গভীর বন্ধনের নিঃশব্দ আর্তনাদ প্রকাশ পেয়েছিল।”

আব্দুল হক বলেন, “২০০৭ সাল থেকে নিজের টাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার শালিক পাখিকে খাবার দিচ্ছি। ওরা আমার পরিবারের মতো। আমি না থাকলেও যেন কেউ তাদের অভাব পূরণ করে—এই কামনাই করি।”

পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. অরবিন্দ দাস বলেন, “আব্দুল হকের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। নিজের অর্থে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পাখিদের খাবার দেওয়ার বিষয়টি বর্তমান সময়ে বিরল উদাহরণ। ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সহায়তার সুযোগ তৈরি হলে তাকে সহযোগিতা করা হবে, যাতে তিনি এই মহৎ কাজটি চালিয়ে যেতে পারেন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 




পাথরঘাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় কৃষক দল নেতা নিহত

বরগুনার পাথরঘাটায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মারুফ চৌধুরী (৩৮) নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেওয়ার পথে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া এলাকায় তিনি মারা যান।

নিহত মারুফ চৌধুরী পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের পাথরঘাটা প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর মেজো ছেলে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে একা মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন মারুফ। বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে পাথরঘাটা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন এলাকায় তিনি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে বরিশালে পৌঁছানোর আগেই পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের চাচা ও উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মারুফ চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে। মোটরসাইকেলটি অন্য কোনো যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল নাকি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে মারুফ চৌধুরীর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি। তার মৃত্যুতে পাথরঘাটার রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 




বেতাগীতে বেহাল সড়কে কলাগাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ

বরগুনার বেতাগীতে বেহাল দশায় থাকা বেতাগী-মির্জাগঞ্জ-পটুয়াখালী সড়কের বড় গর্তের প্রতিবাদে স্থানীয়রা প্রতিবাদী উদ্যোগ হিসেবে সড়কের ওপর কলাগাছ রোপণ করেছেন। বছরের যে কোনও সময়ে যানবাহন ও সাধারণ যাতায়াতকারীরা এই সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের জুনে বেতাগী বাসস্ট্যান্ড থেকে পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়কের পুনঃসংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৭২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করে।

যদিও কাজ শেষ হয়েছে, গত বর্ষার অতিবর্ষণের কারণে সড়কে পানি জমে ছোট-বড় একাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা শেষে গর্তগুলো আরও বড় হয়ে গেলে চলাচলে সমস্যা বেড়ে যায়। গাড়িচালক ও সাধারণ যাতায়াতকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সরজমিনে দেখা গেছে, বেতাগী উপজেলার বাসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কের ওপর কয়েক সপ্তাহ ধরে কলাগাছ রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, “আমরা প্রতিবাদ করলেও এখনো কেউ বিষয়টি দেখছে না।” শিশু শিক্ষার্থীরা জানান, “এ এলাকায় অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, তাই ভয়ে রাস্তা পার হতে হয়।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের তদারকবিহীন নির্মাণ, নিম্নমানের পাথর ও কাদা মিশ্রিত বালি ব্যবহার এবং সামান্য বিটুমিন মিশ্রণে সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। খান ইন্ডাস্ট্রিয়ালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহফুজ খান জানান, কাজের ৬০ ভাগ মির্জাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বাকি ৪০ ভাগ বেতাগী পৌরসভার মেয়রের তত্ত্বাবধানে হয়েছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় জানিয়েছেন, সড়ক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আরিচায় ড্রেজার পাইপ গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা এলাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজার পাইপ বয়া সংরক্ষিত নতুন গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে গুদামে আগুন লেগে টিনশেডসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুদামে শ্রমিকরা ওয়েলডিং কাজ করছিলেন। অসাবধানতাবশত ওয়েলডিংয়ের স্ফুলিঙ্গ ড্রেজার পাইপ বয়ার পাশে পড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তিনজন গুরুতর আহত হন, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নবগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজিব বলেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সময় লাগবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুর-১: বিএনপির নতুন প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন

পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনদিন আগে ঘোষিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার শারীরিক অসুস্থতার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারায় এই পরিবর্তন করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে আলমগীর হোসেনকে মনোনয়ন দেন। জেলা বিএনপি সদস্যরা এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

মনোনয়ন পাওয়ার পর আলমগীর হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন নি:স্বার্থভাবে বিএনপির রাজনীতি করেছি। দলকে জয়ী করে আসন উপহার দিতে চাই।” এদিন পিরোজপুর ও জিয়ানগরে আনন্দ মিছিলও বের করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 




১০ মামলার আসামি মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেপ্তার

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে স্বামী হত্যাসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাসভবন থেকে সাবিনা ইয়াসমিনকে অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। সাবিনা ২০২৪ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু পরাজিত হন।

বানারীপাড়া মডেল থানার ওসি হেলাল উদ্দীন জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। সাবিনার বিরুদ্ধে আদালতে ইতিমধ্যে স্বামী হত্যার একটি মামলা রয়েছে, যা জামিনে ছিল। এছাড়া ৯টি মামলায়ও তিনি অভিযুক্ত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় শুষ্ক মৌসুমেও থামছে না নদী ভাঙন, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও বরগুনার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর ভাঙন থামছে না। শুষ্ক মৌসুমেও নদীতীরের ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে হাজারো পরিবার। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে, ফলে ফসলি জমি, বসতঘর ও ভিটেমাটি হারিয়েছে শত শত পরিবার।

জেলার বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রাম ও দক্ষিণ রামনা এলাকায় বিষখালী নদীর বাঁধ ভেঙে বিলীন হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে পুরো বাঁধ নদীতে বিলীন হতে পারে। অনেক স্থানে সাময়িক রিং বাঁধ নির্মাণ হলেও তা জোয়ারের ঢেউয়ে দ্রুত ধসে যায়।

ছগির হোসেন বলেন, “প্রতিবছর পায়রা নদী আমাদের ফসলি জমি ও ভিটেমাটি গিলে খায়। এবার ভাঙলে মাথা গোঁজার জায়গা থাকবে না।”
রফিকুল ইসলাম জানান, “৫০০ ফুট দূরে নির্মিত রিং বাঁধ দিয়ে ৬০টি পরিবারকে ঝুঁকিতে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জিও বালুর বস্তা ফেলা হলে ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।”

জেলা পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় ২২টি পোল্ডারে ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে দুই কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত। আরএডিপি প্রকল্পের আওতায় ৮২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৬.৩৫ কিলোমিটার এবং ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪.১৬০ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, “উপকূলীয় নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারে পানি ১৫-১৮ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাঁধের উচ্চতা বাড়িয়ে মেরামত জরুরি।”
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান প্রধান জানান, “ভাঙনকবলিত স্থানগুলো সাময়িকভাবে রক্ষা করা হবে। অর্থ বরাদ্দ পেলে নতুন স্থানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিজয় দিবস টেনিসে পুরুষ এককে কাব্য, মহিলা এককে সুমাইয়া চ্যাম্পিয়ন

জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সে আট দিন ধরে চলা র‌্যাকেটের লড়াই সমাপ্ত হয়েছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিজয় দিবস উন্মুক্ত ও জুনিয়র টেনিস প্রতিযোগিতা ২০২৫’-এর ফাইনালে ছিল তারুণ্যের দাপট। বিকেএসপি ও ঝালকাঠির খেলোয়াড়দের শক্তিশালী পারফরম্যান্সে মুখরিত ছিল রমনার টেনিস আঙিনা।

পুরুষ এককে শিরোপা জিতেছেন বিকেএসপির কাব্য গায়েন। ফাইনালে তিনি উত্তরা ক্লাবের জাওয়াদ মো. ভূইয়াকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। অন্যদিকে, মহিলা এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ঝালকাঠির সুমাইয়া আক্তার, যিনি বিকেএসপির সুবর্না খাতুনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছেন। সুমাইয়া তার প্রতিভা দেখিয়ে মহিলা দ্বৈতেও শিরোপা জিতেছেন; সুস্মিতা সেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

পুরুষ দ্বৈতের শিরোপা জিতেছেন এনটিসির মো. সায়েম ও ক্যান্টনমেন্টের জারিফ আবরার জুটি। বয়সভিত্তিক বিভাগগুলোতেও ছিল বিকেএসপির আধিপত্য।

  • অনূর্ধ্ব-১৪ বালক এককে সাবির ইসলাম
  • অনূর্ধ্ব-১২ বালক এককে মো. নাফিস আদনান
  • বালিকা এককে আয়েশা রহমান আসফি
  • অনূর্ধ্ব-১০ বালক বিভাগে রাজশাহীর জাহিদ ইসলাম
  • অনূর্ধ্ব-৮ বিভাগে এনটিসির রিয়ান আহমেদ
  • মাদারীপুরের অনূর্ধ্ব-১৪ বালিকা বিভাগে জান্নাত হাওলাদার

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা শুধুমাত্র শিরোপা জিতে আত্মমর্যাদা অর্জন করেননি, বরং টেনিস খেলার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ ও উত্সাহও বৃদ্ধি করেছেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজনটি দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা ছড়িয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 




বরগুনার অবরোধে ভারতীয় জেলেদের অবাধ মাছ শিকারের অভিযোগ

বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিবছর মাছ ধরার সরকারি অবরোধ শুরু হলেই স্থানীয় জেলেরা গভীর উদ্বেগে পড়ে। ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের প্রজনন রক্ষার জন্য ঘোষিত ৬৫ বা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় আইন মেনে ঘরে বসে থাকতে বাধ্য হন। অথচ এই সময়েই বরগুনা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের পানিসীমায় ভারতীয় জেলেদের অবাধ বিচরণ ও মাছ শিকারের অভিযোগ উঠে।

পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলীর জেলেরা জানান, তারা সমুদ্রে নামলে জরিমানা, মামলা ও নৌযান জব্দের ভয়ে থাকে। কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে আসা ভারতীয় ট্রলারগুলো বাংলাদেশি পানিসীমায় ঢুকে নির্বিঘ্নে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে ক্ষোভ তৈরি হয় যে, অবরোধ কার্যত বাংলাদেশের জেলেদের জন্যই কঠোর হলেও বিদেশি জেলেদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না।

জেলেদের অভিযোগ, ভারতীয় ট্রলারগুলো আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী জাল ব্যবহার করে অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা শেষ করে। এর ফলে অবরোধ শেষে সমুদ্রে নেমে স্থানীয় জেলেরা মাছের সংকটে পড়েন। তারা মনে করেন, এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদের ওপর ভারতের আধিপত্যের বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত টহল ও নজরদারির অভাব এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে। অবরোধ চলাকালেও বাংলাদেশের জেলেরা নিষ্ক্রিয় থাকলেও পানিসীমা কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়, যা ভারতীয় জেলেদের সুযোগ সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন ধরে এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বরগুনার জেলেরা চাইছেন, অবরোধ চলাকালেও জলসীমায় কঠোর নজরদারি, কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার এবং সীমান্ত আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হোক। তা না হলে অবরোধের নামে একদিকে বাংলাদেশের জেলেরা নিঃস্ব হবে, অন্যদিকে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ বিদেশি জেলেদের হাতে লুট হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, “সমুদ্র ও পানিসীমা রক্ষার বিষয়টি শুধু জেলেদের নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়। অবরোধ চলাকালেও বিদেশি জেলেদের অনুপ্রবেশ গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারকে দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, “জেলেদের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। অবরোধ সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হতে হবে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো ও বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে উত্থাপন জরুরি।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জানান, “মাছের প্রজনন রক্ষায় অবরোধ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার জেলেদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তা দিচ্ছে। অনুপ্রবেশের অভিযোগ পেলে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করি।”

উপকূলবাসীর প্রত্যাশা, অবরোধের পাশাপাশি বরগুনার পানিসীমা রক্ষায় সমন্বিত, শক্তিশালী ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ এবং জেলেদের জীবন-জীবিকা উভয়ই নিরাপদ থাকে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 




মনপুরায় ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত সুজনের মানবেতর জীবন

মনপুরার ২৪ বছর বয়সী সুজনের জীবন জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়ে থমকে গেছে। ১০ বছর ধরে ব্রেইন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে জীবন যাপন করছেন। চিকিৎসার অভাব, অর্থসংকট এবং অবহেলার কারণে তার দিন কেটে যাচ্ছে নিঃশব্দ আর্তনাদে।

মনপুরা উপজেলার ২ নং হাজীরহাট ইউনিয়নের সোনার চর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আজাহার মিয়ার ছেলে সুজন ১৫ বছর বয়সে হঠাৎ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হন। তার পরিবার প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসা করিয়েও সুজনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। বর্তমানে ডাক্তাররা জানিয়েছেন, সুজনের অপারেশনের জন্য আরও ৩–৪ লাখ টাকা প্রয়োজন। তার বাবা-মা এখন সুজনের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে টাকার সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

সুজনের কৈশোরের স্বপ্ন ছিল পরিবারের জন্য কাজ করা, সমাজে সম্মান অর্জন করা। কিন্তু হঠাৎ শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা, বমি এবং খিঁচুনি। ঢাকার চিকিৎসক তাকে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত বলে জানান। প্রথম অস্ত্রোপচার করা হলেও সুজন স্বাভাবিক হতে পারেনি। পরবর্তী চিকিৎসা ও অপারেশনের অভাবে ধীরে ধীরে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন।

বর্তমানে সুজন কথা বলতে পারেন না, নিজে খেতে পারেন না এবং নড়াচড়াও করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসহায়। নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাও তাদের জন্য এক চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন দপ্তরে সহায়তার আবেদন করা হলেও স্থায়ী কোনো সহযোগিতা এখনও পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুসা তৃতীয় জানিয়েছেন, “সুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে আমরা তাদেরকে সাহায্য করব।”

মনপুরার প্রত্যন্ত এলাকায় পড়ে থাকা সুজনের এই জীবনযুদ্ধ সমাজের নির্মম বাস্তবতার পরিচায়ক। চিকিৎসা ও অর্থের অভাবে প্রতিদিন নীরবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে একটি তরুণ প্রাণ। সুজনের গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়, এটি মানবতার গল্প, অবহেলার গল্প। প্রশ্ন থেকে যায়, আর কত সুজন এইভাবে নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে?


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫