সাগরে নিখোঁজ ১৭ জেলে, দুই বছর পর ফেরার আশায় পরিবার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো বাড়ি ফেরেননি বরগুনার ১৭ জেলে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারগুলো। তবে সম্প্রতি নিখোঁজ জেলেদের ভারতের একটি কারাগারে আটক থাকার তথ্য পাওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্বজনেরা।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে সাগরে যাওয়া ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের একটি মাছধরা ট্রলার নিখোঁজ হয়। ওই ট্রলারে থাকা ১৭ জন জেলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি জানা গেছে, তারা ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

বরগুনা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-১) কামরুজ্জামান জানান, নিখোঁজ জেলেদের পরিবার থেকে ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাজধানীর এসবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলেরা ঘূর্ণিঝড়ের সময় দিকভ্রান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজ ১৭ জেলের মধ্যে ১৬ জন বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের সাতজন এবং ঢলুয়া ইউনিয়নের নয়জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। অপর একজন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেংরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের জীবন কাটছে চরম দুর্ভোগে। ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী এলাকার বাসিন্দা ইউনুস সরদারের মা তারাবানু (৭০) ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করেন। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে ছেলের ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ছেলেকে ভারতের কারাগারে থাকার খবর পেয়ে আবার নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি পেয়েছেন। তিনি শুধু চান, জীবিত অবস্থায় ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে।

একই গ্রামের আরেক নিখোঁজ জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার জানান, দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় ছিল। সম্প্রতি স্বামী জীবিত আছেন—এই খবর পাওয়ায় তারা সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে আটক থাকার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের আবেদন পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কিছুটা সময় লাগলেও জেলেদের দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুই বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর একটাই চাওয়া—রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগে প্রিয়জনদের দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নারীর শ্রমে ঘুরছে বরগুনার প্রান্তিক অর্থনীতি

কৃষি, মৎস্য ও তাঁতশিল্পে প্রান্তিক নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বদলাতে শুরু করেছে উপকূলীয় জেলা বরগুনার অর্থনৈতিক চিত্র। সংসারের চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে মাঠ, নদী ও তাঁতঘরে নারীদের অবিরাম শ্রম আজ পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত তৈরি করছে।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা সদর ও চরদুয়ানী ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের গৃহবধু নারীরা দলবদ্ধভাবে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পুরুষের সহায়তা ছাড়াই তারা ধানসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য ও মৌসুমি ফসল উৎপাদন করছেন। ধান কাটা, মাড়াই, সিদ্ধ ও শুকানো থেকে শুরু করে চাল ভাঙানো পর্যন্ত সব কাজ নিজেরাই সম্পন্ন করছেন তারা। বলেশ্বর নদীসংলগ্ন গাববাড়িয়া গ্রামে ধান কাটার মৌসুমে নারীদের দলবদ্ধ শ্রম এখন নিয়মিত দৃশ্য।

স্থানীয় নারী কৃষক রোকেয়া বেগম, আলেয়া বেগম ও জোছনা বেগম জানান, কৃষিকাজে সফল হওয়ায় তারা এখন নিজেরাই আয় করছেন এবং সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি আর্থিকভাবে কারও ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে না।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করে এসব নারী কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। তাদের উদ্যোগ টেকসই করতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

মৎস্য খাতেও বরগুনার নারীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয় উপজেলায় পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার জেলের বসবাস। এর মধ্যে অন্তত ১০ হাজার জেলেবধূ সরাসরি মাছ আহরণে যুক্ত। তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা গ্রামের জেলে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী আলেয়া বেগম প্রতিদিন ভোরে স্বামীর সঙ্গে নদীতে গিয়ে জাল তোলা, মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কাজে অংশ নেন। একই সঙ্গে ঘরের কাজ ও সন্তানদের দেখভালের দায়িত্বও তাকেই সামলাতে হয়।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, উপকূলীয় জেলে পরিবারের নারীরা পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করলেও তাদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত হয়নি।

অন্যদিকে তালতলী উপজেলার রাখাইন পল্লীগুলোতে হস্তচালিত তাঁতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাখাইন নারীরা। মায়ানমার থেকে আনা সুতা দিয়ে তারা শীতের চাদর, শার্ট পিস, লুঙ্গি, গামছা ও ব্যাগ তৈরি করছেন। শীত মৌসুম ও ঈদকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তালতলীর ১৭টি রাখাইন পল্লীতে দুই শতাধিক হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। কোনো কোনো পরিবারে একাধিক তাঁত পরিচালিত হচ্ছে।

ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অংতেন তালুকদার বলেন, তাঁতশিল্প রাখাইন নারীদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ। এই শিল্প তাদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার প্রতীক।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগই উপকূলীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচনে এসব কর্মঠ নারী অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং নারীদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি মিললে বরগুনার এই প্রান্তিক নারীরাই ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডুবোচর ও নাব্য সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা–বরিশাল নৌরুট

ঘন কুয়াশা, ডুবোচর ও তীব্র নাব্য সংকটের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা–বরিশাল নৌরুট চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। শীত মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ৩১টি নৌপথের মধ্যে অন্তত ২২টিতে পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ নৌপথজুড়ে সংকেতবাতি, ভাসমান বয়া ও মার্কারের অভাব। ফলে কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চালাতে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন চালকরা, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমেই ঘন কুয়াশার মধ্যে মেঘনা নদীতে একাধিক লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে চাঁদপুরের হাইমচর সংলগ্ন নীলকমল বাংলাবাজার এলাকায় ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের সঙ্গে ঝালকাঠিগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন।

একই রাতে সদরঘাট থেকে চাঁদপুরগামী ইমাম হাসান-৫ লঞ্চটি প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে যাত্রা করে। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে নোঙর করা একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে লঞ্চটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। পরদিন ডুবুরিরা ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

সদরঘাট নৌ-পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওইদিন ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪টি নৌযানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর কিছুদিন আগেও একই নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে বরিশালগামী এম খান-৭ঈগল-৪ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়, যদিও এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথে কুয়াশাজনিত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে। সেদিন ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ৪৭ জনের মৃত্যু এবং ৩১ জন নিখোঁজ হন। ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চটি তীরে ভেড়াতে না পেরে মাঝনদীতে ভাসছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

লঞ্চযাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদ–এর আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, রাতের বেলায় নদীপথে চলাচলের জন্য বাঁক, চর ও ডুবোচর এলাকায় বয়া, সংকেতবাতি ও মার্কার থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এসব অবহেলিত। নিয়মিত সংরক্ষণ ও নজরদারি থাকলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

ঢাকা–বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ ও কার্গো জাহাজের চালকরাও অভিযোগ করে বলেন, শীত এলেই নাব্য সংকট ও ঘন কুয়াশা এই নৌপথকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। বিশেষ করে ডুবে থাকা বা অর্ধডুবন্ত বাল্কহেড বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। কুয়াশার মধ্যে বয়া ও বিকন বাতির অভাবে নৌযান প্রায়ই চরে আটকে যাচ্ছে।

চালকরা জানান, ঢাকা থেকে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, মেহেন্দীগঞ্জ, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, চরফ্যাশন, বাউফল, হিজলা ও মুলাদীসহ বহু নৌপথে বর্তমানে তীব্র নাব্য সংকট ও ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে বয়া থাকলেও তাতে সংকেতবাতি জ্বলে না।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১ নভেম্বর রাতে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা বোগদাদিয়া-৭ লঞ্চটি মেঘনা নদীর একটি ডুবোচরে আটকা পড়ে। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এমভি অথৈ-১ লঞ্চ এক সপ্তাহ ধরে ডুবোচরে আটকে ছিল।

ঢাকা–বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি মানামী লঞ্চের পরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, শীতকালে পানি কমা স্বাভাবিক হলেও এবার শীত শুরুর আগেই পানি নেমে গেছে। আগে নভেম্বর মাসে লঞ্চ ডুবোচরে আটকাত, এবার অক্টোবর থেকেই সেই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।

নাব্য সংকটের প্রভাব পড়েছে ফেরি চলাচলেও। বরিশালের মীরগঞ্জ–মুলাদী ফেরি রুটে নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করা না যাওয়ায় বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করতে হচ্ছে, এতে জ্বালানি খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নবনীতা বিশ্বাস জানান, হিজলা এলাকায় নাব্য সংকট নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে। হাইড্রোলজি বিভাগের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (নৌপথ) আব্দুস সালাম বলেন, চাঁদপুর ও বরিশাল বিভাগের প্রয়োজনীয় স্থানে বয়া, মার্কার ও সংকেতবাতি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় প্রাণ গেল ঠিকাদারের

বরিশালে তীব্র শীতের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক ঠিকাদারের মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাশেদুল শেখ (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে চারটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত রাশেদুল শেখ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক এলাকার বারোকানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালাম শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে তিনি বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে চলমান তীব্র শীত ও উত্তর দিকের হিমেল বাতাসে বরিশালের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর ও হকাররা। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে অনেককেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

শীত থেকে বাঁচতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। যদিও কুয়াশার প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে উত্তরের হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দিনের বড় অংশে সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডার অনুভূতি বেড়েই চলেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের একই দিনে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি, অর্থাৎ চলতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি কম।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে একাধিক রোগী কিংবা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, শীতের এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান এবং অপ্রয়োজনে ভোর বা গভীর রাতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে শীতের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঘন কুয়াশায় আড়াল সূর্য, কনকনে শীতে বিপর্যস্ত বরিশাল

মেঘনা অববাহিকাসহ বরিশাল ও সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশার প্রভাব বাড়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। সূর্যের দেখা মিলেছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, তাও কুয়াশার আবরণ ভেদ করে। কর্মদিবস হলেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেক মানুষ ঘরের বাইরে বের হননি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে। ফলে কুয়াশা ও ঠান্ডার মিলিত প্রভাবে জনজীবনে অস্বস্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

গত প্রায় ১০ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিখাত—উভয় ক্ষেত্রেই। নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি নারী, পুরুষ ও শিশু শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীদের জন্য মেঝেতেও ঠাঁই দিতে হচ্ছে।

কৃষিখাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ২০ হাজার ৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ‘কোল্ড ইনজুরি’র ঝুঁকি বাড়ছে। কৃষিবিদরা বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়া গোল আলুতে ‘লেট ব্লাইট’ রোগ প্রতিরোধে ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হলেও, কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য শীতকালীন সবজির গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে গোল আলু ও ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হলেও বৈরী আবহাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

কনকনে ঠান্ডায় অনেক কৃষক ও কৃষিশ্রমিক সকালবেলা মাঠে নামতে পারছেন না। একই কারণে জেলেরা নদ-নদীতে মাছ ধরতে না পারায় বাজারে মাছের সংকটও দেখা দিচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূলসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বুধবার পর্যন্ত দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে আবার তাপমাত্রা কমতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনেও আবহাওয়ার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, মেঘনা অববাহিকায় ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মামলাটি দায়ের করেন বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ায় একই আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর দুদকের এক কনস্টেবল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের ঠিকানায় গিয়েও তাকে না পাওয়ায় একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার ঠিকানায় বাড়ির দরজায় সম্পদ বিবরণীর ফরমের মূল কপি টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়। নোটিস জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো বরিশালেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বরিশাল মহানগরীর কালীবাড়ী সড়কে সাদিক আবদুল্লাহর পৈতৃক বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়িটি ছেড়ে যেতে সক্ষম হলেও তার তালাবদ্ধ শয়নকক্ষে আটকা পড়ে সিটি করপোরেশনের এক সাবেক প্যানেল মেয়রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পবিপ্রবিতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বিশেষ শোকসভা

পটুয়াখালীর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শোকসভা পবিপ্রবি ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ, ছাত্রদল এবং জাতীয়তাবাদী কর্মচারীবৃন্দের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অমর প্রতীক। স্বৈরশাসন ও দমন-পীড়নের মুখেও তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় নিরলস সংগ্রাম চালিয়েছেন। তার প্রজ্ঞা, সাহসিকতা ও ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় থাকবে।” প্রধান অতিথি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম স্মরণ করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

শোকসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. জামাল হোসেন, পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক হাসিব মো. তুসার। বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পবিপ্রবি ইউট্যাবের সভাপতি মামুন অর রশিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম। আলোচনা শেষে পবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর আবুল বাশার খান, সিএসই অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. খোকন হোসেন, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল হক, প্রফেসর মো. জহুরুল হক, সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান সবুজ, পরিচালক (শরীরচর্চা) ড. মো. আমিনুল ইসলাম টিটো, মো. রিয়াজ কাঞ্চন শহীদসহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাঙ্গাবালী ও গলাচিপায় নদী থেকে ৩৩ লাখ টাকার অবৈধ জাল ধ্বংস

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলায় বিশেষ অভিযান “কম্বিং অপারেশন–২০২৬” এর আওতায় নদী ও খালে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযান চলাকালীন ধ্বংস করা জালের বাজারমূল্য প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও গলাচিপার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

অভিযানটি রাবনাবাদ নদী, জাহাজ মারা, মায়ার চর ও সোনার চর এলাকায় বিশেষভাবে চালানো হয়। এসময় নিষিদ্ধ বেহুন্দি ও চরঘেরা জাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যা নদীতে বৈধ মাছ আহরণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ইলিশসহ মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নদীতে অবৈধ জালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা এই ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, নদী ও মাছের প্রজনন রক্ষা করতে এমন অভিযান আরও জোরদার করা উচিত। মৎস্য বিভাগও জানাচ্ছে, অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংসের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে পাগল কুকুরের তাণ্ডব, ৩৫ জন হাসপাতালে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় হঠাৎ করে একটি পাগল কুকুরের হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক মানুষকে কামড়ানোর ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা একে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানিয়েছেন।

সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুমকির বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটি বেপরোয়া ভাবে ছুটে বেড়িয়ে পথচারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেউ কিছু বোঝার আগেই কুকুরটি একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাস এলাকা থেকে শুরু করে শ্রীরামপুর, রাজাখালী, পীরতলা বন্দর, দুমকি বাজার ও জলিশা গ্রাম পর্যন্ত কুকুরটির তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় চলাচলকারী মানুষজন হঠাৎ আক্রমণের শিকার হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ (১৯), ইউসুফ, মফিজুর রহমান (৭০), তানিয়া (সাড়ে ৩ বছর), মাহিনুর বেগম (৩৮), জব্বার ঘরামী (৬০), রিমা (২০), মনোয়ারা বেগম (৫৫), ফরিদা বেগম (৫০), নাইমুল (২), মাধবী রানী (৪০), জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮), খোকন (৪০), আবদুল লতিফ মৃধা (৮০)সহ আরও অনেকে। আহতদের বয়সের পরিসর দুই বছরের শিশু থেকে শুরু করে আশি বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত।

আহতদের দ্রুত দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেসরকারি লুথারন হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক রোগী আসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে কুকুরটির হামলা থামাতে প্রশাসনের নির্দেশে পবিপ্রবির নিরাপত্তাকর্মী, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে অভিযান চালান। পরে গ্রামীণ ব্যাংক সড়কের একটি বাড়িতে কুকুরটিকে আটকে ফেলতে সক্ষম হন তারা। এতে এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান।

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহিদুল হাসান শাহীন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই মুহূর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুত নেই। আহতদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনার পর স্থানীয়রা এলাকায় বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুর নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় ভাড়া বাসায় গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী আটক

পটুয়াখালীর পর্যটন শহর কুয়াকাটায় ভাড়া বাসা থেকে এক কিশোরী গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম আরিফা আক্তার (১৭)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রিফাত (২১)-কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফা আক্তার বরিশাল জেলার বায়োরগাতি এলাকার আ. খালেক হাওলাদারের মেয়ে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় চার মাস ধরে স্বামী-স্ত্রী ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রিফাত স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত, যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ছিল।

ঘটনার রাতে হঠাৎ করে ওই বাসা থেকে কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান আশপাশের লোকজন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আরিফা আক্তারকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় স্বামী রিফাতকে ঘরের কাছেই পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস বলেন, রাতের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনে সবাই ছুটে আসে। ঘরের ভেতরের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। আরিফা নিথর হয়ে পড়ে ছিল। আরেক বাসিন্দা শহিদ জানান, তিনি ঘুমের মধ্যেই কান্নার শব্দে জেগে ওঠেন। বাইরে এসে দেখেন এলাকায় মানুষের ভিড়, পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। সঠিক রহস্য উদঘাটনে সিআইডির একটি টিমকে অবহিত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কুয়াকাটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম