চরমোনাই পীরের আসনে ভাগ বসাতে চায় জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি ভোট এক করার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আট দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী জোটে বরিশাল বিভাগে আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জোটের নেতারা বলছেন, প্রার্থী বাছাই ও আসন ভাগাভাগি অনেকটাই চূড়ান্ত হলেও বরিশাল বিভাগের একুশটি আসনে সমঝোতা এখনও হয়নি। বিশেষ করে বরিশাল সদর আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বরিশাল সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। তবে এই আসনে ছাড় দিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেখানে যে দলের জনপ্রিয়তা বেশি, সেই দলকে ওই আসন দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বরিশাল সদর নিয়ে দুই দলের টানাপোড়েন কাটেনি।

ইসলামী আন্দোলনের নেতারা দাবি করছেন, বরিশাল বিভাগ তাদের শক্ত ভোটব্যাংক। পিরোজপুর জেলার দুটি আসন ছাড়া বাকি আসনগুলোতে তারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে বিভাগের অধিকাংশ আসন নিজেদের দখলে রাখতে চায় দলটি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশালের কয়েকটি আসনে শক্ত অবস্থান দেখিয়ে আসন ছাড়তে অনাগ্রহী।

আটদলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রয়েছে। বরিশাল অঞ্চলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের এক নেতা বলেন, বরিশাল সদর ইসলামী আন্দোলনের আমিরের আসন। এই আসন অন্য কেউ দাবি করলে জোটের নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বলছে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাজ ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই তারা আসন দাবি করছে, চাওয়ার ওপর নয়, সিদ্ধান্ত হবে মাঠের বাস্তবতায়।

বরিশাল সদরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিয়ে এই টানাপোড়েনের কারণে আটদলীয় জোটের ভেতরে সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির হিসাবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেশি, তবুও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতির আশ্বাস

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এ তথ্য প্রকাশের পর নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বরিশাল বিভাগ একটি বিশেষ বাস্তবতার মুখোমুখি। নদ-নদী ও খালবেষ্টিত এই অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য দুর্গম এলাকা। উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ও ছোট মিলিয়ে বহু নদী থাকায় নির্বাচনের সময় জরুরি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের মোট ২ হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৮টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রার্থীদের চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বরিশাল সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা উদ্বেগজনক। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। একইভাবে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একাধিক উপজেলাও নদী ও জলপথের কারণে দুর্গম। এসব এলাকায় নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছানো, জনবল পাঠানো এবং ভোটগ্রহণ শেষে সেগুলো নিরাপদে ফিরিয়ে আনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা।

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্র সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলেন, ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হবে না।

ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সন্ত্রাস দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বরিশালের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও এমনভাবে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে যাতে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।

বর্তমানে বরিশাল জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২২ লাখ এবং পুরো বিভাগে ভোটারের সংখ্যা ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই তালিকার ভিত্তিতে কী ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশাল-৪ আসন: দ্বন্দ্বে জর্জরিত বিএনপি, মাঠে তৎপর জামায়াত

বিএনপির ভাঙা সমীকরণ

বরিশাল-৪ আসনের অতীত ইতিহাস বিএনপির পক্ষে থাকলেও এখন দলটির পরিস্থিতি অনেকটা অগোছালো। ২০০৮ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু এবার তার স্থলাভিষিক্ত রাজিব আহসান—ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি—কে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

নেতৃত্বের এই পরিবর্তনের কারণে দুই উপজেলার বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী মাঠে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, আসনে মূল লড়াই হবে নবীন রাজিব আহসান বনাম জামায়াতের প্রবীণ প্রার্থী


জামায়াতের শক্ত অবস্থান

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী সৈয়দ এছাহাক মোঃ আবুল খায়েরকে। তবে নির্বাচনী কার্যক্রমে তার উপস্থিতি তেমন লক্ষ্যযোগ্য নয়।

অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলা প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা প্রার্থী হিসেবে থাকলেও ভোটারদের সাথে তার সরাসরি সংযোগ নেই। ফলে উভয় প্রার্থীকে নির্বাচনী আলোচনায় তেমন প্রভাবিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

তবে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বার বরিশাল জেলার আমির হওয়ায় এ আসনে তিনি শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, ছাত্রজীবন থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং জনমানসের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে বিজয়ী করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।


নির্বাচনী উত্তাপ ও জনমতের ছবি

জামায়াত প্রার্থী বিভিন্ন প্রান্তিক জনপদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষকদের সমস্যা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। ভোটাররা মনে করছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করে আসায় তার সঙ্গে সম্পর্ক অনেক গভীর।

একাধিক স্থানীয় কর্মীর ভাষ্য,
“বরিশাল-৪ আসনে আমাদের চেয়ে দাড়িপাল্লার প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। জাতীয় স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”


বিশ্লেষণ

রাজিব আহসান মাঠে তৎপর থাকলেও দলীয় বিভাজন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে এগিয়ে থাকায় আসনটি তাদের জন্য সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বরিশাল-৪ আসনে মূল লড়াই হবে বনাম, অভিজ্ঞতা বনাম নতুন শক্তি, এবং এটি নির্বাচনী মঞ্চে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা যেতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




মেঘনায় লঞ্চ দুর্ঘটনা: অ্যাডভেঞ্চার-৯-এর রুট পারমিট বাতিল, মামলা প্রক্রিয়াধীন

বরিশাল অফিস :: চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী দুটি লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় ‘এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯’ লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. সোলাইমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দায়ের ইঙ্গিত পাওয়ায় অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মেঘনা নদীতে বরিশাল-ভোলা থেকে ঢাকাগামী ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ এবং ঝালকাঠিগামী ‘এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯’ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হন এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে কেউ ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল, কেউ জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), আবার কেউ বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর শুক্রবার সকালে নিজাম শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছালে বরিশাল নৌ-পুলিশ ও ঝালকাঠি থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে লঞ্চটি জব্দ করে। একই সঙ্গে লঞ্চের চার কর্মীকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন—ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মো. মিন্টু (২৮), মহিন হাওলাদার (২৫), পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মো. সোহেল (৪০) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মো. মনিরুজ্জামান (৪০)। তারা লঞ্চের কেবিন বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, লঞ্চটি ঝালকাঠিতে নোঙর করার পর এর সারেং, সুকানি, সুপারভাইজার ও ইঞ্জিনচালক পালিয়ে যায়। তবে চারজন কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর নদীপথে নিরাপত্তা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় লঞ্চ চলাচলে বাড়তি সতর্কতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




গৌরনদীতে উপজেলা প্রশাসন ও ইমাম-খতিবদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা

বরিশাল অফিস :: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার ইমাম ও খতিবদের সঙ্গে একটি নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে গৌরনদী উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিশ্বাস সুজন কুমার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তারিক হাসান রাসেল এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন আনন্দ টেলিভিশনের গৌরনদী ব্যুরো প্রধান কাজী আল-আমিন, গৌরনদী সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বায়েজিদ রনি এবং উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবরা।

সভায় বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাই গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ইমাম-খতিবদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যেন কোনোভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকীতে অটো ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের, আহত আরও দুই

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় যাত্রীবাহী অটোরিকশা ও সিমেন্টবোঝাই টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লেবুখালী–বাউফল মহাসড়কের রাজাখালী এলাকায় (স্থানীয়ভাবে পিছাখালী ব্রিজ) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগা এলাকা থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা রাজাখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই টমটমের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই রবিউল নামে ছয় বছরের এক শিশু নিহত হয়। আহত অবস্থায় অন্যদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ইব্রাহিম খান (৬০) নামের আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত সুমন সরদার (২৫) ও আব্দুল কাদের (৫০) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত আব্দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং সুমন সরদারের একটি হাত সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।

নিহত ও আহতদের বাড়ি বাউফল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা ও টমটম উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, ওই সড়ক অংশে প্রায়ই দ্রুতগতির যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা এ এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, কনকনে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

বরিশাল অফিস :: বরিশালে হঠাৎ করে তীব্র শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ওই দিন বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরও একদিন আগে, ২৪ ডিসেম্বর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতের তীব্রতা নগরের তুলনায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল পুরো জেলা। বেলা ১২টার আগে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যায়। কনকনে ঠান্ডায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

হঠাৎ করে শীত বাড়ায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ৪১টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছেন বয়স্ক ও বৃদ্ধরাও।

শীতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের। নগরীর বিভিন্ন এলাকার অটোরিকশাচালক ও দিনমজুররা জানান, ঠান্ডার কারণে যাত্রী ও কাজের পরিমাণ কমে গেছে। মানুষ ঘর থেকে কম বের হওয়ায় আয়-রোজগারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাজাহারুল ইসলাম জানান, ডিসেম্বর মাসে এ ধরনের আবহাওয়া স্বাভাবিক। আগামী কয়েকদিন একই রকম ঠান্ডা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আপাতত কোনো শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা নেই।

তীব্র শীতের এই সময়ে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন, গরম কাপড় ব্যবহার ও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরমোনাই পীর-মামুনুলের দল জামায়াত জোট থেকে আলাদা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বেশি আসনের চাহিদার কারণে তারা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না করে আলাদা প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

সূত্র জানায়, চরমোনাই পীরের দল শতাধিক আসন ও খেলাফত মজলিসের দল ২৫-৩০ আসনের দাবি করেছে। এই চাহিদা পূরণ করলে জামায়াতের আসন সংখ্যা অনেক কমে যাবে, যা জোটের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে জামায়াত অন্তত দুইশ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। “জামায়াতের কাছে কোনো আসন নেই, আসন সবার। আট দলের সবাই ছাড় দিবে এবং মিলেই নির্বাচনে যাবে। এনসিপির সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। আরও কিছু দল আসন চাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছে,” তিনি বলেন।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, “যেহেতু কোনো জোট চূড়ান্ত হয়নি, এখানে পাওয়া-না-পাওয়ার বিষয় নেই। আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে কার কোথায় আসন দেওয়া হবে। সব কিছু সমঝোতার ভিত্তিতেই হচ্ছে।”

খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতা জানান, তারা সম্মানজনক আসন না পেলে বিকল্প প্ল্যাটফর্মে ভোটে অংশ নেবে। তবে সব দলই চায় আসন সমঝোতা ও ঐক্য অটুট রাখার। বর্তমানে দলের কাঙ্খিত আসনের প্রায় ৬০ শতাংশ সমাধান হয়েছে এবং অন্তত ৮০ শতাংশ পূর্ণ হলে তা সম্মানজনক হবে।

জানা গেছে, আগামী ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও কিছু জটিলতা আছে, তবুও দলগুলো ঐক্য বজায় রাখতে আগ্রহী এবং বৃহত্তর সহযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠিতে বাজিতে খালে ডুব দেওয়ার ঘটনায় কৃষকের মৃত্যু

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে এক মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৫ বছর বয়সী কৃষক বাবুল মোল্লা মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বড়ইয়া মোল্লাবাড়ি এলাকার আনসার মোল্লার ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের তথ্যে জানা গেছে, বাবুল মোল্লা সকালে বাড়ি থেকে এক বস্তা চাল মাথায় নিয়ে বড়ইয়া কাঁচারি বাজারে যাচ্ছিলেন। শীতের সকালে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে শরীর গরম হয়ে যাওয়ায় তিনি স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে ৫০০ টাকার বাজি ধরে খালে নেমে ১০০ বার ডুব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নিহত কৃষক খালি গায়ে খালে নেমে নির্ধারিত ১০০ বার ডুব দেন। খালের দুই পাশে থাকা লোকজনকে ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন। ডুব শেষ করে খাল থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা দ্রুত কম্বল দিয়ে শরীরের তাপ বজায় রাখার চেষ্টা করেন এবং তেল দিয়ে মালিশও করেন। তারপরও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় এখনও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সদরঘাটে ফিরতি নেতাকর্মীদের ঢল

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বৃহস্পতিবার বেড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরমুখী স্রোত। ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি বরণ করার আনন্দে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা নেতাকর্মীরা এখন নিজ নিজ এলাকায় ফেরার পথে উত্তেজনা ও আবেগের মিলন ঘটাচ্ছেন।

বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে আগত লঞ্চগুলোতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উপচে পড়ার মতো। দিনের কর্মসূচি শেষে ক্লান্ত শরীরে তারা সদরঘাটে পৌঁছে শান্ত মনে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের প্রবেশপথ ও পন্টুন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্লান্ত নেতাকর্মীদের পানি, শুকনো খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবকরা লঞ্চ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেন জানান, দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর নেতার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। আজ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার দিন শেষ হয়েছে। ভোরের তুলনায় সন্ধ্যায় লঞ্চঘাটে ভিড় কিছুটা কমলেও নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে ঘরে ফেরার পথে রয়েছেন।

একজন নেতাকর্মী আব্দুল মালেক জানান, “কষ্ট যা হওয়ার হইছে, কিন্তু নেতাকে দেখতে পারলাম। এই ১৭ বছরের অপেক্ষার জন্যই আজকের দিনটা স্মরণীয়।” অন্য একজন বরিশালের ব্যবসায়ী রিয়াজ জানান, “আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। নেতাকে দেখার আনন্দে মনে শান্তি পেয়েছি।”

দেশের প্রধান নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত ৮টার পর থেকে লঞ্চগুলো ধাপে ধাপে ছাড়তে শুরু করবে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫