ঝালকাঠিতে প্রবাসীদের শীতবস্ত্র বিতরণে স্বস্তি পেল অসহায়রা

তীব্র শীতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বেরমহল হাচান মেমরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়েকশ’ অসহায় নারী ও পুরুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক লস্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “বিদেশের মাটিতে থেকেও প্রবাসীরা নিজ এলাকার অসহায় মানুষের জন্য এগিয়ে আসছে। এই মানবিক উদ্যোগ দেশপ্রেম ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শীতের কঠিন প্রকোপ থেকে অসহায় নারী-পুরুষরা কিছুটা হলেও স্বস্তি অনুভব করবে।”

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্কাস আলী সিকদার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চাখার ফজলুল হক ইনস্টিটিউটের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম লস্কর।

শীতবস্ত্র বিতরণে সহায়তা করেন মার্কিন প্রবাসী ও সময় টিভির যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি লস্কর আল মামুন। প্রবাসীদের এই উদ্যোগে এলাকার অসহায় মানুষরা শীতের তীব্রতা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে সক্ষম হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনে পক্ষপাত দেখলে কঠোর ব্যবস্থা: ইসি সানাউল্লাহ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে। রবিবার সকালে নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলা আইনশৃঙ্খলা, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কেউ যদি তার ব্যক্তিগত পছন্দ বা পক্ষপাতিত্বের কারণে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তা প্রমাণিত হলে তার পরিণতি কঠোর হবে। ভোটাধিকার সংরক্ষণে কমিশন সবকিছুকে খোলামেলাভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং অন্যায় বা পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মিডিয়ায় প্রকাশ করতে পিছপা হবে না।

ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, “নির্বাচনে সকলকে সমানভাবে আচরণ করতে হবে। আমাদের কাছে কোন প্রার্থী বড় বা ছোট, হেভি ওয়েট বা লাইট ওয়েট নয়। দায়িত্ব পালনে শতভাগ পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নিতে পারবে না, তবে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতেই হবে।”

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, ভোটগ্রহণে কোনো অনিয়ম, জালিয়াতি বা পক্ষপাত ধরা পড়লে তা সহজভাবে বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে।

সভায় রিটার্নিং অফিসার সভাপতিত্ব করেন। জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানে যুবকের আত্মহত্যা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে এক যুবক ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামের ভাড়াটিয়া বসতঘর থেকে যুবকটির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহের পরিচয় পাওয়া গেছে ওমর ফারুক ওরফে বায়জিদ (২১) হিসেবে। তিনি ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে একই ইউনিয়নের ইটাবাড়িয়া গ্রামের নাহিদা আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাদের বিয়ে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সপ্তাহে বায়জিদের স্ত্রী নাহিদা নিখোঁজ হয়ে যান। এ ঘটনায় বায়জিদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করেছেন। এলাকাবাসী ধারণা করছেন, স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে অন্যের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে বায়জিদ অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, “লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটের অধিকার প্রয়োগে দেশবাসীর উৎসাহের কথা বলেছেন ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে দেশের মানুষ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করবে না নির্বাচন কমিশন। সবাইকে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি আরও জানান, সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর স্পষ্ট হয়েছে—মানুষ এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। “আমরা জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই,” বলেন তিনি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। নির্বাচন জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকলে নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকেও সুপারিশ করা হয়েছে।

সমন্বয় সভায় ঝালকাঠির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সেনাক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, কমপক্ষে ১৫ আহত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে বোরহানউদ্দিন ও ভোলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির এক কর্মীর বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ঘটনা ঘটে শনিবার সকাল টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়রা জানান, গণসংযোগের সময় দুই দলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণার যান চকিদার বাড়ির পাশে গেলে বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ সময় লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জামায়াতের ১০-১২ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ফয়জুল্লাহ, ইমন, আবদুল হালিম, শাহে আলম, রায়হান, শামিম ও তানজিল রয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়জন বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং দুইজন ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় ইউনিয়ন জামায়াত তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করেছে।

পাল্টা অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির একটি বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে বিএনপি কর্মীরা প্রতিহত করেন। বিএনপি প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের প্রধান সমন্বয়কারী অভিযোগ করেন, জামায়াতের কর্মীরা ইউসুফের ঘরবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় বিএনপি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, গণসংযোগকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা প্রশাসকও বলেন, দুই পক্ষকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হলে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে দেশি অস্ত্রসহ যুবদল নেতা আটক

বরিশালের হিজলা উপজেলায় দেশি অস্ত্রসহ এক যুবদল নেতাকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর হিজলা ক্যাম্প শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভোররাত ৩টার দিকে মেজর কাজী জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬০ সদস্যের একটি দল উপজেলার চর কুশরিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ১২টি দেশি ধারালো অস্ত্র, একটি চায়নিজ কুড়াল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এ সময় যুবদল নেতা মোস্তফা সিকদারকে (৫০) আটক করা হয়। তিনি চর কুশরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রহমান সিকদারের ছেলে। এছাড়া তিনি হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

হিজলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করবে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নুরের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ, ব্যাখ্যা চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি

নির্বাচন-পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি দশমিনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অবস্থিত কমিটির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন কমিটির সদস্য ও সিভিল জজ সাব্বির মো. খালিদ।

নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবী এনামুল হকের করা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে এই শোকজ জারি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনকে নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ), (ছ) ধারার লঙ্ঘন হয়েছে। এতে নির্বাচনী আচরণবিধির গুরুতর ব্যত্যয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাতের দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজার সেন্টারে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালায়। এ সময় ওই প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক আহত হন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬(ক) ধারার পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে অথবা আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ হাতে পাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আইনের প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং নোটিশ হাতে পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরের তিন আসনে ভোটের অঙ্ক

বরিশাল বিভাগের নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। ঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই জেলার মানুষ এখন ভোটের হিসাব কষছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই এবার মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।

জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাট-বাজার, চায়ের দোকান, গ্রাম-গঞ্জ—সবখানেই ভোটের আলোচনা। প্রার্থীদের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।


পিরোজপুর–১ : বিএনপি–জামায়াতের হেভিওয়েট লড়াই

সদর উপজেলা, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–১ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৯২ হাজারের বেশি। এই আসনে এবার সরাসরি মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল আলমগীর হোসেন। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাসুদ সাঈদী

নাজিরপুর উপজেলায় বিপুলসংখ্যক ভোটার ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট এখানে জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপজেলার ভোট যেদিকে যাবে, ফলাফলও সেদিকেই ঝুঁকবে। সদর ও পৌর এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও, ইন্দুরকানীতে জামায়াত প্রার্থীর পারিবারিক ও সাংগঠনিক প্রভাবও কম নয়। ফলে আসনটি নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


পিরোজপুর–২ : ত্রিমুখী লড়াইয়ে মূল দ্বন্দ্ব বিএনপি ও জামায়াত

কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–২ আসনের ভোটার সংখ্যা চার লাখের বেশি। এখানে প্রার্থী রয়েছেন সাতজন।

জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচারে আছেন শামীম সাঈদী। অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। দিন যত গড়াচ্ছে, প্রচারণার উত্তাপও তত বাড়ছে।


পিরোজপুর–৩ : বিএনপি এগিয়ে, ইসলামী আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ

মঠবাড়িয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–৩ আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার। এখানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা হিসেবে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। তার বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারেন।


সব মিলিয়ে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। একটিতে বিএনপি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, বাকি দুই আসনে জামায়াতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে মাঠে প্রার্থীরা, সরগরম বরিশাল–৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল–৫ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক দর্শন ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় মুখর হয়ে উঠেছে নগরীর পাড়া-মহল্লা।

নির্বাচনী মাঠে এই আসনে মূলত তিন প্রার্থীর সক্রিয় প্রচারণা চোখে পড়ছে। প্রতিদিনই তারা নিজ নিজ কর্মসূচি ও অঙ্গীকার তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কাশিপুর এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল–৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও জনস্বার্থে কাজ করার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, সকালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী নগরীর সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালান। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে তার রাজনৈতিক আদর্শ, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ও জনবান্ধব রাজনীতির কথা তুলে ধরে ভোট চান।

এ ছাড়া সকাল ১০টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত বরিশাল–৫ ও ৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)। এ সময় তিনি বরিশালকে ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরেন ভোটারদের সামনে।

প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় তাদের সমর্থকরাও মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও দলীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে দিন যতই এগোচ্ছে, বরিশাল–৫ আসনের নির্বাচনী মাঠ ততই উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পরিবর্তন চাইলে আমাকে একবার সুযোগ দিন

বরিশাল-৫ আসন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ, ভুল–বোঝাবুঝি ও ক্ষমতার পালাবদলের নানা স্মৃতি এই আসনের রাজনীতিকে এখনো প্রভাবিত করছে। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিজের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম

তিনি জানান, একসঙ্গে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত আত্মবিশ্বাসের চেয়ে দায়িত্ববোধ থেকেই নেওয়া। দলের মূল্যায়নে এই দুই আসনের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে বলেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-৫ আসনকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃতীয় হন। পরবর্তী ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন। ২০১৮ সালে ভোট বর্জনের পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তির প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বারবার নির্বাচিত প্রতিনিধির কাজের মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। যদি পরিবর্তন চান, তাহলে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

২০০১ সালের সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভুল ঘটনা, যা তখনই স্বীকার করা হয়েছিল। ভুলের দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাকে তিনি রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবুও সেই ঘটনার জের ধরে তাঁদের কারাবরণ করতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি মাহফিলে পুরোনো সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলাকে কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয় বলে দাবি করেন ফয়জুল করীম। তাঁর ভাষায়, ভুল হলে তা লুকানোর নয়, বরং স্বীকার করার শিক্ষা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় দিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হলেও কোনো দলের নেতাকর্মীর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা বা হয়রানি করেননি।

ভোটের রাজনীতিতে দলীয় পরিচয়ের বাইরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা দল নয়, যোগ্যতা ও চরিত্র দেখে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের ভোট টানার উদ্দেশ্যে নয়, বরং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই তাঁদের অবস্থান।

রাজনৈতিক বোঝাপড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সমীকরণ নতুন কিছু নয়। সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক বদলায়, জোট ভাঙে ও গড়ে। তবে এসব সমীকরণের বাইরে সাধারণ ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন—কে তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি হবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫