বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালী–৩ আসনে আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারস্থ প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও প্রকাশ্য স্থানে নির্বাচনের ফলাফল আগেভাগেই ঘোষণা করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি প্রকাশ্যে কে প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অবস্থানে থাকবেন তা উল্লেখ করে বক্তব্য দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ধরনের বক্তব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি ২০০৮-এর শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী বক্তব্য সংক্রান্ত বিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধের শামিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হাসান মামুনের সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের ধর্মগ্রন্থকে সাক্ষী রেখে শপথ গ্রহণে বাধ্য করছেন। ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। এতে ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। এসব কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী অসদাচরণ ও অবৈধ প্রভাব বিস্তারের আওতায় পড়ে।

পটুয়াখালী–৩ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক কৌশল। বিএনপির সমর্থন নিয়ে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমকেও প্রার্থী করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মো. হাসান মামুন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ সিদ্ধান্তের পর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অভিযোগকারী কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ও তার অনুসারীরা ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। এতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ধর্মীয় শপথ ও উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং পটুয়াখালী–৩ আসনে বিশেষ নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে সংকট, সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের ফ্লাইটে যাত্রীদের ভোগান্তি

যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-বরিশাল রুটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিয়মিত যাত্রীরা। একসময় যেখানে প্রতিদিন অন্তত আটটি ফ্লাইট চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন শুক্রবার ও রোববার—দুটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্বল্প সময়ে রাজধানীতে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে অনেককেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সড়কপথ বেছে নিতে হচ্ছে।

বর্তমানে এই রুটে বেসরকারি বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট চালু রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রী চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে বৃহস্পতিবার একটি অতিরিক্ত ফ্লাইট থাকলেও উড়োজাহাজ সংকটের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। তারা দ্রুত এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু চালুর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন চারটি, বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ার দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। পরবর্তীতে নানা অজুহাতে প্রথমে নভোএয়ার ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ইউএস-বাংলা ধাপে ধাপে ফ্লাইট কমিয়ে একপর্যায়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ বিমানও একসময় যাত্রী সংকটের কথা বলে সপ্তাহে সীমিত দিনে ফ্লাইট চালু রাখে।

গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে এই রুটে ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশালসহ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ৮ আগস্ট থেকে সপ্তাহে দুই দিন ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ উড়োজাহাজ দিয়ে আবার ফ্লাইট চালু করা হয়।

নিয়মিত যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, “চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ফ্লাইট না থাকায় আমাদের সড়কপথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, কর্মঘণ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা-বরিশাল রুটে অল্প সময়ে যাতায়াত সম্ভব হলেও লোকসানের অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা বোধগম্য নয়। দ্রুত প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করা জরুরি।”

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমলেও অনেক সময় ফ্লাইট পুরোপুরি ভর্তি থাকে। ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

বরিশাল বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রান্ত খান বলেন, “বর্তমানে প্রতিটি ফ্লাইট ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রী ধীরে ধীরে বাড়ছে। আরও একটি ফ্লাইট যোগ হলে যাত্রীরা উপকৃত হবেন।”

নিরাপত্তা সহকারী মনমত সরকার বলেন, “ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ালে যাত্রীও বাড়বে। আগে নিয়মিত ফ্লাইট ছিল এবং যাত্রীও ছিল। সুবিধাজনক সিডিউল হলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।”

এদিকে বরিশালের ট্রাভেলস এজেন্সিগুলো মনে করছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে ফ্লাইট নির্ধারণ করা হলে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষই নেবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২০ বছর পর বরিশালে তারেক রহমান, জনসভায় ভাঙবে সব রেকর্ড

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বরিশালে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৬ জানুয়ারি দুপুরে নগরীর বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। তার এই আগমনকে ঘিরে বরিশালজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

তারেক রহমানের সফরের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ইউনিটগুলো মাঠে নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট, ব্যানার ও প্রচারণা শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, এই জনসভা বরিশালের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর বরিশাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন—এই জনসভায় অতীতের সব জনসমাবেশের রেকর্ড ভেঙে যাবে। সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মী ও সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা অংশ নেন। শুরুতে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-১ আসনের জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী আবুল হোসেন খান, ভোলা-৩ আসনের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা।

সভায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। দেশের মানুষের মধ্যে তার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বরিশাল বিএনপির ঘাঁটি। ২৬ জানুয়ারি বেলস পার্ক মাঠে এমন জনসমাগম হবে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “গত বহু বছর দেশে প্রকৃত ভোটাধিকার ছিল না। এখন আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই জনসভা সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিন। সঞ্চালনা করেন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহাবুবুল হক নান্নু। নেতারা সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সফল করার আহ্বান জানান।

নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের সরাসরি বক্তব্য শোনার জন্য শুধু বরিশাল নয়, আশপাশের জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ আসবেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিবহন, স্বেচ্ছাসেবক দল, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। বেলস পার্ক মাঠকে জনসভা উপযোগী করতে চলছে সার্বিক প্রস্তুতি।

সব মিলিয়ে, ২৬ জানুয়ারির বরিশাল জনসভা বিএনপির জন্য শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়—এটি হতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রাজনীতির কঠিন সময়ে মানবিক বার্তা দিলেন ড. মাসুদ

দলীয় সিদ্ধান্তে অব্যাহতি পাওয়ার ঘটনায় যখন বাউফলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা, তখন মানবিকতা ও সৌহার্দ্যের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত সামনে আনলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নেতা ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের এমপি প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগপূর্ণ বার্তায় তিনি বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল জব্বার মৃধার প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থনের কথা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক ভিন্নতার ঊর্ধ্বে উঠে তার এই অবস্থান ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বার্তায় ড. মাসুদ বলেন, মহান আল্লাহ যেন আবদুল জব্বার মৃধাকে মানসিক প্রশান্তি দান করেন এবং তাঁর দয়া ও নিরাপত্তায় তাকে ও তার পরিবারকে আগলে রাখেন। তিনি দোয়া ও ভালোবাসার ভাষায় নেতার পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার বক্তব্যে আবদুল জব্বার মৃধার সততা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জব্বার মৃধা দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও সম্মান তিনি পাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আবদুল জব্বার মৃধার সততা ও নিষ্ঠা দেশ, জাতি ও ইসলামের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার এই মূল্যবোধ অটুট থাকবে বলেই তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক বিভক্তির এই সময়ে ড. মাসুদের এমন মানবিক বার্তাকে অনেকেই ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে রাজনীতি করলে তা শুধু দলীয় সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকে না, বরং মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

উল্লেখ্য, শনিবার পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল জব্বার মৃধাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে নার্সিং শিক্ষার্থীদের নতুন যাত্রা শুরু

পটুয়াখালীর বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবীনবরণ অনুষ্ঠান। এদিন নতুন করে ভর্তি হওয়া ৩৯ জন শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু করেন।

শনিবার দুপুর ১২টায় বাউফল উপজেলা নার্সিং ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই দিনটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। নার্সিং পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি মানবসেবার একটি মহান ব্রত। শপথের প্রতিটি বাক্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার পাশাপাশি নিজেদের আচরণ ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুর রউফ। তিনি বলেন, দক্ষ ও মানবিক গুণসম্পন্ন নার্স গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক আবদুল বারী সরকার, অহিদুজ্জামান সুপন, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, অতিথি ও শতাধিক নার্সিং শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে নবীন শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠ করান বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং ইনচার্জ মিনারা বেগম। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা মানবসেবার আদর্শে নিজেদের উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেন।

পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও নতুন স্বপ্নের উচ্ছ্বাস। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন আরও জোরদার করা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপিতে বড় ধাক্কা, দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজনীতিতে বড় ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবিলম্বে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একাংশ অনাগ্রহ দেখায়। মাঠপর্যায়ে নুরুল হক নুরের পক্ষে প্রত্যাশিত সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়।

একই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর তার পক্ষে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় নজরে আসে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন ভূমিকা রাখাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এর আগে বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে নুরুল হক নুরের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় দল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তার সঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তার দাবি, সিদ্ধান্ত নিতে কেন্দ্র কিছুটা দেরি করেছে। তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সঙ্গেই থাকবেন।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির চিঠি তারা হাতে পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে এই সিদ্ধান্ত বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় বার্তা দিচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান দেখিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচনি কৌশলে ভিন্নমত বা দ্বিমুখী ভূমিকার সুযোগ নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটার সৈকতে ফের ভেসে এলো মৃত ডলফিন

পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে আবারও একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সকালে সৈকতের পশ্চিম পাশের স্বপ্নরাজ্য পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির এক সদস্য।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপকূল, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সমন্বয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে গিয়েছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তাদের ধারণা, ডলফিনটি অন্তত একদিন আগেই মারা গেছে এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে তীরে এসেছে।

পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপকূলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ডলফিনটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। শরীরের অধিকাংশ চামড়া উঠে যাওয়ায় কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ ধরনের ঘটনা উপকূলের পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অশনিসংকেত।

ডলফিন সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলজুড়ে ডলফিন রক্ষায় তারা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বছরে কুয়াকাটায় এটি প্রথম মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা হলেও অতীতের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। তিনি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডলফিন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান জরুরি।

এ বিষয়ে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম মনিরুজ্জামান জানান, দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য দ্রুত ডলফিনটির মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলে একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি এবং ২০২৫ সালে ১১টি মৃত ডলফিন উপকূলে পাওয়া যায়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসেও চর-গঙ্গামতি এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরপর দুটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল।

পরিবেশবিদদের মতে, জাল পেঁচানো, নৌযান চলাচল, শব্দদূষণ কিংবা সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণেও ডলফিনের মৃত্যু হতে পারে। তবে নিয়মিত ময়নাতদন্ত বা বৈজ্ঞানিক গবেষণা না হওয়ায় এখনো এসব মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে উপকূলবাসীর মধ্যে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটের আগে কাবা ঘরে বাউফলবাসীর জন্য দোয়া ড. মাসুদের

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্যপ্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভোটের মাঠে নামার আগে পবিত্র ওমরা পালন করেছেন। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে ওমরা আদায় শেষে তিনি বাউফল উপজেলার মানুষের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন।

শুক্রবার পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে বাউফল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য দোয়া করেন ড. মাসুদ। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির মঙ্গল, ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্যও প্রার্থনা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ওমরা পালনকালে তিনি বিশেষভাবে বাউফলের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সামাজিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দ্বীনি পরিবেশ সুদৃঢ় করার জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি সামনে যে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেখানে যেন তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকতে পারেন—সে জন্যও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

ভোটের আগে একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম প্রার্থীর পবিত্র ওমরা পালনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বাউফল উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, নেতৃত্বে আল্লাহভীরু ও নৈতিক মানুষ এলে এলাকার সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

বাউফল পৌর এলাকার একাধিক মুসল্লি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, ভোটের আগে ড. মাসুদের ওমরা পালন তাদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন, একজন দ্বীনদার ও শিক্ষিত মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।

নাজিরপুর ইউনিয়নের এক মসজিদের খতিব বলেন, কাবা ঘরে দাঁড়িয়ে বাউফলবাসীর জন্য দোয়া করা নিঃসন্দেহে একটি বরকতময় ঘটনা। এতে এলাকার মানুষের জন্য কল্যাণ নেমে আসবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

এদিকে কলাইয়া ইউনিয়নের কয়েকজন তরুণ মুসল্লি বলেন, ড. মাসুদ রাজনীতির পাশাপাশি নৈতিকতা ও দ্বীনের কথা বলেন। ভোটের আগে ওমরা পালন করে তিনি দেখিয়েছেন যে ক্ষমতার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের আশা, পবিত্র ভূমি থেকে করা এই দোয়া বাউফল উপজেলার মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সামনের রাজনৈতিক পথচলাতেও এর শুভ ফল দেখা যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় সরিষার বেশি ফলনে কৃষক খুশি, লাভে মুখরোচক দৃশ্য

বরগুনা জেলায় সরিষার অধিক ফলনে কৃষকেরা খুশি। কুয়াশাছন্ন শীতের সকালে বরগুনার শিশিরে ভেজা হলুদ সরিষা ক্ষেত এক অপরূপ দৃশ্য উপস্থাপন করছে। বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী ও বেতাগীর বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন সোনালি সরিষার মধ্যে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমন ধান কেটে পতিত ও একফসলি জমিতে সরিষা চাষ বেড়েছে। কম খরচে স্বল্প সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে। এ বছর জেলায় বারি-১৪, ১৭, ১৮, ১৯ এবং টরি-৭সহ উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা চাষ হচ্ছে।

সরিষা তোলার পর একই জমিতে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব, যা কৃষককে এক জমিতে দুই ফসলের সুফল দেয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরগুনা সদর উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। বিশেষ করে নলটোনা ও বুড়িরচর ইউনিয়নে সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হলো বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৯ এবং বিনা সরিষা-১১।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িরচর ইউনিয়নের কৃষক হামেদ মৃধা (৬০) খরচ কম হওয়ায় ৪০ কড়া জমিতে সরিষার আবাদ করে মাত্র ১৪,০০০ টাকা খরচে ৪২,০০০ টাকা আয় করেছেন। ঢলুয়া নলটোনা ইউনিয়নের কৃষক রবিউল (৫৫) ২০ কড়া জমিতে ৭,০০০ টাকা খরচ করে তিন গুণ লাভ করেছেন। বেতাগীর গেন্দু মিয়া (৬২) জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার ফলন আরও বাড়বে।

বরগুনা শহরের ভ্রাম্যমাণ সরিষা তেল ব্যবসায়ী কাইয়ুম হোসেন (৫২) বলেন, গত তিন বছর ধরে তিনি সরিষার তেলের ব্যবসা করছেন। বরগুনায় সরিষার পর্যাপ্ত চাষ না হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের পাবনা জেলা থেকে সরিষা কিনে এখানে মেশিনে ভেঙে বিক্রি করেন। প্রতি লিটার সরিষার তেল বিক্রি করেন ২৪০ টাকায়, প্রতিমণ সরিষা ক্রয় করে ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৭–৮ হাজার টাকার তেল বিক্রি হয়।

সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর কৃষকদের প্রণোদনা ও বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নলটোনা ইউনিয়নে গাজীমাহমুদ গ্রামের সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরিষা একটি লাভজনক ফসল। প্রদর্শনী ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহী করা হয়েছে। বিনা চাষেও সরিষার আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর জেলায় সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। হলুদ ফুলে ভরা সরিষা ক্ষেত শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং কৃষকের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক। সচেতন মহল মনে করছেন, বরগুনার কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নিলে জেলায় ১২ মাস সরিষার আবাদ সম্ভব, যা মানুষের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫