ঘন কুয়াশায় আড়াল সূর্য, কনকনে শীতে বিপর্যস্ত বরিশাল

মেঘনা অববাহিকাসহ বরিশাল ও সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশার প্রভাব বাড়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। সূর্যের দেখা মিলেছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, তাও কুয়াশার আবরণ ভেদ করে। কর্মদিবস হলেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেক মানুষ ঘরের বাইরে বের হননি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে। ফলে কুয়াশা ও ঠান্ডার মিলিত প্রভাবে জনজীবনে অস্বস্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

গত প্রায় ১০ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিখাত—উভয় ক্ষেত্রেই। নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি নারী, পুরুষ ও শিশু শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীদের জন্য মেঝেতেও ঠাঁই দিতে হচ্ছে।

কৃষিখাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ২০ হাজার ৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ‘কোল্ড ইনজুরি’র ঝুঁকি বাড়ছে। কৃষিবিদরা বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়া গোল আলুতে ‘লেট ব্লাইট’ রোগ প্রতিরোধে ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হলেও, কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য শীতকালীন সবজির গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে গোল আলু ও ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হলেও বৈরী আবহাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

কনকনে ঠান্ডায় অনেক কৃষক ও কৃষিশ্রমিক সকালবেলা মাঠে নামতে পারছেন না। একই কারণে জেলেরা নদ-নদীতে মাছ ধরতে না পারায় বাজারে মাছের সংকটও দেখা দিচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূলসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বুধবার পর্যন্ত দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে আবার তাপমাত্রা কমতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনেও আবহাওয়ার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, মেঘনা অববাহিকায় ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মামলাটি দায়ের করেন বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ায় একই আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর দুদকের এক কনস্টেবল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের ঠিকানায় গিয়েও তাকে না পাওয়ায় একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার ঠিকানায় বাড়ির দরজায় সম্পদ বিবরণীর ফরমের মূল কপি টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়। নোটিস জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো বরিশালেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বরিশাল মহানগরীর কালীবাড়ী সড়কে সাদিক আবদুল্লাহর পৈতৃক বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়িটি ছেড়ে যেতে সক্ষম হলেও তার তালাবদ্ধ শয়নকক্ষে আটকা পড়ে সিটি করপোরেশনের এক সাবেক প্যানেল মেয়রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পবিপ্রবিতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বিশেষ শোকসভা

পটুয়াখালীর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শোকসভা পবিপ্রবি ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ, ছাত্রদল এবং জাতীয়তাবাদী কর্মচারীবৃন্দের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অমর প্রতীক। স্বৈরশাসন ও দমন-পীড়নের মুখেও তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় নিরলস সংগ্রাম চালিয়েছেন। তার প্রজ্ঞা, সাহসিকতা ও ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় থাকবে।” প্রধান অতিথি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম স্মরণ করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।

শোকসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. জামাল হোসেন, পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক ও সাধারণ সম্পাদক হাসিব মো. তুসার। বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান তুলে ধরেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পবিপ্রবি ইউট্যাবের সভাপতি মামুন অর রশিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম। আলোচনা শেষে পবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর আবুল বাশার খান, সিএসই অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. খোকন হোসেন, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল হক, প্রফেসর মো. জহুরুল হক, সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান সবুজ, পরিচালক (শরীরচর্চা) ড. মো. আমিনুল ইসলাম টিটো, মো. রিয়াজ কাঞ্চন শহীদসহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাঙ্গাবালী ও গলাচিপায় নদী থেকে ৩৩ লাখ টাকার অবৈধ জাল ধ্বংস

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলায় বিশেষ অভিযান “কম্বিং অপারেশন–২০২৬” এর আওতায় নদী ও খালে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযান চলাকালীন ধ্বংস করা জালের বাজারমূল্য প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও গলাচিপার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

অভিযানটি রাবনাবাদ নদী, জাহাজ মারা, মায়ার চর ও সোনার চর এলাকায় বিশেষভাবে চালানো হয়। এসময় নিষিদ্ধ বেহুন্দি ও চরঘেরা জাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যা নদীতে বৈধ মাছ আহরণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ইলিশসহ মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নদীতে অবৈধ জালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা এই ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, নদী ও মাছের প্রজনন রক্ষা করতে এমন অভিযান আরও জোরদার করা উচিত। মৎস্য বিভাগও জানাচ্ছে, অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংসের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে পাগল কুকুরের তাণ্ডব, ৩৫ জন হাসপাতালে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় হঠাৎ করে একটি পাগল কুকুরের হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক মানুষকে কামড়ানোর ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা একে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানিয়েছেন।

সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুমকির বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটি বেপরোয়া ভাবে ছুটে বেড়িয়ে পথচারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেউ কিছু বোঝার আগেই কুকুরটি একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাস এলাকা থেকে শুরু করে শ্রীরামপুর, রাজাখালী, পীরতলা বন্দর, দুমকি বাজার ও জলিশা গ্রাম পর্যন্ত কুকুরটির তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় চলাচলকারী মানুষজন হঠাৎ আক্রমণের শিকার হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ (১৯), ইউসুফ, মফিজুর রহমান (৭০), তানিয়া (সাড়ে ৩ বছর), মাহিনুর বেগম (৩৮), জব্বার ঘরামী (৬০), রিমা (২০), মনোয়ারা বেগম (৫৫), ফরিদা বেগম (৫০), নাইমুল (২), মাধবী রানী (৪০), জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮), খোকন (৪০), আবদুল লতিফ মৃধা (৮০)সহ আরও অনেকে। আহতদের বয়সের পরিসর দুই বছরের শিশু থেকে শুরু করে আশি বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত।

আহতদের দ্রুত দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেসরকারি লুথারন হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক রোগী আসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে কুকুরটির হামলা থামাতে প্রশাসনের নির্দেশে পবিপ্রবির নিরাপত্তাকর্মী, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে অভিযান চালান। পরে গ্রামীণ ব্যাংক সড়কের একটি বাড়িতে কুকুরটিকে আটকে ফেলতে সক্ষম হন তারা। এতে এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান।

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহিদুল হাসান শাহীন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই মুহূর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুত নেই। আহতদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনার পর স্থানীয়রা এলাকায় বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুর নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় ভাড়া বাসায় গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী আটক

পটুয়াখালীর পর্যটন শহর কুয়াকাটায় ভাড়া বাসা থেকে এক কিশোরী গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম আরিফা আক্তার (১৭)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রিফাত (২১)-কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফা আক্তার বরিশাল জেলার বায়োরগাতি এলাকার আ. খালেক হাওলাদারের মেয়ে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় চার মাস ধরে স্বামী-স্ত্রী ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রিফাত স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত, যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ছিল।

ঘটনার রাতে হঠাৎ করে ওই বাসা থেকে কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান আশপাশের লোকজন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আরিফা আক্তারকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় স্বামী রিফাতকে ঘরের কাছেই পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস বলেন, রাতের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনে সবাই ছুটে আসে। ঘরের ভেতরের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। আরিফা নিথর হয়ে পড়ে ছিল। আরেক বাসিন্দা শহিদ জানান, তিনি ঘুমের মধ্যেই কান্নার শব্দে জেগে ওঠেন। বাইরে এসে দেখেন এলাকায় মানুষের ভিড়, পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। সঠিক রহস্য উদঘাটনে সিআইডির একটি টিমকে অবহিত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কুয়াকাটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাঙ্গাবালীতে নিজ ঘরেই মিলল শিশুর বস্তাবন্দি লাশ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর আয়েশা আক্তার (১১) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। নিজ বাড়ির রান্নাঘরের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় লুকিয়ে রাখা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামে বাবুল প্যাদার বাড়ি থেকে আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে নিজ ঘরের মধ্যেই এমন নির্মম চিত্রের মুখোমুখি হতে হয় তাদের।

নিহত আয়েশা মাঝনেতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। স্বজন ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করলেও কোনো তথ্য মেলেনি। নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

রোববার দুপুরে বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণে রাখা বড় একটি বস্তার প্রতি পরিবারের এক সদস্যের সন্দেহ হয়। বস্তাটি খুলে দেখতেই ভেতরে পাওয়া যায় নিথর আয়েশার মরদেহ। মুহূর্তেই কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খবর পেয়ে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শিশুটিকে হত্যার পর পরিকল্পিতভাবে মরদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এটি একটি নির্মম ঘটনা। কীভাবে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে। এ উপলক্ষে যাত্রাপথজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ সংসদ ভবনে নেওয়ার পর জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করা হবে।

প্রেস সচিব আরও জানান, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জানাজা অনুষ্ঠান বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে। তবে দাফন কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের দায়িত্ব থাকবে কেবল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ওপর।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি হারাল এক মহান অভিভাবক: প্রধান উপদেষ্টা

দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় দেওয়া ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সমগ্র জাতি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এই অগ্রগণ্য নেত্রী আর আমাদের মাঝে নেই—এটি জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

ভাষণে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।

এই শোকাবহ সময়ে মরহুমার পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন সবাই এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য লাভ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি খালেদা জিয়ার অবদান চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল অবস্থান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে। একই সঙ্গে শোকের সুযোগ নিয়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা যেন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাঁর নামাজে জানাজার দিন বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়। জানাজাসহ সব শোকানুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানান তিনি।

শেষে প্রধান উপদেষ্টা মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর জন্য ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্য কামনা করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ব্যাগভর্তি পাখি শিকার করলেন বরগুনার দুই কারারক্ষী

বরগুনায় প্রকাশ্যে এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছে জেলা কারাগারে কর্মরত দুই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে বাধা দিলে শিকার করা পাখিভর্তি ব্যাগ ও এয়ারগান নিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন অভিযুক্তরা।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল কাদের সড়কে। অভিযুক্তরা হলেন বরগুনা জেলা কারাগারের কারারক্ষী মো. হাফিজুর রহমান এবং সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. রফিকুল ইসলাম

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনায় কর্মরত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের স্টাফ রিপোর্টার ও চিত্র সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ওই সড়কে দুই কারারক্ষীকে পাখি শিকার করতে দেখেন। তারা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিকার বন্ধের অনুরোধ জানালে অভিযুক্তরা সঙ্গে থাকা ব্যাগভর্তি শিকার করা পাখি ও এয়ারগান নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে এক কারারক্ষীর হাতে একটি ডাহুক পাখি এবং অপরজনের হাতে একটি এয়ারগান দেখা যায়। মোটরসাইকেলে ঝুলানো ব্যাগে অন্তত ২৫টি শিকার করা পাখি ছিল বলে দাবি করা হয়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় সাংবাদিকদের সামনে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে কারারক্ষী মো. হাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং নিজের মোটরসাইকেলে বের হলে সহকর্মী মো. রফিকুল ইসলাম তার সঙ্গে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারার পর রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে এবং এয়ারগান জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার কাছ থেকেও লিখিত ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বরগুনার পরিবেশকর্মী মুশফিক আরিফ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে বন বিভাগের বরগুনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বলেন, তিনি বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। খোঁজ নিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫