পুলিশ ফাঁড়িতে তালাবদ্ধ হয়ে থাকছে সদস্যরা: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নারী কর্মী ও সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রহমতপুর বাজার এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তিনি এমন সব এলাকায় গণসংযোগ করছেন, যেখানে আগে কোনো প্রার্থী পৌঁছাননি। ভোটারদের কাছ থেকেই তিনি শুনেছেন—তাদের এলাকায় এই প্রথম কোনো প্রার্থী সরাসরি এসেছেন। এভাবেই তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা নিয়ে। তারা জানতে চাইছে—ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে কি না এবং ভোট দেওয়ার পর এলাকায় নিরাপদে থাকতে পারবে কি না। এই অনিশ্চয়তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদের অভিযোগ, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এলাকায় সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তারা মূলধারার রাজনৈতিক কর্মী নয়; বরং হাইব্রিড অপরাধী ও গ্যাংস্টার। এরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করছে এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে বিপদের হুমকি দিচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, মুলাদীর একাধিক এলাকায় তাঁর জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নারী ভোটার ও নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, এলাকা ছাড়া করা ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকেও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোটারদের ভয় দেখানো চক্রের সদস্যদের নাম ও ছবি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বেআইনি তৎপরতা দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুলাদীর বাটামারা ও ছবিপুর এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে দরজা-জানালা বন্ধ করে ফাঁড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর মতে, যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ছাড়া এসব এলাকায় নির্ভয়ে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এই আসনের অনেক ভোটকেন্দ্রই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত ব্যবহারের এখতিয়ার সরকারের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: ফয়জুল করীম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল সদর উপজেলায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভয়ভীতি, হয়রানি ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ চলমান থাকলে জনগণের প্রত্যাশিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে গ্রেপ্তারসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্বাভাবিক করে তুলছে।

ফয়জুল করীম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে সরকার ও প্রশাসনকে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছাড়া কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠে সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার পরও যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাররা দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়—এই বাস্তবতা প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলুম, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও গুন্ডামিমুক্ত রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন এই দলের প্রতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেরপুরে প্রাণহানির ঘটনা, ভোলায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং বরিশালে ভয়ভীতির পরিবেশকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা কামনা করেন।

নারী ভোটারদের বিষয়ে ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামে নারীদের মর্যাদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণেই নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ হাতপাখা প্রতীকের প্রতি আস্থাশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে নারী ভোটারদের এই সমর্থন আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি মনে করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ না থাকায় মাঠে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তবে শান্তি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে হাতপাখা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দুমকিতে যুবদলের নির্বাচনী কর্মশালা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-১ (মির্জাগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালী সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরই ধারাবাহিকতায় দুমকি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কর্মশালা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে দুমকি উপজেলা বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী প্রচার টিমের সমন্বয়ক সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান রুমী।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচনী প্রচার টিমের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট এবিএম মহসিন বিশ্বাস, খন্দকার মো. রিয়াজ, অ্যাডভোকেট এম. এ. মজিদ (মানিক) এবং সাইফ খান মিজান। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় যুবদল, বিএনপি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী টিমের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মশালায় অংশ নেন।

আলোচনায় বক্তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, কেন্দ্রভিত্তিক শক্তিশালী টিম গঠন, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে প্রচারণা পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীলভাবে মাঠে কাজ করাই যুবদলের প্রধান দায়িত্ব।

কর্মশালায় আরও বলা হয়, পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের পক্ষে জনমত ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন সংগঠিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমে সেই জনসমর্থনকে ভোটে রূপান্তর করা। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ড ও কেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

শেষে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সঠিক কৌশল, দলীয় ঐক্য এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের একটি এলাকায় ওই নারী নিজ বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে সংঘবদ্ধভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরিবার জানায়, ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ঘটনার সময় নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।

ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর স্বামী বুধবার বিকেলে রাজাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সন্দেহভাজন চার যুবককে চিহ্নিত করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মঠবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল সিকদার (২৩), মো. রাহাত হোসেন খান (১৯), মো. জহির রায়হান ব্যাপারী (২০) এবং মো. সাগর হোসেন হাওলাদার (২০)। বুধবার রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। তিনি বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট ও তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত সত্যতা আরও স্পষ্ট হবে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চার যুবককে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একজন অন্তঃসত্ত্বা ও প্রতিবন্ধী নারীর ওপর এমন নৃশংসতা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠি জামায়াতের কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আব্দুল করিম শিকদারের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজাপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

বিকেলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি রাজাপুর বাইপাস সড়কসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা বন্ধ, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কবির হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় একজন কর্মীর ওপর হামলা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করার শামিল। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বানী পত্রিকার প্রকাশক অ্যাডভোকেট শাহ আলম, এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক শাকিল আহমেদ, মুখ্য সমন্বয়ক তানিম আহমেদ, এনসিপির যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক বদিউন নবি পলাশ এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি এনামূল ইসলাম। বক্তারা বলেন, হামলার ঘটনার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এখনো গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত বিএনপির যুবদল নেতা ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বাচ্চু হাওলাদারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হামলার ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমাবেশে নেতারা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সহিংসতা ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হলে সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচনের সময় এ ধরনের হামলা রাজাপুরসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধৈর্যের বার্তা নুরের, সহিংসতার রাজনীতি চান না

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি দলীয় জোট সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না এবং সহিংসতার পথেও হাঁটতে চান না।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, চাইলে তিনি শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতেন, তবে সচেতনভাবে ধৈর্য ও সংযমের পথ বেছে নিয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি কোনো সংঘাত বা প্রতিশোধের রাজনীতি চান না।

জনসভায় নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, আগের দিন গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ট্রাক প্রতীকের একটি মিছিল চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকেরা বাধা সৃষ্টি করে। এ সময় তার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। নুরের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে।

নির্বাচনী বাস্তবতা ও সমীকরণ তুলে ধরে নুর বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির কোনো আলাদা প্রার্থী নেই। বিএনপি দলীয়ভাবে তাকে সমর্থন দিয়েছে এবং তিনি বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের যৌথ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি দাবি করেন, এই আসনে জোটের প্রার্থীর বিজয়ই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না এলে এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে ইঙ্গিত করে নুরুল হক নুর বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে কে এমপি হবেন। হুমকি, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে ভোট আদায় সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

জনসভায় নুরুল হক নুর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হলে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে বাহিনী–প্রশাসনের সমন্বয়ের তাগিদ সেনাপ্রধানের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পটুয়াখালী সফর করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বরিশাল এরিয়ার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই সমন্বয়ের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্ব পালনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মতবিনিময়কালে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ধৈর্যশীল ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, সামান্য অসতর্কতাও নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন এমন অনেক ভোটার রয়েছেন। এই বাস্তবতায় ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি বড় দায়িত্ব, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

এই সফরে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার বরিশাল এরিয়া, সেনাসদর ও বরিশাল এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধানের এই পরিদর্শন মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও সমন্বয়কে আরও কার্যকর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজাকার মন্তব্য ও এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি, বাউফলে বক্তব্য ঘিরে তীব্র আলোচনা

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। এই উত্তাপের মধ্যেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার এক নির্বাচনী সভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হলে কিছু ব্যক্তিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠক ও একটি নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শহিদুল আলম তালুকদার। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামনে তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক হিসেবে তুলে ধরেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করে ভোটারদের প্রতি আবেগী আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজাকাররা সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং দেশের মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। তার দাবি, যাদের অতীত বা অবস্থান নিয়ে এমন প্রশ্ন রয়েছে, তাদের ভোট দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ সময় সভায় উপস্থিত সমর্থকরা তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ভোট প্রার্থনার অংশ হিসেবে শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, তার রাজনীতি ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কিছু মানুষকে বাউফল ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং নির্বাচনের পরদিনই এলাকায় তাদের আর দেখা যাবে না। নিজের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন প্রবীণ মানুষ হিসেবে তাকে এখন একজন ‘নব্য রাজাকারের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবনের অতীত টেনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগকে তিনি ব্যক্তিগত শত্রু মনে করেন না। যারা ভালো কাজ করবে, দল-মত নির্বিশেষে তারা তার কাছে গ্রহণযোগ্য। আর যারা দেশের ক্ষতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই আসনে শহিদুল আলম তালুকদারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বর্তমানে কার্যকর নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ১৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকেরা ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য, মানহানিকর মন্তব্য কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না—এমন নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে আলোচিত এই বক্তব্য আচরণবিধির আলোকে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পায়রার গ্রাসে দুমকি, ভিটেমাটি হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদী তীরবর্তী শতাধিক পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুমকির আঙ্গারিয়া, বাহেরচর ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রাম এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবুখালী থেকে আলগী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে শতাধিক ঘরবাড়ি একের পর এক নদীতে চলে গেছে। অনেক পরিবার ঘর হারিয়ে বাধ্য হয়ে সরকারি সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙনের শঙ্কায় তারা রাত কাটাচ্ছেন। আলগী গ্রামের ইউপি সদস্য সরোয়ার শিকদার বলেন, এখন মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নিরাপদ নেই। ভাঙনের কারণে শুধু বসতবাড়ি নয়, জীবন-জীবিকা সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে নদী ভাঙনে গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও বাগান নদীগর্ভে চলে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বা পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়ছে না। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব জানান, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পায়রা নদীর ভাঙন আরও বিস্তৃত হবে। এতে শুধু কয়েকটি গ্রাম নয়, পুরো এলাকার মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইনি লড়াইয়ে জয়, ট্রাক প্রতীকে পিরোজপুর-২ তে ফিরলেন মুন্না

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. আনিছুর রহমান মুন্না তার মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পিরোজপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তাকে দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে মাত্র দুই মিনিট দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু সাঈদ তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রার্থী ও তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, সময়ের সামান্য ব্যবধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মো. আনিছুর রহমান মুন্না আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন এবং পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আনিছুর রহমান মুন্না বলেন, ন্যায়ের পথে থেকে আইনি লড়াই করেছি এবং শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন তিনি জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারবেন। পিরোজপুর-২ আসনের মানুষের অধিকার রক্ষা, উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান।

প্রতীক বরাদ্দের খবরে কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ এলাকায় তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তারা এটিকে ন্যায়ের বিজয় হিসেবে দেখছেন এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম