নির্বাচন ঘিরে বরিশালে যৌথ বাহিনীর কড়া অভিযান, বসানো হলো ১৩ চেকপোস্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল নগরীতে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান। নগরজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, বসানো হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার এবং যেকোনো নাশকতামূলক তৎপরতা রোধ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

যেসব এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে সেগুলো হলো—নথুল্লাবাদ, গড়িয়ারপাড়, আমতলার মোড়, জিলা স্কুল মোড়, জেলখানার মোড়, তালতলী ব্রিজ, কাশিপুর, দিনারের পুল, মরখোলার পোল, চৌমাথা, দপদপিয়া ব্রিজ, কালিজিরা ও রহমতপুর।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নগরীতে মোট ১৩টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্ট প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। নিয়মিত পুলিশি টহলের পাশাপাশি বাড়তি তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, “সরকারের প্রধান লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। যৌথ বাহিনীর এই অভিযান তারই অংশ। নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করতে পারে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হুমকি অবৈধ অস্ত্র ও পেশাদার অপরাধীরা।”

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এবং দাগী আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য ও সহিংসতায় জড়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদেরও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তল্লাশি আরও জোরদার করা হবে।

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিজয় নিশ্চিত, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুর

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনের বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, “বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা হবে। আমি আপনাদের নিয়েই কাজ করতে চাই, আপনাদের পাশেই থাকতে চাই।”

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে হযরত গেদু শাহ চিশস্তি (রহ.)-এর ৪৯তম বাৎসরিক ওরস মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওরসের মঞ্চে নুর বলেন, ওয়াজ মাহফিল যেমন আমাদের সংস্কৃতির অংশ, তেমনি ওরস মাহফিলও এই দেশের বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি। এখানে বাউলসহ নানা সম্প্রদায় ও সংগঠনের মানুষ একত্রিত হয়েছেন। প্রত্যেক মানুষেরই কথা বলার, অনুষ্ঠান করার স্বাধীনতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কাউকে বাধা দেওয়া, গায়ের জোরে হামলা করা কিংবা কোনো অনুষ্ঠান ভাঙচুর করার রাজনীতি তারা করেন না। এসব করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য বাড়ে। “আমি এখানে এসেছি আপনাদের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানাতে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপনাদের পাশেই থাকব,”—বলেন নুর।

দশমিনা ও গলাচিপা অঞ্চলের সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোথাও কোথাও তাদের ব্যবসা ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নুর বলেন, ৫ আগস্টের পর গলাচিপায় তিনি বেশিরভাগ হিন্দু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেছেন—ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ আক্রান্ত হলে যেন সরাসরি তাকে জানান। “ব্যবসা করতে গেলে কাউকে এক পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না। আমাদের দলের কেউ যদি চাঁদাবাজি বা হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না,”—হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে নুর জানান, দশমিনা ও গলাচিপাকে তিনি রাজনৈতিক সম্প্রীতির একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সেখানে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ সব দলের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে অংশ নেবেন, কুশল বিনিময় করবেন। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কেউ কারও ওপর হামলা করবে না, মামলা দেবে না, জুলুম করবে না—এমন ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়াই তাদের লক্ষ্য।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। গায়ের জোরে বাধা দেওয়া কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

ওরস মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাদীর রক্তের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে : জয়নুল আবেদীন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাহসী যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান বিন হাদীর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) আসনের ধানের শীষের মনোনীত এমপি প্রার্থী সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

সোমবার বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা এলাকায় শহীদ হাদীর শ্বশুর সুলতান আহমেদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি পরিবারের খোঁজখবর নেন, তাঁদের কষ্টের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন,
“শহীদ ওসমান বিন হাদী ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন এক সাহসী কণ্ঠ। তিনি কেবল একটি পরিবারের সন্তান নন—তিনি গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা ও সংগ্রামের প্রতীক। তাঁর হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।”

তিনি আরও বলেন,
“শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। তাঁদের রক্ত থেকেই জন্ম নেয় নতুন ইতিহাস। শহীদ হাদীর রক্ত আমাদের ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও বেগবান করবে।”

পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন,
“আপনাদের এই শোক আমাদের সবার শোক। এই কঠিন সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। ইনশাআল্লাহ, শহীদ হাদীর রক্তের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে।”

এ সময় তিনি শহীদ ওসমান বিন হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের জন্য ধৈর্য, শক্তি ও সাহস কামনা করেন।

এ উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শহীদ হাদীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তথ্য অধিকার নিশ্চিত হলে শক্তিশালী হবে সুশাসন

বরিশাল অফিস :: তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে বরিশালে একটি টাউনহল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুব সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সভায় তথ্য অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বরিশালের প্যাভিলিয়ন কনভেনশন হলে ‘তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর অর্থায়নে সভার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী ও যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন লাল সবুজ সোসাইটি।

সভায় তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা, সরকারি তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের অধিকার, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার নিশ্চিত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা শক্তিশালী হয় এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ে।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, তথ্য অধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, যুব সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। আলোচকরা তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, তথ্য চাওয়া ও পাওয়ার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। কিন্তু কাঠামোগত দুর্বলতা, অসচেতনতা, মাধ্যম সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্টদের দুর্বল ভূমিকার কারণে অনেক নাগরিক এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে এসেও কেন মানুষ তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে—তা নিয়ে এখনই ভাবা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মহসিনা হোসেন বলেন, “সময় এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা এখনো প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। তথ্য মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক পেজ—কার্যকরভাবে ব্যবহার করা জরুরি।”

সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মৃদুল চৌধুরী বলেন, “তথ্য অধিকার আইন একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রভাবশালী আইন। সরকার এই আইন প্রণয়ন করলেও জনগণ সরাসরি এটি ব্যবহার করতে পারে। কেউ তথ্য চাইলে প্রশাসন তা দিতে বাধ্য।”

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি সাজ্জাদ পারভেজ তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে দপ্তরগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দেন।

এর আগে লাল সবুজ সোসাইটির প্রজেক্ট অফিসার মোমেনা সিফা রুমকি সভার লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানান।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে নাগরিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার সহজে আদায় করতে পারবে এবং দেশজুড়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে বরিশাল

অপূর্ব অপু,সময় টেলিভিশন, বরিশাল ব্যুরো ::  ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল। ব্রিটিশ যুগে বরিশালকে বলা হতো প্রাচ্যের ভেনিস। প্রকৃতিই যেন এক অনন্য রূপে গড়েছে কীর্তনখোলার পাড়ের বরিশালকে। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত একসঙ্গে দেখার দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। রয়েছে বরগুনার সবুজ বন, ভোলার চর কুকরিমুকরিসহ নানা সৌন্দর্য। প্রকৃতির এতসব লীলাভূমিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের অপার দ্বার উন্মোচন হয়েছে বিভাগটিতে। তবে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সেই সম্ভাবনা।

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়, হয়ত মানুষ নয় হয়তোবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে….। শুধু ধানসিঁড়িই নয়, বরিশালকে রূপবতী করেছে কীর্তনখোলা, পায়রা, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, বিশখালি, আগুনমুখার মতো নান্দনিক নামের বেশ কয়েকটি নদী। ঔপনিবেশিক যুগে বরিশাল হয়ে উঠেছিল বাংলার আধুনিকতার প্রাণকেন্দ্র।

বরিশাল শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে মাধবপাশা দুর্গা সাগরদিঘি। ৫৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তীর্ণ দিঘিটিকে একনজর দেখতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। সেখানে থেকে একটু এগুলেই চোখজুড়ানো বিভাগের সবচেয়ে নান্দনিক মসজিদ, বায়তুল আমান জামে মসজিদ। আছে আড়াইশ বছরের পুরানো গ্রিক স্থাপত্য শৈলীর অনুকরণে স্থাপনা, শহরের বগুড়া রোডে- অক্সফোর্ড মিশন চার্চ। দেখতে একতলা হলেও উচ্চতায় প্রায় ৫ তলা ভবনের সমান। শহর থেকে দক্ষিণে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে তালতলি এলাকায় কীর্তনখোলা নদীতে যে স্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়েছে, তা এখন আরেক দর্শনীয় স্থান।

রাফি নামে এক পর্যটক জানান, বরিশালের অধিকাংশ পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব রয়েছে। যেমন রাস্তাঘাট অনুন্নত তেমনি অভাব রয়েছে সড়কবাতির। সরকার এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াবে বলে আশা পর্যটকদের।

কুয়াকাটা দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। এ সৈকতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভ্রমণের আরেক নতুন স্পট ‘চর বিজয়’। লাল কাঁকড়া ও পরিযায়ী পাখিদের মিলন মেলায় জায়গাটি মুখরিত থাকে প্রতিটি মুহূর্ত। সৈকত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা চরটিতে বাড়ছে পর্যটক।

আরিফ নামের এক পর্যটক জানান, সম্ভাবনাময় কুয়াকাটার দিকে আরও নজর দেয়া উচিত সরকারের। সরকারি উদ্যোগ বাড়লে আরও পর্যটক বান্ধব হয়ে উঠবে কুয়াকাটা।

দ্বীপ জেলা ভোলা প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ভোলাবে তার অরুপ সৌন্দর্যে। জেলার চর কুকরীমুকরীতে প্রতিদিন ভিড় করেন হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী। আকাশের বুকে অতিথি পাখির ছুটে চলার নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে নিজেকেও দুরন্ত করে মন। একইরকম রূপ মনপুরা ও ঢালচরেও।

তবে প্রতিবছরই পর্যটক সংখ্যা বাড়লেও, বাড়েনি কাঙ্ক্ষিত সুযোগ সুবিধা। বেসরকারি উদ্যোগে কিছু রেস্টহাউজ থাকলেও সরকারি কার্যক্রমে ভাটা। আবিদ নামে এক পর্যটক জানান, সম্ভাবনাময় এই জায়গা শুধু সরকারের উদ্যোগের অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছে পর্যটকরা। আশা করছি সরকার দৃষ্টি দেবে।

সমুদ্রের ঢেউয়ের মিতালী নিয়ে বরগুনার হরিণঘাটা ইকোপার্ক এবং ট্যাংরাগিরি ইকো পার্কের মায়ায় পড়তে হবে যে কাউকে। জেলার তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় সম্ভাবনাময় পর্যটনের দ্বার উন্মোচন করেছে সবুজ বন। তালতলী উপজেলায় রয়েছে ২০০ বছরের পুরোনো আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় উপাসনালয়। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ট্যাংরাগিরি বনাঞ্চল এবং এ বনে অবস্থিত বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র। এছাড়াও রয়েছে শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। পাথরঘাটা উপজেলায় হরিণঘাটা ইকোপার্ক লালদিয়া চর বিহঙ্গ দ্বীপ রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমৃদ্ধ এই স্থানগুলো পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় স্থান।

তবে নানা সংকটে বিকশিত হচ্ছে না জেলার পর্যটন শিল্প। জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, তালতলী টেংরাগিরি ইকোপার্ক, দুইশ’ বছরের পুরোনো রাখাইন আদিবাসীদের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় উপাসনালয়, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, পাথরঘাটার হরিণঘাটা ইকোপার্ক, লালদিয়া চর, বিহঙ্গ দ্বীপ, বরগুনার সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্ট রয়েছে। এসব জায়গাগুলো ভ্রমণের জন্য উৎকৃষ্ট মানের। কিন্তু সরকারের এদিকে নজর নেই। যে কারণে এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ স্থানগুলোর ভগ্নদশা।

আরও পড়ুন: দীর্ঘ সময় পর স্বস্তি, নীল জলরাশিতে মাতোয়ারা পর্যটকরা

এগুলোকে সংস্কার করলে বরগুনা জেলার পর্যটন শিল্প এগিয়ে যাবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে থেকেও বিকশিত হচ্ছে না বরিশাল বিভাগের পর্যটনশিল্প। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতাকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি সোহেল হাফিজ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যটনের বিষয়ে সচেতন নয়। তাছাড়া সরকারেরও এ বিষয়ে উদাসীনতা রয়েছে। এখানে উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না। আবার উদ্যোক্তা তৈরির জন্য কোনো উদ্যোগও নেই। অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটকরা এখানে আসলে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হন। থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা নেই। যাতায়াত ব্যবস্থার করুন অবস্থা। এজন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেরও প্রয়োজন। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য মৌলিক কিছু চাহিদা পূরণ করলেই জেলাটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছাদুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ও পর্যটকবান্ধব স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সরকারি উদ্যোগের কারণে প্রতিনিয়ত আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে পর্যটন এলাকাগুলো। দ্রুত এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, আকাশ ও সড়ক পথের পাশাপাশি রাজধানী থেকে বরিশালের ৬ জেলায় আসতে নদী পথের বিলাসবহুল লঞ্চ এখনও পছন্দের তালিকায় এ অঞ্চলে ঘুরতে আসা পর্যটকদের।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৫: জামায়াত প্রার্থী রাখবে কি না, এখনো অনিশ্চয়তা

বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্নে নতুন করে রাজনৈতিক তর্ক ও আলোচনা চলছে। ইসলামী দলগুলোর জোটগত সমঝোতা, অতীত নির্বাচনী ফলাফল এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তৎপরতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম উভয়েই বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সম্প্রতি অ্যাডভোকেট হেলালকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কমিটির অন্য কোনো সদস্য এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। ফলে বরিশাল-৫ আসনে জামায়াত সরাসরি প্রার্থী দেবে কি না, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

অ্যাডভোকেট হেলাল জানিয়েছেন,“ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ছাড়া আর কেউ একাধিক আসনে মনোনয়ন দাখিল করেননি। সুতরাং একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই থাকে। বরিশাল-৫ আসনটি জোট বিবেচনায় জামায়াতের দাবির মধ্যেই থাকবে। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”

তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এই আসনে প্রার্থী থাকবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত এককভাবে জামায়াতের নয়, পুরোপুরি জোটের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।

অপরদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ফয়জুল করিম বরিশাল-৫ আসনকে ‘আমিরের আসন’ হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি এই আসনের পাশাপাশি আরও একটি আসনেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জোটের বৃহত্তর স্বার্থে বরিশাল-৫ আসনে সরাসরি প্রার্থী না দেওয়াই কি বাস্তবসম্মত হবে—এ বিষয়ে জামায়াতের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের হেলালকে প্রার্থী করা হতে পারে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের ফয়জুল করিম ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ১১.৩০% ভোট পেয়ে তৃতীয় হন এবং ২০০৮ সালে ১১.৬০% ভোট পান। ২০১৮ সালে তিনি জামানত হারান। তবে ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৩,৮২৮ ভোট পান।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইতিহাস বরিশাল সদর আসনে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ১৯৯১ সালের উপনির্বাচনে প্রার্থী প্রায় ৫ হাজার ভোট পান, ১৯৯৬ সালে প্রায় ৪ হাজার ভোট পান। এরপর দীর্ঘ সময় এই আসনে সরাসরি প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।

সব মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসন ইসলামী জোট রাজনীতির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জামায়াত প্রার্থী রাখবে নাকি জোটের স্বার্থে আসন ছাড়বে—এ সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সৌদির সড়কে থেমে গেল বরিশালের মিজানুরের স্বপ্ন

বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। চোখভরা ছিল সচ্ছল জীবনের আশা, বুকভরা ছিল বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসজীবনের মাত্র এক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবন, নিভে গেল একটি পরিবারের আশার আলো।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিজানুর রহমান (৩০)। তিনি বরিশাল জেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের বড় ছেলে।

জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে যান মিজানুর। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে কাজ করতেন শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

মিজানুরের মৃত্যুর খবর প্রথমে পরিবার বিশ্বাসই করতে পারেনি। বিদেশে থাকা সন্তানের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে নেমে আসে গভীর নীরবতা। তার স্ত্রী বারবার প্রশ্ন করছেন—এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে কেন? সাড়ে তিন বছরের অবুঝ কন্যাশিশুটি এখনও জানে না, আর কোনো দিন বাবার কোলে ওঠা হবে না।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চাচা সালাম শরীফ বলেন, “মিজানুর পরিবারের বড় ছেলে ছিল। সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে চেয়েছিল।”

চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ বলেন, “মিজানুর ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”

মিজানুর রেখে গেছেন স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই ও তিন বোনসহ অসংখ্য স্বজন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের বড় একটি অংশ। হঠাৎ এই মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। স্বজনদের একটাই আকুতি—অন্তত শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেশে এনে নিজের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে চান তারা।




প্রেমিকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, পায়রা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা কাটাকাটির জেরে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক কলেজছাত্রী। রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পায়রা সেতু এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

জানা গেছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করা কলেজছাত্রীর নাম তানজিলা। তিনি বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় পায়রা সেতুতে অবস্থান করছিলেন তিনি। হঠাৎ নদীতে ঝাঁপ দিলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। দ্রুত লেবুখালী সেনানিবাসের সেনাসদস্যদের সহযোগিতায় জেলেদের নৌকা ব্যবহার করে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর তানজিলাকে দ্রুত লেবুখালীর ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, তানজিলার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায়। তার প্রেমিক সজিব একই এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। পরিবারের দাবি, সেই অভিমান থেকেই তানজিলা এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া তিনি আত্মহত্যার আগে ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন বলেও জানা গেছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায় এবং শিক্ষার্থীর পরিবারকে অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মেয়েটি বর্তমানে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সচেতন মহল তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্র দখলের ছক: বরিশাল-৩ আসনে শঙ্কা প্রকাশ ব্যারিস্টার ফুয়াদের

ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকায় জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যাশিত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে অস্ত্রের মহড়ার প্রস্তুতির তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নির্বাচনের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে প্রকৃত অর্থে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন হবে ঈদের আনন্দের মতো। কিন্তু ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এবং আগেভাগেই কেন্দ্র দখলের ছক কষে রাখলে সেই নির্বাচন কখনোই ভালো হতে পারে না।

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আটক নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের প্রবণতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, জোটের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে নেতাকর্মীদের নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। কোন ধরনের প্রচারণা আইনসম্মত এবং কোনটি নয়—সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের নামে ও বেনামে ব্যানার-পোস্টার ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এসব অনিয়মের বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

সবশেষে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে—এমন আস্থা তৈরি হয় না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচন আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. সৌরভ সরদার, এবি পার্টির জেলা সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বি, যুগ্ম-আহ্বায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তানভীর আহমেদসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোট মানেই কি শুধু ব্যালটে সিল? গণভোট নিয়ে বিভ্রান্ত বরিশালের মানুষ

ভোট বলতে আমরা সাধারণত ব্যালট পেপারে সিল মারাকেই বুঝি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি বিষয়—‘গণভোট’। এই শব্দটি শুনে অনেক সাধারণ ভোটারই এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না, আসলে গণভোট কী এবং কেন তা দিতে হবে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাবুগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা দুলাল গাজী একটি চায়ের দোকানে বসে বলেন,“ভোট বলতে তো কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটে সিল মারাকে বুঝি। কিন্তু গণভোট কী, সেটা তো জানি না।”

একই এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাষ্য,“আমরা তো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপারে ভোট দিতেই অভ্যস্ত। গণভোটের বিষয়ে কিছুই জানি না। এলাকায় এ নিয়ে কোনো প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়েনি। মানুষকে এটা বোঝানো দরকার।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একসঙ্গে গণভোটও হবে। সরকারিভাবে গণভোট নিয়ে প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও বরিশাল শহরের কিছু স্থানে সীমিত প্রচার দেখা গেলেও উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তা তেমন চোখে পড়ছে না।

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ আসনের নতুন ভোটার রিমন খান বলেন,“শুনেছি এবার দুইটা ভোট দিতে হবে—একটা সংসদ নির্বাচনের, আরেকটা গণভোট। কিন্তু গণভোটটা কী জন্য, কেন দেব—সেটাই বুঝি না। ক্যাম্পেইন করে না বোঝালে সাধারণ মানুষ বিষয়টা বুঝবে না।”

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর এলাকার আবুল কালাম বলেন,“এ বিষয়ে আমার কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। শুধু শুনেছি সেখানে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিতে হবে। এর বেশি কিছু জানি না।”

শিক্ষকরাও বলছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে স্পষ্ট ধারণার ঘাটতি রয়েছে। বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা কামাল বলেন,“গণভোটে যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর মতামত নেওয়া হবে, সেগুলো সম্পর্কে সাধারণ ভোটারদের স্বচ্ছ ধারণা নেই। বিষয়গুলো সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে। এজন্য আরও জোরালো প্রচার-প্রচারণা দরকার।”

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন বলেন,
“গণভোট সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে জেলার সব উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণামূলক ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়েও উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে।”

বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৮ জন। এর মধ্যে—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৩,২৩,৮১৭ জন
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): ৩,৮০,৪৯৬ জন
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৩,২৭,৮৯৫ জন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): ৪,১৭,০৫৪ জন
  • বরিশাল-৫ (সিটি-সদর): ৪,৯৩,৯৫০ জন
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): ৩,১০,৪৯৭ জন

গণভোটে ভোটারদের চারটি বিষয়ের ওপর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে হবে। বিষয়গুলো হলো—

  1. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
  2. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা
  3. ৩০টি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব
  4. অন্যান্য সাংবিধানিক সংশোধনী

গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এখন প্রশ্ন একটাই: ব্যালটে সিল দেওয়ার বাইরে এই নতুন ভোট আসলে কী? সাধারণ মানুষের ভাষায় গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রভাব বোঝাতে না পারলে ভোটের দিন অনেক ভোটারই বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয়রা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম