বয়সে বৃদ্ধাশ্রমেই আশ্রয় চার সন্তানের মায়ের

জীবনের পুরোটা সময় সন্তানদের মানুষ করতে সংগ্রাম করেছেন ঊষা রাণী। অথচ বয়সের শেষ প্রান্তে এসে সেই চার সন্তানের জননীকেই আশ্রয় নিতে হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানের সুখের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেওয়া এই মায়ের গল্প এখন অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।

বরিশালের বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যাণ সংস্থা পরিচালিত একটি বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে দিন কাটছে তার। জানা গেছে, দীর্ঘ জীবনে মানুষের বাসায় কাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন তিনি। কিন্তু বয়সের ভারে অসহায় হয়ে পড়ার পর কোনো সন্তানের ঘরেই স্থায়ী আশ্রয় মেলেনি তার।

ঊষা রাণী জানান, নদীভাঙনে তাদের বসতভিটা বিলীন হয়ে যাওয়ার পর তিনি সন্তানদের কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন। বড় ছেলের কাছে অনুরোধ করেও জায়গা পাননি। ছোট ছেলের সংসারেও টিকতে পারেননি। একমাত্র মেয়ের বাসায়ও শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হয়নি তার। পরে এক আত্মীয়ের সহায়তায় বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেন তিনি।

তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি তার কোনো রাগ বা অভিমান নেই। বরং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সন্তানদের সুখ ও সুস্থতার জন্যই প্রার্থনা করে যেতে চান।

একই আশ্রমে থাকা আরেক বৃদ্ধা শেফালী বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর দিনমজুরি করে একমাত্র সন্তানকে মানুষ করেছেন। কিন্তু শেষ বয়সে ছেলের কাছ থেকে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।

বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণ নারীরা জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পরিবারে মা-বাবা অবহেলার শিকার হন। অথচ সন্তানের প্রতি তাদের ভালোবাসা কখনো কমে না।

এ বিষয়ে বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩০ শয্যার ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে অর্থ সংকটের কারণে ভাড়া বাসায় ৬০ শয্যার আশ্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে এখন ৬০ জন বৃদ্ধা মা আশ্রয়ে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সমাজের সহযোগিতা কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও অসহায় মায়েদের পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সমাজ সচেতন মহলের মতে, মা দিবস বা বিশেষ দিনে নয়, প্রতিদিনই বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত। কারণ জীবনের কঠিন সময়েও সন্তানের মঙ্গল কামনাই করে যান মা-বাবারা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




রোগীর চাপে বিপর্যস্ত শেবাচিম হাসপাতাল

শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ তীব্র চিকিৎসক সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পুরোনো অবকাঠামো, শয্যা সংকট এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার অভাবে দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৮ বছর আগে নির্মিত এই হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে সর্বোচ্চ ৫০০ রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন প্রায় আড়াই হাজার রোগী। ফলে ওয়ার্ডে জায়গা সংকট দেখা দেওয়ায় রোগীদের অনেককে মেঝে, বারান্দা ও চলাচলের পথেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

এছাড়া বহির্বিভাগেও প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ৭০ শয্যার এই বিভাগে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি।

চিকিৎসক সংকটও হাসপাতালের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুমোদিত ৩২৩টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২২৯ জন। ফলে ৯৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক মিলিয়ে মোট ২৪৮টি পদের মধ্যে ১৪৬টি এখনো খালি রয়েছে। এতে রোগীদের প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগেও জনবল সংকট রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনোলজিস্টের অভাবে অনেক সময় পরীক্ষাসেবা স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ২৪ ঘণ্টা ল্যাব চালু রাখতে ১৮ জন টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন হলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র আটজন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য হাসপাতালে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ইউনিট (সিসিএম) চালু হয়নি। এছাড়া হৃদরোগীদের জরুরি পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যাথল্যাবও নেই। ফলে এনজিওগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে অনেক রোগীকেই ঢাকায় যেতে হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত জনবল ও পুরোনো অবকাঠামোর মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ডা. একেএম মশিউল মুনীর, শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক, জানান যে ক্যাথল্যাব স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আধুনিক চিকিৎসা ইউনিট চালু না হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সংকট আরও বাড়বে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৬




চেক জালিয়াতির মামলায় উল্টো কারাগারে গেলেন স্ত্রী

বামনা উপজেলা-এ স্বামীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা করে শেষ পর্যন্ত নিজেই কারাগারে যেতে হয়েছে এক নারীকে। আদালত মামলাটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে বাদী শারমিন আক্তার রুমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত স্বামীসহ অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার কাজী আশরাফুজ্জামান, যুগ্ম দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক, এ আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শারমিন আক্তার রুমা প্রথম স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বামনার ডৌয়াতলা এলাকায় ডৌয়াতলা কাজী অফিস-এ মো. জসীম উদ্দীন হাওলাদার-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে জসীম উদ্দীন বিদেশে চলে যান বলে জানা যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর নিরাপত্তার জন্য স্ত্রীকে ৩০ লাখ টাকার একটি চেক ও স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন জসীম। পরবর্তীতে ওই চেক ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয়।

তবে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় আদালত বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান। মামলার আরজিতে উল্লেখ করা চেক নম্বর ও আদালতে জমা দেওয়া চেকের নম্বরের মধ্যে মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া আদালতের অনুমতি ছাড়া নথিতে কলম দিয়ে সংশোধনের অভিযোগও উঠে আসে।

শুনানিকালে শারমিন আক্তার তার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন বলেও আদালত সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি ফ্ল্যাট কেনাবেচা সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে কোনো বৈধ চুক্তিপত্রও তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, কাবিননামা অনুযায়ী শারমিন ও জসীম বৈধভাবে স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। পরে শারমিন তালাকও দেন। কিন্তু আদালতে তিনি দাবি করেন তাদের কোনো বিয়েই হয়নি।

এ বিষয়ে জসীম উদ্দীন বলেন, আদালতে বিচারক কাবিননামা ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করলে শারমিন সেগুলো জাল বলে দাবি করেন। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম সম্পর্কেও তিনি অস্বীকার করেন বলে জানান তিনি।

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. তপু রায়হান বলেন, শুনানির সময় আদালতের কাছে বাদীর বক্তব্য অসত্য বলে প্রতীয়মান হয়। বিভিন্ন নথি ও বক্তব্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকায় আদালত তাকে আটক রাখার নির্দেশ দেন।

শুনানি শেষে আদালত মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বিবেচনা করে বাদীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং অভিযুক্ত জসীম উদ্দীন হাওলাদারসহ অন্য আসামিদের খালাস দেন।

*এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৬”




ডেঙ্গুর শঙ্কায় আতঙ্কিত বরগুনাবাসী, আগাম প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

গত বছরের ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতির স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেনি বরগুনা-র মানুষ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জেলায় ডেঙ্গুতে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, জেলার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও অন্তত ৪৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় প্রায় ১০ হাজারে। নতুন করে ডেঙ্গুর মৌসুম ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

স্থানীয় বাসিন্দা, চিকিৎসক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, গত বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্ষা শুরুর আগেই মশক নিধন, ড্রেন পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা থাকলেও জেলার অধিকাংশ এলাকায় কার্যকর প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলী এলাকা। ঘনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অসংখ্য ডোবা-নালা ও অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বলেন, জনসংখ্যা বাড়লেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত হয়নি। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও নতুন ড্রেন নির্মাণ না হওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

একই এলাকার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গত বছর প্রায় প্রতিটি পরিবারেই ডেঙ্গু রোগী ছিল। অথচ এবার এখনো প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত মশক নিধন কার্যক্রম শুরু না হলে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

শুধু দক্ষিণ মনসাতলী নয়, বরগুনা পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো, ড্রেন পরিষ্কার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম খুব একটা চোখে পড়ছে না।

পৌর শহরের বাসিন্দা মোর্শেদ সুজন বলেন, গত বছরের ভয়াবহ পরিস্থিতির পরও এবারের প্রস্তুতি সন্তোষজনক নয়। ফলে আবারও বরগুনা ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে আমিনুল ইসলাম নাবিল অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক এলাকার বাইরে সাধারণ মানুষের বসবাসকারী এলাকাগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম খুব কম দেখা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব এতটাই বেড়ে যায় যে বাইরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্চের পর থেকেই বরগুনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল-এ প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিতে হয়েছিল।

গত বছরের ১৫ জুন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট একটি তদন্ত দল গঠন করে। তদন্ত শেষে তারা জানায়, স্থানীয়দের অসচেতনতা এবং খোলা পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে থাকাই ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বরগুনার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৯ হাজার ৭৪৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে। সরকারি হিসাবে ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

চলতি বছরও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় ৯১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে কয়েকজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে মনির হোসেন কামাল, বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি, বলেন যে বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, গত বছরের ভয়াবহ পরিস্থিতির স্মৃতি এখনো মানুষকে আতঙ্কিত করে রাখে। আগাম প্রস্তুতির অভাবে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, জানান যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো এখন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় গত বছর বেশি সংক্রমণ হয়েছিল, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সজল চন্দ্র শীল, বরগুনা জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌর প্রশাসক, জানান যে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ফগার মেশিন কেনা হয়েছে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ, বরগুনার সিভিল সার্জন, বলেন যে গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে হাসপাতালগুলোকে আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

**”এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৬”**




পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ এখন বিশ্ববাজারে

পিরোজপুর-এর উপকূলীয় অঞ্চলে চাষ হওয়া বোম্বাই মরিচ এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি পাচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় জেলার কৃষকদের মধ্যে এই মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। স্থানীয়ভাবে “ঘৃতকুমারী মরিচ” নামে পরিচিত এই বিশেষ জাতের মরিচ এখন চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলা ও নাজিরপুর উপজেলা-এর হাজারো পরিবার এখন বোম্বাই মরিচ চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

একসময় বাড়ির উঠানে সীমিত পরিসরে চাষ হওয়া এই মরিচ এখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে উৎপাদিত হচ্ছে। নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়া এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে বোম্বাই মরিচের আবাদ হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, এই মরিচের ঝাঁজ বেশি, সুগন্ধ আলাদা এবং ফলনও ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। মৌসুমভেদে প্রতিটি মরিচ তিন থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। একটি গাছ সাধারণত সাত থেকে আট মাস ফলন দেয় এবং প্রতিটি গাছ থেকে ৪০০ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষক রঞ্জিত হালদার বলেন, গ্রামের উৎপাদিত মরিচ এখন বিদেশে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাড়ি থেকে মরিচ সংগ্রহ করেন, যা কৃষকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

আরেক কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, গত কয়েক বছরে এই চাষে মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্নত বীজ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে মরিচের আকার ও উৎপাদন বাড়ছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় নারী কৃষক সবিতা রানী বলেন, পরিবারের সবাই মিলে এই মরিচ চাষ করেন। এর আয় দিয়ে সংসারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনা চালানো সম্ভব হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর অঞ্চল থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এই মরিচের চাহিদা আরও বাড়ছে। তবে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সৌমিত্র সরকার, পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জানান যে কৃষি বিভাগ বোম্বাই মরিচের আবাদ সম্প্রসারণে কাজ করছে। ভবিষ্যতে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরি করা গেলে কৃষকরা আরও ন্যায্যমূল্য পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপকূলের সাধারণ উঠান থেকে শুরু হওয়া এই মরিচ চাষ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 মুলাদীর ধর্ষণ মামলার আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার

মুলাদী উপজেলা-এ এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

শনিবার সকালে খুলশী থানাধীন ইউনেস্কো শপিং মলের সামনে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জিসানকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া জিসানের বয়স ২৪ বছর এবং তার বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলায়। মামলার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত একই গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৫ সালের মে মাসে স্থানীয় একটি মুদি দোকানে যাওয়ার সময় কিশোরী ধর্ষণের শিকার হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা যায়, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ওই কিশোরী একটি সন্তানের জন্ম দেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে গত ২৫ এপ্রিল মুলাদী থানা-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন, র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া), জানান যে গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

*”এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




পিরোজপুরের শাড়িকতলা বাজারে ভয়াবহ আগুন, ১৪ দোকান পুড়ে ছাই

পিরোজপুর সদর উপজেলা-এর শাড়িকতলা বাজার-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪টি দোকান সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তীব্র আগুনের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজারের বড় একটি অংশ পুড়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি চায়ের দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকাণ্ডে ওষুধের ফার্মেসি, ডেকোরেটর দোকান, মুদি দোকান, চায়ের দোকান ও চটপটির দোকানসহ মোট ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে গড়ে তোলা দোকানগুলো মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। আগুনে তাদের সব পুঁজি পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

এদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা না থাকায় এমন ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বাজারে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সংকট, আতঙ্কে রোগীরা

বরিশাল-এ কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আহত রোগীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ফার্মেসি—কোথাওই এই জরুরি টিকার সরবরাহ নেই বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

শনিবার সকালে বরিশাল সদর হাসপাতাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো আজও অনেক রোগী টিকার আশায় এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ নিজের চিকিৎসার জন্য, কেউ শিশু সন্তানের জন্য এসেও ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হঠাৎ করে ভ্যাকসিন সংকট তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অনেকেই কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের পর প্রয়োজনীয় টিকা না পেয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা সাথী আক্তার জানান, একটি বিড়ালের আঁচড়ে আহত হওয়ার পর তিনি হাসপাতালে এসে জানতে পারেন ভ্যাকসিন নেই। পরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে খোঁজ করেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান তিনি।

একইভাবে কলেজ রোড এলাকার আব্দুল মালেক বলেন, তার ছেলেকে কুকুরে আঁচড় দেওয়ার পর তিনি দ্রুত হাসপাতালে যান। কিন্তু টিকা না পেয়ে দুই দিন ধরে দুশ্চিন্তায় ঘুরছেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ জন রোগী অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ করতেন। কিন্তু গত প্রায় ছয় মাস ধরে সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সেবা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।

শুধু সরকারি হাসপাতালই নয়, নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ফার্মেসিতেও এই টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। কোম্পানি পর্যায়েও সরবরাহ না থাকায় রোগীরা টাকা দিয়েও টিকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল, বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও), জানান যে ভ্যাকসিন সংকট সাময়িক। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, টিকা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড় লাগলে দ্রুত ক্ষতস্থান ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরিষ্কার করা জরুরি। এরপর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ, যা সময়মতো টিকা না নিলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত টিকা সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

**”এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”**

 




বিষখালীর ভাঙনে হুমকিতে খাদ্যগুদাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

বামনা উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙনে ঝুঁকির মুখে পড়েছে সরকারি খাদ্যগুদাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসন প্রকল্প ও হাজারো মানুষের বসতভিটা। বিষখালী নদী-এর অব্যাহত ভাঙনে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপকূলীয় জেলা বরগুনা দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকলেও চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একমাত্র সরকারি খাদ্যগুদামটি বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত। সেখানে নিয়মিত দুই থেকে তিন হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ থাকে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে গুদামটি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায়ও সংকট তৈরি করতে পারে।

খাদ্যগুদামের পাশেই সরকারের নির্মিত আবাসন প্রকল্পে শতাধিক ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। নদীভাঙনের কারণে এসব পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই নিজেদের ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া চেঁচান ও কলাগাছিয়া সংলগ্ন পূর্ব সফিপুর এলাকায় প্রায় সাত হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এসব এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে জীবনযাপন করছেন।

ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, বামনা সদর আর রশিদ ফাযিল মাদরাসা এবং ১২ নম্বর বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে, রামনা ইউনিয়ন-এর বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গেছে। বহু পরিবার জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২টি পোল্ডারে মোট ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। বিশেষ করে বামনা লঞ্চঘাট, কলাগাছিয়া খাদ্যগুদাম এলাকা এবং দক্ষিণ রামনার কিছু অংশ সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনে মানুষ জমি ও ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা টেকসই হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য রুহুল আমিন শরিফ বলেন, নদীভাঙন এখন উপকূলীয় মানুষের নিত্যদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধানে এখনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকাত আরা জানান, ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে মো: আবদুল হান্নান প্রধান, বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, জানান যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে এবং নতুন প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় এই অঞ্চলকে রক্ষা করতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ছড়ালো সামাজিক মাধ্যমে

বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রির সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অফিসের এক কর্মচারীর নগদ টাকা নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়ার পরও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ‘অফিস খরচ’সহ বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধনের কাজ বিলম্বিত করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে ফেরদৌসী বেগম নামের এক মোহরারকে সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহণ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে দলিল সংক্রান্ত কাজের সময় সরাসরি অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যায়। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী দলিল নিবন্ধনের ফি ব্যাংক চালান বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌসী বেগম দাবি করেন, তিনি ফি বাবদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে কোন খাতে সেই অর্থ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

ঘটনার পর অফিসের কয়েকজন কর্মচারী ও দলিল লেখক সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকলনবিশ জানান, প্রতিটি দলিলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম চলে আসছে।

এ বিষয়ে মো. যুবায়ের, বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার, বলেন যে বিষয়টি তার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে পরে প্রয়োজনীয় মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে তন্ময় হালদার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বলেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হয়। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”