পটুয়াখালীতে করলার বাম্পার ফলনেও ক্ষতির মুখে কৃষক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাশের জেলাসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের করলা। উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদন করে নজর কেড়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারার কৃষকরা।

স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কলাপাড়ার আওতায় ২৫ কৃষক গ্রুপ করে পাঁচ একর জমিতে করলা চাষ করে এবার বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন।

চাষাবাদের সময় থেকে ফসল উৎপাদন পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয়ের আশা কৃষকদের। তবে বর্তমানে প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে এসব কৃষক। কৃষকদের মাথায় হাত। লাভের সম্ভবনা মুহূর্তেই হারিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু গ্রুপ নয়, আধুনিক চাষাবাদ দেখে ইউনিয়নের অনেক কৃষক এখন করলা চাষ করে লাভবান। যেদিকে চোখ যাবে মাঠভর্তি শুধু করলা আর করলা। প্রবল বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এসব করলার ক্ষেত। আরও কয়েক দিন এমন ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি থাকলে পুরো ক্ষেতে পচন ধরার সম্ভাবনা। ফলে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে এখানকার কৃষক।

কৃষকরা বলেন, যদি পানি নামার ব্যবস্থা ভালো থাকত তাহলে হয়তো ক্ষতির পরিমাণ কমে আসত।

কৃষক আলতাফ হোসেন গাজী জানান, বাংলাদেশের মধ্যে আমরা নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা এসএসিপির প্রশিক্ষণ পেয়ে সবচেয়ে বেশি করলা উৎপাদন করতে পেরেছি। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে আমাদের উৎপাদিত করলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষক সুলতান গাজী জানান, আগে আমরা সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করতাম। এখন আমরা কৃষি অফিস থেকে এসএসিপির প্রশিক্ষণ পেয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে করলা চাষাবাদ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছি। বর্তমানে দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টিতে গাছ পচন শুরু হয়েছে।

আড়তদার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাখিমারা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় চারশ থেকে পাঁচশ মণ করলা পাঠানো হয়। আজ থেকে কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিতে উৎপাদন কমছে, পাশাপাশি গাছ মরে যাচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন জানান, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা প্রচুর পরিমাণ উচ্চ মূল্যের ফসল করলা উৎপাদন করেছে। তারা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ করলা পাঠাচ্ছে। এসএসিপিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের আমাদের অফিসে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আধুনিক পদ্ধতিতে রেইজড বেড করে কীভাবে করলা চাষ করতে হয় তা আমরা কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়েছি। আর এ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে কৃষকরা আজ লাভবান। এ সময়টায় বাধ সাধে প্রবল বৃষ্টি। আজ টানা বৃষ্টিতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে।




মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে পটুয়াখালীতে মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘ভরবো মাছে মোদের দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে পটুয়াখালীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ, বর্নাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং সফল মৎস্য চাষির মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ জুলাই) সকালে জেলা সার্কিট হাউজ পুকুর সংলগ্ন পুকুরে পোনামাছ অবমুক্তকরণ করেন জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম। পরে তিনি ফেস্টুন উড়িয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালির উদ্বোধন করেন। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা মৎস্য কর্তকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ফিসারিজ বিভাগের চেয়ারম্যান সাজিদুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত আরা জামান ঊর্মি, প্যালেন মেয়র আকলিমুনেচ্ছা রুবি প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, আমরা জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৪ এর স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের মৎস্য সম্পদের কাঙ্খিত উন্নয়ন ঘটিয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করে ২০৪১ সালে একটি সমৃদ্ধশালী র্স্মাট দেশ গঠনে এগিয়ে যাব।

আলোচনা সভা শেষে জেলায় ৪ জন সফল মৎস্য খামারি এবং মৎস্য চাষির মাঝে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।




কলা চাষে অল্প পুঁজিতে অধিক লাভের স্বপ্ন পটুয়াখালীর কৃষকের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় কলা চাষে অল্প পুঁজিতে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক আব্দুস সালাম চুন্নু মোল্লা (৭০)। পৌরসভার শান্তিবাগে নিজের পৈত্রিক ৯০ শতক অ-কৃষি জমিতে ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ বছর সময় নিয়ে নিজের উদ্যোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে ৭০০ কলা গাছের চারা রোপন করে তিনি গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রজাতির কলার বাগান। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অধিকাংশ গাছে ফল ধরেছে। এখন তার মুখে ফুটে উঠেছে সুখের হাসি। প্রতিনিয়ত আশপাশের গ্রাম থেকে বিভিন্ন মানুষ দেখতে আসেন এই বাগান। অনেকে আবার তার কাছ থেকে বাগান করার পরামর্শও নিচ্ছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বছরে কলা ও গাছের চারা বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন এই কৃষকের।

সরেজমিনে দেখা যায়, গলাচিপা পৌরসভার শান্তিবাগে ওয়াবদা বেড়িবাঁধের বাহিরে আব্দুস সালাম চুন্নু মোল্লা গড়ে তুলেছেন সাগর, শবরী, চম্পা ও কাঁচাকলা প্রজাতির কলার বাগান। নিজের শ্রম ও লোকবল নিয়োগ করে একটি লাভজনক কলাবাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। বাহির থেকে বিভিন্ন পশু কিংবা অন্য কেউ যাতে গাছের অনিষ্ট করতে না পারে সেজন্য বাগানটির চারদিক দিয়ে তারকাটা দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত গাছে সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ গাছের পরিচর্যা করছেন তিনি। অধিকাংশ গাছেই ফল ধরেছে।

জানা যায়, গত বছর আষাঢ় মাসের শুরুর দিকে নিজের পৈত্রিক ৯০ শতক জমিতে সাত শত কলা গাছের চারা তিনি রোপন করেছেন। বাগানটি তৈরি করতে গত ১ বছরে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন এই কৃষক। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে কলা ও চারা কলা গাছ বিক্রি করে তিনি বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে চান। পরিবার ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিটামিনের অভাব দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

ঝড়-বন্যার কবলে বাগানের সামান্য ক্ষতি হলেও সার্বক্ষণিক সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ঝড়-বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিলম্ব হলেও বাগানের অধিকাংশ গাছে ফুল-ফল ধরতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে অচিরেই সম্ভাবনাময় স্বপ্ন পুরণ হবে বলে আশা করছেন তিনি। বর্তমানে তার বাগানে যে পরিমাণ কলা গাছের চারা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে একাধিক বাগান করা সম্ভব। তাই তিনি বাগান থেকে চারাগাছ বিক্রি করা শুরু করেছেন।

আব্দুস সালাম চুন্নু মোল্লা বলেন, ‘আমি প্রথমে শখের বশে কলার বাগান তৈরি করি। ঝড়-বন্যার মধ্যেও বাগানটি টিকে আছে। গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করেছে। অনেকে বাগান থেকে চারা গাছ কিনে নিচ্ছে। এখন আমি বাণিজ্যিকভাবে কলা ও চারা গাছ বিক্রি করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। আশা করছি বাগান থেকে বছরে পাঁচ লাখ টাকা আয় করা যাবে। এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন।’

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্রাবন্তী মন্ডল বলেন, ‘আমি চুন্নু মোল্লার কলা বাগান একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি এবং পাশাপাশি তাকে সবজির বাগান করারও পরামর্শ দিচ্ছি।’




পটুয়াখালীতে পানিতে পচে যাচ্ছে আমনের বীজতলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিরামহীন বৃষ্টি আর পূর্ণিমার প্রভাবে তেঁতুলিয়া নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল জমির বীজতলা পচে যাচ্ছে। জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। তারা নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নিষ্কাশনের টেকসই ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে স্থানীয় ও উপশি জাতের প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চর বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরকে ঘিরে বেড়িবাঁধের একটি মাত্র স্লুইসগেট। যা দিয়ে দুই-তিনটি বিলের পানি নিষ্কাশন হয় না। বিলের সমতল ভূমির তুলনায় স্লুইসগেট উঁচুতে থাকায় পানি উঠলে আর নামে না। কিংবা নামলে আর ওঠে না। এ কারণে ওই ইউনিয়নের শুধু চর মিয়াজান গ্রামেই পচে যাচ্ছে ৮ হেক্টর আমনের বীজতলা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, বিরামহীন বৃষ্টি আর পূর্ণিমার প্রভাবে তেঁতুলিয়া নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে চর মিয়াজানের শতাধিক কৃষকের আমনের বীজতলা পচে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। ওইসব বীজতলা থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন উপায় না থাকায় এদের কেউ আবার নতুনভাবে বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নিলেও চাষ মৌসুমে ২০-২৫ দিন পিছিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

কৃষক সাত্তার হাওলাদার জানান, বীজতলা তৈরির পরে বাজার থেকে ১০ কেজির প্রতি প্যাকেটে ১ হাজার ৫০ টাকা হিসাবে বিআর ১১জাতের বীজধান কিনে আনা হয়েছে। কিন্তু বীজ ছিটানোর কয়েকদিন পরই বৃষ্টি আর জোয়ারের পানি উঠলে বীজতলা পচে যায়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে নেই উদ্যোগ

সেকান্দার রাড়ি, আব্দুস ছালাম হুজুর, কুদ্দুস মৃধা, লিটনসহ প্রায় সব কৃষকেরই একই দশা। নান্নু বাবুর্চি নামে অপর এক কৃষক বলেন, ২ মন মোটা ধানের বীজ পানিতে ভেসে গেছে তার।

বিলে পানি জমে থাকায় ঠিকঠাক অঙ্কুর আসলেও শিকড় ধরেনি মোকলেস চৌকিদারের বীজতলায়। বিলের পানি নামতে না নামতেই আবার বৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে তার বীজতলাও।

তিনি জানান, পুরো চরে একটা মাত্র স্লুইস গেটে পানি নেমে শেষ হয় না। পানিতে প্লাবিত থাকায় স্থানীয় সকল চাষিদের বীজধান নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষকেরা জানান, চর মিয়াজান কামাল মাস্টার বাড়ির কাছে যদি আরও একটি স্লুইস গেট বা কালভার্ট নির্মাণ করা হয় তাহলে আমন চাষে কৃষকরা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনছার উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের কলার ভেলা, বাঁশের মাচা কিংবা ঘাস-লতাপাতা ব্যবহার করে ভাসমান বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২০-২৫ দিনের জন্য ব্যবহৃত এসব ভাসমান বীজতলা তৈরি করে নিম্ন এলাকায় অনায়াসে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। চর মিয়াজানে আমন চাষের প্রতিকূলতা তুলে ধরে স্লুইস গেট কিংবা কালভার্ট সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।’




কুয়াকাটা সৈকতের ১০ কি. মি. জুড়ে এক লাখ বৃক্ষ রোপণ চলছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের আওতায় মাটির ক্ষয়রোধ, বেড়িবাঁধ সুরক্ষা ও সুফল প্রকল্পের আওতাভুক্ত সদস্যদের সুবিধায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় এক লাখ গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগ।

শনিবার বিকারে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট পূর্ব পাশে ঝাউবন এলাকায় এই বনায়নের উদ্বোধন করেন কোস্টাল অঞ্চল বরিশাল বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. হারুন অর রশিদ খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপকূলীয় বন বিভাগ পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে নতুনপাড়া পর্যন্ত সমুদ্র রক্ষা বেড়িবাঁধের দুই পাশে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ২০টি সারিতে মোট ১ লাখ গাছের চারা লাগানো হবে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে চারা রোপণ শেষ করা হবে বলে বন বিভাগ মহিপুর রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় এই প্রকল্পের আওতায় লাগানো হবে ঝাউ, আকাশমনি, অর্জুন, তেঁতুল, ইপিল ইপিল, মেহগনি, শিশু, জারুল, আমলকিসহ ১৫ প্রজাতির গাছের চারা।

কোস্টাল অঞ্চল বরিশাল বিভাগীয় বন সংরক্ষক মো. হারুন অর রশিদ খান জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালসহ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়-ঝাপটায় প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে উপকূলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তাই এই উপকূল এলাকা ও সমুদ্র রক্ষা বেড়িবাঁধ টেকসই করতে সরকারের সুফল প্রকল্পের আওতায় এই ১ লাখ গাছের চারা রোপণের উদোগ নেয়া হয়। এতে একদিকে মাটিক্ষয় রোধসহ ঘূর্ণিঝড় থেকে উপকূল রক্ষা হবে। অন্যদিকে এই সুফল প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫০০ জন সুফলভোগীও উপকৃত হবেন।




কলাপাড়ায় সবজিতে আগুন – মাছে নাভিশ্বাস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কাঁচাবাজারে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। হাতের নাগালে বেগুন, শসা,আলু, পটল, ঢেঁড়শ, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ সব রকম সবজির দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে কাঁচাবাজারের পাশাপাশি মাছ মাংস দুধ ডিমের দামও। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের যেন বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। অনেকে হাটে এসে কাঁচাবাজার না করেই খালি ব্যাগ হাতে নিয়ে বাড়ি ফেরত চলে যাচ্ছেন। আবার কেউ বাধ্য হয়ে বেশি দামেই বাজার করে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

সরজমিন দেখা যায়, কলাপাড়া পৌরসভার কাঁচা বাজারে সবজির দাম শুনতেই নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের। বাজারে করলা ১শ’ টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৯০ টাকা, বেগুন ৯০ টাকা, আলু ৬০ টাকা, ঝিঙে ১শ’ টাকা, পটল ৫০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, শসা ১শ’ টাকা, জালি কুমড়া ৭০ টাকা, পিয়াজ ১শ’ টাকা, আদা ২৮০ টাকা, রসুন ২২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে রুই মাছ ৩শ’ টাকা, পাঙ্গাশ ২২০ টাকা, কাতলা মাছ ৩৫০ টাকা, সিলভারকাপ মাছ ৩শ’ টাকা, টেংরা মাছ ৬শ’ টাকা, চিংড়ী মাছ ৬-৮শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কলাপাড়া বাজারে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে অতিভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, মৎস্য ও কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি

বাজার করতে আসা নিম্নআয়ের মানুষ মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি বাজার করতে এসে তরকারির দাম শুনে হতাশ হয়ে বাজার না করে খালি ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে ফেরত যাচ্ছেন। তিনি সারাদিনে কাজ করে পারিশ্রমিক পান মাত্র ৬শ’ টাকা। আর বাজারে এক কেজি বেগুনের দাম ৮০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছের দাম ২২০ টাকা।

বাজার করতে আসা মো. বাবুল চৌকিদার বলেন, মাছের বাজারে গিয়ে হাফ কেজি চিংড়ি মাছ কিনেছি ৩৫০ টাকা দিয়ে, এক কেজি আলু কিনেছি ৬০ টাকা দিয়ে। যেভাবে দিন দিন তরি তরকারির দাম বাড়ছে তাতে মানুষের বাজার করে খাওয়া দায় হয়ে পড়েছে।

মো. আলমগীর নামের ব্যবসায়ী জানান, তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাল কিনে খুচরা দামে বিক্রি করছেন। তাদের কাছে পাইকারি বাজারে বেগুনের দাম ধরা হচ্ছে ৮০ টাকা আর সেই বেগুন খুচরা বাজারে বিক্রি করছি ৮৫-৯০ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তারা বেশি দামে মাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।




শিক্ষকতার পাশাপাশি ছাদ বাগান করে সফল পটুয়াখালীর শামীম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বর্তমানে সারা দেশে ফসলি জমি কমছে বাড়ছে বসতি। তাই অল্প জায়গায় অধিক ফল-ফসল উৎপাদন করা যায় তা নিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগ রয়েছে। তাই বিভিন্ন শহরে বড় বড় ভবনের ছাদ বাগানে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি চাষে ঝুঁকছেন বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ। এসব বাগান করে সফলতাও পাচ্ছেন অনেকে। শখ থেকে হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক চিন্তাধারাও। আর এই শখ এবং বাণিজ্যিক চিন্তাধারা মাথায় রেখে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের সুবিদখালী বাজার এলাকায় এম শামীম আহমেদ নাসির নিজ বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন, অরিজিনাল থাই ড্রাগন লাল, সাদা হলুদ প্রজাতির বাগান। এ ছাড়াও আম্রপলি, হাঁড়িভাঙ্গা, বারোমাসি পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি শাকসবজি রয়েছে তার বাগানে।

শামীম উপজেলার এন এস আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মির্জাগঞ্জ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।

আরো পড়ুন : বাউফলে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এ ব্যাপারে শামীম জানান, ২০২০ সালের করোনাকালীন বিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় ড্রাগন ফলের গাছ লাগিয়ে ছাদবাগান শুরু করি। ছোট বেলা থেকেই বাগান করা আমার শখ। বর্তমানে আমার ছাদবাগানে ১০০টি অরিজিনাল থাই ড্রাগন লাল, সাদা ও হলুদ ড্রাগন ছাড়াও আম্রপলি, হাঁড়িভাঙ্গা, বারোমাসি পেয়ারা ও বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি শাকসবজি রয়েছে। তিনি সব ধরনের সবজি ও ফলে জৈবসার ব্যবহার করেন। পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ফল ও সবজি আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বণ্টন করেন।

তিনি আরো বলেন, ছাদ বাগানে পরিশ্রম ও খরচ বেশি তবে বাগান থাকে নিরাপদ। অনেকে আমার বাগান দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন। আমি তাদের ছাদ বাগান করার পরামর্শ দেই। তবে আমার মতো মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীতে আরো দু’জন ছাদবাগান করে সফলতা পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবদ্ল্লুাহ আল-মামুন জানান, শিক্ষকতার পাশাপাশি শামীম আহমেদের মতো প্রত্যেক নাগরিকের বাগান করার দিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। গত কয়েক বছরে মির্জাগঞ্জে ছাদ বাগানের সংখ্যা বেড়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।




কলাপাড়ায় প্রান্তিক কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের গাছ বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ সহনীয় বনাঞ্চল সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ছয় হাজার নারিকেল গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

কলাপাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বুধবার সকাল ১১ টায় কলাপাড়া কৃষি অফিসের গোডাউন মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারের নারিকেল চারা বিতরণ করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম।

আরো পড়ুন : আবারও কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ডলফিন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে এ নারিকেল গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.আলী আহমেদ, টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন জানান, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ১২০০ কৃষককে পাঁচটি করে প্রধানমন্ত্রী এই উপহারের ছয় হাজার নারিকেল চারা তুলে দেয়া হয়।




পটুয়াখালীতে জিংক সমৃদ্ধ ধান-চাল সংগ্রহ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে বায়োফর্টিফাইড ধান সংগ্রহ এবং সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ুবান্ধব মসুর ডাল ও চালের ভূমিকা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকাল ১০ টায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামার বাড়ি উপ-পরিচালকের সম্মেলন কক্ষে গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশন (গেইন) এর সহায়তায় জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত বায়োফর্টিফাইড ধান সংগ্রহ এবং সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ুবান্ধব মসুর ডাল ও চালের ভূমিকা বিষয়ক কর্মশালায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বায়োফর্টিফাইড ধান-চাল সংগ্রহ এবং সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ুবান্ধব ধান ও মসুর ডাল উৎপাদন বিষয় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেন গেইন এর প্রজেক্ট ম্যানেজার আহমেদ শিহাব জামান।

আরো পড়ুন : ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কলাপাড়ায় ফের ধরা পড়ল রাসেলস ভাইপার

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার এসএম নুরুল আখতার নিলয়, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তৌফিকুর রহমান, ব্রি- বরিশালের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. প্রিয় লাল বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান খান, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মোতালেব মোল্লা, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাফর খান, সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয়, সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এইচ এম রেজাউল করিম, গলাচিপা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুন, এসডিএ নির্বাহী পরিচালক কেএম এনায়েত হোসেন, ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী মো. নেফাজ উদ্দিন, কারিগরি পরিদর্শক মো. নাঈম হোসেন, কৃষক সুমন চন্দ্র মিস্ত্রী, কৃষানি মাকসুদা প্রমুখ।

কর্মশালায় জেলা খাদ্য ও কৃষি বিভাগের উপজেলা সমূহের কর্মকর্তা, কৃষক, কৃষানি, মিলারসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ৬০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহন করেন।




ভূতুড়ে কৃষি ঋণের ফাঁদে পটুয়াখালীর মৃতরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফলে স্বাধীনতার আগে মারা যাওয়া পাঁচজনসহ মোট ছয়জন মৃত ব্যক্তিকে ঋণ দিয়েছে ব্যাংক। মৃত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ২০১৪-১৫ সালে ব্যাংক থেকে বিভিন্ন অঙ্কের ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে আবার কারও কারও নামে রয়েছে একাধিক ঋণ।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তিদের সবার বাড়ি উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনেরা কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখায় যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছেন বলে জানা গেছে।

ব্যাংক ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের ১১ডিসেম্বর কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখার কার্যক্রম শুরু হয়।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাউফলের সূর্য্যমনি ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের কেতাব উদ্দিন হাওলাদারের ৩ ছেলে জবেদ আলী, হজরত আলী ও রহম আলী ২০১৪ সালে ওই শাখা থেকে কৃষি ঋণ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে জবেদ আলীর নামে ২৫ ও ৩০ হাজার টাকার দুটি, হজরত আলীর নামে ৪৫ হাজার ও রহম আলীর নামে ৫০ হাজার টাকার ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু জবেদ আলী ১৯৬০, হজরত আলী ১৯৬৫ ও রহম আলী ১৯৬৬ সালে মারা যান।

জবেদ আলীর ছেলের ঘরের নাতনি মোমেলা বেগম বলেন, তিনি তার দাদাকে দেখেননি। ২০১৪ সালে দাদার নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে তাও তারা জানেন না।

হজরত আলী হাওলাদারের ছেলের ঘরের নাতি মো. ফকরুল ইসলাম (৫৭) বলেন, আমার ৩ দাদার নামে লোন। আমি জন্মের পরে তাদের দেখি নাই। ২০২০ সালে ব্যাংক থেকে নোটিশ আসার পরে আমরা লোন সম্পর্কে অবহিত হই। এরপর বারবার কৃষি ব্যাংকে যোগাযোগ করে প্রতিকার চাইলেও ম্যানেজাররা কোনো প্রতিকার করে নাই।

কালিকাপুর গ্রামের আহম্মদ আলী হাওলাদারের ছেলে মো. জয়নাল হাওলাদার মারা যান ১৯৬৯ সালে। তার নামে ২০১৪ সালে ৪০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ তোলা হয়েছে।

জয়নালের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. আবুল বাশার (৬৪) বলেন, তার বাবার মৃত্যুর সময় ব্যাংকের শাখাই ছিল না। ঋণ পরিশোধের নোটিশ পেয়ে জানতে পারেন, বাবার নামে ২০১৪ সালে ঋণ তোলা হয়েছে।

অপর ঋণ গ্রহীতা জয়নাল আবেদীন হাওলাদারের ছেলে আসাল উদ্দিন হাওলাদার (৮০) বলেন, আমার বাবা মারা গেছেন ৭০/৮০ বছর আগে আমার বয়সও ৮০ বছর। সেই বাবার নামে একটা লোন, এই লোন তো আমরা নিই নাই, লোন সম্পর্কে কিছু জানি না। একি আজব ঘটনা।

আরো পড়ুন : বাউফলে চুরির অভিযোগে ২ যুবক গ্রেফতার

কালিকাপুর গ্রামের মো. বাবুল মৃধা (৪৪) ঢাকায় থাকেন। তিনি কোনো দিন কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নেননি। তার নামে কেশবপুর শাখা থেকে ২০১৪ সালে ১৭ হাজার ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। তার ছোট ভাই ফারুক হোসেন মৃধার (৪২) নামে ৭৫ ও ১৭ হাজার টাকার দুটি ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে।

আবদুল করিম মৃধা নামের এক ব্যক্তির নামে ৩৫ হাজার টাকার ঋণ উত্তোলন দেখানো হয়েছে। গ্রাম কালিকাপুর উল্লেখ করা হলেও তার বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে রুস্তম আলী মৃধা। অথচ এ নামের কাউকে কালিকাপুর গ্রামে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে একই এলাকার মৃত আব্দুল ছত্তার মৃধার ছেলে বাবুল মৃধার নামে রয়েছে ১৭ হাজার টাকার ঋণ। বাবুল মৃধার স্ত্রী হামিদা বেগম জানান, তার স্বামী কৃষি ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি। তবে ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন। তারপর একদিন ঋণ পাশ হয়েছে জেনে ব্যাংকে গেলে ব্যাংক থেকে জানানো হয় আজকে টাকা পাবেন না। এরপর আর কখনো কৃষি ব্যাংকে যাননি এবং কোনো টাকা নেননি।

২০১৪ সালে কেশবপুর শাখার মাঠ কর্মকর্তা ছিলেন মো. শফিউর রহমান। পাঁচ বছর আগে তিনি অবসরে চলে গেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনো মৃত ব্যক্তি কিংবা নামে-বেনামে কারও ঠিকানা ব্যবহার করে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেননি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, যাদের নামে লোন নেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি তারা ৫০/৬০/৭০ বছর আগে মারা গেছেন। একটা চক্র এই কাজ করছে জানিয়ে লোন নেওয়ার ঘটনাকে তিনি মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে মনে করেন।

কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক হুসাইন মো. তাইফ আলম জানান, গত সপ্তাহে (মঙ্গলবার) ৪/৫ জন লোক এসে তাকে বিষয়টি জানান। তারা ২০২০ সালে ঋণ পরিশোধের নোটিশ পেয়েছেন। এরপর খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ঋণগুলো ২০১৪-১৫ সালে অনুমোদন করা হয়েছে। এরপর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং বিষয়টি এখন তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি ব্যাংকের বিভাগীয় মহা ব্যবস্থাপক গোলাম মাহবুব বলেন, মৃত ব্যক্তির নামে লোন মঞ্জুর হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি, তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।