দক্ষিণ বাংলার সন্তান পবিপ্রবির নতুন ভিসি রফিকুল ইসলাম এর পরিচয়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম।

তিনি ১৯৭৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাজী আবদুল খালেক ও মায়ের নাম কাজী রাবেয়া বেগম। তিনি বরিশালের ব্যাপ্টিস্ট মিশন বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে এসএসসি ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে ১৯৯৪ সালে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ও ১৯৯৮ সালে ফার্মাকোলজি বিষয়ে এমএস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি জাপানের কাগওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি একাধিক পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

কাজী রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগে ২০০২ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি ২০০৪ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০১১ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০১৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তিনি ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।




শেষ সময়ে ব্যস্ততায় এখন দিন পার করছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কৃষকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: শেষ সময়ের ব্যস্ততায় এখন দিন পার করছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কৃষকরা। প্রকৃতির বৈরীতায় এবার কিছুটা বিলম্বিত হলেও দেশের দক্ষিন সমুদ্র উপকূলের প্রত্যন্ত এলাকায় দল বেঁধে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করতে দেখা গেছে । এতে দিগন্ত জুড়ে ক্রমশ: দৃশ্যমান হয়ে উঠছে আমন চারার সবুজ পাতার সমারোহ।

এবছর কলাপাড়া উপজেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৩০ হাজার ৭০০ হেক্টর। ইতিমধ্যে ২৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ শেষ করেছে কৃষক। বৈরী আবহাওয়া কেটে যেতেই লক্ষ্যমাত্রার অবশিষ্ট জমিতে আগামী দু’চার দিনের মধ্যেই আমন চাষাবাদ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

দেশের দক্ষিনাঞ্চলের দুর্যোগপ্রবন এ উপজেলায় প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমন ধানের বাম্পার ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষক। কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষককে সার্বক্ষনিক পরামর্শ দেয়ায় প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেও কৃষিতে সফলতা পেয়েছে কৃষক। তবে স্লুইজগেট আটকে প্রভাবশালীদের মাছ চাষে কৃষকের দু:শ্চিন্তা বাড়ে চাষাবাদ মৌসুমে। এতে কৃষি ক্ষেত থেকে অতি বর্ষন ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি নামানো এবং প্রয়োজনের সময় নদী-খালের পানি ওঠানো সম্ভব হয় না কৃষকের পক্ষে। এছাড়া চাষাবাদ মৌসুমে সিন্ডিকেট করে বিসিআইসি ও খুচরা ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে সার, কীটনাশক বিক্রী করায় ঋনগ্রস্ত কৃষকের চোখে মুখে ফুটে ওঠে দু:শ্চিন্তার ছাপ।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের দাবী, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জনে সার্বক্ষনিক কৃষকের পাশে রয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষককে দেয়া হচ্ছে প্রনোদনার বীজ, সার। কৃষকের চাষাবাদ সংক্রান্ত যেকোন সমস্যা সমাধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে অবস্থান বাধ্যতামূলক।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে গ্রুপ করে কৃষি প্রশিক্ষনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে কৃষককে। অফিসেও দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষন। আগে যারা দিনমজুরীর কাজ করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতো, তারা এখন কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষন পেয়ে ধান চাষের পাশাপাশি পতিত জমিতে লাউ, কুমড়া, করলা, ঝিঙা, বরবটি, শষা সহ মৌসুম ভেদে বিভিন্ন সবজি চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে। এতে স্বচ্ছলতা ফিরেছে তাদের পরিবারে। ফলে কৃষিতে আগ্রহ বেড়েছে বেকার যুবকদের।

সূত্রটি আরও জানায়, ঘূর্নিঝড় ’রেমাল’ পরবর্তী কিছু প্রয়োজন কর্মসূচীর আওতায় উপকূলের ১ হাজার ৮ শ’ ৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে জনপ্রতি ৫ কেজি ধানবীজ ও ২০ কেজি রাসায়নিক সার বিতরন করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় ১ হাজার ২ শ’ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ৬ হাজার পিচ নারিকেল চারা বিতরন করা হয়েছে। এছাড়া কৃষককে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে চাষাবাদের জন্য ট্রাক্টর, কীটনাশক স্প্রে করার জন্য স্প্রে মেশিন, ফুট পাম্প, ধান কাটার জন্য হারভেষ্টার সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের বিশকানি এলাকার কৃষক নসু সিকদার (৬৭) বলেন, ’এবছর ঘূর্নিঝড় ’রেমাল’র তান্ডব যেতে না যেতেই একের পর এক নিম্ন চাপের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি সহ অতিরিক্ত বৃষ্টিতে আমন বীজ তলা পঁচে গেছে। নতুন করে বীজ তলা তৈরী করে আবার ধানের চারা করতে হয়েছে।’

উপজেলার ধূলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকার কৃষক ইদ্রিস গাজী (৫৫) বলেন, ’এবছর একর প্রতি জমি চাষাবাদে খরচ পড়েছে ১৫ হাজার টাকা। এখন জমির আগাছা নিধন সহ সার, কীন নাশক স্প্রে করতে হবে।’

ইদ্রিস গাজী আরও বলেন, ’সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার, কীটনাশক বিক্রী করছেন ডিলাররা। চাপলি বাজারের খুচরা ডিলারের দোকান থেকে প্রতি বস্তা টিএসপি সার কিনতে হয়েছে ১৮০০ টাকা, ইউরিয়া ১৪০০ টাকা এবং ড্যাপ সার ১২০০ টাকা। এছাড়া কীটনাশকও কিনতে হয়েছে বেশী দামে।’

কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা আ. রহমান বলেন, ’কলাপাড়ায় এ বছর উফশী জাতের উচ্চ ফলনশীল আমন ধান বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-২৩, স্বর্নমুশুরী, ব্রী ধান-৪৯, ব্রী ধান-৫১, ব্রী ধান ৫২ চাষ হয়েছে শতকরা ৭০-৭৫ ভাগ। এছাড়া স্থানীয় জাতের সাক্ষরখানা, রাজাশাইল, কাজল শাইল, বিংগা মনি, সাদা মোটা, মাথা মোটা ও কুটি অগ্রানি জাতের আমন ধানের চাষ করেছেন কৃষক।’

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আরাফাত হোসেন বলেন, ’ কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষককে সার্বক্ষনিক সেবা দিচ্ছে। আমি নিজেও প্রতিদিন এক একটি গ্রামে গিয়ে কৃষি কাজ পরিদর্শন সহ কৃষকের সাথে কথা বলি। কৃষকের যেকোন সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্দোগ নেই। ’

মো. আরাফাত হোসেন আরও বলেন, ’সার ডিলারদের অফিস থেকে তদারকি করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে সার বিক্রীর সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’




পটুয়াখালীতে কমতে শুরু করেছে আমন ক্ষেতের পানি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীতে টানা মাঝারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে তলিয়ে যাওয়া সদ্য রোপা আমন ক্ষেতে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমতে বিলম্ব হলে ফলনে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বিপর্যপ্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। এ সময় বিশেষ করে বিপাকে পড়েন আমন চাষীরা।

মির্জাগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে আমন মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ও ১ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে উফসী জাতের ধান আবাদ করা হবে। একটানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তার মধ্যে উপজেলার ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়।

কৃষকরা জানান, ক্ষেতের পানি আস্তে আস্তে কমছে। বৃষ্টির সময়ে আমনের চারা রোপণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। গত দু’দিন রোদ থাকায় আমন ক্ষেতে চারা রোপনে ব্যস্ত কৃষকরা। তবে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধাতার কারণে আমনের ক্ষেতের চারা নষ্ট হওয়ার সম্ভবনাও রয়েছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো: নাহিদ হাসান জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রোপা আমন ধানের ক্ষেত ও বিভিন্ন প্রকারের সবজির ক্ষেতও তলিয়ে যায়। ক্ষেতের পানি কমতে শুরু করেছে। আমন ক্ষেতের পানি না টানলে ও আরো দুই-তিন দিন না গেলে ক্ষতি নিরুপণ করা সম্ভব নয়। তবে আরো ১০-১৫ দিন আমনের চারা রোপনের সুযোগ পাবেন কৃষকরা। এতে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমন ফসল রক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।




পটুয়াখালীতে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চাষাবাদ করে উদপাদন বৃদ্ধির জন্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলা চত্বরে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) এর আওতায় ৩ দিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৪ উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টায় র‍্যালি শেষে সদর উপজেলা চত্বরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত আরা জামান উর্মি এর সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসার অফিসার মো. এখলাছুর রহমান সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) এর আওতায় ফিতা কেটে ৩ দিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৪ উদ্বোধন করেন
জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোর্শেদা আক্তার মিম, কৃষক মাসুদ রানা।

পরে প্রধান অতিথি মেলায় নতুন নতুন প্রযুক্তির স্থাপিত ১৫ টি পরিদর্শন করেন এবং ১০০ জন কৃষক, কৃষানি ও শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ৫ টি করে বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের চারা বিতরন করেন। এ মেলা চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান।




কুয়াকাটায় ৫০ হাজার তালের আঁটি রোপণ কর্মসূচি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বজ্রপাত থেকে রক্ষায় ৫০ হাজার তালের আঁটি রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুয়াকাটা টিম ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

গত রোববার এ কর্মসূচি শুরু করে দুদিনে প্রায় ২০ হাজার আঁটি রোপণ করেন তারা। পর্যায়ক্রমে বাকি ৩০ হাজার আঁটি রোপণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে গঙ্গামতি পর্যন্ত সমুদ্র রক্ষা বেড়িবাঁধের দুপাশে এই আঁটি রোপণ করা হয়। উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে তাদের এই আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।

কর্মসূচির উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুয়াকাটা সমন্বয়ক মোহাম্মদ মহিম আকন, জামায়াতে ইসলামীর কুয়াকাটার আমির মাওলানা মঈনুল ইসলাম মান্নান, কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আমিরসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।

কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, প্রতিবছর বজ্রপাতে অসংখ্য মানুষ ও পশুপাখি মারা যায়। অন্যদিকে বজ্রপাতনিরোধক তালগাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে। তালগাছের সংখ্যা বাড়াতে আমাদের এ আয়োজন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুয়াকাটার সমন্বয়ক মোহাম্মদ মহিম আকন বলেন, আমরা দেশকে সবুজায়নের পদক্ষেপ নিয়েছি। কুয়াকাটা থেকে এটা শুরু করেছি। আশা করি সারা দেশব্যাপী এটা চলমান থাকবে।




বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ফ্রি মিনিট-ইন্টারনেট ঘোষণা অপারেটরদের




ঝালকাঠিতে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক, বীজ সংকটের শঙ্কা

বরিশাল অফিস :: প্রযুক্তির উন্নয়নে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ হচ্ছে এখন। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চাষ করতে দেরি হয়েছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে বেশ কিছু আমনের বীজতলা। এতে বীজ সংকটের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

বৃষ্টির পানি অনেকটাই আশীর্বাদ কৃষকের জন্য। কিন্তু অতিবৃষ্টির ফলে সেই আশীর্বাদ অভিশাপে রূপ নিয়েছে। অনেক বীজতলা বৃষ্টির কারণে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। যা রোপণের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এদিকে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষে আমন বীজ রোপণের জন্য প্রস্তুত করেছেন ঝালকাঠির কৃষকেরা। অনেকে আবার জমি থেকে বীজ তোলার পর রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

প্রাকৃতিক পানির কারণে সেচে উৎপাদন করতে হচ্ছে না। ফলে খরচ কমেছে। কিন্তু সার, কীটনাশক, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। এ অবস্থায় সারের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলার দাবি তাদের।

ভালো লাভের আশায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে মাঠে হাড়ভাঙা পরিশ্রমেও যেন ক্লান্তি নেই কৃষকের। এক বিঘা জমিতে আমন উৎপাদনে কৃষকের ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

কৃষক কামরুল হোসেন জানান, কয়েক বছর ধরে ধানের চারা রোপণের পর রাসায়নিক সারের প্রয়োজন। তখন ডিলার ও সার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সারের দাম বাড়িয়ে দেন। তখন দোকানে দোকানে ধরনা দিয়েও সার পাওয়া যায় না।

অপর চাষি আবদুল হাই জানান, কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে সারের দাম বাড়িয়ে দেন। এমন ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ বলে, সারের কোনো সংকট নেই। যা কৃষকের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। প্রকৃতপক্ষে এ সংকট দূর করতে প্রশাসনকে যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় ৪৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হচ্ছে। কৃষকের ধান উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য কৃষি বিভাগ পরামর্শ দেওয়াসহ বাজার মনিটরিংয়ে জোরদার ভূমিকা রাখছে।’

তিনি বলেন, অন্যবারের চেয়ে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে প্রশাসন। কৃষি বিভাগ কৃষকের পাশে থাকবে। জেলার সব বীজতলা নষ্ট হয়নি। কয়েক জায়গার বীজ নষ্ট হয়েছে। তাতে বীজ সংকট হবে না।

 




টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালীতে আমনের বীজতলা নষ্ট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর বেশিরভাগ জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে অধিকাংশ জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমড় পানি। ডুবে আছে ফসলি জমি। এছাড়া চলতি মৌসুমে রোপণের জন্য তৈরি করা আমনের বীজতলাও ডুবে গেছে।

কৃষকরা বলেন, বেশিরভাগ চারা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির সময় না থাকায় জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

এক কৃষক বলেন, ‘তিনবার বীজতলা করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু বর্ষার পানিতে ডুবে গেছে। আমাদের ফসলি জমি মনে হয় এবার পড়ে থাকবে। আর কৃষি অফিস থেকে আমাদেরকে সহযোগিতা না করলে চলতে পারব না।’

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক প্রণোদনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। আর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ৯৫ হাজার হেক্টর জমি নির্ধারিত আছে।




ফেনীতে নিজাম হাজারীর পোড়াবাড়ি দেখতে মানুষের ভিড়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাশের জেলাসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের করলা। উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদন করে নজর কেড়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারার কৃষকরা।

স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কলাপাড়ার আওতায় ২৫ কৃষক গ্রুপ করে পাঁচ একর জমিতে করলা চাষ করে এবার বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন।

চাষাবাদের সময় থেকে ফসল উৎপাদন পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয়ের আশা কৃষকদের। তবে বর্তমানে প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে এসব কৃষক। কৃষকদের মাথায় হাত। লাভের সম্ভবনা মুহূর্তেই হারিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু গ্রুপ নয়, আধুনিক চাষাবাদ দেখে ইউনিয়নের অনেক কৃষক এখন করলা চাষ করে লাভবান। যেদিকে চোখ যাবে মাঠভর্তি শুধু করলা আর করলা। প্রবল বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এসব করলার ক্ষেত। আরও কয়েক দিন এমন ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি থাকলে পুরো ক্ষেতে পচন ধরার সম্ভাবনা। ফলে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে এখানকার কৃষক।

কৃষকরা বলেন, যদি পানি নামার ব্যবস্থা ভালো থাকত তাহলে হয়তো ক্ষতির পরিমাণ কমে আসত।

কৃষক আলতাফ হোসেন গাজী জানান, বাংলাদেশের মধ্যে আমরা নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা এসএসিপির প্রশিক্ষণ পেয়ে সবচেয়ে বেশি করলা উৎপাদন করতে পেরেছি। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে আমাদের উৎপাদিত করলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষক সুলতান গাজী জানান, আগে আমরা সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করতাম। এখন আমরা কৃষি অফিস থেকে এসএসিপির প্রশিক্ষণ পেয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে করলা চাষাবাদ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছি। বর্তমানে দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টিতে গাছ পচন শুরু হয়েছে।

আড়তদার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাখিমারা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় চারশ থেকে পাঁচশ মণ করলা পাঠানো হয়। আজ থেকে কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিতে উৎপাদন কমছে, পাশাপাশি গাছ মরে যাচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন জানান, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা প্রচুর পরিমাণ উচ্চ মূল্যের ফসল করলা উৎপাদন করেছে। তারা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ করলা পাঠাচ্ছে। এসএসিপিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের আমাদের অফিসে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আধুনিক পদ্ধতিতে রেইজড বেড করে কীভাবে করলা চাষ করতে হয় তা আমরা কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়েছি। আর এ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে কৃষকরা আজ লাভবান। এ সময়টায় বাধ সাধে প্রবল বৃষ্টি। আজ টানা বৃষ্টিতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে।

 

বরিশাল অফিস :: ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর রহস্যময় ও আলোচিত বাড়ি ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল এখনও মেটেনি। কী আছে সে বাড়িতে, তা দেখতেই মানুষের যত আগ্রহ। পার্কের ন্যায় শত শত মানুষকে সে বাড়িতে যেতে দেখা গেছে।

সোমবার (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাড়িটি এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফেনীর বিভিন্ন স্থান থেকে নারী, পুরুষ, শিশুসহ সমাজের নানা পর্যায়ের মানুষ ভিড় করছেন বাড়িটি ঘুরে দেখতে। সকাল থেকে বিকাল অবধি দলে দলে লোক প্রবেশ করছে লমী হাজারী বাড়ির কথিত ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে নর্মিত সেই প্রাসাদে।

নিজাম হাজারীর বাড়ি
সোমবার (৫ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে বিক্ষুব্ধ কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দুপুর পর্যন্ত ওই বাসভবনটিতে অবস্থান করছিলেন নিজাম হাজারী। হামলার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই। একই সাথে খোঁজ মিলছে না অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদেরও।

সরেজমিনে বাড়িটি ঘুরে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া বাগানবাড়িতে চলছে লুটপাট। প্রাসাদ এবং উন্মুক্ত স্থানের কোনো কিছু আর অবশিষ্ট নেই। বাড়ির ভেতরে মেঝের টাইলসও খুলে নিয়ে গেছে অনেকে। আগুনে পুড়ে প্রাসাদটির প্রতিটি ফ্লোর ভস্মীভূত। এখন এই প্রাসাদ ঘিরে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। হাজারো মানুষের ভিড়ে কেউ দেখছে পুড়ে যাওয়া বাড়ির নানা স্থান। কেউবা উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নারীরা যাওয়ার সময় নিয়ে যাচ্ছেন গাছ ও ফুলের চারা। একদল ব্যস্ত মাছ ধরতে আর কেউবা লুট করছে স্থাপনার নানা অংশের মূল্যবান জিনিসপত্র।

এর আগে শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরে নিজাম হাজারীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে উত্তেজিত জনতা। তখন সকলকে বাড়ির সকল মূল্যবান জিনিসপত্র নিতে দেখা যায়। কেউ নিয়ে গেছেন গরু, কেউ দামি দামি আসবাবপত্র, কেউবা ঘরের সৌন্দর্যবর্ধনের সকল জিনিস নিয়ে গেছেন।

একরামুল হক নামে এক দর্শনার্থী বলেন, কী নেই এ বাড়িতে। একজন সংসদ সদস্য জেলা পর্যায়ে গণভবন বানিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস। শতকোটি টাকা দিয়ে বানিয়ে নিজেই থাকতে পারলেন না। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে পড়ে আছে।

মনসুর আলী নামে একজন বলেন, এ বাড়িটি ঘিরে এখন সবার আগ্রহ। বাড়িটি শুনেছি শত কোটি টাকা দিয়ে বানিয়েছে। ভেতরে কী আছে দেখার জন্য এসেছি। এসে আশ্চর্য হয়েছি, ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হয় অন্যদেশে চলে আসছি।




নেছারাবাদে ভাসমান সবজির চাষ বাড়ছে

বরিশাল অফিস :: আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় দেশে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন কৃষিবিদরা। তৈরি করেছেন ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন বীজ বপন যন্ত্র। ঠিক তখনই কোনো ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়াই বহুমুখী সবজি চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের গগন গ্রামের কৃষকরা। খাল-বিলের কচুরিপানা কাজে লাগিয়ে তৈরি করছেন ভাসমান সবজির ক্ষেত। আর এই ভাসমান সবজির বেড বা ক্ষেত হয় মূলত বর্ষা মৌসুমেই।

আষাঢ়-শ্রাবণে বৃষ্টির পানি ভরা খাল-বিল পেয়েই ব্যবস্থা বেড়ে যায় কৃষকদের। ভাসমান বেডে উৎপাদিত সবজি নিয়েই জমে ওঠে মিয়ারহাট-স্বরূপকাঠিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাসমান সবজির বাজার।

চাষি সোহেল আহমেদ জানান, ঘন, লম্বা ও পুরুস্তরের কচুরিপানার ওপর একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের বাঁশ ফেলে এ বেড তৈরি হয়। পরে দুপাশ থেকে কচুরিপানা টেনে এনে বাঁশের ওপর স্তরে স্তরে সাজাতে হয়। কচুরিপানার স্তর সাজানোর সময় কচুরিপানা পানিতে যেভাবে থাকে সেভাবে ঘন করে অর্থাৎ খাড়া করে সাজাতে হবে। পরে অর্ধেক স্তর সাজানোর সময় কচুরিপানা উল্টো করে সাজাতে হবে, অর্থাৎ এর শিকড় ওপরের দিকে থাকতে হবে। তারপর পা দিয়ে চেপে চেপে উঁচু স্তর তৈরি করতে হবে। এ পর্যায়ে কোনো ফাঁকা জায়গা থাকা যাবে না। এই স্তূপের ওপরে প্রয়োজনীয় কচুরিপানা তুলে মাপ অনুযায়ী ধাপ তৈরি করতে হবে। ধাপের ওপরের অংশে অপেক্ষাকৃত ছোট কচুরিপানা, খুদি পানা, টোপা পানা দেওয়া ভালো। বন্যা, ঢেউ বা জোয়ার-ভাটার স্রোত থাকলে বেডের মাঝামাঝি জায়গায় বাঁশের খুঁটি বা চারপাশে ফ্রেম দিতে হবে।

তিনি আরও জানান, ভাসমান বেড তৈরির পর উপরিভাগ আবাদ উপযোগী হতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। বেড তৈরির পর এতে সারি করে সরাসরি বীজ বোনা যায়। আবার বল বা বিড়ায় তৈরি করা চারা নির্দিষ্ট দূরত্বে বেডে রোপণ করা যায়। আদা, হলুদ, কচু প্রভূতি ফসল সরাসরি রোপণ করা যায়। চারা ৫-৬ ইঞ্চি হলে এবং শিকড়ের মাথা বল থেকে বের হলেই (কালো হওয়ার আগেই) বেডে লাগাতে হবে। বিড়া বা ব্যাগের চারা একত্রে বেডে নির্দিষ্ট পরিমাণ গর্ত করে রোপণ করতে হবে। বিড়ার আকার ছোট হলে পার্শ্বে পচা কচুরির আস্তরণ দিতে হবে। নতুন আস্তরণের সঙ্গে ১-২ চা চামচ জৈব সার প্রয়োগ করলে চারা তাড়াতাড়ি বাড়বে। চারা লাগানোর পর সামান্য পানি দিয়ে চারা ও চারার গোড়া ভিজিয়ে দেওয়া আবশ্যক। চারা বেশি লম্বা হলে বাউনি দিতে হবে। অধিক ফলন পাওয়ার জন্য ভাসমান বেডে ঢ্যাঁড়স, টমেটো, বেগুন, কলমিশাক ইত্যাদি ফসলের সঙ্গে আন্তঃফসল ও মিশ্র ফসল হিসেবে ঝিঙে, লালশাক, পুঁইশাক, ধনিয়া, ডাটা প্রভৃতি চাষ করা যায়। তা ছাড়া এই অঞ্চলের পানি কচু দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত গ্রামের বাজারগুলোতে পাওয়া যায়।

ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান জানান, এখানে উৎপাদিত সবজি অল্প দামে কিনে নিয়ে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। নৌকা অথবা ট্রলারে পরিবহনের কারণে খরচ কম হয়। তাই মুনাফা বেশি থাকে।

একাধিক চাষি বলেন, এ ধরনের চাষ বেশ ব্যয়বহুল। তাই এ চাষে সরকারি প্রণোদনা পেলে ভালো হয়। এখন বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিওর কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আমরা এই চাষাবাদ টিকিয়ে রাখছি। আমাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হলে এ প্রক্রিয়ায় সবজি চাষে আগ্রহ বাড়বে।

বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, বেডে উৎপাদিত সবজি সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। ভাসমান বেডে সবজি চাষে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার হয় না। ফলে সবজির গুণমান ও স্বাদ অক্ষুণ্ন থাকে। এ ব্যাপারে কৃষকদের মাঝে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পিরোজপুর নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চপল কৃষ্ণ নাথ জানান, ভাসমান বেডে সবজি উৎপাদনকারী কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের সবজির বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী মৌসুমে এ প্রক্রিয়ায় চাষাবাদে কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।