বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না: মাহফুজ আলম

বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেন।

মাহফুজ আলম বলেন, “হঠকারিতা, নেতিবাচকতা ও ভাঙনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আমাদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক মানসিকতায় এ রাষ্ট্রকে গড়তে হবে। এ রাষ্ট্র পরিগঠন করলেই কেবল শহিদ আলিফের শাহাদাতসহ শহিদানদের রক্তের মূল্য হতে পারে।”

পোস্টে তিনি ছাত্র-জনতাকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, “দায়িত্ব ও দরদের নজির দেখিয়ে আপনারা বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। বাংলাদেশ আর কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না। ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ব্যক্তি ও সমষ্টির ‘শক্তি’ সাধনায় দরদি ও দায়িত্ববান হয়ে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হয়ে ওঠা মোক্ষ। আমাদের এই অভ্যন্তরীণ শক্তি যেকোনো বহিঃশত্রুকে পরাজিত করবে। আমরা আর উপনিবেশযোগ্য (Colonizable) হবো না।”

দেশের ‘প্রাজ্ঞ আলেম ও মুসলিম নেতৃবৃন্দের’ ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ প্রাপ্য উল্লেখ করে মাহফুজ আলম লিখেছেন, “আপনারা এ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে বাঙালি মুসলমানকে দায়িত্বশীল আচরণে অনুপ্রাণিত করেছেন। ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আপনাদের আজ ও আগামীর প্রাজ্ঞ উদ্যোগ বাংলাদেশ রাষ্ট্রে আপনাদের ইজ্জত ও শরিকানা নিশ্চিত করবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কলাপাড়ায় আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকদের মুখে হাসি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় আমন ধান চাষের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে, তবে লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি পূর্ণ হয়নি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন কৃষক আগাম তরমুজ চাষের জন্য তাদের জমিতে আমন ধান রোপণ করেননি, যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, “এ বছর আবহাওয়া ছিল পুরোপুরি অনুকূলে, আমরা সময়মতো সঠিক পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেছি। নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে, লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ না হলেও বাম্পার ফলন হয়েছে। এ ছাড়া এই ধানের পুষ্টিগুণও বেশি।”

কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ বছর কলাপাড়া উপজেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার হেক্টর, তবে পূর্ণ হয়েছে ৩০ হাজার ৭৯৮ হেক্টর। কিছুটা কম হলেও, সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সামান্য পার্থক্য পূর্ণ হয়ে যাবে।

কলাপাড়া উপজেলা উপকূলীয় এলাকা হওয়ায়, লবণাক্ততা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষিকাজ অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে, এ বছর বর্ষাকালে বৃষ্টির পরিমাণ ভালো থাকার কারণে এবং কৃষি উপকরণ যথাযথভাবে সরবরাহের ফলে আমনের ফলন আশানুরূপ হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুরের কৃষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, “এ বছর গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি ফলন হয়েছে। যা আমাদের জীবনমানের উন্নতি ঘটাবে এবং পরবর্তী মৌসুমে আমরা আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবো।”

আরেক কৃষক মমিন উদ্দিন বলেন, “এ বছর আমনের দাম ভালো আছে। ধান বিক্রি করে আশা করি লাভবান হবো। এ বছর যতটুকু ক্ষতির আশঙ্কা ছিল তা হয়নি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় উচ্চফলনশীল ধানের চাষ নিয়ে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আমন মৌসুমে ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২ এবং ব্রি ধান ১০৩ জাতের চাষাবাদ নিয়ে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি মাঠ দিবস আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পাখিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর উদ্যোগে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় ৩০০ কৃষকের মাঝে ১০ কেজি করে বোরো ধানের বীজ বিতরণ করা হয়। বরিশাল আঞ্চলিক ধান গবেষণা কার্যালয়ের পিএসও ও প্রধান ড. মুহাম্মদ আশিক ইকবাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রি-এর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি ও উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। তারা জানান, তাদের সেচ সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সরকারি খাল খননের প্রয়োজন। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রি-এর মহাপরিচালক লবণাক্ত জমিতে ধান চাষের উপযোগী নতুন জাত উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং কৃষকদের অন্যান্য সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানের আগে কৃষকরা ধান কাটা কার্যক্রমে অংশ নেন, যা নতুন জাতের ফলন ও মান যাচাইয়ে সহায়তা করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু: বৈষম্যহীন দেশের অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায়

“বৈষম্যহীন দেশের অগ্রযাত্রা, নতুন ফসল যোগাবে নতুন মাত্রা” প্রতিপাদ্য নিয়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তিনদিন ব্যাপী কৃষি মেলা শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত ইসলাম।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ খায়রুল ইসলাম মল্লিক, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা, কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুয়েল ইসলাম, এবং কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি হুমায়ুন কবির।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। মেলায় কৃষকদের জন্য কন্দাল জাতীয় ফসল প্রদর্শন, চাষাবাদের নিয়ম, সঠিক সময়, এবং প্রাকৃতিক সারের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এই কৃষি মেলা আগামী মঙ্গলবার শেষ হবে, যেখানে কৃষকদের জন্য উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুমকিতে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার কৃষকরা আশা করছেন, চলতি আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন হবে। উপজেলার শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া, পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের আমন ক্ষেত গাঢ় সবুজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় মাঠগুলো দিগন্ত জোড়া আমনের চারা হেলে দুলে প্রকৃতিকে স্বাগত জানাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে কৃষকরা সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনছেন।

বিগত বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের বীজ তলা নষ্ট হয়ে গেলেও তারা পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে চড়া দামে আমন চারা কিনে জমিতে রোপণ করেছেন। বর্তমানে আমন ধানের চারায় জমি ভরে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজের সমারোহ যেন প্রকৃতিকে বিমোহিত করে তুলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার মোট ৬ হাজার ৬শ ১ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষত, উঁচু জমিতে আগাম জাতের ধান চাষ করা হয়েছে এবং অনেক জমিতে ধান পাকা শুরু হয়ে গেছে। কিছু জমিতে ধানের শীষ সোনালী রং ধারণ করে নুইয়ে পড়তে শুরু করেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব মাঠেই আমন ধানের চারা সবুজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ মৃধা বলেন, “এ বছর সবাইকে চড়া দামে আমন চারা কিনে বপন করতে হয়েছে, তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন আশা করছি।” মুরাদিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুশীল মৌয়ালী বলেন, “যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে এবছর আমাদের এলাকায় আমনের বাম্পার ফলন হবার সম্ভাবনা রয়েছে।”

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, কৃষকদের আমন ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে প্রণোদনা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই এলাকার জমি আমন ধান চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নানা সমস্যার সমাধানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ প্রদান করছেন, বিশেষ করে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হতে পারে।




পায়রা বন্দরের কৃষি জমি মালিকদের চাষের সুযোগ চেয়ে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরে অধিগ্রহণকৃত অব্যবহৃত কৃষি জমি ইজারা না দিয়ে স্থানীয় মালিকদের নিজেদের জমিতে চাষাবাদের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় লালুয়া ইউনিয়নের বানাতী বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের কৃষি জমি ফেরত পেতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস, সজল বিশ্বাস, কৃষক জসিম উদ্দিন মৃধা, মজিবর প্যাদা, ইব্রাহিম সাউগারসহ আরও অনেকে। তারা জানান, অধিগ্রহণের পরও অনেক জমির মালিক ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা এসব জমি চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন, এবং এই জমিগুলোই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। অধিগ্রহণের পর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের ইজারার সিদ্ধান্তে তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, বন্দরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জমিগুলোতে ইজারার পরিবর্তে বাইরের ব্যক্তিদের কাছে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের আয়ের উৎস বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জমিগুলোতে তাদের চাষাবাদ করতে না দিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।




কুয়াকাটাসহ কলাপাড়ায় কৃষিজমি হ্রাসে খাদ্য উৎপাদনে বিপর্যয়ের শঙ্কা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কলাপাড়ার পর্যটন অঞ্চল কুয়াকাটা ও ধানখালীতে প্রায় ২০ হাজার একর কৃষিজমি কৃষকদের হাতছাড়া হয়ে গেছে, যার এক-তৃতীয়াংশ বর্তমানে স্থায়ীভাবে পতিত অবস্থায় রয়েছে। পায়রা বন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নে আরও প্রায় ১০ হাজার একর জমি কৃষি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪২ হাজার মেট্রিক টন ধানসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, এখানকার বেশিরভাগ জমি পতিত অবস্থায় থাকার ফলে কয়েক কোটি টাকার রবিশস্য ও শাকসবজির আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে, ধানখালী ও কুয়াকাটায় শত কোটি টাকার তরমুজের আবাদ বর্তমানে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যটনের চাহিদা মেটাতে আবাসন প্রকল্পের জন্য বড় পরিমাণ কৃষিজমি অধিগ্রহণ করায় এখানকার খাদ্য উৎপাদন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা থেকে পর্যটন পল্লী গঙ্গামতি এবং কাউয়ারচর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার একর কৃষিজমি পতিত অবস্থায় রয়েছে। একসময় যে কলাপাড়া খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, সেই এলাকাতেই বর্তমানে খাদ্যশস্যের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন জানান, একসময় ধান, শাকসবজি ও তরমুজের চাষ করতেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে এসব জমি অনাবাদী হয়ে পড়েছে। আবাসন প্রকল্পের জন্য প্রায় এক দশক ধরে জমিগুলি ফেলে রাখা হয়েছে, যেখানে কোনো কৃষি উৎপাদন হচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা জানান, একসময় তারা নিজেদের উৎপাদিত ধান ও রবিশস্য এলাকার বাইরের বাজারে বিক্রি করতেন, কিন্তু বর্তমানে নিজেদের খাদ্যের জন্যও বাইরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এছাড়া কৃষি জমির মালিকানা বদল ও আবাসন প্রকল্পের জন্য কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় বহু কৃষিজীবি পরিবার কর্মসংস্থান হারিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ফরিদ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের জমিজমা ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। অনেক কৃষককে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই জমি ছেড়ে দিতে হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এখানকার কৃষির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, “সরকারিভাবে কলাপাড়ায় আট হাজার হেক্টর কৃষিজমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হতো। জমি হ্রাস পেলেও কৃষকরা উন্নত জাতের ধানের চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।”

সরকারিভাবে কৃষিজমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় পর্যটনের প্রভাবে এখানকার কৃষি উৎপাদন স্থায়ীভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে।




ঝালকাঠিতে ২১৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ, বাজারে দাম ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ঝালকাঠির চারটি উপজেলায় এ বছর মোট ২১৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। আবহাওয়ার কিছু প্রতিকূলতার মধ্যেও কৃষকরা জমিতে আখের আবাদে সফলতা পেয়েছেন। এ অঞ্চলের মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, ১২৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। ভীমরুলি, শতাদশকাঠি, জগদীশপুর, সাহাগাছি, কাপড়কাঠি, এবং খাজুরা এলাকাগুলোতে কৃষকরা প্রচলিত কান্দি পদ্ধতিতে আখ চাষ করছেন।

চাষিরা আখ রোপণের ৭ থেকে ৮ মাস পর সংগ্রহ করে বাজারজাত করেন। চলতি বছরে আখের বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা আখের প্রতি শত (১০০টি আখ) ৩০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে পারছেন। এই অঞ্চলের আখের বেশিরভাগই চিবিয়ে খাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হলেও কিছু অংশ স্থানীয়ভাবে গুড় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বিএসআরআই-৪১, ৪২, ও ৪৭ জাতের পাশাপাশি বোম্বাই, গ্যান্ডারি, মিশ্রিদানা এবং তুর্পীন জাতের আখ চাষও এ অঞ্চলে প্রচলিত।

ঝালকাঠি সদর ছাড়াও নলছিটিতে ৩০ হেক্টর, রাজাপুরে ২০ হেক্টর, এবং কাঠালিয়ায় ৪০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে আখের উৎপাদন প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন।




পটুয়াখালীতে স্বেচ্ছায় এক লাখ তালের চারা রোপণের উদ্যোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বজ্রপাত ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ১ লাখ তালের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন এক কৃষক। বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কের পাশে পতিত জমিতে স্বেচ্ছায় তিনি এসব চারা রোপণ করছেন। তার এ কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পটুয়াখালীর নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন। তালগাছের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিজেই চারা রোপণে আগ্রহী হন। পরে উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিন মাস আগে শুরু করেন তালের চারা রোপণ। ইতিমধ্যে আলীপুর বাজার থেকে চাপলি ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের পাশে পতিত জমিতে রোপণ করেছেন প্রায় ৩৫ হাজার তালের বীজ। এসব বীজ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে নিজ অর্থায়নে স্বেচ্ছায় রোপণ করছেন তিনি।

চাপলী এলাকার বাসিন্দা মানিক বলেন, তালগাছ আমাদের ব্যাপক উপকারে আসে। এর পাতা ডাল সব কিছুই আমরা ব্যবহার করি। কৃষক কামাল হোসেন সড়কের পাশে এই তালের বীজ রোপণ করছেন। এটা আসলেই খুব ভালো কাজ হচ্ছে।

একই এলাকার অপর বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত দেখছি কৃষক কামাল হোসেন ৪-৫ মানুষ নিয়ে আমাদের এলাকার রাস্তার পাশে তালের বীজ লাগাচ্ছে। নিজ উদ্যোগে তিনি এসব বীজ বপন করায় তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

কৃষক কামাল হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বজ্রপাত থেকে রক্ষাকারী পরম বন্ধু তালগাছ। এছাড়াও ভূমিক্ষয়, ভূমিধ্বস, ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা রক্ষা করে তালগাছ। তাই স্বেচ্ছায় এসব বীজ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ইতিমধ্যে ৩৫ হাজার বীজ রোপণ করা হয়েছে। বাকি বীজগুলো আমার বাড়িতে সংরক্ষণ করা আছে। সকল বীজ আমি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করবো।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, উপকূলবর্তী এলাকায় পরিবেশ রক্ষায় তালগাছ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কামালের মতো আরও সমাজসেবীকে এসব গাছ রোপণে এগিয়ে আশার আহ্বান জানাচ্ছি।




আজ যোগদান করছেন পবিপ্রবি’র নতুন ভিসি রফিকুল ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  আজ যোগদান করবেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত উপাচার্য ডক্টর কাজী রফিকুল ইসলাম।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে গতকাল ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

১৯৭৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করা রফিকুল ইসলামের রয়েছে শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।

২০০৫ সালে তিনি অষ্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট ফেলো-পিজিএফ অর্জন করেন।

২০০৭ সালে ডক্টর রফিকুল ইসলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা মেডিকেল সেন্টার থেকে ফার্মাকোলজিতে পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনিং- পিজিটি লাভ করেন।

২০১১ সালে তিনি জাপানের খ্যাতনামা কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োমেডিকেল সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। শুধু তাই নয় সর্বোচ্চ কৃতিত্বের জন্য প্রেসিডেন্ট পদক লাভ করেন।

পরে পোস্ট ডক্টরাল গবেষক হিসেবে ডক্টর রফিকুল ইসলাম এই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাস্ট্রোএন্ট্রারোলজি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগে দুই বছর কাজ করেছেন। পরে তিনি জিএসপিএস পোস্ট ডক্টরাল গবেষক হিসেবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাপানের এই কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন।

১৯তম বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে ভেটেনারি ডক্টর এন্ড ফিল্ড রিচার্সচার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর গৌরবময় কর্ম-জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯টি সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ১৪টা বিভিন্ন ফেলোশিপ, মেধাবৃত্তি ও অনুদান পেয়েছেন।

তাঁর ১০৮টা বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি কিংবা বক্তা হিসেবেও তিনি বেশ জনপ্রিয়।