পটুয়াখালীতে সারের সংকটে তরমুজ চাষে বিপর্যয়ের শঙ্কা

পটুয়াখালীর তরমুজ চাষিরা চলমান মৌসুমে সারের তীব্র সংকটে পড়েছেন। বাজারে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না থাকায় চাষিদের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। তবে তা সত্ত্বেও চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, যা এবারের তরমুজ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

জানুয়ারি মাসে জেলার ২০ হাজার ২৪০ টন সারের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৩৭৩ টন। এর ফলে তরমুজ আবাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বছর পটুয়াখালীতে ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১৯৯ হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। জেলার গলাচিপা, রাঙ্গাবালী এবং কলাপাড়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজ উৎপাদন হয়।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চর নজিরের কৃষক হামিরুল হোসেন জানান, ২০ একর জমির জন্য প্রয়োজন ২০০ বস্তা সার, কিন্তু তিনি মাত্র ৫০ বস্তা পেয়েছেন, তাও চড়া দামে। একইভাবে কলাপাড়ার কৃষক রুহুল আমিন জানান, ৫০ একর জমির জন্য প্রয়োজন ৫০০ বস্তা সার, কিনতে পেরেছেন মাত্র ২০০ বস্তা।

জেলার ডিলাররা সাধারণত বরগুনা থেকে সার সংগ্রহ করলেও সেখানকার সংকটের কারণে বরিশাল ডিপো থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, “খুব শিগগিরই সংকট দূর হবে।”

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া যেখানে ১,৩৫০ টাকায় বিক্রির কথা, তা বিক্রি হচ্ছে ১,৬০০ টাকায়। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কৃষকরা মনে করছেন, সারের এই সংকট চলমান থাকলে তরমুজের উৎপাদন লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হবে না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের ফলনেও প্রভাব পড়বে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে উফশি বোরো ধানের রোপণ শুরু

ঝালকাঠি জেলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে উফশি জাতের বোরো ধানের চারা রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ছত্রকান্দা এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান। আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে ধান রোপণের এ উদ্যোগ কৃষি খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনের পর স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম। উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিলি রহমান, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আলী আহম্মেদ এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদ আলম জোমাদ্দার।

এ উদ্যোগ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্লক প্রদর্শনীর মাধ্যমে সমলয়ে উফশি জাতের বোরো ধানের চাষাবাদ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ এর আওতায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রদর্শনীর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম এবং কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তির পরিচিতি এবং বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লবণাক্ততায় বিপর্যস্ত বরিশালের কৃষি

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় লবণাক্ততার পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা কৃষি জমি এবং নদীর পানিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১০ বছরে এই অঞ্চলের ১৬টি নতুন নদীতে লবণাক্ততা বেড়েছে।

বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশালসহ ৬টি জেলার প্রায় অর্ধেক ফসলি জমি অতিরিক্ত লবণের শিকার। সেচের পানির লবণাক্ততা এবং মাটির লবণের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

গবেষণা অনুসারে, সেচের পানিতে ১৫-২০ ডিএস এবং মাটিতে ২৫ ডিএস পর্যন্ত লবণাক্ততা পাওয়া গেছে, যেখানে আগে এটি ছিল মাত্র ২ ডিএস। আন্ধারমানিক, বিষখালীসহ পূর্বের চারটি নদীতে লবণাক্ততা সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে কীর্তনখোলা, ভোলার নদীগুলোসহ ২০টি নদী আক্রান্ত হয়েছে।

কৃষকেরা বলছেন, লবণাক্ততার কারণে তাদের জীবিকা নির্বাহ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ এবং কার্যকর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের মাটি পরীক্ষা করে সঠিক ফসল চাষে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, পানি সংরক্ষণাগারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তৎপরতা চলছে।

মৃত্তিকা গবেষণা বলছে, যদি কৃষি জমিতে ১২ ডিএস এর বেশি লবণাক্ততা থাকে, তবে তা চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বরিশাল বিভাগের ৮ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৪ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিই এই লবণাক্ততার আওতায় রয়েছে।

কৃষকদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সেচের পানির লবণাক্ততা কমানো এবং মাটি উন্নয়নের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর কৃষকরা ইস্পাহানি কোম্পানির বীজে প্রতারিত হয়ে চরম লোকসানে

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা ইস্পাহানি কোম্পানির সরবরাহকৃত বীজে প্রতারিত হয়ে এখন বড় লোকসানের মুখে। তারা উচ্চমূল্যে বীজ কিনেও কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় এখন দেনার বোঝায় জর্জরিত। কৃষকরা আশায় বুক বেঁধে ফসল ফলাতে গিয়ে আজ গভীর সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইস্পাহানির সরবরাহকৃত মুনলাইট ফুলকফির বীজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, যার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। জমিতে ফসল পরিপক্ক হওয়ার বদলে তা ফুটে পচে যাচ্ছে, এবং অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ লিটন হাওলাদার বলেন, “ইস্পাহানির বীজ কিনতে আমাকে বেশি দাম দিতে হয়েছে। কিন্তু চাষ শুরু করার পরেই বুঝতে পারলাম, বীজে সমস্যা রয়েছে। আমি মজিবর রহমানের কাছ থেকে ইস্পাহানির মুনলাইট ফুলকফির বীজ কিনে জমিতে ফুলকফি চাষ শুরু করেছিলাম। তবে এখন ফসল পরিপক্ক হওয়ার বদলে ফুটে গিয়ে পচে যাচ্ছে। আমি এখন বুঝতে পারছি, আমার বিনিয়োগ হারিয়ে গেছে, আর আমি কিভাবে এই দেনা শোধ করব তা নিয়ে চিন্তিত।”

এছাড়াও, মজিদপুর গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। তারা জানাচ্ছেন, তাদের জমিতে ফুলকফির ফলন না হওয়ায় জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে এবং তারা চরম হতাশায় রয়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলার স্থানীয় ডিলার, মাষ্টার সীডের মালিক মো. মজিবর রহমান জানান, “আমরা কৃষকদের অভিযোগ পেয়ে ইস্পাহানি কোম্পানিকে জানিয়েছি। ওই বীজের কিছু সমস্যা ছিল এবং কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

অন্যদিকে, ইস্পাহানি এগ্রোর বরিশাল বিভাগের এরিয়া ম্যানেজার শেখ গোলাম মোস্তাইনের দাবি, “কৃষকরা ফসলের দাম না পাওয়ায় কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। ডিলার তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় আসেননি। ডিলার কোম্পানির নাম দিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন।”

কলাপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, “কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বীজের মান পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়ার জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”

এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে ইস্পাহানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা দ্রুত প্রতারণার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃষি উন্নয়নে সহমর্মিতা এবং সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় বিলুপ্তির পথে মুক্ত মৌমাছি

বরগুনার আমতলী অঞ্চলে মুক্ত মৌমাছির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত সমস্যাগুলি, এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে মৌমাছিরা একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। ফসলে কীটনাশকের অতিমাত্রায় প্রয়োগ, মৌচাকে আগুন দিয়ে মৌমাছি মারা, খাদ্যের অভাবসহ নানা কারণে মুক্ত মৌমাছির অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বরগুনার গ্রামীণ অঞ্চলে, বিশেষ করে আমতলীতে, প্রকৃতির মধ্যে থাকা মৌচাক আজ দুর্লভ হয়ে উঠেছে।

বরিশাল অঞ্চলের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত বরগুনার আমতলীতে, এক সময় মৌমাছির ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা এখন আর শোনা যায় না। স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ মিলে মুক্ত মৌমাছির প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। মৌমাছির খাদ্যও এখন অনেক কমে গেছে, যার ফলে প্রাকৃতিক মৌচাকও প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মুক্ত মৌমাছির সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায়, ফসল ও ফলফলাদির পরাগায়ণ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এবং খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ঈসা ইকবাল বলেন, “মধুর মধ্যে প্রচুর পুষ্টি ও খাদ্যগুণ রয়েছে। মধু দুধ বা পানি দিয়ে মিশ্রণ করে খেলে হারানো শক্তি ফিরে পাওয়া যায়। তাছাড়া মধু বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।”

এছাড়া, মধু সংগ্রহকারী মৌয়াল ও মৌচাষিরা জানাচ্ছেন, অতীতে বনে-জঙ্গলে, গাছের ডালে, মাটির গর্তে মৌচাক পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে এসব জায়গায় আর মৌচাক খুঁজে পাওয়া যায় না।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীর দশমিনায় শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার গছানী গ্রামে শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনটি বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ইউএসএআইডি এর অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন কেন্দ্র (আইএফডিসি) এর উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়।

অনুষ্ঠানে ব্রি ধান-২৩ স্বর্ণমুশুরী জাতের ধান কেটে শস্য কর্তনের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক।

সভাপতিত্ব ও বক্তব্য:
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাজী নিজাম হোসেন। সঞ্চালনা করেন ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার এক্টিভিটি (সিএসএ) এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. হাবিবুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রবি ফয়সাল ও মো. সবুজ

এছাড়া বক্তব্য দেন কৃষক সেলিম প্যাদা ও মোসা. নাসিমা বেগম।

উপস্থিতি:
অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ জন কৃষক-কৃষাণীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এ আয়োজনটি কৃষি প্রযুক্তি ও শস্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকা-সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ঢাকা-সিলেটের পাশপাশি কুমিল্লাতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে বলে অনেকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন ফেসবুকে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে ভারতের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের নাগাল্যান্ডের ফেখ শহর থেকে ১২৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারে ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫।




ধানের দামে ধস, হতাশ পটুয়াখালীর কৃষকরা

পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া হাট, দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম ধানের বাজারে, আমন ধানের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এতে করে কৃষকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। এই হাটে সপ্তাহের প্রতি সোমবার ধান কেনাবেচা হয়।

স্থানীয় কৃষক আলমগীর গাজী (৬৮) বলেন, “২৫ মণ ধান এনেছিলাম, কিন্তু মাত্র ১,৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হয়েছে। পাওনাদারের দেনা শোধ করার পর সংসারের খরচ কীভাবে চালাবো বুঝতে পারছি না।”

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বাউফলের চরাঞ্চলে ৩৪ হাজার ৬৫১ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।

এবার স্থানীয় মোটা জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকা মণ দরে। ইরি জাতের দাম ১,২৫০-১,২৬০ টাকা, স্বর্ণমুসরী ১,৩০০ টাকা এবং সুগন্ধি কালিজিরা ধান ১,৬০০-১,৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এই দাম ১৫০-২০০ টাকা বেশি ছিল।

দাশপাড়া গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, “জমি চাষ, বীজ, সার এবং শ্রমিক খরচ বাবদ যে খরচ হয়েছে, তা তুলতেই হিমশিম খাচ্ছি। বাজারদর এত কম হলে কৃষি কাজে কেউ উৎসাহিত হবে না।”

হাটে ধান বিক্রি করতে এসে দর কম থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন ধানদী গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, “আমন ধানই আমাদের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু বর্তমানে বাজারদর এত কম যে সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কমল গোপাল দে জানান, সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ১,৩২০ টাকা নির্ধারণ করেছে এবং এই মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ২,৩০০ টন ধান সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ৩০০ কৃষক আবেদন করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, “চরাঞ্চলে আমন ধানের ভর মৌসুম চলছে। সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হলে বাজারে ধানের দাম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।”

ধানের মূল্য কমে যাওয়ায় পটুয়াখালীর কৃষকদের চোখেমুখে এখন শুধুই হতাশা। তারা চান, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষক সমাবেশ: আধুনিকায়নে গুরুত্ব আরোপ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় গত রবিবার সন্ধ্যায় পৌরসভা পর্যায়ে তিন মাসব্যাপী কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের কৃষক জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে তাদের আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা। উপজেলার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর কৃষক দলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর তালুকদার এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম (জনতার রফিক)।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. তরিকুল ইসলাম ইভান, উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক খানজাহান আলী খান সাগর, পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মামুন প্যাদা সহ উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”, এই স্লোগানকে সামনে রেখে কৃষকদের আধুনিকীকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্ভব, তাই সরকারের উচিত কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শক্তি বাড়ানো।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গলাচিপায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু চাষ, লাভবান হওয়ার আশা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর, ইটাবাড়িয়া, কালিকাপুর ও বোলালিয়া গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে আলু চাষের জন্য পরিচিত। এই এলাকায় প্রায় তিন হাজার কৃষক আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। এ বছর তারা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু আবাদ করেছেন এবং লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

গলাচিপা উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত ৩৫৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। আরো এক সপ্তাহ চাষ চলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

দক্ষিণ কালিকাপুর গ্রামের আলুচাষি নাসির উদ্দিন গাজী জানান, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ৩৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, যা থেকে প্রায় তিন হাজার ৯৬০ কেজি আলু উৎপাদন হয়। ডায়মন্ড, এস্টারিক্স ও কার্ডিনাল এই অঞ্চলের জনপ্রিয় আলুর জাত। তবে, লেট ব্লাইট রোগ চাষিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, যা ঘন কুয়াশা, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে দেখা দেয়।

মিজানুর রহমান নামে আরেক কৃষক জানান, বছরের শুরুতে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার কারণে চারা বৃদ্ধিতে সমস্যা হয়েছিল। তবে এখন সব ঠিক থাকলে ৭৫ দিনের মধ্যে আলু বিক্রি করা সম্ভব হবে।

মুরাদনগর গ্রামের মিলন মিয়া বলেন, রোগবালাই থেকে রক্ষা পেলে ফসল ভালো হবে। বৈরী আবহাওয়ায় ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন কৃষি কর্মকর্তারা।

গলাচিপার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মো. আক্রামুজ্জামান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ম্যানকোজেব, মেটালেক্সিল ও ডাইমেথোমরফ গ্রুপের ছত্রাকনাশক ৭-১০ দিন পরপর স্প্রে করলে ফসল ভালো থাকবে। এ বছর বীজ ও সারের সংকট না থাকায় চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম