পটুয়াখালীতে বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা, আশায় ভালো ফলনের

শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা ফসলের মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা যেন আরও বেড়েছে। পটুয়াখালীর বাউফলের বিভিন্ন গ্রামে এখন বোরো ধান চাষের মৌসুম। কৃষকরা কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিবারের শিশুরাও বাবা-মায়ের সঙ্গে কাজে সাহায্য করতে ছুটে আসছে মাঠে।

উপজেলার গোয়ালিয়া বাঘা, কেশবপুর, ধানদী, নাজিরপুর, শৌলা, চরকালাইয়া, চন্দ্রদ্বীপসহ বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে কৃষকদের এমন চিত্র। গত আমন মৌসুমে ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় এবার বোরো চাষে আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয় কৃষকদের।

উপকূলীয় এলাকায় বোরো চাষের সম্ভাবনা

উত্তরাঞ্চলের তুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলে ফসল মৌসুমের সময় কিছুটা পার্থক্য থাকলেও পৌষ-মাঘ মাস বোরো ধানের চাষের উপযুক্ত সময়। সূর্যমনি ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের কৃষক মো. সোহেল মিয়া জানান, এবার তিন একর জমিতে স্থানীয় জাতের চৈতা বোরোসহ উন্নত জাতের বোরো ধান আবাদ করেছেন।

এক সময় এসব জমিতে শুধু আমন ধান চাষ হতো। তবে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির ফলে এখন একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। কৃষক সোহেল জানান, তার মতোই ধানদী, নাজিরপুর, ছয়হিস্যা, চরকালাইয়া ও শৌলা এলাকার কৃষকরাও বোরো চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন।

সেচ সুবিধা বৃদ্ধিতে কৃষকদের স্বস্তি

এক সময় এই অঞ্চলের কৃষকরা শুধু বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে বোরো চাষ করতেন। তবে ১৯৭৮-৭৯ সালে বিএডিসির মাধ্যমে খাল খনন ও সেচযন্ত্র বিতরণের ফলে কৃষি উৎপাদনে পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে সেচ যন্ত্রের ভর্তুকি বন্ধ ও অব্যবস্থাপনার কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়েন।

বর্তমানে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার জন্য একটি বিশেষ কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাউফলে ৫০টি সেচ পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের মতে, সেচ সুবিধা আরও বাড়ানো হলে এবং সার-ওষুধের দাম সহনীয় হলে বোরো চাষ আরও লাভজনক হবে।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগ

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনছার উদ্দিন জানান, চলতি বছর বাউফলে ২০ হেক্টর স্থানীয় জাতের চৈতা বোরোসহ ৮ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬০০ কৃষককে ৫ কেজি উন্নত জাতের বীজ ও ২০ কেজি রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া, খাল-নালা ও পতিত পুকুর খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে উপকূলীয় এলাকায় বোরো চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।

কৃষকরা আশাবাদী, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার বোরো ধানে ভালো ফলন হবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্যও মিলবে।

 

 




তরমুজের রাজ্যে রাঙ্গাবালী: এবারও কৃষকদের মুখে হাসি

দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা যেন তরমুজের স্বর্গরাজ্য। এখানকার আগাম তরমুজের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। প্রতিবছরের মতো এবারও কৃষকরা আগাম তরমুজ চাষ করেছেন এবং ফলন হয়েছে আশানুরূপ। পদ্মা সেতুর কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি এখান থেকে তরমুজ নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিয়ে এসেছে।

উপজেলার কাউখালী চর, পাঙ্গাশিয়ার চর, চর ইমারশনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ তরমুজক্ষেত দেখা যায়। সবুজ লতায় মোড়ানো ক্ষেতের ফাঁকে ফাঁকে বড় আকারের তরমুজ কৃষকদের স্বপ্ন ও পরিশ্রমের ফসল হয়ে ফুটে উঠেছে।

তরমুজ চাষে রেকর্ড বৃদ্ধি

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাঙ্গাবালীতে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই তুলনামূলক কম হয়েছে, ফলে চাষিরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন।

কৃষকদের আশাবাদ

রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন কৃষক জানান, তরমুজ চাষে এবার বিনিয়োগ বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট।

কৃষক বেল্লাল হোসেন জানান, তিনি ৬ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ১৮ লাখ টাকা, কিন্তু ফলন ভালো হওয়ায় ৫০-৫৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন।

চাষি রনি মৃধা বলেন, তিনি ৩ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন, যার জন্য খরচ হয়েছে ১০ লাখ টাকা। ভালো আবহাওয়া থাকলে ২০ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন।

চাষি খোকন, বশির, মুকুল জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর রোগবালাই অনেক কম। ফলে ফলনও ভালো হয়েছে এবং রমজানের কারণে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন।

সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদ্দুজ্জামান জানান, এবার তরমুজ চাষে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং কোনো প্রতিকূলতা না আসে, তাহলে এবার রাঙ্গাবালীর তরমুজ থেকে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা আয় হতে পারে।”

পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরাসরি তরমুজ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্যও লাভজনক। চাষিরা আগাম তরমুজের জন্য ভালো দাম পাচ্ছেন এবং আগামীতে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দশমিনায় টমেটো চাষে আলম হাওলাদারের স্বপ্নপূরণ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হতদরিদ্র কৃষক আলম হাওলাদার টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। নিজের ৪২ শতাংশ জমিতে শীতকালীন হিটলার জাতের টমেটো চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

উপজেলার দশমিনা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে আলম হাওলাদারের টমেটো ক্ষেত সারিবদ্ধভাবে সাজানো। প্রতিটি গাছের মধ্যে দুই ফিট দূরত্ব রাখা হয়েছে, যা ক্ষেতের পরিচ্ছন্নতার পরিচয় বহন করে। মাটি থেকে তিন-চার ফুট উঁচুতে ঝুলছে লাল-সবুজ টমেটো। এ যেন কৃষকের হাতে গড়া এক শিল্পকর্ম।

আলম হাওলাদার জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৪২ শতাংশ জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এতে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চারা রোপণের ৬০ দিনের মাথায় ফসল বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে তিনি আড়াই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দশমিনায় ১০ থেকে ১২ হেক্টর জমিতে হিটলার, বর্ণালী, উন্নয়ন, বিজলী-১১ জাতের টমেটো চাষ হচ্ছে। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ নানা কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, “টমেটোর বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে তাদের সব ধরনের সহায়তা করছি, যাতে তারা লাভবান হতে পারেন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনায় আগাম তরমুজ চাষে কৃষকদের স্বপ্ন

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে তরমুজের সমারোহ। আগাম জাতের তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। লাভের আশায় উজ্জীবিত কৃষকেরা ফলন ঘরে তুলতে মুখিয়ে আছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দশমিনার সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫৫০ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সাত থেকে আট কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

আলীপুরা ইউনিয়নের খলিসা খালী গ্রামের কৃষক মো. তৈয়বুর রহমান জানান, তিনি চার একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত তিন লাখ ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন, আর আশা করছেন ৮-৯ লাখ টাকা আয় হবে।

একই গ্রামের আরেক কৃষক মো. জালাল মৃধা জানান, তিন একর জমিতে চাষ করা তরমুজ ইতোমধ্যে বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছে। প্রতিটি তরমুজের ওজন প্রায় ৫ কেজি, যা ভালো দামে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, “এবার উপযুক্ত মাটি ও আবহাওয়া পাওয়ায় তরমুজ চাষের পরিমাণ বেড়েছে। চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে ফলন ভালো হয় ও কৃষকেরা লাভবান হন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে তরমুজ চাষে সার সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

পটুয়াখালীতে চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে সার সংকটে দিশেহারা কৃষকরা। প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরা বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ না নিয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেক চাষি চড়া দামে সার কিনছেন, আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জানুয়ারিতে ১৮ হাজার ৬০৬ মেট্রিক টন সারের চাহিদা দেওয়া হলেও ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত মিলেছে মাত্র ৬ হাজার ৯৯৩ টন।

এবার জেলার ২৫ হাজার ২৩১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। সবচেয়ে বেশি তরমুজ উৎপাদন হয় রাঙ্গাবালীতে, এরপর গলাচিপা, বাউফল, কলাপাড়া, দশমিনা, সদর, দুমকি ও মির্জাগঞ্জে তরমুজ চাষ হচ্ছে।

চাষিরা জানান, প্রতি একর জমিতে ১০-১২ বস্তা সার প্রয়োজন হলেও বাজারে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। কলাপাড়ার কৃষক আমজেদ প্যাদা বলেন, “আমরা ১০ জন মিলে ৫০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি, কিন্তু ৫০০ বস্তা সারের প্রয়োজন হলেও মাত্র ২০০ বস্তা পেয়েছি।”

রাঙ্গাবালীর কৃষক আমিরুল হোসেন জানান, “২৫ একর জমির জন্য ২৫০ বস্তা সার দরকার ছিল, কিন্তু মাত্র ৭৫ বস্তা পেয়েছি। ইউরিয়া সার ১,৬০০ ও টিএসপি ১,৯০০ টাকায় কিনতে হয়েছে, অথচ সরকার নির্ধারিত দাম কম।”

এদিকে, সার ব্যবসায়ী কামাল পাশা বলেন, “সারের চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ কম। আমরা ২০০ বস্তা চেয়ে মাত্র ২০ বস্তা পেয়েছি। তবে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, “সার সংকট গুরুতর নয়। জানুয়ারিতে বরাদ্দের বেশিরভাগই উত্তোলন হয়েছে, ডিলারদের কাছে মজুদ আছে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় সংকট হবে না।”

তবে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, সারের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তরমুজ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা জেলার অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে মরিচ চাষে কৃষকদের নতুন আশা, আবাদ বাড়ছে দ্বিগুণ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ আবাদি ও অনাবাদি জমিতে এবার ব্যাপকভাবে মরিচের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। কৃষকরা চাহিদার কথা চিন্তা করে এবং লোকসান কাটিয়ে উঠতে মরিচের চাষ করছে। মাঠজুড়ে মরিচ গাছের শোভা দেখে মনে হয় লাল-সবুজ গালিচা বিছানো। এমন দৃশ্য কৃষকদের মধ্যে আনন্দের ঝিলিক ফুটিয়ে তুলেছে। চলতি মৌসুমে মরিচের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি মরিচের ঝালও বেশি হবে বলে জানান চাষিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মিন্টু সুপার, লঙ্কা, হাইব্রিড-৬৫৩, বীজ প্লাস, সানী ও বিজলী প্লাসসহ নানা জাতের মরিচের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করে থাকে। মাঠ থেকে মরিচ তোলার কাজে নারী, পুরুষ এবং শিশুরা দলবেধে অংশগ্রহণ করে। স্কুল বন্ধ থাকলে শিশুরাও তাদের পরিবারকে সাহায্য করে মরিচ তোলার কাজে। এছাড়া কৃষক পরিবারের বাইরেও নারী শ্রমিকরা মরিচ তোলার কাজে যুক্ত হন।

কৃষকদের মতে, খেত থেকে যারা মরিচ তুলে আনেন তাদেরকে ৪ ভাগের ১ ভাগ দিতে হয়। মরিচ চাষের জন্য পানি সেচ, সার, ওষুধ ও পরিচর্যায় অনেক টাকা ব্যয় হয়।

উপজেলার রনগোপালদী গ্রামের মরিচ চাষী মো. শাহ আলম জানান, গত কয়েকবছরের চেয়ে এবারের মরিচের ফলন ভালো হবে এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে মরিচ চাষ দ্বিগুণ হয়েছে। কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে মরিচের চাষ করছেন। বিগত বছরগুলোতে ভালো ফলন ও কাক্সিক্ষত দাম পাওয়ায় অনেক কৃষক মরিচ চাষে ঝুঁকেছেন।

মরিচ চাষী হাবিব জানান, ধান ও গমের মতো যদি সরকার মরিচের মূল্য নির্ধারণ করত, তবে কৃষকরা আরো লাভবান হতেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৭টি ইউনিয়নের ৫০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০-১২ টন কাঁচা মরিচ এবং ২-৩ টন পাকা ও শুকনো মরিচ উৎপাদিত হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। একই ইউনিয়নের মরিচ চাষী সেলিম জানান, গতবছর ভালো দাম পাওয়ায় এবারে তিনি বেশি জমিতে মরিচ চাষ করেছেন এবং ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কৃষকদের ন্যায্য দাম পাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় আগামীতে অনেক কৃষক মরিচ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর দশমিনায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দ্বিগুণ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভোজ্যতেলের চাহিদা ও দামের কারণে সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। উৎপাদনে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এবার দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ দৃশ্যমান, যা শীতের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে। সরিষা ফুলের গন্ধে চারিদিক ভরে গেছে এবং মৌমাছি ও প্রজাপতিরা মধু আহরণে ব্যস্ত রয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে সরিষা বারি-১৪ বীজসহ সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকরা লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন এবং উপজেলার বেতাগি, সানকিপুর, বহরমপুর, বাঁশবাড়ীয়, আলীপুর ও দশমিনা ইউনিয়নে সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা এ বছর আগের চেয়ে বেশি জমিতে সরিষা চাষ করেছেন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার আশা করছেন।

দশমিনা সদরের প্রান্তস মন্ডল বলেন, “গতবছর ১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করেছি। এবার প্রায় ৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছি এবং ফলন ভালো হবে।” কাটাখালীর কামাল আকন জানান, তিনি গতবছর সরিষা চাষ করে ভালো লাভ করেছেন এবং এই বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করেছেন। পশ্চিম লক্ষীপুর গ্রামের চাষি তপন সিকদার বলেন, “এ বছর আমি ১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছি এবং ভালো ফলন আশা করছি।”

বেতাগী ইউনিয়নের চাষি রফিক হাওলাদার জানান, তিনি কৃষি অফিস থেকে বিনা-১৪ সরিষা বীজ নিয়ে ১ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন এবং গাছ ভালো দেখা যাচ্ছে। রণগোপালদীর কৃষক আ. রাজ্জাক বলেন, “এ বছর সরিষার গাছ ও ফুল দেখে মনে হচ্ছে ফলন দ্বিগুণ হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, “সরিষা চাষের চাহিদা এবার অনেক বেড়েছে। গতবছরের তুলনায় এ বছর ৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ ও প্রণোদনা দিয়ে আমরা সরিষা চাষে উন্নতি ঘটাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, সরিষা চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

এ বছর সরিষার ভালো ফলন আশা করা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনায় জমিজমার চাষে তরমুজ ও ক্ষীরার সম্ভাবনার বড় পরিবর্তন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় চলতি বছর জমিজমার আবাদে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের আওতাধীন অর্ধশতাধিক চরাঞ্চলে ক্ষিরা, তরমুজ ও বাঙ্গি গাছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে এবং প্রতিটি গাছে ফলন শুরু হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর আবাদ বেড়েছে এবং আশার আলো দেখা যাচ্ছে একটি বাম্পার ফলনের।

তবে এর মাঝে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সার ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের উদ্বেগ। চরবোরহান, চরঈশান, বাসুদেবপাশা, চরকচ্ছবিয়া, চরওয়াডেল, রায় সাহেবের চর, চরশৌলাসহ বিভিন্ন চরে এখন ক্ষীরার সমারোহ দেখা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৫০ হেক্টরে ক্ষীরা, ৪০ হেক্টরে বাঙ্গি এবং ৩০০ হেক্টরে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। তবে তরমুজের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫০০ হেক্টরের বেশি হয়ে গেছে। গতবছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তরমুজ চাষিরা লাভের মুখ দেখতে পারেননি। তবে এবার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল, ভোলা জেলার চরফ্যাশনসহ পাশের এলাকার চাষিরাও তরমুজ, বাঙ্গি এবং ক্ষীরার চাষ শুরু করেছেন।

উপজেলার তেঁতুলিয়ার চরকচ্ছবিয়ায় ১৫-১৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তরমুজ চাষ করছেন গলাচিপা উপজেলার চরকাজলের চাষি বাবুল খান। তিনি প্রায় ২৫ একর জমি লীজ নিয়ে ক্ষীরা, শসা, ড্রাগন এবং হীরা জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। ক্ষীরার চাষে কৃষকদের জন্য এটি একটি বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, তবে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে কিছুটা চিন্তিত রয়েছেন চাষিরা।

অন্যদিকে, তরমুজের চাষে খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা অতিরিক্ত ব্যয় বহন করছেন। ১০০ গ্রামের প্যাকেট বীজের দাম বেড়ে গিয়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে এবং সারের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তরমুজ চাষের খরচ এখন প্রায় ৫০-৬০ টাকা প্রতি মাদা এবং ফলন ভালো হলে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ জানান, তরমুজের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে এবং মাঠে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা বাঙ্গি, ক্ষীরা এবং তরমুজের বাম্পার ফলন পাবেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রটোকলের দায়িত্বে কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত না করার নির্দেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রটোকলের দায়িত্বসহ অন্যান্য কাজে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এ অবস্থায় অপরিহার্য ক্ষেত্র ছাড়া প্রটোকল অথবা অন্য কাজে কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত না করার নির্দেশ দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এ আদেশ দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) পাঠানো হয়েছে। আদেশের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।




গলাচিপায় ‘সমলয় পদ্ধতিতে’ ধান চাষের উদ্বোধন

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ‘সমলয় পদ্ধতিতে’ ধান চাষাবাদের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে রবি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৫০ জন কৃষকের ৫০ একর জমিতে শুরু হয়েছে হাইব্রিড ব্রী-ধান-৯২ ধানের সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ চারা রোপণের উদ্বোধন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এই পদ্ধতিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যার জন্য যন্ত্রপাতি এবং ধান বপণ, রোপণ থেকে শুরু করে কাটাই-মারাই, ঝাড়া ও বস্তাবন্দি পর্যন্ত অত্যাধুনিক মেশিন সরবরাহ করা হবে। সমলয় পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষে বীজ বপনে ২৫ দিন ও চারা রোপণে ১২০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে পারবে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বুধবার ১০ টায় প্রদর্শনী চারা রোপণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি, মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম মল্লিক, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার পটুয়াখালী, গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ আশাদ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার আরজু আক্তার, প্রেসক্লাব সভাপতি খালিদ হাসান মিল্টন, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিদ্দিক হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্তার হালদার, গণধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ হাফিজুর রহমান, উপজেলা জামাত ইসলাম সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম