পটুয়াখালীতে বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা, আশায় ভালো ফলনের

শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা ফসলের মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা যেন আরও বেড়েছে। পটুয়াখালীর বাউফলের বিভিন্ন গ্রামে এখন বোরো ধান চাষের মৌসুম। কৃষকরা কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিবারের শিশুরাও বাবা-মায়ের সঙ্গে কাজে সাহায্য করতে ছুটে আসছে মাঠে।
উপজেলার গোয়ালিয়া বাঘা, কেশবপুর, ধানদী, নাজিরপুর, শৌলা, চরকালাইয়া, চন্দ্রদ্বীপসহ বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে কৃষকদের এমন চিত্র। গত আমন মৌসুমে ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় এবার বোরো চাষে আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয় কৃষকদের।
উপকূলীয় এলাকায় বোরো চাষের সম্ভাবনা
উত্তরাঞ্চলের তুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলে ফসল মৌসুমের সময় কিছুটা পার্থক্য থাকলেও পৌষ-মাঘ মাস বোরো ধানের চাষের উপযুক্ত সময়। সূর্যমনি ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের কৃষক মো. সোহেল মিয়া জানান, এবার তিন একর জমিতে স্থানীয় জাতের চৈতা বোরোসহ উন্নত জাতের বোরো ধান আবাদ করেছেন।
এক সময় এসব জমিতে শুধু আমন ধান চাষ হতো। তবে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির ফলে এখন একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। কৃষক সোহেল জানান, তার মতোই ধানদী, নাজিরপুর, ছয়হিস্যা, চরকালাইয়া ও শৌলা এলাকার কৃষকরাও বোরো চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন।
সেচ সুবিধা বৃদ্ধিতে কৃষকদের স্বস্তি
এক সময় এই অঞ্চলের কৃষকরা শুধু বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে বোরো চাষ করতেন। তবে ১৯৭৮-৭৯ সালে বিএডিসির মাধ্যমে খাল খনন ও সেচযন্ত্র বিতরণের ফলে কৃষি উৎপাদনে পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে সেচ যন্ত্রের ভর্তুকি বন্ধ ও অব্যবস্থাপনার কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়েন।
বর্তমানে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার জন্য একটি বিশেষ কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাউফলে ৫০টি সেচ পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের মতে, সেচ সুবিধা আরও বাড়ানো হলে এবং সার-ওষুধের দাম সহনীয় হলে বোরো চাষ আরও লাভজনক হবে।
কৃষি বিভাগের উদ্যোগ
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনছার উদ্দিন জানান, চলতি বছর বাউফলে ২০ হেক্টর স্থানীয় জাতের চৈতা বোরোসহ ৮ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬০০ কৃষককে ৫ কেজি উন্নত জাতের বীজ ও ২০ কেজি রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া, খাল-নালা ও পতিত পুকুর খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে উপকূলীয় এলাকায় বোরো চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।
কৃষকরা আশাবাদী, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার বোরো ধানে ভালো ফলন হবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্যও মিলবে।








