পদ্মা সেতুর কল্যাণে সকালের তাজা পেয়ারা দুপুরে ঢাকায়

এস এম পারভজ (পিরাজপুর): জেলার নেছারাবাদ উপজলার আটঘর কুড়িয়ানার উৎপাদিত দেশী জাতীয় পেয়ারার এখন ভর মৌসুম। প্রতিদিন শুক্র ও সোমবার হাটের দিন ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই পেয়ারার বিকিকিনিতে সরগরম থাকছ উপজলার কুড়িয়াানা খালর ভাসমান হাট-বাজারগুলো।

দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা সারি সারি ট্রাক-পিক-আপ ভ্যানসহ ইঞ্জিন ট্রলার স্বল্পমূল্য পেয়ারা ক্রয় করে দিনে দিনে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকাসহ, নোয়াখালী, বরিশাল, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে।

তব, ঢাকার পয়ারার পাইকাররা এই মৌসুমে  বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলবাসির স্বপ্নের  পদ্মা সেতু নির্মাণ করে দেয়ায় ব্যাবসায়ীরা এখন ফেরির ৮-৯ ঘটার বিড়ম্বনার পরিবর্তে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘটার মধ্য ঢাকার মানুষর কাছে টসটসে স্বরপকাঠির তাজা পেয়ারা উপহার দিত পারছেন।

পিরাজপুর জেলার  প্রাচীন ব্যাবসা সমৃদ্ধ উপজলার নাম নেছারাবাদ। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ ‘আটঘর কুড়িয়ানা’ ইউনিয়নে রয়েছে পেয়ারার অসংখ্য বাগান। অসংখ্য  ছোট-বড় খালের বাগান থেকে গৃহস্থরা নিজেরাই পেয়ারা ডিঙ্গি নৌকায় করে খালের ভাসমান হাটে পেয়ারা বিক্রয় করেন। সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে পেয়ারা বিকিকিনি। দূর-দূরান্তের পাইকার এসে আড়তদারদের মাধ্যমে পেয়ারা ক্রয় করেন। গত বছরর মতই এবছরও  পেয়ারা প্রতি মন বিক্রয় হছ ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। তবে, এ বছর ফলন ভালো হলেও বর্ষার কারণে বাজারে এসেছে কিছুটা বিলম্বে।

কৃষি বিভাগের মতে, কেবল মাত্র পিরাজপুর জেলার স্বরপকাঠিতেই রয়েছে ৬শ’ ৫৭ হক্টর জমিত ২হাজার ২৫টি বাগান। যেখান প্রায় ১৬ লাখ মন পয়ারা প্রতি বছর উৎপাদিত হয় এবং যার মুল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা বলে জানায় কৃষি বিভাগ। পেয়ারাকে পুঁজি করে প্রত্যক্ষ ও পরাক্ষভাবে প্রায় ৭-৮ হাজার মানুষর প্রধান উপার্জনের মাধ্যম এই পেয়ারা।

আটঘর কুড়িয়ানা ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার জানান, প্রতি বছর পেয়ারার মৌসুম শুরু হলে দূর-দূরান্ত থেকে  পেয়ারার স্বাদ, বাগান ও মনোরম পরিববেশকে মনামুগ্ধকর করতে ছোট ছোট ট্রলার, মাটর বাইক ও বিভিন্ন বাহনে আসছেন নারী-পুরুষসহ সব ধরণের পর্যটক। ভ্রমন পিপাশুদের ঘিরে এখানে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু ফ্লটিং পেয়ারা পার্ক ও পিকনিক কর্নার, রয়েছে পেয়ারা বাগানের মধ্য দিয় নান্দনিক বিশাল কাঠের সাঁকো। আইনশৃংখলা রক্ষার জন্য রয়েছে একটি পুলিশ ফাঁড়ি।

পিরাজপুরের নেছারাবাদ উপজলার আটঘর-কুড়িয়ানা, জিদাকাঠি, আদমকাঠি, ভীমরলী, ধলহারসহ বিভিন্ন পেয়ারা বাগানের খ্যাতি প্রায় ১শত ৩০ বছরের পুরনো। এখানকার চাষীরা বলছন, সরকারের আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্ত ব্যাংক ঋন এবং  ‍কৃষি কর্মকর্তাদের সময়োপযাগী পরামর্শসহ হিমাগার স্থাপন করা হল তারা আরও লাভবানন হবেন।




মঠবাড়িয়া সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ দেয়ায় হাজার হাজার একর ফসলী জমি বিরান : প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত

সরকারি একাধিক খালে অবৈধ বাঁধ দেয়ায় হাজার হাজার একর ফসলী জমি বিরান : পানি প্রবাহ হ্রাসসহ নৌ-যোগাযোগ বন্ধ : ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপেও জট খুলছেনা। প্রধানমন্ত্রীর নিদর্শেনা উপেক্ষিত।

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): পিরোজপুরের দক্ষিনের বলেশ্বর নদীবেষ্টীত বৃহৎ উপজেলা মঠবাড়িয়া। জমি আর জেলে নিয়ে এ উপজেলার সাধারন মানুষের জীবন-জীবিকা। এখানে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ভূমি দস্যু জেলা পরিষদের আওতাধীন সরকারি খালে অবৈধ বাধঁ, অদৃশ্য শক্তি আর পেশী শক্তি প্রয়োগ করে খালগুলোকে গলা টিপে হত্যা করছে বছরের পর বছর। স্থানীয়রা অসহায় ও নির্বাক হয়ে পেশী শক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য হচ্ছেন। তীব্র প্রতিবাদ, মানববন্ধন আর গনমাধ্যম কর্মীদের লেখনীতেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। উপর মহলের নজরে বিষয়গুলো নেয়া হলেও সেখানে মিলছেনা কোন প্রতিকার। প্রধানমন্ত্রীর শ্লোগান “এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী রাখা যাবেনা” আর সেখানে বছরের পর বছর হাজার হাজার ফসলী জমিগুলো পতিত থাকছে।

সরেজমিনে উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বাদূরা গ্রামে গিয়ে চোখে পড়ে এই তান্ডবলীলা। স্থানীয়রা জানান, ২৫১ দাগ নম্বরের ১ দশমিক ২২ (খাল) এবং ৩৯৫ দাগ নম্বরের ১ দশমিক ৪৮ (খাল) দুটি দোগোনা ও ভূতার খাল নামে পরিচিত। ওই দুটি খালে অন্তত ৫-৭টি অবৈধ বাঁধ তৈরী করে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ এবং বালু ভরাট করে নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দখলী এসব খাল জেলা পরিষদের রেকর্ডীয় সম্পত্তির খাল উল্লেখ করে পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খান জেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, সরেজমিনে বা্ধঁ এলাকা পরিদর্শন করে তিনি এর সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন এবং খাল উদ্ধারের বিষয় জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন।

জানাযায়, বিশখালী ও বলেশ্বর নদীর সংযোগ খাল হিসেবে পরিচিত ভূতার খাল ও দোগোনা খালসহ অন্যান্য শাখা খালের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫-৭টি বাঁধ এবং ছোট কালভার্টগুলোকে ভেঙ্গে পাকা সড়ক তৈরী করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এর ফলে ধানিসাফা, মিরুখালী ও দাউদখালি ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট উত্তর ও দক্ষিন মিরুখালী, বাদূরা, ছোট হাড়জি, নাগ্রাভাঙ্গা, ছোট ও বড় শৌলা, ভগিরথপুর, তেতুলবাড়িয়া, বাঁশবুনিয়া, দেবীপুর, পাতাকাটা, ফুলঝুড়ি ও ওয়াহেদাবাদসহ আরও প্রায় ২৫টি গ্রামে পানি প্রবাহ না থাকায় পানিয় জলের সংকটে অনাবাদি থাকছে হাজার হাজার একর জমি।
অপরদিকে, কোন স্লুইস গেট না থাকায় বর্ষাকাল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অন্তত ৪ থেকে ৫ হাজার একর জমি প্রতিবছর অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। যাতে একসময় আমন ও আউশ ধান চাষাবাদ করা হতো।

সরেজমিনে গেলে ওই এলাকার সাধারন জনগন ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বাঁধের পক্ষের প্রভাবশালীদের মামলা-হামলা ও হুমকী-ধামকীর ভয়ে মুখ খুলে প্রতিবাদ পর্যন্ত করতে পারছেনা। তবে, এ ব্যাপারে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদ কর্মী অবৈধ বাঁধ অপসারনের দাবীতে সোচ্চার রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ধানসিাফা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি মোসলেম মোল্লা খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। এ প্রসঙ্গে মোসলেম মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, খালে বাঁধ পূর্বেই দেয়া ছিল, আমরা একটি সমিতির মাধ্যমে বাঁধের মধ্যে মাছ চাষ করছি। এদিকে স্থানীয় একটি কামিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বর্তমানে কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সম্প্রতি তার মাদ্রাসায় যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি আয়রন ব্রীজ থাকা সত্বেও তিনি খালে আরও একটি মাটির বাঁধ তৈরী করে নিজের দখলে রেখেছেন। ৩নং মিরুখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সোবাহান শরীফ “চন্দ্রদীপ নিউজ”কে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ওই সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জেলা পরিষদের খাল ভরাট করে মার্কেট তৈরী করে প্লট দেয়ার নাম করে বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন বলেও দাবী করেন তিনি। বাদূরা গ্রামের শিক্ষক ও বা্ধঁ অপসারন আন্দোলনের নেতা রোকনুজ্জামান শরীফ বলেন, অভিশপ্ত বাঁধ অপসারনের দাবীতে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দেয়া হলেও রহশ্যজনক কারনে গলারকাটা বাঁধ এখনও অপসারিত হয়নি।
অন্যদিকে, পিরোজপুর ০৩ আসনের (মঠবাড়িয়া) সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে ভূক্তভোগীদেরকে অবৈধ এ বাঁধ কাটার বিষয় আশ্বস্থ করলেও এখনও বাঁধ অপসারন করা হয়নি।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, খালের সবগুলো বাঁধ অপসারনে আন্ত:বিভাগীয় সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী।




ভোলায় নানা আয়োজনে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৩ উদ্বোধন

মোঃ তৈয়বুর রহমান (ভোলায়): ভোলায় নানা আয়োজনে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৩ উদ্ভোদন করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে র‍্যালি ও বেলুন উরিয়ে উদ্ভোদনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসক হল রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস, এম কায়চার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন  সহকারি পুলিশ সুপার আছাদ্দুজামান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিপন কুমার সাহা। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক বৃন্দ। ৭ দিন ব্যাপি মেলায় ১২টির গাছের স্টল রয়েছে। আগামী ১২ই আগস্ট মেলার সমাপনি হবে।

 




বৃষ্টিতে জমে উঠেনি বরিশালের বৃক্ষমেলায় বেচা-বিক্রি

এস এল টি তুহিন (বরিশাল) : উত্তর ব‌ঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু প্রবলভা‌বে সক্রিয় থাকায় ব‌রিশালসহ দেশের দ‌ক্ষিণাঞ্চলজু‌ড়ে অতিভারী বৃষ্টিপাত হ‌চ্ছে। বৃষ্টির কারনে তেমন জমে উঠছে না বরিশাল নগরীর বৃক্ষমেলা।

বিক্রেতাদের দাবী বৃষ্টি কম হলে তাদের বেচা-বিক্রি কমপক্ষে দ্বিগুন হতো। তবুও তারা হাল ছাড়ছেন না। সামনের দিন গুলোতে বেচা-বিক্রি আরো জমে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্টল মালিক মো. রেজাউল আহমেদ।

বরিশাল কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানান, শুধু গাছ কেনাবেচাই নয়, এ মেলায় আসা দর্শনার্র্থীরা বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছে। বিভিন্ন ভেষজ গাছের সম্পর্কে জানতে পারছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণসহ প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

তিনি আরও জানান,জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ টেকসই পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন আধার সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য‘গাছ লাগিয়ে যত্ন করি, সুস্থ প্রজন্মের দেশ গড়ি’ খুবই যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী হয়েছে। প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে গত ৩১ জুলাই নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে উদ্বোধন করা হয় বিভাগীয় বৃক্ষ মেলা।

তবে মেলা শুরু হয়েছে ২৬ জুলাই। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পক্ষকাল ব্যাপী এই মেলা চলবে বলেও জানান তারা। গতবছর ও এ বছর এই মনোরম আয়োজন বরিশালে হলেও এর আগের দু বছর ছিল বন্ধ। এই মেলায় ৫০টি স্টল স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বন বিভাগ, হর্টিকালচার সেন্টারসহ বিভিন্ন বেসরকারি মালিকানাধীন নার্সারি রয়েছে।

মেলা শুরুতেই দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনার সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা কার্যক্রম পরিচালনার সময় হলেও বৃক্ষপ্রেমী নগরীর দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে রাত দশটা অব্দি। চোখ ও মনের পরম শান্তি নিতে মেলাটির প্রতিটি স্টল ঘুরলেই যথেষ্ট বলে জানিয়েছে দর্শনার্থীরা।

এছাড়াও এখানে প্রয়োজন ও শখের প্রতিটি বৃক্ষই মিলছে তাই এর থেকে আর ভালো জায়গা দর্শনের জন্য হতে পারে না বলেও জানান তারা।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় কৃষি তথ্য সার্ভিসের সৌজন্যে কৃষি বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। মেলা শেষে গাছের চারা বিক্রির ওপর নার্সারি মালিকদের পুরস্কৃত করা হবে।

বিভাগীয় এই বৃক্ষ মেলায় ফলজ ও ভেষজ বনজসহ প্রায় ৪০০ প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের গাছ মিলছে বলে জানা গেছে।

৫০ থেকে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত রয়েছে বৃক্ষের মূল্য ।মেলায় উন্নত মানের আম, আতা, কুল, বরই, ডালিম, বেল, জাম্বুরা, কাঁঠাল, ডুমুর, করমচা, কাজুবাদাম, লাল কাঁঠাল, কিউই ফল, চেরি ফল, ড্রাগন ফল, আদা জামির, স্ট্রবেরি, পেয়ারা এবং নাশপাতি সহ বিভিন্ন ধরনের ফল গাছ পাওয়া যাচ্ছে । এ সকল গাছ কিভাবে রোপন ও পরিচর্যা করা হবে তার যাবতীয় পরামর্শ মিলছে ।




ভরা বর্ষায় জমজমাট ভাসমান পেয়ারা হাট, পদ্মা সেতুর ফলে বেড়েছে পর্যটক

 

এস এল টি তুহিন ( বরিশাল) : পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঝালকাঠিতে ভাসমান পেয়ারার হাট। পদ্মা সেতু হওয়ায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পেয়ারার ভালো দাম পেয়েছেন কৃষকরা। তবে প্রচন্ড তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে কমেছে ফলন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঝালকাঠি, বানারীপাড়া ও স্বরূপকাঠি উপজেলার ৫৫ গ্রামের পেয়ারা বাগানকে ঘিরে ভাসমান পেয়ারার হাট পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গড়ে উঠেছে পার্ক ও খাবার দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছে জীবিকার অবলম্বন এখন ‘পেয়ারা’। আষাঢ়-শ্রাবণের ভরা বর্ষায় এসব এলাকার নদী-খালজুড়ে পেয়ারার সমারোহ।

পর্যটকরা পেয়ারা চাষিদের কাছ থেকে কয়েক কেজি পেয়ারা কিনে হাতে উঁচু করে ধরে ছবি তোলেন। তখন তাদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক খেলে।

রাজধানীর ওয়ারীর বাসিন্দা তুলসি আক্তার। ঝালকাঠির ভীমরুলীতে পেয়ারার ভাসমান হাট দেখতে এসেছেন তিনিও। তার ভাষায়, ” এখানে এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে’।

বরগুনা থেকে চারটি মোটরসাইকেলে ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে এসেছেন ৮ যুবক। এর মধ্যে টিম পরিচালনাকারী আফজাল তালুকদার জানান, এশিয়া মহাদেশে থাইল্যান্ডের পরে বাংলাদেশের একমাত্র ভাসমান পেয়ারা বাজার ভীমরুলীতে। তবে এখানে আবাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা। ভ্রমণের জন্য ডিঙি নৌকা সংকট রয়েছে।

শিক্ষা সফরে আসা বরিশাল মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পেয়ারার বড় মোকাম ভীমরুলীতে কোনো আবাসন ও ভালো শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। এখানে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসেন। কিন্ত যাওয়ার সময় আমাদের ওপর একটা বিরূপ ধারণা নিয়ে যান।

জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম বলেন, ঝালকাঠির ব্র্যান্ড পেয়ারা ও শীতলপাটি। চাষিদের দিনের স্বপ্ন পূরণের দ্বার উন্মোচন হয়েছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে। কারণ বিশ্বের পর্যটকরা এখন সরাসরি ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে ঝালকাঠি এসে পেয়ারা রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন।

তিনি আরো জানান, পেয়ারা বাগানে এসে উচ্চমাত্রার সাউন্ড বক্স বাজিয়ে পরিবেশ দূষণরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলা, বরিশালের বানারিপাড়া ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার ৫৫ গ্রামজুড়ে রয়েছে পেয়ারা রাজ্য। ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ পেয়ারা অঞ্চলে এ বছর পর্যটকদের আগমন অনেক বেশি। পেয়ারার সবচেয়ে বড় মোকাম সদর উপজেলার ভীমরুলীর ভাসমান হাটে পর্যটকদের নিরাপত্তার সুবিধা দিতে ঝালকাঠি থানা পুলিশের ভূমিকাও প্রশংসাযোগ্য। পর্যটকরা ড্রোন ও ক্যামেরা দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলছেন। ধারণ করছেন ভিডিও।

প্রতি বছর আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই তিন মাস পেয়ারার মৌসুম হলেও এবছর ফলন দেরিতে হওয়ায় শ্রাবণে পেয়ারা নামতে শুরু করেছে।

ঝালকাঠির কাঁচাবালিয়া গ্রামের পেয়ারা চাষি আল আমিন মিয়া জানান, এবার মৌসুমের শুরুতেই ২০ টাকা কেজি দরে প্রতি মণ পেয়ারা ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। পর্যটকদের কাছে খুচরা বিক্রি করলে প্রতি মণ ১ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার ১৩ গ্রামে ৩৫০ হেক্টর জমিতে, বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ১৬ গ্রামে ৯৩৭ হেক্টর ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার ২৬ গ্রামের ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন কম হলেও পদ্মা সেতুর কারণে দাম অনেক বেশি পাচ্ছেন। এতে ক্ষতি পূষিয়ে উঠতে পারবেন। এ বছর হেক্টর প্রতি সাড়ে ১১-১২ মেট্রিকটন পেয়ারার ফলন হয়েছে।




বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি প্রাপ্ত পিরোজপুরের ‘ভাসমান বেডে’ সবজি চাষে ভাগ্য ফিরছে ভূমিহীন কৃষকের

এসএম পারভেজ (পিরোজপুর): নদ-নদী বেষ্টিত উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রকৃতির সঙ্গে তালমিলিয়ে প্রায় দেড়শ থেকে ২শ’ বছর ধরে বিকল্প পদ্ধতিতে পানির ওপর কচুরিপনার ধাপ বেড তৈরী করে চাষাবাদ করে আসছেন প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকেরা।
ভাসমান পদ্ধতিতে শুরু হয় নানা ধরনের সবজির চারা উৎপাদন। পরবর্তীতে তা বিস্তৃতি লাভ করে পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে। শুধুমাত্র ওই দুটি উপজেলাতেই ভাসমান পদ্ধতিতে সবজির আবাদ হয় প্রায় ১শ’৮০ হেক্টর জমি। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা ২০১৫ সালে ভাসমান পদ্ধতির এই চাষকে বিশ্ব ঐতিহ্যভূক্ত করে “ গ্লোবাল ইনটেক্ট এ্যাগ্রিকালচার হেরিটেজ সিস্টেম” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

অপরদিকে, স্বরূপকাঠি উপজেলার বলদিয়া ও পদ্মডুবি এবং নাজিরপুরের দেউলবাড়ি, মুগারাজোর, গাওখালী, বিলডুমুরিয়ার বিভিন্ন জলাভূমিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে শ্রম দিচ্ছেন। এখানকার উৎপাদিত সবজি ও সবজি চারা মাদারিপুর, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে ক্রয় করে নিয়ে যায়।

উৎপাদিত সবজি চারা ও সবজি সম্পুর্ন জৈব পদ্ধতিতে হওয়ায় কৃষকদের সার ও কীটনাশক ক্রয়ের চাপ হ্রাস পাওয়ায় খুশী এ অঞ্চলের সবজি ক্রেতারা। তবে, এই শিল্পের দ্রুত বিকাশ ও চাষীদের সূদমুক্ত ঋন প্রাপ্তির কথা বলেছেন নাজিরপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ হাওলাদার।
সরকারের কৃষি প্রনোদনার পাশাপাশি ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা বিভিন্ন ব্যাংকের স্বল্প সূদমুক্ত ঋন সুবিধা পেলে সৃষ্ট সকল প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




দুই বছর ধরে রপ্তানি বন্ধ পটুয়াখালীর মিষ্টি পান, আর্থিক ক্ষতির মুখে চাষিরা

(আল-আমিন, পটুয়াখালী): জেলার মিষ্টি পানের গুণগত মান ভালো হওয়ায় রপ্তানি হতো ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে। দুই বছর আগে হঠাৎ পান রপ্তানি বন্ধ হয়ে হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এখানকার পানচাষিরা। অনেকে বরজ ভেঙে অন্য ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

পানচাষিরা জানান, প্রতিনিয়ত বাড়ছে পানের উৎপাদন খরচ। রপ্তানি বন্ধ থাকার ফলে লাভের চেয়ে উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

জেলার সদর, বাউফল, দশমিনা, রাঙ্গাবালী ও দুমকী এলাকায় সারি সারি পানের বরজ। দুই বছর আগেও লাভ বেশি হওয়ায় স্থানীয় চাষিরা পান চাষে আগ্রহী ছিল। তবে রপ্তানি বন্ধ ও লাভ কম হওয়ায় পানের আবাদ আর বাড়ছে না।

ভাদ্র থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত পানের বরজ নির্মাণ করা যায়। আর বৈশাখে পান বিক্রি শুরু হয়। পৌষ মাস পর্যন্ত পান সংগ্রহ চলে। একটি সুস্থ গাছ থেকে ১০০-১৫০টি পর্যন্ত পান পাওয়া যায়। চাষিরা বরজ থেকে পান সংগ্রহ করে রাস্তায় ও বাড়ির সামনে বসে পানের গাদি সাজান। এরপর টমটম যোগে পৌঁছে যায় স্থানীয় বাজার ও ঢাকাগামী লঞ্চে। ট্রাকযোগেও ঢাকা ও যশোর পৌঁছে যায় পান।

পানচাষি সুমা রানী জানান, প্রকারভেদে প্রতি চল্লি পান ৫০-৬০ টাকায় খুচরা বাজারে বিক্রি হয়। দুই চল্লিতে এক বিরা, ছয় চল্লিতে এক মুডি, ২৪ চল্লিতে এক পাই আর ১৬ পাইতে এক গাদি। পাইকারি বাজারে প্রতি পাই ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, আগে বিদেশে প্রচুর চাহিদা থাকলেও এখন আর পান বিদেশে পাঠাতে পারছি না। দাম না থাকার কারণে মাঝে মধ্যে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। সরকারিভাবে তাদের সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করলে পান চাষকে আরও লাভজনক ও জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব হবে।

আরেক পান চাষি সুদেব মিস্ত্রি জানান,পটুয়াখালীর মিষ্টি পানের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল সৌদি আরব, দুবাই, ইতালি ও আমেরিকায়। সেসব দেশে বসবাসরত বাঙালিরা এ পান বেশি পছন্দ করে। রপ্তানি চালু থাকলে দামও ভালো পাওয়া যায়।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম জানান, একটা সময় এখানকার পানের স্বর্ণযুগ ছিল। রপ্তানি হতো বিভিন্ন দেশে। সেটি আপাতত হচ্ছে না। ফলে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন কম। তবে সমস্যা সমাধানে সরকার চেষ্টা করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদেশে পান রপ্তানি শুরু হবে।

চলতি বছর জেলায় ৬৪৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি পানের আবাদ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।




রেকর্ড ভেঙেছে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, বিভিন্ন দেশে দেখা দিচ্ছে প্রচণ্ড দাবদাহ

সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে, মারাত্মক প্রভাবের আশঙ্কাচলতি সপ্তাহে সমুদ্রপৃষ্ঠ রেকর্ড পরিমাণ উষ্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে প্রচণ্ড দাবদাহ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পুরো পৃথিবী উষ্ণ হয়ে উঠেছে, আর সেই উষ্ণতা শোষণ করে সমুদ্রপৃষ্ঠও উষ্ণ হয়ে উঠেছে। যা আমাদের গ্রহের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবা ‘কোপার্নিকাস’-এর মতে, চলতি সপ্তাহে গড়ে দৈনিক বিশ্বসমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২০.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। যা বছরের এই সময়ের গড় থেকে অনেক বেশি।

মহাসাগরগুলো পৃথিবীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু নিয়ন্ত্রক।
মহাসাগরগুলো তাপ শোষণ করে, পৃথিবীর অর্ধেক অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন করে। কিন্তু উষ্ণ পানি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যার অর্থ উষ্ণায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলে বেশি গ্যাস থাকবে। যা সমুদ্রে থাকা হিমবাহের গলনকেও ত্বরান্বিত করতে পারে, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরো বৃদ্ধি পাবে। শুধু তাই নয়, মহাসাগর উষ্ণ হয়ে উঠলে সামুদ্রিক প্রাণী যেমন- বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও তিমির জন্য পরিবেশ প্রতিকূল হয়ে উঠবে। তখন তারা চলে যাবে শীতল পানির সন্ধানে। এর প্রভাবে খাদ্য শৃঙ্খল বিপর্যস্ত হবে। তাই বিশেষজ্ঞরা সমুদ্রে মাছের মজুদ কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। এ ছাড়া গরম তাপমাত্রার কারণে হাঙরসহ কিছু শিকারি প্রাণী আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন।

মেক্সিকোর উপসাগরে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ পর্যবেক্ষণকারী ডা. ক্যাথরিন লেসনেস্কি বলেছেন, ‘আপনি যখন ঝাঁপ (সমুদ্র) দেন তখন পানি স্নানের উপযোগী মনে হয় না। ফ্লোরিডায় অনেক প্রবাল ইতিমধ্যেই মারা গেছে।’

যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথ মেরিন ল্যাব থেকে ডা. ম্যাট ফ্রস্ট বলেছেন, ‘দূষণ এবং অতিরিক্ত মাছ ধরা সমুদ্রকে প্রভাবিত করছে। ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা এখন সমুদ্রকে বেশি চাপের মধ্যে রেখেছি।’

সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড ভাঙার কারণে বিজ্ঞানীদের কপালেও পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার ডা. সামান্থা বার্গেস বলেছেন, ‘মার্চ মাসে এমন উষ্ণ হওয়া উচিত, তখন বিশ্বব্যাপী মহাসাগরগুলো সবচেয়ে উষ্ণ থাকে, আগস্ট বা সেপ্টেম্বর নয়। আমরা যে রেকর্ডটি দেখতে পাচ্ছি, তাতে আগামী মার্চের মধ্যে পানি কতটা উষ্ণ হতে পারে তা চিন্তা করে ভয় পাচ্ছি।’

স্কটিশ সমুদ্র উপকূলে প্রভাব পর্যবেক্ষণকারী প্রফেসর মাইক বারোজ বলেছেন, ‘এই পরিবর্তন এত দ্রুত ঘটতে দেখাটা খুবই দুঃখজনক। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ২৪৭ দিনব্যাপী সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ ছিল।’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সমুদ্রগুলোকে উষ্ণ করে তুলছে। কারণ সমুদ্র গ্রিনহাউসের গ্যাস নির্গমন থেকে বেশির ভাগ উত্তাপ শোষণ করছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক সামান্থা বার্গেস ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘আমরা যত বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াব, সমুদ্রগুলো তত বেশি অতিরিক্ত তাপ বের করে দেবে। যার অর্থ সমুদ্র স্থিতিশীল হতে এবং যেখানে ছিল সেখানে ফিরিয়ে আনতে তত বেশি সময় লাগবে।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ‘এল নিনো’-এর কারণে উপকূলে অনেক সামুদ্রিক মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটেছে। ‘এল নিনো’ ঘটে যখন সমুদ্রের উষ্ণ পানি দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের উপরিভাগে উঠে যায়। যা বিশ্বের তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে এদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘকালীন গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় ‘লা নিনা’ আর ওপরে গেলে বলা হয় ‘এল নিনো’। তবে তাপমাত্রার এই ওঠা বা নামা পাঁচ মাসের বেশি স্থায়ী হলে তাকে বলা হয় ‘এল নিনো বা লা নিনা এপিসোড’। সম্প্রতি আরেকটি এল নিনো এখন শুরু হয়েছে কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি এখনো দুর্বল। এর অর্থ আগামী মাসগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে আরো বাড়বে। চলতি বছর যুক্তরাজ্য, উত্তর আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের রেকর্ড ভাঙতে পারে।

বিবিসি অবলম্বনে