পিরোজপুরে বিদেশী ফল ‘অ্যাভোকেডো’ চাষে ব্যাপক সফলতা

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): সম্ভাবনাময়  বিদেশী ফল ‘অ্যাভোকেডো’ এখন পিরোজপুরের মাটিতে চাষ করে ব্যাপক সফলতা ও সাড়া ফেলেছেন একজন সৌখিন কৃষি উদ্যোক্তা। এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের ফল বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় সবুজ রংয়ের পুষ্টি সমৃদ্ধ ‘অ্যাভোকেডো’।

পিরোজপুর জেলার উত্তরের ছোট্ট জনপদের নাম নাজিরপুর উপজেলা। এখানের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের ফলজ বৃক্ষ উৎপাদনে উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা প্রতিবছর ঝুঁকছেন নতুন নতুন ফলজ চাষাবাদের দিকে। এখানের মাটিতে মাল্টা, আনার, চুঁইঝাল, আপেল, বিদেশী আম, ড়্রাগন এবং সর্বশেষ ‘অ্যাভোকেডো’ ফল উৎপাদন করে এলাকায় ব্যাপক হৈচৈ পড়ে যায়। তাই ওই গ্রামে যার পতিত জমি রয়েছে তারাও এখন এগিয়ে আসছেন বিদেশী এই ফল চাষে আগ্রহী হয়ে।
এ গ্রামেরই শিক্ষিত যুবক যিনি চাকরী ছেড়ে দিয়ে নিজের বাড়ি এসে নিজের জমিতে ঘের করে সাদা মাছ চাষ করছেন। রয়েছে তার গাভী গরু ও হাাস-মুরগীর ফার্ম। এখন লাখ টাকার পুঁজির মালিক তিনি। সরেজমিনে. কথা বলতে গিয়ে এই তরুন যুবক মোঃ শরীফ হোসেন “চন্দ্র দীপনিউজ ২৪কে” জানান, তাদের বাড়িতে এখনও অনেক পতিত জমি পরে আছে। তিনিও হিরু কাকার মত ‘অ্যাভোকেডো’ ফলের বাগান গড়ে তুলবেন।

বাংলাদেশে যেসব বিদেশী ফল অধুনা চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে তার মধ্যে ‘অ্যাভোকেডো’ অন্যতম। মেক্সিকো ও গুয়াতামালা এ ফলটির আদি উৎপাদনের স্থান। ফলটিতে প্রচুর পরিমান প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন এ,সি,ই ও কে, সমৃদ্ধ। এ বছর এই ফল প্রচুর উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা সদস্য মোঃ লোকমান হাকিম হিরু।’

অ্যাভোকেডো’ ফলের আকার অনেকটা পেয়ারা বা নাশপতির মতো দেখতে। এক একেকটা ফলের ওজন হয় প্রায় ৩শ’ থেকে ৭শ’ গ্রাম পর্যন্ত। অ্যাভোকেডো ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরের ফলের দোকানে বিক্রয় হয়। তবে, এর পুষ্টিগুন অত্যাধিক পরিমানে থাকায় মূল্য অনেক বেশী। বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজি বিক্রয় হয় ১ হাজার থেকে ১২ শ’ এবং ১৮ শ’ টাকা পর্যন্ত।

সাবেক ওই সেনা সদস্য লোকমান হাকিম হিরু জানান, তার ছোট ভাই সেনা সদস্য কঙ্গোতে চাকরির সুবাদে সেখানে ছিলেন। পরে দেশে ফেরার সময় তিনি সেখান থেকে ‘অ্যাভোকেডো’র ১২টি বীজ সংগ্রহ করেন। পরে নিজের গ্রামে এনে রোপন করেন। তন্মধ্যে ৮টি বীজের চারা ঝড়ে নষ্ট হয়ে যায়। বাকী চারটি গাছে এবছর সহস্রাদিক ফল ধরেছে।

নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বানিয়ারি ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি অফিসার বিজন কৃষ্ণ হাওলাদার “চন্দ্র দীপনিউজ ২৪কে” জানান, ‘অ্যাভোকেডো’ ফলটি আফ্রিকা অঞ্চলের একটি ফল। এই ফলের চাষ এখনো বাংলাদেশে শুরু হয়নি। তবে, ‘অ্যাভোকেডো’ সম্পর্কে যাদের পূর্ব থেকে ধারনা আছে তারা কেউ কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় রোপন করেছেন। পুষ্টি চাহিদা অন্যন্য ফলের চেয়ে অনেক বেশী এবং অনেক ঐষধি গুন রয়েছে। বিশেষ করে হার্ট যাদের দুর্বল তাদের জন্য এ ফলটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। এছাড়া, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।




কলাপাড়া-কুয়াকাটার নদ-নদী ও পরিবেশবিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মো: আল-আমিন, পটুয়াখালী: পরিবেশ রক্ষার সবার সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, মানবাধিকারকর্মী এবং ওয়াটার্স কিপার্স বাংলাদেশের সভাপতি সুলতানা কামাল।

বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর ‘কলাপাড়া-কুয়াকাটার নদ-নদী ও পরিবেশবিষয়ক’ এক মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, ‘বরিশালকে বলা হয় শস্যভান্ডার। এখানকার সংকটাপন্ন নদী, লবণাক্ততা নিরসন, নদী-খাল দখল এবং ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী-খাল রক্ষায় খুবই আন্তরিক।’

ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব, নদী পরিব্রাজক দল, আমরা কলাপাড়াবাসী ও জাতীয় নদী জোট সমন্বয়ে এ সভার আয়োজন হয়।

বাপা’র কলাপাড়া উপজেলা সমন্বয়ক মেজবাহ উদ্দিন মাননুর সঞ্চালনায় এবং কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ওয়াটার্স কিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক এবং পরিবেশ সংগঠক শরীফ জামিল, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মিন্টু, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. বারেক মোল্লা।

এ ছাড়া কুয়াকাটা-কলাপাড়ার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রধানরা এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ওয়াটার্স কিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক এবং পরিবেশ সংগঠক শরীফ জামিল বলেন, ২০১৭ সালে শুধু কলাপাড়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে ৩৮ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। ইলিশের এ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে আন্ধারমানিক, রাবনাবাদ পাড়ে যে সব অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে এ উপকূলের নদী-সাগরে ইলিশের প্রাচুর্য রক্ষার দিক বিবেচনা করে সেসব অবকাঠামো নির্মাণ করার দিকে যত্নবান হতে হবে। এ বিষয়ে সচেতন না হলে নদী-সাগরের ওপর প্রভাব পড়বে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, এখন থেকে নদী-খালে যদি কোনো মৎস্য ব্যবসায়ী কর্কশিট, মাছের বর্জ্য ফেলেন আমরা তাদের শুধু জরিমানা করব না। ওই সব লোকদের ধরে সরাসরি জেলে পাঠানো হবে।




পটুয়াখালীর ‘কুমিরমারা’য় করলায় শত কোটি টাকার ‘বাণিজ্য সম্ভাবনা’

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): একটা সময় ছিলো উত্তরাঞ্চলের সবজির উপর নির্ভর ছিলো পটুয়াখালীর মানুষ। সে দিন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন বর্ষা মৌসুমে বানিজ্যিক ভাবে বুলবুলি ও টিয়া উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা উৎপাদন করছে পটুয়াখালীর সবজি গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা গ্রামের কৃষকরা।

সারা বছর এই গ্রামে বিষমুক্ত নানা জাতের সবজি উৎপাদন হয়। এবারও সবজি গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা গ্রামে এবার করলার বাম্পার ফলন হয়েছে। যার ফলে উত্তরাঞ্চলের সবজির উপর নির্ভরতা দিন দিন কমতে শুরু করেছে।

লবনাক্ত জমিতে কান্দি পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা বীজ বপন করে ৪৫ দিনের মধ্যে ফলন ঘরে তোলে কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে করলা চাষ করতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। একবার মাচা করলে তিন বছর পর্যন্ত যায়। আর এক বিঘা জমিতে ১২ মন করলা উৎপাদন হয়। যা আড়াই লাখ টাকা বিক্রি করা হয় বলে জানান কৃষকরা। এবার করলার ভালো ফলন ও প্রতি কেজি করলা একশত টাকার উপরে বিক্রি করতে পেরে খুসি কৃষকরা।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শত শত কোটি টাকার সবজি বিক্রি করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সবজি গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা গ্রামের কৃষকরা। এরমধ্যে চাহিদার শীর্ষে করলা বিক্রি করেছে কৃষকরা। আর এবছর ভালো ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুসি চষিরা। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ টন করলা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নীলগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত সবজিচাষী কেউ মাথায় আবার কেউ ভ্যান ও রিকশায় করে করলা নিয়ে বাজারে আসেছে কৃষকরা। করলা চলে যাচ্ছে স্থানীয় আড়তে। এরপর ট্রাক যোগে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চরে।

সবজিচাষী জাকির গাজি বলেন, ‘আমি এবার আগাম জাতের করলা আবাদ করেছি। এগুলো প্রতিদিন বাজারে নিয়ে আসতে হয়। দাম ভালো পাচ্ছি। এবার শাকসবজিতে পোকার আক্রমণ কম। ফসল ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে খরচ তুলে লাভ হচ্ছে।’

পাইকারী বিক্রেতা আব্দুল গনি বলেন, একটা সময় ছিলো উরাঞ্চলের সবজির উপর নির্ভর করে চলতে হতো পটুয়াখালীর মানুষের। তবে এখন আমাদের এলাকার সবজি জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। করলা এবার বাজার দরও ভালো। সবজির দাম প্রতি নীয়ত পরিবতর্ন শীল তাই এক এক দিন এক এক রকম দাম থাকে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারন বিভাগেরব উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, পটুয়াখালীর কৃষকরা বানিজ্যিক ভাবে করলা চাষ করে সফলতা অর্জন করেছে বহু বছর আগে। এখানের উৎপাদিত করলা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। প্রতি কেজি করলা একশত টাকার উপরে বিক্রি করে কৃষকরা অধিক মুনাফা অর্জন করছে। আর কৃষকরা নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

এবছর জেলায় ১০৫০ হেক্টর জমিতে করলা আবাদ হয়েছে। শত কোটি টাকার করলা বিক্রি হওয়ায় অনেক কৃষক পরিবার আর্থিক ভাবে সচ্ছল হয়েছে। সাথে দিন দিন করলা চাষ বারছে এ জেলায়।




পটুয়াখালীতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

আল-আমিন (পটুয়াখালী): দরিদ্র শিক্ষার্থী-দের ঝড়ে পড়া রোধ ও আয়হীন পরিবারে অর্থনৈতিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৪০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে নগদ ৪ হাজার টাকা ও শিক্ষা উপকরণসহ মোট ৫ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ ছারা ৪টি পরিবারকে সেলাই মেশিন এবং ৩টি পরিবারকে ৪ টি গরু ও ৩টি পরিবারেকে চারটি করে ছাগল ও ১ জনকে দোকানের মালামাল প্রদানসহ মোট ১২টি পরিবারকে পুনর্বাসন উপকরণ বিতরণ করা হয় ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের হলরুম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল রহমান এর সভাপতিত্বে এসব শিক্ষাবৃত্তি ও উপকরণ উপকারভোগীদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে সরকারের পাশাপাশি বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে থাকে।  উপকারভোগীদের প্রাপ্ত বৃত্তি বা শিক্ষা উপকরণ যথাযথ কাজে ব্যয় করার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেন।

এ সময় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট সুপারভাইজার রানা আহমেদ বলেন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণের লক্ষে সম্বল প্রজেক্টের আওতায় গবাদিপশু ও সেলাই মেশিনসহ ব্যবসায়ীক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।




তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ছাড়ছে জাপান, ক্ষুব্ধ চীন ও কোরিয়া

চন্দ্রদীপ ডেস্ক:

বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সমালোচনা সত্ত্বেও ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়তে শুরু করেছে জাপান। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া।

এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় জাপানি দূতাবাসের সামনে সেদেশের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।

জাপানের এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্দোলন চলছে। চীনেও প্রতিবাদ হচ্ছে।

জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য পণ্যের বড় ক্রেতা চীন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়াও জাপানি সামুদ্রিক পণ্য আমদানি করে থাকে। জাপানের দাবি, এই পানি নিরাপদ। তবে সমালোচকরা বলছে, এ নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার ছিল। এই পানি ছাড়ার পরিকল্পনা আপাতত বন্ধ রাখা উচিত। কারণ এই পানি এখনও বিষাক্ত ও ক্ষতিকর। এর ফলে গোটা বিশ্বই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

১০ লাখ টনের বেশি তেজস্ক্রিয় পানি জমা হয়েছে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। আগামী ৩০ বছরে এই পানি সমুদ্রে ছাড়া হবে।

চীন বলেছে, একেবারে স্বার্থপর ও কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করছে জাপান। টোকিওর এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী প্রজন্মকে বিপদে ফেলবে। ফুকুশিমার পানি ছাড়ার পর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হবে বলে বেইজিং ঘোষণা করেছে।

খোদ জাপানের মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। সুনামিতে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হলে এ অঞ্চলে মাছ ধরার কার্যক্রমের ওপর বড় আকারের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।




পিরোজপুরের নান্দনিক ‘বঙ্গমাতা সেতুকে’ আরও রাঙিয়ে দিতে কৃষ্ণচূড়া লাগানোর উদ্যোগ

এসএম পারভেজ ( পিরোজপুর): জেলা সদরের একটি ইউনিয়নের নাম ’শারিকতলা-ডুমরিতলা’। প্রমত্তা বলশ্বর নদীর পশ্চিম দিকে যার অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অত্র নদীর ওপর নির্মান করেন ‘বঙ্গমাতা ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’।

নান্দনিক এই সেতুটির পশ্চিম প্রাশেই এই ইউনিয়নটির অবস্থান।  ইউনিয়নটির বর্তমান এবং প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান আজমীর হাসান মাঝি। অত্যন্ত সাদামাটা ও স্থানীয় মানুষের কাছে যিনি সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ও দিলখোলা মানুষ হিসাবে জনপ্রিয়। গনমাধ্যম কর্মীদর সঙ্গেও তার রয়েছে সখ্যতা।

যেকান সংবাদের বিষয় তিনিই এগিয়ে এসে সত্য তথ্যটি উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। হঠাৎ করেই তিনি গনমাধ্যম কর্মীদের আজ জানান তার এলাকার নান্দনিক ‘বঙ্গমাতা সেতুকে’ আরও বর্ণাঢ্য ও আকর্ষনীয় করে তুলতে কিছু পদক্ষেপ নিতে চান। এরই অংশ হিসাবে তিনি ও তার পরিষদের সদস্যদর নিয়ে কিছুদিন আগে সেতুর পূর্ব প্রান্তের এ্যাপ্রাচ সড়কে মনোমুগ্ধকর ও চোখ জুড়ানা সূর্যমূখী ফুল গাছ লাগিয়ে হাজারো মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

এবার তিনি বৃক্ষরোপন মৌসুমে আরও একটি উদ্যাগ নিলেন, সেটি হলো সেতুর পশ্চিম প্রান্তের এ্যপ্রোচ সড়কের দু’পাশে রোপন করেছেন প্রায় দু’শতাধিক কষ্ণচূড়া গাছ।

একই সঙ্গে পুরো  মৌসুমে তার ইউনিয়ন আরও কয়েক হাজার কষ্ণচূড়া গাছ রোপন করে তার ইউনিয়নকে লাল রঙ্গে রাঙ্গিয়ে তুলে উদাহরন সৃষ্টি করতে চান, আর একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্লোগান ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে’- এমন দৃষ্টান্ত রাখতেে চান এই জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান আজমীর হাসান মাঝি।




কেঁচো চাষে ভাগ্য ফিরেছে পিরোজপুরের বদরুল হায়দার বেপারির, পেয়েছেন কৃষি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বিশেষ সম্মাননা

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): ‘বদরুল’ পুরো নাম বদরুল হায়দার বেপারী, কৃষি জনপদের মানুষের কাছে একটি অত্যন্ত সুপরিচিত নাম। কেঁচো কম্পোষ্ট সারের মাধ্যমে ২০১২ সালে তার যাত্রা শুরু। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চৌঠাইমহল গ্রামে ১৯৭৬ সালে বদরুলের জন্ম। পিতা মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন বেপারী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। ২০১২ সালে একটি দৈনিক পত্রিকায় কেঁচো চাষ নিয়ে প্রতিবেদন পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে; সেই থেকে কাজ শুরু করে দেন বদরুল। এখন কেঁচো বদরুল হিসেবেই সবাই তাকে চিনে।

বদরুল ’চন্দ্রদীপ নিউজকে’ জানান, তার চাচাতো ভাই ফারুক হোসেন বেপারীরর কাছ থেকে ছয় একরের একটি সমন্বিত কৃষি খামার ভাড়া নেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৩ হাজার ২শত টাকায় দুই কেজি কেঁচোসহ ছয়টি স্যানিটারি রিং ক্রয় করেন। যাত্রা শুরু হয় ‘জাগো কেঁচো কম্পোষ্ট সারের’ উৎপাদন।

বদরুল জানান, কাজের শুরুতে আশপাশের লোকজন হাসাহাসি করতো, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো। কিন্তু হতোদ্যম হইনি, কাজ চালিয়ে গেছি নিজের মত করে। তবে, এখন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে, বদরুলের নিখুঁত কাজ দেখে পরিবারের সদস্যরাও গর্বিত। বদরুলের নিজের তিনটি খামারে বর্তমানে কেঁচো সার উৎপাদনের পরিমান মাসিক প্রায় ৮৫ মেট্রিক টন। তিনি বিভিন্ন খামার থেকে সোর্সিং করে মাসে প্রায় ১ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন কেঁচো সার বিক্রয় করেন। এক মেট্রিক টন কেঁচো সার ১২ হাজার টাকায় বিক্রয় হয় বলে জানান পদক প্রাপ্ত কেঁচো চাষী বদরুল।

কৃষি উৎপাদন, বানিজ্যিক খামার স্থাপন ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরন শিল্প ক্যাটাগরিতে গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি (এআইপি) বদরুল আরও বলেন, কাজের স্বীকৃতি পেতে তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায় আবেদন শুরু করেন। উচ্চ পর্যায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে জানানো হয় খুশীর সংবাদটি; তিনি সন্মাননা পাবার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

অত্যন্ত বিনয়ী ও সাদামাটা ডিগ্রী পাশ কেঁচো চাষী বদরুল এ বিষয় তার প্রাথমিক ভাবনার কথা বলতে গিয়ে আবেগ-আপ্লুত হন। বলেন, শুরুতে কেঁচো খামারের সব বিষয় তিনি ভাল বুঝতেননা, যে বিষয়গুলো জানতেননা, তার জন্য তিনি উপজেলা ও জেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রানীসম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতেন। বদরুলের প্রখর আগ্রহ দেখে কর্মকর্তারাও তার পাশে এগিয়ে এসেছেন। তার কপালে সবসময় চিন্তার ভাঁজ থাকতো আর তাহলো, কৃষিতে অধিক মাত্রায় রাসায়নিক সারের ব্যাবহারের বিষয়টি। তার এই ভাবনাগুলোয় নতুন মাত্রা এনে দেয় কেঁচো খামারের ভাবনায়।

বদরুলের নিজ গ্রাম পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চৌঠাইমহলে। তাঁর সার্বিক সহায়তায় অন্তত ৪১টি কেঁচো খামার গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থানে। ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত (করোনার আগে) ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬৩টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ২০ হাজার নগর ও মাঠ কৃষকদের কাছে পৌছান এই বদরুল। প্রশিক্ষন দিয়েছেন আরও প্রায় ৭০ হাজার কৃষককে।

কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ২৭ জুলাই কৃষি মন্ত্রনালয় প্রথমবারের মত কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তি (এআইপি) সন্মাননা ২০২০ পেয়েছেন তিনি। রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এ সন্মাননা তুলে দেন কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকসহ অতিথিবৃন্দ।

বদরুলের আশা, কেঁচো সার উৎপাদনের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা এবং পাশাপাশি রাসায়নিক সারের আমদানি ২০ থেকে ৪০ ভাগ হ্রাস করা। তিনি এ বিষয়ে আরও গবেষনা করে কী করে উচ্চতর ডিগ্রী আর্জন করা যায় সে বিষয়টিও মাথা দিয়ে ঝেড়ে ফেলেননি।




বরগুনায় বৃক্ষ মেলা শুরু

বরগুনা থেকে অর্ণব শরীফ: “গাছ লাগিয়ে যত্ন করি, সুস্থ প্রজন্মের দেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ থেকে বরগুনায় শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা। জেলা কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার প্রঙ্গনে শুরু হওয়া এ মেলায় ইতোমধ্যে নানা জাতের ফুল, ফল, কাষ্ঠল ও ঔষধী গাছের পশরা নিয়ে অনেকগুলো স্টল বসেছে। এ বৃক্ষমেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই বরগুনাবাসীর মধ্যে ব্যপক উৎসাহ-উদ্দিপনা লক্ষ্য করা যায়। ধারনা করা হচ্ছে প্রতি বছরের মত এ বছরও দারুন ভাবে জমে উঠবে বৃক্ষ মেলা।

জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের আয়োজনে এ উপলক্ষে আজ সকাল ৯ টায় একটি রেলির আয়োজন করা হয়। রেলিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে মেলা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সফল বনায়নকারীদের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি। এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গীর কবির। এছাড়া এই অনুষ্ঠানে সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।।




পিরোজপুরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে আইএফআইসি ব্যাংকের বৃক্ষরোপন

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): সারাদেশ ব্যাপী ১৩শত শাখা-উপশাখায় বৃক্ষরোপনের আওতায় পিরোজপুরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন করেছে আইএফআইসি ব্যাংক পিরোজপুর শাখা। আজ সোমবার সকালে পিরোজপুর পৌরসভার ০৩নং ওয়ার্ডের আশ্রয়ন প্রকল্পে এ বৃক্ষরোপর কর্মসূচী পালিত হয়। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ সেলিম হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ ছাব্বির সাজ্জাদ, আইএফআইসি ব্যাংক পিরোজপুর শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো: কামাল হোসেন, কাষ্টমার সার্ভিস ম্যানেজার মো: রাজিবুল ইসলাম, সদর উপ-শাখা অফিসার ইনচার্জ হাসান শাহরিয়ার বনি, অফিসার মার্কেটিং এ্যান্ড সেলস মো: ছহল রানাসহ ব্যাংকের অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে আশ্রয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপন করা হয়। প্রসঙ্গত, আগামী ১ মাস ব্যাপী সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন করবে আইএফআইসি ব্যাংক পিরোজপুর শাখা।




’কাঁচা টাকা চাষে’ ভাগ্য ফিরেছে পটুয়াখালীর কুমিরমারার চাষীদের

আল-আমিন (পটুয়াখালী):  বর্ষা মৌসুমেও মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বানিজ্যিক ভাবে মরিচ উৎপাদন করছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সবজি গ্রাম খ্যাত কুমিরমারা গ্রামের কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। তাইতো চাষীরা একে কাচাঁ মরিচ না বলে ‘কাচাঁ টাকা’ চাষ বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য মনে করে।

Ôজমিকে উত্তমরূপে তৈরি করে প্রয়োজনীয় জৈব ও রাসায়নিক সার মিশিয়ে বেড তৈরি করে মালচিং পেপার বিছিয়ে সেখানে নির্দিষ্ট দূরত্বে পরপর ছিদ্র করে চারা রোপণ করে কাঁচা মরিচ চাষ করাই হচ্ছে মালচিং পদ্ধতি।

২০০১ সালে প্রথম এ গ্রামে মালচিং পদ্ধতিতে কাঁচা মরিচ চাষ শুরু হলেও কাঙ্খিত সাফল্য আসে প্রায় এক যুগ পর। ২০১৩ সালের দিকে। তবে পদ্মা সেতু পরবর্তী বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ হয় এই মরিচ চাষে। দীর্ঘ সময় ফলন এবং বাজারে সারাবছর চাহিদা থাকায় কাঁচা মরিচ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এ পদ্ধতিতে কাঁচা মরিচ চাষ করলে সময় ও খরচ কম হয়। ফলনও ভালো পাওয়া যায়।

কুমিরামাড়া গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, ‘এক শতক জমিতে যে কাঁচা মরিচ হয়েছে, তা থেকে অনায়াসে ২০-২৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যাচ্ছে। এবার আমি মোট ২০ শতাংশ জমিতে কাঁচা মরিচ আবাদ করেছি। এখন প্রতি কেজি মরিচ ১৮০ টাকায় বিক্রি করছি। কাঁচা মরিচ হলো এখন কৃষকের মানিব্যাগ। কাঁচা মরিচ নয় এটা বলতে পারেন কাঁচা টাকা।’

কুমিরমাড়া গ্রামের কৃষক সুলতান গাজী বলেন, ‘মালচিং পেপার ব্যবহার করে কাঁচা মরিচ চাষ করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। প্রথমত একবার সার দিয়ে গাছ লাগালে পরে আর সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া মালচিং পেপারের কারণে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়। গাছের গোড়ায় ছাড়া পুরো বেড মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে দেওয়ায় কোনো ধরনের আগাছা জন্মাতে পারে না। আগাছা দমনে বাড়তি খরচ করতে হয় না। ফলে উৎপাদন যেমন বাড়ছে; তেমনই ফলনও অনেক বেশি হচ্ছে। তাই দিন দিন এ পদ্ধতিতে কাঁচা মরিচ আবাদের পরিমাণ বাড়ছে।

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নীলগঞ্জের কৃষকেরা সবজি উৎপাদনে অনেক সমৃদ্ধ। এ পদ্ধতি পুরো জেলার কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে কাঁচা মরিচ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে নীলগঞ্জে যে কাঁচা মরিচ উৎপাদন হচ্ছে, তা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সব সময়ে তাদের পাশে আছে।’