৮ থেকে ১৪ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ




দশমিনায় আম চাষে সাফল্যের দৃষ্টান্ত শাহ আলম

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের কৃষক শাহ আলম জোমাদ্দার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় তিনি উন্নত জাতের আমের চারা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পান। বর্তমানে তার বাগানে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে।

শাহ আলমের বাগানে দেশীয় আম্রপালি ও বারি-৪ ছাড়াও বিদেশি জাতের কিউজাই, ব্যানানা ম্যাংগো ও ব্ল্যাকস্টোন আম রয়েছে। ৫০ শতাংশ জমিতে ৫০টি চারা রোপণ করে এবার তিনি প্রায় ৫ লক্ষ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন।

তিনি জানান, আম চাষ অত্যন্ত লাভজনক। কম পরিশ্রম ও স্বল্প খরচে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করলে ফলন ভালো হয় এবং উৎপাদিত আম বিষমুক্ত থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি আম চাষের জন্য উপযোগী। তাই কৃষকদের আম চাষে আগ্রহী করে তোলার জন্য পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ উপজেলায় আম চাষের বিপ্লব ঘটবে বলে তিনি আশাবাদী।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় চাষিদের দুশ্চিন্তা

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হলেও বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় গলাচিপার আলু চাষিরা হতাশায় পড়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে কোনো হিমাগার না থাকায় কৃষকরা মাঠে-ঘাটে, বাগানে আলুর স্তূপ গড়ে তুলেছেন। এতে সংরক্ষণের অভাবে শুধু গলাচিপা উপজেলাতেই প্রায় ১০ কোটি টাকার আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

গলাচিপা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. আকরামুজ্জামান জানান, এ বছর উপজেলায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে গেছে, ফলে বাজারে আলুর দাম কমে গেছে। সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা মাঠেই আলু স্তূপ করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত আলু বিক্রিতে চরম সংকটে পড়েছেন তারা। কালিকাপুর গ্রামের কৃষক মো. আল আমিন বলেন, “সাড়ে তিন একর জমিতে আলু চাষ করেছি। কিছু আলু বিএডিসি কিনে নিলেও বাকিগুলো ক্ষেতেই স্তূপ করে রাখতে হচ্ছে। বরিশালের হিমাগারে জায়গা পাচ্ছি না, তাই বুঝতে পারছি না এত আলু কীভাবে সংরক্ষণ করব।”

বোয়ালিয়ার কৃষক মো. মিজান মিয়া বলেন, “আমরা আড়াই একর জমিতে আলু চাষ করেছি, এতে প্রায় ৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ৪ টন আলু পেয়েছি, যার বর্তমান বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। পাইকার না থাকায় এখন পর্যন্ত একটাও বিক্রি করতে পারিনি। প্রতিদিন আলু পঁচছে, আর আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।”

গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার জানান, প্রতি হেক্টর জমিতে ২৮ টন করে মোট ১০,৩৬০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি টন আলুর দাম মাত্র ১,৫০০ টাকা, যা কৃষকদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “উপকূলীয় জেলায় একটি হিমাগার থাকলে কৃষকরা হয়তো এমন সংকটে পড়ত না।”

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত হিমাগার নির্মাণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন লোকসানের হাত থেকে তারা রক্ষা পেতেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে মরুর ফল ‘সাম্মাম’ চাষে সফলতা

পটুয়াখালীর ব্যাংক কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জুয়েল মরু অঞ্চলের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল সাম্মাম চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সহায়তায় জেলার আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি সফলভাবে এই ফল উৎপাদন করছেন।

প্রথমবারের মতো পটুয়াখালীতে বাণিজ্যিকভাবে সাম্মাম চাষ শুরু করেন কামরুজ্জামান জুয়েল। ঢাকায় গিয়ে উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করে তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে দুই ধরনের সাম্মাম ফলের চাষ করেন। ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও জেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি।

সাম্মাম একটি সুগন্ধযুক্ত, মিষ্টি ও রসালো ফল, যা সাধারণত মরু অঞ্চলে চাষ হয়। জুয়েল তার জমিতে দুই ধরনের সাম্মাম উৎপাদন করছেন—একটির বাইরের অংশ সবুজ ও ভেতরে লাল, অপরটির বাইরের অংশ হলুদ ও ভেতরে লাল। জমির মাটিতে সরাসরি এবং মাচা পদ্ধতিতে এই ফলের চাষ করা যায়। মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসে এবং তিন মাসের মধ্যেই তা পরিপক্ব হয়ে যায়।

বর্তমানে সাম্মাম পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর স্বাদ, গুণগত মান ও সুগন্ধের কারণে স্থানীয় বাজারে এটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

কৃষি উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান জুয়েল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহ ছিল। অবসরে চাষাবাদ করতে চেয়েছিলাম। সাম্মাম চাষ করে ভালো ফল পাচ্ছি, যা আমাকে আরও উৎসাহিত করছে।”

তার সফলতা দেখে অনেক কৃষক সাম্মাম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। স্থানীয় কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, “ফলের বাজার মূল্য ভালো থাকায় আমিও সাম্মাম চাষ করতে চাই এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিচ্ছি।”

পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জালাল বলেন, “সাম্মাম চাষের শুরু থেকেই আমরা জুয়েলকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। আরও কেউ আগ্রহী হলে তাকেও সহায়তা করা হবে।”

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, “সাম্মাম চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। যেকোনো নতুন কৃষি উদ্যোগের ক্ষেত্রে আমরা পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছি।”

সাম্মাম চাষে পটুয়াখালীতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি লাভজনক ফসল হতে পারে। সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে বাড়ছে মাশরুমের জনপ্রিয়তা, স্বল্প বিনিয়োগে লাভজনক চাষ

পুষ্টিগুণে ভরপুর মাশরুম এখন পটুয়াখালীর মানুষের নিত্য খাদ্য তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। উচ্চমাত্রার আঁশ, ভিটামিন বি, সি ও ডি, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণকারী উপাদান এবং পটাশিয়ামসমৃদ্ধ এই খাদ্য রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তাই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের কাছে মাশরুমের কদর বাড়ছে, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে ইফতারির উপকরণ হিসেবে এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে পটুয়াখালীতে প্রতি কেজি মাশরুম ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অল্প জায়গায় ও স্বল্প বিনিয়োগে চাষ করা সম্ভব হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তারা মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও মাশরুম চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।

সদর উপজেলার শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক তার বাড়ির একাংশে মাশরুম চাষ শুরু করেন। প্রথমে শখের বসে চাষ শুরু করলেও বর্তমানে এটি তার জন্য একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। তিনি জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে চাষের কৌশল শিখেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন তার খামার থেকে তাজা মাশরুম সংগ্রহ করছেন স্থানীয় ক্রেতারা।

পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি কয়েক মাস ধরে নিয়মিত মাশরুম খাচ্ছি। রমজান মাসেও ইফতারির বিভিন্ন পদে মাশরুম রাখছি। তাজা মাশরুম পেতে আমি সরাসরি খামার থেকে সংগ্রহ করি।”

পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মাশরুম চাষকে জনপ্রিয় ও লাভজনক করতে সরকার প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তারা যাতে সহজে চাষ শুরু করতে পারেন, সেজন্য উন্নত জাতের বীজ, প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহযোগিতার ফলে পটুয়াখালীতে মাশরুম চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষি খাতের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন তারা।

মো: আল-আমিন।



গলাচিপায় বাম্পার তরমুজের ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

তরমুজ চাষে পটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা গলাচিপা ধীরে ধীরে “তরমুজের শহর” হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রতি বছর এখানকার নদী ও চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে বিপুল পরিমাণ তরমুজ উৎপাদিত হয়। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও রোগবালাই কম থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা গলাচিপায় তরমুজ কিনতে ছুটে আসছেন, ফলে কৃষকদের আশা—এবারের বেচাকেনা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

গলাচিপার গোলখালী, পানপট্টি, রতনদী তালতলী, চর কাজল, চর বিশ্বাসসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর তরমুজ চাষ হয়েছে। আগাম জাতের তরমুজ চাষে কৃষকরা ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন। ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করা কৃষক মো. খোকন জানান, প্রতি বিঘায় ৮৫ হাজার টাকা খরচ হলেও দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন। অন্যদিকে, কৃষক কামাল হোসেন জানান, তিনি দেরিতে চাষ করেছেন যাতে বাজারে ভালো দাম পান, তবে সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্য নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন।

গলাচিপায় তরমুজ মৌসুম ঘিরে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। পটুয়াখালীর সবচেয়ে বড় তরমুজ ঘাট গলাচিপার আমখোলা-মুশুরীকাঠি থেকে প্রতিদিন ২০০-৩০০ ট্রাক তরমুজ দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে। মুশুরীকাঠি থেকে হরিদেপুর পর্যন্ত সাতটি ঘাটে প্রতিদিন ১৫০-২০০ ট্রাক তরমুজ পরিবহন করা হয়। ঘাটে শ্রমিকদের ব্যস্ততা চরমে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিদিন ১৫০০ শ্রমিক কাজ করছেন।

এ মৌসুমে তরমুজ ঘাটগুলোর আশপাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান, হোটেল ও চায়ের দোকান। ভাসমান হোটেল ব্যবসায়ী মোসামাৎ আকলিমা বেগম জানান, প্রতিদিন ২০-২৫ কেজি চালের ভাত বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ব্যবসায়ী কোহিনুর, সেফালিসহ অনেকেই ছোটখাটো হোটেল, চায়ের দোকান এবং অন্যান্য পণ্যের দোকান খুলেছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরজু আক্তার জানান, এ বছর ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, জেলায় এবার ২৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫,০০০ হেক্টর বেশি। এ বছর গ্রেট ওয়ান, বিগ ফ্যামেলি, আনন্দ সুপার, লাকী ড্রাগনসহ বেশ কয়েকটি জাতের তরমুজের চাষ বেশি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বিনিয়োগ বেশি হলেও তরমুজ চাষ লাভজনক। তারা আশা করছেন, যদি সহজ শর্তে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায়, তবে আরও বড় পরিসরে চাষ করা সম্ভব হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে গলাচিপা দেশের সবচেয়ে বড় তরমুজ উৎপাদন ও সরবরাহ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে সরিষার বাম্পার ফলনে মৌচাষিদের মুখে হাসি

বরিশালে সরিষার ফলন এই বছর আশাতীত ভাবে ভালো হওয়ায়, সেখানে মৌচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরিষার ক্ষেতের পাশে মৌচাষের ফলে মধু উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষকদের মতে, এই বছরে মধু উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা ঘুরে প্রায় প্রতিটি ফসলের মাঠেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ অঞ্চলের চাষিরা মধু সংগ্রহের জন্য খাঁচা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। কৃষি বিভাগের মতে, সরিষা ক্ষেতের পাশের মধু চাষের ফলে পরাগায়ন ঘটে, যার ফলে সরিষার ফলন ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামে সরিষার বাম্পার ফলন লাভের কারণে গত দুই বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করছেন এক খামারি। টাঙ্গাইল থেকে এসে এই অঞ্চলে মধু চাষ শুরু করেছেন তিনি। মধু চাষি মো. মুন্না খান জানান, “১০৫টি বাক্সে ৮০০টিরও বেশি চাক বসিয়েছি। এক মাসে ১৫ মণ মধু সংগ্রহ করেছি, আর এখনও ৫ মণ মধু সংগ্রহের আশা করছি।”

আরেক চাষি আয়নাল হক বলেন, “এ বছর গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি মধু পাওয়া যাবে।”

মধু কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, সরাসরি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে, ফলে এতে কোনো ভেজালের শঙ্কা নেই। স্থানীয় ক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, “এভাবে কখনো মধু আহরণ দেখিনি, এখানে ভেজাল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই নিজের চোখে দেখে মধু কিনে নিচ্ছি।”

এছাড়া, কৃষক এনায়েত করিম জানান, সরিষার ক্ষেতের পাশে মধু চাষের কারণে আগের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ফলন হয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মুরাদুল হাসান বলেন, “মৌমাছির পরাগায়ন কার্যক্রম সরিষার ফলন বাড়ানোর পাশাপাশি মৌচাষিদেরও লাভবান করেছে। এর ফলে এ বছর সরিষা ও মধু চাষে বৃদ্ধি পেয়েছে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম


 




বাউফলের চন্দ্রদ্বীপে তরমুজ চাষিদের নিরাপত্তায় সেনা ও পুলিশ টহল শুরু

পটুয়াখালীর বাউফলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের তরমুজ চাষিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে এই টহল কার্যক্রম চালানো হয়।

সেনাবাহিনীর মেজর সামিনের নেতৃত্বে একটি টিম ভূমি দস্যু, চাঁদাবাজ ও ডাকাতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

চর রায়সাহেব এলাকার তরমুজ চাষি মো. আনোয়ার হাওলাদার ও মো. কালামসহ স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা। এছাড়া, খানকা মসজিদ এলাকায় সাধারণ জনগণের সঙ্গেও তারা কথা বলেন। কৃষকদের যে কোনো সমস্যায় দ্রুত সহায়তা দিতে সরকারি মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয় এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীকে ফোন করতে বলা হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সম্প্রতি কিছু অপরাধী গোষ্ঠী তরমুজ চাষিদের হয়রানি ও জমি দখলের চেষ্টা করছিল। সেনা ও পুলিশের যৌথ টহল শুরু হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং নির্বিঘ্নে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার আশা করছেন।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে সয়াবিন চাষ বাড়লেও তেল উৎপাদন কম

বাংলাদেশে উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ শতাংশ বরিশালে আবাদ হয়, তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বিপণন ব্যবস্থার অভাবে সয়াবিনের উৎপাদন ও ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারছে না। দেশের বিপুল পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদিত হলেও, তা মূলত হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে বরিশালসহ সারাদেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে দেশে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। ফলে দেশের মোট উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ ভাগই বরিশাল অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে সয়াবিনের উৎপাদন প্রায় ১ লাখ টন ছুঁতে পারে এবং সমগ্র দেশে ২ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে, সয়াবিন চাষের মাধ্যমে দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সয়াবিন ভোজ্যতেল উৎপাদনকারীদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না। বরং ফিসফিড ও পোল্ট্রি ফিড কারখানার ফড়িয়ারা মাঠ থেকেই সয়াবিন কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রায় ২ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ পোল্ট্রি ফিডের কারখানায় চলে যাচ্ছে এবং দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ছে না।

সয়াবিন তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে ৪০-৪৫% আমিষ এবং ১৯-২২% পর্যন্ত তেল থাকে। অন্যান্য শস্যের তুলনায় সয়াবিনে আমিষের পরিমাণ বেশি, যা অল্প খরচে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

বরিশালের মুলাদী উপজেলার কৃষক আবদুল হাকিম জানান, “প্রতি বছর আমি কয়েক বিঘা জমিতে সয়াবিন চাষ করি, ফলন ভালো হয় কিন্তু লাভ ঠিকমতো হয় না। কারণ ফড়িয়ারা কম দামে আমাদের কাছ থেকে সয়াবিন কিনে নেয়।” একইভাবে, হিজলা উপজেলার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সয়াবিন চাষে খরচ বাড়ছে, তবে দাম আগের মতোই রয়ে গেছে। যদি সরকার স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা করত, তাহলে আমরা ভালো দাম পেতাম।”

কৃষকরা আরো দাবি করেছেন যে, সরকার যদি উন্নত জাতের সয়াবিন বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করত, তাহলে তারা আরও বেশি সয়াবিন চাষ করতে পারতেন এবং লাভবান হতেন। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মরিয়ম বলেন, “সয়াবিন তেলবীজের যথাযথ বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দেশীয় ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়বে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিনা চাষে সরিষা আবাদে বিপুল ফলন

বরিশালে চাষ ছাড়াই সরিষার বাম্পার ফলন, যা দেখে এলাকার কৃষকরা চমকে গেছেন। বিশেষভাবে, কোনো ধরনের জমি চাষ না করেও এই অঞ্চলে সরিষার সফল আবাদ হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের কৃষক মো. গোলাম কবির জানিয়েছেন, আমন ধান পাকার আগে সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ধান কাটা হলে প্রয়োজনীয় সার ও ওষুধ দেয়া হয় এবং এই প্রক্রিয়াতে জমিতে কোনো চাষ করতে হয় না। এভাবে বিনা চাষে সরিষার আবাদ সফল হওয়ায় কৃষকরা খুশি। তার মতে, জমি চাষ ছাড়াই সরিষা আবাদ করা সম্ভব এবং ফলনও চমৎকার হয়।

গোলাম কবির আরও বলেন, “প্রথমবার পাঁচ বছর আগে বিনা চাষে সরিষার আবাদ শুরু করি, তখন থেকে কৃষকদের মধ্যে এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। আজকাল আমাদের এলাকায় প্রায় ৯০% কৃষক বিনা চাষে সরিষা রোপণ করছেন।” তিনি জানালেন, এই পদ্ধতিতে আবাদে খরচ কম, শ্রমও কম লাগে এবং ফলনও ভালো হয়।

এ বিষয়ে ভবানিপুর গ্রামের কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “গোলাম কবিরকে দেখে আমি এই পদ্ধতিতে সরিষা আবাদ শুরু করি। প্রথমবার খরচও কম ছিল এবং ফলনও বেশ ভালো পেয়েছি।”

এছাড়া নারী কৃষক ফজিলাতুন্নেছা জানান, “বিনা চাষে সরিষা আবাদে শুধু সার দিতে হয় এবং মাটির পরিস্থিতি অনুযায়ী সেচ দিতে হয়। এর বেশি কিছু করতে হয় না।”

স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুর রহমান বলেন, “পাঁচ বছর আগে যখন প্রথম বিনা চাষে সরিষা আবাদ শুরু হয়েছিল, তখন অনেকেই এটি নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু এখন ৯০% কৃষকই এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে।”

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) মোসা. ফাহিমা হক জানান, “বরিশাল অঞ্চলে আমন ধান একটু দেরিতে পাকে, ফলে ধান কাটার পর সরিষা রোপণ করা সম্ভব হয় না। তাই আমন ধান মাঠে থাকার সময়ই সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেয়া হয়। এতে খরচ কমে, কিন্তু ফসল উৎপাদনে কোনো সমস্যা হয় না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম