মোঃ আল-আমিন,বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বড় মীরগঞ্জের সাথে ছোট মীরগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে বড় মীরগঞ্জ ও ছোট মীরগঞ্জ বাজারের মধ্যবর্তি স্থান খানকায়ে সুলতানিয়া নামক মসজিদ সংলগ্ন সড়কসহ অন্তত ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভেঙে গেছে। এতে রহমতপুর তথা বড় মীরগঞ্জের সাথে ওই সড়ক পথে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রফিয়াদি, আরজিকালিকাপুরের একাংশ ও সিংহেরকাঠী গ্রামের পূর্বাংশের কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ এবং ছোট মীরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা বিপাকে পরেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সড়কটি ভেঙে গিয়ে বিভক্ত হওয়াতে সাধারণ মানুষ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। বেশ কিছু দিন যাবৎ আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে চাঁদপাশা ইউনিয়নের ভাবানিপুর, আরজিকালিকাপুর, রফিয়াদী এবং রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী, ছোট মীরগঞ্জ ও লোহালিয়া গ্রামের নদীর তীরবর্তি এলাকায় প্রবল আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে ওই সকল এলাকাতে গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে স্থান অনুযায়ী জিও ব্যাগ এবং টিউব ফেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এক বছর পার হতে না হতে অকার্যকর ওই ব্যবস্থা নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
অপরদিকে ভাঙন শেষে সড়কটির লোহালিয়া অংশের শেষ প্রান্তের ইট হয়েছে হরিলুট। স্থানীয়রা বেশ কিছু ভ্যান যোগে সড়কের ইট উঠিয়ে যে যার মত করে নিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও চাঁদপাশা ইউনিয়নের আরজি কালিকাপুর ও ভবানিপুর গ্রামসহ ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানি কমার সাথে সাথে এসব এলাকায় নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার লোকজন এখন আর ত্রান চায় না। ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান।
গত ১ সপ্তাহের ভাঙনে কয়েকটি দোকান, ৭/৮ ঘরবাড়ি ও কয়েক একর ফসলসহ জমি বিলীন হয়েছে। ঝুকিতে রয়েছে ২৫ টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। পানের বরজ, ফসলি জমি ও বসত ভিটা হারা মানুষেরা দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছে।
সিংহেরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা (একটি সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ঘর নদী ভাঙনের কবলে পরায় অর্ধেক ভেঙে অনত্র সরিয়ে নিয়েছি। বাকি অর্ধেক ভেঙে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছ। আমরা অনত্র জমি কিনে বাড়ি করছি। আমাদের যাতায়াতের রাস্তাটি নদীতে ভিলীন হয়ে গছে।
নদী ভাঙনে ৭ বার ক্ষতিগ্রস্ত শিপন ঘরামী বলেন, বিগত দিনে ৭ বার নদীগর্ভে ঘর-বাড়ি হারিয়েছি। এবার আাবার নদী ভাঙনে কবলে পরেছি। এছাড়া এক সপ্তাহের ভাঙনে এই এলাকার কয়েকটি পরিবার ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ ২কেজি চাল দিয়ে সাহায্য করেনি। আমাদের খোঁজ নেয়নি কেউ। আমরা সরকারি সাহাজ্য চাই না, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।
স্থানীয়রা বলেন, সামসু ফকির, শহিদ মাষ্টার, আবুল হোসেন, হাচেন মাওলানাসহ কয়েকটি পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রাত কাটাচ্ছে।
রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী এলাকার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, প্রতিবছরই নদী ভাঙনে এলাকা ব্যাপক ক্ষতির সস্মুখীন হয়ে থাকে। ২০২০ সাল থেকে ছোট মীরগঞ্জ বাজারটি কয়েকবার সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এ বছর আবার ভাঙনের কবলে পরেছে।
এই এলাকার ভেরিবাদ টি ভেঙ্গে যাওয়ায় জোয়ারের পানিতে প্রায় ৩ শত একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ব্যাপরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালে তারা কোন খোঁজ নেয়নি।
চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নের রফিয়াদি গ্রামসহ ৩টি গ্রামের শতাধিক পরিবার ইতিমধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের মানচিত্র হুমকির মুখে পরবে।
স্থানীয়রা বলেন, সড়ক যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সিমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হবে এবং কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদর কিংবা বাবুগঞ্জ বাজার এবং থানা সদর এলাকায় আসতে হবে।
ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা রহমানকে জানালে তিনি দ্রুত বরিশাল পানিউন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান শুভ, এসও মোঃ রাশেদুল ইসলামকে নিয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিংহেরকাঠী এলাকার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল, লোহালিয়া এলাকার ইউপি সদস্য মোঃ শাহিন হোসেন হাওলাদার এবং ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রহিমা বেগমসহ স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান শুভ বলেন, আমি জনর্দূভোগ নিজের চোখে দেখেছি। ভাঙন কবলিত এলাকায় সরকারি খাস জমি না থাকাতে স্থানীয়রা যদি জমি দিয়ে সহযোগীতা করেন তা হলে অতি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।