বরিশালে পতিত জমিতে আদা চাষ

 

বরিশাল অফিস: পতিত জমিতে বস্তাতে  আদা চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন অনেকে। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে বরিশাল জেলার অনেকেই  এ পদ্ধতিতে আদা চাষ করছেন । আগামী বছর বর্ষা মৌসুমে আরো বড় পরিসরে ও বাণিজ্যিকভাবে আদা চাষ চাষের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

বরিশাল সদর উপজেলা উপজেলার লামচরী গ্রামের কৃষক হালিম মজুমদার বলেন, বস্তায় আদা চাষ খুবই সহজ। অল্প খরচে বেশি লাভ জনক একটি ফসল। বস্তা, আদা, সার এবং পরিচর্যা মিলিয়ে বস্তা প্রতি খরচ হয় প্রায় ৮০ টাকা। প্রতিটি বস্তায় প্রায় দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া যায়।

জানা যায়, বিভিন্ন সাইজের ছোট বড় বস্তায় বিগত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে লাগানো হয় আদার কন্ধ। চার মাসের মাথায় সে সব কন্ধ রূপ নিয়েছে ছোট ছোট ঝোপে। আর ঝোপের নিচ থেকে উঁকি দিচ্ছে আদার ফলন। মূলত ছায়া যুক্ত-শুকনো স্থানে ভালো জন্মায় আদা। তাই বসত বাড়ির আশপাশে বিভিন্ন গাছ-গাছালির নিচের জমিতে চলছে চাষাবাদ।

বরিশাল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোঃ রেজাউল হাসান বলেন, বস্তায় আদা লাগানোর পূর্বে প্রতি বস্তায় তৈরি মিশ্রন এমনভাবে ভরাতে হবে যাতে বস্তার উপরের দিকে ১-২ ইঞ্চি ফাঁকা থাকে। প্রতি বস্তায় ৪৫-৫০ গ্রামের একটি বীজ মাটির ভিতরে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি গভীরে লাগাতে হবে। এপ্রিল-মে মাসে আদা লাগাতে হয়। তবে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ আদা লাগানোর উপযুক্ত সময়। বীজ লাগানোর পর মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এবং তা সঠিক পরিচর্যা পেলে কৃষক প্রচুর লাভবান হবে।




ডিমের দাম ১২ টাকা নির্ধারণ, আমদানির সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  প্রতি পিস ডিমের দাম ১২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমে অল্প পরিমাণে আমদানি করা হবে। এরপরও যদি দাম না নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে ব্যাপক আকারে আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এদিকে আলু ও পেঁয়াজের দামও বেঁধে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, পেঁয়াজ, আলু ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। আলুর দাম হবে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা ভোক্তা পর্যায়ে। আর পেঁয়াজের দাম ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার মাঠে থেকে এটি মনিটরিং করবেন।

সয়াবিন তেলের দাম পাঁচ টাকা কমে আসবে বলেও জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাজারে কোনো কারণ ছাড়াই অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন ন্যায্যদাম কার্যকর করবো।

মন্ত্রী বলেন, নতুন করে টিসিবির কার্ড করা হচ্ছে। আমরা (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) ৫০ লাখ পরিবারের জন্য কার্ড করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক কোটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাকিগুলো শিগগির মানুষ হাতে পেয়ে যাবে। কার্ডের কাজ চলছে।

দেশে সাড়ে তিন কোটি দরিদ্র মানুষ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এরমধ্যে এক কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ী দামে পণ্য দিচ্ছি। অর্থাৎ পাঁচ কোটি মানুষ এ সেবায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। একটি পরিবারে গড়ে পাঁচজন করে সদস্য থাকে। তারপরও যদি কোনো দরিদ্র মানুষ টিসিবির সেবা থেকে বাদ পড়েন, সে বিষয় আমরা দেখবো।




মাল্টা চাষে সফল বাবুগঞ্জের তারিকুল

মো. আল-আমিন (বাবুগঞ্জ) বরিশাল:  জেলার বাবুগঞ্জে মাল্টা চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন সিঙ্গাপুর ফেরত যুবক তারিকুল ইসলাম মাসুম। তবে পরিচর্যায় ঘাটতি থাকায় গত বছরের তুলনায় ভালো ফলন হয়নি তার। তবুও চলতি মৌসুমে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।

মাল্টা চাষ শুরু করার পর সফল হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষের পরিকল্পনা করলেও উঁচু জমির অভাবে পিছিয়ে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মকবুল হোসেন হাওলাদারের ছেলে এই উদ্যোক্তা। এজন্য তিনি সরকারি সহযোগিতা চাইছেন। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আমের মতোই মাল্টা সংগ্রহের দিনক্ষণ ঘোষণা এবং অন্যান্য চাষীদের আগাম ফল সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

এদিকে তারিকুলের দেখাদেখি অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অপরদিকে কৃষি কর্মকর্তারা তারিকুলসহ অন্যান্য উদ্যোক্তাদেরও মাল্টা বাগানের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন।

সরেজমিনে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে তারিকুলের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ১৪ শতাংশ জমির উপর (বারি-১) মাল্টা গাছের সাথে ঝুলছে অসংখ্য ফল। পাশাপাশি ভিয়েতনামী (১২ মাস) মাল্টা, চাইনিজ কমলা ও থাই জাম্বুরাও রয়েছে। তবে তিনি অসুস্থ থাকায় সময়মতো পর্যাপ্ত পরিচর্যা করতে না পারায় এবার ফলন অনেক কম হয়েছে।

তারিকুল বলেন, দেশের বাজারে প্রায় সব ধরণের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেলেও তিনি গত বছরের মতো এবারও প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি করছেন ১০০ টাকা দরে। তার বাগানে উৎপাদিত মাল্টা রসালো এবং সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয়রাই তার ক্রেতা। তবে অধিকাংশ মাল্টা কিনে নেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা। আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ ও বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

তারিকুল ইসলাম মাসুম জানান, ২০১০ সালের শুরুতে কাজের সন্ধানে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। সেখানে দীর্ঘ ৮ বছর থেকে ২০১৮ সালে দেশে ফিরে আসেন। তবে দেশে ফিরে তিনি বসে থাকেননি, ইউটিউবে মাল্টা চাষ ও ফলন সম্পর্কে ধারণা পেয়ে নিজেই উদ্বুদ্ধ হয়ে শুরু করেন শখের মাল্টা চাষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজস্ব ১৪ শতক জমিতে মাটি ভরাট করে স্বরূপকাঠী থেকে (বারি-১) মাল্টা চারা সংগ্রহ করেন। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে প্রস্তুতকৃত জমিতে সংগৃহীত বারি-১ জাতের মাল্টা চারা রোপণ করেন। শখের বশে করা মাল্টা বাগান থেকে গত ৩ বছর ধরে ৩০-৪০ মণ মাল্টা বিক্রি করে আসছেন। প্রতিবছর এই বাগান থেকে প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা মাল্টা বিক্রি করে থাকেন। চলতি বছর তিনি কেজিপ্রতি ১০০ টাকা দরে ৭ মণেরও বেশি মাল্টা বিক্রি করেছেন। ৩২টি মাল্টা গাছ থেকে আরো ২০-২৫ মণ মাল্টা সংগ্রহ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

এ ব্যাপারে তারিকুল ইসলাম মাসুম বলেন সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ প্রতি বছর তার মোট ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। চলতি বছর যদি তিনি ৩০ মণ মাল্টা বিক্রি করতে পারেন তবে সব মিটিয়ে ১ লাখ টাকার বেশি লাভ করতে পারবেন। তার বাগান ও ফলন দেখে এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, প্রায় প্রতিদিনই বাগানটি দেখতে মানুষ আসছেন। অনেকেই বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আমিও তাদের উৎসাহিত করছি। ভালোভাবে বাগান করতে পারলে ব্যাপক লাভবান হওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।

শখের বশে বাগান করতে গিয়ে তারিকুল এখন বাণিজ্যিকভাবে চিন্তা করছেন। তিনি মাল্টা বাগান সম্প্রসারণের জন্য পার্শ্ববর্তী আরো ৩৫ শতক জমি মাটি ভরাট করে মাল্টা চাষের আওতায় আনার জন্য পরিকল্পনা করলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা আর করা হয়নি। তবে তিনি এখনো হাল ছাড়েননি। অবশ্য এক্ষেত্রে তিনি সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহ মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, নীচু জমি ভরাট করার জন্য কৃষি অফিসের কোন প্রকল্প নেই। তবে মাল্টা গাছের পরিচর্যাসহ অন্যান্য বিষয়ে মাল্টা চাষীদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। বাবুগঞ্জসহ বরিশালের মাটি বারি-১ মাল্টা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তারিকুলের দেখাদেখি এ এলাকায় অন্তত আরো ১০ থেকে ১২ জন উদ্যোক্তা স্বল্প পরিসরে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন।

কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, তারিকুলের মাল্টা বাগানটির ফল অনেক সুস্বাদু। আমরা ওখান থেকে পরিবারের জন্য মাল্টা সংগ্রহ করে থাকি। তারিকুলের আগ্রহ ও প্রচেষ্টা এবং আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি এ সবকিছুর সমন্বয়ে তিনি শতভাগ সফলতা অর্জন করেছেন। তাছাড়া আমাদের দপ্তর থেকে সকল উদ্যোক্তাদের মাল্টা বাগানের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।




বিশ্বে খাদ্যের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেক্স: বিশ্বের প্রধান খাদ্যপণ্যগুলোর দাম গত দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এখন সর্বনিম্ন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আগস্টের সূচক এমন তথ্যই দিচ্ছে। সংস্থাটির খাদ্য মূল্যসূচক আগস্টে ১২১ দশমিক ৪-এ নেমে এসেছে, যা গত মাসে ছিল ১২৪ পয়েন্ট।

২০২১ সালে মার্চের পর এই সূচক এতটা আর কমেনি।

এর আগে ২০২২ সালের মার্চে খাদ্য সূচক সর্বকালের রেকর্ড ছুঁয়েছিল। সেই তুলনায় আগস্টে সার্বিক সূচক ২৪ শতাংশ কমেছে। দুগ্ধজাত পণ্য, তেলবীজ, মাংস, দানাজাতীয় খাদ্যপণ্যসহ প্রায় সব ধরনের খাবারের দামই কমেছে।

ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে শস্যচুক্তি বাতিল হওয়ার পরও গম বা ভুট্টার বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ব্রাজিলের উদ্বৃত্ত উৎপাদন আর যুক্তরাষ্ট্রে ফসল তোলার সময় ঘনিয়ে আসায় এই দুই খাদ্যের দামই বরং কমেছে। ভোজ্য তেলের দাম কমেছে তিন দশমিক এক শতাংশ। আর দুগ্ধজাত পণ্যের দাম চার শতাংশ কমেছে।

তবে ব্যতিক্রম চালের বাজার। ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে এর দাম ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে চালের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে এক দশমিক তিন শতাংশ দাম বেড়েছে চিনির। আগের বছরের তুলনায় চিনির দাম বৃদ্ধির হারও ৩৪ শতাংশে ঠেকেছে।




বরিশালে খাস জমি দখলের অভিযোগ

বরিশাল অফিস : বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই কীর্তনখোলা নদীর তীর থেকে শুরু করে ও চরবাড়িয়া ইউনিয়ানে লামচড়ি গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প পাশ ঘিরে প্রায় ১০ একর সরকারী  খাস জমি দখলের  অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন আকন ও করির মৃধার বিরুদ্ধে  ।

লামচড়ি গ্রামের শরুব আলী হাওলাদার অভিয়োগ করে বলেন, এই গ্রামের ইউপি সদস্য মামুন আকন ও করির মৃধার বেশ কিছু দিন ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্প পাশ ঘিরে সরকারী খাস জমি দখল করে, গাছ লাগিয়ে সেই গাছের ফল ও ফসল বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । সরকারী খাস জমি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা এই সব জমিতে ধান চাষ করে থাকলেও জমি দখলের পর থেকে তারা সেখানে চাষ করছেন না ।এই সব  কৃষক  চাষাবাদের জমি হারিয়ে পরিবার নিয়ে দূর্দিন কাটাচ্ছেন ।
দখলবাজদের হাত থেকে সরকারী খাস ফসলি জমি ফিরে পেতে এলাকাবাসি বরিশাল সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও দখল ভুমিদস্যু  মামুন আকন ও করির মৃধা প্রভাবশালী হওয়ায় তাতে কোন কাজ  হচ্ছেনা।

জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন আকন ও কবির মৃধা মোবাইল ফোনে জানান,  আমাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে । আমারা কয়েক জন মিলে অনাবাদি ফেলে রাখা জমিতে পেপে গাছসহ সকল প্রকার সবজি-ফসল আবাদ করি যা  স্থানীয় মানুষদের মধো বিলিয়ে দেয়া হয় । এ জায়গায় ফসল চাষ করার প্রধান উদ্দেশ্য  মানব সেবায় হতদরিদ্রদের সাহায্ময করা ।

বরিশাল সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, চরবাড়িয়া ইউনিয়ানে লামচড়ি গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প পাশ ঘিরে জমি দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ না পেলেও কয়েকজন আমাকে মৌখিক ভাবে বলেছেন, যেহেতু আমাদের আশ্রয়ণ প্রকল্প পাশেই সরকারী খাস জমি দখলের অভিযোগ,  আমি ইতোমধ্যে ঘটনা স্থল  পরিদর্শন করেছি এবং দখল করা জমি থেকে গাছপালা সহ সকল কিছু সরিয়ে নিতে সময়  বেধে দিয়েছি । সেই সময়ের মধো যদি তারা দখল না ছাড়ে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।




আমড়ার বাম্পার ফলনেও হাসি নেই চাষিদের মুখে

 বরিশাল অফিস: পুষ্টিকর ফল আমড়ার চাহিদা দিন দিনই বাড়ছে। মৌসুমে বাজার ছাড়াও পথে পথে প্রচুর বিক্রি হয় এই আমড়া। এটি একটি অর্থকরী ফল হিসেবেও নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে আমড়ার চাষ ও উৎপাদন। কিন্তু ফলন ভালো হলেও কাংখিত দাম না পেয়ে অখুশি চাষীরা। এজন্য মধ্যস্বত্ত্বেভাগীদের দৌরাত্ম বিলোপ করে দেশে-বিদেশে সুপরিকল্পিতভাবে বাজার তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এর সাথে সংশ্লিষ্টজনেরা।

পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে গত দু’বছরের তুলনায় আমড়ার ফলন ভাল কিন্তু আমড়া চাষিদের মুখে সেই হাসির রেখাটি বিস্তৃত নয়। কৃষি অধিদফতরও বলছে, এবার কাউখালীতে আমড়ার বাম্পার ফল হয়েছে।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল আমড়ার ইংরেজি নাম গোল্ডেন অ্যাপেল। বিভিন্ন লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাসে আর রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কের সর্বত্রই প্রতিনিয়ত হকারদের ডাক শোনা যায় লাগবে বরিশালের আমড়া। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় এর ফলন বেশি বিধায় বরিশালের আমড়া বলেই পরিচিতি বেশি। বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলাসহ স্বরুপকাঠী ও নাজিরপুরে আমড়া আবাদ হয় বেশি। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে আমড়ার চাষ হয়।

ওই এলাকায় এমন কোনো বাড়ি পাওয়া যাবে না যে বাড়িতে কম করে হলেও একটি আমড়া গাছ নেই। রাস্তার পাশে বাড়ির উঠোনে একটি আমড়া গাছ লাগানো যেন প্রতিটি মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে। বহু মানুষ পতিত জমি কেটে আইল তৈরি করে, আবার কেউ কেউ ফসলী জমিতে আমড়ার বড় বড় বাগান সৃষ্টি করেছেন। কোন কোন চাষীর বাগান থেকে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় হয়।

শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে পরিপক্ক আমড়া পাওয়া যায়। গ্রামের বেশির ভাগ এলাকায় আমড়া কেনা-বেচার বেপারি রয়েছে। তারা ফাল্গুন-চৈত্র মাসে কুড়ি দেখেই আগাম টাকা দিয়ে বাগান কিনে ফেলেন। আবার অনেক চাষি ভরা মৌসুমে নিজেরাই বাজারে আমড়া বিক্রি করেন। আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত গাছ থেকে আমড়া পেড়ে বাজারে নিয়ে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করা হয়। কাউখালী উপজেলার লঞ্চঘাট,দক্ষিণ বাজার,বেকুটিয়া, নতুনবাজারসহ বিভিন্ন বড় বাজারে রয়েছে আমড়ার আড়ৎ।

ওই সব আড়তে বেপারীদের কাছ থেকে আমড়া কিনে ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, এলাকায় চালান করা হয়। সেখানে আড়তদাররা বিভিন্ন মোকামের খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারদের কাছে আমড়া বিক্রি করে।

কাউখালীর বাশুরী গ্রামের ইমাম হোসেন বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফার কারণে আমড়া উৎপাদনকারী গৃহস্থরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেও আমড়া বেচা-কেনার মুনাফার পুরোটা ঢুকে না চাষিদের পকেটে। সে কারণেই আমড়া চাষিরা বাম্পার ফলনে খুশি হয়েও যেন খুশি নন।

বেপারীরা গৃহস্থদের কাছ থেকে এক বস্তা আমড়া ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় কিনে কাউখালী মোকামে বিক্রি করে থাকেন ১২ থেকে ১৪০০ টাকায়। কাউখালী থেকে ঢাকায় বিক্রি হয় ১৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।

কাউখালীর আড়তদাররা বলেন, প্রতি বছরের মতো এবছরও ভাদ্র মাসের প্রথম থেকেই আমড়ার ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। ফলন বেশি হওয়ায় প্রতিদিন দেড়শ থেকে ২ শত মণ আমড়া বস্তা ভরে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে।

আড়তদাররা আরও জানান, কাউখালীতে আমড়ার আড়ৎ খুলে সেখান থেকে প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে আমড়া সংগ্রহ করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পাইকাররা ট্রাক, পিকআপে লঞ্চেও ঢাকা,চাদপুর নিয়ে যায়। সেখান থেকে কাঁচা আমড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে।

কাউখালী উপজেলা কৃষি উপজেলা কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোমা রানী দাস বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে আমড়া চাষিদের সব রকমের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। যার ফলে এ বছর ভাল ফলন পেয়েছে চাষিরা। যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশি। অর্থকরী ফসল হওয়ায় কৃষকরা আমড়া চাষে দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতি বছরই আমড়ার ফলন বাড়ছে।




বরিশালে নির্মিত হচ্ছে রাইস সাইলো, দক্ষিণাঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তায় অমিত সম্ভাবনা 

বরিশাল অফিস : আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় নির্মানাধীণ অত্যাধুনিক শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৪৮ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতার স্টিল রাইস সাইলো প্রকল্পের কাজ  প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও কীর্তনখোলা নদীতে নির্মাণাধীন পল্টুন (যেটি) এর নির্মাণ কাজও  দ্রুত গতিতে শেষ করা হবে বলে জানা গেছে।

বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন এলাকায় এই স্টিল সাইলোটি কাজ শেষে চালু হলে খাদ্যপণ্যের গুণগতমান ও পুষ্টিমান দীর্ঘ তিন বছর সময় বজায় রাখা সম্ভব হবে। প্রায় ৩৬২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৪৮ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই আধুনিক স্টিল সাইলো।

৫২০ শতক জমির উপর নির্মিত এই সাইলোতে একসঙ্গে তিন বছরের জন্য সংরক্ষণ করা যাবে ৪৮ হাজার টন চাল। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, যে কোন দুর্যোগকালীন সময় খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলায় স্টিল সাইলোতে সংরক্ষণ করা চাল হবে দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য হবে বড় সহায়ক ।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় সরকারিভাবে দীর্ঘদিন মজুদ রাখার উপযোগী আধুনিক ও উন্নতমানের খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পৃথক-পৃথক ১৬টি বিনের মাধ্যমে প্রতিটি বিনে ৩ হাজার মেটিকটন চাল ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন হবে এ সাইলো। সর্বাধুনিক সাইলো পাইল, ফাউন্ডেশন স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যম সহ নদী ও সড়ক পথে চাল আমদানী করা হলে তা জেটি থেকে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে অটোমোশন লোডিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণাগারে এসে প্রতিটি বিনে মজুদ হবে।

এতে কীটনাশক ছাড়া আধুনিক চিলার (স্বয়ংক্রিয় তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) যন্ত্রের মাধ্যমে আদ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রেখে প্রায় তিন বছর চাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় চাল সংরক্ষণ, ব্যাগিং ও লেডিং-আনলোডিং প্রক্রিয়া করবে।

একাজে নিয়োজিত অপারেটর নিজ কক্ষে বসে প্রতিটি সাইলো বিনের তাপমাত্রা স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে বুঝতে পারবেন। ফলে সঠিক তাপমাত্রা ও আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ইতিমধ্যে ১৬টি স্টিল সাইলো বিন ১৬টির কাজ সম্পূর্ন হয়েছে এখন শুধু বাকি কনভেয়ারে কাজ তাও দ্রæতগতিতে চলছে বলে জানান প্রকল্প কাজে সংশ্লষ্ট সদস্যরা। অন্যদিকে বাংলো, সাইলো অফিস, পাম্প হাউজ সহ গোডাউনের কাজ সম্পূর্ন করার পাশাপাশি আমাদের এখানের কাজ দ্রুতগতিতে গিয়ে চলছে ও আগামী বছরের জানুয়ারী মাসে এ প্রকল্পের কাজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর এবং ফেব্রয়ারী মাসে সাইলোর উদ্ধোধন করা হতে পারে হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাইলো প্রকল্প প্রকৌশলী বরিশাল সাইলো আ.জ.ম ইফতেখার।

এ বিষয়ে বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় স্থানীয় পদ্ধতিতে প্রায় ৯০ হাজার টন খাদ্য মজুদের ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যাধুনিক খাদ্য মজুদের ক্ষেত্রে স্টিল সাইলো হবে বাড়তি শক্তি। খরা, ঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছাসের পর খেতে ফসল ওঠা পর্যন্ত এই সাইলোর মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে আলাপকালে স্টিল সাইলো প্রকল্প প্রকৌশলী আ.জ.ম. ইফতেখার বলেন, স্টিল সাইলো নির্মাণ প্রকল্পটির চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০২১ সালের জুন মাসে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস নাগাদ শেষ হবার কথা ছিল মাঝে জমি সংক্রান্ত একটু জটিলতার কারনে কিছুটা সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাইলো নির্মাণ কাজের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি আমরা ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে কাজ সম্পূর্ন করে হস্তান্তর করব। যা পরবর্তী সময় ফেব্রুয়ারীতে চালু করা হবে। সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব ও কীটনাশকমুক্ত।




বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বিচ্ছিন্ন ছোট মীরগঞ্জ, হুমকিতে গ্রামের পর গ্রাম

মোঃ আল-আমিন,বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: বরিশালের বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বড় মীরগঞ্জের সাথে ছোট মীরগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে বড় মীরগঞ্জ ও ছোট মীরগঞ্জ বাজারের মধ্যবর্তি স্থান খানকায়ে সুলতানিয়া নামক মসজিদ সংলগ্ন সড়কসহ অন্তত ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে ভেঙে গেছে। এতে রহমতপুর তথা বড় মীরগঞ্জের সাথে ওই সড়ক পথে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রফিয়াদি, আরজিকালিকাপুরের একাংশ ও সিংহেরকাঠী গ্রামের পূর্বাংশের কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ এবং ছোট মীরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা বিপাকে পরেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সড়কটি ভেঙে গিয়ে বিভক্ত হওয়াতে সাধারণ মানুষ ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। বেশ কিছু দিন যাবৎ আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে চাঁদপাশা ইউনিয়নের ভাবানিপুর, আরজিকালিকাপুর, রফিয়াদী এবং রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী, ছোট মীরগঞ্জ ও লোহালিয়া গ্রামের নদীর তীরবর্তি এলাকায় প্রবল আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে ওই সকল এলাকাতে গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে স্থান অনুযায়ী জিও ব্যাগ এবং টিউব ফেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এক বছর পার হতে না হতে অকার্যকর ওই ব্যবস্থা নদের  গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

অপরদিকে ভাঙন শেষে সড়কটির লোহালিয়া অংশের শেষ প্রান্তের ইট হয়েছে হরিলুট। স্থানীয়রা বেশ কিছু ভ্যান যোগে সড়কের ইট উঠিয়ে যে যার মত করে নিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও চাঁদপাশা ইউনিয়নের আরজি কালিকাপুর ও ভবানিপুর গ্রামসহ ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানি কমার সাথে সাথে এসব এলাকায় নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার লোকজন এখন আর ত্রান চায় না। ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চান।
গত ১ সপ্তাহের ভাঙনে কয়েকটি দোকান, ৭/৮ ঘরবাড়ি ও কয়েক একর ফসলসহ জমি বিলীন হয়েছে। ঝুকিতে রয়েছে ২৫ টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। পানের বরজ, ফসলি জমি ও বসত ভিটা হারা মানুষেরা দুশ্চিন্তায় প্রহর গুনছে।

সিংহেরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা (একটি সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ঘর নদী ভাঙনের কবলে পরায় অর্ধেক ভেঙে অনত্র সরিয়ে নিয়েছি। বাকি অর্ধেক ভেঙে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছ। আমরা অনত্র জমি কিনে বাড়ি করছি। আমাদের যাতায়াতের রাস্তাটি নদীতে ভিলীন হয়ে গছে।

নদী ভাঙনে ৭ বার ক্ষতিগ্রস্ত শিপন ঘরামী বলেন, বিগত দিনে ৭ বার নদীগর্ভে ঘর-বাড়ি হারিয়েছি। এবার আাবার নদী ভাঙনে কবলে পরেছি। এছাড়া এক সপ্তাহের ভাঙনে এই এলাকার কয়েকটি পরিবার ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেউ ২কেজি চাল দিয়ে সাহায্য করেনি। আমাদের খোঁজ নেয়নি কেউ। আমরা সরকারি সাহাজ্য চাই না, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাই।

স্থানীয়রা বলেন, সামসু ফকির, শহিদ মাষ্টার, আবুল হোসেন, হাচেন মাওলানাসহ কয়েকটি পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রাত কাটাচ্ছে।
রহমতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী এলাকার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, প্রতিবছরই নদী ভাঙনে এলাকা ব্যাপক ক্ষতির সস্মুখীন হয়ে থাকে। ২০২০ সাল থেকে ছোট মীরগঞ্জ বাজারটি কয়েকবার সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এ বছর আবার ভাঙনের কবলে পরেছে।
এই এলাকার ভেরিবাদ টি ভেঙ্গে যাওয়ায় জোয়ারের পানিতে প্রায় ৩ শত একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ব্যাপরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালে তারা কোন খোঁজ নেয়নি।

চাঁদপাশা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নের রফিয়াদি গ্রামসহ ৩টি গ্রামের শতাধিক পরিবার ইতিমধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের মানচিত্র হুমকির মুখে পরবে।

স্থানীয়রা বলেন, সড়ক যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সিমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হবে এবং কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদর কিংবা বাবুগঞ্জ বাজার এবং থানা সদর এলাকায় আসতে হবে।

ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা রহমানকে জানালে তিনি দ্রুত বরিশাল পানিউন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান শুভ, এসও মোঃ রাশেদুল ইসলামকে নিয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিংহেরকাঠী এলাকার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল, লোহালিয়া এলাকার ইউপি সদস্য মোঃ শাহিন হোসেন হাওলাদার এবং ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রহিমা বেগমসহ স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান শুভ বলেন, আমি জনর্দূভোগ নিজের চোখে দেখেছি। ভাঙন কবলিত এলাকায় সরকারি খাস জমি না থাকাতে স্থানীয়রা যদি জমি দিয়ে সহযোগীতা করেন তা হলে অতি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।




পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিসিএসআইআর ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চুক্তি

চন্দ্রদীপ নিউজ : রাজধানীতে রবিবার বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) – এর প্রধান কার্যালয়ে বিসিএসআইআর ও সিলেট কৃষি  বিশ্ববিদ্যালয়ের  মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিসিএসআইআর এর পক্ষে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: আফতাব আলী শেখ এবং সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচায অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন ভূইয়া সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে গবেষণা সমন্বয়কারী ডক্টর অহেদুল আকবর উপস্থিত ছিলেন।

এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে গবেষক ও শিক্ষকের পাশাপাশি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও কৃষি ও শিক্ষায়, কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রমের সুযোগ পাবে।




পিরোজপুরে এই প্রথম বানিজ্যিকভাবে চুইঝাল এর আবাদ শুরু

এস এম পারভেজ, পিরোজপুর: উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের কৃষকদের মাঝে নতুন রূপে এক নতুন মসলাজাতীয় ফসল এবং দেশ-বিদেশ জুড়ে রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি, তার নাম হচ্ছে চুইঝাল। প্রতিবেশী খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে এর ব্যাপক আবাদ ও স্বাদে-গুনে অনন্য এই চুইঝালের ব্যাপক ব্যাপকহার থাকায় বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায় বানিজ্যিকভাবে চুইঝালের চাষাবাদ শুরু হয়েছে । চুইঝালের বৈজ্ঞানিক নাম -পেপার চাবা।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার আবহাওয়া ও মৃত্তিকাতে প্রায় সকল ধরনের ফসল চাষাবাদ করা  যায়, উৎপাদনও ভালো হয়। জিভে জল আনা চুইঝালের মাংস খেয়েছেন অনেকেই। তবে আমরা অনেকেই এই মজাদার মসলাটি সম্পর্কে তেমন জানিনা। বাহারি স্বাদের মসলাটি এখন উপকূলীয় অঞ্চল পিরোজপুরের মানুষের কাছেও বেশ পরিচিত হয়ে উঠতেছে । দেখতে অনেকটা পান পাতার মত। চুইঝাল সাধারনত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। এর একটি গেছো চুইঝাল (গাছে বেয়ে ওঠে) ও অপরটি ঝাড় চুইঝাল (উঁচু মাটিতে বা মাচায় চাষ করা যায়)।

চুইঝালের বিশেষত্ব: এটি স্বাদে ঝাল, তবে ঝালটার আলাদা মাদকতা আছে। খুব তীব্র নয়, ঝাল ঝাল ভাব। এই ভাবটাই চুই খাওয়ার পর স্বাদটাকে আরও বেশী রসময় করে তোলে।

চুইঝালের উপকারিতা সম্পর্কে কৃষিবিদগন জানান, ক্যান্সার, হৃদরোগ, গায়ে ব্যাথা, ক্ষুধামন্দা, গ্যাস্ট্রিক, এ্যাজমা, অনিদ্রাসহ অসংখ্য রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে।

নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী ইউনিয়নের মধুভাংগা গ্রামের তরুন কৃষি উদ্যোক্তা প্রনব হালদার কৃষির উপর পড়াশুনা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষন শেষে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বিভিন্ন দেশী-বিদেশী ফলের চাষাবাদের পাশাপাশি পরিক্ষামূলকভাবে পতিত জমিতে চুইঝালের আবাদ শুরু করেন গত বছরের মাঝামঝি সময়। তার কৃষি বাগান থেকে তিনি ফলের পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের চারাও বিক্রয় করেন। এবছর তিনি অন্য এক উদ্যোক্তাকে সঙ্গে নিয়ে ১৫ শতাংশ জমিতে বানিজ্যিকভাবে এই চুইঝালের আবাদ করেছেন।

উল্লেখ্য, বানিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় চুই প্রকারভেদে বাজারে বিক্রয় হয়ে থাকে। নীচে প্রতি কেজি চুই ৪শত টাকা থেকে উপরে ১৬শত টাকা দরে বিক্রয় হয়। তবে, মাঝে মধ্যে ২ হাজার টাকায়ও বিক্রয় হয়ে থাকে।

পিরোজপুর অঞ্চলের কৃষকরা আশা করছেন, তেমন কোন খরচ নাই বিধায় আগামী দিনে চুইঝালের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং সরকারি প্রনোদনা ও স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋনের ব্যবস্থা হলে উপকূলে আগামী কয়েক বছরে চুইঝাল এর ব্যাপক বিপ্লব ঘটবে- আশা সংশ্লিষ্টদের।