দশমিনায় আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনায় আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণে কৃষকের হাসি মলিন করে দিয়েছে। মাঠের পর মাঠ সোনালী ধানেও খুশির বদলে বিপাকে পড়ে দুঃশ্চিন্তায় দিন পার করছেন দশমিনা উপজেলার কৃষকরা।

কৃষি বিভাগের দাবি, পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

দশমিনা উপজেলায় আমনের ব্যাপক আবাদ হলেও ধান ক্ষেতে রোগ দেখা দেওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। মাজরা পোকা ও পাতা মোরানো সংক্রমণের ফলে ধানের শীষ বের হওয়ার আগেই পাতা ঝলসে যাচ্ছে। শীষ বের হচ্ছে না, ধানের গোড়া চুষে নিচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দশমিনা, বাঁশবাড়িয়া, বহরমপুর, বেতাগী সানকিপুর, আলীপুরা, রনগোপালদী ও চরবোরহান ইউনিয়নে কমবেশি পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।

কৃষকেরা বিভিন্ন কীটনাশক ক্ষেতে প্রয়োগ করেও পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারছেন না এ অবস্থায় কি ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা বুঝতেও পারছেন না তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এ উপজেলায় আমন আবাদ হয়েছে ১৮হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। বিভিন্ন কারণে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৩০হেক্টর জমি। কৃষকেরা বলছেন, ‘আমরা ওষুধ প্রয়োগ করছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। এই পোকা দমন করার কোনো ব্যবস্থা থাকলে সেটা আমাদের জানালে উপকৃত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো. জাফর আহাম্মেদ বলেন, কৃষকদের ধান ক্ষেতে রোগ দমনে আলোক ফাঁদ ও বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।




৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প, কুয়াকাটাবাসী পাবে নিরাপদ পানি

বরিশাল অফিস: কুয়াকাটায় নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য ‘পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা পৌরসভায় নিরাপদ পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৯৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

প্রস্তাবটি নিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। সেখানে নানা প্রস্তাব নিয়ে ব্যাখা ও প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, ‘আমরা পিইসি সভা করেছি। বিভিন্ন বিষয় জানার ছিল সেগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে আলাপ আলোচনা করে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। এখন সুপারিশের আলোকে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধন হয়ে এলে অনুমোদনের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে— কুয়াকাটা পৌরসভাটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা। পৌরসভার আয়তন ৮ দশমিক ১১ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার । এটি সমুদ্র সৈকত ঘেঁষে অবস্থিত। সমুদ্র সৈকতে অসংখ্য পর্যটক আস-যাওয়ার ফলে পৌরসভার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যটন মৌসুমে সৈকত এলাকায় পর্যটক, সাময়িক ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাসহ প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লোকের সমাগম ঘটে। এ ছাড়া এই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পর্যটন রিসোর্ট এবং হোটেল গড়ে উঠেছে।
কুয়াকাটা পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ওই পৌরসভায় এরই মধ্যে ৩টি উৎপাদক নলকূপ, ১০ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের পাইপ লাইন, ৫৮০টি গৃহসংযোগ, ২০০টি পানির একক উৎস, ৮টি পাবলিক টয়লেট, ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার ড্রেন ও ৩০টি কমিউনিটি নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে ওইসব পৌরসভায় ৪টি উৎপাদক নলকূপ, একটি গ্রাউন্ড ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, একটি ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক, ১০ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের পাইপ লাইন, এক হাজারটি গৃহসংযোগ, পোর্টেবল ডিংকিং ওয়াটার কেরিয়ার ক্রয়, ২০টি পানির একক উৎস, এক কিলোমিটার ড্রেন ও একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নির্মাণ করা হবে।




কম ফলনে বিপাকে পিরোজপুরের মাল্টা চাষিরা

 

বরিশাল অফিস : অনাবৃষ্টি ও গরমের কারণে এ বছর পিরোজপুরে মাল্টার ফলন কম হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠা নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা। এ থেকে উত্তরণে চাষিদের নানা পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

ব র্তমানে পিরোজপুরে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ হচ্ছে। দামে কম, রসালো এবং সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার মাল্টার চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। তাই জেলার চাহিদা পূরণ করে মাল্টা ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

গেল বছরের তুলনায় এবছর পিরোজপুরে মাল্টার ফলন কম হয়েছে। চাষিদের ভাষ্যমতে, অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমের কারণে মাল্টার ফুল ঝরে পড়ছে। মাল্টার আকারও তুলনামূলকভাবে ছোট হচ্ছে। এছাড়া মা ল্টা পরিপক্ক হওয়ার আগেই লাল হয়ে ঝরে পড়ছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে চাষিরা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে মাল্টার উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম।

পিরোজপুর জেলায় ছোট বড় দুই হাজারেরও বেশি মাল্টা বাগান রয়েছে। এবছর সাড়ে ৩ হাজার চাষি ২৫৩ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন।




রহস্যময় গোলাপি হ্রদ

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জলের রং কেমন? এমন প্রশ্নে অনেকেই বলবেন জল বর্ণহীন কিংবা কেউ বলবেন প্রকৃতির আলো-ছায়ায় নীল বা সবুজ বর্ণ। তবে তা দূর থেকে লাগলেও কাছে যেতেই বর্ণহীন হয়ে যায়। কিন্তু গোলাপি হ্রদ বা পিঙ্ক লেকের নাম শুনেছেন? ভাবছেন হ্রদের রং গোলাপি হয় কীভাবে? পৃথিবীতে আসলেই এমন কিছু লেক রয়েছে যেগুলোর রং গোলাপি। চলুন জেনে আসা যাক এমন কয়েকটি লেক সম্পর্কে।

লেক ন্যাট্রন হ্রদ
লেক ন্যাট্রন হ্রদটির সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এটি তানজানিয়া ও কেনিয়া এই দুটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত। হ্রদটি দেখতে টুকটুকে গোলাপির মতো হলেও ভীষণ বিপদজনক। সৌন্দর্য দেখে যে কেউ হ্রদে ঝাঁপ দিতে চাইবেন। কিন্তু সেই সাধ হয়তো আপনার পূরণ হবে না। কারণ এর সংস্পর্শে অভিযোজনহীম প্রাণীদের ত্বক ও চোখ পুড়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন: স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ‘ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’

বিজ্ঞাপন

সিভাশ লবণ উপহ্রদ
কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরের মধ্যবর্তী ক্রিমিয়ান উপদ্বীপে অবস্থিত সিভাশ লবণ উপহ্রদ। হ্রদগুলোর জল অগভীর হলেও ক্রিমিয়ান উপদ্বীপের অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ এটি। এখান থেকে প্রতি মৌসুমে আন্তর্জাতিকভাবে লবণ সংগ্রহ করা হয় এবং মজুদ ও প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা হয়।

লেক রেটবা
পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় সেনেগালের লেক রেটবা। ১ বর্গ মাইল আয়তনের এই গোলাপি হ্রদ সেনেগালীয়দের লবণ সংগ্রহ ও পর্যটনের অন্যতম উৎস। নভেম্বর-জুনের মধ্যবর্তী শুষ্ক মৌসুমে এখানে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়। কেননা এসময় এর গোলাপি আভা ভালোভাবে ফুটে ওঠে।

 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন: নিজের সন্তান হত্যা করে খেয়ে ফেলে যেসব প্রাণী

লাস স্যালিনাস দে তোরেভিজা হ্রদ
লাস স্যালিনাস দে তোরেভিজা হ্রদ ধীরে ধীরে গোলাপি রুপ ধারণ করে। এটি স্পেনে অবস্থিত। যদি কখনো হ্রদের প্রাণীদের প্রজনন মৌসুমে এই হ্রদে যান, তবে দেখতে পাবেন হাজারও গোলাপি ফ্ল্যামিঙ্গো ও জলজ পাখির আনাগোনা, যা হ্রদের সৌন্দর্য বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

বিজ্ঞাপন

হাট উপহ্রদ
এদিকে নানা ঋতুতে গোলাপি বর্ণের আবরণে পরিবর্তন আনে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার হাট উপহ্রদ। এই হ্রদের প্রধান রঙ গোলাপী হলেও এর অন্যান্য রঙ লাল, নীল, বেগুনি সমানভাবে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে । শুভ্র সকাল ও সূর্যাস্তের সময় এই হ্রদের দৃশ্যপট অনেক সুন্দর দেখায়।




এতিমখানা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেছে বয়হুড ফেন্ডস বরিশাল

 

বরিশাল অফিস: চাঁদপুরা ইউনিয়নের কুন্দিয়ালপাড়ার আন নুর মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং প্রাঙ্গণে প্রায় শতাধিক ফলজ বৃক্ষ রোপণ করেছে বয়হুড ফেন্ডস বরিশাল।

আমাদের বন্ধন হৃদয়ে জাগাবে স্পন্দন শ্লোগানে এই সংগঠনটি শুক্রবার সকাল থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের মসজিদ, পুকুর ও মাদ্রাসা ভবনের চারপাশে প্রায় এক একর জমিতে এই ফলজ বৃক্ষ রোপন করেছেন বলে জানান বয়হুড ফ্রেন্ডস সংগঠনের সভাপতি ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, দেশের ও দেশের বাইরের কয়েকজন বন্ধুর অর্থনৈতিক সহযোগিতায় এই বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে।

এসময় সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, বিএম কলেজ শিক্ষক মামুনুর রশীদ, এডভোকেট হুমায়ুন কবীর মাসউদ, দেবাশীষ রায়সহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যবসায়ী বন্ধুরা অনেকে এতে উপস্থিত ছিলেন। বৃক্ষরোপন শেষে বয়হুড ফ্রেন্ডস সংগঠনের উদ্যোগে এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।




টমেটো চাষে সফল লালমোহনের পোস্ট মাস্টার

 

বরিশাল অফিস : মো. আব্দুল লতিফ ভোলার লালমোহন উপজেলার ফুলবাগিচা পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার। পাশাপাশি একজন সফল কৃষকও তিনি। এবছর নিজ বাড়ির আঙিনায় ১০ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেন তিনি। এ টমেটো চাষে সফলতা পেয়েছেন।

আব্দুল লতিফ ফুলবাগিচা এলাকার মোজাফফর পন্ডিত বাড়ির বাসিন্দা। তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে আমাকে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের জন্য প্রদর্শনী দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে এ টমেটো চাষ শুরু করি। এজন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে দেওয়া হয় বীজ। ঐ বীজ রোপণের এক মাসের মধ্যে চারা গজায়। বাড়ির আঙিনার ১০ শতাংশ জমিতে মালচিং পেপার দিয়ে বেডে চারাগুলো রোপণ করি। চারা রোপণের তিন মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এখন গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে টমেটো।

পোস্ট মাস্টার আব্দুল লতিফ আরো জানান, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম থেকে স্থানীয় বাজারে ঐ টমেটো বিক্রি শুরু করি। এ টমেটো অমৌসুমে হওয়ায় বাজারে দামও ভালো। এরইমধ্যে পাঁচ হাজার টাকার বিক্রি করেছি। প্রতি কেজি টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা মূল্যে বিক্রি করছি। আশা করছি ক্ষেত থেকে অর্ধলক্ষ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবো। এর পেছনে আমার খরচ হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। এ টমেটো চাষে পরিশ্রমও অনেক কম হয়েছে। অবসর সময়ে টমেটো গাছগুলোর পরিচর্যা নিজেই করছি।

স্থানীয় মো. মিজানুর রহমান বলেন, আব্দুল লতিফ একজন কৃষি প্রেমী মানুষ। পোস্ট অফিসে চাকরির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময় নানান ধরনের কৃষি চাষাবাদ করেন। তাতে তিনি সফলও হচ্ছেন। তার দেখাদেখি আমি নিজেও বিভিন্ন কৃষি চাষাবাদ করছি। এতে আমি নিজেও সফলতা পাচ্ছি। এছাড়া স্থানীয় অনেকে পোস্ট মাস্টার আব্দুল লতিফের দেখাদেখি কৃষি চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র মজুমদার বলেন, আব্দুল লতিফ কৃষি চাষাবাদে ব্যাপক আগ্রহী ব্যক্তি। গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করায় তাকে বিনামূল্যে বারি হাইব্রিড টমেটো-১১ জাতের বীজ, সার ও গাছের শক্তি বৃদ্ধির জন্য হরমোন দেওয়া হয়েছে। টমেটো চাষ করে তিনি ব্যাপক সফলতাও পেয়েছেন। এছাড়া যেকোনো প্রয়োজনে তিনি কৃষি অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। আমরা তাকে সব সময় প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সহযোগিতা দিচ্ছি।

এই কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, অমৌসুমে যেকোনো কৃষি পণ্যের বাজার মূল্য ভালো থাকে। তাই কেউ যদি এই অফ-সিজনে নতুন কোনো ধরনের ফসল চাষাবাদে আগ্রহী হন, তাহলে উপজেলা কৃষি অফিস সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে তার পাশে থাকবে।




উদ্বোধনের দুই বছরেও চালু হয়নি মহিপুরে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

 

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : বরিশালে টুয়াখালীর জেলায় স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মৎস্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। তবে উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় মহিপুরে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ।

সব ব্যবসায়ী এবং নৌযানের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রটি কাজে আসছে এটি। এতে কেন্দ্রটি চালু করতে না পারায় সরকার বছরে অন্তত ৫ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মহিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি দিদার উদ্দিন আহমেদ বলেন, আসলে মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটিতে ৪৫ জন ব্যবসায়ীর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা থাকলেও মহিপুরে রয়েছেন ৮২ জন নিবন্ধিত ব্যবসায়ী। এ ছাড়া মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের যে পন্টুন দেওয়া হয়েছে সেখানে মাত্র ২০টি ট্রলার রাখা যায়। কিন্তু ৮২ জন ব্যবসায়ীর দুই হাজারের বেশি ট্রলার রয়েছে। এ ছাড়া পাইকার আছেন ২০০ ও শ্রমিক রয়েছেন ৮০০ জন। তাই এত মানুষ ও নৌযানের স্থানসংকুলান না হওয়া অবতরণ কেন্দ্রটিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে পারছেন না মহিপুরের মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

এখানে ট্রলার থেকে মাছ নামানোর জন্য পন্টুন ও গ্যাংওয়ে, এক হাজার বর্গফুটের অকশন শেড এলাকা, প্যাকেজিং এলাকা, আড়তদার কক্ষ, বরফকল, জেনারেটর কক্ষ, অফিস ভবন, পয়োনিষ্কাশনের সুবিধাসহ মাছ পরিবহনের জন্য সাত হাজার বর্গফুটের একটি ট্রাকস্ট্যান্ড, নির্মাণ হয়েছে আবাসিক কোয়ার্টার। লোকবল নিয়োগ হয়েছে সাতজন। এর মধ্যে তিনজন কর্মকর্তা, দুজন অপারেটর ও দুজন প্রহরী।

২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন।

মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ২০১২ সালে উপকূলীয় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর মৎস্য বন্দরের মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চার বছর পর ২০১৬ সালে মহিপুর মৎস্য বন্দরের পশ্চিমে ১০৯ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হয় এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে।

মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. শাকিল আহমেদ বলেন, মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২০০৯ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল, তখন এখানে কমসংখ্যক মৎস্য ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু যখন এটি ২০২১ সালে চালু করা হলো, তখন এখানে অনেক ব্যবসায়ী। এখন কীভাবে এর পরিধি বাড়ানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।




রাঙ্গাবালীতে বিশ্ব জলবায়ু দিবস উদযাপন “জীবান্ম জ্বালানীর যুগ শেষ করতে হবে”

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : “আমাদেরকে অবশ্যই জীবান্ম জ্বালানীর যুগ শেষ করতে হবে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা বিশ্বের ন্যায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পালিত হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু দিবস।

আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের আগুনমুখা নদীর তীরে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে শতাধিক এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
এ্যম্বেসী অব সুইডেন এর অর্থায়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক) উপজেলার জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বিভিন্ন ক্ষয়-ক্ষতির দাবী পূরন সহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে বিশ্ব জলবায়ু দিবসটি পালন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- ভার্কের প্রকল্প সমন্বয়ক মোহসিন তালুকদার, জাগোনারী সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মো. ফরিদ উদ্দিন, ভার্কের প্রজেক্ট অফিসার কানিজ সুলতানা, প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটেটর সালমা খান ও আবু জাফর প্রমুখ।

এ সময় বক্তরা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে, আর সেই সাথে বিপন্ন হচ্ছে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার পরিধি বাড়ানো ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট তথ্যের অবাধ প্রচারণার কোনো বিকল্প নেই। তবে মুশকিল হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা বা তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে কারিগরি ভাষা ব্যবহৃত হয় ফলে বিষয়টি সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারেনা ফলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ জনগণ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারলে যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে বলে আমরা মনে করি।’ তাই এখন সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও সকলকে আহব্বান জানাচ্ছে-‘‘জলবায়ু আন্দোলনে অবদান রাখুন, জীবাশ্ম জ্বালানীর আবসান করুন।”




জলবায়ু বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বরগুনায় মানববন্ধন

 

বরিশাল অফিস: বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বয়িক পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্বের উন্নতদেশগুলোর লাগামহীন কার্বন নিঃসরণ ও ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার, নি¤œ আয়ের দেশগুলোকে দিন দিন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিণত করছে। সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে বরগুনার আমতলীতে একশন এইডের সহযোগিতায় বেসরকারী সংস্থা এনএসএস ক্লাইমেট স্ট্রাইক আয়োজনে বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট এবং মানববন্ধন পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে আমতলী প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, এনএসএস’র নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা, প্রেসক্লাবের সভাপতি খায়রুল বাশার বুলবুল সাংবাদিক জাকির হোসেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন ও শিউলী মালা প্রমুখ। এছাড়াও কর্মসূচিতে ইয়ুথ ফোরামের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।




বরিশালে যুব সদস্যদের জলবায়ু সড়ক অবরোধ

বরিশাল অফিস: বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ততার মাত্রা বিবেচনায় উপযুক্ত ক্ষতিপুরণের দাবীতে পৃথিবীর প্রায় ১৫০টি দেশের সাথে সংহতি জানিয়ে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র সদররোড সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ক্লাইমেট ষ্ট্রাইক আয়োজন কমিটি।

আজ শুক্রবার (১৫) সেপ্টেম্বর সকাল ১টায় এলায়েন্স ফর ইয়ূত এন্ড ডেভেলপমেন্ট এওয়াইডির আয়োজনে ও উন্নয়ন সংস্থা আভাষের সহযোগীতা একর্মসূচি পালিত হয়।

জাতীয় যুব কাউন্সিল বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি এওয়াইডি কর্তৃক ক্লাইমেট স্ট্রাইক আয়োজন কমিটির আহবায়ক কিশোর চন্দ্র বালার সভাপতিত্বে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করে বক্তব্য রাখেন বীর প্রতীক কে এস এ মহিউদ্দিন মানিক, উন্নয়ন সংগঠক আনোয়ার জাহিদ,উন্নয়ন সংস্থা আভাষের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক প্রিন্স বাহাউদ্দিন তালুকদার,বরিশাল বিভাগীয় (বাপা) সমন্বয়ক রফিকুল আলম ও বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন নেতা এ্যাড. একে আজাদ প্রমুখ।

এ সময় বিভিন্ন বক্তরা বলেন, উন্নত দেশসমূহের বিলাসী জীবনের দায় আমাদের নিতে হচ্ছে কারণ পৃথিবী একটাই আমরা সবাই মানুষ একি আলো বাতাসে লালিত হই তাই এ বায়ুকে যারা দূষিত করে তাদেরকেই দায় নিতে হবে। জল ও বায়ুর প্রতিনিয়ত ত’ষণের ফলে কতটা ভয়াবহ রুপধারন করেছে তা ইতিমধ্যে দৃশ্যমান।

অদূর ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পৃথিবী হতে পারে জীবনের অস্তিত্ব শুন্য। এর পর্বে বরিশালের ৪১টি সংগঠনের দুই শতাধিক সদস্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে বিভিন্ন প্লেকার্ড নিয়ে এক মিছিল সহকারে সদররোড এসে তারা সড়কে বসে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।