কৃষি উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

 

বরিশাল অফিস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে শতভাগ সফল করতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউসিবি ব্যাংকের ভরসার নতুন জানালা প্রকল্পের আওতায় কর্মশালার উদ্বোধণ করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সিএসআর অফিসার মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাসার, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা শেখ আরিফুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিথুন বণিক।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম মৃধা, শাহাদাত মাতুব্বর, ইউপি সচিব সৌরভ ভট্টাচার্য্য প্রমুখ। কর্মশালায় ৬০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।




বরিশালে নদী তীরের খাস জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

বরিশাল অফিস: বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীর এবং সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে সাবাড় করে ফেলছে সংঘবদ্ধ চক্র। নদী তীর সংরক্ষণের ব্লকও তুলে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে নদী ভাঙন তীব্র আকার দেখা দিয়েছে।

বরিশাল সদর উপজেলার তালতলী, চরকাউয়ার পামের হাট এলাকায় ফসলি জমি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এদিকে নগরীর ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন ব্লক তুলে ফেলায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে লোকালয়। সংশ্লিষ্টরা এ জন্য প্রশাসনকে দায়ী করে বলেছেন, কীর্তনখোলার তীর অরক্ষিত হওয়ায় পূর্বাঞ্চলের অভিশাপ নদী ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

বরিশালের সদর উপজেলা চরবাড়িয়া তালতলী নর্দীতে সকালে প্রতিদিন মাটি কার্টতে দেখেন আলম রায়হান তিনি জানান, কীর্তনখোলা তালতলী নদী তীরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে খাস জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ওই এলাকার ইটভাটা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই মাটি কেটে নিচ্ছে।

এদিকে নগরীর ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন কীর্তনখোলা তীরে যে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল সেখানকার ব্লক খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এতে বাঁধ ভেঙে ওই এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। একই খবর পাওয়া গেছে, লামছড়ি ও চরআবদানী এলাকায়।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান জানান, গত বছরও নদী তীরে মাটি কাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এবারও নদী ভাঙন রোধে একই ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এ জন্য কোন কোন স্থানের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




আমতলীতে জমির দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৬

 

বরিশাল অফিস: আমতলীর কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণ নগর গ্রামে রোববার দুপুরে বিরোধীয় জমিতে ধানের চারা লাগানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদেরকে স্বজনরা উদ্ধার করে পটুয়াখালী ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণ নগর গ্রামের শাহ আলম মুসুল্লী ও আনোয়ার হোসেন ফকিরের মধ্যে ৯০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

বিরোধীয় ওই জমি দখলে নিতে আনোয়ার হোসেন ফকির রোববার দুপুরে জোর করে ধানের বীজ লাগতে জায়। এ সময় খবর পেয়ে শাহ আলম মুসুল্লী বাধা দিলে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে উভয়ে দা লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ৬জন আহত হয়। আহতরা হল শাহ আলম মুসল্লী, স্ত্রী মমতাজ বেগম, ছেলে ওমর ফারুক, নসির আকন, বেল্লাল আকন ও অনোয়ার হোসেন ফকির। আহতদেরকে উদ্ধার করে স্বজনরা পটুয়াখালী ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

শাহ আলম মুসল্লী অভিযোগ করে বলেন, আমার জমিতে আনোয়ার হোসেন ফকির জোর করে দখলে নেওয়ার জন্য ধানের বীজ লাগাতে জায় আমি বাধা দিলে আমার উপর হামলা করে ৫জনকে আহত করেছে।

আনোয়ার হোসেন ফকির হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার ক্রয় করা সম্পত্তি জোর করে শাহ আলম মুসল্লী দখল করে রেখেছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাখয়াত হোসেন তপু বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মামলা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পাইকারী বাজারে বরিশালে আলু বিক্রি শুরু

 

বরিশাল অফিস : বরিশালের পাইকারী বাজারে আজ আলু বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা।সরকার নির্ধারিত মুল্যে বিক্রি করতে না পারার কারনে গত বৃহস্পতিবার থেকে নগরীর পাইকারী বিক্রেতার আড়ত আলু শুন্য হয়ে পড়ে। এরপর থেকে গত চারদিন ধরে পাইকারী বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ ছিলো। কোন আড়তে আলু দেখা যায়নি।

বরিশাল নগরীর পিয়াজপট্টি এলাকার পাইকারী বাজারের আড়তদার মো. শিপন হোসেন জানান, রোববার বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সাথে আড়তদাররা সাক্ষাত করে। তিনি সহনশীল দামে আলু বিক্রির পরামর্শ দেন। আলু কেনা বেচার ভাউচার রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার আশ্বাসে সোমবার থেকে আলু বিক্রি শুরু করার সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পাইকারী বাজারে প্রতিকেজি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ও খুচরা বাজারে ৪৫ টাকা দরে বিক্রির সিদ্বান্ত হয়েছে। এ সিদ্বান্ত অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চল থেকে আলু বোঝাই ট্রাক
সকালের বরিশালে এসে পৌছে। দুপুরের মধ্যে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেচা-বিক্রি শুরু করা হবে।

আড়তদার মো. আল আমিন বলেন , দ্রব্যেমুল্যের উর্ধ্বগতিতে আলু বেশি প্রয়োজন। সরকার ২৭ টাকা দরে পাইকারী বাজারে আলু বিক্রির সিদ্বান্ত দেয়। কিন্তু এ দামে আলু কোনভাবেই বিক্রি করা সম্ভব নয়। তাই আলু বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়। বরিশাল নগরীর পিয়াজ পট্টি এলাকায় ৩৫ টি আড়ত রয়েছে। এ সকল আড়ত থেকে প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার বস্তা আলু বিক্রি হয়। আলু না থাকায় আড়তদের চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ছিলো শ্রমিকরা। গত চারদিন বেচা-বিক্রি না থাকায় অনেক শ্রমিক অর্থ সংকটে ছিলো।




তিস্তায় বাড়ছে পানি, খুলে দেওয়া হয়েছে ৪৪ গেট

এদিন বিকেলে ব্যারাজ পয়েন্টে ৫২.০৭ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিপৎসীমার দশমিক ৮ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

এরআগে রোববার সকাল ৯টা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদিন ইসলাম বলেন, সকাল থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিস্তার পানিবৃদ্ধির ফলে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানি, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে।

 

হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চর এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। চরের লোকজনের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।




বরিশালে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত, আতঙ্ক

 

বরিশাল অফিস: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত কুকুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো একত্রে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের অভ্যন্তরে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো বিচরন করতে দেখে আতঙ্কিত হলেও এসব কুকুরগুলো হাসপাতালের কেউ তাড়াতে এগিয়ে আসছেন না।

ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালের নিচতলার জরুরি বিভাগ ও হাসপাতালের অভ্যন্তরে অবাধে কুকুরগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনসহ বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের কর্মচারীদের চরম দায়িত্ব অবহেলার কারণেই হাসপাতালের অভ্যন্তরে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আরও বলেন, ভর্তি রোগীদের জন্য হাসপাতালের বাহির থেকে খাবার নিয়ে আসার সময় এসব বেওয়ারিশ কুকুরগুলো তাড়া করছে। ফলে যখন তখন এসব বেওয়ারিশ কুকুর কামড় দিতে পারে এমন আশঙ্কা বিরাজ রয়েছে।

এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণের কারণে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো হাসপাতালের অভ্যন্তরে আশ্রয় নিতে পারে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা নিরসন করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

 

বরিশাল অফিস : পটুয়াখালীর জেলার কলাপাড়ায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, যথাযথ পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান ও কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রতিকারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জননী সাহান আরা বেগম স্মৃতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরাম। অধ্যাপক এসএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সমন্বয়কারী শুভংকর চক্রবর্তী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য সুভাস চন্দ্র নিতাই, উন্নয়ন সংগঠক এসএম শাহাজাদা, সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মিথুন সাহা প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সমন্বয়কারী শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তন্মধ্যে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন এবং ভূমিধসের মাত্রা বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। চলতি শতকের ২০ বছরে বিশ্বের যে ১০টি দেশ সবচেয়ে বেশি দুর্যোগ-আক্রান্ত হয়েছে, তারমধ্যে বাংলাদেশ নবম। এ সময়ে বাংলাদেশের ১১ কোটি ২০ লাখ মানুষ দুর্যোগের শিকার হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিধস নদীভাঙ্গন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত পানি প্রবেশের ফলে দেশের বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টারের (আইডিএমসি) গ্লোবাল রিপোর্ট অন ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট ২০২৩ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হয়েছে ১৫ লাখ ২৪ হাজার জন। বাংলাদেশ একটি আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার দেশ।

তিনি আরও বলেন, বিগত দুই দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে। এইসব উন্নয়নের ফলে যেমন দেশের অর্থনীতি গতিশীল হয়, তার সাথে সাথে কিছু পরিবারের বসতি ও কর্মসংস্থানের পরিবর্তন ঘটে এবং পরিবেশ, জীববৈচিত্র্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এইসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ফলে কিছু পরিবার স্বেচ্ছায় তাদের চলমান জীবন-জীবিকার ত্যাগ স্বীকার করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের জীবন-জীবিকা, সামাজিক ও মনস্তাত্বিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ভূমিহীনতা ও ভূমি ব্যবহারের নীতিমালা বহির্ভূত ব্যবহারের ফলে কৃষিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান দিনে দিনে হ্রাস পাচ্ছে আবার দেশের খাদ্য নিরাপত্তার উপরও বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে। সরকারের খাসজমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুসারে বিভিন্ন জেলায় উদ্বাস্তু ও ভূমিহীনদের যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। টেকসই ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য এটা ইতিবাচক লক্ষণ নয়। বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত কলাপাড়া উপজেলা। সাগর তীরবর্তী দক্ষিণের জনপদ পর্যটন সমৃদ্ধ কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদী ভাঙন, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত পানি প্রবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ফলে কলাপাড়া উপজেলায় বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় সরকার বাস্তবায়ন করছে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি এবং হাজার হাজার পরিবারের বসতবাড়ি। বিগত দশ বছরে চলমান এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য এবং ক্ষতিপূরণ অনিশ্চয়তা ছাড়াও আছে দালাল ও কিছু সংখ্যক কর্মকর্তার উৎপাত। সম্প্রতি ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো কর্তৃক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার দাবিতে বালিয়াতলী ইউপির চর বালিয়াতলী মৌজার বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। দালালের সহায়তায় প্রকৃত জমির মালিকের বিরুদ্ধে ঠুকে দেওয়া হয় মামলা। অনেক জমির মালিকের ক্ষতিপূরণের টাকা আটকে গেছে এমন ভুয়া মামলায়। এতে মিলছে না ক্ষতিপূরণ, ঠাঁই হচ্ছে না পুনর্বাসন কেন্দ্রে। আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ করা হয়েছে বহু পরিবারকে। আবার অনেককে পুনর্বাসন করা হলেও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কৃষক ও জেলে পরিবার হঠাৎ হারিয়েছে মাছ ধরার জলাশয় এবং কৃষিজমি। তারা এখন বেকার। কলাপাড়ায় মেগা প্রকল্পের কারণে ইলিশ প্রজননসহ প্রাণ-প্রকৃতিরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রাখাইনদের ২৩৯ বছরের পুরোনো ছয়ানীপাড়া পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের পক্ষে থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি, কলাপাড়ায় জলবায়ুর পরিবর্তন এবং ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, যথাযথ পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। সেই সাথে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করে না এমন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হোক। সর্বোপরি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমীক্ষা পরিচালনা করে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।




দশমিনায় রাস্তার পাশে পতিত জমিতে সবজি চাষে লাভবান কৃষকরা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনায় রাস্তার দু’পাশের পতিত জায়গায় শাক-সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও রাস্তার দুপাশের মাটির ক্ষয়রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অভিনব এ চাষাবাদ পদ্ধতি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তার ধারে সবজি চাষের জন্য উপজেলার ৬০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও দুই শতাধিক কৃষককে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের উভয় পাশের পতিত জায়গায় বিভিন্ন মৌসুমী শাক-সবজি চাষ করেছেন কৃষকরা। এতে উপজেলার কয়েকশ কৃষক পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয়ের পথ পেয়েছেন।

এদিকে চলতি আমন মৌসুমে কৃষকরা সারাদিন ক্ষেতে-খামারে ব্যস্ত থাকায় এসব সবজি বাগানের বেশির ভাগেরই পরিচর্যা করছেন স্থানীয় নারীরা। এতে সংসারের গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে বিকল্প কর্মসংস্থানের।
একজনকে অনুসরণ করে আরেকজন আগ্রহী হওয়ার ধারাবাহিকতায় দিন দিন উপজেলায় বাড়ছে এ ধরনের চাষাবাদ। নিজস্ব আবাদী জমি ছাড়া অল্প শ্রম ও ব্যয়ে এ পদ্ধতির চাষাবাদে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট শাক-সবজি বিক্রি করে প্রচুর টাকা আয় করছেন অনেকে। ফলে সমৃদ্ধ হচ্ছে উপজেলার কৃষি অর্থনীতি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলোর উভয় পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ করা হয়েছে। জায়গাগুলো অপেক্ষাকৃত উঁচু ও ঢাল থাকায় বর্ষাকালেও জমতে পারেনা বৃষ্টির পানি। ফলে শীতকালীন শাক-সবজির আগাম ফলন বাড়ছে উপজেলায়। অসময়ে এসব শাক-সবজির ফলন হওয়ায় ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদী গ্রামের কৃষক মো. সন্জয় দাস বলেন, রাস্তার পাশের জমিতে এত ফলন হবে ভাবতে পারিনি। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার বীজের সহায়তা পেয়ে বর্ষাকালে রাস্তার পাশের উঁচু পতিত জমিতে লাউ ও চিচিঙ্গা চাষ করেছি। অসময়ে ভালো ফলন হওয়ায় দামও ভালো পেয়েছি। চাষাবাদে আমার পঁচিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। প্রায় এক লাখ টাকার লাউ ও চিচিঙ্গা বিক্রি করেছি। আরও প্রায় পাঁচ হাজার টাকার বিক্রি করতে পারব। কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছেন। অনেকেই ভবিষ্যতে এ পদ্ধতির চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের জাহিদ বলেন, অসময়ে রাস্তার পাশে পতিত জমিতে অনেক কম খরচে লাউ, বেগুন, ঝিঙ্গা চাষ করে আমার পঁচিশ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি জায়গায় চাষাবাদ করব।

দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন, রাস্তার পাশে পতিত জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি উৎপাদন করে কৃষকদের নতুন পদ্ধতির দিকে ধাবিত করা হচ্ছে। এসব পতিত জমি কৃষির আওতায় আনলে কৃষকরা যেমন নিরাপদ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবেন তেমনি আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন।




দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা, পটুয়াখালীতে ইপিজেড এর কাজ দ্রুত শেষ হবে

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী:

১,৮৩৬ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য ও ১,৫৩০ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ পাওয়ার আশা নিয়ে পটুয়াখালীতে গড়ে তোলা হচ্ছে বাংলাদেশের ৯ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারি তহবিল থেকে ২ শতাংশ সুদে ঋণ হিসেবে ১,৪৭৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ইতিমধ্যে ১,৪৭৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে।

অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ বছরই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজে হাত দিতে চায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা বেপজা।

৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পঁচাকোড়ালিয়া গ্রামে হচ্ছে এই ইপিজেড। এ ছাড়াও, একই প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটায় ২ দশমিক ২৫ একর জমির ওপর স্থাপিত হচ্ছে ইনভেস্টরস ক্লাব। ৩০৬ শিল্প প্লট নিয়ে ১ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা খরচে ‘পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা’ বা ইপিজেড স্থাপিত হচ্ছে।

বেপজার কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতুর চালু হওয়ার পর থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বেড়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পটুয়াখালী ইপিজেড বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেপজার নির্বাহী পরিচালক (পাবলিক রিলেশনস) নাজমা বিনতে আগলমগীর বলেন, ‘প্রস্তাবিত ইপিজেডের কাছাকাছি দুটি সমুদ্র বন্দর রয়েছে—একটি পায়রা, অপরটি মোংলা সমুদ্র বন্দর। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর মোংলায় বিনিয়োগের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আমার বিনিয়োগকারীদের বরিশাল এলাকায় ইপিজেডের কথা বলা শুরু করেছি, তারা ওই এলাকায় বিনিয়োগে মৌখিকভাবে তাদের আগ্রহের কথা জানাচ্ছে।’
‘এ কারণে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করা জরুরি,’ বলেন তিনি।

ইতিমধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, পটুয়াখাালীর পচাকোড়ালিয়া ও কুয়াকাটার ৪১৮ একর জমিতে প্রস্তাবিত ইপিজেডে ৩০৬টি শিল্প প্লট তৈরি করা যাবে।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ইপিজেডে ১ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া আরও ২ লাখ বাংলাদেশির পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে ।

প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি হলেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পটুয়াখালী ইপিজেডে বিনিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান বেপজা কর্মকর্তা নাজমা।
তিনি আরো বলেন, ‘একনেকে অনুমোদনের পরই ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণ হওয়ার পরই আরম্ভ হবে মূল নির্মাণ কাজ। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ইপিডেজ স্থাপনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যে অর্থ ব্যয় হবে, সরকারি তহবিল থেকে তা ২ শতাংশ সুদে ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব শিল্প প্লট তৈরি করা হবে। ইপিজেডে ভূমি উন্নয়ন, নিজস্ব রাস্তা, সীমানাপ্রাচীর, বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগ লাইন, সৌরবিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ও বৃষ্টির পানির জলাধার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। প্লট তৈরি শেষে সেগুলো বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের ইপিজেডগুলো
১৯৮০ সালে গঠন করা হয় বেপজা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করা এই সংস্থা দেশের সব ইপিজেডের ব্যবস্থাপনা করে। সংস্থাটির দায়িত্ব দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
বর্তমানে দেশে আটটি ইপিজেড রয়েছে। বেপজা ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ইপিজেড স্থাপন করে। এর সফলতায় পরে দেশের অন্যান্য ইপিজেডগুলো পর্যায়েক্রমে চালু করা হয়।
দেশের বিভিন্ন ইপিজেডকে কেন্দ্র করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গড়ে উঠেছে স্যাটেলাইট টাউন। এছাড়া ইপিজেডকে কেন্দ্র করে পশ্চাৎপদ ও অগ্রজ শিল্পকারখানা, অ্যাকসেসরিজ শিল্পসহ পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ইত্যাদি গড়ে উঠেছে।




দুমকিতে পায়রার ভাঙ্গনে অর্ধশত পরিবার আশ্রয়হীন

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালী জেলায় দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডে বাহেরচর গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে  ।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিগত কয়েক বছর যাবৎ পায়রা নদী ভাঙ্গনে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে তারা । পায়রা নদীর ভাঙন দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় আমাদের ঘরবাড়িসহ পুকুর ও রাস্তাঘাট নদিতে বিলীন হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত চার চার বার আমাদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দির নদিতে হারিয়েছি। এমনকি গভীর নলকূপ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার কারণে বিশুদ্ধ পানি পর্যন্ত পান করতে পারতেছি না। বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহায়ভাবে জীবনযাপন করতে হচ্ছে ।
প্রাথমিক ভাঙ্গনে নিজস্ব অর্থায়নে ঘর নির্মাণ করেছিলাম। পরে আবারো ভাঙ্গনে রাস্তার পাশে বসবাস করে যাচ্ছি যা স্ত্রী সন্তান নিয়ে সম্পূর্ণই কষ্টের জীবনযাপন। সন্তানের মৌলিক চাহিদা পূরণে অক্ষম হওয়ায় লেখাপড়া করাতে ব্যর্থ হচ্ছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে এক কোটি টাকা ব্যয়ে ২২ হাজার জিও ব্যাগ নদী ভাঙন রোধে নদীর তীরে স্থাপন করা হয়েছিলো তাও কাজে আসেনি।

এলাকার ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বলেন, বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে যা টেন্ডার হয়েও অর্থ না থাকায় কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, আমাদের গ্রামে খাস জমি রয়েছে তাহাতে আমাদেরকে সরকারি সহায়তায় বসবাস উপযোগী করে দিলে আমরা আমাদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে হবে। তাই সরকারের ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে কিছু করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।