দুই কাভার্ড ভ্যান ভর্তি পলিথিন উদ্ধার, আটক ৩

 

বরিশাল অফিস: বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে দুই কাভার্ড ভ্যান ভর্তি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টায় পরিচালিত এ অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক মিয়া। আটককৃতরা হলো- যশোরের বেনাপোল পৌর এলাকার মৃত সন্নত আলীর ছেলে মো. ইউনুস কালু (৩৮), একই এলাকার মো. নুরন্নবীর ছেলে মাহমুদুল হাসান (৩২) ও বেনাপোল দিঘির পাড় এলাকার মৃত জামির হোসেনের ছেলে মানিক হোসেন (৩৮)। সহকারী পরিচালক মালেক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাবুগঞ্জের রামপট্টির কামিনী পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার একটি দলের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে দুটি কাভার্ড ভ্যান ভর্তি আনুমানিক ৬ টন নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুই কাভার্ড ভ্যানের চালক ও একজন হেলপারকে আটক করা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক বলেন, উদ্ধার করা পলিথিন কেটে টুকরো করে সমাজকল্যান অধিদপ্তরের পরিচালনাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে দেয়া হবে। আটক তিনজনকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাভার্ড ভ্যান দুটি ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর দিকে যাচ্ছিলো। পেট্রোল পাম্পের পার্কিং এলাকায় রেখে খাওয়া-দাওয়া করছিলো। তখন পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যান দুটি খুলে বিপুল পরিমান পলিথিন উদ্ধার করেছে।
তারা আরো জানিয়েছে, একটি কাভার্ড ভ্যান পুরো ভর্তি পলিথিন ছিলো। অপরটিতে অর্ধেক ভর্তি ছিলো।

সন্ধ্যায় সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, আটক দুই কাভার্ড ভ্যান চালককে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। জরিমানা করার আদেশ দিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার দেবযানী কর।

তিনি আরো জানান, জরিমানার টাকা পরিশোধ করে কাভার্ড ভ্যান নিয়ে চলে গেছে দুই চালক।




পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে আরও ১৫ কোটি টাকার প্রণোদনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তৃতীয় ধাপে আরও ১৫ কোটি টাকার প্রণোদনা দেবে সরকার। সোমবার (২ অক্টোবর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, এর আগে পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে চলতি বছর দুই ধাপে ৩২ কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

এরমধ্যে গত ২৯ আগস্ট দ্বিতীয় ধাপে ১৬ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। গত ১১ মে প্রথম ধাপে ১৮ হাজার কৃষককে সমপরিমাণ বা ১৬ কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়া হয়। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এ পেঁয়াজ বাজারে আসবে।

সব মিলিয়ে তিন ধাপে শুধু গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজেই প্রণোদনার পরিমাণ দাঁড়ালো ৪৭ কোটি টাকা।

গত ২০২০-২১ সালে ৪০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল, উৎপাদন হয়েছিল ৩০০ টন। সরকারের প্রণোদনার কারণে ২০২১-২২ সালে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ করা জমি বেড়ে হয় ২৫০০ হেক্টর, উৎপাদন বেড়ে হয় ৩৭ হাজার টন। সবশেষ গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে ২৭০০ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন হয়েছে ৩৯ হাজার ৮০০ টন পেঁয়াজ।

ভরা মৌসুমে দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও সংরক্ষণ সংকটের কারণে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। পরে চাহিদা পূরণে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।




নাজিরপুরে দিনব্যাপী প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ

বরিশাল অফিস: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির উদ্যোগে পিরোজপুরের নাজিরপুরে দিনব্যাপী প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

সোমবার (২ অক্টোবর) উপজেলা কৃষি অফিস হলরুমে ওই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক আয়োজিত ওই প্রশিক্ষনে ৬০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের উদ্যোক্তাদের মাঝে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সমর বাঢ়ৈ, উপজেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সুতার প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ইন্দুরহাট শাখার ম্যানেজার গোপালেন্দু রায়, ইন্দুরহাট শাখার জুনিয়র অফিসার মানিক লাল সিকদার, এস্যিন্টার অফিসার রাজিব হোসেন, সি এস আর এগ্রো প্রজেক্ট মো. সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।




বায়ুদূষণের শীর্ষে লাহোর, ঢাকা পঞ্চম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: বায়ুদূষণের শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকার বায়ুর মানের অবনতি হয়েছে। সোমবার (২ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪৪ মিনিটের দিকে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

দূষণ তালিকার শীর্ষে থাকা লাহোরের স্কোর ১৮৩ অর্থাৎ সেখানকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এই শহরের স্কোর ১৬২ অর্থাৎ সেখানকার বাতাসও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইতালির মিলানো শহর।

 

স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।




গরীবের ‘গোশত’ খ্যাত ডালের ৪৫ ভাগই যোগান দিচ্ছে বরিশাল

এস এল টি তুহিন (বরিশাল) : মানব দেহে আমিষের চাহিদা পূরণকারী দেশে উৎপাদিত খেশারী ও মুগ ডালের ফসলের প্রায় ৪৫ ভাগই বরিশাল অঞ্চল থেকে যোগান দিচ্ছে। গোশতের পরেই ডালে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশী বলে তা আমাদের দেশের দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত মানবগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা পূরণে একটি সস্তা উৎস হিসেবেও বিবেচিত হয়। ডাল থেকে যে পরিমান প্রোটিন পাওয়া যায়, তা ডিম, দুধ বা গোশতের মাধ্যমে অর্জন করতে প্রায় তিনগুন অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব কারনে ডালকে গরীবের গোশত বলেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

কিন্তু এখনো দেশে ডালের চাহিদার বড় অংশই আমদানী নির্ভর। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানী-রফতানী বাণিজ্যে ভারসাম্যেও বিঘ্ন  ঘটাচ্ছে।

বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় পৌনে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে ৪ লাখ ২৯ হাজার টন বিভিন্ন ডাল ফসল উৎপাদন হয়েছিল। তবে আসন্ন রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ডাল ফসল আবাদ কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৩ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টরে নির্ধারণ করা হলেও উৎপাদন ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬২১ টন।

এ পর্যন্ত মসুর ডালের ৭টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এছাড়া খেসারীর ৩টি, মুগ ডালের ৬টি, ছোলার ৯টি, মাষকলাই ডালের ৩টি, ফেলন ডালের ১টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে বিজ্ঞানীরা।

গত বছর রবি মৌসুমে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ২০ হাজার ৪৪৩ টন মসুর ডাল উৎপাদন হয়। এছাড়া ২ লাখ ৭ হাজার ৯১৩ হেক্টরে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৯১ টন খেসারী ডাল উৎপাদন হলেও এরমধ্যে বারিশাল অঞ্চলেই প্রায় ৯৩ হাজার হেক্টরে ১ লাখ ১৪ হাজার টন খেসারী ডাল উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া গত রবি মৌসুমে দেশে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার হেক্টরে উৎপাদিত দু লাখ ৬১ হাজার টন মুগ ডালের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলেই প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার হেক্টরে ২ লাখ ৫৩ হাজার টন মুগ ডাল উৎপাদন হয়েছে ।

পাশাপাশি গত বছর দেশে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টরে ৪৬ হাজার টন ফেলন ডাল, ১০ হাজার হেক্টরে প্রায় ১৪ হাজার টন মটর ডাল ছাড়াও অত্যান্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ মাসকলাই ডালের আবাদ ও উৎপাদন ছিল যথাক্রমে প্রায় ২৯ হাজার হেক্টর ও ৩৪ হাজার টন। এসব ডাল ফসলের একটি বড় অংশই বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ ও উৎপাদন হয়েছে।




ধান নদী খাল এই তিনে প্রাচ্যের ভেনিস বরিশাল : দর্শনীয় স্থান

বরিশাল অফিস: অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল ও সবুজবেষ্টনী ঘেরা প্রাচ্যের ভেনিস এই বরিশাল। প্রতিদিন এখানে প্রকৃতি রূপ বদলায়। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে আসে।

বরিশাল অঞ্চলের নানা দিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে নদী, খাল। দিনে-রাতে এসব নদী-খালে চলে জোয়ার-ভাটার অপূর্ব খেলা। আর ধানের মৌসুমে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। বরিশাল বিভাগে রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান; যার মাধ্যমে স্থানীয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকরা তাদের ভ্রমণ তৃষ্ণা নিবারণ করেন। বরিশাল বিভাগ মূলত ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা ও ভোলা জেলা নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি জেলায় রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। বাংলার ভেনিসখ্যাত বরিশাল জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের সবসময়ই মন জুড়াতে সক্ষম। বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে এসে আজ তুলে ধরছি কিছু তথ্য।

গুঠিয়া মসজিদ : বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স। স্থানীয়দের কাছে যা গুঠিয়া মসজিদ নামে পরিচিত। বরিশাল জেলাধীন উজিরপুর থানায় গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অপূর্ব কারুকার্যে তৈরি মসজিদটির অবস্থান। সুবিশাল মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় ১৪ একর জমির ওপর। সারা বছরই মসজিদটিতে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। শুধু মুসলিমরাই নন, এখানে আনাগোনা রয়েছে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষেরই। প্রায় ১৪ একর জমির ওপর স্থাপিত এই মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এটি নির্মাণে প্রায় দুই লাখ শ্রমিকের সময় লেগেছে প্রায় তিন বছর। ২০টি গম্বুজের স্থাপত্যকলায় সাজানো হয়েছে মসজিদটি। মসজিদটির দক্ষিণ দিকে রয়েছে প্রায় ১৯৩ ফুট উচ্চতার একটি মিনার। পুরো মসজিদজুড়ে রয়েছে ছোট-বড় ৯টি গম্বুজ। বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বাস বা মাহিন্দ্রায় করে আধঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছানো যায় গুঠিয়া মসজিদে। বরিশাল-বানারীপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হওয়ায় বাস বা অটো থেকে নেমেই মসজিদটি চোখে পড়বে।

মিয়াবাড়ি মসজিদ: মিয়াবাড়ি মসজিদের অবস্থান বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুর গ্রামে। এখানে আমরা দেখলাম কয়েকশ বছরের পুরোনো মিয়াবাড়ি মসজিদ। মনে হয় ১৮০০ শতকে এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর অসম্ভব সুন্দর স্থাপত্যশৈলী মুগ্ধ করবে যে কাউকে। আটঘর কুড়িয়ানা যাওয়ার পথেই পড়ে এই কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ, যেটা পেয়ারাবাজার ঘুরতে আসা অনেক ট্যুরিস্ট-ই মিস করেন।

দুর্গাসাগর দীঘি: বরিশাল শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে স্বরূপকাঠি-বরিশাল সড়কে মাধবপাশায় অবস্থিত দুর্গাসাগর দীঘি। এই জেলাটি প্রাচীন যুগে ‘চন্দ্রদ্বীপ’ নামে পরিচিত ছিল এবং দুর্গাসাগর দীঘি এমন একটি ঐতিহাসিক স্থান, যা এই সময়ে নির্মিত হয়েছিল। এই অঞ্চলটি প্রায় ২০০ বছর ধরে চন্দ্রদ্বীপ রাজবংশ দ্বারা শাসিত ছিল। ঐতিহাসিক এই দীঘিটির জলাভূমির আয়তন ২৭ একর এবং পাড় ও জমিসহ মোট আয়তন ৪৫.৪২ একর। স্থানীয়দের কাছে এই দুর্গাসাগর মাধবপাশা দীঘি নামেও ব্যাপক পরিচিত। চারপাশে নারকেল, সুপারি, শিশু, মেহগনি বৃক্ষ দিয়ে ঘেরা দীঘির উত্তর পাশে একটি বড় বাঁধানো ঘাট আছে। বছরের যেকোনো সময় দুর্গাসাগর দীঘি দেখতে যাওয়া যায়, তবে শীতকালে দুর্গাসাগরের বুকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে। সরাইল ও বালিহাঁসসহ প্রায় ৬ প্রজাতির হাজার হাজার পাখির কলরবে চারপাশ মুখরিত থাকে। প্রায় আড়াইশ বছর পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দীঘির সৌন্দর্য দেখতে অসংখ্য লোকের আগমন ঘটে।

বরিশাল থেকে চাখার যাওয়ার বাসে চড়লে দুর্গাসাগর দীঘির একদম সামনে নামতে পারবেন। এ ছাড়া লঞ্চঘাট থেকে ব্যাটারিচালিত লেগুনা দুর্গাসাগর দীঘির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। চাইলে সিএনজি কিংবা অটোরিকশা রিজার্ভ করে ঘুরে আসতে পারবেন দুর্গাসাগর থেকে।

ইট, পাথর আর সুড়কি দিয়ে গাঁথা ও একসময়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত বরিশালের লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি। জমিদারবাড়িটি আনুমানিক ১৬০০ কিংবা ১৭০০ সালে রূপচন্দ্র রায়ের ছেলে জমিদার রাজচন্দ্র রায়ের হাত ধরে ইট-পাথর আর সুড়কি গাঁথুনিতে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে পুরোনো লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি। পুরোনো ভবনের চারদিকে নানা শিল্পকর্ম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এখানে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি মঠ, সুবিশাল দীঘি, মাঠ এবং কারুকার্যমণ্ডিত জমিদারবাড়ি।

বরিশাল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে লাকুটিয়া বাজার। এরপর ইট বিছানো পথ কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার ডান পাশে মিলবে জমিদারদের অনেক প্রাচীন মন্দির আর সমাধিসৌধ। এগুলোর বেশিরভাগই আটচালা দেউলরীতিতে তৈরি এবং শিখর রীতির মন্দির। পাঁচটি মন্দির এখনও অক্ষতই আছে মনে হয়। জমিদারবাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। অথচ এই জমিদারবাড়ি ঘিরে রয়েছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ইতিহাস।

শাপলার রাজ্য সাতলা গ্রাম: বরিশাল উপজেলা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে বিশাল এক বিলের মধ্যে দেখা মিলবে ফুলের রাজ্যের। বিলের যত ভেতরে যাবেন, ততই চোখে পড়বে শাপলা ফুলের গালিচা। এ যেন এক শাপলার রাজ্য। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামে অবস্থিত এই রাজ্য। সাতলা গ্রামের বিলের আগাছা আর লতাপাতায়ঘেরা হাজারো শাপলা চোখ জুড়াবে পথচারীদের। এই বিল স্থানীয়দের কাছে শাপলার বিল নামে পরিচিত। এখানে কবে থেকে শাপলা ফোটা শুরু হয়েছে, তা কারও জানা নেই। কিন্তু গ্রামের বৃদ্ধদের কাছ থেকে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই তারা এই বিলে শাপলা ফুটতে দেখেন। স্থানীয়রা প্রায় ৮০ শতাংশ শাপলার চাষ করে থাকেন। তিন ধরনের শাপলার দেখা মিলবে এই বিলে- লাল, সাদা ও বেগুনি। তবে লাল শাপলাই বেশি দেখা যায়।

সাতলার প্রায় ১০ হাজার একর জলাভূমিতে শাপলার চাষ করা হয়। শাপলা গ্রাম থেকেই সারা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে শাপলা ফুল সরবরাহ করা হয়। সারা বছরই কম-বেশি শাপলা ফুল ফুটে থাকে এই বিলে। মার্চ থেকে শুরু করে অক্টোবর পর্যন্ত শাপলার সমারোহ থাকে। আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে বেশি শাপলা ফুটে থাকে। তাই এই তিন মাসের মধ্যে গেলে শাপলার অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। আর হ্যাঁ, শাপলা দেখতে চাইলে অবশ্যই খুব ভোরে যাবেন। বেলা পরে গেলে শাপলা ফুলগুলো শুকিয়ে যায় কিংবা ব্যবসায়ীরা বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যান। তাই সবচেয়ে ভালো হয় এক রাত গ্রামে থেকে সকালে শাপলা বিল দেখতে গেলে। ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফারদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা এই শাপলা গ্রাম।

লঞ্চ কিংবা বাস থেকে বরিশাল সদরে নামার পর আবার বাসে করে শিকারপুর আসতে হবে। শিকারপুর থেকে অটো ভাড়া করে উত্তর সাতলা যেতে হবে। বরিশালের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সাতলা ও বাগধা গ্রামে যাওয়ার সরাসরি বাসে পৌঁছে যেতে পারবেন আপনার গন্তব্যে। এক্ষেত্রে সময় লাগবে ২ ঘণ্টা। তা ছাড়া বরিশাল থেকে মাহেন্দ্র গাড়িতে করে ঘুরে আসতে পারবেন শাপলা গ্রাম।

ভাসমান পেয়ারাবাজার: এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম পেয়ারাবাজার গড়ে উঠেছে ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায়। জেলাগুলোর ২৬টি গ্রামের প্রায় ৩১ হাজার একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এই পেয়ারা বাগান। পানির ওপরই গড়ে উঠেছে এই পেয়ারার বাজার, যেখানে প্রতিদিন পেয়ারার হাট বসে। নৌকায় করে শত শত মণ পেয়ারা আসে, আবার নৌকায় করেই কিনে নিয়ে যান অনেকে।

জুলাই থেকে পিরোজপুর, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলার পেয়ারাচাষিরা শত শত ছোট-বড় নৌকা নিয়ে হাজির হন ভাসমান বাজারে। বাগানের সেরা পেয়ারাগুলো দিয়ে ভর্তি থাকে প্রতিটি নৌকা। পেয়ারাবাজার যেতে বরিশালের নতুল্লাবাদ থেকে বাসে অথবা সিএনজিতে করে যেতে হবে বানারীপাড়া। তারপর সেখান থেকে নসিমনে যাবেন কুড়িয়ানা। একটু হেঁটে একটা ব্রিজ পার হয়ে আবার ইজিবাইকে করে চলে যেতে পারবেন আটঘর ও কুড়িয়ানা বাজারে। আর ভিমরুলি যেতে চাইলে বানারীপাড়া থেকে নৌকা বা ট্রলারে যাওয়াই ভালো।

অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: এ ছাড়াও ঘুরে দেখতে পারেন অক্সফোর্ড মিশন চার্চ, ছারছীনা দরবার শরিফ, উলানিয়া জমিদারবাড়ি, কলসকাঠী জমিদারবাড়ি, কীর্তনখোলা নদী, পাদ্রিশিবপুর গির্জা, শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর।




দশমিনায় স্বস্তির বৃষ্টি, খুশিতে আমন চাষীরা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার দশমিনায় দীর্ঘদিন খরার পর স্বস্তির বৃষ্টিতে ধানের ক্ষেতগুলো সতেজ হয়েছে। এতে স্বস্তি দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষকদেরর মাঝে। দীর্ঘদিন খরার কবলে পড়ে আমন ধানের ক্ষেত গুলো শুকিয়ে গেছে, অনেক ধানের গাছ লালচে আকার ধারণ করেছিল। গত কয়েক দিন যাবৎ স্বস্তির বৃষ্টিতে আমন ধানের ক্ষেতগুলো সবুজে ভরে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেশিভাগ মানুষের আয়ের উৎস কৃষি। চলতি মৌসুমে আমন ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ১৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর। আমন ধানের ক্ষেতগুলোতে এ মুহুর্তে বৃষ্টি খুবই প্রয়োজন ছিলো। গত কয়েক দিন যাবৎ থেমে থেমে বৃষ্টির ফলে আমন ধানের ভালো উৎপাদন আশা করা যাচ্ছে।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া এলাকার আমন চাষী লক্ষণ দাস, মজিদ হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, আলাউদ্দিন হাওলাদার ও মজিবুর রহমান বলেন, এ বৃষ্টি আমাদের কাছে ঈদের খুশির মতো। তবে এ বৃষ্টি যদি মাসখানে আগে হতো তাহলে আমাদের আমন ক্ষেতে রোগের দেখা মিলতোনা। এখন ধানের চারা তাড়াতাড়ি বড় হবে। আমন ধানের গাছ হতে অতি দ্রুত ধানের শীষ বের হবে।

অণ্য আরেক চাষী উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের ইউনুছ তালুকদার বলেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন ধানের ক্ষেতগুলো শুকিয়ে গেছে। গাছ বৃদ্ধি কম হয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় গাছ ও ফসলের জন্য ভালো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার জাফর আহম্মেদ বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে কম বেশি বৃষ্টি হলেও মাঝ পথে র্দীঘ সময় বৃষ্টির পানি না হওয়া কৃষকরা একটু চিন্তিত হয়ে পড়েন। এই বৃষ্টির ফলে আমন ধানের ক্ষেতগুলোর অবস্থান পরির্বন হবে। আমন ধানের ফলন ভাল হবে।




তিন নদীর মোহনার রূপে মুগ্ধ হচ্ছে পর্যটক

 

মো:আল-আমিন,পটুয়াখালী: বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র, সূর্য উদয় ও সূর্য অস্ত এর বেলা ভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা।
দিন দিন বিশ্বের পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটা পরিচিতি পাচ্ছে, তার সাথে পরিচিতি পাচ্ছে কুয়াকাটার অপূর্ব সৌন্দর্যের স্থান তিন নদীর মোহনা।

দেশ-বিদেশ থেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে পর্যটক কুয়াকাটা আসলে সবার আগে যে দর্শনীয় স্থানটি ভেসে ওঠে সেটি হল তিন নদীর মোহনা। নামের সাথেও মিল রয়েছে সৌন্দর্যের দর্শনীয় স্থানটির।

গভীর সমুদ্রের সাথে তিনটি নদীর মিল থাকার কারণে স্থানীয় জেলেরা এটার নামকরণ করে তিন নদীর মোহনা। ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে এই নামটি, গভীর সমুদ্রের সাথে মিলেছে সোনাতলা নদী, শিব্বিরিয়া নদী ও সকলের পরিচিত আন্ধারমানিক নদী। এক একটি নদী তার নিজের ব্যক্তিগত রূপ ছড়িয়েছে এবং ছড়িয়েছে তার সৌন্দর্য।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে, পশ্চিম দিকে ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তিন নদীর মোহনা, তিন নদীর মোহনা দেখার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেই আপনার চোখের সামনে ভেসে আসবে আরো কয়েকটি কুয়াকাটা দর্শনীয় স্থান। সব পেরিয়ে পৌঁছে যাবেন তিন নদীর মোহনায়। উল্লেখযোগ্য তিন নদীর পাশে দাঁড়িয়ে আপনি উপভোগ করতে পারবেন সূর্য অস্ত।

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী মো: রাজু বলেন, তিন নদীর মোহনা পর্যটকসহ স্থানীয়দের কাছে অপরূপ সৌন্দর্যের স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকের আনন্দ মুহূর্তে জমজমাট থাকে তিন নদীর মোহনা।

ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (কুটুম) সাধারণ সম্পাদক জানান, আমরা সবসময় পর্যটকদের সেবার জন্য প্রস্তুত থাকি, পর্যটকদের সাথে কথাবার্তায় পর্যটকরা প্রথমেই তিন নদীর মোহনার সৌন্দর্যের কথা জানতে চায়।

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সব সময় সজাগ রয়েছি এবং তিন নদীর মোহনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা রাখার জন্য, টুরিস্ট পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে।




সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত – বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ

বরিশাল অফিস: বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ তৈরির কারণে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এ সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়। লঘুচাপের কারণে উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সকল নৌকা ও ট্রলারগুলোকে, গভীর সাগরে বিচরণ না করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে তাদের।

এদিকে পৃথক আরেকটি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দর গুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




বরিশালের কাশবন প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল

 

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : ঋতুর রাণী শরতের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ কাশফুল। আর কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। শরতের মেঘহীন নীল আকাশে গুচ্ছ সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের মন। আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা আর তার নিচে কাশফুলেরীয় নাচানাচি-অজান্তেই মানুষের মনে। নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। তবে আকাশে ধবধবে সাদা মেঘের শতদল আর মাটিতে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুল যে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য ছড়ায় তাতে থাকে শুধুই মুগ্ধতা। তবে কালের আবর্তে শরতকালের সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন আর তেমনটি চোখে পরে না।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ কাশবন কেটে কৃষি জমি সম্প্রসারণসহ আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছে। এতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিকে অপরূপ শোভাদানকারী কাশফুল। সাহিত্যে কাশফুলের কথা এসেছে নানাভাবে। রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন গ্রন্থ ‘কুশজাতক’ কাহিনী অবলম্বন করে ‘শাপমোচন’ নৃত্যনাট্য রচনা করেছেন। কাশফুল মনের কালিমা দূর করে, শুভ্রতা অর্থে ভয় দূর করে শান্তির বার্তা বয়ে আনে। শুভকাজে কাশফুলের পাতা বা ফুল ব্যবহার করা হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, কাশফুল এক ধরনের ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum. এরা উচ্চতায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নদীর তীরে জন্মানো শ্বেতশুভ্র কাশবন দেখতে খুবই সুন্দর। বাংলাদেশের ঋতুরীতি অনুযায়ী শরতের শোভা কাশফুল। তিনি বলেন,এ ফুল ফুটতে দেখেই বোঝা যায় এটা শরতকাল। কাশফুল মূলত ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু ঢিবিতে কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। তবে নদীর তীরেই এদের বেশি জন্মাতে দেখা যায়। এর কারণ হল নদীর তীরে পলিমাটির আস্তর থাকে এবং এই মাটিতে কাশের মূল সহজে সম্প্রসারিত হতে পারে। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই কাশফুল দেখতে পাওয়া যায়।

কাশফুল পালকের মতো নরম এবং ধবদবে সাদা। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ খুবই ধারালো। তিনি আরও বলেন, কাশফুলের বেশকিছু ওষুধি গুণ রয়েছে।যেমন-পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পিত্তথলির পাথর দূর হয়। কাশমূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে দুর্গন্ধ দূর হয়। কাশফুলের অন্য একটি প্রজাতির নাম কুশ। এরা দেখতে প্রায় কাশফুলের মতোই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘পুরাণ’-এ কুশের স্থান খুব উঁচুতে। চর্মজাতীয় রোগের চিকিৎসায়ও কাশফুল বেশ উপকারী বলেও তিনি জানান।

প্রকৃতির অপরূপ এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা জানান, নীল আকাশের নীচে সাদা কাশবন প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলেছে অপরূপ ভাবে। মনকে প্রফুল্ল রাখতে জীবনের শতব্যস্ততার মাঝেও শরৎ আসলেই নীল-সাদার এই অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে বারবার মন ছুটে যায় কাশবনে। শরতের কাশফুল নিয়ে কবিতা, গান, গল্পের শেষ নেই। কবি শাহনাজ রুবির ভাষায়, এই মধুরিমা গোধুলী আমায় দাওনা! তোমার অপরূপ শ্যামশ্রী অনির্বাচনীয়, আমার উদাসী মনে ধূলি মলিন বিবর্ণতার অবসান হয়েছে, দাঁড়িয়েছি কাশবনে। আমিতো তাকিয়ে দেখি বিচিত্র পুষ্প বিকাশের লগ্নকালের পথ চেয়ে, কখন ফুটবে তোমরা বন বনানীর স্নেহময় ছায়ায়, চাতকের মতো দীর্ঘ তৃষ্ণায় নিবৃত্তি হবেনা। আমিতো বঙ্গ প্রকৃতিতে হৃদয়ের দ্বার খুলে বসে আছি, আমি এক বাংলার মেয়ে বলছি, ফুটে যাও, ফুটে যাও। সজল দিগন্তের ভেসে চলা বলাকার সারিরা আমায় বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়, নীল এবার ঘরে ফিরে যাও। ঘরে ফিরে যাও, সন্ধ্যা রানী এলো বুঝি ঘনিয়ে, এবার ফিরে চলো।

বরিশাল নগরীর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম এর কাছে এবং ত্রিশ গোডাউন এবং দোয়ারিকা ও খয়রাবাদ সেতুর ঢালে ও সদর উপজেলা চরবাড়িয়ার ইউনিয়নের তালতলী ব্রিজ এর ঢালে দিগন্তজুড়ে ফুটে আছে সারি সারি শুভ্র কাশফুল। চোখে পড়বে এই দৃশ্য। করোনার প্রকোপ কাটিয়ে চিত্ত বিনোদনের জন্য কাশফুলের সাথে মিতালী করতে যান তারা। সেলফি আর পরিবার-স্বজন নিয়ে ছবি তুলে তারা মনের খোরাক যোগান। শরৎ কালে কাশফুল ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনা হয় এসব স্থানে শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে ভিড় করেন বরিশাল ও এর নিকটবর্তী এলাকার অসংখ্য মানুষ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষের কাছে এ কাশবন যেন একরাশ আনন্দ আর সাময়িক মুক্তির বারতা। এখানে তাকালেই দেখা যাবে নীল আকাশের নিচে বাতাসে দোল খায় সাদা কাশফুল। সেই কাশবন যেন হয়ে উঠেছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো ছবি! তাই তো অনেকেই ছুটছেন সেখানে বিনোদন পেতে। নতুন এ বিনোদন স্পটে দর্শনার্থীরা কাঁশফুলের সাথে মিলেমিশে একাকার হচ্ছেন। ক্যামেরা বা মুঠোফোনে ছবি তোলায় মেতে ওঠেন।

আবার অনেক শর্ট ফিল্ম প্রযোজকরা আসেন শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করতে। শরতের এ সময়টাতে সাদা আর সবুজের সাথে একাত্ম হয়ে ছুটে বেড়ায় কোমলমতি শিশু থেকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা। শরতের বিকেলে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি উপেক্ষা করে যান্ত্রিক পরিবেশকে পেছনে ফেলে প্রকৃতির কাছ থেকে একটু প্রশান্তি পেতে প্রায়ই কাশবনে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

এখানকার কাশবন যে কারো মনকে উদ্বেলিত করে। বরিশাল সদর উপজেলা চরবাড়িয়ার ইউনিয়ন তালতলীর ব্রিজ এর কীর্তনখোলা নদীর তীর সংলগ্ন এ কাশবনের ভেতরে ঢুকলেই চারদিকে কাশফুল, নদীর ধারে শরীর-মন জুড়িয়ে দেওয়া বাতাস। তাই দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে কাশবনে বসে কেউ গল্প করছেন। আবার কেউ নিজের ছবি তুলছেন। আর পড়ন্ত বিকেলের কথা তো বলেই শেষ করা যায় না। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। বরিশাল সদর উপজেলা চরবাড়িয়া তালতলী ব্রিজ এর কাছে কাশফুলের দর্শনার্থী মারিয়া ইসলাম মিম বলেন, বেশকিছু কারণে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি ছিলাম। কাশফুলের বাগানে বেড়াতে এসে ভালোই লাগছে ।

নিজের মতো করে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার জন্য এখানে বেড়াতে এসেছি। বরিশাল স্টেডিয়ামের কাশফুল ঘিরে শেষ বিকেলে চোখে পড়ে নতুন প্রজন্মের মডেলিং। স্টেডিয়ামে কাশফুলের সাথে মিতালী করতে যাওয়া সাদিয়া জাহান, সানজু, ইশরাত জাহান ইভা বলেন, কাশফুলের দোলাচল প্রকৃতিপ্রেমী যে কারোর মনে ক্ষণিকের জন্য হলেও প্রশান্তি জোগাবে।

মনের প্রশান্তির জন্যই স্টেডিয়ামে বেড়াতে এসেছেন তারা। বরিশাল কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা সরকারি বরিশাল কলেজের ছাত্রী আফরোজা আখি বলেন, শরৎ মনে জাগিয়ে দেয় কাশফুল, স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা মেঘ আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের কথা।কাশফুলের গন্ধ নেই, কাশফুল প্রিয়জনের জন্য উপহার হিসেবে দেয়ার ফুলও নয়। তবে কাশফুলের মধ্যে রয়েছে রোমাঞ্চকর উন্মাদনা। যা দেখে মন ভালো হয়ে যায়। কাশফুলের এই শুভ্রতা এবং স্নিগ্ধতা ছুঁয়ে যাক প্রতিটি হৃদয়।

বরিশালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহিদুর ইসলাম তালুকদার বলেন, আগে পথে প্রান্তরে যেখানে সেখানে দেখা মিলত কাশফুলের। কিন্তু মানুষ বাড়ছে। বর্ধিত মানুষের খাদ্যের জোগান দিতে পতিত জমিও চলে যাচ্ছে চাষের আওতায়। পতিত জমি না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে কাশবন আর কাশফুল। গ্রামাঞ্চলে অপরিকল্পিত দালানকোঠা, নদী ভাঙ্গন ও কৃষি চাহিদায় কাশফুল হারিয়ে যেতে বসছে।আবহাওয়াজনিত কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শরৎকালে কাশফুলের তেমন দেখা মিলছে না।

প্রকৃতিপ্রেমী জারাও স্বর্ণা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশবনে ঘুরতে গিয়ে নিজের অনুভূতির থেকে জানান, সাদা আর সবুজের মিলনমেলার পাশ দিয়ে বয়ে চলা কীর্তনখোলা নদীর তীরে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতিই অন্যরকম। সাদা মেঘের সঙ্গে এ কাশফুলের সাদা রং মনকেও সাদা করে দেয়। শরৎ কাশবনকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে।

কাশবনকে উদ্দেশ্য করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ফেরদৌসী বলেন, আজকের এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষ খুব একা হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে তার সামাজিক ও মানসিক জীবনে। মানুষ কে প্রকৃতির কাছে যেতে হবে মনকে সজীব রাখতে হবে। তাহলেই আমরা সকল বাধা ভেদ করে এগিয়ে যেতে পারবো সুন্দর আগামীর পানে। তার জন্য এই কাশবন অগনেকটাই পরিবেশ বান্ধব। আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে থাকেন, বরিশাল আসলে একবার হলেও এই স্বর্গরাজ্যে আসার নিমন্ত্রন রইলো।