জাটকা আহরণে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা

 

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে (১২ অক্টোবর) মধ্য রাত থেকে ২২ দিনের জন্য সারাদেশে নিষেধাজ্ঞায় শেষ না হতেই অবারও মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে সারাদেশে ইলিশ পোনা-জাটকা আহরণে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিলো সরকার। আগামি ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে উপকূলের ৭ হাজার ৩৪২ বর্গ কিলোমিটারে সব ধরনের মাছ সহ সারাদেশে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ থাকছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, বিগত বছরগুলোতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমান আদালত এবং মৎস্য বিভাগের অভিযানের ব্যাপক সাফল্য এসেছে। এসব অভিযানের ফলে দেশে বিপুল পরিমাণ জাটকা অবৈধ আহরণ থেকে রক্ষা পাওয়ায় ইলিশ সম্পদ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে । বরিশাল অঞ্চলের ৪১টি উপজেলার সাড়ে ৩ লাখেরও বেশী জেলের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে ।

বরিশাল মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, ইলিশ মাছ স্রেতের বিপরীতে প্রতিদিন ৭১ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটে চলতে সক্ষম। জীবনচক্রে এরা স্বাদু পানি থেকে সমুদ্রের নোনা পানিতে এবং সেখান থেকে পুনরায় স্বাদু পানিতে অভিপ্রয়াণ করে। উপকূলের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মূল প্রজনন ক্ষেত্রে মুক্ত ভাসমান অবস্থায় ডিম ছাড়ার পরে তা থেকে ফুটে বের হয়ে ইলিশের লার্ভা স্বাদু পানি ও নোনা পানির নার্সারী ক্ষেত্রসমূহে বিচরণ করে খাবার খেয়ে নার্সারী ক্ষেত্রসমূহে ৭-১০ সপ্তাহ ভেসে বেড়ায়। এরা জাটকা হিসেবে কিছুটা বড় হয়ে ১২-১৮ মাস সমুদ্রে অবস্থান করে পরিপক্কতা অর্জন করে। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসের পরে প্রজননক্ষম হয়ে এসব ইলিশ আবার স্বাদু পানির নার্সারী ক্ষেত্রে ফিরে এসে ডিম ছাড়ে।

তিনি বলেন, দেশে উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৭০ ভাগ পাওয়া যায় দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায়। সমুদ্রে যাবার সময় পর্যন্ত যেসব এলাকায় জাটকা খাদ্য গ্রহণ করে বেড়ে ওঠে, মৎস্য নার্সারী ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ইলিশের বংশ অনেকটাই রক্ষা পাচ্ছে। বরিশালের হিজলা ও মেহেদিগঞ্জের লতা, নয়া ভাঙ্গনী ও ধর্মগঞ্জ নদীর মিলনস্থল পর্যন্ত, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুুলিয়া নদীর ১শ’ কিলোমিটার, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার, মদনপুর থেকে ভোলার চর ইলিশা হয়ে চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনার শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার, শরিয়তপুরের নড়িয়া থেকে ভেদরগঞ্জ নিম্ন পদ্মার ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত মোট ৬টি অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ সব অভয়াশ্রমে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যায়ক্রমে ২-৩ মাস পর্যন্ত সব ধরনের মৎস্য আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে জাটকা নিধন থেকে রক্ষা পেয়ে ইলিশ সহ সব মাছের উৎপাদন বাড়বে। আহরণ নিয়ন্ত্রণ সহ নজরদারী বৃদ্ধির ফলে দেশে জাটকার উৎপাদন ২০১৫ সালে ৩৯ হাজার ২৬৮ কোটি থেকে ২০১৭ সালে ৪২ হাজার ২৭৪ কোটিতে উন্নীত হয়। গত বছরও ২২ দিনের মূল প্রজননকালে দেশে প্রায় ৮ লাখ ৫ হাজার কেজি ডিম ছেড়েছে মা ইলিশ। যার প্রস্ফুটনে দেশে ৪০ হাজার ২৭৬ কোটি জাটকা ইলিশ পরিবারে যুক্ত হয়েছে ।

জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে দক্ষিণাঞ্চল সহ উপকূলীয় এলাকায় নৌবহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র‌্যাব সহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে ।




বরিশালে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে সফলতা

 

বরিশাল অফিস : আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের সফল চাষী মজিবুর রহমান বিপ্লব। তার ২০ শতক জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে এবার টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে।

বিপ্লবের একক ফল প্রদর্শনী গোল্ডেন আট পেয়ারা বাগানের এক জমিতেই চাষাবাদ হয়েছে সাত ধরনের ফসল। এরমধ্যে ২০ শতক জমিজুড়ে রয়েছে গোল্ডেন আট নামক জাতের পেয়ারা বাগান। ওই পেয়ার গাছের মধ্যে ও পাশে আগাম শীতকালীন সবজী চাষ করা হয়েছে। যারমধ্যে
রয়েছে-লাল শাক, টমেটো, ক্ষিরাই, শশা, পেঁপে, লেবু ও সুগন্ধী বুম্বাই মরিচ। বিপ্লবের ওই সবজী বাগানে কাজ করে জীবিকা র্নিবাহ করছেন এলাকার চারজন বেকার যুবক।

সফল কৃষক মজিবুর রহমান বিপ্লব বলেন, এবছর আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করায়, আগামীতে এর পরিধি আরো বৃদ্ধি করা হবে। শুধু বিপ্লবই নন; যেকোন চাষীকে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন বণিক।

আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাওয়ার কথা জানিয়ে বরিশাল গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সেকেন্দার শেখ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে, সেই লক্ষ্য নিয়েই নতুন নতুন চাষী তৈরি করতে কাজ করছে কৃষি অধিদপ্তর। এসব কৃষকদের কৃষি অফিস থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ফলশ্রæতিতে এবার উপজেলার পাঁচ হেক্টর জমিতে আগাম টমেটো চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি শীতকালীন সবজি চাষও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরিশাল মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, সফল কৃষক মজিবুর রহমান বিপ্লবের ব্যাপক সফলতায় আগামীতে মাহিলাড়া ইউনিয়নে রো সবজি চাষী বৃদ্ধি পাবে।




বরিশালে কৃষি উপকরণ বিতরণ

অফিস বরিশাল : কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ খাতের উদ্যোক্তাদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে ৬০ জন কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে ৯ লাখ টাকার কৃষি উপকরণ এবং এক লাখ ২০ হাজার টাকার কৃষি বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে ইউসিবি ব্যাংকের ভরসার নতুন জানালা প্রকল্পের আওতায় উপকরণ বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকান্দার শেখ, উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা শেখ আরিফুর রহমান, মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাসার, ইউসিবি ব্যাংকের বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন বণিক প্রমুখ।




প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য বরিশালে কাশবনে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল

বরিশাল অফিস: প্রকৃতি অনেক রঙ্গে সাজে। কখনো সাদা রঙ্গে, কখনো কালো মেঘ, আবার কখনো সৌন্দর্যের কোনো প্রতীক নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতির মাঝে। যেখানে নির্মল দখিনের বাতাসে, পাখির ডাকে, নদীর কলকল ধ্বনিতে মানুষের মাঝে প্রাণশক্তি সঞ্চার করে।

প্রতিবছর শরৎকাল ও ভাদ্র মাসের মাঝামাঝিতে এমন সৌন্দর্যের প্রতীক নিয়ে কাশফুলে ভরে ওঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস ও নগরীর বিভিন্ন স্থানের বেশ কিছু জায়গা জুড়ে। সবুজের মাঝে কাশফুলের সৌন্দর্যকে বিমোহিত করে তোলে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল।

তবে এসব স্থান গুলোকে নিরাপত্তাসহ বিনোদন কেন্দ্র’র স্থান করা হোক এমনই দাবি ফুলপ্রেমিদের। নীল আকাশের সাদা মেঘের ভেলায়, কাশফুলে অনেকে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। বসন্তের থোকায় থোকায় যেমন ফুল ফোটে, গাছে জাগে কচি পাতা। ঠিক তেমনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সহ নগরীর ত্রিশ গোডাউন, দোয়ারিকা ও খয়রাবাদ সেতুর ঢালে ও সদর উপজেলা তালতলী ব্রিজ এর ঢালে, রূপাতলী পুলিশ লাইন্স ও জেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে দিগন্তজুড়ে ফুটে আছে সারি সারি শুভ্র কাশফুল। চোখে পড়বে এই দৃশ্য।

বিনোদনের জন্য কাশফুলের সাথে মিতালী করতে যান তারা। সেলফি আর পরিবার-স্বজন নিয়ে ছবি তুলে তারা মনের খোরাক যোগান। শরৎ কালে কাশফুল ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনা হয়। আকাশের সাদা মেঘের সঙ্গে কাশফুলের মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া প্রকৃতিতে শুধুই মুগ্ধতা ছড়ায়। এসব স্থানে শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভিড় করেন বরিশালের অসংখ্য মানুষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রকৃতির কিছু ছোঁয়াতে সেজেছে পুরো ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধের দিনেও দেখা মিলে দর্শনার্থীদের। বিকেল নামলেই একঝাঁক বালক-বালিকে এই সৌন্দর্যের দেখতে ভীড় করে আমাদের এই ক্যাম্পাসে।

কাশফুল দেখতে আসা তরুনীরা বলেন, কাশফুলের ছোঁয়ায় নবরূপে আমাদের মুগ্ধ করে। আমরা অনেক মেয়েরা নিজেকে সাজিয়ে কাশফুলের সঙ্গে মিশে ক্যামেরাবন্দি করে রাখি। কাশফুল দেখতে এসে আনন্দে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। শুধু তাই নয় শরতের বিকেলে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি উপেক্ষা করে যান্ত্রিক পরিবেশকে পেছনে ফেলে প্রকৃতির কাছ থেকে একটু প্রশান্তি পেতে কাশবনে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘কাশফুল এক ধরনের ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum এরা উচ্চতায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নদীর তীরে জন্মানো শ্বেতশুভ্র কাশবন দেখতে খুবই সুন্দর।

বাংলাদেশের ঋতুরীতি অনুযায়ী শরতের শোভা কাশফুল।’ তিনি আরো বলেন, নদীর ধার, জলাভ‚মি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু ঢিবিতে কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে। তবে নদীর তীরেই এদের বেশি জন্মাতে দেখা যায়। এর কারণ হল নদীর তীরে পলিমাটির আস্তর থাকে এবং এই মাটিতে কাশের মূল সহজে স¤প্রসারিত হতে পারে।




হেমন্ত এলো ধূসর বিবর্ণে, হিমেল হাওয়ায়

চন্দ্রদীপ নিউজ: টলটলে মুক্তোবিন্দুর মতো স্বচ্ছ শিশির জমছে ঘাসের ডগায়; ধানের শিষের পরে। আদিগন্ত মাঠ জুড়ে এখন ধানের প্রাচুর্য, সবুজ স্বপ্ন দুলছে। হলুদে-সবুজে একাকার নয়নাভিরাম অপরূপ প্রকৃতি। চারদিকে ধূসর আবহ ঘিরে রাখছে। দিবসে সোনা ঝরা রোদ্দুর। অখণ্ড নীল আকাশ। হিম হিম, স্বল্পায়ু দিন ক্রমে ম্রিয়মাণ হয়ে যাচ্ছে, শেষ বিকালে কুয়াশার আবছা চাদর প্রকৃতিকে ঢেকে শিশিরের শব্দের মতো নামছে সন্ধ্যা। নিস্তব্ধ গভীর নিশিথে টুপটাপ শিশির পতনের হিরণ্ময় শব্দ।’

সবুজ পাতার খামের ভেতর/ হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে/কোন পাথারের ওপার থেকে/ আনল ডেকে হেমন্তকে…

আজ পয়লা কার্তিক। আবহমান বাংলায় ষড় ঋতুর পরিক্রমায় এলো হেমন্ত। শরতের পর কার্তিক-অগ্রহায়ণ মিলে হেমন্ত। নতুন ঋতুর আগমনে রূপ বদলায় প্রকৃতি। প্রকৃতির ম্লান, ধূসর ও অস্পষ্টতার অনুভূতি হানা দেয় চেতনলোকে। কবির কথায় ‘পুলকে আর বিষাদে ভরা’ থাকে এই ঋতু। হেমন্তকে বলা হয় শীতের বাহন। এই কার্তিকে প্রকৃতিতে প্রগাঢ় সবুজ যেমন পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যায় শীতের মিষ্টি আমেজও।

এক্ষণে দেশে গ্রামীণ জনপদের প্রকৃতিতে অনুভূত হচ্ছে শীতের মৃদু আমেজ, সাঁঝ-প্রভাতে কুয়াশার চাদর। আকাশ থেকে খণ্ড খণ্ড পেঁজা তুলোর মতো শুভ্র মেঘ সরে গিয়ে নিরাভরণ হয়েছে বিশাল নীল আকাশ।

কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ভাষায়—‘হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা-/ হিমের ঘন ঘোমটাখানি ধূমল রঙে আঁকা।/ সন্ধ্যাপ্রদীপ তোমার হাতে মলিন হেরি কুয়াশাতে,/ কণ্ঠে তোমার বাণী যেন করুণ বাষ্পে মাখা।/ ধরার আঁচল ভরে দিলে প্রচুর সোনার ধানে।/ দিগঙ্গনার অঙ্গন আজ পূর্ণ তোমার দানে…। হেমন্তের কবি জীবনানন্দ দাশ বিখ্যাত ‘বনলতা সেন’ কবিতায় হেমন্তের চিত্র এঁকেছেন। ‘সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা নামে/ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল/ পৃথিবীর সব রং মুছে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন / তখন গল্পের তরে জোনাকির রং ঝিলিমিল/ সব পাখি ঘরে আসে সব নদী ফুরায় এ জীবনের সব লেন দেন/ থাকে শুধু অন্ধকার মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন’।

গতকাল সন্ধ্যায় অস্ত যাওয়া আশ্বিনের শেষ সূর্যটার সঙ্গে নগরের তপ্ত শ্বাসও অস্ত যাওয়ার কথা, কিন্তু জলবায়ুর যে নিত্য বদল, তাতে এ আবহাওয়া আরও ক’দিন থাকবে। অগ্রহায়ণে ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে দশ প্রহরণ মেলতে শুরু করবে শীত। হেমন্তকে সবচেয়ে চেনা যায় ভোরের শিশিরে। খুব ভোরে একটি শীতল বাতাসে। সবুজ পাতার গায়ে জমে থাকা শিশির বিন্দু অপার্থিব দৃশ্যমালা রচনা করে।

জীবনানন্দ দাশের ভাষায়—লিপি কাছে রেখে ধূসর দ্বীপের কাছে আমি/নিস্তব্ধ ছিলাম ব’সে;/শিশির পড়িতেছিল ধীরে-ধীরে খ’সে;/নিমের শাখার থেকে একাকীতম কে পাখি নামি/উড়ে গেলো কুয়াশায়,-কুয়াশার থেকে দূর-কুয়াশায় আরও…।




পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): “অসমতার বিরুদ্ধে লড়াই করি: দুর্যোগ সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ি” এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে র‍্যালী আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসন এর
আয়োজনে পটুয়াখালী সার্কিট হাউসের সামনে থেকে র‍্যালী বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদর্শন করে শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনা সভা ও র‍্যালিতে জেলা প্রশাসক মোঃ নূর কুতুবল আলম এর সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কাজী কানিজ
সুলতানা হেলেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক র্সাবিক শেখ আবদুল্লাহ সাদিদ, পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজের  শিক্ষার্থী ও সামাজিক  ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় পিডিএস মাঠে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর আয়োজনে দুর্যোগ কালীন মহরা প্রদর্শন করা হয়।




বাউফলে কৃষকদের মাঝে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কৃষি যন্ত্রপাতি অনুদান

 

মো:আল-আমিন,পটুয়াখালী: মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি. পটুয়াখালীর বাউফলে বিশেষ সিএসআর ফান্ডের আওতায় কৃষি যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে।

আজ শনিবার (০৭ অক্টোবর) মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এ.এস.এম, ফিরোজ আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলার বাউফল, বগা, ধুলিয়া, নওমালা, কনকদিয়া, সূর্যমনি, কেশবপুর, কাছিপাড়া, আদাবাড়িয়া ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে দশটি পাওয়ার টিলার হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোঃ কামরুল ইসলাম চৌধুরী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এগ্রিকালচার ক্রেডিট ডিভিশনের প্রধান ও এফভিপি মোহাম্মদ সফরুজ্জামান খান। মার্কেন্টাইল ব্যাংক বরিশাল শাখার প্রধান গোলাম মাওলা, ভোলা শাখার প্রধান মওদুদ আহমেদ, পটুয়াখালী শাখার প্রধান মোঃ মোসলেহ উদ্দীন, কালাইয়া শাখার প্রধান মোঃ আল মামুন, কালিশুরী বাজার উপশাখা প্রধান মোঃ আলমগীর হোসেন ও কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ০৩ আগস্ট ২০২৩ইং তারিখ উপজেলার অবশিষ্ট ৫টি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে ৫টি পাওয়ার টিলার বিতরণ করা হয়েছে।




রাঙ্গাবালীতে মাল্টা বাগানের অর্ধশতাধিক ফলন্ত গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার রাঙ্গাবালীতে রাতের আধারে ১টি মাল্টা বাগানের প্রায় অর্ধ-শতাধিক ফলন্ত গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সামুদাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বাগানটির মালিক ওই গ্রামের লিমা বেগম নামের এক নারী। সকালে তার জমির ফলন্ত মাল্টা গাছ কাটা অবস্থায় দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ভুক্তভোগী বাগান মালিক লিমা বেগম জানান, গত বছরের ৩০ জুন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্টের (এসএসিপি) সহযোগিতায় সদর ইউনিয়নের সামুদাবাদ গ্রামে তার উদ্যোগে বাবা হারুন মৃধার ৫০ শতক জমিতে এ মাল্টা বাগান করেন। ওইসময় বারি মাল্টা-১ জাতের ৬০টি মাল্টা গাছ রোপণ করা হয়। বর্তমানে গাছগুলোতে ফলও ধরেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে লিমা বেগমের বাগানটি কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, গাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা? মাল্টা গাছের কি দোষ ছিল?

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নে বাউফলে মতবিনিময় সভা  

 

মো:আল-আমিন,পটুয়াখালী: বাউফলে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্টেক হোল্ডারদের সাথে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ঝান্টা, বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ নিরু মিয়া, বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু।

সভায় বক্তারা মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা করেন এবং মতামত প্রদান করেন।

উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম নিসু, বিআরডিবি‍‍`র চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মিয়া, নদী তীরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, নৌ-পুলিশ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।




বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, সতর্কতায় মাইকিং

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  ভারতের উত্তর সিকিমে ভয়াবহ বন্যা ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশ অংশে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের অনেক বসতবাড়িতে পানি উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।