মিধিলির আঘাতে পটুয়াখালীতে ক্ষয়ক্ষতি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে পটুয়াখালীতে ঘরবাড়ি- গাছপালার তেমন ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে, আমন খেতের ধানে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করেনি কৃষি অধিদপ্তর।

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় এখন মাঠে ১ লাখ ৯১ হাজার ১১৯ হেক্টর জমিতে আমন ধান আছে। এরমধ্যে পাঁচ ভাগ ধান পেকেছে, যা কৃষক কাটা শুরু করেছে। ২০ ভাগ ধান আধা পাকা। এ ছাড়া ৭৫ ভাগ ধানের শিষে ফুল আছে, ঝড়-বৃষ্টিতে এসব শিষে চিটা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের সিকান্দার মিয়া বলেন, ‘ধানে ফুল এসেছে এই সময়ে অতিবৃষ্টি ও বাতাসের কারণে ধানের চিটা ঝরে যাবে। ধান যখন ঘরে তোলা হবে তখন ধানের বদলে চিটা বেশি পাওয়া যাবে। বর্তমানে বেশি ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় ধান পানিতে ডুবে আছে। এতে কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে পটুয়াখালীতে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে বলে জানান পটুয়াখালীর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ মাহবুবা সুখী। তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ২০১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নুর কুতুবুল আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে, বেশ কিছু গাছপালার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া আমনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।’




বরিশালের গৌরনদীতে চাম্বল গাছ থেকে ঝরছে মিষ্টি রস

বরিশাল অফিস :: অনবরত মিষ্টি রস ঝরছে চাম্বল গাছ থেকে। এঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটাকে অলৌকিক ভেবে চাম্বল গাছের রস পান শুরু করেছে গাছ দেখতে আশা দর্শনার্থীরা। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব বেজহার গ্রামের।

ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রহ্রাদ বেপারী জানান, একই বাড়ির প্রদীপ বেপারির একটি চাম্বল গাছ থেকে গত শনিবার সকাল থেকে রস বের হওয়া শুরু করে। এরপর গাছ জুড়ে মৌমাছি, প্রজাপতি ও মাছি উড়তে দেখে বাড়ির লোকজন। পরে গাছ থেকে রস বের হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পারেন। বিষয়টি মূহুর্তে এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাছটি দেখতে ভীড় করছেন। কেউ কেউ আবার এটাকে অলৌকিক ভেবে মনের বাসনা পূরণের আশায় চাম্বল গাছের রস পান শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সেকেন্দার শেখ জানান, এক ধরনের পোকার আক্রমনের কারণে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি না দেখে নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছেনা। তিনি আরও জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে বিস্তারিত বলা যাবে।




আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর

 

মো:আল-আমিন,পটুয়াখালী :  আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এই দিন রাতে উপকূলে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড় ভয়াল গোর্কি। বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি প্রাণ কাড়ে ১০ লাখ মানুষের।

ভয়াল এই দিনের কথা স্মরণ করতে গেলে আজো আঁতকে ওঠে পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন উপকূলের মানুষ। সরকারি হিসেবে বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলায় (বরগুনাসহ) সেদিন রাতে ৪৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। বাস্তাবে এ সংখ্যা লাখেরও বেশি। বর্তমান রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ, সোনার চর, মৌডুবি, বড় বাইশদিয়াসহ দ্বীপ সমৃদ্ধজনপদ পরিনত হয় জনশূন্য বিরাণ ভূমিতে।

ভয়াল এই দিনটিকে স্মরণ করতে ও দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছে কলাপাড়াবাসী নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায় কলাপাড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এসময় কলাপাড়াবাসীর সভাপতি নজরুল ইসলাম, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নেছার উদ্দিন আহমেদ টিপু ও কলাপাড়া সম্মিলিত নাগরিক ঐক্য জোটের সভাপতি সৈয়দ রেজা সহ কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

এদিকে দিনটি উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ছবি সম্বলিত ব্যানার পোস্ট করেছেন।

কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, এই দিনে আমি আমার বাবাসহ পরিবারের ১২ জনকে হারিয়েছি। আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। এই দিনটির কথা মনে উঠলে আমি আজও আঁতকে উঠি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শুধু মাত্র একটি কাঠের টুকরা ধরে বেঁচেছিলাম। আমার পাশ থেকে অনেক মানুষ এবং গবাদি পশুর মৃতদেহ ভেসে গেছে। আমরা এই দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।




হিমালয়ের দুর্গম চূড়ায় বাংলাদেশ

 

বাংলাদেশের ক্লাব বিএমটিসির দুই অভিযাত্রী এম এ মুহিত এবং কাজী বিপ্লব হিমালয়ের ২০ হাজার ৩০০ ফুট উঁচু দুর্গম চূড়া ‘ফার্চামো’তে সফলভাবে আরোহণ করেছেন।

শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টায় ‘ফার্চামো’এ পর্বতচূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেন। দলের আরেক সদস্য নুরুননাহার নিম্নি অসুস্থতাজনিত কারণে সামিট সম্পন্ন করতে পারেনি।

এর আগে বাংলাদেশের পর্বতারোহী দল গত ২৪ অক্টোবর নেপালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। ২০ হাজার ৩০০ ফুট উঁচু ‘ফার্চামো’ পর্বতশিখর এভারেস্ট-এর দক্ষিণ-পশ্চিমে নেপালের রোলওয়ালিং হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত। এ অভিযানের দলনেতা এম এ মুহিত দুই বার এভারেস্ট আরোহণ করেছেন। ‘ফার্চামো’ পর্বতশিখর অভিযানটি পরিচালনা করছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং স্পনসর করছে ইস্পাহানি টি লিমিটেড। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড ২০ শতাংশ ছাড়ে অভিযাত্রীদের ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা বিমান টিকিট দিয়েছে।




বন্ধ দূরপাল্লার বাস- পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

মো:আল-আমিন,পটুয়াখালী: বিএনপির ডাকা দ্বিতীয় দফা অবরোধের প্রথম দিনে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ও ১, ২ নভেম্বরের অবরোধে পর্যটক ছিলো না কুয়াকাটায়। এতে লোকসানে পড়েছে ব্যবসায়ীরা।

রোববার (৫ নভেম্বর) সকালে সমুদ্র সৈকতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকজন পর্যটক রয়েছেন। ফাঁকা পড়ে আছে ছাতা বেঞ্চি। অলস সময় কাটাচ্ছেন ফটোগ্রাফার, স্পিডবোট চালক, আচার ব্যবসায়ী, কসমেটিক্স ও শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। হোটেল মোটেলের কক্ষ বুকিং না থাকায় প্রায় ২ শতাধিক কর্মচারীরাও পার করছেন অলস সময়। এতে বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে দাবি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

এদিকে সকাল থেকে পটুয়াখালীর অভ্যন্তরীন রুটের যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রী সংকটে বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দূরপাল্লার বাস। তবে বাসস্ট্যান্ড সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ সদস্য।

কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন কসমেটিক্স ব্যবসায়ী নাসির মিয়া জানান, শুক্রবার ও শনিবার কিছু বিক্রি ছিলো। তবে আজ পর্যটক না থাকায় কোন বিক্রি নেই। কিন্তু দোকান ভাড়া ও কারেন্ট বিলসহ আনুসঙ্গিক খরচ করতেই হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা বড় লোকসানে পড়বো।

কুয়াকাটা সৈকতের ফটোগ্রাফার জুলহাস মিয়া বলেন, এমনিতেই রোববার সৈকতে কম পর্যটক থাকে। তারপর উপর অবরোধের কারণে কোনো পর্যটকই নাই। সকাল থেকে ক্যামেরা নিয়ে ঘুরতেছি। কোন ইনকামই করতে পারিনি।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, আমাদের প্রায় দুই শতাধিক হোটেল মোটেলে দেড় হাজারেরও বেশি কর্মচারী রয়েছে। অবরোধের কারনে গেষ্ট না থাকায় এসব কর্মচারীদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। গত দুই দিনের অবরোধে আমাদের ব্যাপক লোকসান হয়েছে। আজও সব হোটেল ফাঁকা। এভাবে অবরোধ থাকলে আমরা হোটেল মোটেলের কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিতে পারবো না।

মহিপুর থানার ওসি ফেরদৌস আলম জানান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।




মাছ চাষে সফল শিক্ষক

বরিশাল অফিস: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস গাজী, পেশায় একজন শিক্ষক। অবসর সময়ে শখের বসেই শুরু করেছিলেন মাছ চাষ। কিন্তু কোনো প্রশিক্ষণ না থাকায় শুরুতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পরে অভিজ্ঞ মাছচাষিদের সংস্পর্শে গিয়ে এবং নিজের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মাছ চাষ আয়ত্তে আনেন। এখন তিনি একজন সফল মাছচাষি। বছরে প্রায় কোটি টাকার মাছ বিক্রি করেন, যা থেকে বছরে তার আয় থাকে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসে তার আয় প্রায় ২ লাখ টাকা।

জানা যায়, স্থানীয় মিরাবাড়ি ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন ইদ্রিস গাজী। ২০১৫ সালে প্রথমবার মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু প্রথম তিন বছর তার লোকসান হয়। ২০১৮ সালে পাশের জেলার চাষিদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। তখন থেকে লাভের দেখা শুরু করেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার ৯টি পুকুরে চাষ হয় পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, রুই, পুঁটি, সিলভার কার্প, মিনার কাপ, নাইলোটিকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এসব পুকুর দেখাশোনায় ১০ জন কর্মচারী রেখেছেন।

ইদ্রিস গাজী বলেন, ‘প্রথমে ঘের শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রোগ হয়ে মাছ মারা যায়। পরে বিভিন্ন কোম্পানির চিকিৎসকের পরামর্শ নিই। এখন কাজ করতে করতে অভিজ্ঞতা হয়েছে। ৯টি পুকুর থেকে বছরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। এখান থেকে সব বাদ দিয়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় থাকে।’

তবে ইদ্রিস অভিযোগ করেন, স্থানীয় মৎস্য অফিস থেকে তিনি কোনো সহায়তা পাননি। মাছ চাষ বিষয়ে কোনো পরামর্শ পেলে আরও বেশি মাছ উৎপাদন করতে পারতেন বলে জানান। এছাড়া বছরে কয়েকবার মাছের খাদ্যের দাম বেড়েছে। মাছের খাদ্যের দাম কমানোর জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ইদ্রিসের মাছের খামারের পরিচালক বশির শেখ বলেন, ‘প্রথমে রেণু পোনা এনে ছোট পুকুরে ৩ থেকে ৬ মাস রেখে পরিচর্যা করা হয়। ৬ ইঞ্চি মাছ হলে অন্য পুকুরে চলে আসে। এরপর ৬ মাস পরিচর্যা করার পর মাছের ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি হলে বাজারজাত করা শুরু হয়।’

পরিচর্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাছকে দুই বেলা খাবার দিতে হয়। মাছের খাবার আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকলে সকাল-বিকাল খাবার দেওয়া হয়। ঝড়, বন্যার সময় খাবার বন্ধ রাখা হয়।’

খামারের শ্রমিক আনোয়ার গাজী বলেন, ‘মাছের অর্ডার বেশি এলে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক ভোরে পুকুর থেকে মাছ ধরেন। অর্ডার কম থাকলে ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক মাছ ধরেন। প্রতি জন শ্রমিকের ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি দিতে হয়।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ইদ্রিস গাজী একজন সফল মাছচাষি। তিনি মাছ চাষ করেই সফল হয়েছেন। মাছচাষিরা পরামর্শ চাইলে তাদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’




কৃষক হত্যাকারীদের ক্ষমতায় না চাইলে নৌকায় ভোট দিন: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল অফিস: কৃষক হত্যাকারীদের ক্ষমতায় না চাইলে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম।

শনিবার (০৪ নভেম্বর) বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের রবি মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মসুর ও খেসারি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, ১৯৯৫ সালে যখন বিএনপির সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখন দিনাজপুরের কৃষক ভাইয়েরা সারের দাবি করেছিল। আর সেই সময়কার সরকার কৃষক ভাইদের ওপর তখন গুলি চালিয়েছিল এবং প্রায় ১৮ জন কৃষক ভাইয়ের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। পক্ষান্তরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গুলি তো চালায় না বরং আপনারা যাতে ভালোভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারেন, সার অল্প টাকায় কিনতে পারেন এজন্য ভর্তুকি দিচ্ছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষির ওপর সবসময় জোড় দিতেন মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর দিক নির্দেশনা এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আজ কৃষি নির্ভর দেশ। দেশের কৃষক ভাইয়েরা যাতে ফসল উৎপাদন করতে পারেন এবং সঠিক মূল্যটা পান সেদিকে প্রধানমন্ত্রী নজর দিয়েছেন। শুধু কৃষির জন্য যে সকল সার প্রয়োজন হয়, তার জন্য সরকার প্রতিবছর ভর্তুকি দেয়। প্রতিবছর প্রায় ২৬ হাজার ৫৫ লাখ টাকা ভর্তুকি দেয় সরকার। অতীতে কোনো সরকার এত ভর্তুকি দিয়ে কখনোই কৃষক ভাইদের কাছে সার ও বীজ পৌঁছে দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষি নির্ভর দেশ আবার আমাদের জনসংখ্যাও বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষি জমির ওপর প্রভাব পড়ছে। কৃষি জমির পরিমাণ যাতে কমে না যায় সেজন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আমাদের এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা যাবে না। এছাড়া কৃষিকাজের ওপর জোড় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চলমান রয়েছে। যে গবেষণায় নতুন নতুন ধানের জাত আবিষ্কার হওয়ার মধ্য দিয়ে এর উৎপাদনও বাড়ছে।

এসময় তিনি কৃষকদের তাদের কাজের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন আপনারা তত আর্থিকভাবে ভালো থাকবেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালো থাকবেন। পদ্মা সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে বরিশাল থেকে এখন ঢাকায় নিয়েও ফসল করে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মধু ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম ভৌমিক প্রমুখ।




বাউফলে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু

বরিশাল অফিস: পটুয়াখালীর বাউফলে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান উদ্বোধন হয়েছে। আজ ২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অভিযানের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম।

এ সময় ইঁদুর নিধনের বিষয়ে সভায় বিশদ আলোচনা করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘ইদুরের দিন হবে শেষ গড়বো সোনার বাংলাদেশ’। এ সময় কৃষকদের মাঝে ফলের চারা ও লাউবীজ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ খায়রুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা কৃষি অফিসার অনিরুদ্ধ দাস, উপজেলা উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তাগন। সাংবাদিক হারুন অর রশিদ খান, আরেফিন শহিদ, নাজিম উদ্দিন ও সুবিধাভোগী কৃষক প্রমুখ।




ইলিশ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ আজ, দক্ষিণাঞ্চলের জেলে পল্লীগুলোতে উৎসবের আমেজ

 

বরিশাল অফিস : ২২ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। তাই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা।

সাগরে যাওয়ার জন্য দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে বরিশাল ,ভোলা,বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার জেলেরা জাল বুনন, ট্রলার মেরামত ও পুরাতন জাল রিপুসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে জেলে পল্লীগুলোতে । সাগরে কাঙ্খিত মাছের দেখা পেলে নিষেধাজ্ঞাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে যাবে বলে দাবি জেলেদের।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে মৎস্য শ্রমিকদের মধ্যেও। উপকূলীয় জেলা বরগুনার প্রত্যন্ত জেলেপল্লিতে দম ফেলার ফুরসত নেই কারও। সমুদ্রযাত্রার জন্য রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সবাই।

বরগুনা পাথরঘাটার জেলে আনোয়ার হোসেন চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, ‘পোলাপান লইয়া খুব কষ্টে দিন কাটাইছি। এবার সিজন ভালো যায় নায়। নিষেধ শ্যাষ অইছে এহন আবার সাগরে যামু। আল্লায় যদি মাছ পোনা দুগ্গা দেয় তয় খাইয়া পইড়্যা বাইচ্চা থাকতে পারমু আনে।

বরগুনা পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আবার সরগরম জেলেদের পদচারণায়। ট্রলার, জাল, বরফ বাজার সওদা নিয়ে প্রস্তুত জেলেরা।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতিজেলে পল্লীগুর সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, অভাব-অনটনসহ রোগে-শোকে পড়ে হাজার হাজার জেলে এখন বিপর্যস্ত। এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে আরও কঠিন সময় পার করেছে উপকূলের জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় গভীর সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।




ঝালকাঠিতে জেলেদের হামলায় আহত ৯, থানায় মামলা

বরিশাল অফিস: ঝালকাঠির জেলার রাজাপুরে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষা অভিযানে জেলেদের হামলায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন সহ ৯জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের চর পালট এলাকায় ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় ট্রলার নিয়ে ইলিশ রক্ষা অভিযানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে বিশ খালি নদীতে ট্রলার নিয়ে অভিযানে নামে ৭জনের একটি দল। এ সময় নদীতে অবস্থানরত ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি জেলেদল কর্মকর্তাদের ট্রলার ঘিরে ফেলে এবং অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন, মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের তিনজন কর্মকর্তা, দুইজন আনসার সদস্য, একজন ইউনিয়ন সমাজকর্মী, ট্রলারের চালক ও হেলপারসহ ৯জন আহত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা বিষ খালি নদী থেকে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছার বাদী হয়ে রাতেই ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০-৩৫ জনের নামে রাজাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।