নৌকা মার্কা প্রার্থী রাশেদ খান মেননকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলামের সমর্থন

বরিশাল অফিস :: আসন্ন দাদ্বশ সংসদ নির্বাচনে বরিশাল ২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মো: মনিরুল ইসলাম নৌর্কা মার্কার প্রার্থী রাশেদ খান মেননকে সমর্থন জানিয়ে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যহার করেছেন।

আজ ( ৪ রা জানুয়ারি ) বরিশাল জেলার উজিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এক নৌকা প্রার্থীর গনমিছিল পরবর্তী সভায় উপস্থিত থেকে তিনি এ সমর্থন জানান।

মুক্তিযোদ্ধের সপক্ষের শক্তির পক্ষে সকলকে
ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে আগামী ৭ তারিখ সকলকে নৌকা মার্কায় ভোটা দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত সাংসদ লুতফুল্লেসা খান বিউটি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য আনিসুর রহমান,স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ আল হাসান, উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বেপারী, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা, উজিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সীমা রানী শীল প্রমূখ। এছারাও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




বরিশালে বর্ষা মৌসুম শেষ হবার আগেই ওই নার্সারীতে মালটার চারা শেষ হয়ে যায়।

বরিশাল অফিস :: ভালমানের চারা রোপন সহ সঠিক বালাই ও সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে দু বছরের মাথায়ই প্রতিটি গাছে বছরে ২শ’র ওপরে মালটা ধরে থাকে। তবে ভিয়েতনামী মালটায় বছরে দু,বার ফলন আসায় এর আবাদ আরো বেশী লাভজনক বলে জানা গেছে। বরিশালের বাজারে খুচরা পর্যায়ে মৌসুমের শুরুতে এবার দেশী মালটা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শেষে তা ১৪০ থেকে দেড়শ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে কৃষক পর্যায়ে পাইকাররা মৌসুমের শুরুতে ৪০ টাকায় এবং শেষ পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা দরে মালটা কিনছেন।কৃষিবিদদের মতে সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতিটি গাছ থেকে মৌসুমে ৪০ কেজি পর্যন্ত মালটা উৎপাদন সম্ভব। এতে করে প্রথম বছরেই জমি তৈরী, চারা সংগ্রহ এবং সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা সহ পরিচর্র্যার ব্যয় তুলে আনা সম্ভব। তবে আরো কিছুটা ভাল দাম পেলে উৎপাদকদের জন্য তা যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক হতে পারে বলেও মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদরা।

চারা ও কলম সহজলভ্য করা সহ আবাদ প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে না পৌঁছায় এখনো দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক পর্যায়ে মালটার আবাদ সম্পর্কে যথাযথ বার্তা পৌঁছছে না বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। তবে এ ফল আবাদ যতটা সম্প্রসারণ হবার কথা, ততটা না হলেও গত ২-৩ বছরে পরিস্থিতির আশাব্যঞ্জক উন্নতি হয়েছে বলে ডিএই’র বরিশাল কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানিয়েছেন।




বরগুনায় পতিত জমিতে পেঁপে চাষে সাফল্য

বরিশাল অফিস :: বরগুনায় বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে সফলতা পেয়েছে তালতলী উপজেলার বড়োবগী ইউনিয়নের নয়ভাই জোড়া আগা ঠাকুরপাড়া গ্রামের রাখাইন সম্প্রদায়ের সুইতেন। ছয় মাসে তার শখের পেঁপে বাগান থেকে আয় হয়েছে কমপক্ষে ১ লাখ টাকার বেশি।

জানা যায়, বাবা- মা স্ত্রী- বাচ্চা নিয়ে ভালোই চলছিল সংসার। তবে ২০২১ সালে ‘করোনা ভাইরাস’ এর মুহূর্তে প্রোজেক্টটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সুইতেন এর চাকরিটা না থাকায় তিনি বেকার হয়ে পড়েন তাই বাড়িতে ফিরে আসেন।

বাড়িতে আসার পর কিছুদিন ভালোই কাটছিল বাবা-মায়ের সঙ্গে, তবে হঠাৎ করে বাবা মারা যায়। এরপর পুরোপুরি একা ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন তিনি। কিছুদিন পরে তিনি ২০২২ সালে তার পতিত জমিতে পেঁপে বাগান করার সিদ্ধান্ত নেন।

২০২৩ এর শুরুতে বগুড়া হতে উন্নত জাতের ২০০ গাছ লাগিয়ে দেখাশোনাসহ যত্ন নিতে থাকেন। এরপর পরিপূর্ণ হলে পেঁপেগুলো বাজারজাত করে বেশ ভালো মূল্য পেয়ে সুইতেন এর মুখে সফলতার হাসি ফুটে।

এখন বিভিন্ন ধরনের সবজি লাগানো শুরু করেছেন এবং সামনেও আরও যত ধরনের সবজি আছে সেগুলো লাগাবেন বলে সুইতেন জানিয়েছেন।

সুইতেন বলেন, আমি পুরোপুরি একা ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে পেঁপে বাগান করে ২০২২ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পেঁপে বিক্রি করে লাখ টাকা লাভ করেছি।

আমার পেঁপে বাগানে এখনও যে পরিমান পেঁপে আছে তা বিক্রি করেও কমপক্ষে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।

যারা বেকার আছেন তাদের প্রতি আহ্বান, অন্যের মুখাপেক্ষি না হয়ে বাড়ির পতিত জমিতে পেঁপে চারা রোপণ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করুন।

বরগুনার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শস্য) এস এম বদরুল আলম বলেন, আমরা সুইতেন এর বাগান পরিদর্শন করেছি।

তার আগ্রহ, চেষ্টা ও ধারাবাহিকতায় আজ তিনি পেঁপে চাষে সফলতা অর্জন করেছে। তাকে অনুকরণ করে অনেকেই পেঁপে চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

আমরা কৃষি বিভাগ সবসময়ই তার পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। নতুন যারা আগ্রহ পোষণ করবে তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়ে অবশ্যই তাদের পাশে থেকেও কৃষি বিভাগ সবসময় সহযোগিতা করবে সব সময়।




উপকূলে তীব্র শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): তীব্র শীতে কাপঁছে দক্ষিণের জনপদ। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে মৃদু হিমেল হাওয়া। আজ সকাল ৯টায় জেলার কলাপাড়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে ভোগান্তিতে পড়েছের নিম্ন আয়ের মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন গভীর সাগরে মাছ শিকাররত জেলেরা।

এদিকে জেলার সব হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। ডিসেম্বর মাসজুড়ে শীত আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস।

কলাপাড়া পৌর শহরের রিকশাচালক ইয়াকুব মিয়া বলেন, গত দুই দিন ধরে শীত পড়ছে। সকালে এবং রাতে রিকশা চালালেই শীতে কাঁপুনি ওঠে। তারপরও পেটের টানে চলতে হয়। কিন্তু সকালে ও রাতে যাত্রী অনেকটা কম থাকে।

একই এলাকার লঞ্চঘাটের ভ্যানচালক মানিক মিয়া বলেন, যেমন কুয়াশা তেমনি শীত পড়ছে।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, ঘন কুয়াশা এবং শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এই মাসজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে শীত।




শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অগ্রহায়ণের শেষদিকে সারা দেশে শীত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উত্তরাঞ্চলে। সোমবার নওগাঁর বদলগাছীতে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বুধবার থেকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে আসবে। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি বজায় থাকবে।

এ সময়ে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও ঢাকায় তীব্র শীত অনুভূত হবে। কারণ, এ সময়ে রাজধানীতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে আসবে। আবহাওয়া অফিস সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৩ থেকে ১৮ ডিসেম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। এ সময়ে দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, গাইবান্ধা, যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে আসবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের পর থেকে গত কয়েকদিনে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় শীত বেড়েছে। এ সময়ে ঢাকায় রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমেছে।




খাল খননে উপকৃত হবে দেড় হাজার একর জমি, বাচঁবে কৃষক

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের খুদুরী ও ভাঙ্গর খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার একর ফসলি জমি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ওই ইউনিয়নের কৃষকরা। ওই খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনসহ শুকনো মৌসুমে ক্ষেতে পানি সরবরাহ করে থাকে। দীর্ঘ বছর ধরে খননের অভাবে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে খালটির। বিভিন্ন জায়গায় সংকোচিত ও ভরাট হয়ে গেছে।

আবার ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পুকুর হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রায় ৪ কিলো মিটার লম্বা ও ৪০ ফুট প্রশস্থ ওই খালটি খনন করলে এক থেকে দেড় হাজার একর জমির কৃষকরা উপকৃত হবে বলে দাবি জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের লালুয়া ও গোলবুনিয়া মৌজার খুদুরী ও ভাঙ্গর খালটি দীর্ঘবছর ধরে অবহেলিতভাবে পড়ে আছে। বিভিন্ন জায়গা দখল করে রেখেছে ভূমিদস্যুরা। যার যার বাড়ির সামনে দখল করে পুকুর হিসেবে তা ব্যবহার করছে। এতে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার একর জমির কৃষকরা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের অভাবে তলিয়ে যায় ফসলি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্থানীয় কৃষক। নষ্ট হয় কৃষি ফসল। অতিদ্রুত খালটি খনন করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় একাধিক কৃষক বলেন, খালটি খননের অভাবে কৃষি পণ্য উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে মাত্র দুই তিন ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই সমস্ত বিল তলিয়ে যায়। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অথচ নদীর স্লুইজ মুখ পর্যন্ত খালটি খনন করে দিলে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার একর জমি এ ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিসার এ.আর.এম সাইফুল্লাহ বলেন, খুদুরী ও ভাঙ্গর খালটিসহ উপজেলার অনেকগুলো খাল খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা খুব শিগগিরই এ খালগুলোর খনন কাজ শুরু করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, খুব শিগগিরই খালগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে খালগুলো খনন ও পুন: উদ্ধারের বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সহায়তা কামনা করেন।




সমুদ্রে প্লাস্টিক, কচ্ছপ ও ডলফিন শিকার না করার অঙ্গীকার

বরিশাল অফিস: সমুদ্রে মাছ শিকারে সাগরে প্লাস্টিক ও ছেড়া জাল না ফেলার অঙ্গীকার করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিশ্ব মৎস্য দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কলাপাড়ার আলিপুর মৎস্য বন্দর সভা কক্ষে সামুদ্রিক মৎস গবেষণা সংস্থা ইকোফিস-২ এই দিবসটির আয়োজন করে।

পটুয়াখালী ইকোফিস-২’র সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি সমুদ্র প্লাস্টিক ও ছেড়া জাল ফেলায় ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। সমুদ্রে ছেড়া জাল ফেলায় সামুদ্রিক কচ্ছপ, ডলফিন মারা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। একই সাথে নিষিদ্ধ জল ব্যবহার বন্ধে নৌ-বাহিনী ও কোষ্টগার্ড সদস্যদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় কলাপাড়া উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান, কুয়াকাটা নৌ পুলিশের এসআই তাপস কুমার সরকার, নিজামপুর কোষ্টগার্ড স্টেশনের কর্পোরাল হুমায়ুন কবিরসহ সমুদ্রগামী জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ব্লুগার্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড়ে আমন খেতের ব্যাপক ক্ষতি

বরিশাল অফিস : পিরোজপুরের কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় মিথিলায় আমন ধান, শীতকালীন সবজি সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার সহ¯্রাধিক কৃষক এখন তাদের লাগানো ফসল নিয়ে চিন্তিত। বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কাচা, পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর আমন ধানের ভিতরে প্রায় ৪ শত ৫০ হেক্টর আমন ধান, প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে সবজি ও প্রায় ২৫ সেক্টর জমিতে খেসারি ডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার ১ হাজার ১২ শত কৃষক ঘূর্ণিঝড়ে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট বিড়ালজুরি গ্রামের কৃষক আনোয়ার হাওলাদার জানান, তিনি তিন একর জমিতে লোকাল আমন ধান চাষ করেছে তার ভিতরে ৩৩ শতাংশ আমল ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার মাগুরা গ্রামের সবজি কৃষক নাজির হোসেন জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির অর্ধেক পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা দাস বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি পাকা ধান কেটে নেওয়ার জন্য। এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে আবারও বীজ বিতরণ করা হবে। এছাড়াও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আশা করি এই দুর্যোগ আমরা মোকাবেলা করতে পারব।




ঘুর্ণিঝড় মিধিলির তান্ডবে বরগুনায় ৫০ লক্ষ কাঁচা ইট নষ্ট, ১১ ঘর বিধ্বস্থ

বরিশাল অফিস: ঘুর্ণিঝড় মিধিলির তান্ডবে আমতলী উপজেলায় ৫০ লক্ষ কাঁচা ইট নষ্ট, ১১ কাঁচা ঘর বিধ্বস্থ, হাজারখানেক গাছপালা, আমন ধানের ক্ষেত, সবজি ও পান বরজ ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। আর্থিক সহায়তার দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

জানাগেছে, ঘুর্ণিঝড় মিধিলি আমতলী উপজেলায় বেশ তান্ডব চালায়। এতে উপজেলার ২১টি ইটভাটার ৫০ লক্ষ কাঁচা ইট নষ্ট, ১১ কাঁচা ঘর বিধ্বস্থ, ২৩৪ হেক্টর আমন ধানের ক্ষেত, ৭৬ হেক্টর সবজি, ৪৫০ হেক্টর খেসারী ডাল ও ৫ হেক্টর জমির পান বরজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে অন্তত ৫ কোটি ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

উপজেলার অর্ধ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ঈশা। রেইন্টি, চাম্বল ও মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজারখানেক গাছ উপড়ে পরায় অন্তত ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ। চাওড়া চন্দ্রা গ্রামের বশির বয়াতির গোয়াল ঘরে গাছ পড়ে দুইটি গরু মারা গেছে। এতে তার অন্তত এক লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ইটভাটার মালিকরা জানান, বছরের শুরুতেই কাঁচা ইট বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলে অন্তত ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। ক্ষতিগ্রস্থরা দ্রুত আর্থিক সহায়তার দাবী জানিয়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, ঘর আংশিক ও সম্পূর্ন বিধ্বস্থ হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পরেছে। ইটভাটার ইট বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। আমন ধানের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পরেছে।

আমতলী পৌর শহরে হাসপাতাল এলাকার বলাই ব্যাপারী ও মিল্টন ব্যাপারী বলেন, ঘরের ওপরে চাম্বল গাছ উপড়ে পরে ঘর ভেঙ্গে গেছে।

পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, ঘুর্ণিঝড় মিধিলির তান্ডবে আমন ধানের গাছ মাটিয়ে লুটিয়ে পরেছে। ওই জমির ধান চিটা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেশী।

বশির বয়াতি বলেন, আমার গোয়াল ঘরে গাছ পড়ে দুইটি গরু মারা গেছে। জিমি ইটভাটার মালিক আবুল বাশার নয়ন মৃধা বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে ৭ লক্ষ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। এতে অন্তত ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আমতলী ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র নাজমুল আহসান নান্নু বলেন, ঘুর্ণিঝড় মিধিলির তান্ডবে উপজেলার ২১টি ইটভাটার অন্তত ৫০ লক্ষ কাঁচা ইট বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করে প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তা করা হবে। তিনি আরো বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।




৭ জনের প্রাণ কাড়ল ‘মিধিলি’, বাড়িঘরের সঙ্গে আমনের ক্ষতি: বেশি পিরোজপুর ও পটুয়াখালীতে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিতে দেয়াল ধসে, গাছের ডাল ভেঙে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় হাজারের বেশি কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি টানা বৃষ্টির কারণে উঠতি আমন ফসলও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর।

শুক্রবার যেসব স্থানের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে তার মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় বড় বড় গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইনে গাছ উপড়ে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-সিলেট তথা পূর্বাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল প্রায় দুই ঘণ্টা।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় অনেক জায়গা দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে বিকালে দেশের মোট চাহিদা অন্য দিনের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসে।

উপকূলের চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। টানা বৃষ্টির মধ্যে সরকারি ছুটির দিনে রাস্তায় যানবাহন ও মানুষজনের আনাগোনা ছিল একেবারেই কম।

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে গত ১৪ নভেম্বর একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে সেই ঘূর্ণিবায়ুর চক্র ১৫ নভেম্বর নিম্নচাপে পরিণত হয়। তারপর বাঁক নিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে বৃহস্পতিবার পরিণত হয় গভীর নিম্নচাপে। পরে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।

ওই অবস্থায় মোংলা ও পায়রা বন্দরকে সাত নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরের ছয় নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়। শুক্রবার বেলা ১টার দিকে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার কাছ দিয়ে মোংলা-পায়রা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’।