পটুয়াখালীতে আমনের দামে কৃষকের হাসি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে এ বছর আবাদ কম হলেও কাঙ্ক্ষিত দামে আমন ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষক। গত বছরের তুলনায় এ বছর মণ প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে আমন ধান বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ধানের হাট-বাজার পরিদর্শন করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গত কয়েক বছর ধরে জেলার আমন চাষীরা ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছিলেন না। মৌসুমে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচও ঘরে তুলতে পারেননি অনেকে। তবে এবারের চিত্র আলাদা। গত কয়েক বছরের তুলনায় মণ প্রতি আমন ধান ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এরকম দামে ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষকেরা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে স্থানীয় কৃষকরা ধান ডিজিটাল স্কেলে মেপে বস্তাভর্তি করছেন। আবার বিক্রির জন্য অনেক কৃষক ধানের বস্তা রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে রেখে দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ ধান কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যান।

ধানখালী গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘গত বছর আমন ধান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে। তাতে আমাদের উৎপাদন খরচ ওঠেনি। প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ কমপক্ষে ৮০০ টাকা। তবে এবারের অবস্থা ভালো। আমার ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে পারছি।’

তিনি জানান, এ বছর ৬ একর জমিতে তিনি ধান উৎপাদন করেছেন।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি ৫ একর জমিতে আমন উৎপাদন করেছি। পরিবারের সারা বছরের জন্য প্রয়োজনীয় চাল রাখার পরও লক্ষাধিক টাকার ধান বিক্রি করতে পেরেছি।’

বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ গ্রামের কৃষক মোতালেব খান জানান, আমন ধানের দাম এবার খুবই ভালো। এরকম দাম পেলে আমাদের লোকসানে থাকতে হবে না।

স্থানীয় বাজারে শুরু থেকেই আমন ধানের দাম ভালো ছিল বলে জানান কুষ্টিয়া থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী আবুল হাসেম।

তিনি জানান গত বছর ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে আমন ধান বিক্রি হয়েছে। তবে এ বছর ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় ধান কিনতে হচ্ছে।

এখান থেকে ধান কিনে কুষ্টিয়ার রাইস মিলগুলোতে সরবরাহ করা হয় এবং সেখান থেকে উৎপাদিত চাল দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়, জানান হাসেম।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও গেল বছর কয়েক দফা বন্যার কারণে ধানের আবাদ কম হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে।

তিনি আরো বলেন, কৃষকরা এ বছর আমন ধান বিক্রি নিয়ে খুশি। গত কয়েক বছরে ধানের দাম না পাওয়ার কারণে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছিল। কিন্তু এবার কৃষকদের সেই হতাশা কেটে গেছে।

এ বছর জেলায় মোট ২ দশমিক ০২ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে এবং এতে ৪ দশমিক ৩৭ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।




অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনার চর

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : বাংলাদেশের অপার এক সৌন্দর্যের নাম সোনার চর। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা অপরূপ প্রাকৃতিক এক লীলাভূমি।

পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার দক্ষিণে সীমান্ত ঘেঁষে এই চরের অবস্থান। ১০ হাজার একর আয়তনের চরটি দুর্গম হলেও প্রকৃতিক সৌন্দর্যের কমতি নেই।

সুন্দরবন বা কুয়াকাটা নামের পেছনে যেমন একটি গল্প আছে, তেমনি সোনার চরের নামের পেছনেও কারণ আছে। চরটি সোনা দিয়ে তৈরি না হলেও সূর্যের প্রখর রোদ যখন বালুর ওপর পড়ে তখন সোনার মতোই মনে হয়। লোকের মুখে মুখে নামটি জনপ্রিয়তা পায়। ফলে একসময় এটি প্রশাসনিক নামে রূপ নেয়।

পটুয়াখালী প্রশাসনের ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, ২০০৪ সালে বঙ্গোপসাগরের কোল জুড়ে জেগে ওঠে চরটি। আয়তনের দিক থেকে সুন্দরবনের পরেই এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশাল সমুদ্র সৈকত। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ২০ হাজার ২৬ হেক্টর আয়তনের এই বনভূমিকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর থেকেই বনায়ন শুরু করে বন কর্তৃপক্ষ।

ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে সোনারচর নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার। যেতে যেতে দেখতে পাবেন সাগরের অপরূপ দৃশ্য। ছোট-ছোট নৌকা চলছে বড়-বড় ঢেউয়ের তালে। বিভিন্ন ধরনের জাল ফেলে মাছ ধরছে জেলে। সাগর থেকে আসা খালগুলোতে মাকড়শার মত অসংখ্য ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরছে শিশুরা। সাগরে যখন জোয়ারের জল উথলে ওঠে তখন চাঁদের আলোয় অন্য এক সৌন্দর্যে রূপ নেয় সোনার চর।

দূর থেকে চরের ওপর বনের দৃশ্য অবাক করার মতো। একটু কাছাকাছি গেলে সহজেই চোখে পড়বে মেছো বাঘ, বুনো মোষ, হরিণ, শূকর, বানরসহ আরো সব বন্য প্রাণী। এছাড়া গাছে গাছে নানা ধরনের পাখিদের দেখা মেলে। যাদের কলকাকলিতে নিশ্চয়ই আপনি মুগ্ধ হবেন।

এসব দেখতে হলে খুব সকালেই বেরিয়ে পড়তে হবে নৌকা নিয়ে। সৈকতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যাবে সূর্যাস্ত কিংবা সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য। এখানে রয়েছে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। তীরে আছড়ে পড়ছে ছোট-বড় ঢেউ।  ঝুরঝুরে বালি গলে পড়ছে নোনা জলে।

সৈকতে বিচরণ করছে লাল কাঁকড়া। কাঁকড়ার এ প্রজাতি সামুদ্রিক হলেও চরের বালুমাটিতে বাস করে। বালুর গভীরে নিজেদের তৈরি সুড়ঙ্গে দলবেঁধে চলাচল করে। জোয়ারের পানিতে সৈকত যখন ডুবে যায়, তখন এরা সুড়ঙ্গে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। এছাড়া চোখে পড়বে ডানা ঝাপটানো নাম না জানা পাখির দল। তাদের কিচির-মিচির শব্দে সন্ধ্যার পরিবেশটুকু উপভোগ করা যাবে নিজের মতো করে। এছাড়া দেখতে পাবেন সমুদ্রগামী হাজারো জেলের জীবন সংগ্রামের দৃশ্য। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর সবুজ প্রকৃতির এমন নিরিবিলি জায়গা সহজে কোথাও পাওয়া যাবে না।

এটি যেহেতু রিজার্ভ বন, তাই আপনি এখানে বাইরের লোক। বণ্যপ্রাণীদের বিরক্ত করলে তারাও হিংস্র হয়ে উঠবে- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আর আবহাওয়ার পরিবর্তন সমুদ্রকে আরও ভয়াল করে তুলতে পারে। তাই এখানে গেলে শীতের সময় সবচেয়ে ভালো। এর পাশাপাশি অবশ্যই আবহাওয়ার তথ্য জেনে যেতে হবে। ক্যাম্পিং-এর বিকল্প ব্যবস্থাও ভেবে রাখতে হবে। সমুদ্র তীরে বিপদ সংকেত আছে কিনা খেয়াল রাখুন। খেয়াল না করলে কক্সবাজারের মতো আপনাকে সতর্ক করতে এখানে কেউ ছুটে আসবে না। এমনকি বিপদে পড়লে উদ্ধার বাহিনী আসতেও অনেক সময় লাগবে।

পর্যটন শিল্পে এখন প্যাকেজ ট্যুরের বিষয়টি বেশ পরিচিত। পারিবারিকভাবে তো বটেই, সবাই মিলে একসঙ্গে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াবার মজাও কিন্তু কম নয়। ঢাকা থেকে আসা বেশির ভাগ পর্যটকই এই জেলার আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এসে ঘুরে চলে যান। কিন্তু সোনার চর, রূপার চর, চর মৌডুবী, জাহাজমারা, তুফানিয়া, চর ফরিদ, শিপচরসহ সমুদ্রফুঁড়ে জেগে ওঠা সবুজ বনাঞ্চলের সন্ধান জানেন না অনেকেই।

দ্বীপগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করলে দেশের পর্যটন শিল্পে যোগ হবে নতুন মাত্রা। তাই বনাঞ্চলকে পর্যটনমুখী করতে আগে দরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এর সাথে নির্মাণ করা জরুরি হোটেল-মোটেল। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে কিংবা সড়কপথে পটুয়াখালী যাবেন। সেখান থেকে গলাচিপা উপজেলা সদর হয়ে সড়কপথে দক্ষিণে পানপট্টি লঞ্চঘাট। লঞ্চঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে আগুনমুখা মোহনা পেরিয়ে দক্ষিণে যেতে হবে। ডিগ্রি নদীর বুক চিরে একটু বাঁয়ে গেলেই বুড়া গৌরাঙ্গ নদী। সামনে গিয়ে বাঁক ঘুরতেই দাঁড়ছিড়া নদী। এরপরই সোনার চরের অপরূপ দৃশ্যের দেখা মেলবে।

গলাচিপা লঞ্চঘাট থেকে স্পিড বোটে সোনারে চর যেতে মাত্র দেড় ঘণ্টা লাগবে। অন্যদিকে সদরঘাট থেকে রাঙাবালীর লঞ্চে চরকাজল নামার পর ছোট লঞ্চে চরমন্তাজ গিয়ে ট্রলারে সোনার চর যাওয়া যাবে। আবার কুয়াকাটা থেকেও সোনার চরে যাওয়া যায়। যেতে হবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। কুয়াকাটা থেকে স্পিড বোট রিজার্ভ করে সোনার চর যাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে যেতে পারেন কিন্তু সময় লাগবে ঘণ্টাতিনেক।

রাত কাটানোর জন্য এখনও সোনার চরে নিরাপদ ও আরামদায়ক ব্যবস্থা হয়ে ওঠেনি। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে তিন কক্ষের একটি বাংলো। ইচ্ছে করলে রাতে সেখানে থাকতে পারেন। এছাড়া রয়েছে বন বিভাগের ক্যাম্প। সেখানে কিছুটা কষ্ট হলেও পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা আছে। থাকতে চাইলে চলে যেতে পারেন চরমোন্তাজ। সেখানে বন বিভাগ, স্যাপ বাংলাদেশ ও মহিলা উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপনায় রাত যাপনে জন্য বাংলো রয়েছে। আরও ভালোভাবে থাকতে চাইলে গলাচিপা ও জেলা শহর পটুয়াখালীতে রাত কাটানোর জন্য আধুনিক মানের হোটেল রয়েছে।




দুমকীতে ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রাস্তা : জিও ব্যাগ প্রকল্প বন্ধের অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ভাঙন রক্ষা প্রকল্পে পটুয়াখালীর দুমকীতে পায়রা নদী সংলগ্ন লেবুখালীর ভাড়ানি খালের পূর্ব পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেলার কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এতে ওই খাল পাড়ের এলজিআরডি’র প্রায় ২ কোটি টাকা প্রকল্পের আরসিসি ঢালাইয়ের রাস্তাটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, পায়রা নদীর ভাঙন থেকে দুমকী উপজেলার লেবুখালির ভাড়ানি খালের পূর্ব পাড় রক্ষায় প্রায় ৮ মাস আগে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় পাউবো। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে, এ পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ৩৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল সর্দারসহ অনেকেই বিষয়টিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কয়েকটি জিও ব্যাগ ফেলে চলে যায়। দীর্ঘদিন ধরে আর কোন খোঁজ খবর নেই তাদের। এতে রাস্তাটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে স্থানীয় বসত বাড়ি, ভূমি অফিস, লেবুখালি বাজারগামী, পথচারীসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানান তারা।

অভিযোগ করে লেবুখালি ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম তুহিন বলেন, ঠিকাদারের গাফেলতির কারণে কাজটি এখনও সমাপ্ত হয়নি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাচ্ছি যাতে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মো: সিরাজুল ইসলাম ১৮ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে কাজ বন্ধ রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, বাকি ৩৪ হাজার বস্তা ব্যাগ ফেলার জন্য কর্তৃপক্ষ টাকা-পয়সা দেয় না, ঠিকমত তহবিল দিলে যথা সময়েই কাজটা শেষ হত। তবে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে কাজটি এ সপ্তাহে আবার ধরবো।

এ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন বলেন, গত ৮ জানুয়ারি ঠিকাদারকে তহবিল দেয়া হয়েছে। আশাকরি কাজটি পুণরায় শুরু হবে।




খেজুর রসে লাভ কম, তবুও ঐতিহ্য ধরে রাখছে পটুয়াখালীর গাছিরা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় পৌষ-মাঘ মাসে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) থেকেই গাছ কাটছে গাছিরা। পরিশ্রমের তুলনায় লাভ কম ও শুধু নাতীদের জন্য ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন বলে জানান গাছি আবদুর রাজ্জাক।

উপজেলার বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক বলেন, এক সময়ে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে জীবন জীবিকা পরিচালনা করলেও এখন শুধু নাতীদের জন্যই গাছ কাটি। পরিশ্রমের তুলনায় লাভ খুব কম তবুও ঐতিহ্য ধরে রেখেছি।
তিনি আরো বলেন, গাছের মাথার অংশকে ভালো করে পরিষ্কার করা হয়। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে গাছ পরিষ্কার করতে হয়। গাছ পরিষ্কার করার পর ১৫-২০ দিন পর গাছ ছাটতে হয়। ছাটা যে অংশে রস নিঃসরণ হয় সে অংশে চিকন ৭-৮ ইঞ্চি লম্বা বাঁশের কঞ্চি আধা ইঞ্চি ঢুকিয়ে দিতে হয়। কাঠির মধ্যে দিয়ে ফোটায় ফোটায় নির্গত রস গাছে ঝুলানো ছোট বড় হাড়িতে সংগ্রহ করা হয়। গাছ একবার ছাঁটলে ৩-৪ দিন রস সংগ্রহ করা যায় এবং পরবর্তীতে ৩ দিন শুকাতে হয়। এরপর আবার হালকা ছেটে পুনরায় রস সংগ্রহ করা যায়।

ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের গাছি ইদ্রিস মৃধা এই বছর ৭০টির বেশি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন।

ইদ্রিস বলেন, বছরে ৮০-৯০ হাজার টাকার রস সংগ্রহ করবেন তিনি তবে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ খুব কম। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি রস পাওয়া যায় সাধারণত ঠান্ডা আবহাওয়া, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে পর্যাপ্ত রস পাওয়া যায় এবং এর স্বাদও ভালো হয়। তাপমাত্রা বাড়লে খেজুর গাছ হতে নির্গত রসের পরিমাণ কম হয় এবং এর সুস্বাধু স্বাদও হারিয়ে যায়।

এদিকে কলাপাড়া উপজেলা মেডিকেল কর্মকর্তা জেইস খান লেলিন বলেন, কাঁচা  খেজুরের রস খাওয়ার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খেজুরের রস খাওয়ার ক্ষেত্রে নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাই এ রস খাওয়ার ক্ষেত্রে সর্তক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।




পানি সংকটে দুমকিতে বোরো’র আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দুমকিতে সেচের পানির অভাবে বোরো’র চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন কৃষকরা।

উপজেলার চারিদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেরিবাঁধে স্লুইজ গেট অকেজো ও আবদ্ধ থাকায় অভ্যন্তরীণ বেশীর ভাগ খাল, নালা ভরাট হয়ে সেচের পানি শূন্যতায় বোরো’র চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকরা।

এলাকাবাসী জানায়, ওয়াপদা বেষ্টিত উপজেলার অভ্যন্তরীণ নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ভরাট হওয়া খাল-বিল, পুকুর ডোবায় মারাত্মক পানি শূন্যতা দেখা দিয়েছে। সেচের পানির অভাবে চাষীদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বোরোর আবাদ করতে পারছে না। পানির অভাবে শত শত হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদি পড়ে থাকার আশঙ্কা করছেন তারা। প্রত্যন্ত এলাকার মাঠ, ঘাট ফসলি জমি শুকিয়ে গেছে। মুরাদিয়ার মরা নদীর তীরবর্তি এলাকাগুলোতে সামান্য সেচের পানি পাওয়া গেলেও পর্যাপ্ত সেচ-যন্ত্রপাতির পাম্প, পাওয়ার টিলার সংকটের কারণে কৃষকরা বোরোর আবাদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো: সবুজ মৃধা বোরো’র আবাদ প্রসঙ্গে বলেন, পানির অভাবে বোরোর আবাদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। সেচের পানির অভাব থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বোরোর আবাদ সম্ভব হচ্ছে না। নদীর তীরবর্তি এলাকার জমি আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই কৃষক জানান, শুষ্ক মৌসুমে মুরাদিয়া নদী শুকিয়ে যাওয়ায় সেচের পানি মেলানো কষ্টকর। পাম্প সরবরাহ না পাওয়া গেলে নদীর তলা থেকে সেচের পানি ওঠানো অত্যন্ত দুরহ। সে কারণেই এ অঞ্চলের কৃষকরা বোরোর আবাদ নিয়ে মহা সংকটের মুখে পড়েছে। অনেকে বোরো আবাদ করতে না পারায় বিকল্প হিসেবে বেশী বেশী মুগ, মশুরীসহ অন্যান্য রবি ফসল চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক পানির উৎস না থাকায় বোরোর আবাদ মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। তবে নদীর তীরবর্তি ও আলগি, চরগরবদি, লেবুখালীর চরাঞ্চলের কৃষকরা নিজস্ব উদ্যোগে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু কিছু জমিতে বোরোর আবাদের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। ওই সব চরাঞ্চলে অনেকে বীজতলায় বপনকৃত বীজ ইতোমধ্যে রোপণ যোগ্য হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে শতাধিক হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের টার্গেট নেয়া হয়েছে।




বাউফলে সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে কম্বল বিতরণ

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফলে প্রতি বছরের ন্যায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “বাউফল বয়েজ-০৮ পাবলিক ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন” এর উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল দশটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের মাঝে অর্ধশতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়।

কম্বল বিতরণের শুভ উদ্বোধন করেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি ডাঃ মোঃ মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেদোয়ান রাকিব, উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, সাইদুল ইসলাম মেহেদী প্রমুখ।




কুয়াকাটায় উজাড় হচ্ছে গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী):  কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের গঙ্গামতি এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বা বন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশে কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাগরের কোল ঘেঁষে প্রাকৃতিক দেওয়াল হিসেবে পরিচিত এ বনাঞ্চল এভাবে উজাড় হওয়ায় উপকূলবাসী শঙ্কিত।

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুধু গঙ্গামতি এলাকায় সাগরের কোল ঘেঁষে ২০০৮-০৯ সালে প্রায় ১০ হাজার আকাশমণি গাছ সৃজন করা হয়। এ বনে আকাশমণি ছাড়াও হরতকী, বহেরা, রেইনট্রি, গামারিসহ নানা প্রজাতির গাছ আছে। সৈকতের মাটির ক্ষয়রোধ, বন্যা-জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় মানুষের জান-মাল রক্ষায় এ সব গাছ কার্যকর ভূমিকা রেখে আসছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জলোচ্ছ্বাসের সময় চলে আসা বালুতে গাছের শ্বাসমূল ঢাকা পড়লে, কিছু গাছ মরে যায়। স্থানীয় একটি চক্র এ সব মরা গাছসহ বাগান থেকে বিনা বাধায় গাছ কেটে নিয়ে বিক্রি করছে।

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা প্রথমে নাম,পরিচয় জানাতে রাজি হননি। পরে তাদের ২ জন নিজেদের নাম বেল্লাল হোসেন ও আলম এবং তাদের বাড়ি চর গঙ্গামতি এলাকায় বলে পরিচয় দেন।

তারা বলেন, ‘এ সব গাছ জোয়ারের পানির চাপে উপড়ে গেছে। কিছু গাছ আগেই মরে গেছে। তা ছাড়া এগুলো ভালো জাতের নয়। এগুলো কাটলে বনের তেমন ক্ষতি হবে না।’

বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমরা বন বিভাগের লোকজনকে বলেই গাছগুলো কাটছি। তারাই এসব গাছ কেটে নিতে বলেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌস হাওলাদার বলেন, ‘গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনা শুধু এক দিনের নয়। প্রায়ই বনের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। কখনো দিনে গাছ কাটে, কখনো রাতে কাটে।’

বন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশে এ কাজ চলে বলে দাবি করেন তিনি।

ওই এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জেল মৃধা বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় আমরা প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকি। সাগর পাড়ের এ সব গাছ প্রাকৃতিক দেওয়াল হিসেবে আমাদের জান-মাল রক্ষা করে। এ সব গাছ নিধন হলে আমাদের দুর্যোগ ঝুঁকি বাড়বে।’

জানতে চাইলে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সংরক্ষিত বনের গাছ এভাবে কাটা হচ্ছে, তা আমি জানতাম না। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ২ বছরে গঙ্গামতি এলাকায় গাছ কাটার ঘটনায় ২০টির মতো মামলা করা হয়েছে এবং মামলাগুলো চলমান আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলার) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, ‘এমনিতেই উপকূলীয় এলাকা দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বেশি বেশি গাছ রোপণ করা দরকার। গাছ কাটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পরিবেশ সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গাছ কাটার ঘটনায় দুর্বৃত্ত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর সঙ্গে বন বিভাগের কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।’




কলাপাড়ায় মাশরুম চাষে যুবকের ভাগ্য বদল

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে প্রথমবারের মতো বানিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষে ভাগ্য ফিরেছে এক যুবকের। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ১ হাজার খড়ের স্পন প্যাকেট। আর এ স্পন থেকে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মাশরুম বিক্রি করে মাসে আয় করছেন প্রায় লাখ টাকা। বর্তমানে এ যুবকের সাফল্য পুরো এলাকাজুড়ে সাড়া ফেলেছে।

পটুয়াখালী পৌর শহরের দক্ষিন কালিকাপুর এলাকার সুশান্ত মজুমদারের ছেলে সৌমিত্র মজুমদার শুভ। ২০১৭ সালে এলএলবি পাশ করে ঢাকায় এক আইনজীবির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৯ সালের করোনাকালীন সময়ে তেমন একটা আয় না থাকায় এলাকায় ফিরে আসেন তিনি। বেশ কিছুদিন বেকার থাকার পর জামার্নি খালাতো বোনের পরামর্শে আগ্রহী হন মাশরুম চাষে। পরে সাভারের জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন সেন্টারে দুই মাসের প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ গ্রামের খালার বাড়িতে ৫০ টি স্পন প্যাকেট দিয়ে শুরু করেন মাশরুম চাষ। ফলন ভালো হওয়ায় ওই বাড়ির ২০ শতাংশ জমিতে দুটি সেডের মাধ্যমে বানিজ্যিকভাবে গড়ে তোলেন মাশরুম খামার। বর্তমানে তার খামার থেকে প্রতিনিয়ত ১৫ কেজি করে মাশরুম পাচ্ছেন তিনি। তাতেও মেটাতে পারছেননা স্থানীয় চাহিদা।

সৌমিত্র মজুমদার শুভ (মাশরুম চাষী) বলেন, সরকারী সহায়তা ও স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা পেলে এ খামার বৃদ্ধির মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন বলে দাবি।

খামার পরিচর্যাকারী কর্মীরা বলেন, এ কাজে তেমন একটা পরিশ্রম নেই বললেই চলে ।

ভাই জীবন বিশ্বাস ও জামার্নি প্রবাসী খালাতো বোন রত্না বিশ্বাস বলেন, শুভর এ সাফল্য দেখে আমরা স্বজনরা গর্বিত ।

কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের মানুষ মাশরুমের গুণ সম্পর্কে তেমন একটা জানেন না। মাসরুম সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা রয়েছে। অনেকেই মনে করে এটা একটা ব্যাঙের ছাতা বিষাক্ত জাতীয় কিছু কিন্তু এটা পুষ্টিকর খাবার এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি জানালেন জেলার এই কৃষিবিদ ।




বীজ ও সার-ওষুধের দামে বিপাকে তরমুজ চাষিরা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): গতবারের তুলনায় এই মওসুমেও তরমুজের আবাদ বেড়েছে তেঁতুলিয়ার চরে। আগাম জাতের ধান কাটা শেষে তরমুজের ক্ষেত তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। জোয়ারের পানির হানা থেকে ক্ষেত রক্ষায় চরের চার পাশ ঘিরে তৈরি করেছেন নিজ নিজ উদ্যোগে স্বল্প উচ্চতার বেড়িবাঁধ। কেউ কেউ আবার পরিচর্যা করছেন পলিব্যাগে গজানো চারা গাছের। তবে বীজ ও সার-ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা পটুয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়ার চরের বেশির ভাগ চাষি।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন রবি ফসলের সাথে এবার চার হাজার হেক্টরে তরমুজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। আগের বছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার হেক্টরে। এই লক্ষ্যমাত্রায় কালাইয়া ও মূলভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপের বিভিন্ন চরেই তরমুজের আবাদ সবচেয়ে বেশি নির্ধারিত হয়েছে।
তবে চাষিদের ধারণা উপজেলায় তরমুজের এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে চলতি বছর। একই সাথে ১৫ হেক্টরে বাঙ্গি ও ১০০ হেক্টরে ক্ষীরা ও সামান্য পরিমাণে উচ্ছের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আগের দুই মৌসুমে করোনার লকডাউনে পরিবহন ও বিপণন সমস্যার পাশাপাশি তরমুজের ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণ ও জোয়ারের পানির হানায় খুব একটা লাভের মুখ দেখেননি চরকচ্ছবিয়া, চরওয়াডেল, রায়সাহেবের চর, চরঈশান, মমিনপুর চর, বাসুদেবপাশা, চরশৌলাসহ বিভিন্ন চরের তরমুজ চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত দুই তিন বছরের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে এমন আশায় বুক বাঁধলেও বীজ আর সার ওষুধের দামে এবারেও বিপাকে তরমুজ চাষিরা।

প্রতিবারের মতো তেঁতুলিয়ায় জেগে ওঠা কচ্ছবিয়ার চরে এবার প্রায় ১৮ একর জমি লিজ নিয়ে তরমুজের ক্ষেত তৈরি করছেন পাশের গলাচিপা উপজেলার চরকাজলের বাবুল খান। অতিজোয়ার, লবণ পানির হানা আর একই জমিতে বারবার কীটনাশক ও সার-ওষুধ ব্যবহারের কারণে নিজ এলাকায় আগের মতো এখন আর তরমুজের ভালো ফলন মেলে না।

উল্লেখ করে তিনি জানান, করোনার লকডাউনের সময় তরমুজ চাষে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হয় তাকে। জোয়ারের পানির হানায় পরের বছরেও ধকল গেছে তার। এরপর ভাইরাসের আক্রমণে গত মৌসুমে ক্ষেতেই নষ্ট হয় ১০-১২ লাখ টাকার তরমুজ। এবার নিজ উদ্যেগে ক্ষেতের চার পাশ ঘিরে স্বল্প উচ্চতার বেড়িবাঁধ তৈরি করেছেন আগেভাগে। তৈরি করছেন ক্ষেত। কিন্তু তরমুজের বীজ ও সার-ওষুধের দামে নতুন করে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ইউনাইটেডের গ্রেট-১ তরমুজের বীজ কেজিপ্রতি আগের বছর ৭৫ হাজার টাকায় পাওয়া গেলেও এ বছর তা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হয়েছে। ব্লাকমাস্টার, ড্রাগন কিংবা বিগফ্যামেলি জাতের বীজের দামও আগের তুলনায় ১০-১১ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বস্তা প্রতি ৬০০ টাকা। গত বছর টিএসপি ১ হাজার ২০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এ বছর তা ১ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ড্যাব বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা, এমওপি ৪০০ টাকা, টিএসপি ৩০০ টাকা বেশি দরে রাখা হচ্ছে।

একই চরের তরমুজ চাষি ধানদী গ্রামের মঞ্জু মাতবর ও বাকলা তাঁতেরকাঠি গ্রামের ফিরোজ চৌধুরী ও বড়ডালিমা গ্রামের জাহাঙ্গীর মৃধা জানান, মিষ্টি ও স্বাদে বাউফলের চরের রাঙা তরমুজের সুনাম রয়েছে। তরমুজের বীজ সংগ্রহে সিন্ডিকেটের কারসাজি আর সার-ওষুধের দাম বেড়েছে। পাশের ভোলা জেলা ও রাঙাবালী উপজেলা থেকে এসে প্রায় অর্ধশতাধিক চাষি এবার তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন চরে তরমুজের চাষ করেছেন। জমির উর্বর হারিয়ে একই জমিতে বারবার তরমুজ চাষ ভালো না হওয়ার কারণে ওইসব চাষিরা নিজ এলাকা ছেড়ে বাউফলের চরাঞ্চলে তরমুজ চাষে ছুটে এসেছেন উল্লেখ করে বাউফলের তেঁতুলিয়ার চরে এবার তরমুজের আবাদ বেড়েছে জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: আনছার উদ্দিন বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। সার-ওষধের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাদাম, সরিষা, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন রবিফসলের সাথে বাঙ্গি, ক্ষীরা ও সু-স্বাদ রাঙা তরমুজের বাম্পার ফলন পাবেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক চাষিদের খোঁজখবর ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।




বায়ু দূষণের সূচকে বিশ্বে দ্বিতীয় ঢাকা