অর্গানিক খাদ্য কতটা অর্গানিক? 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বেশ সচেতন সৈয়দ নাজমুস সাকিব। ফল হোক বা সবজি— অর্গানিক কেনা চাই। সুপার শপ থেকে বেছে বেছে সতেজ আর অর্গানিক সব পণ্য কেনেন তিনি। শুধু কি কাঁচা খাবার? চাল, ডাল থেকে শুরু করে হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া সবকিছুই অর্গানিক দেখে কেনেন তিনি। দাম কিছুটা বেশি পড়লেও সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে তা মেনে নেওয়া যায়- এমনটাই দাবি তার।



দক্ষিণাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগ ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে গত কয়েকদিনের শীতের দাপটে ঠান্ডাজনিত নানা সংক্রমক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। বছরজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে ডেঙ্গু অনেকটা নিয়ন্ত্রনে এলেও মৃত্যুর মিছিল থামছে না। শনিবার দুপুরেও বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

এনিয়ে শুধু সরকারি হাপসাতালে ২১৪ জনের মৃতুর সাথে আক্রান্তের সংখ্যাও সাড়ে ৩৮ হাজারে পৌঁছল। নতুন করে করোনার চোখ রাঙানি উদ্বেগ তৈরী করলেও টেষ্ট কিটের অভাবে এ অঞ্চলের কোথাও কোভিড পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও ভোলা জেনারেল হাসপাতালে দুটি পূর্ণাঙ্গ ‘করোনা টেষ্ট ল্যাব’ থাকলেও জনবল প্রায় শূনের কোটায়। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা সদরেও কোভিড-১৯’এর প্রাথমিক শনাক্তের সুবিধা থাকলেও কীটের অভাবে দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও এখন আর করোনা শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। এমনকি এ অঞ্চলে করোনা প্রতিরোধি ভ্যাকসিন এর ৩ ডোজ গ্রহণের হার এখনো ৬০ ভাগের নিচে। গত প্রায় ৬মাস ধরে ভ্যাকসিন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তবে খুব দ্রুত টেষ্টকীট সরবরাহ সহ জনবল নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জরুরী বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানিয়েছেন। বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলের মতে ‘টেষ্ট কীট পাওয়া গেলে আমরা প্রতিটি উপজেলা পর্যায়েও কোভিড রোগী শনাক্তে পরীক্ষা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

২০২৩ সালে দক্ষিণাঞ্চলে করোনা প্রায় নিয়ন্ত্রনেই ছিল। ২০২২ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অঞ্চলে শনাক্ত ৫৫ হাজার করোনা রোগীর মধ্যে ৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়। যারমধ্যে বরিশাল মহানগরীতেই দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। পুরো করোনাকালীন সময়ে এ নগরী ছিল কোভিডের আতুর ঘর। আক্রান্তের শীর্ষেও ছিল এ মহানগরী।

করোনার মত ডায়রিয়া সহ ঠান্ডাজনিত সব রোগীর শীর্ষে বরিশাল মহানগরী। এরপরেই দ্বীপজেলা ভোলার অবস্থান।

গত বছর প্রায় ৭২ হাজার ডায়রিয়া আক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশু দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা গ্রহণের পরে নতুন বছরের প্রথম ২০ দিনেও আরো প্রায় আড়াই হাজার এ রোগ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। প্রতিদিনই গড়ে শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়া নিয়ে সরকারি হাসপাতালে এলেও বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা এর তিনগুনেরও বেশী। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসদের মতে, এখন মুমূর্ষু অবস্থায় না পৌঁছলে কেউ সরকারি হাসপাতালের স্মরণাপন্ন হয়না। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, গত বছর দক্ষিণাঞ্চলের সরকারি হাসপাতাল সমূহে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭২ হাজার। যা ২০২২ সালে ছিল ৭৮ হাজারের মত এবং ২০২১ সালে ৭৭ হাজারের কিছু বেশী।

এদিকে শীতের শুরু থেকেই এ অঞ্চলে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপও ক্রমশ বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত বছরে এ ধরনের ৭৭ হাজারেরও বেশী রোগী বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এলেও নতুন বছরের গত ২০ দিনে আরো প্রায় আড়াই হাজার রোগী ঠান্ডাজনিত নানা উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে এসেছেন। এদের মধ্যে মৃত্যুও হয়েছে ১ জনের। গত বছর সরকারি হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে ১৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। আর গত ১ মাসে শুধু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় দেড় হাজার রোগী সরকারি হাসপাতালে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব ক্ষেত্রে আরো অন্তত তিনগুন রোগী বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক ও চিকিৎকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে।

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো সরকারি হাসপাতালের শিশু এবং মেডিসিন ওয়ার্ডগুলো নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের ভীড়ে ঠাসা। দক্ষিণাঞ্চঞ্চেলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান, শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মাত্র ৩৬ শয্যার শিশু বিভাগে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগী সহ পৌনে ৩শ শিশু চিকিৎসাধীন থাকছে। অনুমোদিত ১ হাজার শয্যার এ হাসপাতালে শিশু বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত বেড সংখ্যা এখনো মাত্র ৩৬। যার মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে। ১ হাজার শয্যার বিশাল এ হাসপাতালে শিশু বিভাগের জন্য স্বল্পসংখ্যক বেড নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

এদিকে শনিবার শেষরাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকা সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল ঘন কুয়শায় ঢেকে ছিল। সকালে তাপমাত্রার পারদ ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রীর মধ্যে থাকলেও আগামী তিনদিনে শীতের তীব্রতা আবারো বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।




জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: পটুয়াখালীতে ১০ বছরে কৃষিকাজ ছেড়েছে ৪০ হাজার পরিবার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বাপ-দাদার পেশা কৃষিকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল নুরুল ইসলামের (৪০)। কিন্তু উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে আবাদি জমিতে বছরের পর বছর ধরে ফলন কমে আসায় যে লোকসানের চক্রে পড়ে যান এক সময়ের স্বচ্ছল কৃষক নুরুল ইসলাম, তা থেকে আর বের হতে পারেননি তিনি। এক পর্যায়ে দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে ভিটেমাটি রেখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় এই কৃষক পরিবারটি।

নুরুল ইসলামের ভিটে ছিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পশ্চিম সোনাতলা গ্রামে। সেখানে নিজের আড়াই একর জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতেন তিনি। এখন তিনি স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকেন। স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজ করেন।

নুরুল ইসলামের মতো পাশের আদমপুর গ্রামের খলিলুর রহমানও চার বছর আগে কৃষিকাজ ছেড়েছেন।
খলিলুরের ভাষ্য, তার খেতে যে ধান হতো, তার অর্ধেকটাই চিটা হয়ে যেত। অধিক তাপমাত্রার কারণে ধান পরিপক্ব হতো না। এখন তিনি কৃষিকাজ বাদ দিয়ে কলাপাড়া উপজেলা শহরে স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজসহ দিনমজুরি করে সংসার চালান।

একই এলাকার আরেক কৃষক সেলিম খান বলেন, ‘আগের তুলনায় তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছেই। এ কারণে বেশির ভাগ ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। চিটা ধান থেকে পাওয়া চাল ভালো দামে বিক্রি করা যায় না। আবার এ চালের ভাতে স্বাদ কম। তিতা লাগে। বাধ্য হয়ে তা হাঁস-মুরগিকে খাওয়াতে হয়।’
সেলিম আরও বলেন, ‘বেশি তাপমাত্রার কারণে এখন উৎপাদিত ধানের এক-তৃতীয়াংশ চিটা হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে আগের তুলনায় এখন ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এ অঞ্চলের কৃষিকাজ এখনো বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। এখন আর সময়মতো বৃষ্টি হয় না। তাই ধানসহ অন্যান্য ফসলের স্বাভাবিক চাষাবাদ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

কৃষক নুরুল ইসলাম, খলিল ও সেলিম খানদের এমন সব ভাষ্যের সত্যতা মিলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে। পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা জানান, গত ছয় বছরে পটুয়াখালী জেলার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে অন্তত সাড়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৭ সালে এখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এখানকার গড় তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটুয়াখালীর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খানও তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন।
সহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার আবাদযোগ্য কৃষি জমিতে আগের তুলনায় লবণাক্ততা অনেকটাই বেড়েছে। ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফসল পাচ্ছেন না।’

এসব কারণে এ অঞ্চলে কৃষিকে এখন আর লাভজনক পেশা বলা যাচ্ছে না। অনেকেই পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানেও মিলেছে এর সত্যতা। গত বছর পটুয়াখালী জেলায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬৩০। ১০ বছর আগে এ সংখ্যা ছিল তিন লাখ ছয় হাজার। অর্থাৎ এ সময়ে কৃষক পরিবারের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪০ হাজার বা ১৫ শতাংশ।




১৭০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ কেজি চা উৎপাদন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: ২০২৩ সালে দেশের ১৬৮টি চা-বাগান থেকে ১০ কোটি ২৯ লাখ কেজি চা উত্পন্ন হয়। যা বাংলাদেশে চা চাষের ১৭০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপাদন। এর মধ্যে সিলেটেই রয়েছে ১৩৬টি চা-বাগান। দেশে চায়ের উৎপাদন শুরু হয় ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনি ছাড়া চা-বাগান থেকে। এদিকে সিলেটে রেকর্ড ভঙ্গ করে বর্তমান সময়ে চা  উৎপাদনে সংশ্লিষ্টরা মহাখুশি। তাই তারা মনে করেন এখন চা রপ্তানি জোরদার করা দরকার।

সূত্র জানায়, বাগানগুলোর আয়তন এরই মধ্যে আড়াই শতাংশ হারে বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সব মিলিয়েই এই ইতিবাচক ফল পাওয়ার পেছনে রয়েছে সুষম আবহাওয়া, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ, পুরোনো গাছ সরিয়ে নতুন চারা রোপণ করায় বেশি পরিমাণ চা উত্পাদিত হয়েছে। বাগানমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান কামরান তানভীরুল রহমান উৎপাদনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘উৎপাদনের পাশাপাশি উত্পাদকরা যাতে চায়ের ভালো দাম পান সেটাও মাথায় রাখতে হবে।’ তবে চা-বাগান মালিকরা মনে করেন, সিন্ডিকেটের কারণে তারা ইপ্সিত মূল্য পাচ্ছেন না। বাজারে যদিও চায়ের কেজি ২০০-৩০০ টাকা। কিন্তু তারা সর্বোচ্চ ১৮৫ টাকায় বিক্রি করেন। তারা বলেন, এই সিন্ডিকেট না ভাঙলে চা উৎপাদনের ভবিষ্যত্ আশঙ্কাজনক।

একটি সূত্র জানায়, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কোনো কোনো বাগানমালিকরা তাদের বাগানে ‘লুজিং’ দেখিয়ে  অন্যরকম ‘সখ্য’ রয়েছে। তাই সিন্ডিকেট শক্তিশালী। অবশ্য এই বিষয়ে সরকারও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। যে সব বাগান লোকসান গুনবে সে সব বাগান ব্যাংক লোনসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধার বাইরে থাকবে।

অন্যদিকে চা-বোর্ড সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবারই প্রথম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফলতা এসেছে। ২০২৩ সালে দেশের          বাগানগুলো থেকে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ কেজি। সেই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ৯ লাখ কেজি বেশি চা উৎপাদন  হয়েছে। ২০২১ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়। ২০২২ সালে ১০ কোটি কেজি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও উত্পাদিত হয় ৯ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার কেজি।

বাংলাদেশ চা-বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম এনডিসি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, সবার সমন্বিত চেষ্টার ফলে এবার সব রেকর্ড ভঙ্গ করে সর্বোচ্চ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে বাগানমালিক, শ্রমিক, চা-বোর্ডের কর্মকর্তাদের জন্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, বাগানগুলোতে পুরোনো চা-গাছ সরিয়ে নতুন গাছ লাগানোয় নজর দেওয়া হয়েছে। বাজারে অবৈধ পথে আসা চা যাতে ঢুকতে না পারে, বাগানমালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থও যাতে সুরক্ষিত হয়, সে সব দিকেও খেয়াল রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সমতলে চা চাষের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। বিনা মূল্যে চারা ও মেশিনারিজ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চল ও সমতলেও চা চাষের পরিমাণ বেড়েছে।




সরিষা ক্ষেতে হলুদ ফুলে দশমিনায় কৃষকের মুখে হাসি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আবাদি ও অনাবাদি জমিতে সরিষা ক্ষেতে হলুদ ফুলের হাসি শোভা পাচ্ছে। আর সে হাসিতে যেন কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি। ব্যাপক চাহিদার বিপরীতে কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় দিন দিন এই উপজেলার কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলার দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে যতদূর চোখ যায়, শুধু সবুজ আর হলুদ ফুলের সমারোহ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ জুড়ে চোখ জুড়ানো মনোমুগ্ধকর এ হলুদের দৃশ্য। সবুজ গাছের মাথায় থাকা সরিষার হলুদ ফুলগুলো বাতাসে দুলছে। ফুলে ফুলে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে মৌমাছি আর প্রজাপতি। সেই দৃষ্টিকাড়া ফুলের সৌন্দর্য্য দেখতে সকাল ও বিকালে ছবি তুলতে ভিড় করছে সব বয়সের নারী-পুরুষ। সরিষার ক্ষেত দেখতে ভ্রমন পিপাসুরা এবং সরকারি কর্মকর্তারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটির দিনে ছুটে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের কৃষকেরা বারি-১৪ সরিষা চাষ করেছেন। এ ফসলের তদারকি করছেন কৃষি কর্মকর্তা নিজেই। এবছর উচ্চফলনশীল বারি-১৪ সরিষা চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে বীজ ও সারসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়।

কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, গত বছর উপজেলায় ২০হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়ে ছিল। আর চলতি বছর ৩০হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। চাহিদা এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা সরিষার চাষের দিকে দিন দিন ঝুঁকছেন। অনেক জমিতে এই ফসল চাষের আওতায় আনার লক্ষ্যে কৃষকদের বাড়তি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।




ঘন কুয়াশাতে পটুয়াখালী – বরিশাল মহাসড়কে বাস দুর্ঘটনায় আহত ৩

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ঘন কুয়াশায় পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিন লাইন পরিবহনের সঙ্গে রাজিব পরিবহনের ধাক্কায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১টা দিকে জেলার সদর উপজেলার বদরপুর বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পরিবহন দুটি ঢাকা থেকে ছেড়ে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।
আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিন লাইন পরিবহনটি না দেখে সরাসরি এসে রাজিব পরিবহন পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়।

রাজিব পরিবহনের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় ও গ্রিন লাইন পরিবহনের পিছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা আহত যাত্রীদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

রাজিব পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে রাজিব পরিবহন করে কুয়াকাটা যাচ্ছিলাম, তবে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রিন লাইন পরিবহনের সঙ্গে পেছন থেকে এসে আমাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। আমি গাড়ির ড্রাইভারের মুখে শুধু এটুকুই শুনেছি তিনি ইন্নালিল্লাহ বলে ডাক দিয়েছেন, এর মধ্যে বিকট শব্দ হয় আমরা সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে যাই। রাজিব পরিবহনের সামনে যারা ছিল তারা বেশি ক্ষতি হয়েছে তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সংবাদ দিলে, তারাও এসে উদ্ধার অভিযান চালায়। তাদের গাড়িতেই আহতদের দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




শীতে বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: চলমান শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশা সহ একের পর এক বৈরী আবহাওয়ায় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি। বোরো বীজতলা, গোলআলু, গম ও শীতকালীন সবজি মারাত্মক সংকটের মুখে। চলমান শৈত্য প্রবাহ বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরী’, গোল আলুর জন্য ‘লেট ব্লাইট ডিজিজ’ এবং গমের জন্য ছত্রাকবাহী ‘ব্লাস্ট’ সংক্রমন সহ সবজি ফসলে ঘনকুয়াশা ও শীতের বিরুপ প্রভাবে গুনগত মান বিনষ্ট হচ্ছে। গত অক্টোবরে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় হামুনের পরে নভেম্বরে আরেক ঝড় ‘মিধিলি’ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের উৎপাদনে যথেষ্ট বিরুপ প্রভাব ফেলে।

পরপর দুই মাসের ওই দুটি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বর্ষণে থোর এবং আধাপাকা আমনের বিপুল জমি প্লাবিত হওয়ায় উৎপাদন যেমন ব্যাহত হয় তেমনি শীতকালীন সবজি সহ অন্যান্য রবি ফসলের আবাদকে অনেকটা বিলম্বিত করে। এখন আবাদকৃত রবি ফসল নতুন দুর্যোগের কবলে। বিগত বছরগুলোতে যেখানে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই গম, গোল আলু ও পেঁয়াজের আবাদ সম্পন্ন হতো এবার তা মধ্য জানুয়ারী পেড়িয়েও অব্যাহত আছে অক্টোবর-নভেম্বরের অকাল বর্ষণের কারণে। ফলে ওই সব ফসলের উৎপাদন ও গুণগতমান ব্যাহত হওয়ারও সম্ভাবনা বাড়ছে।এর উপরে অগ্রহায়ণের বর্ষণ সব ফসলের জন্যই যথেষ্ট বিরুপ পরিস্থিতি তৈরী করে।

বর্ষায় বৃষ্টির আকালের পরে হেমন্তের অতি বর্ষণ ও অকাল বর্ষণের ধকল কাটিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিযোদ্ধারা শীতকালীন সবজি, বোরো, গোল আলু, গম ও পেঁয়াজ সহ অন্যান্য ফসল আবাদে লক্ষ্য অর্জনে মাঠে থাকলেও কুয়াশার সাথে শীতের দাপট সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে। পৌষের শেষভাগ থেকে ঘন কুয়াশার সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নামার পরে মাঘের প্রথম দিন, ১৫ জানুয়ারী বরিশালে তাপমাত্রার পারদ দেশের সর্বনিম্ন, ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যায়। যা ছিল স্বাভাবিকের ২.৯ ডিগ্রী নিচে। সাথে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া পরিস্থিতিকে আরো বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। বরিশালে তাপমাত্রার পারদ ১৪ জানুয়ারী ১০.৫, ১৩ জানুয়ারী ১০.৭ ডিগ্রীতে নেমে যায়। প্রায় ৪৮ ঘন্টা পরে সোমবার সকালে বরিশালে সূর্যের দেখা মিললেও মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার আগে রোদে চোখে পড়েনি।

চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৭ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে ৪ লাখ হেক্টরে আবাদের জন্য যে বীজতলা তৈরী হয়েছে, তা ‘কোল্ড ইনজুরী’র কবলে।অপরদিকে ১৫ লাখ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে যে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে সেখানেও থাবা বসিয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া সহ শৈত্য প্রবাহের কনকনে ঠান্ডায় ফুল কপি ও বাধা কপি সহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন ব্যাহত হবার পাশাপাশি গুণগত মানও বিনষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যে চলতি রবি মৌসুমে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গম আবাদ হয়েছে তাও ঝুঁকির মুখে ছত্রাকবাহী ‘ব্লাষ্ট’ রোগের শংকায়। বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতি সহ আগামী দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টির যে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ, তা ব্লাষ্ট সংক্রমনের উপযোগী বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।

অপরদিকে চলতি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার হেক্টরে ৩ লাখ টন গোল আলু উৎপাদনের লক্ষে আবাদ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘন কুয়াশার সাথে শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকায় সেই ফসল ‘লেট ব্লাইট’ নামে এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগের সংক্রমন নিয়ে শংকিত কৃষকরা।

এমনকি অক্টোবর ও নভেম্বরে দু দফার অকাল ও প্রবল বর্ষণের কারণে পেঁয়াজের আবাদও অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার প্রায় ৯৩ হাজার হেক্টরে ১১ লাখ ৮২ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির রয়েছে। দেশে উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের প্রায় ৩৩ শতাংশই উৎপাদন হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে। গত বছর দেশে উৎপাদিত ৩৪.১৬ লাখ টন পেঁয়াজের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলেই সাড়ে ১১ লাখ টনেরও বেশী উৎপাদন হয়েছিল বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, আমরা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষনিক নজর রাখছি। প্রতিটি এলাকার ব্লক সুপারভাইজারদের পরিস্থিতি বুঝে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্লক সুপারভাইজারদের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




পটুয়াখালীতে ১৩৬ হেক্টর জমিতে শসা চাষ

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালী, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ পটুয়াখালীতে ১৩৬ হেক্টর জমিতে শসা চাষ। পটুয়াখালী জেলায় বাড়ছে শসার চাষ। কৃষকেরা সারাবছরই শসা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় অনেক কৃষক শসা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে এলাকার কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার যেমন উন্নতি হচ্ছে; পাশপাশি জেলার বাইরেও পটুয়াখালীর উৎপাদিত শসা সরবরাহ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশে ১১ একর জমি ইজারা নিয়ে শসা চাষ করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা সীরাজ মীর। বাড়ি ভোলা জেলার নীলকমল ইউনিয়নে হলেও এবার তিনি এ এলাকায় শসা চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে এবার ফলনও হয়েছে বেশ ভালো।

কৃষি উদ্যোক্তা সীরাজ মীর বলেন, ‘আমাদের এলাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ ভালো না। তাই এই এলাকায় শসা আবাদ করছি। এখানে বিকেলে শসা তুলে তা রাতের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো যায়। বিশেষ করে ঢাকার বাজার ধরতেই বেশি চেষ্টা করি। এখানে নারী-পুরুষসহ অনেক কৃষিশ্রমিক পাওয়া যায়। যে কারণে কৃষিকাজের পরিবেশ ভালো।’

এবার এলাকায় ১১ একর জমিতে শসা আবাদে প্রায় ২৩-২৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যদি প্রতি কেজি শসা ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি করা যায়, তবে অর্ধকোটি টাকার শসা বিক্রি করা সম্ভব। যদি শসার কেজি ১২ থেকে ১৩ টাকায় নেমে আসে, তবে চালান টাকা আসবে। ১০ টাকার নিচে দাম এলে লস হবে বলে জানান এ কৃষি উদ্যোক্তা।

শুধু সীরাজ মীর নন, এলাকার অনেকেই তার দেখাদেখি শসা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকেই আধুনিক কৃষিতে নিজেদের নিয়োজিত করছেন। এছাড়া বাণিজ্যিক ভাবে শসা চাষের কারণে কৃষি ক্ষেত্রে অনেকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষকেরা গার্হস্থ বাড়িতে শসা চাষ করলে সেটা মাচা পদ্বতিতে করে থাকেন। তবে সীরাজ মীর সরাসরি জমিতেই শসার লতা বিছিয়ে দিচ্ছেন। সেখান থেকেই শসা সংগ্রহ করছেন। এ কারণে কৃষকদের কাছে পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয় এবং লাভজনক।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় শীতকালীন তরমুজের পাশাপাশি কৃষক হাইব্রিড জাতের ডেইজি, ময়নামতি, সুপ্রিম প্লাস ও সুমাইয়া জাতের শসা চাষ করছেন। গত বছর জেলায় ৮ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হলেও চলতি বছর ১৬৩ হেক্টর জমিতে শসা চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় তা এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।’

পটুয়াখালীর বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। তবে কৃষকেরা মাঠপর্যায়ে এখন ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করছেন। আগামী রমজান মাসকে উদ্দেশ্য করে অনেকেই নতুন করে শসা চাষ করছেন।

 




শীতের মধ্যেই যে বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সেই সঙ্গে রয়েছে ঘন কুয়াশা। বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা না মেলায় শীতে কাবু হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন জনপদের মানুষ। আবহাওয়ার এই অবস্থার মধ্যেই বৃষ্টির আভাস দিয়েছে অধিদপ্তর।




তীব্র শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের ফসল উৎপাদন

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে গত তিন-চার দিন ধরে হিমেল হাওয়া, প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা অব্যাহত রয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলের তুলনায় তাপমাত্রা কিছু বেশি হলেও শীতের তীব্রতা মোটেও কম নয় বরিশালে। শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসলের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে চাষীরা’।

কীটনাশক স্প্রে করলে তা কুয়াশায় ধুয়ে যাচ্ছে, ফলে সুফল মিলছে না বলে দাবী কৃষকদের।

পিরোজপুর,ঝালকাঠি ও বরিশালের বাকেরগঞ্জের কৃষকদের অভিযোগ, অব্যাহত ঘন কুয়াশা ও রোদ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধানের চারা, ঝরে পড়ছে সরিষার ফুল। তীব্র ঠান্ডায় কৃষক জমিতে কাজ করতে পারছে না। অনেকে বোরো বীজতলায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে কিংবা নানা রকমের কীটনাশক স্প্রে করেও তেমন কোনও সুফল পাচ্ছেন।’

চলতি মৌসুমে ছয় জেলায় শীতকালীন সবজি চাষের জন্য ৪০ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ হাজার টন সবজি। মৌসুমের শুরু থেকেই বাজারে দাম ভাল থাকলেও অব্যাহত ঘন কুয়াশার কারণে সিম ও ফুলকপি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, ডগা পঁচা রোগে গাছের ক্ষতি হয়েছে, হ্রাস পেয়েছে উৎপাদনও।

অন্যদিকে, বরিশালের বানারীপাড়ার বাইশারীতে ভাসমান সবজি চাষীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে দাবী কৃষকদের।

আবুল হাওলাদার নামের এক কৃষক জানান,’আমরা এখানের উদ্যানে করলা, টমেটো, বেগুন ও সিমসহ শীতকালীন প্রায় সব সবজির চাষ করেছি। কিন্তু কুয়াশার কারণে গাছের গোড়া পঁচে বেশকিছু সবজি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, বরিশাল বিভাগের ৪১১ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে।বিভাগের ৬ জেলায় ৫১ হাজার টন শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে কুয়াশা ও শীতের প্রভাবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।