প্রকৃতি নয়, মানুষই পরিবেশ ধ্বংসের জন্য দায়ী : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পৃথিবীর পরিবেশ ধ্বংসের জন্য মানবজাতিই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “পৃথিবীর সর্বনাশের জন্য যারা দায়ী, তারা আমরা সবাই। আমরা এই অপরাধের আসামি।”

বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, জাতীয় পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলা ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের পৃথিবী নানা সংকটে জর্জরিত—যুদ্ধবিগ্রহ, প্রযুক্তির অপব্যবহারসহ নানা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হচ্ছে জলবায়ু সংকট, যা অনেকেই এখনো উপলব্ধি করতে পারছে না। প্রকৃতির এই বিধ্বংসী রূপ প্রকৃতির দোষ নয়, এটা মানুষের সৃষ্টি। মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কথা, কিন্তু আমরা বরং উল্টো পথে হেঁটে চলেছি।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “জলবায়ু সংকট দৈত্যের মতো সামনে হাজির হচ্ছে। সে হুঙ্কার দিচ্ছে—হয় আমরা থাকব, না হয় তোমরা থাকবে। মানুষ আর প্রকৃতি একসঙ্গে থাকতে পারবে না।”

প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “প্লাস্টিক আজ পৃথিবীর জলবায়ু, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য—এই তিনটি স্তম্ভেই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি এমন এক বস্তু যার জন্ম আছে, মৃত্যু নেই। পৃথিবীর সব কিছুর মৃত্যু আছে, কিন্তু প্লাস্টিক বেঁচে থাকে। প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে জলাশয়গুলোতে এর ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে।”

তিনি বলেন, “প্লাস্টিক আমাদের অসহায়ত্ব দেখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে। আমাদের উদ্যোগহীনতা দেখে তারা জয়গান গাইছে। আমরা দিবস উদযাপন করি, তারপর যথারীতি ঘরে ফিরে প্লাস্টিকই ব্যবহার করি।”

লাইফস্টাইল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ না বদলাই, তাহলে এই যুদ্ধে মানবজাতির পরাজয় অনিবার্য। এই সংকট থেকে কীভাবে বের হব, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।”




কৃষিই অর্থনৈতিক স্থিতির প্রধান চালিকা শক্তি: জেলা প্রশাসক

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার মূলভিত্তি কৃষি—এ মন্তব্য করেছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, কৃষিখাতে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এটি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতিবছরই লবণাক্ততা, খরা, বন্যা ইত্যাদির কারণে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বরিশাল সদর উপজেলার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ, পুষ্টি নিরাপত্তা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “কৃষিতে টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে এবং কৃষকদের উচিত হবে যেকোনো চাষাবাদের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণ করা।”

‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশীপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী এই কংগ্রেসের আয়োজন করে বরিশাল সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মরিয়ম আক্তার। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হাসান।

স্বাগত বক্তব্য দেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম গৌড়ী। দিনব্যাপী আয়োজনে বরিশাল সদর উপজেলার শতাধিক প্রান্তিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল, উন্নত জাত সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ, নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণে কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের জাতীয় ফল মেলা শুরু হতে যাচ্ছে 

আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) চত্বরে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা। ‘দেশি ফল বেশি খাই, আসুন ফলের গাছ লাগাই’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই মেলা চলবে শনিবার (২১ জুন) পর্যন্ত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এ মেলায় ২৬টি সরকারি ও ৪৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মোট ৭৫টি স্টলে বিভিন্ন জাতের দেশি ফল, ফল উৎপাদন ও চাষাবাদের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কেআইবি চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। একই দিন কেআইবি মিলনায়তনে ‘স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও বাণিজ্যিকীকরণে দেশি ফল: বর্তমান প্রেক্ষিত, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, আর প্রধান অতিথি থাকবেন কৃষি উপদেষ্টা।

মেলার সমাপনী দিনে (শনিবার) বিকেলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সেরা স্টলকে পুরস্কৃত করা হবে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই মেলায় দর্শনার্থীরা দেশি ফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং রাসায়নিকমুক্ত ফল কেনার সুযোগ পাবেন। ফল চাষে আগ্রহী কৃষক ও নাগরিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




বরিশালের হাটে রাজা-বাদশার রাজত্ব

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বরিশালের কোরবানির হাটে সবার নজর কাড়ছে দুটি বিশালাকৃতির ষাঁড়—‘রাজা’ ও ‘বাদশা’।
বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর এলাকার এমইপি এগ্রো ফার্মে আদর-যত্নে বেড়ে ওঠা এই দুটি ফিজিয়ান জাতের ষাঁড় হয়ে উঠেছে কোরবানির মৌসুমের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

 রাজা-বাদশার ওজন ও দাম

  • রাজা: ওজন প্রায় ৭৫০ কেজি, দাম হাঁকা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা
  • বাদশা: ওজন প্রায় ৭০০ কেজি, দাম হাঁকা হয়েছে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা

ফার্ম মালিক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, “রাজা ও বাদশা আমার সন্তানের মতো। দুই বছর ধরে লালন-পালন করছি। প্রতিদিন তাদের খাবার, গোসল, চিকিৎসা—সব কিছু সময়মতো করছি।”

দুটি ষাঁড়ই সবসময় একসাথে থাকে। আলাদা করলেই অস্থির হয়ে পড়ে।
রাজা কিছুটা চঞ্চল স্বভাবের এবং সবচেয়ে পছন্দ করে বুটের ডাল। অপরদিকে, বাদশা শান্ত স্বভাবের এবং পছন্দ করে কাঁচা ঘাস

প্রতিদিন ফার্মে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা ও সম্ভাব্য ক্রেতারা। অনেকে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। খামার যেন একপ্রকার মিনি প্রদর্শনী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বরিশাল বিভাগে কোরবানির পশু প্রস্তুতির ধুম পড়ে গেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর বিভাগের ৬টি জেলায় কোরবানির চাহিদা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫২টি, অথচ প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩টি পশু। অর্থাৎ ৬০ হাজার ৪৯৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

বরিশাল প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, “এবার ৩৫০টির মতো কোরবানির হাট বসবে। ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাটে সক্রিয় থাকবে।”

এমইপি এগ্রো ফার্মের ইনচার্জ রাফিউর রহমান বলেন, “বিদেশি গরু আমদানি না হওয়ায় দেশি গরুর বাজার ভালো থাকবে বলে আশা করছি। আমরা ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবান ও নিরাপদ পশু দিতে চেষ্টা করছি।”

বরিশালের হাটগুলো এখনও পুরোপুরি জমে না উঠলেও ক্রেতারা সুস্থ, দেশি ও পরিচর্যাপ্রাপ্ত পশুর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গলাচিপায় হিমাগার না থাকায় পচে যাচ্ছে হাজার টন আলু

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হলেও হিমাগার না থাকায় প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন আলু মাঠে-ঘাটে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা পূরণ হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত উৎপাদিত আলু সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা এখন চরম বিপাকে। তারা একদিকে যেমন ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, অন্যদিকে প্রতিদিন পঁচে যাওয়া আলুর কারণে বাড়ছে তাদের আর্থিক ক্ষতি।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে গলাচিপায় ৩৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। ফলন ভালো হলেও হিমাগার না থাকায় কৃষকদের সেই সফলতা রূপ নিচ্ছে হতাশায়। পাইকারদের আগ্রহ না থাকায় পাকা আলু পড়ে আছে মাঠে, বাড়ির আঙিনায়, অনেক সময় জোয়ারের পানিতেও ভাসছে।

মুরাদনগর গ্রামের কৃষক মো. আলাউদ্দিন জানান, গত বছর লাভের মুখ দেখে তিনি এবার ৫ একর জমিতে ধারদেনা করে আলু চাষ করেছেন। কিন্তু ফলন ভালো হলেও সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় অধিকাংশ আলু নষ্ট হচ্ছে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।

আরেক কৃষক মোসলেম আলী জানান, এক একর জমিতে আলু চাষে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু বিপণনের অভাবে এরইমধ্যে ৩০-৪০ মণ আলু নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি আলু বিক্রি করলেও তিনি খরচ তুলতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) প্রথমে কিছু আলু নিলেও ছোট সাইজের হওয়ায় পরে আর নেয়নি। অপরদিকে পাইকাররাও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। প্রতিদিন বৃষ্টি আর জোয়ারে মাঠে পড়ে থাকা আলু আরও বেশি নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার জানান, এবার আলুর উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও হিমাগার না থাকায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষকদের বিকল্প কিছু পরামর্শ দিচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, কিছু আলু নষ্ট হয়েছে আবহাওয়ার কারণে। গলাচিপায় হিমাগারের অভাব দীর্ঘদিনের হলেও এবার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে গলাচিপার কৃষকেরা উৎপাদন বাড়িয়েও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংরক্ষণের ঘাটতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন। লাভজনক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আলু বর্তমানে লোকসানের ফসলে পরিণত হয়েছে। কৃষি নির্ভর এই জনপদে অবিলম্বে হিমাগার স্থাপন ও সরকারি সহায়তায় সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর বাউফলে গরুর লাম্পি স্কিন রোগে বিপর্যস্ত কৃষক-খামারিরা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে গবাদিপশুর জন্য ভয়াবহ ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ। গত দুই মাসে প্রায় পাঁচ হাজার গরু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে বেসরকারিভাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই বাছুর, যা খামারিদের জন্য আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই রোগে আক্রান্ত গরুদের শরীরে প্রথমে জ্বর হয়, খাবারে অরুচি দেখা দেয়, মুখ ও নাক দিয়ে লালা পড়ে, পা ফুলে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে চামড়ার উপর গুটি দেখা দেয়। কিছুক্ষেত্রে ক্ষত স্থান থেকে রক্তক্ষরণও হয়। রোগটি মূলত মশা-মাছি জাতীয় বাহকের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় এবং দ্রুত এক পশু থেকে অন্য পশুতে ছড়িয়ে পড়ে।

বাউফলের বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা। আতঙ্কে কৃষক ও খামারিরা ছুটছেন উপজেলা পশু হাসপাতাল কিংবা গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরকারি চিকিৎসা সুবিধা পর্যাপ্তভাবে মিলছে না।

বড় ডালিমা গ্রামের কৃষক মনির হোসেন বলেন, “চাষাবাদের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় আমি একটি গাভি পালন করছিলাম। কিন্তু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাছুরটি মারা গেছে। পশু হাসপাতাল থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।”

পূর্ব কালাইয়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি পশু চিকিৎসকরা কোনো খোঁজ রাখেন না। বাধ্য হয়ে গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে যেতে হয়। ভুল চিকিৎসায় আমার বাছুরটি মারা গেছে।”

এছাড়া ধানদী এলাকার খামারি নিজাম উদ্দিন বলেন, “তিন বছর ধরে খামার করছি। কিন্তু কখনো কোনো সরকারি চিকিৎসক আমার খামারের খোঁজ নেয়নি।”

চর কালাইয়া ও বড় ডালিমা এলাকার আরও অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, সরকারি সহায়তা না পেয়ে তারা ফার্মেসি ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবু রায়হান বলেন, “আমাদের পশু হাসপাতাল খোলা রয়েছে। সবার জন্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। যারা হাসপাতালে না এসে ভুয়া চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছেন, তারাই প্রতারিত হচ্ছেন। ফোন দিলেই আমরা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ভ্যাকসিন ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে খামারি ও কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে আরও সক্রিয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর বল্লভপুরে মরুভূমির স্বাদ—সাম্মাম চাষে সাফল্য কামরুজ্জামান জুয়েলের

সোনালি রোদে ঝলমল করছে মাঠজুড়ে এক বিদেশি ফল। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, যেন কোনো মরুভূমির চিত্র। কিন্তু এটি বাস্তবে বাংলাদেশের পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রাম। আর এ দৃশ্যের নেপথ্য নায়ক কামরুজ্জামান জুয়েল—এক ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্যোক্তা।

জুয়েল পেশায় একজন ব্যাংকার, বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের জেলা শাখায় সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তবে হৃদয়ের টানে কৃষিকেই বেছে নিয়েছেন স্বপ্নপূরণের মাধ্যম হিসেবে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চাষাবাদ করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘হাওলাদার এগ্রো’। এই খামারে তিনি সফলভাবে চাষ করছেন সৌদি আরবের জনপ্রিয় তিন ধরনের সাম্মাম ফল—মাস্ক মেলন, রক মেলন ও হানি ডিউ মেলন।

৪৬ শতক জমির পাঁচটি প্লটে প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করেন এই চাষ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যেমন সেক্স ফেরামোন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ, মালচিং পেপারসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে গড়ে তোলেন ফলন। বর্তমানে তার খামার থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে সাম্মাম, যা পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তার খামারে ছুটে যাচ্ছেন নানা জেলার মানুষ। কেউ দেখছেন, কেউ কিনছেন—সবাই মুগ্ধ ফলের স্বাদ ও ঘ্রাণে। খামার পরিদর্শনে আসা ভবানী শংকর সিংহ বলেন, “এমন স্বাদ ও রঙের ফল দেশের মাটিতে হবে, ভাবতেই অবাক লাগে।” এক খুচরা ক্রেতা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “ফলটি চমৎকার! শুধু নিজেই আসিনি, বন্ধুদেরও নিয়ে এসেছি। দামও তুলনামূলক কম।”

নিজ অভিজ্ঞতা নিয়ে জুয়েল বলেন, “প্রথম দিকে অনেক প্রতিকূলতা এসেছিল, ক্ষতির মুখেও পড়েছিলাম। কিন্তু ধৈর্য, পরিশ্রম ও পরিকল্পনায় আমি আজ এই জায়গায়। আমাদের দেশে বিদেশি ফল চাষ সম্ভব নয়—এই ভুল ধারণা আমি ভাঙতে চেয়েছি। আগ্রহীদের আমি সবধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য, হাওলাদার এগ্রো খামারে সাম্মাম ছাড়াও গরু, ছাগল, মাছ, আম ও ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৪-৫ জনের।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “জুয়েল সাহেব আধুনিক কৃষির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাম্মাম চাষ আমাদের জন্য নতুন হলেও তার সফলতা প্রমাণ করে দেয়, ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। আমরা তার পাশে আছি।”

কামরুজ্জামান জুয়েলের এই সাফল্য শুধু বল্লভপুর নয়, পুরো পটুয়াখালীকে গর্বিত করেছে। তরুণদের জন্য এটি হতে পারে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।

মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্ব বিরল খনিজ নিয়ে, বাংলাদেশে পাওয়ার সম্ভাবনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চীনা পণ্যে উচ্চহারে যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তার পাল্টা হিসেবে চীন  যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া অথবা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল আইফোন তৈরিতে এই ‘বিরল মৃত্তিকা ধাতু’ আমদানি করে চীন থেকে। যদিও চীন থেকে ভবিষ্যতে এই বিরল খনিজ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে ১৩ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি চুম্বকসহ বিরল মৌলের রপ্তানি বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর ফলে প্রচুর মৌল জাহাজীকরণের অপেক্ষায় বন্দরে পড়ে আছে।

বিরল খনিজ শুধু আইফোনের মতো মুঠোফোন তৈরি নয়, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক যেকোনো যন্ত্র বা সরঞ্জাম তৈরিতেই তা কাজে লাগে। সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক অস্ত্র তৈরিতেও এখন ব্যবহার করা হয় বিরল খনিজ। বিশেষ করে বিরল খনিজ লাগে চিপ তৈরিতে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিরল খনিজের লড়াই একুশ শতকের ভূ-অর্থনৈতিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই লড়াইয়ে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট বিকল্প সরবরাহশৃঙ্খল গড়ে তুলতে সক্রিয়।

এদিকে বাংলাদেশে বিরল খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। দেশের গবেষকেরা বলছেন, নদী অববাহিকার বালু, জেগে ওঠা চর, সৈকত বালু এবং কয়লাখনি থেকে বিরল খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে দেশে সন্ধান পাওয়া এই মূল্যবান খনিজের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কতটুকু, তা পর্যালোচনা করতে হবে।

মো. আহসান হাবিব  বলেন, সাধারণত প্রতি কেজি কয়লায় ১০০ মিলিগ্রাম বিরল খনিজ থাকলে তা অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে প্রাপ্ত কয়লার মধ্যে বিরল খনিজের উপস্থিতি ২০০ মিলিগ্রামের বেশি। এ ছাড়া প্রতি কেজি কয়লা পোড়া ছাইয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিগ্রাম বিরল খনিজের উপস্থিতি রয়েছে। যেখানে ৬০০ মিলিগ্রাম থাকলেই তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য ধরা হয়।

তবে দেশে প্রাপ্ত বিরল খনিজের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করতে আরও বেশি গবেষণা করতে হবে।




৩৬ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে ভারতীয় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

ভারত থেকে আরও ৩৬ হাজার ১ শ’ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি ফ্রসো নামের একটি জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।বাসস

শনিবার (১২ এপ্রিল) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-৭) ভারত থেকে ৩৬ হাজার ১ শ’ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি ফ্রসো কে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরমধ্যে নয়টি প্যাকেজে মোট চার লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তি মোতাবেক তিন লাখ ১৭ হাজার ছয় শ’ ১৯ টন চাল দেশে পৌঁছেছে।

জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং চাল খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ছে, আরও আক্রান্ত ২৯