মরিচ চাষে ব্যস্ত পটুয়াখালীর উপকূলের কৃষকরা

বরিশাল অফিস :: চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কৃষকরা। জমি তৈরি এবং চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে চাষিরা। ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের। মরিচ চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় ধান চাষের পাশাপাশি মরিচ চাষেও আগ্রহী হচ্ছেন।

মরিচের বীজ বপণের ৩০-৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কৃষক গাছ থেকে মরিচ উত্তোলন শুরু হয়। এটি একটি অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। জমিতে বিঘা প্রতি ১৫/২০ মণ মরিচ উৎপন্ন হয়। প্রতিমণ কাচা মরিচ হাটবাজারে ২৫শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রয় করতে পারে কৃষক।

সরজমিনে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার মরিচ চাষে ভালো লাভ হবে। বর্তমান বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অজ্ঞাত রোগে মরিচ গাছের পাতা শুকিয়ে অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের কৃষক মাসুম জানান, গত বছর ১ একর জায়গায় মরিচ দিয়েছিলেন। খরচ শেষে তার এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে। তাই এবারও তিনি ১.৫ একর জায়গায় মরিচ দিয়েছেন। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এ বছরও ভালো ফলন পাবার আশা তার।

কুয়াকাটার কৃষক জাহাঙ্গীর জানান, এবার তিনি ২ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। প্রতি বছরের চেয়ে এবার বেশি পরিমাণ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। মরিচ চাষে লাভ ভালো হয়। এবার তিনি বেশি ফলনের আশা করছেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কে আর এম সাইফুল্লাহ জানান, এ বছর ৬৮০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফল বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রোগবালাই ও সার ব্যবস্থাপনা মাঠপর্যায়ে প্রত্যক্ষ করছে। আরও সহনশীল জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গিয়ে মরিচ চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করি, কৃষক এবার মরিচের ভালো দাম পাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মরিচ চাষে কৃষকরা লাভবান হবেন।




পটুয়াখালীতে তারুণ্যের মেলায় একই মঞ্চে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশের প্রধান তিন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের অংশ গ্রহনে পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী তারুণ্যের মেলা। আমিও জিততে চাই” ক্যাম্পেইনের আওতায় পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে “তারুণ্যের মেলা” আয়োজন করে মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ)।

” ইউএসএআইডির অর্থায়নে এসপিএল প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ মেলায় সহযোগিতা করে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল। তরুণদের নাগরিক প্রত্যাশা তুলে ধরে তাদেরকে নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করতে এই প্রয়াস।

মেলায় রয়েছে বক্তৃতা ভিডিও প্রতিযোগিতা, মঞ্চ অভিনয়, কুইজ প্রতিযোগিতা, সেলফি বুথ, সেলফি ভিডিও ৩৬০ ডিগ্রি, সেরা ফেসবুক পোস্ট ও সেরা প্রোফাইল ফটো বিজয়ীদের জন্য শুভেচ্ছা স্মারক ইত্যাদি।

মেলায় বক্তব্য রাখেন, এমএএফ পটুয়াখালীর সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ-এর সাধারন সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান; এমএএফ পটুয়াখালীর সাধারন সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. মজিবুর রহমান টোটন; এমএএফ পটুয়াখালীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ বাবু; ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর ডেপুটি ডিরেক্টর দিপু হাফিজুর রহমান সহ অন্যান্য। আয়োজনের উপস্থাপনায় ছিলেন এমএএফ পটুয়াখালীর যুগ্ম সম্পাদক এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ-এর সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স।

ভিপি আব্দুল মান্নান বলেন,“ডিআইকে অনেক ধন্যবাদ। তরুণদের নিয়ে যে কার্যক্রম, তা আগামী দিনেও নিলে, তরুণ সমাজ ভালো পথে চলবে। তরুণদের বলছি, আপনারা আজকের সব কার্যক্রমে অংশ নেবেন যাতে এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।”

মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে হলেও, এমএএফ অরাজনৈতিক সংগঠন। আমরা পটুয়াখালীর বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। আমরা ইতিমধ্যে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত নিয়ে অ্যাডভোকেসির কাজ শুরু করেছি। এছাড়া, সিভিল সার্জন অফিসের সামনের পুকুরটা এমএএফ এর সংশ্লিষ্টতায় পরিষ্কার করা হয়েছে। জনদূর্ভোগ রোধে জনসম্পৃক্ততা তৈরিতে আমরা কাজ করে চলেছি।”

সালাউদ্দিন আহমেদ বাবু বলেন, “তরুণদের মাঝে রাজনৈতিক দল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে এ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে।”

পটুয়াখালী জেলার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নাগরিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে এডভোকেসি করার লক্ষ্যে গঠিত হয় এমএএফ। এমএএফ পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করে চলেছে।




৭০ বছরে লক্ষাধিক গাছ লাগানোর দাবি গলাচিপার সিরাজুলের

 

 মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল হেলাল বলেন, ‘নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানোর বিষয়টি জানা আছে তার। এটি একটি ব্যতিক্রম বিরল ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যদি সে চায়, তাহলে তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছের চারা, বীজ, সার, কিটনাশকসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।’

শুধু নিজের বাড়িতেই নয় অন্যের বাড়িতে, সড়কের পাশে, মূলত খালি জায়গা পেলেই সেখানে গাছ লাগিয়ে আসেন এবং পরে তা পরিচর্যাও করেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বআটখালী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম। গ্রামে অনেকেই তাকে গাছ পাগল নামে ডাকেন। ৭০ বছর ধরে লক্ষাধিক গাছ লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন সিরাজুল।

সিরাজুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৮০ বছর বয়সী সিরাজুল ১৯৮৬ সালে কামিল পাস করে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করেছেন। এর আগেই ১০ থেকে ১১ বছর বয়সে গাছ লাগানোর প্রতি তার ঝোঁক ছিল এবং সেই থেকে গাছ লাগাতে থাকেন। ইতোমধ্যে লক্ষাধিক গাছ লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন সিরাজুল ইসলাম। এর মধ্যে ফলজ হিসেবে নারকেল, সুপারি, পেয়ারা, জাম্বুরা, গাবগাছ ছাড়াও তালগাছ, মেহগনি, চাম্বল, সুন্দরী গাছও লাগিয়েছেন তিনি।

সিরাজুল ইসলাম জানান, শুধু নিজের বাড়িতেই নয় অন্যের বাড়িতে, সড়কের পাশে, মূলত খালি জায়গা পেলেই সেখানে গাছ লাগিয়ে আসেন। পরে তা পরিচর্যাও করেন তিনি। শুধু নিজের গ্রামেই নয়, আশেপাশের অন্তত ১০ গ্রামজুড়ে আছে তার লাগানো নানান প্রজাতির গাছ।

গাছ লাগানোর ভাবনা কীভাবে এলো জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে অনেক কারণেই গাছ লাগানোর ভাবনা আসে। যেমন হাদিস শরীফে আছে গাছ লাগানো সুন্নত, ছদকায়ে জারিয়া। সড়কের পাশে গাছ লাগিয়েছি পথিকের ছায়া দেয়ার জন্য। এ ছাড়াও সরকারের নির্দেশনা রয়েছে পতিত জায়গা রাখা যাবে না। এসব বিষয় চিন্তা করেই বেশি করে গাছ লাগাতে শুরু করেছি। মূলত গাছ লাগানো সুন্নত, গাছে অক্সিজেন দেয় এমন ধারণা থেকেই গাছ লাগানোর প্রথম ভাবনা।’
বর্তমানে নানা অসুখে ভুগছেন সিরাজুল ইসলাম। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা না করাতে পারাসহ আছে অনেক আক্ষেপ। আর্থিক সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি সিরাজুলের শেষ ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার।

সিরাজুল ইসলাম আরো জানান, অর্থের প্রয়োজনে তিনি গাছ বিক্রিও করেন, তবে যাদের জায়গায় গাছ লাগিয়েছিলেন তাকেও বিক্রির অর্ধেক ভাগ দিচ্ছেন তিনি। বাকি টাকা দিয়ে বাড়িতে চারা উৎপাদনে ব্যয় করছেন। এক সময় বাজার থেকে চারা কিনে রোপণ করলেও এখন অর্থের অভাবে তা পারছেন না সিরাজুল। সম্পত্তি বলতে রয়েছে, তার ৬০ শতাংশ জমি। এতে তার তিন মাসের সংসার চলে। বাকি নয় মাস মেয়েদের সাহায্যে চলতে হয় তাকে। গাছের চারা কিনতে না পারায় এখন বাড়িতেই চারা উৎপাদন করছেন তিনি।
স্থানীয়রা সিরাজুলের গাছ লাগানোকে সমর্থন করছেন। তার দেখাদেখি সমাজের আরও মানুষ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে বৃক্ষরোপণে।

বাড়ির পাশে সিরাজুলের ভাইয়ের ছেলে দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘আমার বৃদ্ধ চাচার এই গাছ লাগানো নেশায় পরিণত হয়েছে। সারাদিন গাছ লাগানোয় ব্যস্ত থাকবে, আবার রাত হলে কলস ভর্তি পানি নিয়ে গাছের গোড়ায় ঢালবে। অন্যের বাড়িতে গাছ লাগানোর পর দিনরাত গাছের পরিচর্যা করার সময় অনেকে বিরক্ত হলেও চাচার হাসিতে সবাই চুপ হয়ে যায়। অনেকে তো চাচাকে গাছ পাগল বলে ডাকে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের লাইন টানার সময় চাচার কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। গাছগুলো রক্ষা করতে না পেরে তখন আমার চাচা কেঁদেছিলেন। আমার চাচা এখন নানা অসুখে ভুগছেন। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না।’

একই গ্রামের মুদি দোকানদার মনির হোসেন বলেন, ‘গাছ লাগানো যেন তার নেশা আর পেশায় পরিণত হয়েছে। আমাদেরও ভাল লাগছে তার গাছ লাগানোর অবস্থা দেখে। আগে যেহানে খালি জায়গা ছিল এহন হেইআনে ওনার লাগানো গাছ অনেক বড় অইছে।’

ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘আমি মুগ্ধ হয়েছি সিরাজুল ইসলামের গাছ লাগানোর দৃশ্য দেখে। আমার ইউনিয়নের এই গ্রামটির চেহারাই পাল্টিয়ে দিয়েছেন তিনি, শুধু গাছ লাগিয়ে। এখন সবুজে সমারোহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে সরকারিভাবে ইউনিয়ন পরিষদে গাছের কিছু চারা বরাদ্দ দেয়া হয় সেখান থেকে কিছু চারা আমরা সিরাজুল ইসলামকে দেয়ার ব্যবস্থা করব। যাতে তার একটু সুবিধা হয়।’

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল হেলাল বলেন, ‘নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানোর বিষয়টি জানা আছে তার। এটি একটি ব্যতিক্রম বিরল ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যদি সে চায়, তাহলে তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছের চারা, বীজ, সার, কিটনাশকসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।’




২০০ বছরের ঐতিহ্য ভাসমান বেডে সবজি চাষে অনন্য বরিশাল

বরিশাল অফিস :: ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার প্রান্তিক কৃষকদের স্বনির্ভর করছে। যে জলাভূমিতে ময়লা কচুরিপানা কিংবা পরিত্যক্ত ছিলো সেই জমিকে ব্যবহারযোগ্য করতে এবং কৃষির বিপ্লব ঘটাতে ভাসমান বেডে সবজি চাষ অনন্য উদাহরণ। আর বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে দক্ষিণাঞ্চলের যেসব জলাভূমি আছে তার মাঝে চাষাবাদে কৃষকদের হাতে কলমে শিক্ষা দিচ্ছে।

বরিশাল রহমতপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গেলে তার সচিত্র দেখতে পাবেন পুকুরে। পানিতে সারি সারি বেডে ভাসছে নানা জাতের সবজি ও মসলার বেড। দক্ষিণাঞ্চলে সনাতন পদ্ধতিতে বছরের পর বছর এই ভাসমান বেডে চাষ পদ্ধতিকে আরও আধুনিক রূপ দিয়ে তা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রটি। সাথে অন্যান্যদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরই মাঝে এই আধুনিক প্রযুক্তিগত কৃষকের মাঝে বেশ সারা ফেলেছে। তাই দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা। টমেটো, পাতা কপি, ফুল কপি, লাউ, করল্লা ও মিষ্টি আলু থেকে শুরু করে মসলা জাতীয় কাঁচামরিচ, পিয়াজ, রসুন আদাসব কিছুই চাষ হচ্ছে ভাসমান বেডে। সহজেই বছরে ১২ মাস চাষ করা যায় এই বেডে। বেড তৈরি থেকে শুরু করে গাছের চারা রোপণ করার উপায় বলছেন এই কৃষক।

 

কৃষক মো. আল আমিন বলেন, প্লাস্টিকের ৬ ইঞ্চির পাইপের দুই মাথা বেঁধে তার সাথে বাঁশের চেড়া বেঁধে নেট দিয়ে কচুরিপানা রেখে বেড তৈরি করেন। এই বেড দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। মাটিতে যত ধরনের সবজি চাষ করা যায় তা এই ভাসমান বেডে চাষ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় আমরা ভাসমান কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ভাসমান কৃষির মাধ্যমে বাংলাদেশে ৫ ভাগের এক ভাগই জলজ যায়গা। সেই জলজ যায়গাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি মসলা ও সবজি উৎপাদনে আমরা এগিয়ে যাবো। দক্ষিণাঞ্চলের ২০০ বছরের ঐতিহ্য ভাসমান বেডে সবজি চাষকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে এই প্রকল্প পরিচালক।

প্রযুক্তিগুলো সফল হওয়ায় কৃষকের মাঝে বেশ সারা ফেলেছে বলে জানিয়েছে বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিমল চন্দ্র কুন্ডু। তিনি বলেন, ২০০ বছরের ঐতিহ্য। আগে এভাবে চারা উৎপাদন করা হতো। সেটিকে আমরা উন্নত করে এখন সবজির চাষ করছি। এভাবে মিষ্টি কুমড়া, শসা, লাউসহ বিভিন্ন সবজি ব্যাপক ভাবে উৎপাদন করা যায়। এর মাধ্যমে আমরা যেমন মাছ পাচ্ছি পাশাপাশি শাকসবজিও পাচ্ছি।

উল্লেখ্য, দেশের ২০ হাজার হেক্টর জলা ভূমিতে কোন আবাদ হয়না। ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ জনপ্রিয় করনে এরই মধ্যে ১৮শ হেক্টর জলাভূমি ভাসমান বেডের চাষের আওতায় এসেছে। এছাড়া জলমগ্ন ও অর্ধ জলমগ্ন ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগামীতে ২০ হাজার হেক্টর জলমগ্ন জমিতে চাষাবাদ করার আশা ব্যক্ত করেছে কৃষি বিভাগ।




৭০ বছরে লক্ষাধিক গাছ লাগানোর দাবি গলাচিপার সিরাজুলের

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): শুধু নিজের বাড়িতেই নয় অন্যের বাড়িতে, সড়কের পাশে, মূলত খালি জায়গা পেলেই সেখানে গাছ লাগিয়ে আসেন এবং পরে তা পরিচর্যাও করেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বআটখালী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম। গ্রামে অনেকেই তাকে গাছ পাগল নামে ডাকেন। ৭০ বছর ধরে লক্ষাধিক গাছ লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন সিরাজুল।

সিরাজুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৮০ বছর বয়সী সিরাজুল ১৯৮৬ সালে কামিল পাস করে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করেছেন। এর আগেই ১০ থেকে ১১ বছর বয়সে গাছ লাগানোর প্রতি তার ঝোঁক ছিল এবং সেই থেকে গাছ লাগাতে থাকেন। ইতোমধ্যে লক্ষাধিক গাছ লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন সিরাজুল ইসলাম। এর মধ্যে ফলজ হিসেবে নারকেল, সুপারি, পেয়ারা, জাম্বুরা, গাবগাছ ছাড়াও তালগাছ, মেহগনি, চাম্বল, সুন্দরী গাছও লাগিয়েছেন তিনি।

সিরাজুল ইসলাম জানান, শুধু নিজের বাড়িতেই নয় অন্যের বাড়িতে, সড়কের পাশে, মূলত খালি জায়গা পেলেই সেখানে গাছ লাগিয়ে আসেন। পরে তা পরিচর্যাও করেন তিনি। শুধু নিজের গ্রামেই নয়, আশেপাশের অন্তত ১০ গ্রামজুড়ে আছে তার লাগানো নানান প্রজাতির গাছ।

গাছ লাগানোর ভাবনা কীভাবে এলো জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে অনেক কারণেই গাছ লাগানোর ভাবনা আসে। যেমন হাদিস শরীফে আছে গাছ লাগানো সুন্নত, ছদকায়ে জারিয়া। সড়কের পাশে গাছ লাগিয়েছি পথিকের ছায়া দেয়ার জন্য। এ ছাড়াও সরকারের নির্দেশনা রয়েছে পতিত জায়গা রাখা যাবে না। এসব বিষয় চিন্তা করেই বেশি করে গাছ লাগাতে শুরু করেছি। মূলত গাছ লাগানো সুন্নত, গাছে অক্সিজেন দেয় এমন ধারণা থেকেই গাছ লাগানোর প্রথম ভাবনা।’
বর্তমানে নানা অসুখে ভুগছেন সিরাজুল ইসলাম। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা না করাতে পারাসহ আছে অনেক আক্ষেপ। আর্থিক সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি সিরাজুলের শেষ ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার।

সিরাজুল ইসলাম আরো জানান, অর্থের প্রয়োজনে তিনি গাছ বিক্রিও করেন, তবে যাদের জায়গায় গাছ লাগিয়েছিলেন তাকেও বিক্রির অর্ধেক ভাগ দিচ্ছেন তিনি। বাকি টাকা দিয়ে বাড়িতে চারা উৎপাদনে ব্যয় করছেন। এক সময় বাজার থেকে চারা কিনে রোপণ করলেও এখন অর্থের অভাবে তা পারছেন না সিরাজুল। সম্পত্তি বলতে রয়েছে, তার ৬০ শতাংশ জমি। এতে তার তিন মাসের সংসার চলে। বাকি নয় মাস মেয়েদের সাহায্যে চলতে হয় তাকে। গাছের চারা কিনতে না পারায় এখন বাড়িতেই চারা উৎপাদন করছেন তিনি।
স্থানীয়রা সিরাজুলের গাছ লাগানোকে সমর্থন করছেন। তার দেখাদেখি সমাজের আরও মানুষ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে বৃক্ষরোপণে।

বাড়ির পাশে সিরাজুলের ভাইয়ের ছেলে দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘আমার বৃদ্ধ চাচার এই গাছ লাগানো নেশায় পরিণত হয়েছে। সারাদিন গাছ লাগানোয় ব্যস্ত থাকবে, আবার রাত হলে কলস ভর্তি পানি নিয়ে গাছের গোড়ায় ঢালবে। অন্যের বাড়িতে গাছ লাগানোর পর দিনরাত গাছের পরিচর্যা করার সময় অনেকে বিরক্ত হলেও চাচার হাসিতে সবাই চুপ হয়ে যায়। অনেকে তো চাচাকে গাছ পাগল বলে ডাকে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের লাইন টানার সময় চাচার কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। গাছগুলো রক্ষা করতে না পেরে তখন আমার চাচা কেঁদেছিলেন। আমার চাচা এখন নানা অসুখে ভুগছেন। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না।’

একই গ্রামের মুদি দোকানদার মনির হোসেন বলেন, ‘গাছ লাগানো যেন তার নেশা আর পেশায় পরিণত হয়েছে। আমাদেরও ভাল লাগছে তার গাছ লাগানোর অবস্থা দেখে। আগে যেহানে খালি জায়গা ছিল এহন হেইআনে ওনার লাগানো গাছ অনেক বড় অইছে।’

ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘আমি মুগ্ধ হয়েছি সিরাজুল ইসলামের গাছ লাগানোর দৃশ্য দেখে। আমার ইউনিয়নের এই গ্রামটির চেহারাই পাল্টিয়ে দিয়েছেন তিনি, শুধু গাছ লাগিয়ে। এখন সবুজে সমারোহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে সরকারিভাবে ইউনিয়ন পরিষদে গাছের কিছু চারা বরাদ্দ দেয়া হয় সেখান থেকে কিছু চারা আমরা সিরাজুল ইসলামকে দেয়ার ব্যবস্থা করব। যাতে তার একটু সুবিধা হয়।’

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল হেলাল বলেন, ‘নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানোর বিষয়টি জানা আছে তার। এটি একটি ব্যতিক্রম বিরল ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যদি সে চায়, তাহলে তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছের চারা, বীজ, সার, কিটনাশকসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।’




কলাপাড়ায় বরই চাষে মিজানের চমক

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : বাগানের চারদিকে তাকালে শুধু বরই আর বরই। ছোট গাছগুলো বরইয়ের ভারে নুইয়ে পড়েছে। আপেলের মতো দেখতে লাল টুকটুকে বড় বড় বরই শোভা পাচ্ছে গাছে। গাছগুলো রোপনের পর সঠিক পরিচর্যায় বেড়ে উঠে মাত্র সাত মাসে দারুণ ফলন দিয়েছে। গাছে গাছে দুলছে লাল আভা ছড়ানো থোকায় থোকায় কুল। পাকতে শুরু করেছে সপ্তাহ তিনেক আগে থেকে। বিক্রিও শুরু হয়েছে। আকার ও স্বাদে ভালো হওয়ায় বাজারে মিজানুর রহমানের বাগানের কুলের চাহিদাও অনেক। এখন ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

বরইয়ের দৃষ্টিনন্দন এ বাগান গড়ে তুলেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিযাখালী ইউনিয়নের মধ্য টিয়াখালীর
গ্রামের মিজানুর রহমান। বরই চাষী মিজানুর রহমান মধ্য টিয়াখালীর গ্রামের সাবেক মেম্বার ফকরুদ্দিনের ছেলে।

শীতকালীন অন্যান্য ফলের তুলনায় বরই অনেক বেশি সুস্বাদু। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকুলে ও ফলন ভালো হওয়ায় বরইয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে।
এক সময় দেশি টক জাতীয় বরইয়ে বাজার ভরা থাকলেও এখন কৃষি গবেষণার ফলে আমাদের দেশে অনেক ধরনের সুমিষ্ট ও সুস্বাদু বরই উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। অবশ্য বরইকে অনেকে কুল নামেও চেনে-জানে। দেশি টক জাতীয় বরইয়ের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক জাতের নারকেল বরই, আপেল কুল, বাউকুল ও থাইকুল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বরইয়ের আবাদ হচ্ছে। বরই চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হচ্ছে। বরই এমন একটি ফল- যা শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তবে টক বরইয়ের চাহিদাও রয়েছে এক শ্রেণির মানুষের কাছে। এ মুখরোচক ফলটি শীতকালে আমাদের দেশের প্রায় সব অঞ্চলে পাওয়া যায়। শখের বশেও অনেকে বাড়ির ছাদে বরইয়ের চাষ করছেন। সুস্বাদুর পাশাপাশি বরই পুষ্টিগুণে ভরা। বরইয়ে রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়ামসহ নানা উপাদান- যা মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মিজানুর রহমানের বাগানে কুল গাছে ভরা। লাল সাদা আর মেরুন রঙ্গেরবাহারি ফলে ভরে গেছে গাছগুলো। কর্মচারীরা ঝুড়ি ভর্তি করে বিক্রির জন্য গাছ থেকে ছিড়ছেন পাকা কুল। পাখির ছোবল থেকে কুল রক্ষার জন্য পুরো বাগান জুড়ে টানিয়ে দেয়া হয়েছে জাল। চলতি মৌসুমেরশুরু থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা তার বাগান থেকেই বড়ই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
এখন মিজানের বাগানে ৪২৫টি মতো বরই গাছ রয়েছে। মাত্র ৭ মাসের মধ্যেই প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণে বরই ধরেছে। স্বাদে সুমিষ্টি হওয়ার কারণে এক মন বরই চার হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এ থেকে প্রথম বছরেই বিপুল টাকা আয় করার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে তাদের বাগান থেকে বারোমাসি থাই পেয়ারা আম ও বিক্রি করবেন। বর্তমানে তার বাগান ২০৫ শতাংশ জমি রয়েছে।

বরই চাষী মিজানুর রহমান জানান, কৃষি অফিস থেকে আমাকে অনেক সুপরামর্শ দিয়েছে। আগামি বছর আরো ভাল ফলন ফলাতে পারবো বলে আশা করি। সাত মাসের মাথায় গাছগুলো মাশআল্লাহ ভালো ফলন দিয়েছে। তবে এ বছর শেষের দিকে আবহাওয়া খারাপ থাকায় অনেক ফুল ঝড়ে পাড়েছে ও পাখির আক্রমনে অনেক বরই নষ্ট হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, মিজান একজন সফল চাষি। তাকে কৃষি অফিস সকল সহযোগীতা করে যাচ্ছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন। তারা কুল চাষে কৃষকদের সব রকম পরামর্শ দিয়ে আসছেন।




কেঁচো সার বিক্রি করে স্বাবলম্বী পটুয়াখালীর মাকসুদা

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মাকসুদা আক্তার (২৮) কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) উৎপাদন করে এখন স্বাবলম্বী। এ সারকে ভার্মিকম্পোস্ট বলা হয়। ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করে ক্রমেই চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি। স্বল্প মূলধনের এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে চান মানুষের মাঝে। প্রতি মাসে এ সার বিক্রি তিনি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা উপার্জন করছেন।

সম্প্রতি পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামে মাকসুদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে একচালা টিনের ঘর। ওই ঘরেতে তিনি কেঁচো সার উৎপাদন করে থাকেন। ঘরের মেঝেতে নিজের হাতে বানানো ৫টি মাটির চারি (পাত্র) ও ৬ টি রিং স্লাব রয়েছে।

মাকসুদা আক্তার বলেন, ২০১৫ সালে তিনি কুয়াকাটায় এক উদ্যেক্তার ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন দেখে অনুপ্রাণিত হন। তারপর কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিতে বলি। ওই সময় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিলে অল্প পরিসরে ছোট একটা পাত্রে কেঁচো সার তৈরি করি।
তিনি কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছেন। প্রথমদিকে একটু কষ্ট হলেও এখন ভালোই বিক্রি হচ্ছে। কোঁচো সার উৎপাদনে উপকরণ হিসেবে থাকছে কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈর, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাকসবজির উচ্ছিষ্ট। আমার চারি (পাত্র) বেশ বড় আকারের। প্রতি চারিতে প্রায় ৬ মণ সার রাখা যায়। আমার এখানে কেঁচোর বংশবিস্তার হচ্ছে। তাই বাহির থেকে আমার আর কেঁচো সংগ্রহ করতে হয় না।

তিনি আরো জানান, প্রথমে গোবর সংগ্রহ করে ১০ দিন যাবত পচাতে হবে। গোবরে যদি পানি থাকে তাহলে রোদে শুকাতে হবে। তারপর ওই গোবর ঠান্ডা করে চারিতে (পাত্র) রাখতে হবে। তারপরে কেঁচো দিতে হবে। তারপর কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈল, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাক-সবজির উচ্ছিষ্ট মিশিয়ে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দেয়া হবে । কেঁচো আবার ছায়া বা অন্ধকার জায়গা পছন্দ করে। এভাবে ১ মাসের মধ্যে তৈরি হয় ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার। আমার এখানে এখন ৩ লাখ টাকার কেঁচো সার রয়েছে। প্রতি কেজি সার ১৫ টাকা করে বিক্রি করি। ১ কেজি কেঁচো ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। এ ছাড়াও কেঁচো ২ টাকা পিচ হিসেবে বিক্রি করি। আমার সংসার ভালোই চলতেছে। ভবিষ্যতে আমার খামারে আরো বেশি পরিমাণ কোঁচো সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আমি ব্লু গোল্ড প্রেজেক্টের আওতার আমি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।
কিভাবে কেঁচো সার করি তা দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে আমার এ খামার মানুষ আসতেছে। এটা আমার কাছে ভালোই লাগে। আমি চাই নারীরা এগিয়ে আসুক। এ সার উৎপাদন করে আমার মত তারা স্বাবলম্বী হোক। সহজেই কম পুঁজিতে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। এখন বাজারে রাসায়নিক সারের মান খুবই খারাপ। আবার দামও বেশি। সেখানে ভার্মিকম্পোষ্ট পুরোপুরি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি একটি সার। এ সারের দামও কম। তাই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সারটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

স্বামী নুরুজ্জামান খান জানান, নারীরা যদি ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করতে পারে তা তো ভালোই। এ সারটি যে কোন নারী তার ঘরে বসে উৎপাদন করতে পারবে। আমি আমার স্ত্রীকে সার তৈরিতে যথেষ্ট সাহায্য করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ। ক্রমেই মাটির প্রাণ হ্রাস পাচ্ছে তাই আমরা জৈব সার প্রয়োগের উপরে জোর দিচ্ছি। কেঁচো সারে ফলন ভালো হয় এটা প্রমাণিত। তাই আমরা চাষিদের সবজি খেতে ও ফলের বাগানে ভার্মিকম্পোস্ট সার প্রয়োগ করতে বলি। স্বল্প পরিসরে হলেও এখানে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হচ্ছে। ভার্মিকম্পোস্টকে কেন্দ্র করে উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের। পাশাপাশি এ জেলাকে ভার্মিকম্পেস্ট সম্পন্ন জেলা হিসেবে পরিণত করা। এ সারের যতই ব্যবহার বাড়বে ততই ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসবে।




দশমিনায় গরীবের সরকারি চালে উকিল, ব্যবসায়ী, চালের ডিলারের ভাগ!

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার দশমিনায় গ্রামীণ নারীদের চরম দরিদ্র অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অসচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তদের দুই বছর মেয়াদে মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার চূড়ান্ত তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভিডব্লিউবি চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন আটকে দিয়েছেন।

বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব ফেজবুক পেজে ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ নামের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত নামের তালিকা ধরে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসচ্ছলদের পরিবর্তে উকিল, ব্যবসায়ী, চালের ডিলার, সাংবাদিক এবং স্বচ্ছল পরিবারসহ প্রভাবশালীদের নাম ভিডব্লিউবি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রতি বছরের মতো ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচি ১ জানুয়ারি থেকে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ। এ বছর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভিজিডি কার্যক্রমের নাম পরিবর্তন করে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) করেছে। দশমিনা উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৮৭২টি ভিডব্লিউবি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ ৩ হাজার ৮৭২টি নাম যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা করেন। পরে তা অনুমোদনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।

নিয়ম অনুযায়ী আগের বছর কোনো ব্যক্তি সুবিধা নিলে ও সচ্ছল কোনো পরিবার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না। কিন্তু দশমিনায় বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। ওই তালিকায় উকিল, সাংবাদিক, জুয়েলারি ব্যবসায়ী এবং চালের ডিলারসহ প্রভাবশালী ও অধিকাংশ ধনী পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত অসচ্ছল এবং দুঃস্থ নারীরা।

ভিডব্লিউবি তালিকায় অনিয়ম থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুমোদন না দিয়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আটকে দেয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া হলে এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।

সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিপন কর্মকার বলেন, ‘কেউ মারা গেলে বা এলাকা ছেড়ে চলে গেলে তখন আমরা কী করবো। এ কারণে আমাদের অতিরিক্ত কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। তাই আমার ভাই এবং নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য উপজেলায় পাঠিয়েছি। এ তালিকায় এদের নাম আসলো কীভাবে, তা আমার বোধগম্য নয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ‘পরিপত্র মেনে যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে আমি জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের বলেছি। টাকা লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক করেছি বিভিন্ন উঠান বৈঠকে ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরও অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি বঞ্চিতদের নেওয়া ও অযোগ্যদের বাদ দিতে। যারা অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




কনকনে শীতেও গরম পটুয়াখালীর সবজির বাজার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাজার গুলোতে শীতকালীন তাজা সবজিতে ভরপুর। তবে শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুম হলেও দাম অনেক চড়া। সবজির এমন দামে হতাশ ক্রেতারা।

তারা বলছেন, অন্যান্য বছর শীতের এই সময়ে সবজি ছিল হাতের নাগালে। এবার শীতের কাঁচা বাজারে ছড়িয়েছে উত্তাপ।

সকালে উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও ফুলকপি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধনিয়া পাতা ৯০ থেকে ৯৫, বেগুন ৭০ থেকে ৮০, মুলা ৫০ থেকে ৫৫, টমেটো ১০০ থেকে ১১০, মরিচ ১২০ থেকে ১৩০, পুঁইশাক ২০ থেকে ২৫, শিম ১০০, বরবটি ৮০, সাদা বেগুন ১০০, তিতকরলা ৬০ থেকে ৭০, কাঁকরোল ৫০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে।

ক্রেতা ওমর ফারুক বলেন, শীতে তো শাকসবজির দাম কম হওয়ার কথা। সবজির যে দাম তাতে বাজারে আসলে মনে হয় সবজির খুব সংকট। কিন্তু বাজারে তো ভরপুর সবজি তবুও চড়া দাম কেন? এত টাকা দিয়ে সবজি কিনে সংসার চালানো দায়।

বিক্রেতারা বলছেন, মোটামুটি সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। শীতকালে বাজারে সাধারণত লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, দেশি পেঁয়াজ, ভারতীয় পিঁয়াজ, বেগুন, মুলা, লালশাক, পালংশাক, পটোল, ঢেঁড়স, বরবটি, ঝিঙা, পেঁপে, আলু, করলা, কচু, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিতে ভরপুর থাকে। কৃষকের সবজি উৎপাদনে খচর বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে বেড়েছে সবজির দাম।

কুয়াকাটা কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইয়াসিন মুসল্লী বলেন, সবজির দাম অন্যবারের তুলনায় বেশি। তবে সরবরাহের বড় কোনো ঘাটতি নেই। আগের চেয়ে পরিবহন ভাড়া একটু বেড়েছে। এরপরও মৌসুমের এই সময়ে দাম এত বেড়ে যাওয়ার কথা নয়। তবে সামনের দিকে দাম কিছুটা কমতে পারে।




২২ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা কমতে পারে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সর্বনিম্ন রাতের তাপমাত্রা দেশের উত্তরাঞ্চলে কিছুটা বেড়েছে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কমে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের আওতা বেড়েছে। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) দুই বিভাগ (১৬ জেলা) ও ছয় জেলাসহ মোট ২২ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। তবে এরপর রাতের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করতে পারে। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও উত্তরাঞ্চলে এখনও শীতের তীব্রতা রয়েছে। তীব্র শীতে জনজীবনে জবুথবু অবস্থা। বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিকতা।

তবে সারাদেশে ঘন কুয়াশা পরিস্থিতির ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা

শুক্রবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। শনিবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তবে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি থেকে কমে হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত রাতে ঢাকায় শীত অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী-অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন চলাচল ব্যাহত হতে পারে

তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এ সময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানান আবুল কালাম মল্লিক।

রোববার সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী পাঁচদিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।