চাকরি ছেড়ে সবজি চাষে সফল বরিশালের লিটু

বরিশাল অফিস :: নিজের মেধা আর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে কৃষি কাজ সফলতা পেয়েছেন বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার গিয়াস উদ্দিন লিটু। মৌসুমী সবজি, ফল ও ফুলের চাষ করে সাবলম্বি হয়ে উঠেছেন তিনি।

গিয়াস উদ্দিন লিটু নগরীর ২৭নং ওয়াডস্থ কাশিপুরের করঞ্জা গ্রামের মৃত হাসেম আলী সরদারের ছেলে। তিনি পল্লিবিদ্যুতে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি কৃষি কাজ শুরু করেন। কৃষি কাজ লাভজনক হওয়ায় চাকরি ছেড়ে দেন তিনি মনোযোগী হন কৃষি কাজে। অবশেষে একজন সফল চাষি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হন লিটু।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়- নিজ জমিতে সেচের কাজ করছে লিটু। কৃষি কাজে তাকে সহায়তা করে আসছেন তার স্ত্রী ও ছেলেরা। তার বাগানে উল্লেখযোগ্য সবজি হচ্ছে, টমেটো, হাইব্রিট শালগম, বাধাকপি, ফুলকপি, শিম চাষ করেন। ফলের মধ্যে রয়েছে আমের বাগান।

লিটু জানান- প্রায় ৮-১০ বছর ধরে কৃষি কাজ করছেন তিনি। নিজের জমিতেই গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন রকম ফল ও সবজির বাগান। এ সকল সবজি ফলাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। প্রাকৃতিক পরিবেশে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে তিনি চাষবাদ করেছেন। তার জমিতে কোন রকম কীটনাশক ব্যবহার করা হয়না। ফলে একদম দেশীয় স্বাদে ক্রেতারা সবজি কিনে খেতে পারছেন। প্রায় এক একর জমিতে এ সকল ফসল ফলানো হয়। এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। সবকিছু ঠিক ঠাক থাকলে এবার ফসল বিক্রি করে আসতে পারে ১ লাখ টাকা।

গিয়াসউদ্দিন লিটু আরও বলেন- সম্পূর্ণ অর্গানিক প্রদ্ধতিতে হাইব্রিট সবজির চাষ করি। যে কারণে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়। আর বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারি। চাকরি বাদ দিয়ে হালাল উপায়ে ভালো উপার্জন করা যায়। এতে অনেক লাভবান হওয়া যায়। আমি সরকারি সকল সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে থাকি। কৃষি সম্প্রসারন থেকে সবজির বীজ, সারসহ সকল ধরনের তথ্য পেয়ে থাকি।

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মুরাদুল হাসান বলেন, কৃষক কৃষি ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক ঘোষিত যে কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তা দেয়া হবে। বর্তমানে কৃষকদের পারিবারিক ভাবে স্বর্নিভর করতে ও দেশের কৃষিজাত পণ্যের সার্বিক উন্নয়নে সকল প্রকার সহায়তা করতে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।




ভেজাল বীজের সংবাদ , এসআর সিড কোম্পানির প্রতিবাদ

বরিশাল অফিস :: গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ভেজাল শসা বীজে ভোলার কৃষকের সর্বনাশ’ নামে একটি প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়৷

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভেজাল বীজের কারণে ভোলার প্রায় ৫০০ একর জমির শসা পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় এসআর সিড কোম্পানি অ্যাগ্রো বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কোম্পানির জেলা এরিয়া ম্যানেজার মো. মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, ভেজাল বীজের কারণে শসা গাছের ক্ষতি হয়নি। কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার অভাব, মাটির গুনগতমান ও আবহাওয়াজনিত কারণে শসা বীজের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় ডিলার মাকসুদুর রহমানের কাছ থেকে এসআর সিড কোম্পানি টাকা পাবে। এ টাকার জেরে ডিলার মাকসুদুর রহমানের ইন্ধনে কৃষকরা গাছের সঠিক পরিচর্যা না করে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন। যার কারণে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসআর সিড কোম্পানির একটি প্রতিনিধি দল রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন পরিদর্শন করে নষ্ট হওয়া গাছ ল্যাবে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এসআর সিড কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশে ডিলারের ইন্ধনে কৃষকরা এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে।

গেল মঙ্গলবারের প্রতিবেদনটি ছিল- প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কৃষকরা আশা করেছিল শসা চাষ করে সংসারের খরচ মেটাবেন। কিন্তু এ আশা তাদের গুড়ে বালি। ভেজাল শসার বীজ আবাদ করে ব্যাপক লোকসানের শিকার হচ্ছেন তারা। এ অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন ভোলা সদর উপজেলার কৃষকেরা। এর মধ্যে অ্যাগ্রো বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানির ‘এসআর সিড’ নামের জাতের শসার বীজ এবার সর্বনাশের ক্ষতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। সম্প্রতি সরেজমিন গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বীজ বিক্রেতারা এমন অভিযোগ করেছিলেন।




বরিশালে ১৫ লক্ষ টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে কৃষকরা

বরিশাল অফিস :: ঘূর্ণিঝড় মিধিলি ও সিত্রাং-এর বয়ে আনা অকাল বর্ষণে এবার বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ বিলম্বিত হবার সাথে মধ্যসত্ত্বভোগীদের নানা কারসাজিতে বাজারে শীতকালীন শাক-সবজির দাম অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশী। কিন্তু যে কৃষক এ সবজি উৎপাদনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন তারা দাম না পাওয়ায় তাদের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। চলতি রবি মৌসুমেও দেশে উৎপাদিত প্রায় দেড় কোটি টন শীতকালীন সবজির প্রায় ১৫ লাখ টনই উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। নিকট অতীতেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবজির ওপর যে নির্ভরতা ছিল বরিশাল অঞ্চলের, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকটা হ্রাস পেলেও এবার অক্টোবর ও নভেম্বরে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা দুটি ঘূর্ণিঝড়ের বয়ে আনা অকাল বর্ষণে শীতকালীন শাক-সবজি সহ রবি ফসলের আবাদ যথেষ্ট বিলম্বিত হওয়ায় এ অঞ্চলে সবজির প্রাপ্যতা বিলম্বিত হচ্ছে।

ফলে পশ্চিমাঞ্চলের সবজি বরিশালের বাজারে যোগান দিতে পরিবহন ব্যয়ের সাথে কয়েক দফার হাত বদলে দাম আকাশ চুম্বি। এখনো বরিশালের বাজারে ফুলকপির কেজি ৪৫-৫০টাকা, বাঁধাকপি’ও প্রায় একই দামে বিক্রী হচ্ছে। বেগুনের কেজি ৮০ টাকার ওপরে। অন্যন্য সবজির দামও বেশি। অথচ গত বছর এ সময়ে এসব সবজির কেজি ২০-২৫ টাকার বেশী ছিল না।

গত দু দশকে বরিশাল অঞ্চলে সবজির আবাদ ও উৎপাদন তিনগুনের বেশী বাড়লেও তা সম্পূর্ণভাবেই প্রকৃতি নির্ভর। তবে কৃষিবীদদের মতে, ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি’ উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত মানের সবজি বীজ সহ আবাদ প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছলে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুনে পৌঁছান সম্ভব হবে।
চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে। উৎপাদন লক্ষ্য রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টন। ভাটি এলাকার পাশাপাশি এবার অগ্রহায়ণের অকাল বর্ষণে এ অঞ্চলে এখনো শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন বাড়ীঘরের আঙিনায়ও বিপুল পরিমান সবজির আবাদ হচ্ছে। ডিএই’র মতে, বিগত অগ্রহায়ণের শেষভাগে অকাল বর্ষণে এ অঞ্চলে শতাধীক কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক ধাক্কা খেলেও সে ধকল অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠতে সহায়ক হবে শীতকালীন সবজি সহ রবি ফসল। ইতোমধ্যে মাঠে মাঠে সবজির অবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে উৎপাদন ১৫ লাখ টনে পৌঁছবে বলেও আশাবাদি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের।

এ ব্যাপারে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, অগ্রহায়ণের অকাল বর্ষণ আমনের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত করার পাশাপাশি শীতকালীন শাক-সবজি সহ রবি ফসল আবাদও বিলম্বিত করেছে। তবে তার পরেও কৃষকরা সব কিছু সামলে নিয়ে শীতকালীন সবজি সহ রবি ফসল আবাদে যথেষ্ট মনযোগী বলেও জানান তিনি।

ইতোমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদিত লালশাক, পালংশাক, শালগম, গাজর, ও মূলা সহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরো নতুন সবজি আসবে। তবে এর বাইরে এখন লাউ সহ বেশ কিছু সবজি বার মাসই আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। যা বাজারে রয়েছে। তবে এবার অগ্রহায়ণের অকাল বর্ষণের রেশ ধরে আবাদ বিলম্বিত হবার বিষয়টি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে মধ্যসত্বভোগিরা শীতকালীন কৃষি পণ্য নিয়ে ভোক্তাদের জিম্মী করে ফেলেছে। বাজারে সব ধরনের সবজির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশী হলেও কৃষকরা সে তুলনায় দাম পাচ্ছে না।

বরিশালের কৃষকরা শীতকালীন সবজি ছাড়াও বোরো ধান, গম ও ভুট্টা সহ বিভিন্ন দানাদার খাদ্য ফসল উৎপাদনের লক্ষেও মাঠে রয়েছেন। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১২ লাখ হেক্টরেরও বেশী বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ হচ্ছে। এরমধ্যে শুধু সাড়ে ৩ লাখ ৮২ হাজার হেক্টরে বোরো ধান আবাদের মাধ্যমে প্রায় ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, চলতি রবি মৌসুমে দেশে প্রায় দেড় কোটি টনের মত শীতকালীন সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ‘অভ্যন্তরীণ পূর্ণ চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানী বাজার ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে’ বলে আশা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র। ডিএই’র মতে ‘বিশে^র শতাধিক দেশে বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানী হচ্ছে। এরমধ্যে শীতকালীন সবজি অন্যতম। এ কারণে সরকার দেশে সবজি আবাদ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে’ বলেও জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়েল একটি সূত্র।

আমাদের ‘বারী’ মাঠ পর্যায়ে গবেষনা কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্যসব ফসলের মত বিভিন্ন ধরণের শীতকালীন সবজির উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। ফলে কম জমিতে অধীক ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা লাভবান হবার কথা থাকলেও বরিশালে মাঠ পর্যায়ে তার কাঙ্খিত সম্প্রসারণ ঘটছে না। অথচ বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বীজ ও আবাদ প্রযুক্তি এ অঞ্চলের কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সবজির আবাদ ও উৎপাদনে নিরব বিপ্লব ঘটে যেতে পারে বলেও মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।




বাউফলে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফলে রাতের আধারে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক এওয়াজ বদলকৃত জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কলতা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

আভিযোগ সূত্রে, উপজেলাধীন কলতা মৌজার এস.এ ৯৯নং খতিয়ান ও ঝিলনা মৌজার এস.এ ৯৬নং খতিয়ানে চাঁনভানু বিবি এবং একই মৌজার এস.এ ১১০/১৯১/১৩৩ নং খতিয়ানে পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে ও নিজ রেকর্ড সূত্রে মালিক জেন্নাত আলী খাঁন। উভয়ের ভোগ দখলের সুবিধার্থে পারস্পারিক সম্মতিতে ১৯৯৩ সালে বাউফল সাব-রেজিন্ট্রী অফিসে এওয়াজ বদল/ বিনিময়পত্র রেজিষ্ট্রী করেন। উভয় পক্ষের ওয়ারিশগণ এওয়াজ বদলকৃত জমি ভোগ দখল করে।

চান ভানুর পূত্র মৃত. মো. শামসুদ্দীন সিকদার, মৃত. মো. মাহতাব উদ্দীন সিকদার ও দুই কণ্যা মাহমুদা ও কহিনুর বেগমের ওয়ারিশগণ উক্ত কৃষি জমির উন্নয়ন করে গাছপালা লাগিয়ে বসতযোগ্য গড়ে তোলেন অপর পক্ষ কৃষি জমি হিসাবে ভোগ করে।

এওয়াজ বদল মিথ্যা দাবী করে প্রায় ২৩ বছর পর জেন্নাত আলী খাঁনের ওয়ারিশ মজিবর, মালেক ও খসরু গণেরা সম্প্রীতি জোর পূর্বক ক্ষমতার প্রভাব ঘাটিয়ে চাঁন ভানুর ওয়ারিশ মাহবুব সিকদার, জামাল সিকদার গণের ভোগদখলকৃত জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করে এবং গাছপালা বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা খসরু খাঁন বলেন, আমরা কোর্ট থেকে রায় আনছি।

রায়ের প্রসঙ্গে মাহবুব সিকদার বলেন, তারা ৯৩ সাল এওয়াজ বদলকৃত জমি ভোগ দখলে আসছেন। তারপরও গোপনে ০৬’সালে একতরফা রায় করিয়েছেন। রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করায় আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালত কমিশন রিপোর্টের জন্য ইউএনও মহদোয়কে নির্দেশ দিয়েছে।

এব্যাপারে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বরগুনায় কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলীতে সরিষা চাষে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে। কম সময়ে, কম খরচে অধিক ফলন পাওয়ায় এই সরিষা আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এ বছরও ভাল ফলনের আশা করছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ভাল ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। কৃষি আবাদ থেকে হারিয়ে যাওয়া সরিষা আবার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ফিরে এসেছে। সরিষা ফুলের হলুদে হলুদে ছেয়ে গেছে তালতলী উপজেলার মাঠ-প্রান্তর। মাঠভরা হলুদ ফুল দেখে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক।

কম খরচ ও পরিশ্রমে অধিক ফলন পাওয়া যায় সরিষা চাষে। পাশাপাশি ফসল বিক্রি করে ভালো দামও পাওয়া যায়। তাই সরিষা চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন তালতলীর কৃষকরা। মাত্র তিন মাসে সরিষা ঘরে তুলতে পাড়ায় এখন একই জমিতে সরিষা, ইরি ও আমন চাষ করছেন কৃষকরা। তিনটি ফসল চাষ করতে পেরে বোনাস ফসল হিসেবে সরিষা চাষে বিপ্লব ঘটেছে কৃষকদের মাঝে। সরিষার চাষে উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবানও হচ্ছে।

মোমেশে পাড়া গ্রামের কৃষক চান থান রাখাইন বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে সরিষার ফলন হয় প্রায় ৮ মণ। তাই প্রতি বিঘা সরিষা চাষে সর্বোচ্চ পাচঁ থেকে ছয় হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। বিক্রি করা যায় কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকায়। ফলে প্রতি বিঘা সরিষা আবাদে খরচ বাদে মোট লাভ দাঁড়ায় ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা।’

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি কৃষক হয়েও প্রণোদনার সার বীজ পাইনি, কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা ও পরামর্শ পেলে আগামীতে আরো ভাল ফসল ফলাতে সক্ষম হবো।’

নলবুনিয়া গ্রামের কৃষক শংকর সিকদার বলেন, ‘আমি কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার সার ও বীজ পেয়ে ১ বিঘা (৩০শতাংশ) জমিতে সরিষা চাষ করেছি, আমার ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভাল হয়েছে, আশা করি সাত থেকে আট মণ সরিষা হবে।’

কৃষকরা আরো জানান, ‘সরিষার পাতা মাটিতে পড়ে জৈব সার তৈরি হয়। তাই এইসব জমিতে পরে ফসল ইরি-আমন আবাদে নন-ইউরিয়া সার কম লাগে। এতে করে আমন আবাদে খরচ অনেক কমে যায়। এছাড়া সরিষার শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন তারা।’

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরিষার আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনামূল্যে বীজ-সারসহ নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছেন তারা।

তালতলী কৃষি বিভাগ জানায়, বারি-১৪, বীনা-৪ ও বীনা-৯ সরিষা আবাদ করা হচ্ছে। সারাদেশের মতো তালতলীতেও ৭০০ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। গত অর্থ বছরে তালতলীতে সরিষার আবাদ হয়েছিল যেখানে ২৭ হেক্টর, সেখানে চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হেক্টর কিন্তু আবাদ হয়েছে ১০০ হেক্টর। এই বৃদ্ধির ধারা আগামীতেও অব্যাহত রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই বিভাগ। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে থেকে সরিষার আবাদ বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এই বিভাগের কর্মীরা।

তালতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো: রাসেল জানান, ‘সরকার তেল ফসল বৃদ্ধির প্রকল্প হিসেবে সরিষার আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা দিয়েছে, তাই কৃষি বিভাগ থেকে সরিষা চাষে কৃষকদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরিষা আবাদের শুরুতে কিছু বৃষ্টি হয়েছে এরপরও ফলন ভাল হবে বলে আশা করছি।’

 




বাউফলে রাতের আধাঁরে জমি দখলের অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে রাতের আধারে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক এওয়াজ বদলকৃত জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কলতা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

আভিযোগ সূত্রে, উপজেলাধীন কলতা মৌজার এস.এ ৯৯নং খতিয়ান ও ঝিলনা মৌজার এস.এ ৯৬নং খতিয়ানে চাঁনভানু বিবি এবং একই মৌজার এস.এ ১১০/১৯১/১৩৩ নং খতিয়ানে পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে ও নিজ রেকর্ড সূত্রে মালিক জেন্নাত আলী খাঁন। উভয়ের ভোগ দখলের সুবিধার্থে পারস্পারিক সম্মতিতে ১৯৯৩ সালে বাউফল সাব-রেজিন্ট্রী অফিসে এওয়াজ বদল/ বিনিময়পত্র রেজিষ্ট্রী করেন। উভয় পক্ষের ওয়ারিশগণ এওয়াজ বদলকৃত জমি ভোগ দখল করে।

চান ভানুর পূত্র মৃত. মো. শামসুদ্দীন সিকদার, মৃত. মো. মাহতাব উদ্দীন সিকদার ও দুই কণ্যা মাহমুদা ও কহিনুর বেগমের ওয়ারিশগণ উক্ত কৃষি জমির উন্নয়ন করে গাছপালা লাগিয়ে বসতযোগ্য গড়ে তোলেন অপর পক্ষ কৃষি জমি হিসাবে ভোগ করে।

এওয়াজ বদল মিথ্যা দাবী করে প্রায় ২৩ বছর পর জেন্নাত আলী খাঁনের ওয়ারিশ মজিবর, মালেক ও খসরু গণেরা সম্প্রীতি জোর পূর্বক ক্ষমতার প্রভাব ঘাটিয়ে চাঁন ভানুর ওয়ারিশ মাহবুব সিকদার, জামাল সিকদার গণের ভোগদখলকৃত জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করে এবং গাছপালা বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা খসরু খাঁন বলেন, আমরা কোর্ট থেকে রায় আনছি।

রায়ের প্রসঙ্গে মাহবুব সিকদার বলেন, তারা ৯৩ সাল এওয়াজ বদলকৃত জমি ভোগ দখলে আসছেন। তারপরও আদালতের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করায় আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালত কমিশন রিপোর্টের জন্য ইউএনও মহদোয়কে নির্দেশ দিয়েছে।

এব্যাপারে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বরগুনা রঙিন স্বপ্নে আগাম তরমুজের চাষ

বরিশাল অফিস:: উপকূলীয় জেলা বরগুনা। এই জেলার চারদিকে নদী থাকায় কৃষিকাজে রয়েছে বাড়তি সুবিধা। জেলার আমতলী উপজেলা উৎপাদন হয় প্রচুর রসালো তরমুজ। আর সুস্বাদু তরমুজের জন্য বিখ্যাত উপজেলাটি। অল্প সময়ে বেশি লাভ পাওয়া যায় বলে দিন দিন তরমুজ চাষে ঝুঁকছে এখানকার বেশিরভাগ কৃষক। তরমুজ চাষের জন্য উপজেলার কৃষক পরিবারের সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আমতলী সদর, আঠারোগাছিয়া, গুলিশাখালী, কুকুয়া, হলদিয়া, চাওড়া ইউনিয়নে এ বছর ৫ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজ চাষে কৃষকরা মাঠে কাজ করছে। মাঠের পর মাঠ তরমুজের চারা রোপণের জন্য গর্ত তৈরি করছে। কেউ কেউ চারা রোপণ করছে।

সাহেববাড়ি এলাকার কৃষক মো. বাহাদুর বলেন, ‘গত বছর ভালো ফলন পাওয়ায় এবারও তরমুজ চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। কারও দম ফেলার অবস্থাও নেই। এ বছর ৯ একর জমিতে তরমুজ চাষ করছি।’ কুকুয়া এলাকার কৃষক মো. ইউসুফ বলেন, ‘এ বছর ১৬ একর জমিতে তরমুজ চাষ করছি। ঘরের নারীরাও সাহায্য করছে। সবাই এখন ব্যস্ত।’

পুরুষের পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যরাও কাজ করছে মাঠে। বেতমোড় গ্রামের রিজিয়া বেগম বলেন, ‘গত বছর বৃষ্টিতে তরমুজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই এ বছর আগাম চাষ শুরু করেছে কৃষকরা। আমরাও কাজে সহযোগিতা করছি। আশা করি এবার লাভবান হব সবাই।’

হলদিয়া এলাকার রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর দুই বিঘা বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভবান হব। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। নারী-পুরুষ সবাই মিলে মাঠে কাজ করছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ঈসা বলেন, ‘এ বছর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যেকোনো সমস্যায় কৃষি অফিস কৃষকদের পাশে রয়েছে। সুপারভাইজাররা নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম বলেন, ‘কৃষি বিভাগের সহায়তা ও পরামর্শে আমতলীসহ বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় কম খরচে ভালো ফলনের মাধ্যমে লাভবান হওয়ায় তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমে তরমুজের বীজ রোপণ শুরু করেছে কৃষকরা। জমি তৈরি থেকে মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় চার মাসের মতো সময় লাগে তরমুজ বিক্রি করতে। এ ছাড়া তরমুজ উচ্চফলনশীল হওয়ায় অনেকেই পরীক্ষামূলক তরমুজ চাষ শুরু করেছে। আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে তরমুজ চাষের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে। সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে কৃষকদের পাশে সব সময় আছি।’




লাঠিয়াল বাহিনী কাছে জিম্মি চরাঞ্চলের কৃষক

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সরকারের দেওয়া বন্দোবস্ত জমিতে আবাদ করতে গিয়ে লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে জুলুম-নির্যাতন ও খুন-খারাবির শিকার হচ্ছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাসের শত শত কৃষক পরিবার।

গত ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মুজিবনগরের লাঠিয়াল বাহিনীর হামলায় খুন হন কৃষক কাশেম মৃধা। আহত হন শতাধিক।

পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার আন্তঃসীমানা দ্বন্দ্বের ঘটনায় তিন-চার দশক ধরে চলছে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সীমানা জটিলতার এ দ্বন্দ্ব মেটাতে ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং ভূমি অফিসে চিঠি চালাচালিসহ থানা পুলিশ এবং স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও প্রতিকারের বদলে আর্থিক খেসারতসহ নানাভাবে হয়রানি হচ্ছে চরের এ পরিবারগুলো।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে কৃষিজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হলেও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মুজিবনগরের লাঠিয়াল বাহিনী ওই জমি গায়ের জোরে দখলে নিয়ে আবাদ করে। এসব দখলবাজির নেতৃত্ব দেন মুজিবনগরের সাবেক ইউপি সদস্য নাবীন বাতানসহ তার লোকজন।
সবশেষ পটুয়াখালীর উত্তর চরবিশ্বাসের কৃষক পরিবারের ওপর ভোলার চরফ্যাশনের লোকজন জুলুম-নির্যাতন না করার শর্তে কাশেম মৃধা খুনের মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা ভঙ্গ করে চরফ্যাশনের লোকজন তাদের জুলুম-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের কাছে গেলে আইনের নানা ফাঁকফোকর দেখিয়ে তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আনোয়ার হোসেন, মান্নান খান, আনিস খান, আসিয়া বেগম, ফাতেমা বেগম, রাহিমা বেগম, করিম দেওয়ান, আদম আলী দেওয়ান, ফজিলাতুনেচ্ছা, জয়নাল দেওয়ান, ফারুক দেওয়ান, কাশেম ফকির, আনোয়ার সরদার, জলিল ফকিরসহ অসংখ্য ভুক্তভোগী বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হলে আদালতের নির্দেশে বিরোধীয় জমির উৎপাদিত ফসল রক্ষণাবেক্ষণে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে রিসিভার নিয়োগ করা হয়। অথচ আদালতের আইন ভঙ্গ করে তারা গায়ের জোরে সব ফসল নিয়ে যায়।

ইউএনও মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, উল্লিখিত জমি নিয়ে আদালতে মামলা আছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

অভিযুক্ত নবীন বাতান বলেন, ‘ভোলার জমি পটুয়াখালী থেকে বন্দোবস্ত হওয়ায় আমরা সে জমি দাবি করছি। জরিপে তা প্রমাণিত, অথচ উত্তর চরবিশ্বাসের লোকজন তা না মেনে জমি দাবি করছেন। আমার কোনো বাহিনী নেই এবং কাউকে মারধরের বিষয়টিও সত্য নয়।




সরিষায় ক্ষতিকর কিছু নেই: ভোজ্য তেলের চাহিদার ৪০ ভাগ সরিষায় পূরণের টার্গেট

অনলাইন ডেস্ক : দেশে ভোজ্য তেলের যে চাহিদা রয়েছে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সেই চাহিদার ৪০-৫০ শতাংশ মেটানো হবে সরিষার তেল দিয়ে। আর এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গতবছর থেকেই সরিষার চাষ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষিবিভাগ ইতিমধ্যে ১২ লাখ কৃষককে বীজ, সারসহ নানামুখী প্রণোদনাও দিয়েছে, যাতে কৃষকরা সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়।

কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগের প্রভাব পড়েছে মাঠেও। আমন আবাদের পর মাঠ জুড়ে সরিষার আবাদ দেখা যাচ্ছে দেশ জুড়ে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ধানের উৎপাদন না কমিয়েই আগামী ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ১০ লাখ টন তেল উৎপাদন করা হবে, যা চাহিদার শতকরা ৪০ ভাগ। এর ফলে তেল আমদানিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. আবদুল্লাহ ইউছূফ আখন্দ বলেন, সরিষার ক্ষতিকর দিক হিসেবে যা বলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। এই তেলে অনেক গুনাগুন রয়েছে। যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশে সরিষার তেল খাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্ষতি হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ সরিষা কেন খাচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, সে দেশে প্রচুর সয়াবিন, সূর্যমুখী আবাদ হয়। এ কারণে তারা সেটা গ্রহণ করছে। সরিষা ক্ষতিকর এ কারণে তারা সয়াবিন খাচ্ছে এটা ভুল ধারণা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) গতবছর জানিয়েছে, দক্ষিণ এশীয়রা হৃদযন্ত্রের সক্রিয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করে এমন খাদ্য উপাদানের পরিবর্তে ইউরিক এসিড এবং ফ্যাটি এসিডযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ করে থাকে। সরিষার তেলে প্রচুর পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিড রয়েছে।

তথ্য বলছে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ রান্নার ক্ষেত্রে কতটুকু সরিষার তেল গ্রহণ বা ব্যবহার করা যাবে তার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে ভারতে লিপিড অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এলএআই) সরিষার তেলকে হৃদযন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর হিসেবে সুপারিশ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সরিষা নিয়ে গবেষণা করছেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোবারক আলী। তিনি বলেন, শীর্ষ কিছু জার্নালে সরিষা তেলের অপকারিতা সম্পর্কে বললেও তারা একই সঙ্গে বলেছে ‘ক্ষতি হতে পারে। তবে ক্ষতি হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।’ আবার এসব জার্নালে ব্যাবসায়িক প্রপাগান্ডাও থাকে বলে জানান এই গবেষক।




পটুয়াখালীতে বাড়ছে গোলপাতার গুড়ের কদর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে দেখা মিলল ৯৪ বছর বয়সি হোসেন আলী মুন্সির। তার বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধের বাইরে গোল গাছের সারি।

জানালেন ব্রিটিশ আমল থেকেই গোল চাষের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। গাছ থেকে আহরণ করেন গোলের রস। সে রস থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু গুড়। খেজুর রস বা আখের রস থেকে গুড় উৎপাদনের খবর সবার জানা থাকলেও গোলের গুড় সম্পর্কে অনেকেরই জানা নেই। কিন্তু সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে গোল পাতার গাছ থেকে গুড় তৈরি হওয়ার ব্যাপারটি বেশ পুরোনো। পটুয়াখালী বা এর আশপাশের অঞ্চলে এই গুড় বহুল পরিচিত।

গোল গুড় তৈরির প্রক্রিয়া অনেকটা খেজুর গুড় তৈরির মতোই। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে গোল গাছ পরিষ্কার করে ছড়া (গাছের যে অংশে ফল ধরে) নিচু করে বেঁধে দিতে হয়। এরপর আরও দেড় মাস ছড়া প্রতিদিন ঘষে ঘষে আরও নিচু করে দিতে হয়। কারণ ছড়া যত নিচু হবে রস আহরণে তত সুবিধা। অগ্রহায়ণ মাসের শেষের দিকে রস আহরণের সুবিধার্থে টানা ৭-৮ দিন দিনে দুই বেলা করে ছড়া কেটে দিতে হয়। এরপর ছড়ায় রস আসতে শুরু করে। কেটে দেওয়া প্রতিটি ছড়ায় পাত্র বেঁধে দেওয়া হয়। এক-একটি ছড়া থেকে আধা কেজি থেকে এক কেজি পর্যন্ত রস পাওয়া যায়। লবণাক্ত মাটিতে জন্মানো সত্ত্বেও গোল গাছের রস অন্য যেকোনো রসের চেয়ে বেশি ঘন আর মিষ্টি। রোজ সকালে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন চাষিরা। বাড়িতে রস জ্বাল দেওয়া হয়। রস জ্বাল দেওয়া বিশেষ পাত্রের নাম ডোঙ্গা। সেই ডোঙ্গায় ৪-৫ কেজি রস জ্বাল দিলে এক কেজি গুড় পাওয়া যায়।

এই এলাকায় বর্ষীয়ান গুড় চাষিদের একজন হোসেন আলী মুন্সি। তিনি নামেও মুন্সি আর কাজেও রেখেছেন মুন্সিয়ানার ছাপ। তার কাছ থেকে জানা গেল, গোল চাষ করতে প্রচুর লবণাক্ত পানি লাগে। পানি বেশি পেলে রস ভালো হয়। তার মতো অনেক বর্ষীয়ান গুড় চাষির হাত ধরেই গোল গুড়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। গুড় বিক্রি করে চলে তাদের সংসার। তার দেখাদেখি তার ভাই, তার ছেলে-মেয়েরাসহ আশপাশের অনেকেই গুড় চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

নিজের তৈরি করা গুড় নিয়ে কারিগর হোসেন আলী মুন্সি বলেন, ‘আমাগো গুড়ে কোনো ভেজাল নাই। আগে বাজারে লইয়া যাইতাম, এহন বাড়ি আইয়া মাইনসে গুড় কিন্যা লইয়া যায়। এ বছর ১৮০-২০০ টাকা দরে গুড় বেচতাছি। আমার ২০ কানি বাগান, যে রস পাই হেয়াতে প্রতিদিন ৫-৬ কেজি গুড় হয়। এইয়া দিয়াই সংসার চলে।’

গোল চাষের সীমাবদ্ধতা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হোসেন আলী মুন্সি বলেন, ‘আগে খালগুলা ছাড়া আছেলে এহন জায়গায় জায়গায় বান দিয়া পানি চলাচল বন্ধ কইরা ফালাইছে। অনেক জায়গায় খাল ভরাট হইয়া গেছে। ক্ষেতে ঠিকমতো পানি আয়ে না। হের লইগ্যা সেচ দেওয়া লাগে। সেচ দেতে অনেক খরচ হইয়া যায়। সরকার যদি এদিক নজর দেতে হেইলে আমাগো অনেক সুবিধা হইতো।’

জানা যায়, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ১০টি ইউনিয়নে হয় গোলের চাষ। বর্তমানে মিঠাগঞ্জে শতাধিক পরিবার গোল চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গোল গাছ থেকে শুধু রস বা গুড়ই নয়, গোলপাতা ঘরের ছাউনি বা বেড়া তৈরিতে লাগে। গোলপাতা বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন চাষিরা। এ ছাড়া গোল ফল বা গাবনা তালের শাঁসের মতো খাওয়া যায় এবং এর অবশিষ্টাংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পানি প্রবাহ ঠিক রাখাসহ সরকারের তরফ থেকে বীজের সুবিধা পেলে এসব এলাকায় গোল চাষ আরও ত্বরান্বিত হবে।

একই এলাকার গোল গুড় উৎপাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যে গুড় বানাই তাতে কোনো ভেজাল নাই। গুড় বানাইতে কোনো কেমিক্যাল দেই না। এই গুড়ের স্বাদ অন্য গুড়ের চেয়ে ভিন্ন। এই গুড়ের কারণে আমাগো এলাকায় অনেক মানুষ আসে। খাঁটি গুড়, এহন অনলাইনেই কাস্টমার বেশি।’

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গোল গাছ লবণাক্ত পানিতে হয়। তাই এই গুড় কিছুটা নোনা এবং খনিজ উপাদানে ভরপুর। গোল চাষ সম্প্রসারণে উপকূলীয় অঞ্চলে নদী তীরে ১০ লাখ চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।