কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে মৃত ডলফিন

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ইরাবতী প্রজাতির একটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ডলফিনটি পাঁচ ফুট লম্বা। এর মাথা ও পিঠের অংশের ওপরের দিকের চামড়া উঠে গেছে।

আজ বুধবার সকালে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্ব দিকে তেত্রিশকানি পয়েন্ট এলাকায় ডলফিনটি দেখতে পান কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যরা। দুপুরের দিকে এটিকে উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য আবুল হোসেন বলেন, সকালের জোয়ারে ডলফিনটি ভেসে আসার পর স্থানীয় লোকজন এটিকে দেখতে পান। পরে তাঁদের জানালে তাঁরা কয়েকজন ঘটনাস্থলে যান।

উপকূলের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-২ অ্যাকটিভিটির পটুয়াখালী জেলার সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, সমুদ্রের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় সামুদ্রিক প্রাণীগুলো এভাবে মারা যাচ্ছে।

আজকে ভেসে আসা ডলফিনটি বিশ্বজুড়ে বিপন্ন হয়ে পড়া ইরাবতী প্রজাতির। সমুদ্রের এসব প্রাণী রক্ষায় জেলেসহ সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।




গলাচিপার চাঞ্চল্যকর সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

মো. আল-আমিন (পটুয়াখালী): র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং অপহরন, ধর্ষণ ও হত্যাসহ, বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ বিকালে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার সবুজবাগ এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার মামলা নং- ২৬, তারিখ- ২১/১১/২০২৩, ধারাঃ ১৪৩/ ৩২৩/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৫০৬ দন্ডবিধি এবং সংযোজন- দন্ডবিধি ৩০২ ধারা; মামলার এজাহার নামীয় পলাতক প্রধান আসামী মোঃ আইয়ুব আলী (৩০), পিতা-মৃত ইদ্রিস সরদার, সাং-ধরান্দী, থানা-গলাচিপা, জেলা- পটুয়াখালী’কে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ভিকটিম সোহাগ ও আসামিরা পরস্পর নিকট আত্মীয়। ভিকটিম সোহাগের সাথে আসামীদের টাকা লেনদেন নিয়ে পূর্ব হতে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২০/১১/২০২৩ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ০৬.৩০ ঘটিকার সময় আসামী আইয়ুবসহ অন্যান্য আসামীরা পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানাধীন বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া এলাকায় একটি ঔষধের দোকানের সামনে অবস্থান করে। এসময় ভিকটিম উক্ত স্থানে আসা মাত্র  পূর্ব হতে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা তাদের সঙ্গে থাকা লাঠি – সোটা, লোহার রড দিয়ে ভিকটিম সোহাগকে এলোপাথারি আঘাত করতে থাকে। ভিকটিমের ডাক চিৎকারে আসে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা উক্ত ঘটনাস্থল হতে চলে যায় ।
পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাৎক্ষনিক ভাবে ভিকটিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম গত ২৮/১১/২০২৩ তারিখ রাতে মৃত্যুবরন করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামি উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করেছে। সে মামলা রুজুর পর থেকে রাজধানীর সবুজবাগসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




বিলুপ্তের পথে বরিশালে আখ চাষ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের কালিহাতা, ঘন্ডেশ্বর , ভরসাকাঠি গ্রামে বিগত সময় আখ চাষ হত। সেখান থেকে উৎপাদন হতো হাজার হাজার মেট্রিক টন আখের গুড়। বর্তমানে ভেজালের ভিড়ে প্রকৃত আখের গুড় দেখা যায় না।

ভেজাল মুক্ত আখের গুড় সংগ্রহ করতে এলাকার লোকজনের চাহিদা ছিল ব্যাপক । ভরসাকাঠি গ্রামের আখ চাষী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সিকদার জানান তিনি এ বছর ৫২ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেন এতে তার সব মিলিয়ে খরচ হয় এক লক্ষ টাকা, তার চাষ কৃত আখ থেকে প্রায় এক হাজার কেজি গুড় উৎপাদন হয় যার বাজার মূল্য ২ লক্ষ টাকা।

ঘন্ডেশ্বর গ্রামের অপর কৃষক মোহাম্মদ মোশারফ মল্লিক জানান, তিনি মাত্র ৪৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করে খরচ করেছেন ৭৫ হাজার টাকা। আখ থেকে উৎপাদিত গুড় বিক্রি করে সেখান থেকে আয় করেছেন এক লক্ষ দশ হাজার টাকা।

স্থানীয় শফিকুল ইসলাম জানান, এক
সময় এ অঞ্চল আখের গুড়ে র জন্য বিখ্যাত ছিল,কিন্তু কালের বিবর্তনে আখ চাষ হারিয়ে
গিয়েছে। কৃষকরা আরো জানান,আখ চাষ অত্যন্ত লাভজনক কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে, উন্নত জাতের আখের চারা, রোগ বালাই সনাক্ত ও প্রতিকারের বিষয় অজ্ঞতার কারণে
আমরা লাভবান হতে পারছি না।
এ বিষয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আমাদের কোন সহায়তা করছে না। তাদের সাথে
যোগাযোগ করলে তারা বলেন আখ চাষের উপরে সরকারের কোন বরাদ্দ নেই।

স্থানীয় সিনিয়র স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ নান্নু জান, এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত গুড় স্থানীয়রা ২০০ টাকা কেজি দরে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনে নিয়ে যায়। যেহেতু ভেজালমুক্ত গুড়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল। তাই এই আখ চাষকে সম্প্রসারণ করে ভেজালমুক্ত গুড় উৎপাদনের দাবি করেন এই শিক্ষক।

কৃষকেরা আরো জানান, মার্চ- এপ্রিল মাসে আখের চারা রোপন করলে কোন প্রকার খরচ ছাড়াই ফেব্রয়ারি মাসে আঁখ মাড়াই করা সম্ভব। কিন্তু মাঝেমধ্যে বিভিন্ন প্রকার রোগ বালাই দেখা দেয়। রোগবালাই নিরাময়ের জন্যই দরকার সরকারি পরামর্শ ও প্রতিকারের নির্দেশনা। কৃষক আরো জানান, আখ চাষের বর্তমানে প্রধান শত্রু হল ইঁদুর।

এ বিষয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কফিল বিশ্বাস জানান,’আমাদের সরাসরি আখের উপরে কোন প্রকল্প নেই।তবে আমরা সকল প্রকার পরামর্শ দিয়ে থাকি,রোগবালাই হলে কখন কি কীটনাশক বা বালাই নাশক ব্যবহার করতে হবে তার সকল পরামর্শ আমরা দিয়ে থাকি। এখন থেকে আমরা এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আখ চাষ ফিরিয়ে আনার জন্য।চেষ্টা করব ।




এপ্রিলে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দিলো আবহাওয়া অফিস

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আগামী এপ্রিলের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া থার্মোমিটারের পারদ ওঠতে পারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তিন মাসের এক বুলেটিনে সম্প্রতি এমন তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান।

বুলেটিনে বলা হয়, এপ্রিল মাস পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ/ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এ ছাড়া দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা/মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এদিকে, এই সময়ের মধ্যে দেশের পশ্চিম, উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ৪-৮ দিন বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা/মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। মার্চ ও এপ্রিল স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের আভাসও রয়েছে। অন্যদিকে, দেশে তিন থেকে পাঁচটি মৃদু (৩৬-৩৮ ডিগ্রি সে.) অথবা মাঝারি (৩৮-৪০ ডিগ্রি সে.) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। গত বছর এপ্রিলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।




মিষ্টি কুমড়া চাষে সাফল্য এসেছে বরগুনার পল্টু’র

বরিশাল অফিস :: মাঠ জুড়ে সবুজ মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত। গাছে গাছে হলদে ফুল আর গুটি গুটি দানায় কুমড়া ধরেছে। কৃষক আতিকুর রহমান পল্টু নিজের কুমড়া ক্ষেতে যথারীতি সার, আগাছা নিড়িয়ে দিচ্ছেন, কীটনাশক ও পানি দিচ্ছেন। গত বছর কুমড়া চাষে লাভবান হয়েছেন, একারণে এবছর আগ্রহ বেড়েছে পল্টুর। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও চাষিদের সাথে কথা জানা গেছে, কুমড়া চাষে এবছর ভালো ফসনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বেতাগী গ্রামের আতিকুর রহমান পল্টু একজন আদর্শ কৃষক। তিনি নিজ গ্রামে ৬৫ শতক জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছন। কুমড়া ক্ষেতে নিয়মিত পানি, জৈব ও রাসায়নিক সার এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংসে কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ করছেন।

এছাড়া আগাছা নিড়িয়ে দিচ্ছেন এবং যথারীতি পরিচর্যা করছেন। এই একই জমিতে গত বছর মিষ্টি কুমড়া চাষ করে ২ হাজার ৫ শ কেজি কুমড়া পেয়েছেন এবং এতে লাভ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। চাষি আতিকুর রহমান বলেন, গত জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে উন্নত প্রজাতির বীজ বপন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ‘

কৃষিবিদ লিটন কুমার ঢালী বলেন,’ মিষ্টি কুমড়া সাধারণত একটু উঁচু জমিতে ভালো ফলন হয়। কুমড়া ফল এলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমন থেকে রক্ষায় নিয়মিত কীটনাশক ওষুধ, রাসায়নিক সার এবং পানি প্রয়োগ করতে হবে।’ এবিষয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন,’ কুমড়া ক্ষেতে জাব পোকার আক্রমন বেশি হয়। এছাড়া কুমড়া গাছে ফুল থেকে গুঁটি গুঁটি দানা পড়ার সময় ব্লোজম এন্ড রট রোগ দেখা দেয়। প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইনসাফ বা থিয়ভিট বা সালফোলাঙ বা কুমুলাস অথবা ১০ গ্রাম ক্যালিঙিন ১৫ দিন পর পর স্পে করে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’

অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু আরো বলেন,’ ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স, সি এবং ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমূহের ধারক। এছাড়াও বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই সবজিটি আমাদের দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধক কোষ গঠন করে।’ বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা আহমেদ বলেন,’ এ উপজেলায় ১৯৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করা হয়েছে। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠের চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’




কুয়াকাটায় উপকূলীয় বনাঞ্চল রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: “করবো বন সংরক্ষণ, সুস্থ থাকবো সারাক্ষণ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেন লতাচাপলীর উপকূলীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে সকাল ১১টায় কুয়াকাটার গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা বলেন, এই উপকূলীয় বনাঞ্চল আমাদেরকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে প্রাথমিকভাবে রক্ষা করাসহ প্রাকৃতিক ঝড়-বন্যা প্রতিরোধ করে। এই বনাঞ্চল উপকূলীয় এলাকায় সবুজ দেয়াল হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বনদস্যদের কারণে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে এই এই সবুজ দেয়াল।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিপি টিম লিডার জসিম উদ্দিন খলিফা, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কলাপাড়া প্রতিনিধি কামাল হাসান রনি, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মান্নুসহ প্রমুখ।




বরিশালে সরিষার বাম্পার ফলন, লাভের আশা কৃষকের

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গ্রামীণ জনপদে এখন হলুদের সমারোহ। যতদূর চোখ যায় দেখা যাবে শুধু সরিষার আবাদ। অনাবাদী জমিতেও এবার সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার ভালো ফলন ঘরে তুলে লাভের আশা করছে সরিষা চাষিরা।

অনাবাদি জমিতে সরিষার ব্যাপক চাষকে তেল ফসল আবাদের বিজয় হিসেবে দেখছে বরিশাল কৃষি বিভাগ।

৮ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন তেলের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় এবার ১৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছেন কৃষকরা। গতবারের চেয়ে এবারে ৭৭১ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যার বেশীরভাগই ছিলো অনাবাদি জমি।

স্বল্প সময়ে বাড়তি লাভ হচ্ছে বলে এ অঞ্চলের কৃষকরা তেল ফসল চাষে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।
কৃষকরা জানান, সরিষা চাষ করে অপেক্ষাকৃত স্বল্প খরচে অধিক লাভ করতে পারছেন তারা। বর্তমান বাজারে তেলের অধিক মূল্যের ধকল সামলাতে পারছেন নিজেদের উৎপাদিত সরিষার তেল দিয়ে। বাজারে বিক্রি করেও অধিক মুনাফা পাচ্ছেন তারা।

তবে তেল ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে আরও বেশি লাভ হতো বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

সদর উপজেলার চরকাউয়ার কৃষক আলাউদ্দিন জানান, এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) অনাবাদি জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ৫ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ মণ সরিষা উৎপাদিত হয়। যা বিক্রি করে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন তারা। ভরা মৌসুমে সরিষার ন্যায্য মূল্য আরও লাভবান হতেন তারা।

বাবুগঞ্জের কৃষক মো. আরিফ জানান, বাজারে সব ধরনের ভোজ্য তেলের বাজার উর্ধ্বমুখি। নিজেদের উৎপাদিত সরিষা দিয়ে পরিবারের ভোজ্য তেলের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্টাংশ বাজারে বিক্রি করতে পারছেন তারা।

কৃষকরা জানান, তেল ফসল অত্যন্ত নাজুক কৃষি। এই ফসলের ফলন প্রাপ্তি নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। সামান্য দুর্যোগেই ফসলহানির আশংকা থাকে। এবার বৃষ্টির কারণে সরিষা চাষ বিলম্বিত হওয়ায় ফলনেও বিলম্ব হচ্ছে। তাদের মতে, মৌসুমের এই সময়ে জমিতে সরিষার ফুল ঝড়ে ফল আসার কথা ছিলো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে জো (উপযুক্ত সময়) দেরিতে আসায় চাষ হয়েছে বিলম্বে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

বরিশাল জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মুরাদুল হাসান জানান, সরিষা চাষ থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করেন তারা। এখন ক্রাস মেশিন দিয়ে কৃষক ঘরে বসেই উৎপাদিত সরিষা থেকে তেল উৎপাদন করে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে। কৃষিতে সব সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় গত দুই বছরে বরিশাল জেলায় ৩ হাজার হেক্টর অনাবাদী জমিতে সরিষা চাষ বেড়েছে। এতে দেড় হাজার টন সরিষা তেলের উৎপাদন বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ উৎপাদিত সরিষা বিক্রির সুযোগও তৈরী করে দিয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শওকত ওসমান জানান, এ অঞ্চলে আগে আমন চাষের পর প্রচুর জমি অনাবাদি থাকতো। কৃষি বিভাগ অনাবাদি জমিতে তেল ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়। এ কারণে বরিশাল অঞ্চলে আগের চেয়ে সরিষার উৎপাদন বেড়েছে। ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফলন ঘরে ওঠায় এ অঞ্চলের কৃষকরাও সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে ভোজ্য তেলের ঘাটতি অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করেন তিনি।

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় এবার ১৯ হাজার ৯শ’ ২৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। সর্বাধিক ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে ভোলায় এবং দ্বিতীয় সর্বাধিক সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।




ঝালকাঠিতে গাঁজাগাছ-ইয়াবাসহ আটক ২

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠিতে আটটি গাঁজা গাছসহ শাহারুম হাওলাদার (৫০) ও ১৫ পিস ইয়াবাসহ কবির হাওলাদার (৫১) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটক শাহারুম হাওলাদার ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিন চেচরী এলাকার মৃত মুজাহার আলী হাওলাদারের ছেলে ও কবির হাওলাদার নলছিটি উপজেলার ডুবিল এলাকার মৃত আব্দুল আজিজ ওরফে আব্দুল হাওলাদারের ছেলে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, কাঁঠালিয়া উপজেলার চেচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিন চেচরী এলাকার শাহারুমের মরিচ ক্ষেতের মধ্যে থেকে আটটি গাঁজা গাছ ও নলছিটি উপজেলার ডুবিল এলাকা থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে নলছিটি ও কাঁঠালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। মাদক মুক্ত সামজ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।




গলাচিপায় সংঘর্ষে আহত ৫

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাবিটার রাস্তার কাজে বাধা প্রদান করে ভেকু ড্রাইভার রবিউল (৩২), রুমেল (৪২) মারধর করেন আল-আমিন বিশ্বাস ও মামুন বিশ্বাসসহ তাদের পরিবারের লোকজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরকাজল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোশারেফ বিশ্বাসের বাড়ি থেকে পূর্ব ওয়াপদা রোড পর্যন্ত কাবিটার কাজ চলমান ছিল। রাস্তার কাজটি মোশারেফ বিশ্বাসের বাড়ি থেকে সুন্দরভাবে চলে আসলেও বাদসাধে বিশ্বাস বাড়ির জমি থেকে মাটি নেওয়ায়। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকাল ৩টার সময় এ নিয়ে বেকুর ড্রাইভার রবিউলকে মারধর করে এবং রাস্তার দেওয়া মাটি জমিতে ফেরত নিয়ে নেয় আল আমিন বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস, মামুন বিশ্বাসসহ তাদের লোকজন।




পবিপ্রবিতে অত্যাধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবনকেন্দ্র গড়ছে সরকার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দেশের ভবিষ্যৎ সাফল্যের কথা চিন্তা করে গবেষণা ও উদ্ভাবনের উপরে গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি)  অত্যাধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবনকেন্দ্র গড়ে তুলতে চলেছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাবে মানসম্পন্ন গবেষণা করার।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ইয়ুথ টাওয়ারে এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (ইডিজিই) প্রকল্পের সম্মেলনকক্ষে ইডিজিই প্রকল্প ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ ১০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পৃথক পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

উক্ত স্বাক্ষরতা অনুষ্ঠানে ইডিজিই প্রকল্প পবিপ্রবিতে আরআইসি প্রতিষ্ঠাসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে ভালো গবেষণা ও উদ্ভাবনে অর্থায়ন করবে।

উল্লেখ্য যে, পবিপ্রবি ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম জলহস্তীর পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল বানিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে সাড়া ফেলে দিয়েছে। এছাড়াও কৃষিক্ষেত্রে তাদের গবেষণা ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে। এমন মুহূর্তে অত্যাধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ার খবরে সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ উচ্ছ্বসিত।

এ উপলক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব  সামসুল আরেফিন বলেন, আরআইসি প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য হলো বাজার ভিত্তিক পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে সরকার, শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে সমন্বিত ও সহযোগিতা মূলক গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনা করা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।